কোনদিন বর্ষারাতের সেন্ট্রি কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
যুবতীর সবুজ চুমো হয়ে বর্ষা ঝরে সবুজ ঘাস সে কি চায় বর্ষার স্পর্শ!
লাইটপোস্ট ভিজেছে রাস্তার মোড়ে পার্ক করা মোটর গাড়ীর চকচকে পিঠে বিধ্বস্ত বর্ষার ফোঁটারা মুখরিত হয় প্রতিবাদ করে না নীরবে বাড়ায় বাহু।
সর্বশেষ যাত্রীহীন বাসটার আর্তনাদ বিষাক্ত করে অনাবিলতাকে। তুমি বোলে দাও কোথায় দাঁড়াবো আমি, পরিচিত স্থান এমন কোথায় বলো। উবুঝুবু কাঁঠালি গাছটা আমাকে ডাকে না অনাত্মীয়ের অজুহাতে। আমি তো মেঘ হতে পারি না নরোম স্বচ্ছ, আমাকে দুটি পাখা দাও উড়ে যেতে।
আমরাই সর্বদা বাসের যাত্রী কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
আমরাই সর্বদা বাসের একমাত্র যাত্রী কেননা শরীর আমাদের চর্বিহীন, পায়ের পেশীগুলোও আদরে পংগু নয় কাজেই বাসের হ্যাণ্ডেলে ঝুলতে দোষ নেই--- তাই আমরাই বাসের নিয়মিত যাত্রী।
বন্ধুর সংগে কিছুক্ষন সৌজন্য আলাপ কচিৎ হয়ে ওঠে, যেহেতু আমাদের বাসের লাইন শুরু হয় অনেক পূর্বে ‘ইডেনে’র বিস্তীর্ন উদ্যান অথবা কি দেখতে জানি না---কিছুসংখ্যক লোকের ভীড় জমে, আমরাও মাঝে মাঝে প্রানপন চেষ্টা করি দাঁড়াতে সেখানে কিন্তু--- লাইন আমাদের শুরু হয় অনেক আগেই।
প্রেমিকার কাছে ইদানীং ভবঘুরে বোলেই বিশেষভাবে আখ্যায়িত, কারন দুর্বোধ্য নয়। তবুও যথাসাধ্য ঢেকে রাখি প্যান্টের তলের অথবা সার্টের নিচের ঘমার্ক্ত বস্তুটি। যার অংগহানি হয়েছে বিবিধ অত্যাচারে।
কাজেই তোমারও যে সব কথা শুনবো এমন ভেবো না---কেন না আমরাই বাসযাত্রী। ভালোবাসতে অহেতুক সাধ না হয় বন্ধ কোরে দাও জানালার কবাট, মালা পরো ইন্টাকনের নিয়ন বাতির অথবা ককটেল পার্টি কৃত্রিম আনন্দে। তোমরা ভালোবাসো, এবং আমরা সর্বত্র বাউণ্ডুলে পোষাকে বিরাজিত। অতএব ইচ্ছে হলেই যেতে পারো---
হে বন্ধু আমরাই একমাত্র বাসের যাত্রী, সময় আমাদের যথেষ্ট কম প্রিয়তমা কেননা লাইন আমাদের শুরু হয় অনেক আগেই। . **************** . সূচীতে . . .
গন্ধ পাই কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
রক্তের সাগর থেকে তুলেছি স্ফুটিত সুকুমার পদ্ম ; রাত্রির সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধে পেয়েছি তার সৌরভ-গন্ধ। আমার ফুল ; আমার মা--- ক্ষুধিত প্রেতরা ছিঁড়ে খায় তার নরোম তুলতুলে অঙ্গ, সুতীক্ষ্ণ আক্রোশে ভেঙে দ্যায় মনের মন্দির মিনার শাড়ী ছিঁড়ে লুটে নেয় সেঁদোলে মাটির সতীত্ব। আমরা ভাসমান---ভিন দেশে ; সারাক্ষন টলমল অস্তিত্ব। ---তবু বেঁচে আছি প্রানপনে অন্তত কিছুদিনের জন্য দেশের কাজে অস্ত্র ধরা আমার কাছে নিতান্ত অসম্ভব। কিন্তু তবুও বুক কাঁপেনি এতোটুকু কিসের এক অনির্বান দৃঢ়তায় সারাক্ষন শুধু হয়েছে ধ্বনিত এ হৃদয়ে--- আমি দুর্বার--- দুর্জয়। আমি সত্যিই দুর্জয় শক্রর বক্ষ ভেদ করে এখানে নরোম মাটিতে করেছি সৃষ্টি--- কঠিনতর এক অধ্যায়। আমরা মরি না প্রজাপতি হয়ে আগুনে ঝাঁপ দিয়ে গিলে খাই অগ্নির লেলিহান শিখা--- আমরা অমর দুর্জয় তাই। রক্তাক্ত বুকে আমার আজ ফুটছে লাল তাজা পদ্ম, আজো বাঁচি আমরা এখানে মাটিতে চুমো দিয়ে পাই রক্তের তাজা তাজা গন্ধ। . **************** . সূচীতে . . .
স্তব্ধ মধ্যাহ্নে নিথর সন্ধায় কিন্বা প্রখর মধ্যরাতে--- কি যেন এক অব্যক্ত আহ্বানে আমায় করে উদ্বেলিত, কি কথা আমি যেন সম্পূর্ন তার বুঝেও বুঝি না।
তবু সে আহ্বানে মনে হয় আছে অসুন্দরের গান, বিশ্রী পৈশাচিকতায় তা নির্মম করে দেয় হৃদয়টা। আমি তাই ভালবাসি শুনতে, সেই ডাক---প্রভাত, সায়াহ্ন, মধ্যরাতে। . **************** . সূচীতে . . .
ঈশ্বরের সংগে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
মাননীয় ঈশ্বর, আসুন না একবার আমাদের সুবর্ন ব্রোথেলে অর্থাৎ পৃথিবীতে। শুনেছি শৈশবে, আপনিই একক স্রষ্টা নাকি যাবতীয় সৃষ্টির য্যামোন সৌর এলাকা পৃথিবী নামক ব্রোথেল।
ইদানীং বিশ্বাসের লাইটপোস্ট ভগ্নপ্রায় পড়ে আছে জাগতিক রাস্তার পাশে কাজেই একবার আসুন মাননীয় ঈশ্বর বিশ্বাসের বাজার বড়ো মন্দা যাচ্ছে এ্যাখোন।
আপনার সেই প্রাক্তন জনপ্রিয়তা ক্রমহ্রাসমান কাজেই বিশেষভাবে আয়োজিত জনসভায় কমপক্ষে একটি জরুরী ভাষন তো দিতেই হবে অন্যথায় আগামী নির্বাচনে নির্ঘাৎ হবেন ব্যর্থ।
আপনার কালাকানুন কিছু কিছু অন্ততঃ সংশোধন করাও আবশ্যক কেননা রমনীকুল ইদানীং ইভকে অতিক্রম করেছে এবং সমস্যার অক্টোপাস নিয়মিত চলাচল করে আমাদের ঘরদোরে মগজে এখন।
হে ঈশ্বর একবার আসুন আপনারি নিয়ন্ত্রিত সুরম্য সুখের অসুখের এই আধুনিক ব্রোথেলে সংগে কিছু স্বর্গীয় বেশ্যা আনাও আবশ্যক (কারন পৃথিবীর রমনীরা আদৌ রমনী কিনা করোটিতে এরকম সন্দেহ নড়াচড়া করে সারাক্ষন।) যদিও বুকের গম্বুজে প্রেম এবং ছলনা ও অন্যান্য গুনাগুন ঢেকে রেখে তারা নিশ্চিন্ত
হে চালক অন্তত একবার আসুন আমাদের এখানে একটু পর্যবেক্ষন বৈ তো নয় এবং বিশেষভাবে আয়োজিত জনসভায় একটি জরুরী বক্তৃতা মাত্র---
কথা দিচ্ছি বক্তৃতা শেষে আপনি ফিরে গেলে
আমরা স্বগীয় আশীর্বাদের অবিশ্বাস্য ভয়ে যার যার নিজস্ব আশীর্বাদের ব্রোথেলে ঢুকবো এবং হতাশার স্তন চুষে চুষে নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেবো সমস্ত রাত। . **************** . সূচীতে . . .