কবি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা
*
পথিক
কবি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়

তোমার সন্দিগ্ধ চোখে দেখেছি যে মৃত্যুর উচ্চার
তুমি সেই শিলালেখ চেয়ে আছ সময় ওপারে
আমি খুঁজে ফিরি তাকে দেখে নিতে কালের প্রচার
####
তোমার বিরল জিভ মূর্ছাপতনের ঠিক পরে
শব্দরহিত কিছু তথ্যের ভাঁড়ার দিয়েছিল
সৃজনধর্মিতা দোষে স্থান পেল মুগ্ধ কারাগারে
####
সমরাকাঙ্ক্ষিণী ঠোঁট অনস্তিত্বে এসে জায়গা পেল
জায়গা নিল সে উচ্চার আহত না অনাহত নাদে      
দুই লক্ষ কোটি বর্ষ আলোপথ দূরে দেখা গেল    
####
দেখা গেল অস্ত্র শস্ত্র চৌষট্টি কলায় অনুবাদে
কেমন মূর্ছনা নিয়ে মূর্ছাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে আছে
যেখানে সে স্রোতোধারা মূলাধার ছাড়ে প্রতিবাদে
####
তোমার সন্দিগ্ধ চোখ ঘুরে ফিরে যায় পাছে পাছে
দেখে সব চেনা ছবি ঝুলে আছে যেন গাছে গাছে !  

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ওয়ার্মহোল
কবি প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায়

কাগজে কলম চালাতে গিয়েই সব অক্ষর উধাও
বোঝা গেল মাথা তার প্যালিওলিথিক
হাওয়া বইছিল খুব ---বাতাস করছে এক ম্যামথের কান  
বুঝি তার-ই বেগে এই সদা বহমান
.          মাটির সূচনাপর্বে সভ্যতা আদিম   
কুরিঞ্জি ফুলেতে রাঙা ভূর্জপাতাদের
যে রকম বেশবাস,ধরন-ধারণ
প্রোটেরোজোয়িক যুগে
সে সময়কাল
জুড়ে বসে থাকা এক টেকটনিক প্লেটের উপর
বন্ধুলি ফুলের রঙে সাজানো বাসর  
ধুয়ে যাচ্ছে কাল সব , উড়ে এসে কোল নিচ্ছে প্লাস্টিকের যুগ
এবং অক্ষর সব উড়ে যাচ্ছে ওয়ার্মহোলে
টেনে আনছে অন্তঃপর্দা সুকেন্দ্রিক কোষে
আমার অক্ষর গুলো দৃশ্যমানতাহীন
মহাশূন্যে ভ্রাম্যমাণ আকারবিহীন
তোমার স্টেটাসে সে অক্ষরসমূহ
কাঁপাচ্ছে মেদিনী ,তুমি খুশি
কী লিখি অক্ষরে আজ
রুদ্ধ শ্রবণে বাজে ডমরু নিনাদ
অট্টরোল অক্ষরেতে স্তম্ভিত পৃথিবী !

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অক্ষরের স্বরলিপি  
কবি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়

চোখে নাহারির আলো অথচ উদাস ভোর
১৮ ঘন্টা পরে পথে নেমে এলে
যা হওয়ার তা-ই হয়, মেঘ নামে হলুদ বাগানে!  
গুম্ফবিহীন এক সাদা শ্মশ্ম্রুময়তায় শব্দের শাসন    
দেখে দেখে কাল যায়, দরজা ধরে থাকে দুঃশাসন!    

তাম্রশাসনে আঁকা যা ছিল সে মৃত এক স্থবির ফলক
চোখের অতীতপ্রায় কিছু বর্ণ ধোঁয়া ধোঁয়া অজানা লিপির ---  
"মহান পবিত্রতম শ্রেষ্ঠতম সুখ 'আশা' সর্বকালের
তিনিই সে সুখী আত্মা ভেসেছে যে পবিত্রতায় " ---
*
এটা সেই হ্রস্বতম আভেস্তান প্রার্থনার কিছু অংশভাক  
ভিড় করে এল মনে; আর আলোচক
নাকের উপর থেকে মাছির মতোন সে তাচ্ছিল্যে তাড়াল  
--কী যে ছাইপাশ লেখে কুমার প্রণব !কবিগুরু, কী স্বদেশ দিয়েছ এমন
ব্যাঙাচিও ডানা মেলে আকাশে মাখায় সে অক্ষরের স্বরলিপি !    
চোখে নাহারির আলো গুম্ফবিহীন সাদা শ্মশ্রুময়তায়
একটা আলোর রেখা আমোদে ভাসায়
জাগে প্রাণে আহিরভৈরব!

*    "আশেম ভোহু ভোহুস্তেম অস্তি
.    উস্থা অস্তি উস্থা আহ্‌মাই
.    ইয়াত আশাই ভহিস্তাই আশেম"

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মা
কবি প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায়

এইমাত্র যে লেখাটির উপর দিয়ে তোমরা হেঁটে গেলে,
কেউ কেউ নাক ঝাড়লে, কেউ বা এদিক ওদিক তাকিয়ে
ভিতরের ঝরনা নামিয়ে দিলে অনায়াসে, সেটি আমাদের
বাংলা মায়ের ছবি, যা অবহেলায় পড়ে থাকে বার্ধক্যে।
না, বারাণসী কিম্বা বৃন্দাবনে নয়। চুনখসা হাড়জিরজিরে
দেহের আয়নায় ঝুকে পড়া বট অশ্বত্থের নিচে। শিকড়বাকড়ে !
তুমি তো এখন চেক ইন করবে বলে দৌড়ে যাচ্ছ বিমানবন্দরে
ওখানে রেড উড, সিডার পাতায় ভাসা শাশুড়িমায়ের মুখ  
মেপলের কচি মুখে আধো আধো বোল ভাসে বিদেশিভাষার
আর এই হাড়জিরজিরে গাছে শুয়োঁ ধরা ডালে সজনেফুলের
স্নেহভরা হাসি, একবার তাকিয়েও দেখলে না হে এত প্রজ্ঞাবান  
তোমার কোট পাতলুন ! ওহে জ্ঞানী পঙ্গপালবিকেলআলোক
এইমাত্র যে লেখাটির উপর দিয়ে থুতু ছিটিয়ে তুমি দৌড়ে গিয়েছ
সে-ই তোমাকে এত কাল কোলে রেখে আলো জ্বেলেছিল, ভুলে গেলে !!!

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সমুদ্রদগ্ধ
কবি প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায়

যে আমি সমুদ্রদষ্ট ব্যর্থ আশাবরি
তাকেই বিভাসে মরি শিশিরে ফেরারি
মুখের আদলরে নীল কাঠিন্য পারদে
এমতেহান তাম্রবর্ণ প্রভাত শারদে

লিঙ্গ এঁকে অধিষ্ঠান ভরে বীজ নাম
মেঘের তাজ্জব ঢেউ তখন তামাম
জমানো শক্তির পুঞ্জে আহ্লাদে আহ্লাদে    
কখনও মাটিকে ছোঁয় কখনও প্রমাদে  
জলের উপরে ঝাঁপ ; আত্মহনন
কী কেলো করেছে এ তো নরক গমন!

তবুতো সপাং ধাঁই চাবুক জিভের
থামাওনি বাছা কেউ,লক্ষ আমাদের
কোমল স্বরের ওঠা মৃদু আলোড়ন
ঢেকে দিচ্ছ বারবার তুচ্ছ অগণন
তাচ্ছিল্যেরা বলে যাচ্ছে সময় সময়
না মিললেই সবকিছু পূতিগন্ধময় !
একেই বিভাসে আঁকি একে আশাবরি
সে যে সমুদ্রদগ্ধ ধর্ম স্বেচ্ছাচারী !

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর