যদি শব্দ দাও আমাকে কবিতার মালা পরাব তোমাকে যদি সুর দাও আমায় শোনাবো গান তোমায় যদি বীজ বোন ফুলের রামধনু রঙে ফুটে উঠি যদি তোমার হৃদয়ের উত্তাপে তপ্ত কর আমাকে দগ্ধ আমি তোমার তাপে আমি বাষ্প হয়ে উড়ি মেঘ আমি আকাশে বৃষ্টি হয়ে নামি নব জন্ম আমার এ ধরার ধূলিতে।
নির্বাক লম্বালম্বি দাঁড়িয়ে ঘড়ির কাঁটাটা স্তব্ধ হয়ে গেছে জানা নেই কবে, সন্ধ্যে বা সকাল ছটা ; তারপর ! দিন থেকে রাত বা রাত থেকে দিন পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছে নিজেকে বহুবার, কিন্তু ঘড়ির কাঁটা স্থির নির্বিকার, আজকের সভ্যতার মত বিধ্বস্ত করোনায় আক্রান্ত কোলাহল বন্ধ। আমিও তার সঙ্গে বিভ্রান্ত মেরুদন্ডহীন এক সরীসৃপ নিজেকে নিজে প্রদক্ষিণ করি না স্থির হয়ে লম্বালম্বি দাঁড়িয়ে, দুপায়ে শেকল পড়া আমার পায়ে।
দৌড়ে চলে অশ্বমেধের ঘোড়া নেই তার বিশ্রাম রাজার নিশান রথে এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে চলা তার অবিরাম, মহাকালের বাহন সে, সে এক যুগের অবতার বেনিয়ার বেশ আজ তার রাজপথ ধরে জঙ্গল বিহনে চলতে হয় তাকে যাত্রা পথে, সমুদ্র তট হয়ে চড়াই উৎরাই পেরিয়ে তুষার শুভ্র পাহাড় শিখরে। ঘাড়ে তার বোঝা রাজ্য থেকে রাজ্যে ছুটে চলে আজও হাতে নিয়ে রাজার ধ্বজা অশ্বমেধের সে ঘোড়া।
রাজার আদেশে ছিনিয়ে নিতে হয় পররাজ্য সম্পদ অপরের তার আজ বেনিয়ার সাজ প্রতিষ্ঠিত হয় বেনিয়া রাজ কালের প্রবাহে, সেকাল একাল হয়ে ভাবী কাল এমনি করে চলে দখলের কাজ।
খাবলে নিও না প্রেম আমার, কাঙ্খিত সে ভালোবাসা তোমার নখের আঁচড়ে ক্ষত বিক্ষত, হত আজ আমার সব আশা, বেদনা বিধুর হৃদয়ে আমার রক্ত ঝরে অবিরাম সে যে তোমার অনাচার।
ফুটতে দাও তাকে ধীরে ধীরে আদরে সোহাগে চুম্বনে, একটু একটু করে স্তরে স্তরে রাতের জ্যোৎস্নায় ভোরের উদয়ে পাপড়ি মেলুক একটা একটা করে, সময়ের জলসিঞ্চনে প্রস্ফুটন তার নিরাময় হোক ক্ষত হৃদয় আমার
দুহাজার উনিশের শেষ মুহূর্ত রাত বারোটা, ঘড়ির কাঁটাটা লম্বালম্বি দাঁড়িয়ে বন্ধ হয়ে গেছে তার চলন। অন্ধকার আকাশ, নিস্তরঙ্গ পৃথিবী চাঁদ আজ ফেরার জনকোলাহল বারণ। চার্চের ঘন্টা বাজে জানিয়ে যায় বছর শেষ ফাঁসিকাঠে ঝুলে থাকে এ পৃথিবী।
কিন্ত সময় তো থেমে থাকে না, স্রোতস্বিনী নদী সম্মুখ পানে তার গতি, রাত বারোটার শেষ মুহূর্তের পর যাত্রা নতুনের, রাত এগিয়ে চলে নতুন দিনে চলা, সময়ের যাত্রা রথে মিলবে মোহনায় অপেক্ষায় রাত, কখন ভোর হয় ! পূবে সূর্যের উদয় ভোরের শিশির উত্তপ্ত হয়ে মেলে সূর্যের কিরণে, প্রানের স্পন্দন ফিরে আসে আবার টিক্ টিক্ জীবনের ঘড়ি চলতে থাকে দুহাজার পেরিয়ে দুহাজার একে।
হ্যাঁ কবি পাগল কবি রণেশ রায় কবি নবারুণ ভট্টাচার্য স্মরণে, তাঁর কবিতার সৌজন্যে।
পড়ে আছে লাশ ছেলেটার সনাক্ত করে না পিতা তার, ভয় তার চোখে মুখে কবির কলমে ঘৃণা ঝরে পড়ে কবি চিৎকার করে ওঠে "আমি ঘৃণা করি তাকে"।
হ্যাঁ কবি পাগল, আমি তাকে পাগল বলি, শিক্ষক লেখক বুদ্ধিজীবী নীরব তাদের কন্ঠ, প্রতিবাদ করে না, মিছিলে মিছিলে হাঁটে না, কবি চিৎকার করে ওঠে, "আমি ঘৃণা করি তাকে"। হ্যাঁ কবি পাগল আমি তাকে পাগল বলি।
ছেলেটার লাশ পড়ে আছে ভাই তার নির্বিকার হোটেল রেস্তোরাঁয় তার দিন কাটে, কবি চিৎকার করে ওঠে, "আমি তাকে ঘৃণা করি" হ্যাঁ কবি পাগল, আমি তাকে পাগল বলি।
লাশগুলো পরে আছে চেতনার পথ রুদ্ধ করে লাশগুলো একধারে সরিয়ে ওরা পথ চলে, কবি উন্মাদ হয়ে ওঠে, কবি চিৎকার করে বলে, "আমি তাকে ঘৃণা করি" হ্যাঁ কবি পাগল, আমি তাকে পাগল বলি।
আদিবাসী মেয়েরা রাইফেল হাতে জমি জঙ্গল লুঠের বিরুদ্ধে লড়াই ওদের কোন এক আস্তানায় লুকিয়ে, ওরা আসে ধর্ষণ করে যায় মেয়েগুলোর লাশ বাঁশে ঝোলে কবি উন্মাদ হয়ে ওঠে কবি চিৎকার করে বলে, "আমি তাকে ঘৃণা করি" হ্যাঁ কবি পাগল, আমি তাকে পাগল বলি।
কবি অপ্রকৃতিস্থ, ভুল বকে কলমে লেখা আসে না কবিতায় প্রেম বিদায় নেয়, হাতিয়ার তুলে ধরে, কবি উন্মাদ হয়ে ওঠে, কবি চিৎকার করে বলে, "আমি তাকে ঘৃণা করি" হ্যাঁ কবি পাগল, আমি তাকে পাগল বলি।
কবি আমাকেও পাগল বানায় আমার স্নায়ুতে রক্তক্ষরণ আজ আমার অন্তর জেগে ওঠে কোন এক দানবী বাসা বাঁধে উন্মাদ আমি আমি খুনি চিৎকার করে উঠি, তফাৎ যাও রাষ্ট্রযন্ত্র। কবি বলে, "তুইও পাগল হলি হ্যাঁ আমিও আজ তোকে পাগল বলি"।
সুকন্যা কবি রণেশ রায় জীবনন্দ দাশের "সুচেতনা" অবলম্বনে।
মুখ তুলে তাকাও, সুকন্যা তুমি, কোন সুদূর ওপারে নক্ষত্র জগতে তুমি যেন দূরতম কোন সে দ্বীপ যেন এক ঘন সবুজ বনানী ঘুমায় এক নিঠুর নির্জনতা ঘিরে থাকে তাকে।
রক্তস্নাত আজ আমাদের পৃথিবী তবু এ রক্তক্ষরণই শেষ কথা নয়, সে একদিন প্রজ্ঞা মহিয়সী হবে, তবু তুমি আমারই, এ হৃদয় মাঝে চিরকাল রবে।
আজ এ জৈষ্ঠ্যের খরার দুপুর দহনে খুঁজে ফিরি মানব সমাজ মাঝে এক নিবিড় অকৃত্রিম ভালোবাসা এ হৃদয়ে, সে ভালোবাসা দিতে গিয়ে থমকে দাঁড়াই আমিই খুন করেছি তোমাকে পড়ে আছ আমার হাতে নিহত গোলাপ ;
পৃথিবী আজ পরাহত, গভীরতম অসুখ তার, মানুষ তবুও বাঁচে তারই দোয়ায় ঋণ তার এ পৃথিবীরই কাছে।
ব্যাপারীর জাহাজ ভেড়ে বন্দরে রৌদ্রলোকে পণ্যের সরবরাহ আসে পশ্চিমে কোথা থেকে পণ্য যেন চির শয়নে শায়িত অগণন শব তার থেকে উৎসারিত স্বর্ণ মুকুল সে যে বিস্ময় ব্যাপারীর লুঠের পারাবারে। কবে থেকে পিতা পিতামহ আমাদের মূক হয়ে বসে সাক্ষী এ ব্যাপারীর হাটে তবু আমরা দাস আজও রক্তস্নাত এ দাসত্বে।
সুকন্যা, তুমি আবার জাগবে কবে, এ পথেই মশাল হাতে চলা আমাদের, এ পথেই মুক্তির দিশা, দাসত্বের শৃঙ্খল মুক্তি সকলের আমাদের মুক্তির সে শরতের সকাল বসন্তের বাতাস খরার দুনিয়ায় শ্রাবনের রাতে মেঘ ভেঙে বৃষ্টি পৌষের দুপুরে সোনালী ফসল সে যে নবজীবন আমাদের, গড়ে উঠবে নয়া দুনিয়া আমাদেরই শ্রমে আঁধার শেষে রাত্রির বুকে সমুজ্জ্বল ভোরে।