পাখিদের গল্প কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১২.০৪.৮৫ মিঠেখালি মোংলা। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত কবির “গল্প” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
আমাৰ স্নায়ুর সকল ইচ্ছা দিয়ে তোমাকে চাইছি হৃদয়ের কাছে পেতে। তোমাকে চাইছি মানবিক স্নেহে, প্রেমে, মানবিক মোহে, শরীরে ও পিপাসায়।
পাখিরা যেমন মৌশুমি ঘর বাঁধে, উত্তর থেকে নাতিশীতোষ্ণ বিলে। আমরাও বাঁধি পাখিদের মতো নীড়, চলো গ’ড়ে তুলি নীলিমার সংসার।
সকালের গল্প কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৪.০৪.৮৪ মিঠেখালি মোংলা। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত কবির “গল্প” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
লাল সফলের সূর্যটা উঠি উঠি, বৈশাখ মাস বইছে দখিনা হাওয়া। আলোর সূচনা গুটি গুটি পায়ে এসে কেবল হয়েছে কণ্ঠার কালো তিল,
শাড়িকাপড়ের গল্প কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৫.০৪.৮৪ মিঠেখালি মোংলা। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত কবির “গল্প” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
শাড়িতে তোমাকে মানায় সবচে’ বেশি এবং তা যদি স্বদেশের তাঁত হয়।
অস্ত্রিকভাষী ভেড্ডিড জনধারা বয়ে এনেছিলো যে-পোষাক দেহে কোরে, আজকে তা শাড়ি নাম নিয়ে আছে বেঁচে। পুরুশের ধুতি লুপ্ত হয়েছে প্রায়।
মাটি ও জলের মাতৃভাষার সাথে মিশে আছে স্বাদ, দিনযাপনে ভাষা। শ্রমের স্বভাবে গাঁথা মানুষের দিন, অর সাথে গাঁথা প্রানের স্বভাবগুলো।
শাড়িতে তোমাকে মানায় সবচে' বেশি এবং তা যদি দেশের তাঁত হয়। নগ্ন দেহের শ্যামল প্রকৃতি ঘিরে নদীর মতোন জড়িয়ে থাকবে শাড়ি।
শাড়িতে তোমাকে মানায় সবচে' বেশি এবং তা যদি দেশের তাঁত হয়। মসলিন-স্মৃতি যে সব আঙুলে মাখা, তারাই সাজাবে তোমার শরীরখানি॥ . **************** . সূচীতে . . .
নারী ও নদীর গল্প কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৬.০৪.৮৪ মিঠেখালি মোংলা। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত কবির “গল্প” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
খোলা জানালায় দাঁড়ালে, বাইরে চোখ, জোয়ারে ভাটার বহমান নদী পাশে। ঝাঁপিয়ে পড়েছে হাওয়ার পঙ্গপাল তোমার দেহের সবুজ শস্যক্ষেতে।
তাকিয়ে দেখছো বিকেলের ভেজা আলো ভিজিয়ে দিয়েছে জলের বস্ত্রখানা। নদী আর নেই প্রকৃতির স্রোতস্বিনী, যান্ত্রিক স্রোতে সে-নদী গিয়েছে খোয়া।
কবিতার গল্প কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৭.০৪.৮৪ মোংলা বন্দর। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত কবির “গল্প” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
এই কথা তৃমি সবচেয়ে ভালো জানো, তোমার পড়শি কবিতা বোঝে না কেউ। তুমি জানো তারা সোনাদানা বোঝে ঢের, ঢের বোঝে তারা ঈর্ষার কারুকাজ।
কবিতা বোঝে না মিল মালিকের বউ, বনিক শহরে বানিজ্য মতিঝিল, কবিতা বোঝে না বনিক নাগরিকেরা। কবিতা বোঝে না বিটিভি জেনারেশন।
কবিতা বোঝে না ভাড়াটিয়া পণ্ডিত, দীপ্তচক্ষু কোমল অধ্যাপক, রবি ঠাকুরের শততম মুদ্রন--- কবিতা বোঝে না কবিতা-সমালোচক।
কবিতা বোঝে না রাজ্যের সেনাপতি, কবিতা বোঝে না পারিষদ পরিজন। নৌ-পদাতিক অশ্ব আকাশচারী, কবিতা বোঝে না দারোগার ঘাটমাঝি।
কবিতা এখন কি-যে হাবিজাবি ভাষা, নোংবা মানুষ ও নোংরা কথার ঢেউ ভাসিয়ে নিয়েছে যাবতীয় সুবচন। কবিতা এখন মিছিলের সাথে চলে।
এখন কবিতা ফুল নদী জোস্নার 'শিল্প-সফল ভাষা’ই গিয়েছে ভুলে। কবিতা এখন খিস্তি-খেউড়ে ঠাসা, কালিঝুলি মাখা শ্রমিকের ভেজা হাত।
কবিতা এখন ক্ষুধার্ত সারাদিন, কবিতা এখন মলিন বস্ত্র দেহে, কবিতা এখন প্ল্যাটফর্মের ভিড়ে, অনিশ্চয়তা রাত্রির মতো কালো।
কবিতা এখন মিছিলে ক্ষুব্ধ হাত, স্বৈরশাসন বিরোধী প্রথম ভাষা। কবিতা এখন ট্রাকে চাপা দেয়া লাশ, রক্ত মগজ পেষা মাংশের থুপ।
কবিতা এখন গুলি খাওয়া জমায়েত, কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় রক্ত চোখ। কবিতা এখন অস্ত্রের মুখোমুখি, কবিতা এখন অস্ত্রের অধিকার।
কবিতা এখন বোঝে না ফুলের ভাষা, এখন কবিতা জীবনের কথা বলে। কবিতা এখন বোঝে না কোমল স্বর, কবিতা এখন শত মানুষের ধ্বনি।
এখন কবিতা খাপখোলা তলোয়ার, এখন কবিতা মেদহীন খজুদেহ। কবিতা এখন স্বপ্নের প্ররোচনা, কবিতা এখন বিশ্বাসী হাতিয়ার॥ . **************** . সূচীতে . . .
মিছিল ও নারীর গল্প কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৮.০৪.৮৪ মোংলা বন্দর। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত কবির “গল্প” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
মিছিলে তোমার দৃপ্ত পদক্ষেপ, উন্নত হাতে জীবনের দাবি মাথা। মিছিলেই তুমি নারী হয়ে ওঠো বেশি, যেমন শিশু ও শস্যের উৎসবে।
মিছিল তোমাব মুক্ত পায়ের পথ, মিছিল তোমার খোলা দরোজায় নদী। মিছিল তোমার প্রধান অলংকার, মিছিলেই ভুমি সবচেয়ে অপরূপ।
চিঠিপত্রের গল্প কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৯.০৪.৮৪ মিঠেখালি মোংলা। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত কবির “গল্প” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
চিঠিগুলো রোজ চুরি হয়ে যায় শুধু খালি খাম এসে জ'মে থাকে রাশি রাশি। সব খামেরাই তোমার ঠিকানা চেনে একটি চিঠিও পায় না তোমার দ্যাথা।
ডাক বিভাগের মোষের চামড়া জানি, কোনো আঘাতেই ভাঙে না তাদের ঘুম। উদাসিনতার প্রামান্য ছায়াছবি, দ্যাথা যেতে পারে যে কোনো পোস্টাপিসে।
চিঠিগুলো রোজ চুরি হয়ে যায় কেন! উৎকণ্ঠার দিন ও রাত্রি কাটে বিস্ময় এসে স্নায়ুতে পাকায় জট, জীবনের কোনো খবর পাও না তুমি।
আমার কষ্ট, বেদনা ঝরানো দিন, প্রবল আমার স্নায়বিক-বিবমিষা, আমার রক্ত উত্তাল করা স্মৃতি, প্রতিদিন আমি তোমাকে জানাতে চাই---
বাজারে তালের হুহু বেড়ে যাওয়া দাম, মরিচ তেলের কৃত্রিম সংকট, প্রশাসন জুড়ে লুটের মহোৎসব, প্রতিদিন আমি তোমাকে জানাতে চাই---
চিঠিগুলো রোজ চুরি করে কে বা কারা? আমার মকল দুর্ভাবনার কথা, দুঃশাসনের সকল স্বৈরাচার, চতুর্পার্শ্বে রাতের বাড়ানো থাবা,
প্রতিদিন আমি তোমাকে জানাতে চাই--- মাথার উপরে খড়গ রয়েছে খাড়া, বাঘের থাবায় অসহায় খরগোশ, পিচের সড়কে রক্তের কারুকাজ,
দাম্পত্যকলহের গল্প কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ২০.০৪.৮৪ মিঠেখালি মোংলা। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত কবির “গল্প” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
দ্বিধার গল্প কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ২৪.০৫.৮৪ মোংলা বন্দর। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত কবির “গল্প” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
গাছগাছালির গল্প কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ২৪.০৩.৮৬ মিঠেখালি মোংলা। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত কবির “গল্প” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
শেষ হয়ে এলো পাতা ঝরানোর দিন, দ্বিধার পুরোনো বল্কল গেছে খ’সে। এখন তোমার শাখায় নোতুন পাতা ফুটবে যেমন তারা ফোটে আসমানে।
চেতনার 'পরে ধুলোর আস্তরন। ধুয়ে মুছে গেছে বাস্তব বৃষ্টিতে। শিকড়ে পেয়েছো মরমি মাটির রস এখন তোমার শাখারা সবুজ হবে।
বৃক্ষ তোমায় প্রিয় তরু নামে ডাকি। বৃক্ষ তোমাকে মনোরম তরু ববি। গাছগাছালির গেরুয়া গৃহস্থালি রয়েছে পেছনে, এখন তুমি তো তরু---
এখন তুমি তো সবুজের সংসার, ফুল ও ফলের সম্ভাবনার রেনু ক্রমশ বাড়ছে তোমার নিভৃত মূলে, এখন তুমিই প্রকৃতির পরিচয়।