কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরীর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরীর পরিচিতির পাতায় . . .
কুশল প্রার্থনা
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
চটজলদি। কুয়েতবাসিনী বন্ধুর খবর না পেয়ে। রচনাকাল ২০২১। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।

হাসির ব্যাপার শুনিয়া হাস না,
টেলিফোনে আর মধুর ভাষ না'--
আমাদের আর ভাল কি বাস না?
        রুষ্ট?

না কি মন আর মেজাজ ভাল না,
বিস্বাদ লাগে সব আলোচনা,
মরুভূমে বসে করিছ গণনা
        উষ্ট্র?

বল দেবি! কেন তব অবসাদ,
নাকি কিছু মম ঘটেছে প্রমাদ,
কী করিলে হবে ক্ষমি' অপরাধ
        তুষ্ট?

না শুনিলে রোজ তব মিঠী বাত
আমার হজম হয়না যে ভাত--
যারা এ রটায়, তারা যে নেহাৎ
        দুষ্ট!

*********************









*
উমা
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। বিকাশ ভট্টাচার্যের 'দুর্গা সিরিজ' দেখে। রচনাকাল ১৯৯১। সেই ছবিটি কবিতার নীচে দেওয়া রয়েছে। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।


প্রাচীন বাড়ির জীর্ণ ছাদে জলের ট্যাঙ্কের পাশে
বসে থাকতে দেখেছি সেই রণরঙ্গিনী চণ্ডীকে –
তার আলুলায়িত কেশ মিশেছে আকাশের ঘন মেঘদামে ......
সেখানে ঝলসে ওঠা বিজুলির উদ্ভাস তার দীপ্ত চোখে।
সন্দেহ নেই সেই নয়নবহ্নিতে ভস্ম হবে অসুর,
যে রয়েছে হয়তো পাশের ছাদে, কিংবা ঘরের ভেতর, বিশ্বচরাচরে......
ছাদের আল্‌সেতে চেপে বসা সেই নারী যেন সিংহস্কন্ধাধিরূঢ়া দুর্গা,
গেরস্থ বাড়ির চার দেয়ালে তার রূপের ঝলক ধরে রাখতে পারেনি বলেই তো
দরকার হয়েছে বজ্রগর্ভ মেঘমালার ভয়ালভীষণ পটভূমি!
আর মুক্তকেশী ওই দীপ্রনয়না যেন এখনই
অট্টহাসি হেসে বলবে –
“গর্জ গর্জ ক্ষণং মূঢ় – উৎপীড়ক যত অসুরেরা সাবধান!”
আর ওই মেঘরাজির পেছনে অন্তরীক্ষে অপেক্ষা করছে ভীত দেবতার দল
অসুরনিধনে জয়ধ্বনি করবার জন্য!



শিল্পী বিকাশ ভট্টাচার্যর আঁকা এই ছবির ফটো কবি স্বয়ং আমাদের পাঠিয়েছেন।

*********************









*
স্বর্ণলতা
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
নিদাঘ পর্ব। বিকাশ ভট্টাচার্যের 'দুর্গা সিরিজ' দেখে। রচনাকাল ১৯৯২। সেই ছবিটি কবিতার নীচে দেওয়া রয়েছে। মিলনসাগরে প্রকাশ - মহালয়া, ১৪.১০.২০২৩।


মণ্ডপে ভিড় শারদ পূজার সাঁঝে,
দলে দলে সব প্রতিমা দেখতে জড়ো,
দেখি যেন সেই রাজসী প্রতিমা মাঝে
তাঁরই উদ্ভাস, যিনি এরও চেয়ে বড়ো!

দশায়ুধ হাতে, দশ দিক আলো করা
সেই মূর্তির শিল্পসুষমা দেখে
ভাবি চিন্ময়ী দিয়েছেন বুঝি ধরা
এই মূর্তিতে নিজেরই আদল রেখে।
এসব ভাবছি, হঠাৎ সামনে দেখি –
কে সে এক নারী চকিতে ফেরাল মুখ,
রূপরম্যা সে বটেই, কিন্তু এ কী,
তার ত্রিনয়ন দেখে যেন কাঁপে বুক!

এ কি তবে সেই তিনিই নূতন রূপে,
মৃন্ময়ী নয়, রক্তে মাংসে গড়া
নিজেরই প্রতিমা দেখছেন চুপে চুপে,
ঘরনী রমণী বেশে কি দিলেন ধরা!

প্রতিদিন যাকে পেয়েছি আপন নীড়ে,
তারই প্রতিমা কি গড়ি পূজামন্দিরে!



শিল্পী বিকাশ ভট্টাচার্যর আঁকা এই ছবির ফটো কবি স্বয়ং আমাদের পাঠিয়েছেন।

*********************