এবার থামুন মৃতের সংখ্যা সনাক্তের সংখ্যা গোনা বন্ধ করুন যুদ্ব মহামারী রক্তপাত ক্ষেপণাস্ত্র তেজস্ত্রিয়তা দেখেছি আমরা ভোগের লালসা এবার কমিয়ে ফেলুন লকলকে জিহবা আর বের করবেন না লোলুপ দৃষ্টিতে সম্পদের দিকে তাকাবেন না বাজার দখলের পাশা খেলা এবার থামান ভোগের নেশার কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে আকাশ হিরোশিমা নাগাসাকির ধ্বংসযজ্ঞ কালো মানুষের লাল রক্ত আমরা দেখেছি এবার থামুন মৃত্যু দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন সিদ্ধার্থ গৃহত্যাগ করেছিলেন মৃত্যুর ভয়াবহতা দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন রাজা অশোক প্রতিদিন শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করছে যারা হে মহান জাতিসংঘ সেই মৃত্যুর সংখ্যা আর গুনবেন না। . **************** . সূচীতে . . .
তুমি যখন আমাকে খুঁজেছিলে অনলাইনে আমি তখন মেঘের আড়ালে ছিলাম বিদ্যুংরেখা হয়ে তোমাকে চমকে দিয়েছিলাম তুমি যখন আমাকে খুঁজেছিলে উদ্যানে উদ্যানে তখন আমি ফুলের পাপড়ি হয়েছিলাম তুমি স্পর্শ করেছিলে আমি ঝরে পড়েছিলাম তুমি যখন আমাকে খুঁজেছিলে ফেনিল সাগরে তখন আমি ঝিনুকের মাঝে মুক্তো হয়েছিলাম তুমি যখন আমাকে খুঁজেছিলে হোয়াটস অ্যাপে ফেসবুকে ম্যাসেন্জারে তখন আমি সুর হয়ে তোমার অন্তরে বেজেছিলাম। . **************** . সূচীতে . . .
নাট্যমঞ্চে নাটক শুরুর আগে অকস্মাৎ সাজঘরে ঢুকে পড়েছিল ইডিয়ট অভিনেতা অভিনেত্রীদের তখনও মেক-আপ করা হয়নি কুৎসিত কদাকার চেহারাগুলো সে দেখে ফেলেছিল। যখন হত্যাকান্ড চলছিল তখনও ভুলক্রমে ইডিয়ট সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল রক্তমাখা শাণিত চাকু সে দেখে ফেলেছিল। পরচুলা, মুখোশ যখন হ্যালোউইন পাটির আলো আঁধারিতে খসে পড়েছিল তখন সে খুনিকে চিনে ফেলেছিল। কাশিমবাজার কুঠির ষড়যন্ত্রের সময় সে সেখানে উপস্থিত হয়েছিল পর্দার আড়ালের সবকিছু ইডিয়ট একদিন জেনে ফেলেছিল। তখন সবাই তাকে সিজোফ্রেনিয়াক বলেছিল। . **************** . সূচীতে . . .
ধৈর্য ধরতে ধরতে এক সময় আমরা গাছ হয়ে যাবো পা দুটো শিকড় হয়ে চলে যাবে মাটির গভীরে সহ্য করতে করতে এক সময় আমরা মোমবাতির মতে নিঃশেষ হয়ে যাবো প্রতিবাদের অগ্নিশিখা জ্বলে উঠবে না আর ধৈর্য ধরতে ধরতে এক সময় অনুভূতিহীন হয়ে যাবো আমরা কোন কবিতার জন্ম হবেনা আর সহ্য করতে করতে এক সময় পৃথিবী অক্সিজেনহীন হয়ে যাবে আমরা শ্বাস নিতে পারবোনা আর তখন........................ . **************** . সূচীতে . . .
চিল উড়ে এসে মা পাখির ডানার আড়াল থেকে ছোঁ মেরে কেড়ে নেয় পাখির ছানা ক্ষুধার্ত চিলের ক্ষুধা মেটে না নিঃস্ব মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নেয় সে নদীর ভাঙনের মতো গ্রাস করে নেয় বসতভিটা দানার জন্য হাত পাততে হয় নিঃস্ব মানুষকে ক্ষুধার্ত চিলের সব চাই ক্ষমতা অর্থ প্রতিপত্তি যার যেটুকু আছে সবটুকু নিয়ে নেয় চিল সব হারানো মানুষ ক্ষতবিক্ষত হয় রক্তাক্ত হয় চিল উড়ে বেড়ায় খুঁজে বেড়ায় পাখির ছানা। . **************** . সূচীতে . . .
স্বর্ণলতার হেমলক কবি স্বাতী রহমান প্রথম প্রকাশ সাপ্তাহিক বিচিত্রা, স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ সংখ্যা, ২৫শে মার্চ ১৯৯৪।
ইভের ভেতরে ছিল ভূবন ভোলানো স্বর্ণলতা, তাই আদম নিয়েছিল স্বাদ নিষিদ্ধ ফলের। আমার স্বর্ণলতা তোমাকে জড়াতে চেয়েছিল। বিষাদাক্রান্ত সেই প্রাচীন স্বর্ণলতা, তোমার বিষাদ আকন্ঠ পান করতে চেয়েছিল। জীবন প্রেমী সেই স্বর্ণলতা, মৃত জীবন থেকে জীবন গড়তে চেয়েছিল। গৃহী সেই স্বর্ণলতা তাই, আজন্ম বাউলের কাছে ঘরের কথা বলেছিল! নির্বোধ সেই স্বর্ণলতা, বোহেমিয়ান বাঁশীওয়ালার কাছে উত্তরাধিকার চেয়েছিল। অপরূপ সেই স্বর্ণলতা, তৃষ্ণার্তের মতো পান করতে চেয়েছিল, ভালোবাসার হেমলক। . **************** . সূচীতে . . .