এক পেগ নেশাগ্রস্ত মদ কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
সাকী নগ্ন হাতে ধরে না মদ না পাত্র না মদ কোনোটাই নয়, মদের পাত্রে ভরে নেবো সমস্ত সভ্যতা জনপদ কোলাহল বিদগ্ধ সমাজ এবং মদ নয় সমাজ এবং সভ্যতাকে পান করে আমি মাতাল বদ্ধ মাতাল।
পাত্র হাতে তুমি এক পাক নেচে যেতে পারো, কেশ থেকে নখাগ্র উলঙ্গ করলেও আমি এ জাতীয় দুষ্প্রাপ্য মদ পানে হবো না দ্বিধাগ্রস্ত যেহেতু মদ মানে সাকী নয় প্রকৃত মদ অন্য স্বাদের।
আমি মদে নই মদ আমাকে খেয়েই হয়েছে তুখোড় মাতাল ; সভ্যতা খায় সভ্যতা আমাকে খায় মানুষ খায় কুরে কুরে আমাকে নগ্ন করে খায়।
যেহেতু সভ্যতা আমাকে খেয়েছে এতোদিন এবার আমি সভ্যতাকে খাবো। মাত্র এক পেগের একটি চুমুকে আমি সমস্ত সভ্যতাকে নিঃশেষ কোরে দেবো
অনিদ্রাতাড়িত সময়ের বিছানায় কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ৪ঠা চৈত্র ১৩৭৮ লালবাগ। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
নতুন কোথাও এলে আমি ঘুমুতে পারি না অপরিচিত রাতে--- অনিদ্রাতাড়িত হয়ে জেগে থাকি বিছানায় অচেনা শব্দেরা সব ছুটে আসে ঝাঁকঝাঁক আরশোলা য্যানো অনধিকার প্রবেশ আমার কোনো এলাকায় আমি ঘুমুতে পারি না।
নিকোটিনে গাঢ় হয় ক্ষীন আঙুল দু'টি স্নায়ুর মাঝে যেন পাগলা কুকুর এক ইতস্তত ছুটে বেড়ায়। কামড়ায় যাকে ইচ্ছে তাকে য্যানো পুরোনো ঢাকার বিয়েতে মাইকের বলো, লেখা আমার কেন নিরব রবে?
হৃদয়ের সীমানায় আসি’ প্রেম যদি যায় ভাসি' ব্যর্থ হাহাকারে, স্মৃতি যদি লুটায় কাঁদি বিস্মৃতির দ্বারে। বৃন্ত হারায় কুসুম সাঁঝে, তাই গো পরান ব্যথায় বাজে। তবু কুসুম হাসে কুঞ্জে ফাগুন আবির্ভাবে। তবে আমার এ গান কেন নিরব রবে? . **************** . সূচীতে . . .
এ বায়ু আকাশ এই শ্যাম বনপথ, মাধবী সন্ধ্যা, এই নদী প্রান্তরে, একি উত্তপ্ত শ্বাস! বহিছে শ্লথ মহা ইতিহাস ; অভিশপ্ত অন্তরে। জীর্ন ইতিহাসের ঝরে পড়া বানী আজি মাগিছে আশ্রয় দুয়ারে, শতবর্ষ ধরি এ মহাভার টানি, ক্লান্ত বিবশ পদে পৌঁছিনু সাগরে। তবু বিদীর্ন হাহাকারে ওঠে জাগি ইতিহাসের কোন হতে একটি অবহেলিত ধবনি,
আঁখির চপল চাওয়া সহসা মিলায়ে, অবিরল জল আসে আঁখিতট ছাপায়ে--- মধুরে মধুর ছবি বাসর খেলার। সখি, সে জল শুধু মোর একেলার।
অভিমান-অনুরোধ, অভিশাপ-ছলনা এ নহে কিছুই মোর, বেদনার হাহুতাশে শুধু বিরহ অসহায় আঁখিলোর।
সব ফুল সব মায়া স্নেহ, সকলি তোমার সুখ গেহ। এই চাঁদ-মধু সাঁঝ, এই হাসি ছল লাজ এ চাওয়া চপল তৃষা, এ নিঝুম নিশি রাতি এ বাসর এই স্মৃতি এ নবীন আলোর দিশা সকলি তোমার। প্রসাদ ঢালিবে ঢাকিয়া নাদ।
কোনদিন কোন পথে, কোন কালে কোন রথে বিহার সমীরে ভাসিয়া যেতে, সহসা ছাপিয়া আসে আঁখিজল ; নিশেষে উৎসরি দিও মোরে অভিসম্পাতে। প্রানের আবেগে যদি না রুধিতে পারি, বিস্মৃতি সুরে গাঁথিয়া রাখিব তারে। এ পথ বাহিয়া মহা যুগ যুগ ধরি মিশিয়া রহিবে তোমার আনন্দ এ মোর বিরহী পরানে স্মরি। . **************** . সূচীতে . . .
এই বাসর এ লগন কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ৮ই চৈত্র ১৩৭৮, লালবাগ। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
আবার আসিবে বাসর রাতি রহিবে না পাশে তুমি, চাঁদ হাসিবে আনীল গগনে শুধুই রবে না এ তিমি। মালঞ্চ সুগন্ধি জুঁই হাসিবে বৃন্তে, ডাহুকের বুকে ডাহুকী পরানে সুপ্তির কোলে নিশ্চিন্তে। নির্ঝরিনী জলধারা বহিবে তেমন, নীলাকাশ তেমনি রবে আছিল যেমন। গাহিবে কুঞ্জশাখে বলাকার দল, সরোজিনী সুহাসিনী নীর টলমল! এমনি নিশিথ বেলা বাতায়নে বসি রব চেয়ে দূর পানে। দক্ষিনার বায়ু আসি এলোমেলো কুন্তল দোলায়ে দিয়ে, পাশ দিয়ে হেসে যাবে সঙ্গীত গেয়ে। হৃদয়ের সুর বাঁশী আকুলিত তানে, গাহিবে ব্যথাতুর সুর বেদনার গানে। ঝরিবে বাসর রাতে নয়নের জল, অভিমানে লুটাইবে বকুলের দল। মোর হতে কত দূরে কত নদী পারে, রহিবে তুমি ওগো কি কি মালা প’রে। তোমার আমার মাঝে আসিয়া তাপসী, রচিল বেড়াজাল আনন্দ নাশি’। নিরবে দুটি ফুল ঝরে গেল পথে, একান্তে বনছায়ে এ কাল-রথে। . **************** . সূচীতে . . .
কবি যাদু কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ৮ই চৈত্র ১৩৭৮, লালবাগ। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
কি যাদু জান কবি ভুলাইলে মোরে, সঁপিনু সকল কিছু তোমার তরে! ডাকো যবে আঁখিছলে রহিতে না পারি, ছুটে যাই পাশে তব সব বাঁধা ছিঁড়ি। তোমার হাতের পরশ মায়ার যাদিকাঠি, অনিমেশ যত কিছু নিয়ে যায় লুটি, নিশিথবেলায় মোদের নিরব কূজন, হেরিছে নিরবে শুধু চাঁদ তারা বিটপী বিজন। কি মধুর হাসি ঝরা মধুমাখা মুখ, ছলভরা আঁখি তব মায়াভরা বুক। ছল ছল চোখ দুটি কি মায়া জানে, অনুক্ষন মোরে শুধু তোমা তরে টানে। তোমার প্রথম পরশ সেদিন বাসর বন, ভুলিব না আমি তব কবিতা---স্বপন। যদি যাই চলে দূরে তোমারে ছেড়ে, ভুলো না আমায় প্রিয় জীবনে মোরে। . **************** . সূচীতে . . .