ছাত্র নিয়ে ছড়রা কবি শ্যামা প্রসাদ সরকার কবি, শিবপুর বি. ই. কলেজ এ পড়াকালীন বন্ধুদের বিশেষত্ব নিয়ে ছড়াগুলো, নিছক হাসির উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন। তবে বিশেষ কারণে আসল নাম পরিবর্তন করেছেন, যদিও পদবী অপরিবর্তিত।
১। সুরঞ্জন সিনহা লেখাপড়া বিনা বসে বসে শুধু ভাবে প্রেম করবে কিনা।
২। মহাদেব সেন ট্রাঙ্কে তোলা পেন, লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে আড্ডাটাই মেন।
৩। মলয়কান্তি সরকার ব্যায়াম করা দেহ তার। আরশোলা দেখলেই একলাফে ঘরপার।
রঞ্জন পাল মেরেছিলে চাল কবি শ্যামাপ্রসাদ সরকার আমার বি.ই. কলেজ এর প্রথমদিকে সব হোষ্ট্রেলে অনশন ধর্মঘট হয়েছিল ক্যাম্পাস-এর বাইরের ছেলেদের আক্রমণের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ মত জানাতে। একনাগাড়ে বহুদিন চলার পর কলেজের executive committee ছাত্রদের সব দাবী মেনে নিয়েছিল। ধর্মঘট শুরু হবার কদিন পরেই এক ছাত্রের দাদা তার ভাইকে মায়ের অসুখ বলে নিয়ে চলে যান, সেই উদ্দেশ্যে লেখাটা। ফিরে এসে তার বিছানার ওপর এই লেখাটা দেখে ছেলেটার মনের অবস্থা যা হয়েছিল!!
রঞ্জন পাল মেরেছিলে চাল, ভেবেছিলে পেয়ে যাবে পার। দাদা এসে ভাইটিরে নিয়ে গেল কোলে করে, অসুখ করেছে নাকি মার।
কিন্তু জ্ঞানাঞ্জন, ভাবনিকো সেইক্ষণ মিথ্যার শাস্তি চরম। মা'র নামে মিথ্যা বলে গ্যাস দিয়ে গেলে চলে, ভাবোনি উপরে আছে ধরম।
রঞ্জন পাল এসে গেছে কাল বিরুদ্ধে তোমার রুমমেট। অনশনে দিয়ে ভঙ্গ করে এক নবরঙ্গ, করেছো নিজের মাথা হেঁট।
ওমিক্রন সংক্রমণ কবি শ্যামাপ্রসাদ সরকার কবির সাম্প্রতিক করোনাকালে লেখা কবিতা।
কলকাতায় ওমিক্রন! আমি মুচকি হেসে চেয়ারে বসে দুপা নাচাই রে। আমি গরম চায়ে চুমুক দিয়ে তুড়ি মেরে, বাইক করে বেরিয়ে পড়ি রে।
আমি মাঙ্কহীন, ভয়বিহীন শহর ঘুরে আড্ডা ঢুঁড়ে রাতদুপুরে ঘরে ফিরে তালা খুলে দুয়ার ঠেলে শুয়ে পড়ি রে। তোমার দেখা নাই রে - তোমার দেখা নাই।
বড়দিন নিউইয়ার জুটিয়ে নিয়ে সব ইয়ার, সাহেব পাড়ায় হাসি ঠাট্টায় আড্ডা মারি রে। ভিড় সত্ত্বে মোকামবো-তে ডিনার সারি গভীর রাতে রে। খাওয়া শেষে বেরিয়ে এসে গলা খুস্ খুস্, নাক সুড়সুড় বুঝতে পারি রে।
আমি টা-টা করে বাড়ী ফিরে অনেক রাতে বুঝি মাথে ভীষণ ব্যাথা সর্দি সাথে। অবশেষে নিজ দোষে তোমার দেখা পাই রে- তোমার দেখা পাই। তোমার দেখা পাই রে- তোমার দেখা পাই॥