কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরীর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
জীবন সন্ধিৎসা
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। রচনাকাল ১৯৮১। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
আরেকটু এগিয়ে গেলে আছে নাকি চন্দনের বন,
তারও পরে আরো গেলে সোনা রুপা মাণিক্যের খনি,
সে সব পেরিয়ে গেলে হীরকের - শুধু অন্বেষণ,
এই মতো করে চলো, হাতে আছে একটি জীবনই।
একটি অখণ্ড আয়ু, পুরো এক জীবন পাথেয়।
এ পুঁজি খরচ হবে শুধু এক কাজে -- সে যে খোঁজা!
পথে কত সাথী পাবে, চন্দনের বন কারো ধ্যেয়,
কেউ বা সোনার খনি পেয়ে গিয়ে নামিয়েছে বোঝা,
যে বোঝা নামিয়ে বসে, মানুষের ধর্মভ্ৰষ্ট সে কি ?
সোনা রুপা না পেয়েও জীবনকে পিঠে করে চলে,
এমনও পথিক আছে, তারা ছাড়া আর সব মেকি,
জীবন সন্ধিৎসা শুধু - রুশিয়ার ঋষি গেছে বলে!
শুধু কি খোঁজাই সার, নেই কোনো আশা বা উপায়?
নাজার্থের রাখাল বলে, আশা আছে, যে খোঁজে, সে পায়!
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। রচনাকাল ১৯৮১। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
আরেকটু এগিয়ে গেলে আছে নাকি চন্দনের বন,
তারও পরে আরো গেলে সোনা রুপা মাণিক্যের খনি,
সে সব পেরিয়ে গেলে হীরকের - শুধু অন্বেষণ,
এই মতো করে চলো, হাতে আছে একটি জীবনই।
একটি অখণ্ড আয়ু, পুরো এক জীবন পাথেয়।
এ পুঁজি খরচ হবে শুধু এক কাজে -- সে যে খোঁজা!
পথে কত সাথী পাবে, চন্দনের বন কারো ধ্যেয়,
কেউ বা সোনার খনি পেয়ে গিয়ে নামিয়েছে বোঝা,
যে বোঝা নামিয়ে বসে, মানুষের ধর্মভ্ৰষ্ট সে কি ?
সোনা রুপা না পেয়েও জীবনকে পিঠে করে চলে,
এমনও পথিক আছে, তারা ছাড়া আর সব মেকি,
জীবন সন্ধিৎসা শুধু - রুশিয়ার ঋষি গেছে বলে!
শুধু কি খোঁজাই সার, নেই কোনো আশা বা উপায়?
নাজার্থের রাখাল বলে, আশা আছে, যে খোঁজে, সে পায়!
*********************
আগুন নিয়ে খেলতে খেলতে
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। উপাধ্যায় ব্রহ্মবান্ধবকে নিবেদিত। 'সাহিত্যসেতু' পত্রিকায় প্রকাশিত। রচনাকাল ১৯৮২। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
আগুন নিয়ে খেলতে খেলতে আগুন গিলে ফেলা,
অবলীলায় ঝড়ের ঝুঁটি আঁকড়ে ধরে ছোটা ......
অস্থিরতায় ঘুমোয়নি সে সারা জীবন ধরে,
অশান্ত কোন্ স্বপ্নে দামাল মায়ের ন্যাওটা ছেলে!
নিজের বুকে যদিও বা সে ঝুলিয়েছিল ক্রুশ,
ক্রুশের বোঝা বহন করেই গেল জীবনভর …
খুঁজে গেল অচিন দহের রক্তকমল সে যে
মা’র আঁচলে সেই শতদল বেঁধে দেবে বলে।
ফিরিঙ্গির সে ছুরি যেদিন চিরল মায়ের বুক,
তার কশাঘাত নেমে এল ঘরের ছেলের পিঠে --
সেদিন থেকে আগুন-খেলাই হল যে তার নেশা,
বুক সুবিশাল পুড়ে গেল মহতী সেই জ্বালায়!
সেই জ্বালাতে তৈরি হল নতুন যুগের ছেলে –
‘সন্ধ্যা’ হল অস্তরাগের রক্তনেশায় লাল,
রাজার বিধান তুড়ি মেরে উড়িয়ে গেল বলে -
‘তোর হাতের বাঁধন রইল হাতে, ধরতে পারলি না রে!’
আগুন নিয়ে খেলতে খেলতে আগুন গিলে ফেলা,
একবারই সেই লেখা আছে ইতিহাসের পাতায়,
যারা বলে, সে ছিল কোন্ ডাকাতদলের গুরু,
তারা কি ছাই দেখেছে তার রক্তরাঙা বুক!
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। উপাধ্যায় ব্রহ্মবান্ধবকে নিবেদিত। 'সাহিত্যসেতু' পত্রিকায় প্রকাশিত। রচনাকাল ১৯৮২। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
আগুন নিয়ে খেলতে খেলতে আগুন গিলে ফেলা,
অবলীলায় ঝড়ের ঝুঁটি আঁকড়ে ধরে ছোটা ......
অস্থিরতায় ঘুমোয়নি সে সারা জীবন ধরে,
অশান্ত কোন্ স্বপ্নে দামাল মায়ের ন্যাওটা ছেলে!
নিজের বুকে যদিও বা সে ঝুলিয়েছিল ক্রুশ,
ক্রুশের বোঝা বহন করেই গেল জীবনভর …
খুঁজে গেল অচিন দহের রক্তকমল সে যে
মা’র আঁচলে সেই শতদল বেঁধে দেবে বলে।
ফিরিঙ্গির সে ছুরি যেদিন চিরল মায়ের বুক,
তার কশাঘাত নেমে এল ঘরের ছেলের পিঠে --
সেদিন থেকে আগুন-খেলাই হল যে তার নেশা,
বুক সুবিশাল পুড়ে গেল মহতী সেই জ্বালায়!
সেই জ্বালাতে তৈরি হল নতুন যুগের ছেলে –
‘সন্ধ্যা’ হল অস্তরাগের রক্তনেশায় লাল,
রাজার বিধান তুড়ি মেরে উড়িয়ে গেল বলে -
‘তোর হাতের বাঁধন রইল হাতে, ধরতে পারলি না রে!’
আগুন নিয়ে খেলতে খেলতে আগুন গিলে ফেলা,
একবারই সেই লেখা আছে ইতিহাসের পাতায়,
যারা বলে, সে ছিল কোন্ ডাকাতদলের গুরু,
তারা কি ছাই দেখেছে তার রক্তরাঙা বুক!
*********************
শরৎ বসু রোডের আয়না
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। চরিত্রচিত্রণ। 'আরণ্যক' পত্রিকায় প্রকাশিত। রচনাকাল ১৯৮৩। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
শরৎ বসু রোডে ফুটপাথের ধারে সন্তর্পনে কাপড় বিছিয়ে
কোনো হতাশ বিকেলে তাকে চিরুণি বিক্রি করতে দেখলে
চমকে উঠে লজ্জা পাবার চেষ্টা করো না - কোনো লাভ নেই,
কারণ তুমি না দেখবার ভান করলেও সে নিজেই তোমাকে ডাকবে,
মুখে সেই সমর্পনী হাসি নিয়ে সেই ফুটপাথের বাদশা
জমিয়ে আলাপ করবে তোমার সঙ্গে,
এমন কি. চিরুনি কিনলে প্রথমে দামও নিতে চাইবে না চেনা লোকের থেকে।
তোমার যদি লজ্জা করেও, তার কোনো লজ্জাভয় নেই,
সে হচ্ছে অভিজাত বংশের বাইপ্রোডাক্ট,
বউদির সংসারের পরগাছা ...
ফুট-ফরমায়েস, খিদমদগারির বিনে মাইনের বান্দা।
মাইনে না পেলেও খোরাক অবশ্যই পায়, আর মুখঝামটাও।
সে ভাইপো-ভাইঝিদের আর অসংখ্য পরিচিতজনের ভূপালকাকু -
গায়ে অপমানের ইনস্যুলেশন, মুখে সর্বংসহা হাসি,
কখনও যদি তাকে দেখ শরৎ বসু রোডের ফুটপাথে চিরুণি বিক্রি করতে,
ভেবো না সে শুধু একজন ভূপালকাকু,
লজ্জা না পেয়ে কাছে এসে দাঁড়াও,
দেখবে সে একটা নির্মল আয়না...
শরৎ বসু রোডে বসানো রয়েছে, যাতে মুখ দেখা যায় -
তোমার, আমার - অসংখ্য পথচারীর ।
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। চরিত্রচিত্রণ। 'আরণ্যক' পত্রিকায় প্রকাশিত। রচনাকাল ১৯৮৩। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
শরৎ বসু রোডে ফুটপাথের ধারে সন্তর্পনে কাপড় বিছিয়ে
কোনো হতাশ বিকেলে তাকে চিরুণি বিক্রি করতে দেখলে
চমকে উঠে লজ্জা পাবার চেষ্টা করো না - কোনো লাভ নেই,
কারণ তুমি না দেখবার ভান করলেও সে নিজেই তোমাকে ডাকবে,
মুখে সেই সমর্পনী হাসি নিয়ে সেই ফুটপাথের বাদশা
জমিয়ে আলাপ করবে তোমার সঙ্গে,
এমন কি. চিরুনি কিনলে প্রথমে দামও নিতে চাইবে না চেনা লোকের থেকে।
তোমার যদি লজ্জা করেও, তার কোনো লজ্জাভয় নেই,
সে হচ্ছে অভিজাত বংশের বাইপ্রোডাক্ট,
বউদির সংসারের পরগাছা ...
ফুট-ফরমায়েস, খিদমদগারির বিনে মাইনের বান্দা।
মাইনে না পেলেও খোরাক অবশ্যই পায়, আর মুখঝামটাও।
সে ভাইপো-ভাইঝিদের আর অসংখ্য পরিচিতজনের ভূপালকাকু -
গায়ে অপমানের ইনস্যুলেশন, মুখে সর্বংসহা হাসি,
কখনও যদি তাকে দেখ শরৎ বসু রোডের ফুটপাথে চিরুণি বিক্রি করতে,
ভেবো না সে শুধু একজন ভূপালকাকু,
লজ্জা না পেয়ে কাছে এসে দাঁড়াও,
দেখবে সে একটা নির্মল আয়না...
শরৎ বসু রোডে বসানো রয়েছে, যাতে মুখ দেখা যায় -
তোমার, আমার - অসংখ্য পথচারীর ।
*********************
রাতের পুরী এক্সপ্রেসে
নিদাঘ পর্ব। 'পুরী সিরিজ' - ১। 'রবীন্দ্রনাথ' পত্রিকায় প্রকাশিত। রচনাকাল ১৯৮৫। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
জগন্নাথ একসপ্রেসের কামরার ঝাপসা আলোয়
তুমি ছিলে কোনো বয়সী বালকের হাতে আদুরে খেলনা - জাপানী গুড়িয়া ...
পুরী ছাড়িয়ে রাতের গাড়ির ঘুম-বার্থে তোমাকে দেখেছি...
সে তো বিশ্বশান্তি স্তূপের মহাপরিনির্বাণ মুদ্রা নয়,
ভারতীয় রেলের নৈশ নীল আলোয়
জেগে রইল তোমার উদয়গিরি-খন্ডগিরি
এবং অদূরে তোমার কাঞ্চণজঙঘা...
জেগে রইল তার চোখের সামনে -
যে মুখও ফেরাবে না, আবার থাবাও মারবেনা!
অবশেষে গিরিচূড়ায় উদয় হল ভোরবেলার,
খড়গপুর পেরোলেই সালোয়ার-কামিজের খোলস কেটে
কেমন অনায়াসে তুমি বঙ্গললনা হয়ে গেলে!
*********************
নিদাঘ পর্ব। 'পুরী সিরিজ' - ১। 'রবীন্দ্রনাথ' পত্রিকায় প্রকাশিত। রচনাকাল ১৯৮৫। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
জগন্নাথ একসপ্রেসের কামরার ঝাপসা আলোয়
তুমি ছিলে কোনো বয়সী বালকের হাতে আদুরে খেলনা - জাপানী গুড়িয়া ...
পুরী ছাড়িয়ে রাতের গাড়ির ঘুম-বার্থে তোমাকে দেখেছি...
সে তো বিশ্বশান্তি স্তূপের মহাপরিনির্বাণ মুদ্রা নয়,
ভারতীয় রেলের নৈশ নীল আলোয়
জেগে রইল তোমার উদয়গিরি-খন্ডগিরি
এবং অদূরে তোমার কাঞ্চণজঙঘা...
জেগে রইল তার চোখের সামনে -
যে মুখও ফেরাবে না, আবার থাবাও মারবেনা!
অবশেষে গিরিচূড়ায় উদয় হল ভোরবেলার,
খড়গপুর পেরোলেই সালোয়ার-কামিজের খোলস কেটে
কেমন অনায়াসে তুমি বঙ্গললনা হয়ে গেলে!
*********************
আপনার পাঁচশো বছরে
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। পুরী সিরিজ - ৪। 'কালিমাটি অনলাইন' পত্রিকায় প্রকাশিত। রচনা কাল ১৯৮৫। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
আপনার জন্মের পাঁচশো বছরে আমরা আপনার নীলাচলে এলাম...
কল্পনা করার চেষ্টা করলাম এই মন্দিরের চারপাশে আপনার নৃত্যগীত, পরিজনমনণ্ডলী...
মানস-চোখে দেখলাম ভেঙে পড়েছে পান্ডাদের সমান্তরাল প্রশাসন
আপনার ভাববন্যার আন্দোলিত তরঙ্গে।
আপনার পাঁচশো বছর পরে শ্রীক্ষেত্রের পান্ডারা দেখাল –
এই দ্বার দিয়ে আপনি নাকি মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন।
দেখলাম এই দরজার ওপর ঝুলে আছে অসংখ্য বাদুড়...
পান্ডারা গল্প শোনাল,
এখানকার পিণ্ডপ্রত্যাশী অতৃপ্ত পিতারা নাকি বাদুড় হয়ে আছেন!
মন্দিরের অভ্যন্তরে গরুড়স্তম্ভের গায়ে আপনার আঙুলের ছাপ দেখা গেল,
মনে হল, গর্ভগৃহে ওরা আপনাকে ঢুকতে দেয়নি বলেই
এখানে দাঁড়িয়ে আপনাকে বিগ্রহদর্শন করতে হত!
স্বয়ং রাজা আপনার আনুগত্য মেনে নিলেও আপনি এই ধর্মধ্বজীদের বশ করতে পারেননি –
এমন কাঁটাঝোঁপও তো থাকে, যেখানে ঢুকতে পারে না প্রখর সূর্যকর!
এই মন্দিরের কোথাও আপনাকে পাওয়া গেল না-
পেলাম না গম্ভীরা নামক জাদুঘরেও,
যেখানে আপনার পাদুকা-কমণ্ডলুর পাশে জ্বলছে অনির্বান শিখা...
যেদিন আপনি এখান থেকে অদৃশ্য হয়ে যান, সেদিন থেকেই নাকি জ্বলছে!
আর দোতলায় টিকিট কেটে হচ্ছে আপনারই জীবনীর পুতুল প্রদর্শনী।
তবু মনে হল না, এখানে কোথাও আপনি আছেন,
মনে হল না অসংখ্য ট্যুরিস্টের প্রমোদ-পদচারণায় মন্দ্রিত
সমুদ্র বেলাতেও আপনি আছেন,
যে-বেলাভূমির কোথাও আপনি যবন হরিদাসকে স্বহস্তে দিয়েছিলেন বালুসমাধি...
এবং এখানেই নাকি আপনি মিলিয়ে গিয়েছিলেন কৃষ্ণপ্রতিম নীলাম্বুরাশিতে;
না কি পান্ডাদের হাতেই নিহত হয়েছিলেন আপনি ---- কে জানে!
আমার মনে হল জগন্নাথধামে কোথাও আপনি নেই,
শুধু সমস্ত কিছু জুড়ে আছে পান্ডারা, তাদের সমান্তরাল প্রশাসন...
আর অতীতের পান্ডারাই চামচিকে হয়ে হয়ে ঝুলে আছে মন্দিরের হস্তীদ্বারে --
যে-দ্বার দিয়ে আপনি নাকি নবদ্বীপ থেকে ছুটে এসে
জগন্নাথ সাক্ষাৎ করেছিলেন পাঁচশো বছর আগে!
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। পুরী সিরিজ - ৪। 'কালিমাটি অনলাইন' পত্রিকায় প্রকাশিত। রচনা কাল ১৯৮৫। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
আপনার জন্মের পাঁচশো বছরে আমরা আপনার নীলাচলে এলাম...
কল্পনা করার চেষ্টা করলাম এই মন্দিরের চারপাশে আপনার নৃত্যগীত, পরিজনমনণ্ডলী...
মানস-চোখে দেখলাম ভেঙে পড়েছে পান্ডাদের সমান্তরাল প্রশাসন
আপনার ভাববন্যার আন্দোলিত তরঙ্গে।
আপনার পাঁচশো বছর পরে শ্রীক্ষেত্রের পান্ডারা দেখাল –
এই দ্বার দিয়ে আপনি নাকি মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন।
দেখলাম এই দরজার ওপর ঝুলে আছে অসংখ্য বাদুড়...
পান্ডারা গল্প শোনাল,
এখানকার পিণ্ডপ্রত্যাশী অতৃপ্ত পিতারা নাকি বাদুড় হয়ে আছেন!
মন্দিরের অভ্যন্তরে গরুড়স্তম্ভের গায়ে আপনার আঙুলের ছাপ দেখা গেল,
মনে হল, গর্ভগৃহে ওরা আপনাকে ঢুকতে দেয়নি বলেই
এখানে দাঁড়িয়ে আপনাকে বিগ্রহদর্শন করতে হত!
স্বয়ং রাজা আপনার আনুগত্য মেনে নিলেও আপনি এই ধর্মধ্বজীদের বশ করতে পারেননি –
এমন কাঁটাঝোঁপও তো থাকে, যেখানে ঢুকতে পারে না প্রখর সূর্যকর!
এই মন্দিরের কোথাও আপনাকে পাওয়া গেল না-
পেলাম না গম্ভীরা নামক জাদুঘরেও,
যেখানে আপনার পাদুকা-কমণ্ডলুর পাশে জ্বলছে অনির্বান শিখা...
যেদিন আপনি এখান থেকে অদৃশ্য হয়ে যান, সেদিন থেকেই নাকি জ্বলছে!
আর দোতলায় টিকিট কেটে হচ্ছে আপনারই জীবনীর পুতুল প্রদর্শনী।
তবু মনে হল না, এখানে কোথাও আপনি আছেন,
মনে হল না অসংখ্য ট্যুরিস্টের প্রমোদ-পদচারণায় মন্দ্রিত
সমুদ্র বেলাতেও আপনি আছেন,
যে-বেলাভূমির কোথাও আপনি যবন হরিদাসকে স্বহস্তে দিয়েছিলেন বালুসমাধি...
এবং এখানেই নাকি আপনি মিলিয়ে গিয়েছিলেন কৃষ্ণপ্রতিম নীলাম্বুরাশিতে;
না কি পান্ডাদের হাতেই নিহত হয়েছিলেন আপনি ---- কে জানে!
আমার মনে হল জগন্নাথধামে কোথাও আপনি নেই,
শুধু সমস্ত কিছু জুড়ে আছে পান্ডারা, তাদের সমান্তরাল প্রশাসন...
আর অতীতের পান্ডারাই চামচিকে হয়ে হয়ে ঝুলে আছে মন্দিরের হস্তীদ্বারে --
যে-দ্বার দিয়ে আপনি নাকি নবদ্বীপ থেকে ছুটে এসে
জগন্নাথ সাক্ষাৎ করেছিলেন পাঁচশো বছর আগে!
*********************
বুকের মধ্যে আগুন
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। সুভাষচন্দ্রকে নিবেদিত। রচনাকাল ১৯৮৬। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
তার বুকের ওপর কোটের বোতামে লাগানো ছিল চন্দ্রমল্লিকা,
বুকের নীচে ছিল আগুন -
সেই আগুন নিয়ে সে নিখোঁজ হয়ে গেল,
আবার কোন্ আগুনের খেলায় মাততে, কে জানে!
তারপর কত খুঁজেছি তাকে আশ্রমে অরণ্যে – হৈমকন্দরে...
খুঁজেছি রণক্ষেত্রে, শত্রুর বন্দীশালায়,
খোঁজ করেছি ইতিহাসের বাঁকেবাঁকে!
বাইরে তাকে পাইনি ........
বুঝতে পারিনি সে কি আগুনে পুড়ে গেছে -
নাকি নিজেই আগুন হয়ে গেছে,
কারণ ভেতরে ভেতরে সে অনবরত তাতিয়েছে টের পেয়েছি,
আজও পাচ্ছি...
যখন চারপাশ ভরে গেছে ক্লীব ভণ্ড আর স্বার্থগৃধ্নুর ভীড়ে
তখনও টের পাচ্ছি সেই আগুন জ্বলছে...
বুকের মধ্যে বাজছে প্রত্যাদেশ :-
'শোক নয় - উজ্জীবন ! মৃত্যু নেই আগুনের' ...
শীতের ভোরে মুক্তি-পতাকার মতোই সে চিরজীবিত!
সে আগুন বারবার জ্বলে ওঠে - স্বপ্নে, ইতিহাসে !
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। সুভাষচন্দ্রকে নিবেদিত। রচনাকাল ১৯৮৬। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
তার বুকের ওপর কোটের বোতামে লাগানো ছিল চন্দ্রমল্লিকা,
বুকের নীচে ছিল আগুন -
সেই আগুন নিয়ে সে নিখোঁজ হয়ে গেল,
আবার কোন্ আগুনের খেলায় মাততে, কে জানে!
তারপর কত খুঁজেছি তাকে আশ্রমে অরণ্যে – হৈমকন্দরে...
খুঁজেছি রণক্ষেত্রে, শত্রুর বন্দীশালায়,
খোঁজ করেছি ইতিহাসের বাঁকেবাঁকে!
বাইরে তাকে পাইনি ........
বুঝতে পারিনি সে কি আগুনে পুড়ে গেছে -
নাকি নিজেই আগুন হয়ে গেছে,
কারণ ভেতরে ভেতরে সে অনবরত তাতিয়েছে টের পেয়েছি,
আজও পাচ্ছি...
যখন চারপাশ ভরে গেছে ক্লীব ভণ্ড আর স্বার্থগৃধ্নুর ভীড়ে
তখনও টের পাচ্ছি সেই আগুন জ্বলছে...
বুকের মধ্যে বাজছে প্রত্যাদেশ :-
'শোক নয় - উজ্জীবন ! মৃত্যু নেই আগুনের' ...
শীতের ভোরে মুক্তি-পতাকার মতোই সে চিরজীবিত!
সে আগুন বারবার জ্বলে ওঠে - স্বপ্নে, ইতিহাসে !
*********************
পিশাচীর পূজা
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। রচনাকাল ১৯৮৬। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
দেবী ভেবে আরাধনা কতকাল বুক চেরা খুনে,
তারপরে ক্রমান্বয়ে অভিজ্ঞতা দৈনন্দিন দামে --
কত দাম দিতে হল, প্রায় দেউলিয়া হয়ে গেছি,
দেবীমূর্তি যা ছিল, তা সসংকোচে লুকাই গহনে।
রাখা যেত হয়তো বা এ বিগ্রহ মন্দিরে সাজিয়ে,
কিন্তু যার রং সাজ সময়ের ধারাপাতে ম্লান --
সকলের কাছে ক্রমে প্রকাশিত বিগ্রহ-স্বরূপ,
সমাজ-তর্জনী ছিল সম্ভাবিত -- করুণার হাসি
হেসে তারা বলতো না কি হায় অন্ধ, মূর্খ পূজারী?
তার চেয়ে এই ভালো, সরে গেছি অগম্য জঙ্গলে,
আমার আরাধ্য মূর্তি দেবী নয়, ইদানীং জানি।
হয়তো বা পিশাচী সে, কমপক্ষে সামান্যা মানবী,
তবু মোহভঙ্গ-ভীরু শিশু-জেদে আঁকড়ে ধরেছি --
আমার পুরানো মূর্তি দেবী নয়, পিশাচীই সই!
জেনেও পিশাচী তাকে, ভাঙতে পারিনি মূর্তি তার -
তাকে নিয়ে চলে গিয়ে খ্যাতিহীন হতাশ দুর্গমে,
সারা গায়ে নিয়ে তারই কামড় আর আঁচড়ের দাগ
পিশাচীর পূজা করি, বারবার ভালোবাসি তাকে।
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। রচনাকাল ১৯৮৬। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
দেবী ভেবে আরাধনা কতকাল বুক চেরা খুনে,
তারপরে ক্রমান্বয়ে অভিজ্ঞতা দৈনন্দিন দামে --
কত দাম দিতে হল, প্রায় দেউলিয়া হয়ে গেছি,
দেবীমূর্তি যা ছিল, তা সসংকোচে লুকাই গহনে।
রাখা যেত হয়তো বা এ বিগ্রহ মন্দিরে সাজিয়ে,
কিন্তু যার রং সাজ সময়ের ধারাপাতে ম্লান --
সকলের কাছে ক্রমে প্রকাশিত বিগ্রহ-স্বরূপ,
সমাজ-তর্জনী ছিল সম্ভাবিত -- করুণার হাসি
হেসে তারা বলতো না কি হায় অন্ধ, মূর্খ পূজারী?
তার চেয়ে এই ভালো, সরে গেছি অগম্য জঙ্গলে,
আমার আরাধ্য মূর্তি দেবী নয়, ইদানীং জানি।
হয়তো বা পিশাচী সে, কমপক্ষে সামান্যা মানবী,
তবু মোহভঙ্গ-ভীরু শিশু-জেদে আঁকড়ে ধরেছি --
আমার পুরানো মূর্তি দেবী নয়, পিশাচীই সই!
জেনেও পিশাচী তাকে, ভাঙতে পারিনি মূর্তি তার -
তাকে নিয়ে চলে গিয়ে খ্যাতিহীন হতাশ দুর্গমে,
সারা গায়ে নিয়ে তারই কামড় আর আঁচড়ের দাগ
পিশাচীর পূজা করি, বারবার ভালোবাসি তাকে।
*********************
অচিন বৈরাগী
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। স্মৃতির ছবি। রচনাকাল-১৯৮৬। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
অজানা ঠিকানা থেকে সে এক বৈরাগী আসত মনে আছে কিশোরবেলায়,
ম্লান গেরুয়া তার চাদর, আলখাল্লা, পাকা দাড়ি....
মিঠে সুরে তার গান একতারার সাথে,
যার কোনো পদ মনে নেই,
শুধু সুরের রেশটা এখনও বাজে স্মৃতিতে......
হঠাৎ হঠাৎ সে আসত,
আমাদের ঘরের মধ্যে পাতা চওড়া বেঞ্চের এককোনে এসে বসত.....
মিষ্টি হাসি হেসে কাঁধের ঝুলিতে সে নিত তন্ডুল-ভিক্ষা।
মনে আছে তার এক হাতের বাজুতে ছিল চকচকে এক তামার বালা...
একবার একতারা বানাবে বলে চেয়ে নিয়েছিল একটা লাউয়ের খোল!
আর মনে আছে ঠিকানা জানতে চাইলে বলত - 'গোলপাহাড়'!
কোথায় গোলপাহাড়, কী ভাবে যেতে হয়, কিছুই তখন জানতাম না.....
তারপর কবে হারিয়ে গেছে সেই হঠাৎ-আসা বৈরাগী!
পরে বড় হয়ে এক টিলা দেখেছি টাটা স্টেশনের কাছে --
এরই নাম নাকি গোলপাহাড়...
রেলে তার পাশে দিয়ে যেতে যেতে কল্পনা করেছি --
ওই পাহাড়ের ওপর যে মন্দির, সেখানে বসে একতারা বাজাচ্ছে
আমার কৈশোরের সেই বৃদ্ধ বৈরাগী......
কখনও আমি উঠিনি সেই পাহাড়ের ওপরে -
কী জানি যদি সে না থাকে সেখানে--
তবে কোথায় থাকবে আমার সেই অচিন বৈরাগীর ছবি.....
এখনও চোখ বুজলে ঝকঝক করে ওঠে তার হাতের সেই তামার বালা!
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। স্মৃতির ছবি। রচনাকাল-১৯৮৬। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
অজানা ঠিকানা থেকে সে এক বৈরাগী আসত মনে আছে কিশোরবেলায়,
ম্লান গেরুয়া তার চাদর, আলখাল্লা, পাকা দাড়ি....
মিঠে সুরে তার গান একতারার সাথে,
যার কোনো পদ মনে নেই,
শুধু সুরের রেশটা এখনও বাজে স্মৃতিতে......
হঠাৎ হঠাৎ সে আসত,
আমাদের ঘরের মধ্যে পাতা চওড়া বেঞ্চের এককোনে এসে বসত.....
মিষ্টি হাসি হেসে কাঁধের ঝুলিতে সে নিত তন্ডুল-ভিক্ষা।
মনে আছে তার এক হাতের বাজুতে ছিল চকচকে এক তামার বালা...
একবার একতারা বানাবে বলে চেয়ে নিয়েছিল একটা লাউয়ের খোল!
আর মনে আছে ঠিকানা জানতে চাইলে বলত - 'গোলপাহাড়'!
কোথায় গোলপাহাড়, কী ভাবে যেতে হয়, কিছুই তখন জানতাম না.....
তারপর কবে হারিয়ে গেছে সেই হঠাৎ-আসা বৈরাগী!
পরে বড় হয়ে এক টিলা দেখেছি টাটা স্টেশনের কাছে --
এরই নাম নাকি গোলপাহাড়...
রেলে তার পাশে দিয়ে যেতে যেতে কল্পনা করেছি --
ওই পাহাড়ের ওপর যে মন্দির, সেখানে বসে একতারা বাজাচ্ছে
আমার কৈশোরের সেই বৃদ্ধ বৈরাগী......
কখনও আমি উঠিনি সেই পাহাড়ের ওপরে -
কী জানি যদি সে না থাকে সেখানে--
তবে কোথায় থাকবে আমার সেই অচিন বৈরাগীর ছবি.....
এখনও চোখ বুজলে ঝকঝক করে ওঠে তার হাতের সেই তামার বালা!
*********************
শ্মশানে সীমন্তিনী
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। স্মৃতির ছবি। রচনাকাল ১৯৮৬। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
পৌষ-সংক্রান্তির মেলায় চলেছি দাদুর হাত ধরে
সুবর্ণরেখার ধার দিয়ে,
একই পথ দিয়ে কারা চলেছে হরিধ্বনি দিয়ে,
খই ছেটাতে ছেটাতে কোনো সীমন্তিনীকে নিয়ে......
বাহকদের মাথার ওপর জেগে আছে আলতা রাঙানো টুকটুকে দুটি পা --
দুলছে শ্মশানযাত্রার অমোঘ অন্তিম ছন্দের তালে!
দাদু জিজ্ঞাসা করলেন, "কে গেল?"
শবযাত্রীদের কেউ জবাব দিল, 'হরির মা'।
কে হরির মা, কোথায় থাকে হরি,
তার বয়সই বা কত --
কিছুই আর জানা হয়নি সেদিন .....
সাত বছর বয়সের স্মৃতিতে শুধু ছাপা হয়ে গেছে নামটুকু ---
তার মুখ আর মনে নেই,
শুধু মনে আছে 'হরির মা'!
সুবর্ণরেখার তীরে সেই পথে আজও আমাকে যেতে হয় --
পৌষসংক্রান্তির মেলা, রংবেরঙের জনস্রোত....
সব কিছু ছাপিয়ে আজও চোখে ভাসে
মালাচন্দনে ঢাকা ছোট্ট শরীরটি চলেছে দোদুল ছন্দে ...
আর সেই দৃশ্যের ওপর দেখতে পাই সুপার-ইম্পোজ করা দু'টি রাঙা পা!
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। স্মৃতির ছবি। রচনাকাল ১৯৮৬। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
পৌষ-সংক্রান্তির মেলায় চলেছি দাদুর হাত ধরে
সুবর্ণরেখার ধার দিয়ে,
একই পথ দিয়ে কারা চলেছে হরিধ্বনি দিয়ে,
খই ছেটাতে ছেটাতে কোনো সীমন্তিনীকে নিয়ে......
বাহকদের মাথার ওপর জেগে আছে আলতা রাঙানো টুকটুকে দুটি পা --
দুলছে শ্মশানযাত্রার অমোঘ অন্তিম ছন্দের তালে!
দাদু জিজ্ঞাসা করলেন, "কে গেল?"
শবযাত্রীদের কেউ জবাব দিল, 'হরির মা'।
কে হরির মা, কোথায় থাকে হরি,
তার বয়সই বা কত --
কিছুই আর জানা হয়নি সেদিন .....
সাত বছর বয়সের স্মৃতিতে শুধু ছাপা হয়ে গেছে নামটুকু ---
তার মুখ আর মনে নেই,
শুধু মনে আছে 'হরির মা'!
সুবর্ণরেখার তীরে সেই পথে আজও আমাকে যেতে হয় --
পৌষসংক্রান্তির মেলা, রংবেরঙের জনস্রোত....
সব কিছু ছাপিয়ে আজও চোখে ভাসে
মালাচন্দনে ঢাকা ছোট্ট শরীরটি চলেছে দোদুল ছন্দে ...
আর সেই দৃশ্যের ওপর দেখতে পাই সুপার-ইম্পোজ করা দু'টি রাঙা পা!
*********************
মনের সান্ত্বনা, কল্পসুখ
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। স্মৃতির ছবি। রচনাকাল ১৯৮৬। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
শরীর পাশে নিয়ে শরীর জেগে ছিল, মনের পাশে হায় ছিল কি মন!
বাইরে থেকে ছবি - আগেরই মতো ঠিক, দুটি অবয়বের দুপুরে ঘুম--
এ যেন অতীতের পুনরভিনয় শুধু - কখনও আর ঘটবেনা যেটা,
সেটাই একবার ঘটানো গেল শেষ, মনের সান্ত্বনা, কল্পসুখ --
যুদ্ধে মৃত কুরুবীরেরা ফিরে এসেছিল যেমন শুধু এক রাতে !
সময় দেগে দিল কত না রণক্ষত মধ্যবর্তী এ এক যুগে,
সে রণে মারা গেছে পুরানো সেই মন- রয়েছে পড়ে শুধু শরীর এই।
সেই সে শরীরেরা দু’জনে পাশাপাশি আবার শুয়েছিল হঠাৎ আজ—
তিক্ত বিক্ষত আজকের এ দুপুরে খেলার ছলে যেন বাড়িয়ে হাত
তুলে আনা গেল অমল কৈশোরের সোনালি প্রহরের টুকরো এক!
*********************
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। স্মৃতির ছবি। রচনাকাল ১৯৮৬। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।
শরীর পাশে নিয়ে শরীর জেগে ছিল, মনের পাশে হায় ছিল কি মন!
বাইরে থেকে ছবি - আগেরই মতো ঠিক, দুটি অবয়বের দুপুরে ঘুম--
এ যেন অতীতের পুনরভিনয় শুধু - কখনও আর ঘটবেনা যেটা,
সেটাই একবার ঘটানো গেল শেষ, মনের সান্ত্বনা, কল্পসুখ --
যুদ্ধে মৃত কুরুবীরেরা ফিরে এসেছিল যেমন শুধু এক রাতে !
সময় দেগে দিল কত না রণক্ষত মধ্যবর্তী এ এক যুগে,
সে রণে মারা গেছে পুরানো সেই মন- রয়েছে পড়ে শুধু শরীর এই।
সেই সে শরীরেরা দু’জনে পাশাপাশি আবার শুয়েছিল হঠাৎ আজ—
তিক্ত বিক্ষত আজকের এ দুপুরে খেলার ছলে যেন বাড়িয়ে হাত
তুলে আনা গেল অমল কৈশোরের সোনালি প্রহরের টুকরো এক!
*********************
