সমুদ্রের ফেনায় ফেনায় মেঘের তুলোর ভাজে ভাজে জ্যোৎস্নার আগমন বেলায় খুঁজে পাবে আমার ঠিকানা, বর্ষায় ভিজে মনকে রাঙিয়ে চলে এসো তুমি সে যে আমার হৃদয় মোহনা। চাতকের পিপাসা তোমার ভালোবাসা মনের আকাশে বারিসিন্ধু চোখে অশ্রু হয়ে মেঘে ভাষাও বৃষ্টি সুধা ভাবিকালের অদম্য আশা।
আবেশে ছোঁয়া যত কথা তোলা আছে হৃদয় দেরাজে, হয়ে আমার তরুলতা, উজাড় করে দাও রেখ না লুকায়ে।
রাতের প্রহরে সবই যে এলোমেলো, আমার এ ঠিকানায় আসবে তুমি সব কিছু গুছিয়ে মাঘ শেষে ফাগুনের স্পর্শ ছড়িয়ে।
ব্যথাতুর মন কিছুই যে চায় না সে থাকে অপেক্ষায় শুধু ভালবাসা এক কণা তৃষ্ণার্ত সে তোমার ভালোবাসায়।
নিঃশব্দ প্রহর ডেকে ফেরে অতীত সে তোমার স্মৃতির আঙিনায় সেদিনের ভোরের সে লাল পলাশ আজ আবার নিজেকে দিয়েছে মেলে আমার নতুন ঠিকানায় রাঙিয়ে তুলেছে নতুন জীবনের আশ। . **************** . সূচীতে . . .
সুখ দুঃখের পথ ধরে সময়ের খেয়া বেয়ে নদীর স্রোতে ভেসে ভেসে আমরা মিলি গিয়ে মোহনায়।
আমরা চলি সুদূর সে দিগন্তে সমুদ্র পার হয়ে এপার থেকে ওপারে বনানী মাঝে যেখানে নীরব আঁধার----- ঘনিয়ে নেয় অপার এক দূরত্ব এ পৃথিবী থেকে দূরে বহুদূরে আকাশের ওপারে আকাশে মেঘের ওপারে মেঘে।
কে যেন পাশে এসে বসে বলে, "এতদিন আসনি কেন" ? পাহাড় শৃঙ্গে ঝর্নার মত চুল তার দখিনা বাতাস মুখ তার কবেকার তুষার শুভ্র সকাল মন তার শিশির ভেজা সন্ধ্যা।
সূর্য অস্ত যায় সন্ধ্যা আসে লেনদেন শেষে ব্যাপারীরা ঘরে ফেরে ফুরায় এ জীবনের সব লেন দেন ; রাতের আঁধার ঘনিয়ে আসে, আমি বলি, "ক্লান্ত আমি শ্রান্ত তোমারই দেওয়া সময়ে আজ আসা হ'ল আমার, কোলে মাথা রেখে একবার ঘুমোতে চাই"।
দিন শেষে সন্ধ্যার রক্তরাগে পাখির ডাকের মত শব্দ ভেসে আসে জীবনের সব রং মেলে এসে অন্ধকারে ভাষা হারা শব্দ জোনাকির গানে কেঁদে মরে জীবনের পাণ্ডুলিপি ইতিহাসের গহবরে মিলি এসে আমি আর সুকন্যা হৃদয় দুয়ারে।
সময়ের সাথে নদী এসে মেলে মোহনায় সুকন্যার কোলে মাথা রেখে আমি ঘুমাই তাকে যে পেয়েছি আজের জোছনায় শেষ ইচ্ছা পূরণ আমার আর কোনোদিন জাগব কি না জানা নাই। . **************** . সূচীতে . . .
এমন উজ্জ্বল জ্যোৎস্না আমি দেখিনি আগে বৈশাখী সে রাতে তুফান বন্ধু তার নক্ষত্ররা হাসিমুখে খেলা করে রাত ভরে, মনটা উপচে পড়ে উদার আগ্রহে আছড়ে পড়ে তীরে সমুদ্রের ঢেউয়ে ঢেউয়ে, দরজার আগল ভেঙে বেরিয়ে যেতে চায় জনকোলাহলে: আবার মনে হচ্ছিল আগল নেই দরজার অসংখ্য তারারা এসে বসেছে ঘরে আমার ।
খসে পড়া নক্ষত্ররা জেগে উঠেছিল সে রাতে আকাশ ভরে হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মুখ আমি দেখেছি সে নক্ষত্রের মাঝে পাহাড় শিখরে অষ্টাদশীর চোখের ইশারায় ঝলমল করছিল তারার মত চোখের চাহনি তার, জ্যোৎস্না রাতে পৃথিবীর ওপরে আকাশজুড়ে জেগে উঠেছিল আগামীর আকাঙ্খা আমার এমন উজ্জ্বল জ্যোৎস্না আমি দেখিনি আগে আর।
যে নক্ষত্ররা কোন সে অতীতে খসে পরে জন্ম নিয়েছে এ পৃথিবীর নিবাসে তারাও আজ আগল ভেঙে আকাশকে সঙ্গে নিয়ে বসেছে এসে এ দীনের ঘরে । যে যুবকদের আমি দেখেছি ফ্রান্সে সোভিয়েতে তারাও এসেছে জ্যোৎস্নার এ রাতে স্বাধীনতার বাণী নিয়ে অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে দীর্ঘ লাইন দিয়ে মৃত্যুকে তুচ্ছ করে জীবনের গানে গানে।
বিস্ময় আমার, অভিভূত আমি সে রাতের দূর্জয় জয় গানে, আকাশের অনন্ত শূন্য গহ্বরে পৃথিবীর সব আবর্জনা হারিয়ে যায় যেন, জ্যোৎস্না রাতের সে তুফান এসেছে আমার দুয়ার ভেঙে আমার হৃদয়ের কাশবনে আকাশ থেকে নেমে তুফানের হুঙ্কারে আগামীর বার্তা নিয়ে।
হৃদয় সিক্ত আমার ভোরের শিশিরে শিশিরে দিগন্ত উদ্ভাসিত সকালের সূর্যের কিরণে প্রিয়তমার গভীর ভালবাসার ছোঁয়ায় তুফানের সে উন্মক্ত গর্জনে জ্যোৎস্নার আলিঙ্গনে ভোরের আগমনে। . **************** . সূচীতে . . .
আবার পঞ্চাশ বছর পর যদি তুমি আমার দুয়ারে ---- সূর্য অস্তমিত পশ্চিমাকাশে আবার পঞ্চাশ বছর পর তুমি পাবে না আমাকে।
দুয়ার বন্ধ আমার চিরতরে খাঁচার পাখি কবে গেছে উড়ে আমার যাত্রা সেদিন অনন্তের পথে আমি সারথী যাত্রা রথে।
নক্ষত্র দাঁড়িয়ে আকাশে খোলা প্রাঙ্গণে ছায়া বিছিয়ে তোমার অপেক্ষায় আবার পঞ্চাশ বছর পর তুমি পেতে পার আমাকে সে ছায়ায়।
সেদিন জেনো নিশ্চিত গরানের জঙ্গল সাফ হয়ে গেছে বহুতল ন্যাংট হয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে নদী নেই তার প্রবাহে আর রাতের আঁধারে চাঁদ বাঁকা হাসি হাসে কবিতা হারিয়েছে ছন্দ তার ।
আবার পঞ্চাশ বছর পরে যদি তুমি খোঁজ আমাকে ----- দুয়ার বাইরে বহু দূরে আকাশ দিগন্তে পেতে পার আমাকে কল্পনার মালা গেঁথে বাতাসের তুফানে।
অথবা পেতে পার বনানী মাঝে সবুজে সবুজে শীত শেষে নতুন কিশলয়ে কোন এক বসন্তের সন্ধ্যায় তুমি সেদিন বনলতা আমার ।
জ্যোৎস্নার রাতে আবার মুখোমুখি দুজনায় চুল তোমার তুষার শুভ্র রাত শেষে উদয়ের পথে যাত্রা তোমার আমি বসে একাকী নিরালায়।
আবার পঞ্চাশ বছর পরে যদি তুমি খোঁজ আমাকে ----- দুয়ার বাইরে বহু দূরে আকাশ দিগন্তে পেতে পার আমাকে কল্পনার মালা গেঁথে হৃদয় দুয়ারে।
যদি তোমরা বল, এ অহংকার তোমার, আমি বলি, হ্যাঁ অহংকারী আমি, এ অহং আমার। আমি দ্রষ্টা আমি দৃষ্টি আমি স্রষ্টা আমি সৃষ্টি মেঘ ভেঙ্গে নামি বৃষ্টি; আমি করি না তোয়াক্কা কার, পর প্ৰজন্মতরে আমি রেখে যেতে চাই যা আছে আমার। এ যে বহমানতা, চাই আমি আমার উত্তরাধিকার, জন্ম জন্মান্তর ধরে নদীর প্রবাহ এ যে এ যে চলমান স্রোতধারা, এ যে জীবনের গতি আমার, নয় এ বদ্ধ কারা নয় তা কূপের অন্ধকার, যদি না আমার অহংকার যদি রেখে যেতে না পারি কিছু বৃথাই জনম আমার।
যদি বলো, তুমি অতিবিনয়ী, হ্যাঁ অতিবিনয়ী আমি, বিনয় যে প্রতিবেদন আমার, বিনয় আমার অহংকার বিনয় যে পথিক পথ চলার। যদি পর প্ৰজন্মতরে রেখে যেতে পারি কিছু গ্রহণীয় কিছু থাকে গ্রহণ কোরো তাকে, যদি বর্জনীয় হয় দ্বিধা কোরো না বর্জনে, আমি পড়ে থাকি পরিত্যক্ত মরি না আমি শরমে, সময়ের প্রয়োজনে উপযুক্ত করে নিও যা রেখে যাই আমি, সংকোচ কোরো না তাতে, খসে পড়ুক আমার অহংকার, আজও আমি চাই শিখতে যা হয়নি শেখা এখনও আমার, জানি আমি শেষ নেই শেখার শেখাই আমার মূল অধিকার, পূর্ণিমার রাতের জ্যোৎস্নায় আমার কালের সমাধিতে আমি বাঁচি শেখার আশায়। . **************** . সূচীতে . . .