তুমি যে নিবিড় তাঁত এ বাংলার, নও তো রেশমি কবি দীপন মিত্র
তুমি যে নিবিড় তাঁত এ বাংলার, নও তো রেশমি তোমার হাঁসের গন্ধ আমি পাই ঘোর ধাত্রীগ্রামে সারা রাত ভীত বোনা, ঊষাকালে ক্লান্ত নিদ্রা যাও তোমার সে মীন-ঘুমে স্বপ্নবৎ কত যে গিয়েছি হয়তো শরৎ আসবে এমন বোধের গুপ্ত স্নানে পঞ্চদশ শতাব্দীর রাজবলহাটে দেখি তুমি এঁকে বেঁকে ছায়াচ্ছন্ন গ্রামপথে গভীর কুটীরে। আমি কত জন্ম কাটিয়েছি হায় --- তোমাতে শ্রী-লীন আজ সব ব্যর্থ করে পদচিহ্ন মুছে দিতে চাও হয় না, হয় না, বক্ষে ধরেছি কালের হংসধ্বনি!
তোমাকে আসতে হবে জানি আমি, নদী ধারে বাস কবি দীপন মিত্র
তোমাকে আসতে হবে জানি আমি, নদী ধারে বাস সাধুসন্ত আসতেন জ্যেতিষিগণের এই ঠেকে সে সব শতক বর্ষ পূর্বেকার আরেক জগৎ তোমার মতোই নেশা করতেন সিদ্ধি গাঁজা ভাঙ মঙ্গলকাব্যের এই ঘাটে তুমি না এসে পারো না তুষার, ভাস্কর কাছে থাকতেন --- কবিতায় দূরে তাঁদের ভালোই তুমি জেনেছিলে তাঁরাও মোক্ষম চিনতেন তোমাকেও আসলে তো সন্ত ছিল তাঁরা ফাল্গুনী রায়কে মনে পড়ে? তাঁর সংক্রামক হাসি সক্রেটিস সঙ্গে তাঁর কথোপকথন, বিষ পান এত শত আরণ্যক আত্মাগুলি দেয় গুণে টান আমার নৌকাখানি গাছেদের পাশে এসে থামে তুমি জানি বসে থাকো নৌকার কুটিরে একা একা . **************** . সূচীতে . . .
মধ্যরাতে দেখি আমি পুবের আকাশ থেকে ওঠে আলো ঢেউ কবি দীপন মিত্র
মধ্যরাতে দেখি আমি পুবের আকাশ থেকে ওঠে আলো ঢেউ সমুদ্র কল্লোল ভাঙে --- অন্ধকারও মনে হয় সুধাময় আলো শিউলি গাছটি দেখি শ্বেতবস্ত্র পরিহিতা শুভ্র এক পরি যাদু দণ্ড ঘিরে তার কত তারা গ্রহ ঘোরে, ছায়াপথ হাসে সমুদ্র সৈকতে যত উজ্জ্বল দোকানপাট নিভে গেছে কবে এদিকে শহরে দেখ বাড়িগুলো নিদ্রারত, ল্যাম্পপোস্ট খোঁজে পাথরে বাজিয়ে যেত বুকে তার সেই সব ছেলেদের দল!
তোমার পিছনে ছুটে কেটে যায় একটা জীবন কবি দীপন মিত্র
তোমার পিছনে ছুটে কেটে যায় একটা জীবন তবু কি তোমাকে পায়? সংশয়ে সংশয়ে এত ক্ষয়! রেসের অনেক ঘোড়া ব্যর্থকাম, ফেনা মুখে মরে না হয় সে জীর্ণ শীর্ণ, পরিত্যক্ত --- ময়দানে ঘোরে তাদের বিষণ্ণ মুখ কালের জানলায় বড় হয়ে চেয়ে থাকে পৃথিবীর দিকে, খোঁজে কোনো পরিণতি কেউ বা তরুণ সদ্য, পাখির নরম বুক কাঁপে দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটে, নীচে অন্ধকার খাদ কেউ ড্রাগে, কেউ যায় উদ্বন্ধনে, কেউ বা উন্মাদ! কে তুমি নিষ্টুরতমা, হিংস্র রহস্যময়তা, কে? কে?
তোমার সোনার সুতো বাঁধা হয় তারায় তারায় তার নীচে নৃত্য করে ব়্যাঁবো আর তাঁর সন্ততিরা . **************** . সূচীতে . . .
প্রতিটি ঘটনা, দৃশ্য মাটি ফুঁড়ে দেখি বের হয় কবি দীপন মিত্র
প্রতিটি ঘটনা, দৃশ্য মাটি ফুঁড়ে দেখি বের হয় বেহালাবাদক আমি সেই লুপ্ত শহরের বুকে ফিরে এসে খুঁজি ফের ফেলে যাওয়া সামান্য বাগান এখন কার্তিক মাস সারারাত আলো জ্বলে ছাদে পূর্বপিতৃমাতৃগণ এই আলো দেখে ফিরবেন লেবুগাছ, ফুলগন্ধে মনে পড়বে, ঘর গেরস্থালি তখন চড়ুইভাতি তখন উৎসব সারারাত অতীত ও বর্তমান মদ খেয়ে ঘুরবে ভবিষ্যতে
নীলকণ্ঠ পাখি হাতে অখিলে ওড়ায় মানুষেরা আকাশও তো পৃথিবীর মাটি ফুঁড়ে পেখম ছড়ায় তাদের ডানার থেকে চুরি করি আমার নয়ন তাইতো কবিতা লেখা, অফুরান দৃশ্য জন্ম দেওয়া কুসুমের কাছে আমি চিরঋণী ঢেলেছে হৃদয় রঙ মিস্তিরির মতো নানা বর্ণে সাজাই আকাশ! . **************** . সূচীতে . . .