কালের উপহার কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১০ চৈত্র ১৩৭৮, লালবাগ। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
উপহার যাহা দেয় কালের রানী জানিবে সকল তোমার মঙ্গল বানী। সহসা দুখের ভারে হৃদয় ভরে বুঝিবে হাসি আছে তাহার করে। ঝরায় কুসুম যদি প্রভাতবেলা, বুঝো না এ তাহার নির্মম খেলা, তোমার সুখের লাগি এ বাসর গ'ড়ে, দিয়েছে রূপ রস সুধায় ভরে। মিলনের মাঝে যদি ক্ষনিক ব্যথা আসে, এ তাহার মিলনেরে বড় ভালবেসে। ক্ষনিক আঁধার শেষে আলোর ছোঁয়া প্রিয়াকে আপন করে আরো কাছে পাওয়া, তোমায় সুখ দিতে ব্যথা আনে তাই, তোমার কল্যান ছাড়া কাম্য কিছুই নাই। . **************** . সূচীতে . . .
মন-মানসী কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১২ বৈশাখ ১৩৭৯, লালবাগ। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
এ ফুল যাবে গো ঝরে, এ মালা যাবে গো ছিঁড়ে। সাঁঝের এ প্রদীপ যাবে নিভে তবু তুমি আমারি রবে। এ পথিক যাবে চলে, এ পান্থে কুটির ফেলে। আশার স্বপন অস্তাচলে যাবে, তবু তুমি আমারি রবে॥
এ চাঁদ রবে না গগনে, এ ঘ্রান ছড়াবে নাহি পবনে। বাসর রজনী বিস্মৃতি মাগিয়া লবে, তবু তুমি আমারি রবে॥
এ চলা মোদের হবে গো শেষ, রহিবে না এ মায়া কুসুম বেশ। নতুন পুষ্প মাতিবে নতুন সৌরভে, তবু মানসী তুমি আমারি রবে॥
যেখানে রহিবে ওগো যে ফুলের বনে, যে মায়া বাঁধিবে আসি যে মধুর ক্ষনে। কণ্ঠে শোভিবে যে হার যে বাসরঘরে, যে ফুল হাসিবে ওগো কবরী পরে। আমার সকলি ওগো ভাবিও সেথায় যে আশা ঝরে গেছে রাতের ছোঁয়ায় সকলি ভাবিও মোর যে বেদনা আঁখিলোর সবি মোর উপহার, কিছুই ছিল না প্রাপ্য তোমার। তুমি চেয়েছিলে আনন্দমেলায় অস্তগোধুলি সাঁঝের বেলায় গন্ধ হানার ঘ্রান,
তুমি চেয়েছিলে সঙ্গীতমাখা প্রান। আমার সাগর ভাসিয়া তুমি হৃদয়ে লয়েছ সব, তোমার মিলন সুখের বীনায়, জেগে আছে ব্যথা রব। আমার ব্যথায় তুমি জেগে রবে তোমার সুখে বাঁধিয়া লবে আপন করিয়া মোরে, তোমার ব্যথার সকল কুসুম দাও মোর প্রানে ভরে। সে ফুলের মালা তোমার আমার বিরহের সুর হয়ে, চির জনমের বাঁশরীর তালে, এ জীবনে রবে ছেয়ে।
মালা বদল কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১২ বৈশাখ ১৩৭৯, লালবাগ। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
মায়াডোর কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৩ বৈশাখ ১৩৭৯, লালবাগ। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
এসো এসো বাঁধো বাসা নীড়ভাঙা দুটি প্রানে, এসো গাহি গান নিরবে নিরজনে। এ গানের আছে ভাষা নেই সুরধ্বনি, মহান করিব মোরা হৃদয়ের সুধা আনি। যে ছবি আঁকা আছে রংহারা হয়ে, যে নদী হারাপথ বুনো পথ বেয়ে। এসো মোর প্রানে এসো সব আবার বাঁধিব ঘর,
রাতের আঁধারে হাসিয়াছে নবীন উষার কর। বিরহীর প্রানে আঁকিয়াছে চাঁদ আনন্দ মিলন রেখা, সকল স্মৃতি থাক হৃদয় মানসে আঁকা। সব ভুলে এসো সখা বাঁধিব খেলার ঘর, সব থাক অলক্ষে কে আপন-পর। হারিয়ে যাবার দেশে মায়াডোর যাবে কেঁদে স্মৃতি বৃথাই রহিবে বীনা স্বরলিপি সেধে। সব কিছু থাক, এসো তোমাতে আমায়, বন্ধন রচি এক---এ কালের চলায়। . **************** . সূচীতে . . .
হিসাব লিপি কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৫ বৈশাখ ১৩৭৯, লালবাগ। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
সব ভাষা মোর মূক হয়ে গেছে ঝরা বকুলের মত, হঠাৎ করিয়া থামিয়া গিয়াছে জীবনের গান যত। মুক্ত বিহঙ্গ নীলাম্বরে সায়কের বিষ পিয়ে, সব সাধ তার নিশ্চল হয়ে নিতে গেছে তৃষা লয়ে। নিয়তি যাহার ছলনায় বাঁধে, বাসর যাহার কাঁদে, সান্ত্বনা তার কোথায় বলো কিসের স্বপন স্বাদে। সব ফুল মোর কাঁটা হয়ে আছে কেমনে পরিব হার। এই আঁখি মোর পথ চেয়ে রয় ফাগুনের তৃষা লয়ে যেতে যেতে যদি ফিরিয়া আসে আমার এপথ বেয়ে। কবে কোথা কেবা ক্ষীন আশা লয়ে তুলিয়া দিয়েছে ফুল, আজিকে হেরিনু সকলি যে তারি ভুল। জানি না কবে চাহিবারে কি চেয়েছি তোমার কাছে, কি দিতে মোরে সেদিনের চাওয়া কিবা দিয়ে গেছে! পেয়েছি কি আর পাইনি কিবা হিসাবের লিপি আজি ভ্রূকুটিয়া হাসে বেদনার ব্যথারাজি। হিসাবের খাতা ভরিয়া গিয়াছে অনেক বিরহ ভুলে অনেক মুকুতা হারায়ে শেষে ঝিনুক লয়েছি তুলে। কিবা মোর আছে আর--- সবি তো হয়েছে সার, যত গান যত ছন্দ সুর ; শেষ হয়ে গেছে, শুধু হিসাবের লিপি মোর নিরবে লিখিয়া নিছে। . **************** . সূচীতে . . .
প্রেয়সী কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ৭ জ্যেষ্ঠ ১৩৭৯, লালবাগ। “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
“একি বেশে আজি আসিয়াছ সাজি মিলন নিশি রাতে। কেন আঁখিজল করিছে টলমল কাজল নয়ন পাতে। সখি, কেন ও চপল নয়ন ব্যথাতুরা উদাসী, কেন সুকোমল মুখ পরি রাখিয়াছে ঘিরে শরতের ঘন মেঘদল আসি? চাহ মোর পানে আনো সুষমা সুরভি প্রানে এ রাতি কেন যাবে ফিরে, দেখ চাঁদ যেতে যেতে অস্ত, অচল পথে চাঁদনী মাখিছে দীঘির নীরে। কেমন এ শান্ত সমির। প্রানের গোপন বৃন্তে ফোটাইছে কলি, শ্রান্ত কুয়াশা চুম্বন ঢালি ভিজায়ে দিয়েছে মল্লিকা ফুলগুলি। রাতের ডাহুকী ক্ষনকাল ধরি ডাকিয়া মধুর রবে, তোমার আমার মিলন বারতা শুধাইছে একান্ত নিরবে। তোমার আপন ছবি ভাসিয়া উঠেছে আকাশ আর্শি 'পরে, একাদশী চাঁদ বিদায় চুমেছে অভিমানী মান করে। আঁখিতে আঁখি মিশায়ে গো দেখো কি সুধা জাগিছে পরানে, কি উপহার তোমার লাগিয়া জমা রহিয়াছে গোপনে।" "সখা তোমাতে আমাতে আর নাহি হবে দেখা, মোদের সকল নিরব স্বপন শুধু মিছে হলো আঁকা। মোর যত গান রচেছিলে তুমি তোমার ছন্দ সুরে, লহ সখা সকলি তোমার, মোর যাহা দাও ফিরায়ে মোরে। তোমার হদয়ে মোর যে ছবি আঁকিয়াছ রঙ্গে রূপে, সবি তার ওগো দিও বিসর্জন সন্ধ্যাবরন ধুপে। আমি তোমারি হয়ে একদিন আজিকে চলিনু ফিরিয়া, আপনি সাধিয়া বেঁধেছিনু মালায় আপনি দিলাম ছিঁড়িয়া ডেকেছিনু পাশে, বেঁধেছিনু দিয়েছিনু গলে মালা, তুমি হেসেছিলে, নিরব ব্যথায় আমি কেঁদেছিনু একেলা। সখা, তুমি তো পাওনি ব্যথা সকল বেদনা রোদন মোর, আমি পুড়িয়াছি, আমি মরিয়াছি সে মোর আঁখিলোর।" "কেমনে কহিছ সখি! হৃদয় বেদনায় ঢাকি ভুলিয়া থাকি তোমা এতদিন ধরে তুমি মরিয়াছ পুড়ে মোর প্রানে ছিল সবি জমা। কহিও না আর তোমারে ভুলিবার, মুছিবারে এ স্বপন মোর, যে মালা গাঁথিয়াছ যতবার আসিয়াছ আমি তো রুধিনি কভু দ্বার। রহিয়াছি সারাক্ষন পথ চাহি, আনমন নিঝুম নিশিথ জাগি, স্বপন আবেগে মধুর সোহাগে তোমার সান্নিধ্য মাগি। কেমনে ভুলিব সখি, যে ছবি লয়েছি আঁকি হৃদয় গহন পটে, গাগরি ভরিতে জলে চলিয়াছ দুলে দুলে শাপলা দীঘির ঘাটে। ছায়া সরু পথ ধরি এ কি রূপ মরি মরি। অঞ্চল উড়াইছে দক্ষিনা সমির, দিনের অস্ত রবি করিয়া নিঝুম সবি ঘিরিয়াছে পথবাঁক কাজল তিমির। জোনাকীর ঘুম চোরা লোচন পাগল পারা, উড়িয়া মাতিয়া সাজাইছে বন, তোমার মধুময়ী ছবি হেরিয়া মরম কবি ছন্দে ভরিছে মন। এসেছিলে পাশে বসেছিলে হেসে সেদিন সন্ধ্যামাধবী রাগে, দিয়েছিলে ভরে এ হৃদয়, মোরে বেঁধেছিলে লাজ-অনুরাগে। তারপর সখি আসিয়াছে সাজি বন বাসরের রাতি, নিশিথ বিজনে হৃদয় কাননে জাগিয়া প্রানের জ্যোতি। তুমি কণ্ঠে আমার দিয়েছ পরায়ে বদল মালার হার, আমি দিয়েছিনু হৃদয় ভরিয়া বেদনার আঁখি ধার। মোদের এই ভালবাসা, এই জানাজানি এ হৃদয় বিনিময়, চিরদিন কিগো জাগিয়া রহিবে নিশিখ জাগার ব্যথায়।” “কেন এত প্রেম আজিকে তোমার কেন এত বন্ধন মায়া? যবে চাহিয়াছিনু তোমার পরশে প্রানের সোহাগ ছায়া। তখন কেন গো মিছে ছল করে রহিয়াছিলে নিরবে দূরে কেন গো বাঁধনি বীনা তার সুরে, কেন গো দেখনি হৃদয় চাহিছে কারে? কেন সথা আসি কহ নাই ডাকি তুমি মোর---আমি তোমারি, কেন দূর হতে বাসিয়া ভাল কেন ঝরায়েছ নয়ন বারি?” বুঝিনি কখন সখি তোমায় বাসিয়াছি এত ভালো, কখন, সখি এ প্রান ডুড়িয়া তুমি দিয়েছ ভরিয়া আলো! কথন আমার সব স্নেহ প্রেম উৎসারিয়াছি তোমার লাগিয়া, কখন আমার হৃদয় মরু শ্যামলে উঠেছে ভরিয়া! কখন আমাতে হাসিতে খেলিতে তুমি যে গিয়েছ হারিয়ে, দিয়েছ কখন সব সুধা তব নিশিথে মাধুরী সাজায়ে।” “দূর হতে দেখেছিনু সুকোমল সুরভি ভরা একটি মনোহর ফুল, সন্ধ্যা পুরবে উদিয়াছিল সন্ধ্যা তারা! ভাবিয়াছি কত রাতি আনিয়াছি কত গাঁথি হৃদয়ের রঙে রাঙায়ে, আমার গোপন বাসনা সঁপিতে তোমার পায়ে। তবু হয় নাই মোর পূরন সে সাধ দ্বিধা সংকোচ-লাজ-ভয়ে, পারিনি বাঁচিতে আপনি সে মালা তোমারে তুলিয়া দিয়ে। কতবার গেছি তোমার দ্বারে, নব কত শত ছল অভিসারে, সব লাজ সংকোচ রাখিয়া দূরে, তবু পারি নাই কহিবারে। তোমার আঁখির পানে চাহিয়াছি যতবার হয়ে গেছি সখা মূক, কি এক আবেগ পুলকে মাতিয়া কাঁপিয়া উঠেছে বুক। মোর চঞ্চল আঁখিপাতে এত লাজ ভয় আসি বাঁধিয়াছে যবে জানিয়াছি সখা আমি তোমারে যে ভালবাসি।” “সখি কেন তবে তোমাতে আমাতে এই গান গাওয়া, মিছে হয়ে যাবে মোর এ পথ চাওয়া! কেন তবে এতদিন ছিনু মিছে ছলনার আশা লয়ে, কেন সখা বেঁধেছিলে যদি যাবে হৃদয়ে ব্যথা দিয়ে? কি ছিল প্রয়োজন তবে এ বাসর বদল মালার, কেন তবে গেঁথেছিনু নিশিথে স্বপনের মনিহার! সুখের বাসরে রহিবে তারা হয়ে জ্বলি তাই মোর বুনো কবিতার নাই কোন মূল্য সখি তোমার নিকটে আর” “নহে প্রান, সুখ মোর কোথা বল, চির দিন এ-তো হয়ে রবে আঁখিজল। কোথা আছে এমন সুখ যাহা তুমি দিয়েছ মোরে, এতো সাধ মোর সখা ছাড়িয়া যাইতে তোমারে! এত সাধনার, এত বেদনার এ মোর সাধের নয়নমনি, কত কাল ছিনু পথ চাহি তোমা কত দিন গেছি গুনি প্রানে প্রানে যারে এতদিন ধরে ফিরেছিনু খুঁজি খুঁজি, পেয়েছিনু তারে বেঁধেছিনু তারে বিদায় দিতেছি আজি! একি মোর সাধ, শান্তি আমার একি মোর তৃপ্তি বল? সযতনে প্রানে যাহার লাগিয়া গেঁথেছিনু ওগো সুখের কমল! কি ব্যথা লাগে প্রানে বুঝিবে কেমনে সখা, তুমি তার ভাষা, তোমার লাগিয়া এতকাল মোর জমে ছিল সব ভালবাসা সকলি দিয়েছি তোমা, মোর সব প্রেম, সব ফুলদল, রাখিয়াছি শুধু আপনার লাগি বেদনা নয়ন জল।” “এ মোদের চাওয়া সখি নাহি হল পাওয়া, শুধু রয়ে গেল বিধুর বেদনা দুইটি হৃদয় ভরিয়া।” “সখা যেথা যাই যতদুরে, যেথা দুঃখ-সুখ পুরে চিরদিন রহিব তোমার। তুমি জানিবে, আমি জানিব এ প্রেম শুধু তোমার আমার।" . **************** . সূচীতে . . .
শান্তিপূর্ন সহ অবস্থান (অন্তরঙ্গ অগ্রজ ফজল-এ খোদাকে) কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।