অত্যাচার কবি গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৫/৩৬ - ১৯১০) ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য্য দ্বারা সঙ্কলিত ও সম্পাদিত “মাতৃবন্দনা দেশাত্মবোধক সঙ্গীত ও কবিতার সঙ্কলন ১৭৪১ -১৯৪৭” থেকে নেওয়া।
বাধাবিঘ্ন কত শত শত, করিতে মা তোর চরণবন্দন। চাহি মা! গাহিতে তব গুণগান, কিন্ত তাহে রাজশাসন ভীষণ। বন্দে মাতরম্ ধ্বনি যে বা করে, রাজদ্রোহী নাকি হয় সে বিচারে, বাঁধে তারে চরে, রাখে কারাগারে, পলে পলে করে কত নির্যাতন। কহিতে ভারত-জননীর জয়, শ্বেতাঙ্গের হয় অশান্তির উদয়, যে কহে, তাহার যাতনা অপার, মা বলিতে কার এত বিড়ম্বন! কে আছে মা তোর ভকত-সন্তান, কে সঁপেছে তব পদে মন প্রাণ, শত গুপ্তচরে করে তার সন্ধান, কত অপরাধী যেন সেই জন! বুক ফেটে যায়, মুখ ফুটে তাই, বলিতে ভারতে কারো সাধ্য নাই, নিত্য নীরবে সহিতেছে সবে, মলিন বদনে মরম বেদন। . **************** . সূচীতে . . .
এসনা কবি শ্রীমতী গ--- পাঁচদোনা, এর লেখা এই কবিতাটি রয়েছে গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৫/৩৬ - ১৯১০) সম্পাদিত “মহিলা” পত্রিকার জুলাই ১৯০৮ সংখ্যার ৩২৩ পৃষ্ঠায়। অজ্ঞাত পরিচয় কবি শ্রীমতী গ-- এবং গিরিশচন্দ্র সেন কি একই ব্যক্তি? দুজনেরই নামের আদ্যক্ষর “গ” এবং দুজনেরই গ্রামের নাম “পাঁচদোনা”। আমাদের অনুমান ভুল হতে পারে। তার জন্য আমরা পাঠকের কাছে এখনই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।যদি কোনোদিন কবি শ্রীমতী গ--- এর আসল নাম ও পরিচয় জানা সম্ভব হয় তাহলে তাঁর জন্য নতুন পাতা তৈরী করে সেখানে এই কবিতাগুলি তুলে দেওয়া হবে। বানান যেমনটি-তেমনটি রাখা হয়েছে।
এসনা এসনা কাছে স’রে যাও সরে যাও একটু নীরবে রহিগো সময় দাও। নিওনা নিওনা টেনে ওই দিগে আর তুলিও না ওই কথা শ্রুতির মাঝার। সাধিতে সুন্দর কাজ সাধ তুমি বাদ হরষের মাঝে হায় আনিছ বিষাদ চাহিনা তোমার ওই আমোদিত মন অসার বিলাস লিপ্সা সুখ অনুক্ষণ। চাহিনারে দুষ্টমতী তব মধুসঙ্গ একেলা থাকিব সাদ সতত নিঃশঙ্ক। হে দুষ্ট, এসনা কাছে ভুলাইতে মন প্রচ্ছন্ন রয়েছে তোর সদা প্রলোভন। শুনিতে তোমার কথা আপাতঃ মধুর তমজালে বন্ধ করে হৃদি অন্তঃপুর। এসনা হৃদয় পুরে যাও চলি যাও তোমারে চাহিনা আমি মুহুর্ত্তে পালাও। অশেষ অনিষ্ট তুমি অহিতের মূল এইক্ষণ যাও ছাড়ি হৃদয় আমূল। থাকিব তাঁহারি সঙ্গে কিসেরি একক সকল সময়ে যিনি হৃদয় রক্ষক। শ্রবণে নাহিক চাহি অন্য কোলাহল হউক সে মধুর ভাষে হৃদি সুশীতল। ভাবিলেনা জননীর কি ভীষণ দশা সেই দিন হয়ে গেছে হায় সর্বনাশ। বৈধব্য বহ্নিতে জ্বলি, এবে তাহে তুমি দিলে পুনঃ ঘৃতাহুতি রহিবে কি প্রাণ? আজি পিতা পুত্রী তবে মিলেছে কোথায় এখানের স্নেহ প্রেম আদর যতন। কিছুই কি নাহি ভাল লাগিল তোমার তাই ত্যজি ত্বরা গেলে এ মরত ভূমি। কাঁদায়ে সবার ; যথা সুরবালাগণ রাজিছেন নিত্যসুখে দেবের সমাজে। যাও ভবে সতী লক্ষ্মী যাও অমরায় আজি রেখে পতি পুত্র কন্যা পরিজন যাও ওগো পুণ্যবতী ভূঞ্জ নিত্যসুখ পরিহরি এখানের পাপ মলিনতা॥ লও দেব পুতপায় ফুল নিরমল ঢাল শান্তিজল এই তপ্ত প্রাণে আজি। কর উদ্ভাসিত ; তব প্রেম পূণ্য জ্যোতি জননী হৃদয়ে, তুমি শান্তনা মধুর।
পূর্ণিমার আঁধারে কবি শ্রীমতী গ--- পাঁচদোনা, এর লেখা এই কবিতাটি রয়েছে গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৫/৩৬ - ১৯১০) সম্পাদিত “মহিলা” পত্রিকার মে ১৯০৮ সংখ্যার ২৭৬ পৃষ্ঠায়। অজ্ঞাত পরিচয় কবি শ্রীমতী গ-- এবং গিরিশচন্দ্র সেন কি একই ব্যক্তি? দুজনেরই নামের আদ্যক্ষর “গ” এবং দুজনেরই গ্রামের নাম “পাঁচদোনা”। আমাদের অনুমান ভুল হতে পারে। তার জন্য আমরা পাঠকের কাছে এখনই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। যদি কোনোদিন কবি শ্রীমতী গ--- এর আসল নাম ও পরিচয় জানা সম্ভব হয় তাহলে তাঁর জন্য নতুন পাতা তৈরী করে সেখানে এই কবিতাগুলি তুলে দেওয়া হবে। বানান যেমনটি-তেমনটি রাখা হয়েছে।
১ আজি কি পুণিমা তিথি? কোথা তবে শশধর? নীল নভে হাসে নাক, জ্যোতি হীন নিলাম্বর।
সান্ত্বনা কবি শ্রীমতী গ--- পাঁচদোনা, এর লেখা এই কবিতাটি রয়েছে গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৫/৩৬ - ১৯১০) সম্পাদিত “মহিলা” পত্রিকার সেপ্টেম্বর ১৯০৬ সংখ্যার ৫৫ পৃষ্ঠায়। অজ্ঞাত পরিচয় কবি শ্রীমতী গ-- এবং গিরিশচন্দ্র সেন কি একই ব্যক্তি? দুজনেরই নামের আদ্যক্ষর “গ” এবং দুজনেরই গ্রামের নাম “পাঁচদোনা”। আমাদের অনুমান ভুল হতে পারে। তার জন্য আমরা পাঠকের কাছে এখনই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। যদি কোনোদিন কবি শ্রীমতী গ--- এর আসল নাম ও পরিচয় জানা সম্ভব হয় তাহলে তাঁর জন্য নতুন পাতা তৈরী করে সেখানে এই কবিতাগুলি তুলে দেওয়া হবে। বানান যেমনটি-তেমনটি রাখা হয়েছে।
না খাকিত যদি তব প্রেমসুধা জীবের জীবনে তবে, শত আর্তনাদ আকুল প্রাণের কেমনে ঘুচিত ভবে। না থাকিত যদি ! তব প্রেমবারি তাপিত হৃদয়ে সখা, দুর্নিবার হায়, রোগ শোক আর যাইত কি প্রাণ রাখা। না থাকিত যদি তোমারি মধুর শীতল সান্ত্বনা ছায়, বিষাদ বেদনা, মরম যাতনা কেমনে ভুলিত হায়। কত হাহাকার, দুঃখ অশ্রুজল নিয়ত ধরণীতলে (তুমি) প্রশান্ত, আননে প্রসারিয়ে কর মুছাইছ আঁখি জল। তোমারি করুণা অজস্রধারায় বরষে অবনী পরে তোমারি করুণা অজস্রধারায় জীবের জীবনে ঝরে। নহ দৃষ্টিহীন তুমি হে মহান্ দুঃখী তাপী পাপী তরে সমভাবে লভে সবে প্রেম তব, তোমারি আখির পরে। তোমারি সান্ত্বনা মধুর মধুর তব প্রেমে ভরে বুক মোহিত হৃদয় নিরখি শ্রীমুখ দূরে যায় দুঃখ শোক।