কবি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের পরিচিতির পাতায় . . .

রাস্তা পার হয়ে যাই রাস্তা পার হওয়া যেন নেশা
কবি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়
কবির ২০০০ সালে প্রকাশিত "পরিক্রমা" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৮.২০২৩।

রাস্তা পার হয়ে যাই রাস্তা পার হওয়া যেন নেশা
আমিতো পেয়েছি এতে মজা আর মৃত্যু মৃত্যু খেলা
খেলা শেষে রাত নিয়ে বাড়ি ফিরি রাত সাদা পাতা
সাকিন ঠিকানা হল জমি জোড়া হাফ কাঠা ছাদ
তার নিচে বাড়া ভাত ডাল আর নুনের সংসার
আধ খাওয়া চালি চুঁয়ে ঘরে ঢোকে আলো খেলা হাসি
ঈশ্বর দয়ালু তাই জল ঢেলে আশীর্বাদ করে
মেঝের ভিতর ফুঁড়ে সাদা সাদা তুলো জমা হয় ;
দেনা দায় ঠেসে ভরা হিসেবের ফিতে বাঁধা খাতা
ক্রমশ দূরত্ব বাড়ে; রাত বেড়ে চাঁদ ঢলে গেলে
জমানো সুদের টাকা, গলা নাভী, স্বপ্ন পোড়া ছাই
আমিতো তোমার কাছে আজও সেই ছাই ফেরি করি
সভা ঘরে লেখা পড়ে পাওয়া যত হাটুরে হাততালি
একে একে ফেলে দেব তপ্ত নীল আঁচের ভিতর …….
আগুনেই বিষ থাকে, আগুনের হিম রক্তপান
ফেলো গঙ্গাজল, তিল, হরিতকি, ফেলো জলে রাধা
আমিতো দিয়েছি ফেলে সন্ন্যাসীর বেদ সত্য কাম
এখানেই জন্ম সুখ এখানেই মায়া মৃত্যু খেলা।

*********************









*

প্রতিটি দিনের থেকে বেকার সময়-টুকু বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে
কবি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়
কবির ২০০০ সালে প্রকাশিত "পরিক্রমা" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৮.২০২৩।

প্রতিটি দিনের থেকে বেকার সময়-টুকু বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে
আমার যা কিছু ছিলো তার শূণ্যতার ঘরে খুঁজে পেতে দেখি
দেহ নয়, মুখ নয়, সুনির্দিষ্ট গতিপথে ঘাসের উপর
শুকনো পাতার গন্ধ ভোরের বাতাসে ভাসা নিম তেতো গন্ধ
তোমার নরম হাত ছুঁয়ে শূণ্যতার ঘরে স্বপ্ন হয়ে আসে।
আমি তার আদি সত্য কিছুই জানিনা তবু নিয়মের ভুলে
প্রতিবার জন্ম হয়, সবুজ পাতার স্তুপ দু-হাতে সরিয়ে
নীল আকাশের চোখে বাষ্পকনা জমে, ফেনা হয়ে ফিরে যায়
এই সব নিয়মের রীতি অন্ধকারে দূরে ঠেলে দিয়ে; তুমি …..
#
কথা বলো, যেন এই স্থির স্তব্ধতার ভার ভেঙে পড়ে যায়
দূরে সমুদ্রের মতো বন্ধন অগ্রাহ্য করে মুক্ত, শব্দহীন,
একাকী নিসাড় এই শূণ্যতার হাত ছুঁয়ে, তুমি কথা বলো

*********************









*

এভাবে হয়তো ধীরে ঝর্ণা বয়ে চলে
কবি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়
কবির ২০০০ সালে প্রকাশিত "পরিক্রমা" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৮.২০২৩।

এভাবে হয়তো ধীরে ঝর্ণা বয়ে চলে আর কাল যুগ সব একাকার হয়ে যায়
শুধু একবার বলে দাও কোন সেই দিন ; ঝর্ণা হয়ে ঝরে যাব দূরে
এই ঝরে যাওয়ার উত্তেজনা আমাকে বলয়ের মতো ঘিরে থাকে
আর প্রতিটি নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে লিখে রাখে জন্ম-মৃত্যুর মধ্যে দূরত্ব কতোটা।
তুমি দেখো যখন শ্বাস থেমে যাবে জন্ম নেবে এক মানব মানবী
যারা তোমাকে একবার কাছে পাবে বলে
এই পৃথিবীতে কোটি কোটি কাল যুগ ধরে ……
আমি সেই সেনাপতি, আগুনে পুড়িয়ে আরো শাণিত করেছি তরবারি
কিন্তু হাটু মুড়ে দিয়ে তোমাকে বলেছি, - এই নাও আমার পৌরুষ,
তবু ফিরে চলো, তোমার পা মাটিতে মানায় না রাজকন্যা
এই সাম্রাজ্যকে আজ বড় তুচ্ছ মনে হয় ; তুচ্ছ রিপু-জ্ঞান দূরে ঠেলে
যদি একবার তুমি অনুমতি দিতে
তাহলে আমার সমস্ত ঢেউ নিয়ে আছড়ে পড়তাম
আর যদি চোখ বুজে অনুমতি দিতে, ঠোঁট ছুঁয়ে
তোমাকে পাহাড়ী ঝর্ণার কাছে নিয়ে গিয়ে বলতাম
শোনো, এই রাজবেশ খুলে ফেলো, এই বেণী বাঁধা চুল খুলে ফেলো
ঝর্ণার মতো সেও বয়ে যাক বহুযুগ ধরে
আর আমি, একদিন তার নিয়ন্ত্রিত আবেগের ভাষা হয়ে ঝরে পড়ে যাব

*********************









*

কোথাও আধার নেই, জন্ম নেই, ব্রহ্ম জুড়ে প্রকৃতির স্থিতি
কবি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়
কবির ২০০০ সালে প্রকাশিত "পরিক্রমা" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৮.২০২৩।

কোথাও আধার নেই, জন্ম নেই, ব্রহ্ম জুড়ে প্রকৃতির স্থিতি
যেন কার সৃষ্টি আর ধ্বংস নিয়ে এই দুটো হাত পেতে রাখা
যেন কার রূপ থেকে অরূপের রূপ খুঁজি আদি অন্ত জুড়ে
সহস্র চোখের আলো সহস্র হাতের নিচে অবিচল থাকে
আমার আকাশ থেকে দূরত্বে রয়েছে যার অজ্ঞান প্রকাশ
বর্নিল আলোয় আমি তার চোখে কনকের ছায়ানট দেখি

#
কখনো ভেবেছি রাত কখনো হয়েছে মনে স্তব্ধ নিরাকার
যদিও এমন করে প্রতিরূপ মায়া হতে দেখিনি কখনও
গুপ্ত কোনো কক্ষপথে ধীরে ধীরে মুক্ত হয়ে শান্ত ঝরে যায়
আমার নাভীর থেকে অনেক দূরত্বে থাকা বাতাসের স্রোতে
অনুভূতিহীন যাকে প্রতিটি মুহূর্তে আমি করেছি গ্রহণ
দূরত্বে দূরত্ব থাক আমাতে আমার সব কথোপকথন

#
পাথর শীতল হয় অস্বচ্ছ ধাতুর মতো কঠিন কোঠর
বিষণ্ণ মাঠের মাঝে সমাধির স্তম্ভ তবে কার জন্য একা
আকাশ আলোর পাখি জানে তার অবশেষ পরিণতি জানে
মাটি হবে, ফুল হবে, সমুদ্রের মতো হবে অগাধ শীতল
দৃষ্টির গভীরে তার অসাড় চোখের কোলে সব সত্য মানি,
তবে বলো কার প্রতি ঈর্ষা করি কার প্রতি নম্র নতজানু !

*********************









*

ভোরের হাওয়ায় গন্ধ, এই রাঢ় মাটির গন্ধ...
কবি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়
কবির ২০০০ সালে প্রকাশিত "পরিক্রমা" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৮.২০২৩।

ভোরের হাওয়ায় গন্ধ, এই রাঢ় মাটির গন্ধ...
অভ্যাসের পাতায় পাতায় নিরুদ্দেশের ভাষা চিঠি লিখতে গেলেই এই সংক্রান্ত যাবতীয় ভুল
দুহাতের দখল করে প্রকৃত শিক্ষা, বিশ্বাসের ছবি
কিম্বা বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রে হলুদ সিঁদুরের গন্ধ
গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে
তারপর চৌকাঠ পেরিয়ে যায়
    তুমি থাকো সুখে সংশ্লিষ্ট পাতার সোহাগে
আর সমস্ত কিছুই বদলে নাও
অনেক বৃষ্টির মতো, শিকড় আঁকড়ে ধরার মতো এই মৃত্যু
জানলা দিয়ে হেঁটে হেঁটে করিডোরে যায়।
আমি ভালোই আছি। কিছুদিন থাকি না এভাবে –
সুখে দুঃখে, তোমাতে আমাতে
    তারপর হয়তো বা আমিও
একদিন বদলে নেব; সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দর করে নেব দুঃখ
নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের পদ্ধতি; হয়তো বা না
এভাবে হয়তো কোনোটাই হয়ে উঠবে না আমার হওয়া
এখনও ভোরের হাওয়ায় রাঢ় মাটির গন্ধ…

*********************









*

এ লেখাটা শেষ হয়ে গেলে ফিরে যেও
কবি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়
কবির ২০০৫ সালে প্রকাশিত "জীর্ণ ডায়েরির পাতা থেকে" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৮.২০২৩।

এ লেখাটা শেষ হয়ে গেলে ফিরে যেও বালি-মাটি নদীর কিনার ছেড়ে
পাখির ডানায় ভেসে ভেসে রোদ, আমাদের ফলে আসা ছেলেবেলা
কলার ভেলায় দুটো দেহ ভাসিয়ে ভাসিয়ে আনন্দ জীবন
মাঝি গান ধরো ইছামতী…. ইছামতী

#
এসব কিছুই কোন এক হারিয়ে যাওয়া গান গল্প কথা
বাস্তবিক কোন কিছু আজ ছুঁয়ে পর্যন্ত দেখেনি কোনদিন

#
দেহের নোনতা ঘাম চেটে পুঁটে তোর পটে যে বাচ্চাটা জন্ম নিলো
হৃদয় অন্তরে কান পেতে শোন শব্দ কথা স্পষ্ট উচ্চারণে
উত্তাপে জ্বালাও অগ্নি শরীরের ভাষা, সন্ধ্যার গায়িত্রী মন্ত্রে স্নান করো
জোৎস্নায় তোমার রমনীয় চোখে আঁকো কয়েক হাজার দিন-রাত্রি, স্বপ্ন
তারপর তাকে দুটোহাত ভ’রে আবার ফিরিয়ে দিও আদিগন্ত মাঠ
ঠাকুমার ছড়া–কাটা দিন শূণ্য আলপথ ছেড়ে দূরে, আরো বহুদূরে
যেখানে আমার তোর সব জন্ম বৃত্তান্ত নির্নয় করা আছে
নাভির গহণ তলে ডুবে যেতে যেতে মাঝি গান ধরো ইছামতী …..

*********************









*

একটা একটা করে দিন
কবি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়
কবির ২০০৫ সালে প্রকাশিত "জীর্ণ ডায়েরির পাতা থেকে" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৮.২০২৩।

একটা একটা করে দিন, আর একদিন একদিন করে বছরের পর বছর চলে গেল
বুঝতেই পারলাম না
চলে গেল বহু স¤পর্ক। অনেক কথায় বুনে তোলা স্বপ্ন
তোমার রঙিন ওড়না যে হাওয়ার পথে ভেসে গেছে
আজও চোখ বুজে দেখতে পাই ভেসে যাচ্ছে
আমাদের ফেলে আসা কতো গান, রঙ—ছবি....
একটা কামিনী গাছ পুঁতবো ভেবেছিলাম
তাও সে কবে কোনদিন, সে সব আজ আর প্রায় মনেই পড়েনা
কেবল গন্ধে ভরে থাকা কামিনী গাছ
নরম উজ্জ্বল আলোর ঝালর জড়িয়ে
কোথা দিয়ে যে চলে গেল তা বুঝতেই পারলাম না।

ছেলেবেলায় জীতেন রায় আমাকে বলতেন, তুই ঘুড়ি ওড়া, আমার মতো
দেখবি উড়তে উড়তে ঘুড়ি একদিন পাখি হয়ে যাবে
ওঁর ঘুড়ি ওড়ানোর ভীষণ শখ ছিল।
ঝলসে ঠিকরে বেরিয়ে গেছে আমার চোখ
যে ভাবে ঘোর অমাবস্যার রাতে
জ্বলন্ত নক্ষত্রের মতো ছুটে ধেয়ে যায়
সহস্র আলোর রেখার মাতাল উল-লাস
যাদের ছায়ার অবয়ব; তোমাকে ঘিরে উদ্দাম নেচেছিল
আর একটা একটা করে আমার সব ঘুড়ি কেটে গেছে
তারপর ভাসতে ভাসতে দূরে কোথায় কতদূর....
ছুটে গিয়েছিলাম যদি অন্তত একটাকেও পাওয়া যেতো
হয়তো সেই নীল পাহাড়ের দেশে
হয়তো সেই রাঙা মাটির দেশে

সন্ধ্যা প্রার্থনার শেষে জ্বেলেছিলে মমের বাতি
ফিরে পাওয়ার আশায় সন্ধ্যা মালতীর চোখ জ্বেলে চেয়েছিলাম শিখা
তরঙ্গের মতো কেঁপে উঠেছিলো আমার হৃদয়
শুধু এক কঠিন নির্জীবতা শীতল বিষাদের গান শুনিয়েছিল
তারপর থেকে দীর্ঘ অলস সময় পার করে
মুগ্ধ হয়ে দেখেছি তোমার দুটো চোখ, বড় বড় পাতা দিয়ে ঢাকা,
অতল শান্ত
ধেয়ে গেছি বাতাস তরঙ্গে, দিক বিদিক ভুলে, ভূত ভবিষ্যৎ ভুলে
ছুটে গেছি নক্ষত্রের মতো তীব্র, নদীর মতো ভাঙচুর করে
শেষ যতটা পর্যন্ত উন্মাদ হওয়া যেতে পারে....

জীতেন বাবু সেদিন মিথ্যে কথাটা না বললেই পারতেন
কখনো ঘুড়ি পাখি হয়না আমি জানি
তবু পড়ে থাকা কয়েকজনের শীতল হাতের সান্ত্বনা
সেখানে তুমি নেই, তুমি নেই
কেবল মরকের মতো খেয়ে নেওয়া দীর্ঘ সময়
একটু একটু করে, কোথা দিয়ে যে চলে যায়!

*********************









*

অথচ জটিল সেই কৌশলে ছিঁড়েছে নাভি
কবি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়
কবির ২০০৫ সালে প্রকাশিত "জীর্ণ ডায়েরির পাতা থেকে" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৮.২০২৩।

অথচ জটিল সেই কৌশলে ছিঁড়েছে নাভি
তোর শ্বাস ভিন্ন দিকে ধায়
জলের তরঙ্গ কেঁপে সরে সরে যায় একে একে
সেদিনের সেই ছোট্ট বাচ্চা মেয়েটা লাজুক
আজকে আমার চোখ থেকে সরিয়ে নিয়েছে চোখ
যেন ঐশ্বরিক পাপ মিশেছিলো শরীরে শরীরে
রাতের ইশারা ধীরে ছায়ার মতন নেমে আসে
ওরা দুটো প্রাণ, স্বপ্ন চোখে
যেন সেই কবেকার দিক-শূন্য মাঠ পড়ে আছে
যেন সেই কবেকার মায়া মৃত্যু খেলা

*********************









*

খাও অন্ধকার খাও উরু জঙ্ঘা নাভি
কবি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়
কবির ২০০৫ সালে প্রকাশিত "জীর্ণ ডায়েরির পাতা থেকে" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৮.২০২৩।

খাও অন্ধকার খাও উরু জঙ্ঘা নাভি
পালিকা মায়ের চোখ খাও
    রুদ্র পরশুরামের শাপ
সমুদ্র মন্থনে বিষ খাও অমৃতের পুত্র
যারা জন্মে জন্মে পায় শরীর আকার
জলের গভীরে ডুবে তার অমরত্ব
আর সন্তানের জন্ম বৃত্তান্ত নির্ণয়
খাও অন্ধকার খাও উরু জঙ্ঘা নাভি
এসব জেনেও নারী
তবু কেন জন্ম মৃত্যু, তুমি গর্ভে লালন করেছ

*********************









*

খাদের কিনারে ঠেলে ফেলে দাও লোহার শিকল
কবি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়
কবির ২০০৫ সালে প্রকাশিত "জীর্ণ ডায়েরির পাতা থেকে" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৮.২০২৩।

খাদের কিনারে ঠেলে ফেলে দাও লোহার শিকল
আমার প্রেমিকা হাত নেড়ে বোঝে ইঙ্গিতের ভাষা
এই ধুলোমাখা জল ছুঁয়ে দেখো সাড়াশব্দ নেই
বিদ্যুৎ খন্ডের মতো ঝলসে ওঠা আলো হাসি কথা
অসুখ বিসুখে পুড়ে জ্বালো কন্ঠনালী আলোপথ
দেহের সমস্ত পাপ মুক্ত হও, মুক্ত করো জল, গঙ্গা…গঙ্গা।

*********************