কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতা
*
উন্মোচনের ঘ্রান
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
“খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত
“রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

তার সবদিক বিস্ময়ে ঘেরা সন্দেহ
তার সবদিকে আশংকাদের চতুর চলাফেরা
বিস্ময় জুড়ে জেগে থাকা অবয়বের দরোজাগুলো
তার চারিদিকে লতাপাতাময় নিবিড় আচ্ছাদন।

কোন বকুল ভোরে খুলেছিলো তার ঘর
আলোর মাদুরে একে একে তাকে খুলে
মেলে রেখেছিলো স্মৃতি বিস্মৃতিগুলো
কোন বকুল ভোরে আমার ভেতর খুলেছিল তার
সন্দেহের আবরন!

ধ্বনি থেকে গেছে প্রতিধ্বনিতে
তবু জেগে আছি বিপরীত জলে একা,
য্যান দ্বৈরথ এসে থেমে দাঁড়িয়েছি দ্বিমুখি পথের কাছে

বুকে হাত রেখে বুঝেছি আছে
ধ্বনি নেই আছে প্রতিধ্বনির ছায়া।

তার সবদিক বিস্ময়ে ঘেরা সন্দেহ
তার মাঝে সে-ই খুলে আছে তাকে
উন্মোচনের ঘ্রান,
কোন বকুল ভোরে আমার ভেতর খুলেছে সে তার
সন্দেহের আবরন!

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জলের উপত্যকায়
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
“খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত
“রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

বড়ো অসময় এসে তুমি স্মৃতিচিহ্ন রেখে যাও
বড়ো অসময় এসে বসে থাকো অচেতন ভুবনে।
তোমাকে বোঝার আগেই তুমি বোধের উৎসে
নতজানু প্রার্থনার মতো ধূপে ও লোবানে জড়াও
কোমল বিন্যাস

তোমাকে ছোঁবার আগেই তুমি অস্পর্শতায় ফিরে যাও!

তুমি নিঃশব্দ গমনে এসে দেখে যাও আমার পৃথিবী
সৌরসাগরে ভাসে মোশুমি দিঘল জাহাজ
কোন আলোকবর্ষে তোমায় দ্বিতীয় প্রেমের মতো
বুকে নেবো অনিদ্র বেদনার কোমল আঘাতে?

তোমাকে ডাকার আগেই তুমি প্রতিধ্বনিতে বেজে ওঠো
দূরের পাহাড়ে তোমার শরীরের শূন্যতা ঘিরে
ভাসমান ধ্বনির নৌকো ফিরে যায় বিষাদ নীলিমা।

অসময় করাঘাতে ভেঙে যায় কবাটের ঘুম,
জলের উপত্যকায় নতজানু বাতাসের মতো
উন্মোচন বুকে এলে কি প্রবোধে ফেরাবে আমায়?

অসময়ে এসেছো বোলে অসময়ে হয়েছে সময়
বেদনায় এসেছো বোলে বেদনাই তীর্থ আমার।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
রাজকীয় লাংগল
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
“খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত
“রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

তবু ফসলে পূর্নিমা জলের জোয়ার আছে পাললিক ভূমির ভুবন
রাজার ক্ষমতার মতো আছে একখানা ধারালো লাংগল ফলা
চকচকে ইচ্ছায় শানিত উর্বরা চাষাবাদ।

উনুনে ভাতের হাঁড়িতে সিদ্ধ হচ্ছে আমাদের যৌবন
কাটাহাত-হাড়মাংস, মাথার সোনালি মগজ-চোখমুখ
প্রেমিকার ফ্যাকাশে ঠোঁট-স্তন-উরুসন্ধি-উর্বশী রাত
হৃদপিণ্ডের কালো কংকাল।

উনুনে পুড়ছে ভাত হৃদপিণ্ড
রক্তেমাংশে আগুন খেলছে, আগুন-আগুন---
তবু জলমাখা মেঘের পালক চারিপাশে মেলে আছে পাখা,
কতোখানি পোড়াতে পারে আগুনের অনাহারী গ্রাস
আগুন তো বিকল্প আশ্রয়ভূমি।
ঋজু করোটিতে সভ্যতা পুড়ছে অমীমাংসিত ক্লেদে,
একদিকে খরাচৌচির মাটি আর একদিকে জলে পরবাসী বন্ধুয়া
চিঠিতে চিঠিতে শুধু একরাশ কুশল বিনিময় না দ্যাখা কৌতূহলে
শূন্যতা কেঁদে ওঠে নেই---নেই---নেই

তবু একখণ্ড ভূমি আছে আজীবন কর্ষনের অপেক্ষায় নত
আছে একখানা রূপোলি লাংগল ইচ্ছায় শানিত রাজার ক্ষমতা
ঘৃনায় বাসনায় পুষ্পিত রাজদণ্ড।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অন্তরাল প্রার্থনা
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
“খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত
“রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

পাতা ফুল খেয়ে গাছকে চিনতে পারিনি
এইটুকু দেখে কীভাবে তোমায় চিনবো!

যে গাছের কাছে গচ্ছিত রেখে সময়ের সারাবেলা
পাতার প্রকাশ ধারন কোরেছি মেধায় মাধবীতে
তবু কতোখানি ছুঁয়েছি বৃক্ষ, তরুর গভীর তনু
সারাক্ষন শুধু সুষমা দেখেছি ক্ষতকে কীভাবে দেখবো!

পালকের নিচে যে কৌতুহল রেখেছো নিখুঁত সাজিয়ে
তাকে খুঁজে খুঁজে সময় কেটেছে অচেতন বিক্ষোভে
অতল উৎসে অমেয় আকাশ কীভাবে তোমাকে চিনবো!

চোখের বাইরে কারুকাজ দেখে থেমেছি ভেতরে যাইনি
চুলে ও ললাটে হাতের ছোঁয়ায় বুনেছি স্নেহের বাসনা

তবু কি পেরেছি শরীর ছাড়িয়ে পুজোঘরখানি দেখতে
কার প্রার্থনা একাকী প্রদীপে ধূপের ধোঁয়ায় গন্ধে
পুড়ছে সাঁঝের শুভনামে শূভ্রতা!

এইটুকু দেখে কতোটুকথানি দেখেছি
দ্যাখার ভেতরে না দ্যাখাই ছিলো বেশি,
দেখেই কীভাবে চিনবো তোমাকে না দেখে চিনেছি যাকে
অদ্যাখার মাঝে ছড়িয়ে ছিলো সে অচেনা দ্বিধায় গ্রস্ত।

পাতাফুল খেয়ে গাছকে চিনিনি তোমায় কীভাবে চিনবো
এইটুকু দেখে অবয়ব বীথি কীভাবে জানবো প্রার্থনা পুজোঘর!

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
পলাতকা শুভ্র আংগুল
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
“খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত
“রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

পশ্চাতে প্রিয় নামে ডেকে ওঠে কাদের কন্ঠস্বর!
যেন স্মৃতির ভেতর থেকে উঠে আসছে সারি সারি
রূপশালি কেয়াফুল, শস্যের শিষ নুয়ে পড়া ফসলের ভারে,
যেন দুধখই খেজুর পাটালি হাতে ডেকে ফেরে মায়ের দুচোখ---
কারা ডাকে, পশ্চাতে প্রিয় নাম ধ’রে ডেকে ওঠে কাদের ব্যাকুল কন্ঠ!

যে পথে পদচিহ্ন রেখে যাই সকাল বিকেল
হাওয়ার মোহানায় এসে দুহাতে বাতাস সরিয়ে
যে পথে ফিরি শোভন সম্রাট
সে পথে দুঃসাহসও কোনোদিন একাকী যায়নি হেঁটে।

পেছনে ডেকে ওঠে স্বজন শেফালিকা শুভ্র আংগুল
ব্যথিত বিদায়ের মেঘ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা রোদের মতো
প্রতিবেশী পলাতক পাখি পুনর্বার পরাজয় পাড়ি দিয়ে যাবে,
সকলেই কোথাও যাবে---কোনো পিছু ডাক থাকবে না?
মৃদু করছোঁয়া রেখে কাঁধে কারো চোখ হবে না
অমংগল যাত্রার জলময় নিষেধ?
কোনো পিছু ডাক থাকবে না!

ফসলের উৎসব শেষে ফুরাবে ইঁদুরের গৃহের সঞ্চয়
কুকুরের কান্নায় মুখরিত হবে জীবনের দীর্ঘতম রাত।

জিরেন রসের পাত্রে জমা থোকা থোকা ফেনার সাদায়
ভেসে থাকবে একাধিক মাছির মৃতদেহ,
ধানের স্মৃতি বুকে নিয়ে পড়ে থাকবে খড়কুটো দূরের প্রাঙ্গন

প্রিয়নাম ধ'রে কোনো পিছু ডাক থাকবে না, কোনো পিছু ডাক থাকবে না। . . .

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জোস্নার সবুজ আগুন
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
“খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত
“রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

ভালোবেসে বুকে নিলে দংশনে রক্তাক্ত কোরে
হৃদয়ের সবুজ সমতল। তবু বুকে এলে তৃপ্তি আসে
জ্বলন্ত আকাশ ঢাকে একঝাঁক জলের কনিকা,
নিমেষে উর্বরতা নেচে ওঠে শস্যের সতেজ গ্রীবায়
ফসলের সুষম বিন্যাসে।

বুকে এলে জমাট কান্নার শিলা মুখরিত স্রোতে
নেমে যায় বন্যার সমুদ্রগামী মাছের মতোন,
অবয়বে ডানা মেলে পোয়াতির সুষমা বীথি
যেন শংখচিলের পালক ছড়ানো ঘাসের বিথানে।

কীভাবে ফেলে যাও এইসব কারুকাজ ছবি শিল্পকলা
এইসব তরু, ঘোলাটে চাঁদ, চকচকে রুপোলি সিকি,
উদাসিন জলের মতো ভেঙেচুরে তুলে আনো নরোম পাললিক
কী ভীষন ইচ্ছাকৃত উদাসীনতায় বিস্তৃত হতে থাকো
বুকের টারবাইনে!

তোমার অস্তিত্বের শূন্যতাকে ধরে রাখি বিপুল বাসনায়
ইচ্ছার বাঁকা ঠোঁটে একটি ধূসর গোলাপ পুড়ে যেতে থাকে
পুড়তে পড়তে এসে ঠেকে গেলে চুম্বনের মাধবীভূমিতে
ভুলে যাই দ্বিতীয়বার তোমার রক্তমাংস, কোমরের উন্মুক্ত আকাশ,
নোখের হিংস্রতায় ছিঁড়ি বাহাত্তুর হাজার দিন---একখানি জৈবিক শহর . . .
কী ভীষন উদাসীনতা তোমার রক্তের ভেতর ছড়িয়ে রয়েছে
একাধিক উত্তর মেরু, তুষার শীতার্ত প্রেম।

বুকে এলে পদ্মার ভাঙন আসে অসহায় চোখের কিনারে,
সংসারের ভিতে এক একাকী মাতাল উড়ায় তাসের বিভিন্ন প্রতীক,

গাঁয়ের বসতি উঠে যায় প্রতিবেশী নিরাপদ দেশে।
ভাসমান আয়ু নিয়ে পরমায়ু খোঁজে
সেই পোড়োবাড়ি ফেলে যাওয়া অবিশিষ্ট আসবাব

যাকে কোনোদিন কেউ রাখেনি নিকোনো গৃহের আশ্রয়ে
ভালোবেসে বুকে নিয়ে চিরকাল তাকেই বোলেছি প্রেম
প্রিয়তম তীর্থভূমি।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সামুদ্রিক অহংকার
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
“খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত
“রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

পুষ্পিত হাতে ডাক দিয়েছি, আসবে না কেন!

তোমাকে যে হাতে ধারন কোরেছি আজন্ম বাসনায়
যেখানে বুনেছি ফসলের অনন্ত চাষাবাদ অনিদ্রায় দহনে
রক্তিম প্রতীক্ষা জুড়ে যে শস্যের ঘ্রান বেড়েছে দৈর্ঘে সীমান্তে
সে হাতেই তোমাকে ডাক দিয়েছি আসবে না কেন?

এই হাতে ডাক দিয়ে কখনো ফিরিনি ব্যর্থ বিষাদ
নদীর মতো এই হাতে আঁকিনি কোনো বালুচর বিষন্নতা,
এই হাতে কলরবে মুখরিত পাখিদের শিশু
এই হাতে অতন্দ্র প্রেম একাকী সাজায় স্বপ্নের গেরস্থালি
এ হাতেই ছুঁয়েছি তোমায় ভালোবেসে কেন বুকে রাখবে না
পোড়া কালো চাঁদ বিনিদ্র নিশিথ!

যতোটুকু চেয়ে তোমাকে ছুঁয়েছি কাঙ্খায় চেতনায়
শুধু চাই ততোটুকু পাওয়া, ততোটুকু শুধু আমার পৃথিবী
শিহরনমাখা ব্যাকুল বকুল সুখ।

শিশির বিশ্বাসে ডাক দিয়েছি, আসবে না কেন!

এই হাতে ফুল দাও এই চোখে স্বপ্নের মেঘ
এইখানে তুমি থাকো এইখানে আমার গ্লানি।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
স্বরচিত চন্দ্রশহর
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
“খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত
“রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

তুমি যাকে ভাঙন ভেবে ভেতরে ভেতরে দারুন কেঁপে উঠেছিলে
সে আমার সৃষ্টির কাছে আমাকে সঁপে দেয়া প্রথম সমর্পন
ভেঙে ভেঙে বেড়ে ওঠা স্বরচিত গৃহের বিন্যাস, বিপরীত উন্নতি।
অভ্যন্তরে তাকালেই তুমি আমার পুননির্মান দেখতে পাবে---

ধারনের ক্ষমতায় একদিন সরে যেতে যেতে ব্যবধানের দুই প্রান্তে
দুজনের অনিচ্ছাকৃত থেমে থাকার মাঝে জেগে উঠবে দূরত্বের
নতুন চরাভূমি
একদিকে একটি ভাঙনের গৃহ অন্যদিকে দ্বিধাগ্রস্ত তোমরা দুজন।

এইভাবে যেতে যেতে তুমি দূরের জানালা থেকে কখন তাকাবে
নীল অভিমান জ্বেলে একাকী আলোর মতোন
সরাবে আঁধারের নরোম কুয়াশা
আমি তাই দেখে দেখে ভেঙে যাবো দ্বিধার কার্নিশ।

নিদ্রার সম্মোহন ফিরে গেলে তুমি খুলবে পোষাক
স্নানঘরে জলের শব্দ হবে ভেজা চুলে খেলবে এক
বাতাসের দারুন কিশোরী।

আয়নায় দাঁড়ালেই দেখবে দুদিকে ছায়া
ভালোবাসা ঘামের মতো লেগে আছে সমস্ত শরীরে,
আমি তাই দেখে দেখে স্বরচিত ভাঙনের গৃহে
ধীরে ধীরে বেড়ে যাবো চন্দ্রশহর
তাকালেই তুমি আমার পুননির্মান দেখতে পাবে।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আমি কৃষ্ণচূড়াকে প্রেম ভেবে
(শ্রদ্ধাভাজনেষু আবদুস সাত্তারকে)
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
রচনা ৮.১০.৭৩। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির
বানান।  

পার্কে বিকেলের নরোম রোদে
আমিও একদিন
যাবতীয় পোষাকগুলো খুলে ফেলে
ঘাসের মতো নগ্ন হোতে চেয়েছিলাম

আমার বসন্ত ছিলো
আমার কোকিল ছিলো।

আমি কৃষ্ণাচূড়াকে প্রেম ভেবে
কোনো এক বসন্তের রাতে
গোপনে বুকে রেখেছিলাম

তখন বসন্ত ছিলো
আমার কোকিল ছিলো।

আজো আমার বসন্ত আছে
এখনো কোকিল আছে
অথচ কৃষ্ণাচূড়া---
আমার প্রচুর উত্তপ্ত রক্তে
চিরদিন সিক্ত থেকেও
ক্রমশ ধূসর হয়ে গ্যালো।

আমার বসস্ত আছে
আমার কোকিল আছে
শুধু কৃষ্ণাচূড়া নেই।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
নিজেকে নিয়ে আছি, নিজে নিজে আছি
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
রচনা ৪.৭.৭৪। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
“নিজেকে নিয়ে আছি” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ
শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

নিজেকে নিয়েই আছি।
বাতাসে বসন্তের কসুমিত সৌরভ
ছড়ালে অথবা কোনো গাঢ় নিসর্গে যদি
তার নরোম হাত রাখে তবু উদাসীন থাকি
নিজেকে নিয়েই থাকি।
নিরপেক্ষ বিকেলে ক্লান্ত সারাদিন
শেষে জনৈক এক যখন অলস হাতে
খুলে রাখে নীল তার রোদ-চশমা এবং
প্রকৃতি বিষন্ন হাতে পাল্টিয়ে নেয়
রোদের হলুদ সার্ট ; তখন আকাশে রাত
নিজস্ব ছায়া দ্যাখে। বাতাসের শ্লথ চুলে
হাসনুহানার ঘ্রান প্রখর মাতাল

তবু আমি দুটি চোখ অলৌকিক চশমায়
আবৃত রাখি ; কাজেই সন্ত্রাস সমস্যা অভাবেও
আজকাল কিছুতেই কিছু যায় আসে না---শুধু

হাত দুটি রেখেচি আমার আকাশের ললাটে
অথবা কোথাও কোনো বাস নিয়মিত চলতো
এখন চলে না আর।

পেছন থেকে তুমি পুরোনো প্রেমের স্বরে
ডাকলেও আমি তাকাবো না আর ভালোবাসা
নামক স্টীমারেও উঠবো না বোলে আছি
নিজেকে নিয়েই আছি

ব্যত্তিগত আয়নায় যে প্রতিবিম্ব
তাতে লুকোনো কোনো অর্থ নেই য্যামন
রাতের ভেতরে রাতের ছায়া, তাই একাকী
জোৎস্নার বুকে শুয়ে আছি বাতাসের ছায়ে

এবং নিজে নিজে আছি
নিজেকে নিয়েই আছি।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর