কবি বিকাশ ভট্টাচার্যর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি বিকাশ ভট্টাচার্যর পরিচিতির পাতায় . . .
অথচ তোমাকে চাই
কবি বিকাশ ভট্টাচার্য
কবির "বসন্তের চাঁদমালা" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগর প্রকাশ ১২.৭.২০২৩।

বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে সুদূর
দূরত্বে বুক ভাঙে বিশ্বাসে ফতুর

মন খুলে দিয়েছো, ধরেছো যে হাত
বিষ শ্বাসে ঘটে যায় মিথুনপ্রমাদ

অথচ তোমাকে চাই। নিস্তার নেই
মাতাল-সিন্ধু বুকের মধ্যিখানেই

সাঁঝতারা শুতে এলো শুকতারাতে
ঘুম নেই সুরও নেই ছেঁড়া দোতারাতে

মুঠোমুঠো এলজোলাম, হলদেটে চাঁদ
উড়োপুড়ো মেঘ ভাসে, মরা গিরিখাত

ও সহিস। ভাড়া কত? চুড়ো কদ্দূর
রোদ্দুরে ভেজা ভেজা স্মৃতি শত্তুর

বুকেতে চলকে ওঠে তরলিত প্রেম
নিকষিত হেম ভেবে লিখে ফেললেম।

*********************









*
দেখা হবে নিশ্চয়ই
কবি বিকাশ ভট্টাচার্য
কবির "বসন্তের চাঁদমালা" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগর প্রকাশ ১২.৭.২০২৩।

কোথায় তুমি? মট লেনে নাকি
লোরেটোর গেট?
রুখুশুখু মুখে কাতারে কাতারে
ভুখা পেট
আছড়ে পড়ছে রাজভবনের
চৌহদ্দিতে সেখানে ?
আমি কে.সি.দাশে
তোমার জন্যে দাঁড়িয়ে

দেখা হবে নিশ্চয়ই
আইনের জোরে সশস্ত্ররা
লাশের ভাগাড় রক্তনদী
এইসব ছাড়া আর কি বানাবে?
কেউ ছড়াবে না অন্তিম পথে
শাদা কড়ি শাদা খই

কে.সি.দাশ মোড়ে কিংবা শ্মশানে
দেখা হবে নিশ্চয়ই

*********************









*
সাদামাটা কিন্তু দুর্দান্ত
কবি বিকাশ ভট্টাচার্য
কবির "রাস্তায় নামালে কেন" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগর প্রকাশ ১২.৭.২০২৩।

প্রথমে একটা দুটো। তারপরে লম্বা লাইন
তারও পরে স্তূপাকার শব। একপাও
এগুনো যাচ্ছে না। অথচ
যাওয়া তো চাই।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা অনেক
জিজ্ঞাসা চিহ্নের মতো দাঁড়িয়ে জ্ঞানবৃদ্ধ
এঁচড়ে পাকা থেকে মহিলামহল

কেউ বলল রাজনীতি। কেউ বলল জ্ঞাতিশত্রু
কেউ বলল দাদাদের এলাকা দখল

সবশেষে পাওয়া গেল একটা সাদামাটা
কিন্তু দুর্দান্ত বিজ্ঞাপন :
নিশ্চিত চাকরি। নিহতের পরিবারপিছু একজন

*********************









*
রাস্তায় নামালে কেন
কবি বিকাশ ভট্টাচার্য
কবির "রাস্তায় নামালে কেন" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগর প্রকাশ ১২.৭.২০২৩।

রাস্তায় নামালে কেন শূন্য হাতে ফেরাবে যদি
বিষণ্ণ সন্ধ্যার রঙে ঢেকে যায় প্রিয় অলিগলি
প্রকাশ্যে নামালে ঢল পথে বেপথে
যেকোনো দিকেই তো চলে যাবে তুঙ্গ অভিমুখে
চলে যাবে গ্রিকবীর কিংবা চৈতকের মতো
তাহলে নামালে কেন খোলা রাস্তায়
শূন্য হাতে ফেরাবে যদি

সবই তো অগ্নিজীব নাহয় আগুনের বালিপাথর
তাহলে দেখালে কেন ভস্মাধার নির্বাসিত কবর
স্বভাবে আহুতিপ্রিয় লেলিহান বহুগামী জিভে
সবই কি সুস্বাদু দাহ্য বয়ান? সবই কি ব্রহ্মতেজ
বাসাবাড়ি তৃতীয় নয়ন

রাস্তায় নামালে কেন শূন্য হাতে ফেরাবে যদি
বিষণ্ণ সন্ধ্যার রঙে আমি ঢেকে যাই

*********************









*
বিভ্রম
কবি বিকাশ ভট্টাচার্য
কবির "প্রত্যুষা তোমাকে" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগর প্রকাশ ১২.৭.২০২৩।

মাঝে মাঝে ঘুম থেকে উঠে ভাবি ভোর হলো
আসলে প্রদোষ
কাকের গ্রীবার মতো বাতাসের রঙ
দৃষ্টিভ্রম নাকি স্মৃতিবিভ্রম
ঠাওর হয় না সহজে। কয়েদির মতন
যেন গারদের ভেতর থেকে আকাশ খুঁজি
আকাশে সূর্যনাভির টানে ঘুম ভেঙে উঠে
যারা যাবার চলে যায় সমুদ্র তটে
পাহাড়ে জঙ্গলে
একাকি। দঙ্গলে। যদিও
গবাক্ষে কোনদিন সূর্য উঠবে না হৃদয় জানে

সুতরাং বিশুদ্ধ দিগভ্রমে চোখ রগড়ে
ফের আমি খুঁজেছি আকাশ
আকাবাঁকা ছায়া এঁকে পালকের শব্দ তুলে
কাকপাখি উড়ে গ্যাছে
পল্লবের স্তূপে ঝিলকে ওঠে রোদ্দুর

"চা খাবে এসো"---
এই বলে পিছনে যে নিঃশব্দে দাঁড়ায়
মাঝে মাঝে সেখানেও ভুল গেয়ে উঠি:
তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা। তুমি .......

আসলে প্রত্যুষ

*********************









*
অসামান্য জ্বর
কবি বিকাশ ভট্টাচার্য
কবির "প্রত্যুষা তোমাকে" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগর প্রকাশ ১২.৭.২০২৩।

প্রতিদিন দুয়ার ছুঁয়ে হেঁকে যায়
সব্জিওলা:
বৌ...দি...ম...ণি.......
দরজা খুলে বেরিয়ে আসে সিঁদুর
শাঁখাপলা
চাঁদপানা মুখ

কত করে পাতিলেবু? রং করা পটল
কয়েকদিন দেখিনি কেন
যতীন

সামান্য জ্বর ছিল। তবু চোদ্দদিন
সকলেই বললো তোর
কোয়ারেণ্টিন

*********************









*
সুনয়নী বাড়ি নেই
কবি বিকাশ ভট্টাচার্য
কবির "দূরত্ব খুব অসামাজিক" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগর প্রকাশ ১২.৭.২০২৩।

তোমাকে দেখতে চেয়েছি বিষাদঘন চোখে
দীর্ঘ অসহবাসে যেন এক লম্বিত অশৌচ
নিজেকেও চিনতে পারিনা। দু'চোখে
হিরণ্যমৃগের বিভ্রম

প্রতিদিন কাছে-দূরে অরবে-সরবে
নির্জন নৈঃশব্দ্য এসে সংক্রমিত করে
বুকের ভেতরে জমে প্রেত অন্ধকার।
নুলো হয়ে যায় হাত, আড়ষ্ট হয়ে যায় জিভ
কুসুমকথাগুলো, পরিচিত বিন্যাসগুলো
উলঢাল বিছানার মতো প'ড়ে আছে শুশ্রূষার
করিডোরে। জীবাণুযুদ্ধে সে এক পরিখাজীবন।

রক্তাক্ত পদাবলীর দিকে তাকাইনি ত্রাসে
মাইল মাইল রাত্রি পার হয়ে অবশেষে
তোমার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছি
: বাড়ি আছো সুনয়নী?

শব্দহীন ঘর থেকে আজও কোনো উত্তর মেলেনি

*********************









*
শিকড়
কবি বিকাশ ভট্টাচার্য
কবির "দূরত্ব খুব অসামাজিক" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগর প্রকাশ ১২.৭.২০২৩।

অন্য ভুবন কিনা জানিনা। কিছুটা ওলটপালট
কোনও রাঙা মাটি চোখে পড়ছে না
কোনও পথের পাঁচালী নেই
দূরে দূরে কয়েকটা হরিৎ আয়ত ক্ষেত আর
ধোঁয়ার চাদরে ঢাকা দীর্ঘশ্বাস

একটা বিভূতিভূষণ ছিল হয়তো
একটা জীবনানন্দ দাশ
বুকের ভেতরে ;
রবীন্দ্ররোদ্দুর মেখে এখনও নদীতে     নৌকা ভাসাই

এই কোভিদ ঊনিশেও দেখছি দুগ্গাকাঠামোয়
মাটি পড়েছে
সেই ধবল কাশের বনে শতাব্দীপ্রাচীন
হাওয়াদোল

*********************









*
বাউলপাড়া
কবি বিকাশ ভট্টাচার্য
কবির "বাউলপাড়া" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগর প্রকাশ ১২.৭.২০২৩।

যতটুকু রেখেছো রোদ্দুরে অমল বাতাসে
যতটুকু জ্যোৎস্না রাখো দর্শনি ছাড়া
কাক ডাকে। ভোর হয়
সন্ধে নিয়ে ফেরে হাঁসের দল
শুধু আমার বাঁধন নেই। নিয়মবহির্ভূত। লাগামছাড়া

তোমাকে কতটুকু দেওয়া যায় ঔচিত্যবোধে
কতটুকু হওয়া যায় পুষ্পস্তবক
হেমন্তে ঝ'রে পড়ে অমোঘ শিশির
বসন্তকোরক ফোটে রৌদ্রে মধুময়
আমার উত্থান নেই। পতন নেই। আমার বুকের ভেতর বাউলপাড়া

আমার বাঁধন নেই। নিয়মবহির্ভূত। লাগামছাড়া

*********************









*
ভেসে যায় জললিপি
কবি বিকাশ ভট্টাচার্য
কবির "বাউলপাড়া" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগর প্রকাশ ১২.৭.২০২৩।

সে লেখা তুমি পড়োনি
সে লেখা জলের ওপরে লেখা
বরফের নিচে এখন যা দেখছ
সে তো কবেকার জীবাশ্মলিপি
ও তুমি চিনতে পারবে না
সেই যে পাথরের খাঁজে ধাক্কা খেয়ে
    কে কোথায় ছিটকে গেছি
      আমরা জানি না
ঘোলা জলে সমুদ্রের নুনে
সাদা মেঘে কালো মেঘে
      তুষারের হিমে
আমরা ক্রমাগত অপসারী আলোর
            কণিকা
হিমবাহের নিচে এখন যে শব্দ শুনছ
সে শব্দ দীর্ঘশ্বাসের মতো
করুণ। যে কেউ দাঁড়ালে
      শুনতে পায়
আমাদের জললিপিও

*********************