তোমার প্রেম কংক্রীটের রাস্তা হোলে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১১.৯.৭৩। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
তোমার সুচতুর প্রেম যদি নির্বিবাদে কখনো হয়ে যায় কংক্রীটের মসৃন রাস্তা হৃদয়ের স্বয়ংক্রিয় মিউনিসিপালিটির কল্যানে অথবা সজ্জিত করা হয় লাইটপোস্টে রাস্তার পাশ।
যদি ট্রাফিকের নিয়ন্ত্রন আলো অযথা মাঝপথে না করে বিব্রত ভুলক্রমেও এবং যেখানে-সেখানে ছড়ানো ইঁট-কাঠ এ-সব না থাকে। ট্রাফিকজ্যামবিহীন যদি হতে পারে অথবা রাজনীতির শোভাযাত্রা
সে পথে যায় না, আইন রক্ষাকারীর কোনো ভ্রাম্যমান ট্রুপ সে সবও আসে না
এবং পথের পাশের ডাস্টবিন থেকে পঁচাঘ্রান যদি না ছড়ায় তাহলে বলতে পারো---
এবং আমার নতুন মডেলের ভক্সহল আমি নির্বিঘ্নে চালিয়ে আসতে পারি
ইতস্ততঃ প্রস্থানের পথে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ৭.৯.৭৩। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
আমাকে কোথায় যেতে হবে কোন দিকে সমুখে হেঁটে যাবো অথবা বাঁয়ে কিংবা পেছনের পথে? আমাকে কোথায় যেতে হবে কোন দিকে!
একে কি প্রেম বলে অথবা প্রেমেরই মতোন তেমন কিছু আমি রবীন্দ্রনাথের প্রেম পড়িনি কখনো। প্রেম কোন্ পথে আসে কিংবা যায়? যে পথে ফেরাই চোখ সর্বত্রই তোমার তুমি আমাকে কোথায় যেতে হবে তাহলে কোন পথে! ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা 'স্বপ্না'র কুমারী স্তনের মতো আমি ক্রমেই বাড়তেই থাকি তোমার ভেতর
অথচ তোমার তো এমন কোনো ব্রেসিয়ার ছিল না যা দিয়ে ঢাকবে।
ক্ষত শুকিয়ে গেলেও কিছুটা চিহ্ন তো থেকেই যাবে পোড়া স্মৃতির মতো অথবা সঞ্চিত বিষাদ।
তুমিতো আঙুল তুলেই দেখিয়ে দিলে অথচ বোল্লে না কোন পথে যেতে হবে আমাকে কোন দিকে! . **************** . সূচীতে . . .
স্নেহের করাতে রক্তাক্ত ‘ক্রোকাস’ কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ৩০.৮.৭৩। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
তোমার অতি কাছে আমি য্যানো মেঘ নিদারুন উৎকণ্ঠায় দোলে বুকের স্ক্রীন, আশার পশ্চাতে হাঁটে ব্যর্থতা চেতনার অধ্যুষিত রাজ্যে নামে টর্নেডো।
তুমি আসবে বোলে সেদিন রাতে দু'চোখে জেগে ছিলো মোহময় সুখ, স্মৃতির এ্যালবামে গাঁথা পুরোনো হাতে একগোছা নিষ্পাপ ফুলে আগত মৌসুম কোরেছিলো অলক্ষ্য ইঙ্গিত অতি সাবধানে।
আমি তো জানি না সে ভাষার সেই চোখ ক্লান্তিতে শুয়ে ছিলো কিনা সেখানে অথবা জেগে ছিলো কিনা হদয়ের ফুটপাথে,
নিরুপায় আমাকে তোমার স্নেহের করাতে কোরেছো রক্তাক্ত। (জানি না স্নেহ নাকি অন্য কিছু) এবং আমার ক্রোকাস, আমার হৃদয়ে তোমার স্নেহের করাত প্রবেশ কোরে তীক্ষ্ণ বুলেটের মতো।
ব্যক্তিগত গ্রামফোনে পৈতৃক রেকর্ড কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ২১.৮.৭৩। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
কিছুক্ষন বসে থাকি একাই চতুর্দিকে, স্মৃতির মনোগ্রামে লাগে নতুন রং।
দীর্ঘকাল কি য্যানো দেখিনি অথবা শুনিনি কী এক ধ্বনি কি য্যানো একটা এমন কিছু যা শোনার প্রয়োজন আছে খুব।
কী জানি কখন কি হয়ে গ্যালো কোনো বন্যা কিংবা মারাত্মক সাইক্লোন তা তো মনে নেই---কোনো ব্যাংক লুট? এ সব হয়তো নয়, তবে মারাত্মক কিছু এবং আমার গ্রামফোনে একটি রেকর্ড বাড়লো নতুন কিছু শব্দ আর কয়েকখানা গান।
আমার নিজস্ব গোনাগাথা সব কিছু ব্যত্তিগত কিছু কিছু প্রকাশ্য। এ সব অনেকে শুনেছে আমারই গ্রামফোনে অথচ পৈতৃক রেকর্ড ক'খানা শুনাইনি কারো।
সে সব সবারই আছে নিজস্ব গত ইচ্ছে হলেই শোনা যায় যখন তখন। . **************** . সূচীতে . . .
টর্নেডো, স্নেহের ড্রয়িংরুমে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৮.৫.৭৩। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
এখন আকাশ নীল নয়, কালোচুল পাগলিনীর উড়ন্ত প্রখর। অথবা স্থুল অবয়ব বসন্তপীড়িত কুমারীর। এখন ঝড় হলে তোমার আলতো শাড়ীর আঁচল উড়বেই ঈগলের মতো।
ঝড় কি যাবে না পদচিহ্ন এঁকে মৃত্যুর? এমন কি প্রত্যাশায় বলো দেখবো তাকে, দুরন্ত যৌবন এলোমেলো বক্ষবাস তার। আবরনহীন ঝুলে পড়া স্তনে বিক্ষুব্ধ সংগ্রামরত শিশু, একতারা বাউলের এ সব থাকবে কোথায় কী আশ্রয়ে
সদ্যপরিনীতা জেগে রবে নিরবে পথ চেয়ে স্বামী ভাসবে শবদেহ হয়ে করাল জলে এক রাত্রিশেষে নীল শাড়ী নির্মোক হতাশায় বিধবা হয়ে যাবে। আমার উপদ্রুত কুটিরে তোমার উগ্র যৌবন নিয়ে এসো না ঘাতক অসময়ে কোরো না নিহত আমায়। কেন না অনাহুত টর্নেডো তোমাকেও কেড়ে নেবে নির্দয় আমার স্নেহের ড্রয়িরুম থেকে। . **************** . সূচীতে . . .
আজীবন আমার ব্যাথাবিধ্বস্ত হৃদয় কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ২৬.৯.৭৩। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
সেদিন বিরামহীন বৃষ্টি একটানা জলতরঙ্গের মিষ্টি সুর আমার প্রতীক্ষারত হৃদয়ে নিভৃত সুর আর গান ‘ঝর্না’ আজ আসবে।
অজস্র মুহূর্ত ক্রমেই ভেঙ্গে পড়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ে সময়ের জলে ঝুপঝাপ য্যামোন ভাঙ্গে নদীর আল্ গা পাড়।
মিষ্টি বর্ষা ক্রমশ হ্যারিকেন হোলো বিকট ভাঙন এলো অসংখ্য মৃত্যু বাসা বাঁধলো। মৃত্যু---মৃত্যু, কালো মৃত্যু অন্ধকার রাত্রি হয়ে নামলো কিষানের একচালা ঘরে মাতব্বরের বৈঠকখানায় কিশোরীর খেলার অঙ্গনে বন্ধুর মতো ধ্বংস এলো অথচ ‘ঝর্না’ আজো এল না।
ওর কালো চোখে একদিন সমস্ত রাত্রি জেগে যে নিরব জিজ্ঞাসা দেখেছিলাম দেখেছিলাম নিরবে নীরবে নিভৃতে তার উত্তর আমি জানি না জানি না কোনোদিন সেদিনও না।
তারপর ক্রমশ ঝড় থেমে গেলে জীবিত যারা তখন বাঁচার নামে আবার তুল্লো ঘর বিধ্বস্ত ভিতে চোখের জল মুছে গামছায় শাড়ীর আঁচলে।
আবার সাজালো সংসার আবার গান গাইলো সকলে আবার ঘর উঠলো কিন্তু ব্যাথাবিধবস্ত আমার হৃদয়ে কোনোদিন আর ওঠেনি ‘ঝর্না’র ঘর, ‘ঝনা’র গান কোনোদিন গায়নি কেউ আমার হৃদয়ে
বিবর্ন ইথিওপিয়ার কালো ছায়া স্বদেশের মুখে (৭৪-এর খরাক্রান্ত ইথিওপিয়ার উদ্দেশে) কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ২৮.৩.৭৬। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
ইথিওপিয়ার ক্লিষ্ট পাণ্ডুর বৃদ্ধর মুখে যে হতাশার কালো ছায়া ক্রমান্বয়ে সমগ্র বিশ্বের মুখে ছড়িয়ে গ্যাছে তারই পাশাপাশি আমি বাঙালি যুবক এক স্বদেশে আর এক ইথিওপিয়া দেখছি।
এ মাটিতে আজো বর্ষার ভালোবাসা আছে নদীতে জলের লোনা নিঃশ্বাস আছে তবু ইথিওপিয়া স্বদেশে স্বজনের বুক তবু ইথিওপিয়া যুবকের চোখে তবু ইথিওপিয়া এদেশের সর্বত্র।
নিহত ভবিষ্যৎ সমুখে জেনেই আমি স্বদেশের ইথিওপিয়া থেকে দু'টি হাত কোরেছি উঁচু বিশ্বাসের হে ইথিওপিয়া খরোত্তপ্ত ইথিওপিয়া সাত কোটি মুখে আমার তোরই করুন ছায়া।
ক্রুশবিদ্ধ যীশু আমার বুকে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ৩০.৩.৭৪। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
শহরের সমস্ত রাস্তায় তোমাকে খুঁজেছি।
দেশ থেকে দেশান্তরে খুঁজেছি--- খৃস্টাব্দের এথেন্স নগরীতে এক সুরম্য সন্ধ্যায় মহামান্য সোক্রেতাস এসে বিনম্র সহাস্যে করমর্দন কোরে বোলেছিলেন “কি খুঁজছো?"
আমি নিরুত্তর পুনরায় খুঁজেছি তোমাকে আদি থেকে সম্প্রতি খুঁজেছি।
সাদা সাদা পতাকা ওড়া প্যালেস্টাইনে সশশ্র জনৈক সৈনিককে জিজ্ঞেস কোরলাম “ওকে দেখেছ? সে বিবর্ন চোখে তাকালো। ভিয়েতনামে ফ্যান্টমের ছোবোলে নিহত বিভৎস এক বৃদ্ধার চোখে আমারই প্রশ্নের নীল পোস্টার।
মাইলাই থেকে একাত্তরের ধূসর বাংলাদেশে সহস্র মৃত্যুর শোভাযাত্রায় সেদিনও আমি একটি প্রশ্নের ব্যানার টাঙিয়েছিলাম আমার শতাব্দীর বৃভুক্ষ চোখে।
হে মহামান্য যীশু, মুহম্মদ তোমরা কি খুঁজেছিলে আমি জানি না। আমি শতাব্দীর কান্না দেখেছি শুধু।
মান্যবর যীশু তুমি যে ক্রুশে হয়েছো নিহত সে ক্রুশ আজ আমারই বুকে প্রজ্বলমান, অসংখ্য আগ্নেয়গিরির তপ্ত লাভা
আমার বুকের নিবাসে উৎক্ষিত্ত। ক্রুশবিদ্ধ মৃত্যু যন্ত্রনায় আমার হৃদপিণ্ড আজ যীশু---
অথচ আজো আমি তোমাকে খুঁজছি লোক থেকে লোকান্তরে খুঁজছি। . **************** . সূচীতে . . .
কবিতায় জীবন হাঁটে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ৪.১০.৭৪। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
কবিতায় জীবন হাঁটে নিঃশব্দে শব্দের মতো ছন্দের মতো কবিতায় জীবন হাঁটে।
দৈনন্দিন কাজের ভিড়ে একাকী যেমন হাঁটে সাবধানী গৃহস্থ এলোমেলো বাতাসের দিনে মেয়েরা যেমন সতর্ক দৃষ্টিতে ঢেকে রথে শরীরের বিভিন্ন স্থান
কবিতায় জীবন তেমনি আসে হাঁটে সর্তক রমনীর মতো জীবন কবিতায় হাঁটে।
আমাকে কোনদিনই বলোনি তুমি ভালোবেসে আমি কবি হয়েছি।
অথচ তোমার বুকের ভেতরে অতি গোপন যে সব পথ সেখানে আমি হাঁটি কবিতার মতো।
কবিতাই জীবনের সিঁড়ি বেয়ে নামে জীবনই কবিতায় হাঁটে ক্রমাগত। . **************** . সূচীতে . . .
আমি ধর্ষিতা মায়ের জারজ কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ৯.১০.৭৩। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
আজীবন বেশ্যাবৃত্তি করে, যে মাতা হারিয়েছে সর্বস্ব যে মাতার সতীত্ব গেছে ইংরেজী ট্রাউজারের পকেটে আমি তারই জারজ আমার কী দেখতে চাও আমার কী জানতে চাও।
আমাকে কেটে ফ্যালো টুকরো টুকরো করে ফালা ফালা করে কোথও রক্ত পাবে না। একে রক্ত বলে না এ যে সিফিলিসের জীবানু এ যে ক্যান্সারের বিষ আমার শরীরে রক্ত নেই।
আনি আগুনকে প্রেম বলি বিপ্লবকে রমনী ভাবি আমি কোন নারীর সাথে রমন করি না নারী বলতে আমি ধর্ষিতা মাকে বুঝি।
আমাকে খুলে ফ্যালো কোথাও প্রেম পাবে না আমি আগুনকে প্রেম বলি আমার কি দেখবে বলো আমার কি জানবে বলো!
আজীবন বেশ্যাবৃত্তি কোরে, যে মাতা হারিয়েছে সর্বস্ব আমি তারই জারজ আমার কি দেখবে বলো! . **************** . সূচীতে . . .