কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরীর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
জীবন যুদ্ধ
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রত্যূষ পর্ব। রচনাকাল ১৯৬৯। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
মৃত্যুর বোমা পড়ে, তবুও বেঁচে রয়েছি, বাঁচতে হবে,
চলেছি আমরা বাঁচবার মতো বাঁচবার অভিযানে,
দাসত্ব-বেড়ি নিয়ে উদ্যত ক্রুর নাগদল সবে --
নব ভূমিষ্ঠ তরুণ গরুড় ছোটে সূর্যের পানে!
প্রাণরস ভরা আবহের থেকে স্বেচ্ছা-নির্বাসন,
সুখের স্মৃতিরা উঁকি মারে যেন মনের এই আঙিনায়,
জরা, মারী, ভয় যতই করুক না ভীতি প্রদর্শন,
সিদ্ধার্থ যে অবিচল তার বুদ্ধের সাধনায়!
আকাশে কুটিল বিজলী-চমক, সমুদ্র নিঃসীম,
রোষে ছুটে আসে ঝটিকা পথেতে কন্টকস্তর পাতা,
প্রিয়জন সব পড়ে থাকে পিছে, মনে কালো ভারি হিম -
সত্যের সন্ধানে চলে তবু অকুন্ঠ নচিকেতা।
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রত্যূষ পর্ব। রচনাকাল ১৯৬৯। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
মৃত্যুর বোমা পড়ে, তবুও বেঁচে রয়েছি, বাঁচতে হবে,
চলেছি আমরা বাঁচবার মতো বাঁচবার অভিযানে,
দাসত্ব-বেড়ি নিয়ে উদ্যত ক্রুর নাগদল সবে --
নব ভূমিষ্ঠ তরুণ গরুড় ছোটে সূর্যের পানে!
প্রাণরস ভরা আবহের থেকে স্বেচ্ছা-নির্বাসন,
সুখের স্মৃতিরা উঁকি মারে যেন মনের এই আঙিনায়,
জরা, মারী, ভয় যতই করুক না ভীতি প্রদর্শন,
সিদ্ধার্থ যে অবিচল তার বুদ্ধের সাধনায়!
আকাশে কুটিল বিজলী-চমক, সমুদ্র নিঃসীম,
রোষে ছুটে আসে ঝটিকা পথেতে কন্টকস্তর পাতা,
প্রিয়জন সব পড়ে থাকে পিছে, মনে কালো ভারি হিম -
সত্যের সন্ধানে চলে তবু অকুন্ঠ নচিকেতা।
*********************
যৌবনমূর্তি
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রত্যূষ পর্ব। সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গীকৃত। রচনাকাল ১৯৬৯। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
মাতৃদাস্য মোচনে গরুড় অমৃতের খোঁজে ওড়ে,
হারক্যুল্সের পেষণে দানব, পশু করে প্রাণত্যাগ,
আর্তত্রাতা পার্সিউসের হাতে নিপীড়ক মরে --
এ সব শৌর্য তোমার মাঝারে মিলে হয়ে গেছে এক!
ক্ষুদ্রচেতা ও ভীরুদের ভিড়ে তুমি মহামহীয়ান,
বাঙালি-প্রাণের পরম প্রকাশ হে নায়ক, স্বাপ্নিক,
তুমি রাজ-ঋষি, হে যুগমানব, মহাভারতপথিক -
পঙ্কিল যত পল্বল মাঝে নির্ঝর বেগবান!
উদয়াচলের পথে ওই যেন শুনি তব জয়ভেরী,
হিমাচল থেকে কুমারিকা কাঁপে তব জয়নির্ঘোষে -
হে মহাসূর্য, তিমিরবিদারী উদয়ের কত দেরি !
তোমার প্রিয় এ জন্মভূমিতে আবার দাঁড়াও এসে।
বলো আজ তুমি সবাকার মহাপ্রতীক্ষা করে শেষ --
'আমার জীবনে লভিয়া জীবন জাগো রে সকল দেশ!'
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রত্যূষ পর্ব। সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গীকৃত। রচনাকাল ১৯৬৯। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
মাতৃদাস্য মোচনে গরুড় অমৃতের খোঁজে ওড়ে,
হারক্যুল্সের পেষণে দানব, পশু করে প্রাণত্যাগ,
আর্তত্রাতা পার্সিউসের হাতে নিপীড়ক মরে --
এ সব শৌর্য তোমার মাঝারে মিলে হয়ে গেছে এক!
ক্ষুদ্রচেতা ও ভীরুদের ভিড়ে তুমি মহামহীয়ান,
বাঙালি-প্রাণের পরম প্রকাশ হে নায়ক, স্বাপ্নিক,
তুমি রাজ-ঋষি, হে যুগমানব, মহাভারতপথিক -
পঙ্কিল যত পল্বল মাঝে নির্ঝর বেগবান!
উদয়াচলের পথে ওই যেন শুনি তব জয়ভেরী,
হিমাচল থেকে কুমারিকা কাঁপে তব জয়নির্ঘোষে -
হে মহাসূর্য, তিমিরবিদারী উদয়ের কত দেরি !
তোমার প্রিয় এ জন্মভূমিতে আবার দাঁড়াও এসে।
বলো আজ তুমি সবাকার মহাপ্রতীক্ষা করে শেষ --
'আমার জীবনে লভিয়া জীবন জাগো রে সকল দেশ!'
*********************
রবীন্দ্রনাথ
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রত্যূষ পর্ব। কলেজের রবীন্দ্রজয়ন্তীতে পঠিত। রচনাকাল ১৯৭০। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
জীবন স্বপ্ন ধূসর আজকে, মরু মরীচিকা মাখা,
তবু তার চোখে আমরা যে দেখি স্বপ্ন সুষমা আঁকা!
প্রাণধারণের দাম দিতে গিয়ে জীবনের পুঁজি সারা --
তবু কোথা যেন প্রাণের গভীরে বাজে তার একতারা!
থাবা দিতে গিয়ে থমকিয়ে থামে মৃত্যুর কালো হাত --
দেখি প্রাণশিখা আগলিয়ে রেখে জাগে রবীন্দ্রনাথ!
রূপনারাণ আর ধলেশ্বরীর কূলে ওঠে একই গান,
গেঁয়ো-নাগরিক, চাষা-পন্ডিত -- এক সুরে বাঁধা প্রাণ!
বাইরে যেখানে ভ্রাতৃনিধন, কেবলই নিজেকে ফাঁকি,
ভেতরে তখন সে-ই বেঁধে দেয় হাতে হাতে রাঙা রাখি!
ভয়াল শ্মশানে নেমেছে যখন কৃষ্ণ করাল রাত --
অতন্দ্র জাগে অভয়-মশাল হাতে রবীন্দ্রনাথ!
দুটি প্রাণ মেশে যবে একসাথে, আবেগে রুদ্ধ বাণী,
তারই তো সে ভাষা শতস্বরে বাজে তাদের কন্ঠে জানি!
রুদ্ধ প্রহরে নি-সঙ্গ প্রাণ গুমরিয়ে যবে মরে,
তারই উৎস তো চেতনা-বৃন্তে ঝর্ণা সৃষ্টি করে!
যখন শুধুই অস্বীকার আর মতবাদ সংঘাত,
বাঙালির প্রাণে রাজত্ব করে একা রবীন্দ্রনাথ!
মহাকাশ হতে মহাসমুদ্রে বাজে যে ঐকতান,
তৃণফুল ও তারা যে সুরেতে বাঁধা, সে যে সে-কবিরই গান!
অসীমে-সীমায় চিরসত্ত্বার বয় যে মহতী ধারা,
যেন সেই সুরে শুনি অবিরাম বাজে তার একতারা!
প্রাণে যবে জাগে মহাবুভুক্ষা, নামে অভিসম্পাত --
জীবনের সুধা অঞ্জলি ভরে আনে রবীন্দ্রনাথ!
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রত্যূষ পর্ব। কলেজের রবীন্দ্রজয়ন্তীতে পঠিত। রচনাকাল ১৯৭০। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
জীবন স্বপ্ন ধূসর আজকে, মরু মরীচিকা মাখা,
তবু তার চোখে আমরা যে দেখি স্বপ্ন সুষমা আঁকা!
প্রাণধারণের দাম দিতে গিয়ে জীবনের পুঁজি সারা --
তবু কোথা যেন প্রাণের গভীরে বাজে তার একতারা!
থাবা দিতে গিয়ে থমকিয়ে থামে মৃত্যুর কালো হাত --
দেখি প্রাণশিখা আগলিয়ে রেখে জাগে রবীন্দ্রনাথ!
রূপনারাণ আর ধলেশ্বরীর কূলে ওঠে একই গান,
গেঁয়ো-নাগরিক, চাষা-পন্ডিত -- এক সুরে বাঁধা প্রাণ!
বাইরে যেখানে ভ্রাতৃনিধন, কেবলই নিজেকে ফাঁকি,
ভেতরে তখন সে-ই বেঁধে দেয় হাতে হাতে রাঙা রাখি!
ভয়াল শ্মশানে নেমেছে যখন কৃষ্ণ করাল রাত --
অতন্দ্র জাগে অভয়-মশাল হাতে রবীন্দ্রনাথ!
দুটি প্রাণ মেশে যবে একসাথে, আবেগে রুদ্ধ বাণী,
তারই তো সে ভাষা শতস্বরে বাজে তাদের কন্ঠে জানি!
রুদ্ধ প্রহরে নি-সঙ্গ প্রাণ গুমরিয়ে যবে মরে,
তারই উৎস তো চেতনা-বৃন্তে ঝর্ণা সৃষ্টি করে!
যখন শুধুই অস্বীকার আর মতবাদ সংঘাত,
বাঙালির প্রাণে রাজত্ব করে একা রবীন্দ্রনাথ!
মহাকাশ হতে মহাসমুদ্রে বাজে যে ঐকতান,
তৃণফুল ও তারা যে সুরেতে বাঁধা, সে যে সে-কবিরই গান!
অসীমে-সীমায় চিরসত্ত্বার বয় যে মহতী ধারা,
যেন সেই সুরে শুনি অবিরাম বাজে তার একতারা!
প্রাণে যবে জাগে মহাবুভুক্ষা, নামে অভিসম্পাত --
জীবনের সুধা অঞ্জলি ভরে আনে রবীন্দ্রনাথ!
*********************
জীবনানন্দ দাশ
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রত্যূষ পর্ব। রচনাকাল ১৯৭০। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
বাংলার মুখ তুমি দেখেছিলে বলে আর খোঁজনি যে পৃথিবীর রূপ,
ঘুরেছ যে ফুল্লমনে দায়হীন বালকের মতো শুধু মধুকূপী ঘাসে,
জলঙ্গীর তীরে তীরে কলমির লতা ছিঁড়ে বিশালাক্ষী মন্দিরের পাশে
তোমাকে দেখেছি আমি, ঘুমিয়ে রয়েছ যেন মা'র কোলে নিশ্চিন্ত নিশ্চুপ!
হিজলে জারুলে ঘেরা কোনো গাঁয়ে, যেই খানে ভাসে রামপ্ৰসাদের গান,
যেখানে সন্ধ্যা নামে - রূপসীর এলোচুল, পানকৌড়ি যেখানে উড়ে যায়,
শঙ্খমালা বেহুলারা অতীতের গর্ভ থেকে উঠে এসে করে যায় স্নান --
সেই ধানসিঁড়ি-তীরে তোমাকে দেখেছি ফিরে এসেছ যেন এ বাঙলায়!
কার্তিকের পূর্ণিমায় যখন পড়েছে আলো এই শ্যামা বাংলার বুকে,
বেজেছে সন্ধ্যাশঙ্খ, শুনেছি ঘুঙুর বাজে বাঙলার কিশোরীর পায়ে,
তোমাকে দেখেছি আমি। যখন ধূসর হয়ে আবছায়া ঘনিয়েছে মনে,
ইতিহাস-পাণ্ডুলিপি থেকে জন্ম নিয়ে আমার আত্মা যে কেঁদেছে নির্জনে -
তোমাকে পেয়েছি আমি, নির্জনতার কবি! আজ ক্লান্ত প্রাণের কুলায়ে;
আমার মনের যত অসংলগ্ন প্রলাপেরা গান হল পাণ্ডুলিপি শুঁকে!
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রত্যূষ পর্ব। রচনাকাল ১৯৭০। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
বাংলার মুখ তুমি দেখেছিলে বলে আর খোঁজনি যে পৃথিবীর রূপ,
ঘুরেছ যে ফুল্লমনে দায়হীন বালকের মতো শুধু মধুকূপী ঘাসে,
জলঙ্গীর তীরে তীরে কলমির লতা ছিঁড়ে বিশালাক্ষী মন্দিরের পাশে
তোমাকে দেখেছি আমি, ঘুমিয়ে রয়েছ যেন মা'র কোলে নিশ্চিন্ত নিশ্চুপ!
হিজলে জারুলে ঘেরা কোনো গাঁয়ে, যেই খানে ভাসে রামপ্ৰসাদের গান,
যেখানে সন্ধ্যা নামে - রূপসীর এলোচুল, পানকৌড়ি যেখানে উড়ে যায়,
শঙ্খমালা বেহুলারা অতীতের গর্ভ থেকে উঠে এসে করে যায় স্নান --
সেই ধানসিঁড়ি-তীরে তোমাকে দেখেছি ফিরে এসেছ যেন এ বাঙলায়!
কার্তিকের পূর্ণিমায় যখন পড়েছে আলো এই শ্যামা বাংলার বুকে,
বেজেছে সন্ধ্যাশঙ্খ, শুনেছি ঘুঙুর বাজে বাঙলার কিশোরীর পায়ে,
তোমাকে দেখেছি আমি। যখন ধূসর হয়ে আবছায়া ঘনিয়েছে মনে,
ইতিহাস-পাণ্ডুলিপি থেকে জন্ম নিয়ে আমার আত্মা যে কেঁদেছে নির্জনে -
তোমাকে পেয়েছি আমি, নির্জনতার কবি! আজ ক্লান্ত প্রাণের কুলায়ে;
আমার মনের যত অসংলগ্ন প্রলাপেরা গান হল পাণ্ডুলিপি শুঁকে!
*********************
আজ কলকাতা
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রত্যূষ পর্ব। রচনাকাল ১৯৭০। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
আজকের এই কলকাতাকে কি চিনতে পেরেছ কেউ –
দিবসে প্যাঁচার ডাক যার বুকে শেয়ালের চিৎকার,
গলিতে পথেতে প্রাঙ্গনে ওঠে বাড়বানলের ঢেউ,
মাটির তলায় ভিসুভিয়াসের আক্রোশ সোচ্চার!
পথে পথে আজ বেড়াচ্ছে ঘুরে অন্ধকারের সেনা,
শিকার তাদের সোনার ছেলেরা কপালে রক্তটীকা।
প্রকাশ্যে আজ আত্মার এই নির্লাজ বেচাকেনা—
তুলসীতলায় বধূর হাতে যে কেঁপে ওঠে দীপশিখা!
বুঝেছ কি আজ কী খেলায় মেতে উঠেছে এ কলকাতা ?
রূপসী কি আজ শ্বাপদের হাতে স্বেচ্ছাপণ্যা, ভ্রষ্টা?
কিংবা দেশের হৃৎপিণ্ডেতে যে আজ অধিষ্ঠিতা,
শবসাধনায় মেতেছে কি তবে তাকে নিয়ে তার স্রষ্টা!
স্বয়ংবরা কি হবে সুন্দরী কিংবা জহরব্রতা,
মরণ-মহোৎসবের চিহ্ন এঁকে চলে নভে উল্কা --
কে বা আছো বীর! স্বয়ম্বরা যে হবে আজ কলকাতা,
সহমরণের আগে একবার হবে সে বীর্যশুল্কা!
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রত্যূষ পর্ব। রচনাকাল ১৯৭০। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
আজকের এই কলকাতাকে কি চিনতে পেরেছ কেউ –
দিবসে প্যাঁচার ডাক যার বুকে শেয়ালের চিৎকার,
গলিতে পথেতে প্রাঙ্গনে ওঠে বাড়বানলের ঢেউ,
মাটির তলায় ভিসুভিয়াসের আক্রোশ সোচ্চার!
পথে পথে আজ বেড়াচ্ছে ঘুরে অন্ধকারের সেনা,
শিকার তাদের সোনার ছেলেরা কপালে রক্তটীকা।
প্রকাশ্যে আজ আত্মার এই নির্লাজ বেচাকেনা—
তুলসীতলায় বধূর হাতে যে কেঁপে ওঠে দীপশিখা!
বুঝেছ কি আজ কী খেলায় মেতে উঠেছে এ কলকাতা ?
রূপসী কি আজ শ্বাপদের হাতে স্বেচ্ছাপণ্যা, ভ্রষ্টা?
কিংবা দেশের হৃৎপিণ্ডেতে যে আজ অধিষ্ঠিতা,
শবসাধনায় মেতেছে কি তবে তাকে নিয়ে তার স্রষ্টা!
স্বয়ংবরা কি হবে সুন্দরী কিংবা জহরব্রতা,
মরণ-মহোৎসবের চিহ্ন এঁকে চলে নভে উল্কা --
কে বা আছো বীর! স্বয়ম্বরা যে হবে আজ কলকাতা,
সহমরণের আগে একবার হবে সে বীর্যশুল্কা!
*********************
চিরসখা
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রত্যূষ পর্ব। রচনাকাল ১৯৭২। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
হঠাৎ একটু অবসর পেয়ে যেই
স্বপ্ন রথের শিথিল করেছি রাশ,
অতীতকে ভুলে অধুনার উৎসবে
রচনা করেছি অবারিত উল্লাস --
এমন সময় দুয়ারেতে তুমি এলে,
দুর্বাসা-স্বরে বললে 'দুয়ার খোল' --
পরুষ হাতের আঘাত পড়লো খিলে
আমার আলোর আকাশ ধূসর হল!
তোমার কঠোর আঘাতে ভাঙল খিল --
আবার তোমার সাথে হল আজ দেখা!
তুমি আসো নিয়ে বেদনায় পঙ্কিল
আঁধার রাতের হতাশার দীপশিখা,
এই বেশে তুমি এসেছ আমার কাছে
আজ শুধু নয়, বহুবার বারে বারে,
জানি তোমার হাতে যে প্রদীপশিখা আছে,
নয় মঙ্গলদীপ মন্দির-দ্বারে!
সে প্রদীপ শুধু আগুন ধরাতে জানে
আমার শুকনো খড়ের ঘরের চালে,
জানি প্রসন্ন দৃষ্টি তোমার আনে
লাভাস্রোত দাহ ভরা শ্রাবণের ঢালে!
তবু বারবার স্বর্গ রচি যে কেন
ক্ষণিক আবেশে তোমার সখ্য ভুলে!
এ আশিস কর সুখের রাতেও যেন
তোমারই জন্য রাখি গো দুয়ার খুলে!
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রত্যূষ পর্ব। রচনাকাল ১৯৭২। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
হঠাৎ একটু অবসর পেয়ে যেই
স্বপ্ন রথের শিথিল করেছি রাশ,
অতীতকে ভুলে অধুনার উৎসবে
রচনা করেছি অবারিত উল্লাস --
এমন সময় দুয়ারেতে তুমি এলে,
দুর্বাসা-স্বরে বললে 'দুয়ার খোল' --
পরুষ হাতের আঘাত পড়লো খিলে
আমার আলোর আকাশ ধূসর হল!
তোমার কঠোর আঘাতে ভাঙল খিল --
আবার তোমার সাথে হল আজ দেখা!
তুমি আসো নিয়ে বেদনায় পঙ্কিল
আঁধার রাতের হতাশার দীপশিখা,
এই বেশে তুমি এসেছ আমার কাছে
আজ শুধু নয়, বহুবার বারে বারে,
জানি তোমার হাতে যে প্রদীপশিখা আছে,
নয় মঙ্গলদীপ মন্দির-দ্বারে!
সে প্রদীপ শুধু আগুন ধরাতে জানে
আমার শুকনো খড়ের ঘরের চালে,
জানি প্রসন্ন দৃষ্টি তোমার আনে
লাভাস্রোত দাহ ভরা শ্রাবণের ঢালে!
তবু বারবার স্বর্গ রচি যে কেন
ক্ষণিক আবেশে তোমার সখ্য ভুলে!
এ আশিস কর সুখের রাতেও যেন
তোমারই জন্য রাখি গো দুয়ার খুলে!
*********************
তুমি চলে গেলে বলে
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রভাত পর্ব। রচনাকাল ১৯৭২। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
তুমি চলে গেছ,
করুণ চোখের নম্র চাউনিটুকু রেখে গেছ শুধু --
সূর্য ডুবলে মৌন অবসন্ন বিকেলে
যেমন বিছিয়ে থাকে ঠাণ্ডা ছায়ার আঁচল!
তুমি চলে গেলে, তাই
বুঝতে পারছি শূন্যতাও কত ছন্দোময়, নৈঃশব্দ্যও এত অর্থব্যঞ্জক!
চোখ বুজলে এবং না বুজলেও
দেখতে পাই তোমার পাতলা ঠোঁটের কেঁপে ওঠা...
বলতে চেয়ে থমকে যাওয়ার আবেগে,
দেখতে পাই তোমার মুখের অদ্ভুত আলো-আঁধারি।
তুমি চলে গেলে বলে
বুঝতে পেরেছি স্মৃতির সুরভি কেন বলা হয়,
কেন না সে স্মৃতি মদির করেছে আমার প্রহর!
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রভাত পর্ব। রচনাকাল ১৯৭২। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
তুমি চলে গেছ,
করুণ চোখের নম্র চাউনিটুকু রেখে গেছ শুধু --
সূর্য ডুবলে মৌন অবসন্ন বিকেলে
যেমন বিছিয়ে থাকে ঠাণ্ডা ছায়ার আঁচল!
তুমি চলে গেলে, তাই
বুঝতে পারছি শূন্যতাও কত ছন্দোময়, নৈঃশব্দ্যও এত অর্থব্যঞ্জক!
চোখ বুজলে এবং না বুজলেও
দেখতে পাই তোমার পাতলা ঠোঁটের কেঁপে ওঠা...
বলতে চেয়ে থমকে যাওয়ার আবেগে,
দেখতে পাই তোমার মুখের অদ্ভুত আলো-আঁধারি।
তুমি চলে গেলে বলে
বুঝতে পেরেছি স্মৃতির সুরভি কেন বলা হয়,
কেন না সে স্মৃতি মদির করেছে আমার প্রহর!
*********************
স্মৃতির ছবিকে
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রভাত পর্ব। রচনাকাল ১৯৭৩। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
তুমি এসেছিলে, তারপর চলেও গিয়েছিলে --
তারপর কেটে গেল কতকাল....
তোমার সেসব স্মৃতি আজ আর সাম্প্রতিক নয় মোটেও।
শুধু বছরের বিভিন্ন উপলক্ষগুলো হাজির হয়ে
স্মরণ করায় বছরের এসব উপলক্ষকে,
আর অনিবার্যভাবে তার সাথে তোমার স্মৃতি
নেমে এসে আচ্ছন্ন করে আমাকে...
সেই যে এসেছিলে, আর আসোনি তারপর,
চর্মচোখে আর কোনোদিন দেখাও হবে না খুব সম্ভব
তবু সে বিন্দুপ্রমাণ স্মৃতিই যথেষ্ট
আমার ডুব দেবার সিন্ধু সৃষ্টি করবার জন্য!
সেই একবারের দেখা তুমিই কীরকম
স্থির হয়ে জেগে আছ বছরগুলোর স্মৃতিস্তূপের ওপারে,
জমাট কুয়াশা ভেদকরে যেমন জাগে আকাশের তারা.....
সেই ভাল। মাত্র একবারের দেখা
তোমার সেই ছবিই জাগ্রত থাক আমার আকাশে,
কারণ তাকে তো কেউ কেড়ে নিতে পারবেনা আমার থেকে !
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রভাত পর্ব। রচনাকাল ১৯৭৩। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
তুমি এসেছিলে, তারপর চলেও গিয়েছিলে --
তারপর কেটে গেল কতকাল....
তোমার সেসব স্মৃতি আজ আর সাম্প্রতিক নয় মোটেও।
শুধু বছরের বিভিন্ন উপলক্ষগুলো হাজির হয়ে
স্মরণ করায় বছরের এসব উপলক্ষকে,
আর অনিবার্যভাবে তার সাথে তোমার স্মৃতি
নেমে এসে আচ্ছন্ন করে আমাকে...
সেই যে এসেছিলে, আর আসোনি তারপর,
চর্মচোখে আর কোনোদিন দেখাও হবে না খুব সম্ভব
তবু সে বিন্দুপ্রমাণ স্মৃতিই যথেষ্ট
আমার ডুব দেবার সিন্ধু সৃষ্টি করবার জন্য!
সেই একবারের দেখা তুমিই কীরকম
স্থির হয়ে জেগে আছ বছরগুলোর স্মৃতিস্তূপের ওপারে,
জমাট কুয়াশা ভেদকরে যেমন জাগে আকাশের তারা.....
সেই ভাল। মাত্র একবারের দেখা
তোমার সেই ছবিই জাগ্রত থাক আমার আকাশে,
কারণ তাকে তো কেউ কেড়ে নিতে পারবেনা আমার থেকে !
*********************
আজ আবার দিল্লি চলো
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রভাত পর্ব। স্বাধীনতার পঁচিশ বছরে কেন্দ্র সরকারের রচিত ভারতের 'ইতিহাস' সম্বলিত কালাধারে ভূগর্ভে স্থাপন, ইন্দিরা সরকারের জরুরি অবস্থা ঘোষণা ইত্যাদির প্রতিক্রিয়ায় নেতাজি সুভাষচন্দ্রের আহ্বান স্মরণে। রচনাকাল ১৯৭৭। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
আরেকটি অভিযান দরকার দিল্লির দিকে --
কারণ সেখানে আজও পুঞ্জীভূত মত্ত স্বেচ্ছাচার,
ক্ষমতা বদল শুধু, মসনদ ঠিকই আছে টিঁকে,
দূর অস্ত্ তাই আজও নয়া রাজধানীর প্রাকার!
সে প্রাকারে আজও এসে ধাক্কা দেয় তপ্ত দীর্ঘশ্বাস
প্রপীড়িত ভারতের, সে প্রাকার ধ্বংস হয়ে যাক --
এই প্রার্থনায় আজও ষাট কোটি প্রাণ গোনে মাস,
উৎকর্ণ নতুন করে শুনতে সে 'চলো দিল্লি' ডাক!
সে প্রাচীন ইন্দ্রপ্রস্থে আজও দেখি করে কিলবিল
বিষধর সাপ যত নিজের বিষের যন্ত্রণায়,
সতত ছোবল দিয়ে পরিবেশ করে তোলে নীল --
ভাস্বর সে শিখাকে ঢাকা দিতে মগ্ন মন্ত্রণায়!
সে শিখা যে অনির্বাণ, যুগে যুগে জ্বলে ওঠে সে যে,
ক্ষমতাদর্পের ছাই পারে না তো তাকে চাপা দিতে --
রুদ্ধশ্বাস জনতার কানে তাই আজও ওঠে বেজে :-
'দিল্লি চলো' -- দোলা দেয় অবরুদ্ধ বক্ষের শোণিতে।
অমর সে দীপ্ত প্রাণ ব্যর্থ মৃত্যুকাহিনী প্রচার,
নিন্দা, কুৎসা, স্বেচ্ছাকৃত অবহেলা, বিস্মৃতিবিলাস
ভৃগুর পায়ের মতো আঁকা দৃঢ়-মুঠি-ছাপ তার
জনতার বুকে, তাই মদগর্বীর মনে ত্রাস।
যতই আত্মম্ভরী 'কালাধার', স্বঘোষিত কীর্তি নিজেদের--
সে আগুন আজও জ্বলে ইতিহাস-পাতার আড়ালে,
নয়াদিল্লিতে নয়া অভিযান মহাভারতের
আজ নয় কাল হবেই। কাকে ভয় সে এসে দাঁড়ালে!
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রভাত পর্ব। স্বাধীনতার পঁচিশ বছরে কেন্দ্র সরকারের রচিত ভারতের 'ইতিহাস' সম্বলিত কালাধারে ভূগর্ভে স্থাপন, ইন্দিরা সরকারের জরুরি অবস্থা ঘোষণা ইত্যাদির প্রতিক্রিয়ায় নেতাজি সুভাষচন্দ্রের আহ্বান স্মরণে। রচনাকাল ১৯৭৭। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
আরেকটি অভিযান দরকার দিল্লির দিকে --
কারণ সেখানে আজও পুঞ্জীভূত মত্ত স্বেচ্ছাচার,
ক্ষমতা বদল শুধু, মসনদ ঠিকই আছে টিঁকে,
দূর অস্ত্ তাই আজও নয়া রাজধানীর প্রাকার!
সে প্রাকারে আজও এসে ধাক্কা দেয় তপ্ত দীর্ঘশ্বাস
প্রপীড়িত ভারতের, সে প্রাকার ধ্বংস হয়ে যাক --
এই প্রার্থনায় আজও ষাট কোটি প্রাণ গোনে মাস,
উৎকর্ণ নতুন করে শুনতে সে 'চলো দিল্লি' ডাক!
সে প্রাচীন ইন্দ্রপ্রস্থে আজও দেখি করে কিলবিল
বিষধর সাপ যত নিজের বিষের যন্ত্রণায়,
সতত ছোবল দিয়ে পরিবেশ করে তোলে নীল --
ভাস্বর সে শিখাকে ঢাকা দিতে মগ্ন মন্ত্রণায়!
সে শিখা যে অনির্বাণ, যুগে যুগে জ্বলে ওঠে সে যে,
ক্ষমতাদর্পের ছাই পারে না তো তাকে চাপা দিতে --
রুদ্ধশ্বাস জনতার কানে তাই আজও ওঠে বেজে :-
'দিল্লি চলো' -- দোলা দেয় অবরুদ্ধ বক্ষের শোণিতে।
অমর সে দীপ্ত প্রাণ ব্যর্থ মৃত্যুকাহিনী প্রচার,
নিন্দা, কুৎসা, স্বেচ্ছাকৃত অবহেলা, বিস্মৃতিবিলাস
ভৃগুর পায়ের মতো আঁকা দৃঢ়-মুঠি-ছাপ তার
জনতার বুকে, তাই মদগর্বীর মনে ত্রাস।
যতই আত্মম্ভরী 'কালাধার', স্বঘোষিত কীর্তি নিজেদের--
সে আগুন আজও জ্বলে ইতিহাস-পাতার আড়ালে,
নয়াদিল্লিতে নয়া অভিযান মহাভারতের
আজ নয় কাল হবেই। কাকে ভয় সে এসে দাঁড়ালে!
*********************
স্মৃতির প্রলাপ
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রভাত পর্ব। 'প্রতিশ্রুতি' পত্রিকায় প্রকাশিত। রচনাকাল ১৯৭৫। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
তন্দ্রাসাগর ছড়িয়ে আছে আঁধার-আলোয় গড়া,
তার মাঝেতে পুঞ্জপুঞ্জ স্মৃতির যেন দ্বীপ,
ভাসতে গিয়ে সেই সাগরে দ্বীপের নাগাল পেলে
বুঝতে পারি বইছে তলায় অশ্রু-জলধারা !
যখন আমার মনের আকাশ স্মৃতির মেঘে ভার,
স্মৃতির স্তূপের আড়াল থেকে তোমারই সে মুখ
ক্ষণপ্রভার মতো যেন ঝিলিক মেরে যায়-
মনের ভেতর ক্ষরিত হয় -করুণ কৃতজ্ঞতা।
স্মৃতি বিষম বালাই, আবার স্মৃতিই পরশমণি,
তাই তো তুমি বুকের মাঝে কাঁটার মতো বেঁধো,
আমার কাছে এসেছিলে –ভেবেই ক্ষত প্রাণে,
তুমিই আবার ভরিয়ে রাখো আমার কাঙাল প্রাণ!
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রভাত পর্ব। 'প্রতিশ্রুতি' পত্রিকায় প্রকাশিত। রচনাকাল ১৯৭৫। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
তন্দ্রাসাগর ছড়িয়ে আছে আঁধার-আলোয় গড়া,
তার মাঝেতে পুঞ্জপুঞ্জ স্মৃতির যেন দ্বীপ,
ভাসতে গিয়ে সেই সাগরে দ্বীপের নাগাল পেলে
বুঝতে পারি বইছে তলায় অশ্রু-জলধারা !
যখন আমার মনের আকাশ স্মৃতির মেঘে ভার,
স্মৃতির স্তূপের আড়াল থেকে তোমারই সে মুখ
ক্ষণপ্রভার মতো যেন ঝিলিক মেরে যায়-
মনের ভেতর ক্ষরিত হয় -করুণ কৃতজ্ঞতা।
স্মৃতি বিষম বালাই, আবার স্মৃতিই পরশমণি,
তাই তো তুমি বুকের মাঝে কাঁটার মতো বেঁধো,
আমার কাছে এসেছিলে –ভেবেই ক্ষত প্রাণে,
তুমিই আবার ভরিয়ে রাখো আমার কাঙাল প্রাণ!
*********************
