কবি শ্যামা প্রসাদ সরকারের কবিতা
*
গৌতম তার নাম
কবি শ্যামা প্রসাদ সরকার
কবি, দুটো কমবয়সী ছেলেমেয়েকে তাদের মায়ের অনুরোধে পড়া দেখাতেন।
ছেলেটা ছিল বিচ্ছু।

গৌতম তার নাম
বেশী বকা তার কাম।
দিদির মতো সে এঁচোড়ে পক্ক
হায় রাম হায় রাম॥

পড়ার সময় বই ফেলে দিয়ে
তাকায় ডাইনে বাম।
কোন ফাঁকে সে এক ছুটে গিয়ে
পাড়বে পেয়ারা জাম॥

ঘন রোদ্দুরে সদা ছোটাছুটি
অঙ্গে ঝরিছে ঘাম।
এমন ছেলে তো পাওয়া দুর্লভ
যতই ফেলনা দাম।
হায় রাম! সিয়া রাম!!

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
এক যে ছেলে
কবি শ্যামা প্রসাদ সরকার
কবি, দুটো কমবয়সী ছেলেমেয়েকে তাদের মায়ের অনুরোধে পড়া দেখাতেন।
ছেলেটা ছিল বিচ্ছু। ওদের নিয়েই এই কবিতাটি লিখেছিলেন।

এক যে ছেলে
খাবার ঠেলে
বইটা ফেলে
পাড়তে যাবে কুল।

এক যে মেয়ে
খাবার খেয়ে
বইটা চেয়ে
পড়তে যাবে স্কুল।

তাদের বাবা
বলবে বাবাঃ
বড়োই হাবা
ছেলেই আমার ফুল।

তাদের মাতা
কিনবে খাতা
রঙিন ছাতা
মেয়ের কানের দুল।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আমরা দুজনে
কবি শ্যামা প্রসাদ সরকার
একটা ছয় অক্ষর বিশিষ্ট বা ষষ্ঠপদী ছড়া।

আমরা দুজনে
বকুল কাননে
করি ছোটাছুটি
তুলি ফুল দুটি
গাঁথি লব মালা
অতি ভোর বেলা।

পরে নদীতীরে
নেচে ঘিরেঘিরে
করবো বদল
গাঁথা মালাদল।
দেখবে আকাশ
উদার বাতাস।

করবে আশীষ
পাকা ধানশিষ।
কল ছলোছল
হাসে নদী জল।
আমরা দুজন।
দৌঁহে একমন।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আমি একটা পাগলা
কবি শ্যামা প্রসাদ সরকার
কবির একদম ছোটো বয়সে লেখা ছড়া।

আমি একটা পাগলা
কি করতে কি যে করি যায় না কারেও বলা।
সকালবেলা বিছনা ছেড়ে ভাত খাই এক গামলা।
দুপরবেলা ভাতের সময় টানি চায়ের পেয়ালা।
আসলে আমি একটা পাগলা।

শীতের সময় বাজার গিয়ে
আম চাই জোর গলা হাঁকিয়ে।
ডাব নারকেল কিনতে গিয়ে
আনি নারকেল মালা।
আসলে আমি একটা পাগলা।

রাস্তা দিয়ে চলি যখন
ভাবের ঘোরে আপনি মগন।
রিক্সাওয়ালার টুংটাং রব
কানে যায়না বলে শালা।
আসলে আমি একটা পাগলা।

মাঘের রাতে সবাই যখন
লেপকন্বলে নিদ্রামগন।
আমি তখন নদীর জলে
ডুবিয়ে থাকি গলা।
আসলে আমি একটা পাগলা।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ওরে মোদের সবুজ দেশের নবীন শিশুর দল
কবি শ্যামা প্রসাদ সরকার
কবির স্কুল জীবনে লেখা কবিতা।

ওরে মোদের সবুজ দেশের নবীন শিশুর দল,
তোদের বুকেই লুকিয়ে আছে অযুত হাতির বল।
ভবিষ্যতে তোরাই হবি দেশচালনার কল,
মন দিয়ে সব কর্ম কর - পাবিই তার সুফল।

ফলে ফুলে ভরে উঠুক তোদের নবজীবন,
সুন্দর হোক, জাগ্রত হোক, তোদের এ সু-মন।
কাছে তোদের আসুক নাকো যত সব শমন
বুকের মাঝে টেনে তাদের করবি রে আপন।

জানতে কভু চাসনে ওরে কারে বলে ভয়,
জানবি সদা কেমন করে শির উঁচাতে হয়।
জানিস সবার বুকের মাঝে দেবতা জেগে রয়,
তোরাই হবি আসল মানুষ - কেবল মানুষ নয়।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ছাত্র নিয়ে ছড়রা
কবি শ্যামা প্রসাদ সরকার
কবি, শিবপুর বি. ই. কলেজ এ পড়াকালীন বন্ধুদের বিশেষত্ব নিয়ে ছড়াগুলো, নিছক হাসির
উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন। তবে বিশেষ কারণে আসল নাম পরিবর্তন করেছেন, যদিও পদবী
অপরিবর্তিত।

১।
সুরঞ্জন সিনহা
লেখাপড়া বিনা
বসে বসে শুধু ভাবে
প্রেম করবে কিনা।

২।
মহাদেব সেন
ট্রাঙ্কে তোলা পেন,
লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে
আড্ডাটাই মেন।

৩।
মলয়কান্তি সরকার
ব্যায়াম করা দেহ তার।
আরশোলা দেখলেই
একলাফে ঘরপার।

৪।
সুকুমার সাঁতরা
ধারে ধারে ঝাঁঝরা।
আড্ডাবাজি করতে পেলে
হারিয়ে ফেলে মাত্রা।

৫।
দেবদাস তেওয়ারী
ক্লাস কেটে যায় বাড়ি।
শুক্রবারেই ধরতে ছোটে
বর্ধমানের গাড়ী।

৬।
সেনগুপ্ত রূপক
ত্বরিৎ বলার শখ,
কিন্তু ইসেতেই আটকে যায়
করতে গেলে বকবক।

৭। রূপক এর অন্য বিশেষত্বের জন্য---
রূপক সেনগুপ্ত
ক্রিকেটটা বেশ রপ্ত।
রোজ বিকেলে লর্ডস মাঠে তাই
ব্যাটে বলে দীপ্ত।

৮।
অভিজিৎ সাহা
চেহারা কি আহা!
মিলিটারীতে চান্স পেলেও
পার্সোনালিটি কাঁহা?

৯।
সুরজিৎ সাধু
ঝোলাগোঁফে দাদু।
কণ্ঠস্বর সদা উচ্চে
কভু নয় মৃদু।

১০।
সঞ্জয় সম্মুখ
ধারে খেতে উন্মুখ।
ওর সাথে কোথা যেতে
বুক করে ধুকপুক।

১১।
সুজিত মহাপাত্র
অসাধারণ ছাত্র।
স্ট্রাকচারস-এ লেটার মার্ক্স
ওর ভাগ্যেই মাত্র।

১২।
সম্বিত শেঠ
ভদ্র রুমমেট।
কাক ভোরেতেই স্নান কমপ্লিট
ভাবলে মাথা হেঁট।

১৩।
রণজিৎ ঘোষ
মেজাজটা খোশ।
সপ্তাহের সাতটা দিনই
সিনেমা দেখার দোষ।

১৪।
প্রদ্যুৎ সাহা
বিড়িমুখো আহা।
প্রতি ইয়ারে রিপিট করে
আর কতকাল ভায়া।

১৫।
মনোতোষ রায়
বাড়ি হাওড়ায়।
আড্ডাতে ওস্তাদ, তাও -
জুয়েল লেখাপড়ায়।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
রঞ্জন পাল মেরেছিলে চাল
কবি শ্যামাপ্রসাদ সরকার
আমার বি.ই. কলেজ এর প্রথমদিকে সব হোষ্ট্রেলে অনশন ধর্মঘট হয়েছিল ক্যাম্পাস-এর  
বাইরের ছেলেদের আক্রমণের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ মত জানাতে। একনাগাড়ে বহুদিন
চলার পর কলেজের
executive committee ছাত্রদের সব দাবী মেনে নিয়েছিল। ধর্মঘট শুরু
হবার কদিন পরেই এক ছাত্রের দাদা তার ভাইকে মায়ের অসুখ বলে নিয়ে চলে যান, সেই
উদ্দেশ্যে লেখাটা। ফিরে এসে তার বিছানার ওপর এই লেখাটা দেখে ছেলেটার মনের  
অবস্থা যা হয়েছিল!!

রঞ্জন পাল
মেরেছিলে চাল,
ভেবেছিলে পেয়ে যাবে পার।
দাদা এসে ভাইটিরে
নিয়ে গেল কোলে করে,
অসুখ করেছে নাকি মার।

কিন্তু জ্ঞানাঞ্জন,
ভাবনিকো সেইক্ষণ
মিথ্যার শাস্তি চরম।
মা'র নামে মিথ্যা বলে
গ্যাস দিয়ে গেলে চলে,
ভাবোনি উপরে আছে ধরম।

রঞ্জন পাল
এসে গেছে কাল
বিরুদ্ধে তোমার রুমমেট।
অনশনে দিয়ে ভঙ্গ
করে এক নবরঙ্গ,
করেছো নিজের মাথা হেঁট।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
চারতলার সবসে হেড
কবি শ্যামাপ্রসাদ সরকার
কবির কলেজের এক সবজান্তা মার্ক্স মতাদর্শীকে নিয়ে লেখা কবিতা।

চারতলার সবসে হেড
সবাই বলে কমরেড।
নামটি তার বড়ই মধুর
শিবশঙ্কর সেন।
গলার আওয়াজ কাংশবাদ্য
কিংবা সাইরেন।

সবাইকে করে জড়ো
ঝেড়ে বুলি বড়ো বড়ো
শোনাবে সে মাথা নেড়ে
হোয়াট ইস কম্যুনিজম।
কর্ল মার্ক্স আর লেনিন স্টালিন
আনবে হরদম।

কোথাও যখন তর্ক লাগে
শিবু এসে আগেভাগে
উঁচিয়ে ঘাড়, দাপিয়ে গলা
লাফালাফি করে।
কনক্ল্যুশন টা কম্যুনিজম
সব কথারই পরে।

শিবু তুমি ভালো ছেলে
কেউ ঘদি ফেলে বলে
বলবে শিবু জ্ঞান বিলিয়ে -
'ছেলেই আমি নই'
ব্রহ্ম বাদে তুমি আমি
সব প্রকৃতি হই।

এমনতরো কথা যার
তারে করি নমস্কার,
মাওসেতুং-এর মস্ত ভক্ত
শিবশঙ্কর সেন।
হিন্দীচিনী ভাইভাই
তিনিই বুঝেছেন।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ওমিক্রন সংক্রমণ
কবি শ্যামাপ্রসাদ সরকার
কবির সাম্প্রতিক করোনাকালে লেখা কবিতা।

কলকাতায় ওমিক্রন!
আমি মুচকি হেসে চেয়ারে বসে
দুপা নাচাই রে।
আমি গরম চায়ে চুমুক দিয়ে
তুড়ি মেরে, বাইক করে
বেরিয়ে পড়ি রে।

আমি মাঙ্কহীন, ভয়বিহীন
শহর ঘুরে আড্ডা ঢুঁড়ে
রাতদুপুরে ঘরে ফিরে
তালা খুলে দুয়ার ঠেলে
শুয়ে পড়ি রে।
তোমার দেখা নাই রে -
তোমার দেখা নাই।

বড়দিন নিউইয়ার
জুটিয়ে নিয়ে সব ইয়ার,
সাহেব পাড়ায় হাসি ঠাট্টায়
আড্ডা মারি রে।
ভিড় সত্ত্বে মোকামবো-তে
ডিনার সারি গভীর রাতে রে।
খাওয়া শেষে বেরিয়ে এসে
গলা খুস্ খুস্, নাক সুড়সুড়
বুঝতে পারি রে।

আমি টা-টা করে বাড়ী ফিরে
অনেক রাতে বুঝি মাথে
ভীষণ ব্যাথা সর্দি সাথে।
অবশেষে নিজ দোষে
তোমার দেখা পাই রে-
তোমার দেখা পাই।
তোমার দেখা পাই রে-
তোমার দেখা পাই॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর