কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরীর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরীর পরিচিতির পাতায় . . .
অচিন্ত্যকুমার
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রভাত পর্ব। 'সাহিত্য সেতু' পত্রিকায় প্রকাশিত। রচনাকাল ১৯৭৬। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।

কি আশ্চর্য অভ্যুদয়, জ্বালাময় তীব্রদ্যুতি, বেগবান আত্ম-উদ্ঘাটন,
বঙ্গভারতীর আকাশে বিদ্রোহের ধ্বজাধারী ‘নীহারিকা’ স্নিগ্ধ সমুজ্জল,
জৈবতার দৃঢ়মুষ্টি হেনে তুমি সংস্কারের বন্ধদ্বারে জাগালে কম্পন,
আদিত্যের অভিসারে যাত্রা যেন গরুড়ের - নবজাত, কিন্তু মহাবল!

কেবল আলোর খেলা, শুধুই ফুলের গন্ধ – জগতের অর্দ্ধস্ফুট ছবি –
সে ভুবনে এলে তুমি বাস্তবের বাণীদূত - পূর্ণ জীবনের রূপকার,
আনন্দে মেশালে ব্যথা, প্রত্যাশায় অভিমান, ক্লেদ-দৈন্য রূপ দিলে সবই,
যুগাগত অন্ধকারে শোনালে নূতন গান দীপ জ্বেলে 'অমাবস্যা'র।

নবীন গঙ্গার যত পথিকৃৎ ভগীরথ - অগ্রপথিক তুমি তার,
মেললে সবল পাখা ‘নীল আকাশে', দেখে নিলে চোখ মেলে ‘প্রিয়া ও পৃথিবী',
রসের 'কল্লোলে' ভেসে ক্রমশ আত্মস্থ হলে সুগভীর মূলে পরমার,
বিদ্রোহী জৈবতার গন্ধ মুছে গিয়ে সুপ্রকট হল সেই 'আজন্ম সুরভি'!
কত না অচিন্ত্য পথে অভিযান, উত্তরণ, একই সত্যে 'শতরূপে দেখা’ –
রূপদক্ষ, চারুবাক গন্ধর্ব যেন বা এক, অচঞ্চল পূজারী ভূমার,
বর্ণাঢ্য দীপ্তিতে ঘেরা তোমার জীবন যেন তীক্ষ্ণ ঋজু রেখা টেনে লেখা
স্বয়ং এক ইতিহাস, আজীবন হে নায়ক, লোককান্ত অচিন্ত্যকুমার!

*********************









*
হিরণ্ময়ী নীরবতা
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রভাত পর্ব। সংস্কৃত ছন্দের অনুসরণে। রচনাকাল ১৯৭৬। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।

যন্ত্রণার রক্তে সিক্ত হৃদয়ের ক্লান্ত মখমল --
কী কাজ রুক্ষ পদ-ঘা'য় সেখানে আলোড়ন তুলবার ;
হতাশার ভগ্ন অবশেষ ভরেছে আজ যদি হৃদিতল,
প্রত্যাঘাত-লিপ্সায় ক্ষি কী লাভ সেই রাগে ফুঁসবার!

তিক্ততার এতে নেই ক্ষয়, বরং বৃদ্ধিই সম্ভব --
যদি বা ছিঁড়ে গেছে বীণা-তার, তখনই কেন তাতে ঝঙ্কার!
সময়ই সব সেরা জাদুকর, শূন্যগর্ভ যে কলরব,
মৌনতাই হল উপাদান, যা দিয়ে সোনা গড়ে কারুকার!

হৃদয়-হ্রদে যদি বিক্ষোভ, বৃথাই কথা দিয়ে তোল যে ঢেউ,
ওষ্ঠে নিলে কটু যে আসব, থিতিয়ে যেতে দাও কটুতা তার --
বন্ধ হয়ে গেছে যে-দুয়ার, হেনো না বৃথা কর সেখানে কেউ,
শান্তিতে থাকলে নিশ্চুপ হয়তো কখনো খুলে যাবে সে দ্বার!

বিদ্রুপের ক্ষণিক উত্তেজ, বচসার মোহ সে দুর্দম --
বৃথা সে প্রলোভন শান্তির -- চিত্ত হয় তাতে চঞ্চল।
কিন্তু নীরবতা স্বর্ণিম, সেই তো নিরুপম সম্পদ –
তপ্ত সব শ্রান্ত বক্ষে বোলায় সুশীতল অঞ্চল!

*********************









*
ভিন্ন হৃদয়
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
প্রভাত পর্ব। 'রবীন্দ্রনাথ' পত্রিকায় প্রকাশিত। রচনাকাল ১৯৭৬। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।

আনন্দেরই মাতাল হাওয়া
যখন এসে পাগল পারা
ছোট্ট বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে,
তখন ভাবি ভাগ্য আমার
কম না নেহাৎ। এই ভয়ও হয়--
ছোট্ট বুকের উপচে কানা
এই আনন্দ উছলে পড়ে,
তাইতো আসি তাড়াতাড়ি
তোমার কাছে, তোমার কাছেই -
উপচে পড়া খুশির যাতে
ভাগ তোমায়ও দিতে পারি -
ছোট্ট বুকে ধরবে না যে !

যন্ত্রণার ওই তীক্ষ্ণ কাঁটা
যখন বেঁধে বুকের মাঝে
(হয়তো সেটা তুমি বেঁধাও),
অসহ্য সেই মোচড় খেয়ে
ভাবি হতভাগ্য আমিই।
কিন্তু বিশাল করে রাখি
যথাসাধ্য বুকটা আমার
(ব্যথাই বুকের প্রসার ঘটায়)।
তাইতো ঘুরে আসি আবার
তোমার কাছে তোমার কাছেই -
আমার ব্যাথা নেবার পরও
তোমারটাও ধরতে বুকে!

*********************









*
ইস্পাতী বসন্ত
নিদাঘ পর্ব। ইস্পাত কারখানার অভ্যন্তরে। 'আরণ্যক' পত্রিকায় প্রকাশিত। রচনাকাল ১৯৭৭। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।

ধরার জঠর থেকে ছেনে এনে অন্ধ আকরিক
এইখানে বিশ্বকর্মা গড়ে চলে শৈল্পিক সুষমা,
মানবতা এইখানে ধাতবতা পায় প্রাত্যহিক,
গলিত খনিজে কত অশ্রু রক্ত ঘর্ম হয় জমা।

এখানে মরুৎ চুল্লি উগরে দেয় ইস্পাতের দাহ,
বাষ্প-ভেঁপু অহরহ উৎকট চিৎকার করে চলে -
তবু ছুটে ঢুকে পড়ে পলাতক মলয় প্রবাহ,
'মধুমাস' 'মধুমাস' কানে কানে ফিসফিস বলে।

এখানে ধোঁয়ায় প্রায়ই মলিন হয় বাহির-ভিতর,
যন্ত্রদানব করে গর্জন নিশুতি প্রহরে,
তবু দেখি শিরীষের ডালে লাগে কিসের শিহর--
স্বাতী নক্ষত্রের অশ্রু ঝরে পড়ে ঘাসের ওপরে।

এখানে ওভারহেড ক্রেন চলে কর্কশ আওয়াজে,
ইস্পাত পসরা বয়ে ওয়াগন ছোটে দূর দেশে --
রোলিং বা শীয়ারিং স্তব্ধ হলে ফাঁক পড়ে কাজে
শ্রমিক মেয়ের কন্ঠে টুসু গান আসে ঠিক ভেসে!

এখানে আকাশ-ফোঁড়া ধুম্রমুখ চিমনির পাশে,
কালপুরুষ উঁকি মেরে নিচের পৃথিবী দেখে নেয় --
এখানেও মাঝে মাঝে বসন্ত বাতাস মৃদুশ্বাসে
গাছের পাতায় তার অজস্র দাক্ষিণ‍্য ভরে দেয়।

*********************









*
বন্ধুর চিঠি
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। রচনাকাল ১৯৭৭। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।

দেখেছি ফ্যাকাশে সূর্য চোখ মেলে অকালের দিনে,
চেতনায় সেই থেকে সে ছবিই ছাপা হয়ে আছে,
টকটকে হয়ে যদি ওঠে, পারি নাকো নিতে চিনে-
হারাতেই অভ্যস্ত থাকি, প্রাপ্তি গৌণ আমাদের কাছে।

অকালের শিশু যারা ছড়ানো ছেটানো দ্বীপ হয়ে
বেঁচে আছি, বলা ভালো - না বাঁচাটা ঠেকিয়ে রেখেছি,
পুঞ্জ পুঞ্জ অন্ধকার জমা করি সযত্ন সঞ্চয়ে,
শিরদাঁড়া সোজা রেখে সে সম্পদে স্তূপ বানিয়েছি।

জানি না, তবুও সেই অন্ধকার ফুটো করে করে
আলোকের কারুকার্য সৃষ্টি করা ছাড়া অন্য কিছু
কী আর করতে পারি! যত নিই ঝুলি ভরে ভরে
অন্ধকার - আলোকে স্বপ্ন তবু ছাড়ে না যে পিছু!

অন্ধকারে মূহ্যমান, হঠাৎ বন্ধুর চিঠি আসে -
আবার বুঝতে পারি, আরো আছে অকালের শিশু,
আমাদের অশ্রু-স্মৃতি মদির হয় গোলাপের বাসে
সান্ত্বনা-প্রলেপ কাঁধে ক্রুশ বয়ে ফের চলে যীশু!

পিছু হটা, ঢোক গেলা, বিবিক্ত ও তিক্ত সমাচার,
স্বপ্ন সৌধ চূর্ণ করে চিঠিতেও হাসে যে অকাল --
সেটাই যে সঞ্জীবনী, বিগ্রহশিল্পী এ আমার
পেশীতে বিদ্যুৎ জাগে, তুলে নিই আঁধারের তাল।

*********************









*
আত্মদীপ
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। রচনাকাল ১৯৭৭। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।

সমুদ্রের লোনা হাওয়া কটা গাছ সইতে পারে হে!
দেখলাম কালে কালে পপাত সকল মহীরুহু,
সম্প্রতি এ ফুসফুস ভরে আছে প্রখর সন্দেহে --
নিশানা রাখার মতো বৃক্ষ পাওয়া হবে যে দুরূহ!
বিগ্রহেরা ভেঙে গেল, ধুয়ে মুছে গেল রং চং,

মেলল বিবর্ণ খড় সহজেই। ঐতিহ্য প্রেমটা
চটে গেল দেখে এই দেবতার জায়গায় সং -
ধ্রুপদী নৃত্যের মঞ্চে দেখা গেল নির্লজ্জ খেমটা।
বিষ হাওয়ায় ভারী বুক ভেবে মরি অবেলার সাঁঝে,
কোথায় শেকড় মেলি, কার আলোতে যাব এত দূর,
নিজেই দেখি না দিশা, কী দেখাব অনুজ-সমাজে --
নিবিদের তৃষ্ণা নিয়ে কান পেতে শুনেছি খেউড়!
এরকম অবস্থায় যেন কোন গভীরে বুকের
শাক্যমুনি বললেন, 'নিজে হও প্রদীপ নিজের'!

*********************









*
ভীরু বন্ধুকে
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। রচনাকাল ১৯৭৮। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।

কেবলই তুই কুঁকড়ে গেলি, পিছিয়ে গেলি ভয়ে,
হোঁচট খেলি জানা এবং অজানা সংশয়ে,
স্বপ্নে যে তুই ছিলি আমার বিদ্যুৎবল্লরী --
ফুটল না সেই স্বপ্নে দেখা কুঁড়ি
        ব্যর্থ কালক্ষয়ে!

আর কতদিন মুখোশ পরে ত্রাসের আরাধনা,
দশরথের যুগের স্তোকে আত্মপ্রবঞ্চনা!
দেখব বলে দাঁড়িয়ে আছি সেই সে কতদিন --
উঁচিয়ে মাথা কারুর কাছে ঋণ
        ধারিস না এককণা!

দেখব তোর ওই গহন চোখের কুহেলিহীন কোলে
তেজী রোদের ঋজু ঝলক দুঃসাহসে দোলে -
কিন্ত শুধু নুইয়ে পড়া শেকললোভী শির,
আপোষকামী দ্বিধাতে অস্থির --
        দেখব এর বদলে ?

মাথার মুকুট বিকিয়ে দিবি উৎপীড়নের পায়ে --
উঁচিয়ে নিশান যুঝব একা আমি কীসের দায়ে!
অপমানের, অহংকারের, অশোভনের সাথে
কথা ছিল কাঁধ মিলিয়ে কাঁধে
        লড়ব দুজনায়॥

যদিও আমি এখনও সোজা রেখেছি শিরদাঁড়া,
তবু জানিস, স্বপ্নে দেখা স্মৃতিরা করে তাড়া,
মাঝে মাঝে সাঁঝের হওয়ায় কাঁপি যখন শীতে!
তোর হাতে আর পারব কি রে দিতে
        স্বপ্ন-ফুলের তোড়া?

*********************









*
গড়িয়াহাট মোড়ে বৃদ্ধকে দেখে
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। স্মৃতির ছবি। রচনাকাল ১৯৭৮। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।

শীতকালের এক বিকেলবেলায় গড়িয়াহাট মোড়ে
বৃদ্ধকে এক দেখেছিলাম রিক্সা করে যেতে,
বসে আছেন একলা শুধু, গলায় ফুলের মালা-
আকুল চোখে তাকিয়ে, ভিড়ে রিক্সা ছোটে জোরে!

কে বা দিল ফুলের মালা, কেনই দিল তাকে,
এসব কথা কিছুই তাকে করিনি জিজ্ঞাসা,
রিকশা করে কী জন্য বা যাচ্ছে সে কোন দিকে--
ভাবতে ভাবতে ভিড়ের মাঝে রিকশা ছুটে গেল!

হয়নি তাকে প্রশ্ন করা - জীবনটা কি দাদু,
এমনি তবে রসিক বড়, সারা বয়স পুষে
সং সাজিয়ে ভিড়ের মাঝে রাস্তাতে দেয় ছেড়ে,
সংশয়ের এই চৌমাথাতে গড়িয়াহাট মোড়ে!

জীবনটা কি এমনি তবে, শক্তি কেড়ে নিয়ে
বল্গাবিহীন ঘোড়ার পিঠে বসিয়ে মজা দেখে?
এসব কথা সেদিন আমার হয়নি জেনে নেওয়া
অসহায় সে চাউনি থেকে গড়িয়াহাট মোড়ে।

*********************









*
চলে গেলি অনায়াসে, যে রকম ঐতিহ্যসম্মত!
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। রচনাকাল ১৯৭৯। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।

"সাবধান- জাদু জানে, ও কিন্তু মোহিনী ডাকিনী,
এর থেকে দূরে থাক।" - এই মতো কত হুঁশিয়ারি
তোকে নিয়ে শুনে শুনে এতদিনে আমি কি শিখিনি
পৃথিবীর মানে, আর কোন পাল্লা কতখানি ভারী?

ডাকিনীর জাদু ছিল পৃথিবীর প্রথম তপন?
মোহিনী মায়ায় ঘেরা মিথ্যা ছিল সখ্য মানুষর?
পাপ ছিল আত্মীয়তা, খোলা হাওয়া, পবিত্র স্বপন?
বিশ্বাস করিনি এতে ছায়া দেখে তোরই দু' চোখের!
সেই দুই চোখ দিয়ে কাঁদলি কী মধুর, যখন
চন্দন কুঙ্কুম আর সিঁদুরের প্রথম শিহরে,
লাল চেলি, বেনারসী ইত্যাকার সবারই মতন
নতুন স্বপনছায়া মেলে দিলে চোখে ভেতরে।
এক চোখে হীরে আর এক চোখে মুক্তা দুলিয়ে
চলে গেলি অনায়াসে যে রকম ঐতিহ্যসম্মত,
শঙ্কিত হিতার্থী যত শান্তি পেল নিজেক ভুলিয়ে –
আমি ভাবি, ডাকিনীও কাঁদে কি রে মানুষের মতো!

*********************









*
হারানো লাবণ্য সব ফিরে এল
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। ঠাকুমার মৃত্যুতে। রচনাকাল ১৯৮০। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।

আবার হারানো লাবণ্য সব ফিরে এল,
রক্তেরা খেলতে থাকল অবাধ্যতা ভুলে,
অনাবিল প্রশান্তি এল সর্বংসহা মুখের ওপর,
সোনার শরীরে যেন নেমে এল সোহাগিনী ঘুম!

মনে হল আবার আগের মতো চলবে পৃথিবী,
তোমার অঙ্গুলীহেলনে উঠবে সূর্য, ভ্রূকুটিতে বইবে ঝড়,
আগের মতই তুমি হেসে উঠলে ফুল ফুটবে অবলীলায়,
ঘড়ির কাঁটা শিখবে নির্ভুল ছন্দ তোমাকে দেখে!

এ ক'দিনের অনিয়ম, রোগ ক্লেদ দুঃস্বপ্নের মতো,
অবাধ্যতা, গাফিলতি, ব্যর্থতা ও ন্যূনতা যা ছিল –
সব কিছু মহিমায় অনায়াসে ক্ষমা করে দিয়ে
মহারানীর মত তুমি শুয়ে থাকলে স্বর্ণরেখাতীরে!

হারানো লাবণ্য সব ফিরে এল অনুতপ্তের মতো।
ধবধবে জোছনায় আর ঘৃতলেপে স্নান সেরে তুমি
যখন এলে, ব্যগ্র বাহু মেলে দিল লেলিহ আগুন।
সে শিখা নেবার পরেও বুকের ভেতরে দেখি জ্বলে - ভালোবাসা!

*********************