এ সমাধি পথ ধরে ওপথে ওরা গেছে চলে আজ ওপথে যেও না তুমি বিষ কন্যা ও পথে তোমার বন্ধুরা অপেক্ষায় জাগিও না ওদের তারা চির শান্তিতে ঘুমায়।
তুমি কবে আসবে এ পথে ফিরে আসুক সবুজ এ জন বনানী প্রান্তরে, তারপর যেও তুমি ওপথে বাতাসের ওপারে বাতাস আকাশের ওপারে আকাশ, রক্ত আর ঘামের সঙ্গম মেলা সেখানে তুমি চলে যেও সেখানে তোমার বিষ উগরে দিয়ে নিজেকে উজাড় করে সব যন্ত্রণা শেষে। . **************** . সূচীতে . . .
ছোট্ট একটা কথা 'হ্যালো' একটা পরমাণু মাত্র আকাশে বাতাসে সাগরে পাহাড়ে স্নায়ুর জঙ্গলে ঘুরে ফেরে সর্বত্র প্রচন্ড দূষণের বিস্ফোরণ হয়ে চলে রক্তক্ষরণ।
একটা মাত্র আঙুলের চাপ ছোট্ট একটা কথা 'হ্যালো' অনুভবে তোমার নীরব তাপ এক বিপুল সম্ভবনা অদৃশ্য মহাশক্তির আক্রমণ ঘরে ঘরে দেয় হানা ভয়ংকর নীরব শব্দের স্খলন সভ্যতার পদস্খলন আকাশ বাতাস জঙ্গল পাহাড় স্নায়ুর জগতে দূষণ ঘটে চলে অনির্বান তুমি আমি নির্বিকার ঘরে ঘরে মনোরোগের হাহাকারে শিশুরোগের আক্রমণ নিজ দুয়ারে। . **************** . সূচীতে . . .
শীতের রোদ্দুর আমার শৈশবের সহপাঠিনি, সকাল হলেই এসে বসতো আমার সঙ্গে পূবের ঘরটায়, আমি ছড়ার বইটা খুলে বসতাম পড়তে; ও উপুড় হয়ে আমাকে চুম খেত, আবদার আমার সঙ্গে ছড়া কাটবে পড়তে শিখবে অ আ ক খ। আমাদের এই বাড়াবাড়ি দেখে বাবা দরজায় খিল দিয়ে দেয়, ও আর ঘরে ঢোকে না।
আমার তখন কৈশোর, ও কিশোরী সূর্য তনয়া, লুকিয়ে আসত, বারান্দা দিয়ে তার ইশারা, তখন আমার বর্ণ পরিচয় শেষ হাতে আমার দেহ তথ্যের বই; বাবার নির্দেশে পাশের বাড়ির কাকা দেওয়াল তোলে ও যাতে আসতে না পারে, তাও ও আসতো পাচিল টপকে, গুটি গুটি পায়ে একফালি রোদ্দুর, আমাদের প্রেমের ঘনত্ব টের পেত না কেউ।
তখন আমার যৌবন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই এবার প্রমোটার বাদ সাধলো, দেওয়াল ভেঙে তুলে দিল বহুতল বাড়ি, রোদ্দুরকে দিলো চির বিদায়। আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেল রোদ্দুর, আমার শাশ্বত প্রেম।
আমি স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে, ইতিমধ্যে বাবা মা দুজনেই নিয়েছেন বিদায়, এখন আমার বার্ধক্য, রোদ্দুরের অভাব সর্বশরীরে, হাঁপানি ধরেছে, মনে পড়ে রোদ্দুরকে কিন্তু পাই না কাছে; শুনেছি সেও বিরহিনী, কেঁদে ফেরে মেঘের আড়ালে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হয়ে নামে আমার তৃষ্ণা মেটে, তবে শ্রাবণ নিয়েছে বিদায় জীবনের এ মরু প্রান্তে। . **************** . সূচীতে . . .
তোমরা বল, আমি সমাজবিরোধী আমি রাষ্ট্র বিরোধী, আমি রাষ্ট্রদ্রোহী, হ্যাঁ, আমি রাষ্ট্রদ্রোহী আমি বিদ্রোহী আমি বিশৃঙ্খল, মানি না কোন শৃঙ্খল আমি অনিয়ম আমি উশৃঙ্খল, আমি মানি না অন্যায় অন্যায়ের জগতে আমি ন্যায় শোষণের কারাগারে আমি সন্ত্রাস তোমার সন্ত্রাসের রাজে আমি ত্রাস। আমার চোখে তোমার সর্বনাশ আমার শৌর্য তোমার বিনাশ, আমি আশা আমি নিরাশা সব হারার হৃদয়ে আমি ভরসা সূর্যোদয়ের পথে আমার যাত্রারথ ভগবানের কাছে চাই আমি কৈফিয়ত, আমার নেই আচার নেই আমার বিচার জানি সেটা আমার স্বেচ্ছাচার, আমি দলে যাই তোমার রাজ, আমি স্বরাজ ধ্বংসের মাঝে সৃষ্টিই আমার সাজ। তোমার হিংস্র বুকে এঁকে যাই পদচিহ্ন জনকোলাহলে আমি অভিন্ন, আমি হট্টগোল আমি কোলাহল আমি দুর্বার আমি বাহুবল, দেশমাতৃকার হৃদয়ে আমি অবুঝ বর্ষার বনানীতে আমি সবুজ, জৈষ্ঠ্যের দুপুরে আমি সূর্যের দহন বসন্তের সন্ধ্যায় বয়ে চলি পবন। আমি অগ্নি বীণার সুরের আগুন আমি বিদ্রোহীর বসন্তের ফাগুন আমি রূপসী কন্যার আঁখির চুম্বন দৃষ্টি হারার দৃষ্টি অনুক্ষণ, আমি ভেঙে চলি সব বন্ধন পান্নার সন্ধানে আমার সমুদ্র মন্থন।
আমি নব বধূর প্রণয় দৃষ্টি মেঘ ভেঙে নামি বৃষ্টি, আমি রাগ আমি অনুরাগ বৈশাখী ঝরে আমি বিরাগ, অমাবস্যার অন্ধকারে আমি জ্যোৎস্নার হাসি দানবের মুখে দেখ আমার অট্টহাসি, আমি নজরুল আমি সুকান্ত রবির আকাশে আমি বিভ্রান্ত ।
মৌবনে আমি মৌএর গুঞ্জন অষ্টাদশীর হৃদয়ে আমার মন্থন বিদ্রোহীর বুকে জ্বলী আমি বহ্নি একুশের চোখে ঝলসাই অগ্নি, পূর্ণিমার আকাশে চাঁদ সোহাগিনী আমার বাসর শয্যায় সুরের রাগিনী।
আমি আদিম সে বন্য আমি অনন্য ফিরে পেতে চাই অরণ্য, আমি প্রকৃতি আমি পুরুষ ভেঙে করি সব দুরমুস, বাক হারা আমি মাতৃজঠরে ক্রন্দন আমি নব জাতকের হৃদয় স্পন্দন, আমি নব প্রভাতের ভৈরোর গান স্পন্দিত বুকে নতুনের প্রাণ, আমি নষ্টা মেয়ের নয়নের মণি লুণ্ঠিতা মায়ের ক্রন্দন ধ্বনি আমি হতভাগ্যের ভাগ্য বিধাতা আমি নরক যন্ত্রনায় মানুষের ত্রাতা, আমি মহাকালের মহা প্রলয় আমি সৃষ্টি আমি ক্ষয় আমি লয়। . **************** . সূচীতে . . .