যুগল কুকুর কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৮.০৯.৭৫ মিঠেখালি মোংলা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
মেরুন শাড়ীর নিচে লুকিয়ে রেখেছো সব বসন্ত-দহন, তুমি ভালোবাসার পুষ্পিত বাগান থেকে দৈনিক কিছু বেদনার্ত বকুল ছিঁড়েছো---
আমি দহনের দৈর্ঘ জানি কোথায় স্পর্শ করলে অনায়াসে ভুলে যাবে মেধা ও মাধবী দীঘল বয়স, জানি কোনখানে ছুঁলে তুমি দেহে নেবে নগ্রতার ঘ্রান।
কুমারী শোনিতে কারা খেলা করে অনভিজ্ঞ পায়, অসময়, অবেলায় কাবা হাঁটে কোমল উঠোনে? স্বপ্নে লালিত সাপ গোপন দূধরাজ নিবিড় নিশিখে এসে খেয়ে যায় কুমারীর গোপন সৌরভ। যুগল কুকুর আসে মাঝরাতে সঙ্গহীন ঘরে, শরীরে সাঁতার কাটে শারীরিক হাঁস।
এক একে মুই, দুই দুয়ে এক--- সারারাত নামতা নামতা পড়া পাঠাশালা দুপুর, শরীরে সাঁতার কাটে প্রতিবেশী যুগল কুকুর॥ . **************** . সূচীতে . . .
চাঁদে পাওয়া কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ২০-০১.১৩৯৪ মিঠেখালি বন্দর। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
রাত্তি যখন দুয়োর খুলে দাঁড়ায় তখন, এক নীল নেকড়ে তাডায়
তখন, হাওয়ায় কলরব চাঁদে কাঁদে শিলার সজীবতা জোস্না কোমল ওষ্ঠ দুটি বাড়ায় তাড়ায়, নিভৃত এক নীল নেকড়ে তাড়ায়
আমার, মন প'ড়ে বয় বনে ঘরের দিকে ফেরার কথা ভাবি অথচ মন হারায় চাবি হারায় দাঁড়ায়, কে যেন সে দুয়োর খুলে দাঁড়ায়
নদীর দিকে ফেরাই পোড়া চোখ নোনা জলের গন্ধ আসে ভেসে স্বপ্ন বুনি স্মৃতির খড়ে নাড়ায় নাড়ায়, ভেতরে কেউ নিবিড় কড়া নাড়ায়॥ . **************** . সূচীতে . . .
আত্মরক্ষা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ০৩.০৩.৮৭ মোংলা বন্দর। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
জীবন এক টুকরো আগুনের নাম---তুমি পোড়ো। শুকরের . রক্তের মতোন গাঢ় লাল . যে স্বপ্নগুলো,
নীলিমায় ডানা ম্যালা, যে স্বপ্নের সাহসী পালক কৃষ্ণচূড়ার মতো ফুটে থাকে . যে স্বপ্নগুলো সুর্যাস্তের দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে . যে স্বপ্নগুলো, সে স্বপ্ন মুষ্টিবদ্ধ, . সাহসের সপ্রতিভ ফনা, যে স্বপ্ন জীবন অগাধ বিস্তীর্ন এক ব্রহ্মাণ্ড-জীবন . কেবলি জীবন---
দুঃস্বপ্নের দালান কোঠা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৩.০১.১৩৯৪ মোংলা বন্দর। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
আমার এখন সমস্তটাই স্থৃতিসৌধ, হৃদপিণ্ডে পিন ফোটানো কালো ব্যাজের মৌন বিষাদ, একুশে ভোর, নগ্ন পায়ে শহীদ মিনার, আমার এখন সমস্তটুক্ এক মিনিটের নিরবতা।
দুচোখ বেয়ে বাত্রি ঝরে, পাংশুটে রাত, রক্তমাখা চাঁদের দেহে জোস্না উধাও, উল্টে পড়ে রোদের বাটি, আমার এখন আকাশ জুড়ে দুঃস্বপ্নের দালানকোঠা।
উঠোনে সাপ অবিশ্বাসের ভীষন কালো রক্তজবা, লকলকে জিভ, এখন আমার সমস্তটাই লখিন্দরের লোহার বাসর।
আঙুলগুলো ঝ'রে পড়ছে হাত থেকে ফুল, ঘরের পাশে লক্ষ্মী-প্যাঁচার ধাতব গলা, আমার এখন শঙ্খচিলের কান্না ভেজা দুপুর বেলা, শূন্য খা-খা একাকি মাঠ, ঘাসের ডগায় নাল ফডিং-এর নিমগ্নতা।
আমার এখন হৃদয় শুধু হৃদয় বোলে দুহাত মেলে চাতক পাখি . . . আমার এখন বুকের ভেতর কবর শুধু কবর খোঁড়ার ভারি শব্দ।
দুচোখ বেয়ে সকাল ঝরে, উল্টে পড়ে স্বপ্নবাটি। আমার এখন নিজের মধ্যে নিজের কফিন, সমস্ত রাত করাতকলের কষ্ট-ধ্বনি--- এখন আমার সমস্তটাই পিরামিডের মগ্ন মমি॥ . **************** . সূচীতে . . .
বার বার আপনার চোখ কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১২.১০.৮৩ মুহম্মদপুর ঢাকা । অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
আপনি বার বার দুল করছেন। বার বার আপনার চোথ বিশ্বাসঘাতকতা করছে আপনার সাথে। আপনার শ্রবন আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। আপনার জিহ্বা আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। আপনার স্পর্শ আর আপনাকে সঠিক অনুভব দিতে পারছে না। আপনি ভুল করছেম . . .
সুবর্নলতা ভেবে আপনি যাকে জড়িয়ে ধরেছেন সে তো সাপ---আপনি ভুল করছেন। মুদ্রা না-এনে আপনি এক ব্যাগ নক্ষত্র নিয়ে এলেন। আপনি পাথরের কাছে জল চেয়ে নতজানু হয়ে আছেন . . .
আকাশ বদল কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৭.০৯.৭৬ সাহেবের মাঠ মোংলা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
পাগলা ঘোডার পিঠে চ'ড়ে বসেছে বাতাস। এমন বিকেল আহা! যেন কোনো দূরের পাহাড়ে আজ বাতাসের বরফ গলেছে---
এলে তুমিও দেখতে পেতে কেমন মাতাল হয়ে ওঠে তরুর শরীর, কি উল্লাসে ফেটে পড়ে পাতা ও শাখারা।
যে পাখিটি সমস্ত দুপুর ডেকে ডেকে হয়েছিলো ম্লান, এখন পালকে তার সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো গতি। এলে তুমি দেখতে পেতে কি মুখর হয়ে ওঠে নিসর্গের শ্যামল তর্জনী।
বেগুনি মেঘের নিচে একখানা শুভ্র শাদা মেঘ, তার পাশে আরখানা হাল্কা গোলাপিয়া লাল, তারো নিচে---তারো নিচে একখানা মেঘ গাঢ় কালো।
কালো মেঘ দেখে তুমি চিরদিন বলেছে বিপদ, ওই মেঘ গোপন ঘাতক। আমি তবু তার দিকে, চেয়ে ভেবেছি ওই তো আমি---বিপদের চিহ্ন ব’য়ে আনা
একদিন তুমি কালো মেঘ দেখে বলবে, দুর্দিন, দুর্যোগ। আমি ভাসতে ভাসতে আর কোনো নিভৃত আকাশে ফিরে যাবো, আর কোনো পৃথিবীতে . . . . **************** . সূচীতে . . .
বেহুলার সাম্পান কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১২.০৩.৭৭ সিদ্ধেশ্বরী ঢাকা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
তোমাকে পাবার প্রস্তুতি আনে বোধ, দুঃখকে তাই শাসাই রুক্ষ স্বরে, বেদনাকে তাই মোড়াই কাফনে শাদা--- তোমাকে রাখার পরিসর গড়ি প্রানে।
মন্বন্তরে অন্তরে যতো ক্লেদ, মৃত সবুজের যতো পরাজিত বোঝা, যতো পুরাতন পচনের ঝুল কালি, ঝেড়ে মুছে কিছু করি তারে উজ্জ্বল।
কিসের এমন প্রেরনা পেয়েছে মন নষ্ট আঁধারে শ্রেষ্ঠ বাসনা খোঁজে। বুকের অসুখে সুখের স্বপ্ন লিখে ঘন দুর্যোগ তবু সে ভাসায় বেহুলার সাম্পান . . .
মরীচিকা বোধ কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৪.০১.৭৭ মিঠেখালি মোংলা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
মিথ্যে অমন ভয় করেছিলে আসলে অতোটা কষ্ট ছিলো না। দূর থেকে যারে মনে হয়েছিলো ভীষন কঠিন আসলে সে তার সবটুকু জুড়ে ছিলো সরলতা।
বন্ধ তালায় ওরকমই খুব থাকে রুক্ষতা, সামান্য সেই চাবি জানে তার অবাধ প্রবেশ। ওই ভয়টুকু অচেনার ভয়, অচেনা শিহর আসলে অতোটা কষ্ট ছিলো না।
ঘর ভাবে পথ খুব বন্ধুর, পথ জানে সে যে কতো সমতল। তুমি ভেবেছিলে কর্কশ মাটি কি ভীষন ক্লেদ অথচ লাঙল ভালোবেসে তাতে বাখলো শরীর।
সন্ধায় ঘরে আলো নেই যার তুমি বল্লে সে আঁধারের শোক, অথচ পৃথিবী তার কাছ থেকে চেয়ে নেয় দিন, সে-ই আনে তুলে আঁধারে লুকানো রোদের ঝিনুক।
দূর থেকে তাকে মনে হয়েছিলো নিশ্চল শিলা, আসলে সে তার সবটুকু জুড়ে ছিলো গতিশীল--- ছিলো তার চলা সবটুকু জুড়ে, সবটুকু ছিলো প্রান॥ . **************** . সূচীতে . . .
সেই এক রোদের রাখাল কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ০১ চৈত্র ‘৮৬ মিঠেখালি মোংলা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
এখনো আগের মতো দিন যায় নিজের নিয়মে। সারাদিন ধুলো রোদে, তিন ভাগ রাত কাটে বিনিদ্র নেশায় গহিন হৃদয় খুলে একা একা, তারপর
পলাতক পাখিদের নাম, চিতল হরিন আর সেই চৈত্রের দুপুর---সেই এক রোদের রাখাল তারে খুঁজি, একটি গোলাপ কেন আজ তবে ফুটেছে শাখায়, বিষন্ন গোলাপ!
এখানে তো পাখিহীন, পুষ্পহীন, উষর জীবন! এখানে কি জল ছিলো কোনদিন স্নেহ ছিলো? আজ তবে একটি গোলাপ কেন ফুটেছে শাখায়?
যারা ছিলো স্বপ্নবান, যারা ছিলো স্নিগ্ধ, পুষ্পময়, তারা কেউ বলেনি : পাতক, ফিরে এসো, ওপথে আঁধার। তুমি তো শস্যের ছিলে, তুনি তো জোস্নার ছিলে,
আজ তবে কেন এই ছিন্ন রক্তমাথা পোষাক পরেছো? কেন এতো অভিমানে প্রতিদিন নিজেকে পোড়াও? তারা তো বলেনি কেউ : অমিতাভ ফিরে এসো---
একটি গোলাপ কেন আজ তবে ডাকলো পেছনে, একটি গোলাপ কেন তবে আজ দুহাত বাড়ালো!! . **************** . সূচীতে . . .