তুমি নাকি ভগবান! কল্যানময় ; মানবের হিতাকাংখী! করুনাময় বিশ্বের অধীশ্বর!
এর কৈফিয়ত কে দেবে ঈশ্বর? কেন, কেন আজ এখনও কাঙ্গাল অনাহারী বুকের উপর সোনার তাজমহল গড়ে ওঠে? কেন বুভুক্ষুর সম্মুখে নিবিড় আনন্দে ভোজে মত্ত তোমার হাউণ্ড অথবা এযালসেসিয়ান
আমরা বাঁচতে চাই, শান্তি চাই--- তাই কি আমরা পাপী?
শয়তান অন্যায়ী আর কেউই নয়--- সে তুমি--- মুখোশধারী ঈশ্বর! তাই এবার আকাশ স্বর্গ থেকে তোমায় পথে নামিয়ে ছিঁড়ে খাব তোমার বিলাসিত দেহ। . **************** . সূচীতে . . .
অক্ষম প্রেমিক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি--- পারিনি এতটুকুও করতে তোমার জন্য, তাই এখনও কাপুরুষের মত ক্ষমাপ্রার্থী।
যখন তোমার স্বপ্নের ঘরগুলো নির্মম করে ভাঙ্গছিল হিংস্র প্রেতাত্মারা, যখন তোমার নীল পাখীগুলো লুটিয়ে পড়ছিল ব্যাধের তীক্ষ্ণ তীরে পারিনি একটুও সাহস করে বাধা দিতে, অথচ আমি তোমায় ভালবাসি।
অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত করতেও ভয় হয় তাই তো অভিশাপ চাচ্ছি না
আপন কর্তব্যের অক্ষমতায়। আমি কেমন স্বার্থপর! যখন তুমি বেরিয়ে এলে মেঘের কবল থেকে, ঠিক তখনই তোমায় নিবিড় করে বাঁধতে নির্লজ্জের মত হাত বাড়ালাম তুমি ফিরিয়ে দাওনি গভীরভাবে বুকে টেনে নিয়েছ--- হয়ত এই ভেবে ;
আমি তোমার এক কাপুরুষ প্রেমিক। . **************** . সূচীতে . . .
শ্মশানের প্রেতাত্মা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
আমি সম্পুর্ন একটা প্রেতাত্মা এবং নির্জন এক বীভৎস শ্মশানের চিতার কালসিটে অগ্নিটুকু এক নিশ্বাসে পান করে আমি অধীশ্বর এই শ্মশান এই ধরিত্রীর।
পুরাতন মৃত শব যা আজ কংকাল ; আমায় বারংবার করে নমস্কার বিষাক্ত তাদের হাড়ের ঝংকার তুলে। আমিও তাদের রুগ্ন বক্ষ পাঁজরের উপর বিজয় উল্লাসে পুঁতে দেই জয় পতাকা, অথচ এই ভয়াল স্থানে আমি একা।
আমার শীর্নদেহটা ওদের থেকে সম্পূর্ন ভিন্ন। আমি আসি--- যখন তোমাদের স্বর্গপুরীতে তোমরা আদিম উল্লাসে মত্ত আমি ঠিক তখনই আসি যখন তোমাদের প্রাসাদে ভরে ওঠে নিপীড়িত আত্মার রক্ত প্রসাদে।
আমি আসি আমার বীভৎস পৈশাচিকতায় আমি হাসি দারুন অট্টরোলে। আমি বৃভুক্ষু হয়ত আমি আদি বিপ্লবী যুগের কোন বিদ্রোহী প্রেতাত্মা, নির্জন এই শ্মশানে। . **************** . সূচীতে . . .
রঙ্গিন এ্যালবামে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
ক'একটি ডালিমের গুলিবিদ্ধ ফুলে একঝাঁক ভ্রমরের রিলিপ কপ্টার ত্রান সামগ্রী বয়ে মানবতার কূলে রেখে গেল অহেতুক বিবর্ন বালুচর। তোমাকে রাখা যায় রক্ষিত সম্পদ তোমাকে সাজানো যায় সরল সুন্দর তোমাকে ভুলে যাওয়াই শুধু বিপদ অথবা আলিঙ্গন করা খোলা প্রান্তর
তোমাকে রাখা যায মায়ের নক্সীকাঁথায় তোমাকে রাখা যায় প্রিয়ার ফুল তোলা রুমালে তোমাকে রাখা যায় মুন্সির তাবিজে গলায় তোমাকে রাখা যায় হিজল জ্যোৎস্না তলে।
তোমাকে রাখা যায় স্নোর ভাঙ্গা কৌটায় বাঁশখুটির সরু গর্তে অথবা পানদানীতে, আহা কোথায় তোমাকে রাখি কিসের ছায়ায়! কালো চোখ জল হয়ে যাক যেতে যেতে--- শুধু কিছুক্ষন অক্লান্ত আক্ষেপেই চারিদিকে ভবিষ্যতের ধানগুলো ছড়াই।
কালো কাকের পাখার মত মৃত্যু এলো, ঢেকে দিল নগর শহর গ্রাম জনপদ। মৃত্যু এলো শবমিছিলের অগ্রভাগে, পথের মাঝে--- গভীর ঘুমে ; সন্ধ্যাকালে।
তবুও আমি বেঁচে আছি, আমার বুকের তপ্ত নিশ্বাস আজো ঝরে ; সবুজ ঘাসে মাঠের বুকে, গাছের শাখায়। আমার লেখার অগ্নিবুলেট বিদ্ধ করে শত্রর বুক, নিপাত করে পশুর মাথা।
বীভৎসতার উল্লাস নিয়ে আজো আমি বেঁচে আছি--- বেঁচে আছি, ধোঁয়ায় ঢাকা এই ধরাতে। বুলেট হয়ে খুন করেছি, শকুন হয়ে মাংশ খেয়েছি শিয়াল হয়ে হাড় চুষেছি, আবার এখন শান্ত মনে কলম নিয়ে এই বসেছি! কালো ধোঁয়া--- কালো ধোঁয়া--- আর কখনও মানুষ ও নয় পশুও নয়া--- ঘাসের বুকে শিশির হয়ে জন্ম নেব, ধোঁয়ার দেশে, মায়ের বুকের দুগ্ধ হয়ে শিশুর মুখে আনব হাসি।
কালো ধোঁয়া---কালো ধোঁয়া--- এখন আমি শীতল বাতাস নদীর জলে মাঠে মাঠে। . **************** . সূচীতে . . .
মধ্যরাতের কাক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
নীরব ধরিত্রী যখন শান্ত শিশুর মত ঘুমিয়েছে রাত্রির গাঢ় কোলে ; চিরাচরিত নিদ্রা যবে এঁকে দেয় মৃত্যুর শীতল পেলবতা। কাপালিক যখন তার ধ্যানে মগ্ন নির্জন শ্মশানে। ঠিক এমন যুগান্তের অনাবিল স্রোতের মাঝে হঠাৎ কর্কশ স্বরে ডাকে অলক্ষ্মী মধ্যরাতের কাক।
আমিও তেমনি --- সংসারে নিশ্চিত নীরব প্রহরগুলোয় হঠাৎ করে গেয়ে উঠেছি বেসুরো গান। তাই দুরাত্মা আমি অলক্ষ্মী কাকের মত ; আমি ভেঙ্গেছি সুপ্তি ঠিক মধ্যরাতের কাক হয়ে। . **************** . সূচীতে . . .
আমি একজন ঈশ্বর কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
আমায় যদি তুমি বলো ঈশ্বর ; আমি বলব হ্যাঁ আমি তাই। আমায় যদি বলো পাপী শয়তান আমি বলব হ্যাঁ আমি তাই-ই।
কারন আমার মাঝে যাদের অস্তিত্ব তার একজন ঈশ্বর অপরজন শয়তান, তাই যখন শয়তানের ছবিটি ভাসে আমাব মানব অবয়বে--- তখন আমি পাপী। আর যখন সত্যের পূর্নতায় আমি
মানবের কল্যানে আমার ধর্ম--- ঠিক তখনই আমি ঈশ্বর, কারন সত্য, পুন্য আর মানবতাই ঈশ্বর। যাকে তোমরা বলো ঈশ্বর--- আমি তাকে বলি সত্য, ন্যায় ; অতএব আমার পক্ষে একজন ঈশ্বর হওয়া বিচিত্র নয়। . **************** . সূচীতে . . .
‘মাইলাই’-এর রক্তপিপাসা কিম্বা পলাশীর রক্ত ক্ষয় ; নেই --- তাও নেই। নেই জিজ্ঞাসা ক্যাম্বোডিয়া অথবা ফিলিস্তিনী গেরিলার হঠাৎ আক্রমন করা প্রলয়।
সম্প্রতিকালের বাংলাদেশ : পশুর তীব্র তীক্ষ্ণ দন্ত অসহায়া ভ্রাতৃর বুকের শেষ লাল গোলাপটির অবলুপ্তি ; অথবা শত মাইলাই-এর নব রূপায়ন প্রচণ্ড জঘন্য।
তাও নয়--- নয় রক্তক্ষয়ী রুশ বিপ্লব, নয় সিপাহী বিদ্রোহ--- এ আমার হৃদয় আমার বিবেক আর অন্যায়ের সংঘাত এই রনাঙ্গনে প্রচণ্ড ভয়াল, শত হিরোশিমার প্রলয়ঙ্কর বিস্ফোরন এই ক্ষুদ্র স্থানে। . **************** . সূচীতে . . .
বহ্নি কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
হে সর্বগ্রাসী বুভুক্ষু দাবানল তোমার তরে আর পূজার অর্ঘ্য নয়, নও তুমি আর দেবতা খল
দেবদূতের পথ চেয়ে আর থাকা নয়। দেবতার বেশে তুমি পারবেনা--- পারবেনা আমার উন্নত মস্তক নত করতে, আমার সঙ্কীত বক্ষে তোমার বিষ দংশনে আমি ভীতু নই দেবতার প্রাচীন সংস্কারে, আমি বন্দী নই সমজের অন্ধ কারাগারে।
আমার অবাধ্যতা তোমায় টেনে আনবে নির্মম নিষ্ঠুরের মত আমি @ আসবে। আমার পর্নকুটিরখানা তোমার আক্রোশে, মিশে যাবে ধুলোয়। আমার পাণ্ডুলিপিখানা বুকে বলাকার মত মিশে যাবে আকাশে। আমার পোড়া ক্ষত ভয়ঙ্কর দেহটা, হঠাৎ হারিয়ে যাবে ঘুনি @@ বলয়ের তলে। ভাটি আসবে আবার ক্রোধ অশ্রুজলে॥
তবু, শুধু আমি থাকব চিরদিন, এ মাটির প্রতিটি ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির কনিকার মাঝে। হেথা বনানীর শাখে শাখে ডাকা পাপিয়া কপোতীর সুরে তরী-বাঁধা খেয়াঘাট এ নদীর তীরে। আমি থাকব, আমি বেঁচে রব। তাই তোমার রক্তজিহ্বা দেখে আর উঠিনা আতঙ্কে কেঁপে। তোমায় জানাই অনুখন, এ মোহে হে বহ্নি কালনল। তুমি এস প্রচণ্ড উল্লাসে, আমায় শেষ করে দাও---- পরিসমাপ্তির গণ্ডী আমায় হেনে। পরিসীমান্তের সীমা থেকে আমায় নিয়ে যাবে টেনে, পরিপূর্নতার এক অলৌকিক অধ্যায়ে।
আমি তারই প্রত্যাশী, তোমরা যাকে প্রলয় বলে নমস্কার কর শতবার, তোমরা যাকে দেবতা সম্ভাষনে উৎসর্গ কর সন্ধ্যা আরতি। আমি তারই প্রত্যাশী তোমরা যাকে বলো যমদূত করাল বীভৎস মূর্তি। আমি তাকে করি আহ্বান তার ভয়ঙ্কর মূর্তি দেখব বলে। হে বহ্নি! এসো তুমি তোমার প্রচণ্ডতা নিয়ে, ধ্বংসের মাঝেই সৃষ্টি করো নতুন। কারন অতীত ধ্বংস না হলে স্থান পাবে না নবীন। ভয়ঙ্কর! আর একবার তোমার অট্টহাসি হেসে কাঁপিয়ে দাও এই ধরিত্রী ; দারুন ত্রাসে।
. ************
@ - আমি - এই শব্দটি কি “তুমি” হবে? মুদ্রণপ্রমাদ? @@ - ঘুনি - এই শব্দটি কি “ঘুর্নি” হবে? মুদ্রণপ্রমাদ? . **************** . সূচীতে . . .
নিষ্কৃতি কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
হে জীবনকাব্য! তোমাতে আর নয় ; আর নয় ব্যার্থতা ---অনশনের গান, নয় আর রিক্ততার মর্মন্তুদ আর্তনাদ, নয় হতাশাগ্রস্ত আত্মার গন্ধ-স্রান।
রাত্রির অন্ধকার আরো প্রকট ক'রে নয় তুলে ধরা আঁধারের মূক গহ্বরে। রিক্ত বক্ষাখানা আরো ক'রে রিক্ত, নয় আর অশ্রু কপোলদ্বয় আরো সিক্ত।
ভাঙা পথটাকে আরো বাঁকায়ে দেখবার সময় বহুক্ষন গেছে পেরিয়ে। বিরহ বিলাপের কাল এ নয়, পিছিয়ে আসাও চলবে না ভয়ে। শুধু সম্মুখে লক্ষ্য তোমার আরো তীক্ষ্ণ কর পেছনে অনেক স্রোত পারবে না ফিরতে, যেটুকু আশ্রয় পাও প্রানপনে আঁকড়ে ধরো হঠাৎ যদি হাত ফসকে যায়, নিশ্চিন্ত পড়ে যাবে জঞ্জালপূর্ন আঁস্তাকুড়ে।
গতরাতের সুখ-স্বপ্নটা নির্বিঘ্নে ভুলতে না পারো চেষ্টা করো ; তবু, বৃথা স্মরন করে থেকো না উদ্বিগ্নে। বিরহকে যদি গানের সুরে বাঁধো তাকে তো ভুলতে পারবে না। শুধু যদি বিস্মৃতির মোহে কাঁদো সমুখের দ্বারতো হবে না খোলা।
হে জীবনকাব্য, এবার তোমাতে আমায় হবে নতুন এক অভিনব সমবন্ধ, আমার বিধুর রোদনে নিখুঁত তুলির ছোঁয়ায় আমি আঁকব সুন্দর বন্দনার ছবি। যদি তুমি পারো থেকো আমার সান্নিধ্যে নয়তো তোমায় দিলেম নিষ্কৃতি অকারনে বাড়াব না আর রঙিন স্মৃতি। তোমার আমার নতুন এক সম্বন্ধ, আমি বেদনার পাথারে তুমি মনোরম ছন্দ। . **************** . সূচীতে . . .
মহাকাব্য কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ “খুটিনাটি খুনশুটি ও অন্যান্য কবিতা” (১৯৯১) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
মহাকাব্য, তুমিতো নও আমার ; আমরা যারা অনাথ নিরাশ্রয়। তোমার বুকে আমাদের ঠাঁই কভু আর হবে না, --- হয়নি। পরাশ্রয় যাদের সম্বল তারা কি কখনও হতে পারে মহাকাব্যের নায়ক কিন্বা নায়িকা। তাদের যে জীবন-স্রোতটা অনির্দিষ্ট বাঁকা, নক্ষত্র ভরা অন্বর হতে খসে পড়া হতভাগ্য তারার মত অসম্পূর্ন। ছিন্নমূল বিটপির মত অসহায় যারা তারা কি পায় আশ্রয় তোমার সুবিন্যস্ত সুগন্ধি মুকুরে হে মহাকাব্য যুগের স্বাক্ষরে?
যাদের দু'মুঠো অন্নের তরে ঘুরতে হয় প্রত্যেকের দ্বারে, সমস্ত দিন ধরে--- তার সময় কোথায় মনোরম সুলালিত্য সংগীত পরিবেশনের।
তবুও আশা তো মেঘের মতো জমে ওঠে ধীরে ধীরে, আবির মাখা আকাশের দুই ঠোঁটে। কিন্তু হঠাৎ উত্তর হতে প্রবাহিত নিসংকোচ মলয়ী গন্ধ বহে জমে ওঠা মেঘে আসে নিয়তির ভাঙন, মিলিয়ে যায় সকল অনিমেষ নিঃশেষে। ঠিক যেমন করে কৈশোরের খেলাঘর ছেড়ে কিশোরী চলে যায় যৌবনের গৃহে মাটির খেলার সামগ্রীগুলো ফেলে। ঠিক যেমনি পাতি-হাঁস ঝাঁক পুকুরে চরতে চরতে নালা পথে কখন এসে পৌঁছে সুগভীর খালে, নিজস্ব মনের একান্ত ভুলে।
আমাদের জীবন কাহিনী হয় না ‘মেঘদূত’ ‘মহাশ্মশান’ কিন্বা ‘মেঘনাদবধ’ অরন্যই হয় জীবন দীপখানার অবসান। তবুও ইচ্ছে হয় নায়ক কিম্বা নায়িকা হতে মহাকাব্যের নাইবা হলো, পথে অথবা ফুটপাতের পাশে ছড়িয়ে থাকা দোকানের মত স্থানে চটকদারী ছবিওয়ালা বইএর ক'একটা পৃষ্ঠাব্যাপী থাকবে আমাদের অবহেলিত জীবনের কয়একখানা ঘুনে ধরা গান। নাইবা হলো তার মহাকাব্যে স্থান। . **************** . সূচীতে . . .