কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতা
*
বর্ষায় দুপুর ভিজছে
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ        
“খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত
“রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

বর্ষায় ভিজছে দুপুর নির্বোধ
উবুজুবু অশ্বত্থের মতো
একাকী স্ফটিক দুপুর
বর্ষায় ভিজে ভিজে হচ্ছে ধূসর
বর্ষায় ভিজছে।

এই মাত্র একটি বাস তার স্ফীত পেটে
একরাশ যাত্রী ভরে নিলো।
মাথায় ছাতা রেখে একটি লোক
সন্তর্পনে হেঁটে যাচ্ছে রাস্তায়।

বর্ষায় ভিজছে দুপুর হলুদ দালান
লাইটপোস্টে কাক রিকশায় যাত্রী।
একটি ঠ্যালা গাড়ি চিৎ হয়ে শুয়ে আছে
জনৈকা আসন্নপ্রসবা নারীর মতো
সেও ভিজছে তুমুল।

দুষ্টু কিশোরীর মতো বর্ষারা য্যানো
খেলছে কৈশোরিক লুকোচুরি
নির্দোষ খেলাঘরে পুতুলের বিয়ে
হয়ে গেলে এযেনো ইচ্ছাকৃত অশ্রু
আকাশের নির্মল নীল ছিঁড়ে ছিঁড়ে।

কৈশোরের বর্ষা য্যানো এ নয়---
আজকাল বর্ষাতেও সুর নেই,
চশমার লেন্সে তার নগ্ন ছবি।

সেদিন নির্দোষ বর্ষায় সমস্ত শহর
দুপুরের বুকে বসেই ভিজলো দ্বিধায়
সমস্ত দুপুরটাই ভিজে গেল বর্ষায়।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
এক পেগ নেশাগ্রস্ত মদ
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ        
“খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত
“রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

সাকী নগ্ন হাতে ধরে না মদ
না পাত্র না মদ কোনোটাই নয়,
মদের পাত্রে ভরে নেবো সমস্ত সভ্যতা
জনপদ কোলাহল বিদগ্ধ সমাজ
এবং মদ নয় সমাজ এবং সভ্যতাকে
পান করে আমি মাতাল বদ্ধ মাতাল।

পাত্র হাতে তুমি এক পাক নেচে যেতে
পারো, কেশ থেকে নখাগ্র উলঙ্গ করলেও
আমি এ জাতীয় দুষ্প্রাপ্য মদ পানে
হবো না দ্বিধাগ্রস্ত যেহেতু মদ মানে
সাকী নয় প্রকৃত মদ অন্য স্বাদের।

আমি মদে নই মদ আমাকে খেয়েই
হয়েছে তুখোড় মাতাল ; সভ্যতা খায়
সভ্যতা আমাকে খায় মানুষ খায়
কুরে কুরে আমাকে নগ্ন করে খায়।

যেহেতু সভ্যতা আমাকে খেয়েছে এতোদিন
এবার আমি সভ্যতাকে খাবো। মাত্র
এক পেগের একটি চুমুকে আমি সমস্ত
সভ্যতাকে নিঃশেষ কোরে দেবো

সাকী তুমি সমুখে ধরো না মদের পাত্র।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
শত অব্দের মৃত কাক
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ        
“খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত
“রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

কালো পিচের পথের ওপোর
ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত
ছড়িয়ে রেখে কোমল শরীর
অবসন্ন নির্জিবতায়
মৃত কাকটি পড়েই ছিলো
আবহমান শত অব্দ।

লালন করা ক্ষতের মতো
পড়েই ছিলো অনড় স্থির
চিৎকারহীন অভিযোগের
ব্যানার ধরেই পড়ে ছিলো।

কতোকগুলি হাওয়ার মাছি
শব্দ করে শিল্পকলার
ক্লান্ত দেহে বসলো খানিক পুনর্বার
উড়ে গ্যালো উদ্দেশ্যবিহীন।

ঘোর নির্বোধ ট্রাকের চাকা
অবলীলায় গড়িয়ে গ্যালো।
শুকনো কঠিন পা জোড়া তার
উর্ধমুখে কালো স্বর্গের
ঈশ্বরকে জানিয়ে দিলো আসন্ন প্রায়
সোনালি স্বর দ্বিখণ্ডিত।

আমার মতোই মৃত কাকটি
বিষাদ শ্রান্ত পড়েই আছে
শত অব্দের পিচের গভীর
কালো রাত্রির উল্টো পথে।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বিশ্বস্ততার উঠোনে সুস্থতায়
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ        
“খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত
“রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

একজন মানুষকে কি ভাবে বিশ্বাস করো
কিভাবে সংসারি হও সুস্থ জীবনের
অনায়াসে ভুলে যাও বিগত শৈশব
আমি আশ্চর্য হই!

কিভাবে একজনকে বলো--- দ্যাখা হবে
দুঃখকে ঢেকে রেখে পোষাকের নিচে
নিপুন হেসে কিভাবে বলো সুন্দর
আমি আশ্চর্য হই!

নিয়মিত বাস থেকে নেমে গন্তব্যে যাও
পার্টিতে পরিচিত হও--- ইনি আমার স্ত্রী :
আদাব আমি মিসেস সরকার, ভালো তো?

কিভাবে একজন পুরুষকে পিতা বলো
একজন রমনীকে মা, আমি আশ্চর্য হই!

তোমরা কি প্রত্যেকেই অভিনয় করো
অথবা প্রকৃতই এরকম ঘটে থাকে, ঘটবে?
তাহলে কি এখনো কেউ কেউ
বিশ্বস্ততার উঠোনে সুস্থতায় আছে?

আমি একবার সে উঠোনে যাবো।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অনিদ্রাতাড়িত সময়ের বিছানায়
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ        
রচনা ৪ঠা চৈত্র ১৩৭৮ লালবাগ। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে।
কবির বানান।  

নতুন কোথাও এলে আমি ঘুমুতে পারি না
অপরিচিত রাতে---
অনিদ্রাতাড়িত হয়ে জেগে থাকি বিছানায়
অচেনা শব্দেরা সব ছুটে আসে ঝাঁকঝাঁক আরশোলা
য্যানো অনধিকার প্রবেশ আমার কোনো এলাকায়
আমি ঘুমুতে পারি না।

নিকোটিনে গাঢ় হয় ক্ষীন আঙুল দু'টি
স্নায়ুর মাঝে যেন পাগলা কুকুর এক
ইতস্তত ছুটে বেড়ায়। কামড়ায় যাকে ইচ্ছে তাকে
য্যানো পুরোনো ঢাকার বিয়েতে মাইকের
বলো, লেখা আমার কেন নিরব রবে?

হৃদয়ের সীমানায় আসি’
প্রেম যদি যায় ভাসি'
ব্যর্থ হাহাকারে,
স্মৃতি যদি লুটায় কাঁদি বিস্মৃতির দ্বারে।
বৃন্ত হারায় কুসুম সাঁঝে,
তাই গো পরান ব্যথায় বাজে।
তবু কুসুম হাসে কুঞ্জে ফাগুন আবির্ভাবে।
তবে আমার এ গান কেন নিরব রবে?

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কাল-মৃত্যু
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ        
“খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত
“রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

গুরু মেঘভার অবনী নিথর
ঘন তমসার কাজল বক্ষে,
একি ধীরে ধীরে উঠিতেছে ঘিরে
সংশয় সংকেত আপনার অলক্ষ্যে!
দ্বিধা, ভীতি, ক্রোধ কম্পিত অভিশাপে,
জাগিয়া উঠিছে ক্ষুধিত মায়ের স্তনে---
একি বিষ জ্বালা মহা দুঃসহ তাপে!
যুগ যুগ হতে নিপীড়িত আত্মার ক্রন্দনে।

এ বায়ু আকাশ এই শ্যাম বনপথ,
মাধবী সন্ধ্যা, এই নদী প্রান্তরে,
একি উত্তপ্ত শ্বাস! বহিছে শ্লথ
মহা ইতিহাস ; অভিশপ্ত অন্তরে।
জীর্ন ইতিহাসের ঝরে পড়া বানী
আজি মাগিছে আশ্রয় দুয়ারে,
শতবর্ষ ধরি এ মহাভার টানি,
ক্লান্ত বিবশ পদে পৌঁছিনু সাগরে।
তবু বিদীর্ন হাহাকারে ওঠে জাগি
ইতিহাসের কোন হতে একটি অবহেলিত ধবনি,

এ মাটির মধু পরশের বৃথা বাসনা মাগি,
যুগ যুগ ধরি' চলিয়াছে প্রহর গনি।

বিপ্লব আসি ছিল হুহুংকারে---
বিদ্রোহী সুর বাজায়ে মাদল তানে,
জাগ্রত চেতনা লয়েছে সকল আপনার অধিকারে,
মোর যত সুখ হারায়ে গিয়েছে বিস্মৃতির টানে।
সবে করি নিল ঠাঁই ঐশ্বর্য গুনে,
ইতিহাসের অধ্যায় জুড়ে স্বর্ন অক্ষরে।
আমার লাগিয়া রচি' গেলো স্রোত বানে
আপনার কাল-মৃত্যু অজ্ঞাত স্বাক্ষরে।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অভুক্ত
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ        
রচনা ৯ই জৈষ্ঠ ১৩৭৯ লালবাগ। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে।
কবির বানান।  

দিয়েছো একরাশ ক্ষুধা দাও নাই খাদ্য
পরিমান তার এত যে নগন্য!
তোমার পূজায় এ মন হবে কি বাধ্য---
যদি নাহি জোটে মোদের ক্ষুধার অন্ন?

এত যদি ছিল সাধ খেলিবার বাসনা,
কেন বৃথা তহে এই আনাগোনা এখানে?
কেন তবে সখা এ মিছে জাল বোনা---
ক্ষুধিত প্রানের অসহ্য নিরব যাতনে!

এত অনীহা এত অবেহলা বঞ্চনা---
এত ক্রন্দন! রিক্ততার জ্বলন্ত সাগরে।
কেন বিষে বিষ ঢালি মিছে গঞ্জনা,
ঢাকিয়া সকল মানব চোখের আঁধারে।

যদি পেয়েছিনু একদিনে মোরা প্রান
পেরিয়ে অনেক বাধার কঠিন প্রাচীর।
আজি কি তাহার পেয়েছি প্রতিদান?
এখনও তো হায় কাটে নাই ঘোর নিশার তিমির!

এত তৃষা-জ্বালা সহিয়া পুড়িয়া,
নাহি সাধ আর গাহিবারে গান।
আজিকে সকল লেখনী ফেলিয়া
ছুটে যাই, যদি সুধা-ক্ষুধা দেয় পরিত্রান।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আত্ম তৃপ্তি
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ        
“খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত
“রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

এ ব্যথার ক্রন্দন সখি, এতো শুধু মোর,
এ নহে কিছুই তোমার ; এ বেদনা আঁখিলোর।
পথহারা হয়ে বিজন বনে ;
চলা পথ খুঁজি পরান পনে,
রিক্ত হতাশে অক্রান্ত চলা ; মরুঝঞ্ঝার ঘোর।
ওগো সে চলা তো শুধু মোর॥

ফিরে আসা মধুমিলন রাতে
ঝরাকুসুমের কণ্ঠিকা হাতে
প্রতীক্ষায় বসে থাকা বেলা
সখি সে তো শুধু মোর একেলার।

রজনীর ঘন ঘটা কুণ্ডলে কালি জটা
শ্রাবন প্লাবন অবিরল,
তটিনীর খরধারা মাঝি আজি পথহারা
উতলা তরঙ্গ জল।
বহে বায়ু স্মৃতি স্ম'রে, চাঁদনী বহুদূরে
পল্লবে জাগে কম্পন মধুর
মানস বীনার সুরে।

আঁখির চপল চাওয়া সহসা মিলায়ে,
অবিরল জল আসে আঁখিতট ছাপায়ে---
মধুরে মধুর ছবি বাসর খেলার।
সখি, সে জল শুধু মোর একেলার।

অভিমান-অনুরোধ, অভিশাপ-ছলনা
এ নহে কিছুই মোর,
বেদনার হাহুতাশে শুধু বিরহ
অসহায় আঁখিলোর।

সব ফুল সব মায়া স্নেহ,
সকলি তোমার সুখ গেহ।
এই চাঁদ-মধু সাঁঝ, এই হাসি ছল লাজ
এ চাওয়া চপল তৃষা,
এ নিঝুম নিশি রাতি
এ বাসর এই স্মৃতি
এ নবীন আলোর দিশা
সকলি তোমার। প্রসাদ
ঢালিবে ঢাকিয়া নাদ।

কোনদিন কোন পথে,
কোন কালে কোন রথে
বিহার সমীরে ভাসিয়া যেতে,
সহসা ছাপিয়া আসে
আঁখিজল ; নিশেষে
উৎসরি দিও মোরে অভিসম্পাতে।
প্রানের আবেগে যদি না রুধিতে পারি,
বিস্মৃতি সুরে গাঁথিয়া রাখিব তারে।
এ পথ বাহিয়া মহা যুগ যুগ ধরি
মিশিয়া রহিবে তোমার আনন্দ
এ মোর বিরহী পরানে স্মরি।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
এই বাসর এ লগন
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ        
রচনা ৮ই চৈত্র ১৩৭৮, লালবাগ।  “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১)
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয়
খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

আবার আসিবে বাসর রাতি
রহিবে না পাশে তুমি,
চাঁদ হাসিবে আনীল গগনে
শুধুই রবে না এ তিমি।
মালঞ্চ সুগন্ধি জুঁই হাসিবে বৃন্তে,
ডাহুকের বুকে ডাহুকী পরানে
সুপ্তির কোলে নিশ্চিন্তে।
নির্ঝরিনী জলধারা বহিবে তেমন,
নীলাকাশ তেমনি রবে আছিল যেমন।
গাহিবে কুঞ্জশাখে বলাকার দল,
সরোজিনী সুহাসিনী নীর টলমল!
এমনি নিশিথ বেলা বাতায়নে বসি
রব চেয়ে দূর পানে।
দক্ষিনার বায়ু আসি
এলোমেলো কুন্তল দোলায়ে দিয়ে,
পাশ দিয়ে হেসে যাবে সঙ্গীত গেয়ে।
হৃদয়ের সুর বাঁশী আকুলিত তানে,
গাহিবে ব্যথাতুর সুর বেদনার গানে।
ঝরিবে বাসর রাতে নয়নের জল,
অভিমানে লুটাইবে বকুলের দল।
মোর হতে কত দূরে কত নদী পারে,
রহিবে তুমি ওগো কি কি মালা প’রে।
তোমার আমার মাঝে আসিয়া তাপসী,
রচিল বেড়াজাল আনন্দ নাশি’।
নিরবে দুটি ফুল ঝরে গেল পথে,
একান্তে বনছায়ে এ কাল-রথে।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কবি যাদু
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ        
রচনা ৮ই চৈত্র ১৩৭৮, লালবাগ।  “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১)
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয়
খণ্ড” থেকে। কবির বানান।  

কি যাদু জান কবি ভুলাইলে মোরে,
সঁপিনু সকল কিছু তোমার তরে!
ডাকো যবে আঁখিছলে রহিতে না পারি,
ছুটে যাই পাশে তব সব বাঁধা ছিঁড়ি।
তোমার হাতের পরশ মায়ার যাদিকাঠি,
অনিমেশ যত কিছু নিয়ে যায় লুটি,
নিশিথবেলায় মোদের নিরব কূজন,
হেরিছে নিরবে শুধু চাঁদ তারা বিটপী বিজন।
কি মধুর হাসি ঝরা মধুমাখা মুখ,
ছলভরা আঁখি তব মায়াভরা বুক।
ছল ছল চোখ দুটি কি মায়া জানে,
অনুক্ষন মোরে শুধু তোমা তরে টানে।
তোমার প্রথম পরশ সেদিন বাসর বন,
ভুলিব না আমি তব কবিতা---স্বপন।
যদি যাই চলে দূরে তোমারে ছেড়ে,
ভুলো না আমায় প্রিয় জীবনে মোরে।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর