সাপের ফনায় হাত রেখেছো হাত রেখেছো বাঘের গায়ে--- ঘরে তোমার লালিত সুখ, আজন্ম সাধ পুড়িয়ে দেবো, পুড়িয়ে দেবো, সতর্ক হও।
মাটির প্রতি অনূর্বরা আঙুল রেখে মেঘের অর্থ অনাবৃষ্টি বুঝালে হায়।
শীতার্ত বুক, শীতল শোনিত, রোদ্দুরকে বল্লে তোমরা জটিল আঁধার। মাটিতে এক মাতাল যুবক আগুন হাতে ভীষন খেলায় মত্ত এখন খামখেয়ালি উল্টো হাতে ঘোরাচ্ছে তার তীব্র লাটিম---
মুখোমুখি দাঁড়াবার দিন কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ৩০ পৌষ ’৮৩ মিঠেখালি মোংলা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
মুখোমুখি দাঁড়াবার এইতো সময়, শত্রু কে চিনে গেছে অমিত মানুষ, হৃদয় জেনেছে ঠিক কতোটা পচন--- মুখোমুখি দাঁড়াবার এইতো সময়।
বুঝেছে জীবন তার কোথায় খলন কোন সেই ভুল ছিলো বিশ্বাসে, বোধে,
কোন সেই প্রতারক ছিলো তার প্রভু--- মুখোমুখি দাঁড়াবার এইতো সময়।
ফুলের ঘাতক খোঁজে ফুলের পোষাক মাংশাসী পাখি তার লুকোয় নখর, লাঙল জেনেছে তার শ্রমে কার লাভ রাজপথ জেনে গেছে কারা কাঁদে রাতে--- পোড়া ভিতে পোড়ে কোন নিস্ব জীবন।
হাউসের তালা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৫ জ্যৈষ্ঠ '৮৭ মোংলা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
এক জনমের এই রূপোলিয়া-তালা কোন চাবি দিয়ে তারে খুলি ?
বিহান গডায়ে যায়, দুপুর গড়ায়ে যায়, নামে নিশি, বিষের রাত্তির, জীবন গড়ায়ে যায়, জীবনের ফুল-পাতা, না-ফোটা মুকুল।
গোনের নৌকোর মাঝি, ভাটিয়ালি গেয়ে যাও---জানো তুমি? তুমি জানো, যব-ডুমুরের গাছে আউলা-বাউলা-মন মাছরাঙা পাখি? তুমি জানো? ও মেঘ, ও অঘনের পোয়াতি প্রান্তর, জানো তুমি? সুখ দিয়ে খোলে না সে, খোলে না সে বেদনায়ও, আমার সাধের তালা কোন চাবি দিয়ে তাবে খুলি?
বৈশাখের ডাকাতিয়া ঝড়, তুমি জানো? গায়ের হালোট তুমি জানো? ও লাঙল, ও মাটি, ও কিশোরির প্রথম প্রণয়, তুমি জানো? জ্বলন্ত উনুনে ভাত, দারুচিনি আর কাঁচা বিহানের রোদ দুধের থালের পাশে ভন্ ভন্ নীল মাছি, তুমি জানো? বৃষ্টি তুমি জানো? তুমি জানো, দিগন্তে আঁচল মেলে, শুয়ে-থাকা নিধুয়া-পাথার?
আলো দিয়ে খোলে না সে, খোলে না সে আঁধারেও, আমার সাধের তালা, কোন চাবি দিয়ে তারে খুলি! ঘৃনাতেও খোলে না সে, ভালোবাসা, তুমি পারো?
গহিন গাঙের জল কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৬ বৈশাখ ’৮৫ সিদ্ধেশ্বরী ঢাকা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
গহিন গাঙের ঘোলা নোনাজল উথালি পাথালি নাচে ফনা তুলে আসে তুফানের সাপ কাফনের মতো শাদা পরানের 'পরে পড়ে আছড়ায়ে বিশাল জলের ক্রোধ--- যেন উপকূল ভিটে মাটি ঘর টেনে নিয়ে যাবে ছিঁড়ে।
বাঘের পায়ের চিহ্নের মাঝে জ’মে আছে রূপো-জল মরা হরিনের চোখের মতোন ঘোর নিরজন রাতে নায়ের গলুয়ে তামাটে কিশোর বাঁশিতে বাজায় কথা, বিজন রাত্রি ভেঙে পড়ে সেই ব্যাকুল বাঁশির টানে ফুলে ফুলে ওঠে সোমত্ত জলে জোস্নার যৌবন।
চাষারা ঘুমায়ে আছে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৭ ভাদ্র ’৮৫ সিদ্ধেশ্বরী ঢাকা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
কেমন সুরত সই, ওলো সই কেমন সে-তনু পরান উথলে ওঠে বলা তারে যায় না ভাষায় কি কোরে বুঝাই তোরে ওলো সই কোন উপমায়!
সমুদ্র দিয়েছে নুন তার হাড়ে নোনা ভালোবাসা, সেগুনের মতো দেহ অপরূপ গভীর শ্যামল--- সবুজ আঙুল আহা তার দুধের সরের মতো নোখ মাঝ রাতে খুঁড়ে তোলে পরানের গোপন খোয়ার।
তামাটে রাখাল কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ১৬ আশ্বিন ’৮৫ সিদ্ধেশ্বরী ঢাকা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
খামার কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ৬ বৈশাখ ’৮৬ মিঠেখলি মোংলা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
আজ আর বৃষ্টি নেই---রোদের রঙিন চিল ডানার পালক তার মেলে দিছে আকাশের তলে। উদ্ভিদের দেহ দ্যাখো কি-শ্যামল চেকনাই আহা কি মাটির ঘ্রান, সোঁদা ঘ্রান---মাটিও কি ফুল?
ব্রহ্মাণ্ডের শূন্য-ডালে ফুটে থাকা এই রুক্ষ তামাটে কুসুম সূর্যহীন, জোস্নাহীন করে কোন অন্ধকারে ফুটে উঠেছিলো কবে কোন কিষানেরা অন্ধকার চ'ষে এই মাঠে বুনছিলো প্রেম মনে নেই---
মনে নেই কবে এই অনন্ত বৃষ্টি মেঘ পৃথিবীর তিনভাগ রোদনের মতো ঝ'রে পড়েছিলো।
আজ আর বৃষ্টি নেই খামারে এসেছে নেমে সভ্যতার নহলি কিষান, পুরোনো পায়ের চিহ্ন খুঁজে খুঁজে বরষার জলে তাকে ফের যেতে হবে, পুনর্বার ফিরে যেতে হবে জন্মের আন্ধার ঘরে পুনর্বার . . .
একদা প্রস্তর-দিন তারপর তামা ও লোহায় সভ্যতা বেড়েছে তার অন্তরের গাঢ় প্রয়োজনে। করোটির ঘাম আর পাঁজবের বাঁকা ঋদ্ধ হাড়ে। মানুষের চর্ম, অস্থি, ঘর্মময় শ্রমের ভাষায় জীবন লিখেছে নাম নিখিলের অমর কাগজে।
আজ আর বৃষ্টি নেই---আজ শুধু জ'মে আছে মেঘ জীবন বিরোধী মেঘ, অরন্য-জীবন সেই আজ আছে জীবনে, অরন্য--- পশুরা গিয়েছে বনে সে-ভূমিকা নিয়েছে মানুষ॥ . **************** . সূচীতে . . .
বৈশাখি ছেনাল রোদ কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ৬ জ্যৈষ্ঠ ’৮৫ সিদ্ধেশ্বরী ঢাকা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
বৈশাখি ছেনাল রোদ, ঘরখানা পোড়ালি আমার!
আমার সবুজ মাঠ, নধর ফসল আমার অঙ্গন, ভিটে, তরমুজ, রাই, আমার দুধেল গাই, অন্নদানা, গাভিন ঘরনি বৈশাখি ছেনাল রোদ, সর্বনাশা, পোড়ালি সকল।
গগনে গভীর মেঘ জলের জরুল বনভূমি বৃক্ষময় শ্যামলিম ছায়া তবু তারা ফিরে গেল, খরদাহ নেভালো না কেউ, জেগে র'লো সারাবুকে ক্ষত চিহ্ন, রোদের আঘাত।
কারে আমি ডেকে বলি সুহৃদ স্বজন কার ছায়া তবে সত্য, বাসযোগ্য ভূমি! কার হাতে হাত রেখে চিতাভস্মে জীবন সাজাবো এন দেবো কার বুকে স্বপ্ন-ধোয়া প্রেরনার সাধ!
বৈশাখি ছেনাল খরা হিয়াখানি পোড়ালি আমার---
আমারে বানালি বিধি বিষাদের খেয়া, তবু যদি সত্যি হয় এই জন্ম নেয়া তাহলে জীবন ঘ’ষে পুনর্বার জ্বালাবো আগুন, পুনর্বার প্রেম ছোঁবো, ছোঁবো স্বপ্ন মাটির পাঁজর॥ . **************** . সূচীতে . . .
সাত পুরুষের ভাঙা নৌকা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ২২ জ্যৈষ্ঠ ’৮৭ মিঠেখালি মোংলা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
এই তো রে সেই জীবন-তরী বাইতে বাইতে জনম গেল টের পেলি না।
এইতো রে সেই জীবন-তরু চাষ আবাদে ফুরোলো দিন ফল পেলি না, বাইতে বাইতে জনম গেলো টের পেলি না।
এই হলো সেই সময়-নদী, এই তো সে-কূল, এই কিনারা এইখানে তোর পাল ছিঁড়েছে, ভাঙা নায়ে জল নিয়েছে। এইখানে বাঁক নেবার কথা ছিলো, কিন্তু পথ হারালি, হারালি তোর দিক-নিশানা--- বাইত বাইতে জনম গেল টের পেলি না।
আহারে আন্ধারের মাঝি উজানে তোর নাও চলে না, সাত পুরুষের ভাঙা নৌকো আজো সে নাও বাঁক নিলো, কুল নিলো না।
সামনে কারা মেঘ দ্যাখালো দুঃখ দিয়ে গাঙ সাজালো, কারা তোর এই ভাঙা নায়ে চাপিয়ে দিলো হাজার বোঝা খোঁজ গেলি না।
রাস্তার কবিতা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনা ৬ ফাল্গুন ’৮৩ সিদ্ধেশ্বরী ঢাকা। অসীম সাহা সম্পাদিত “রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র, প্রথম খণ্ড” থেকে। কবির বানান।
বন্দনা করি বন্দনা করি এদেশেরই অনার্য পিতার শ্যাম চামড়ার শ্যামল মানুষ মাটি শ্যামলার,
খাঁটি মানুষ যারা ২ রক্ত ধারা দিয়েছে মিশায়ে এদেশেরই মাটি জলে নওল নোনা বায়ে,
যারা মাটির ছেলে ২ কৃষক জেলে শ্রমিক সর্বহারা এই জাতির রক্তে দিছে শক্ত শ্রমের ধারা,
যারা গাঁয়ে থাকে ২ গায়ে মাখে বৃষ্টি রোদের প্রেম আষাঢ় মাসের কাদায় বোনে শস্য সুখের হেম,
বোনে দুঃখ-জরা ২ রক্তঝরা জীবন যুদ্ধের গান, যাদের হাড়ে মাংশে ফোটে আন্দোলনের ধান।
বাজান করতালি, ২ সবকে বলি, পদ্য আমার শুরু প্রনতি জানাতাম যদি থাকতো কোনো গুরু
কিন্তু হতভাগ্য, ২ দুরারোগ্য ব্যারাম সারাদেশে কোনো তথ্যে কোনো পথ্য সারে না সে ব্যাধি।