কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ এর পরিচিতির পাতায় . . .
হালের দাবি
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের "দৈনিক জনকন্ঠ" পত্রিকার ২৯.০৭.২০২২ সংখ্যায়।

আমি, আমার গণতান্ত্রিক অধিকার চাই!
আমি নিরাপত্তা চাই! আমার যান-মালের -
নিরাপদ জীবন আর ব্যাংকে সংরক্ষিত আমানতের সুরক্ষা ;

আমি নাররিকত্বের সুষ্ঠু সুবিন্যস্ত সুবিধা চাই!
কালু মিয়ার বিকলাঙ্গ কন্যার প্রতিবন্ধী ভাতা,
অশীতি-উর্ধ্ব বৃদ্ধের বয়স্ক ভাতা,সায়রা বানুর
বিধবা ভাতা, মিসেস কোরেশীর রিটায়ার্ড ভাতা।

আমি সনদ চাই!
শুধু একাডেমিক সনদ নয় ;প্রতিটি যুবকের বেকারত্বহীনতার সনদ।

আমি অনুমোদন চাই!
ভূমিহীন মরম আলীর, খাস জমি বন্দোবস্ত নথির!

আমি নিষ্পত্তি চাই!
যীশু খ্রীষ্টের রক্তাক্ত ছবির মতো ঝুলন্ত আদালতের ঐ সব মোকাদ্দমার।

আমি জরিমানা চাই !
ভেজাল মিশ্রিত অসাধু খাদ্য ব্যবসায়ীর মতো
আজকের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবসায়ীর।

আমি ন্যায্য মূল্য চাই!
কৃষকের ফসলের আর শ্রমিকের স্বেদজলের!

আমি একটি প্রজ্ঞাপন চাই!
অকুশল প্রকৌশলীর, অদক্ষ চিকিৎসকের,
আদর্শচ্যুত শিক্ষকের,ঘুষখোর সান্ত্রীর -
আর অযোগ্য-অপটু আমলার সাসপেন্ড পত্রের।

আমি অগ্নিসাৎ চাই!
ভুয়া মিডিয়ার ছাপা খানায়,
ঘুষের আখড়া খ্যাত প্রতিটি দপ্তরে দপ্তরে !

আমি ফাসি চাই!
জনতার সম্মুখে মঞ্চ কম্পিত করে মিথ্যা ভাষন দাতা ভণ্ড নেতার!

*********************









*
ইস্তফা
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের "দৈনিক জনকন্ঠ" পত্রিকার ৩০.০৯.২০২২ সংখ্যায়।

মহানন্দা, আমি আর কবিতা লিখবো না!
ছন্দহীন-অমাধুর্য রসাশূন্য অশ্রাব্য ভাষায়;
অসার-অভাবার্থ-অমৌলিকত্ব-অবিন্যস্ত কবিতা -
আমি লিখবো না।
অবোধ অজ্ঞতায় কাব্য-দেব রবিঠাকুরের সুনিপুণ
সুশ্রী সৃষ্টির গা'য়ে ক্ষত করতে;
ক্ষেপা দুর্বাসা'র ন্যায় ক্ষিপ্ত যুগান্তকারী কাব্য-মহাধ্যানী
নজরুলের ধ্যান ভগ্ন করে,
এমন অভিশপ্ত কবিতা আমি লিখবো না!

অথচ তুমি বারবার বলছো কবিতা লিখতে!
কিন্তু,কেন? কি কবিতা? কেমন কবিতা আমি লিখবো?
ঐ মূর্খ কোন্দলবাজ গ্রাম্য মাতব্বরকে নিয়ে ?
সুবিদাবাদী পরনিন্দাকারী সুশীলের গুনকীর্তন গাইতে?
আজকের অযোগ্য সমাজপতীকে কুর্ণিশ করতে?
উন্মত্ত কোন পাতি নেতার মিছিলের স্লোগান-শ্লোক?
আদর্শচ্যুত শিক্ষক,অসভ্য নেশাগ্রস্থ শিক্ষার্থীর পাঠ্যবইয়ের জন্য?
পিএইচডি-ধারী কোন গণ্ডমূর্খের গবেষণাকে কেন্দ্র করে?
অকুশল প্রকৌশলীর দক্ষতার প্রশংসা করে?
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ ঐ সব ধর্মান্ধদের সাধুবাদ জ্ঞাপন করতে?
ভাষাজ্ঞান শূন্য অজ্ঞ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক আর
অর্থলোভী গ্রন্থ প্রকাশককে ভজনগীত শুনাতে?
মানস-প্রিয়া মিথ্যাময়ী অবিশ্বস্ত প্রেমিকাদের কণ্ঠে
জড়াতে প্রতিটি প্রেম পঙক্তিমালা?
অবশ্য তুমি আমার বিশ্বস্ত প্রেমিকা!
তবুও,এসব কবিতা আমি লিখবো না।
মহানন্দা,বিশ্বাস করো!
এতে যদি তোমার সাথে আমার বিচ্ছেদ হয়,
তবুও আমি আর কোনদিন কবিতা লিখবোনা!

আজ ভারাক্রান্ত মনে আমি ঘোষণা করছি,
উপস্থিত দেশের বরেণ্য টিভি চ্যানেল ও পত্র পত্রিকার -
গন্য-মান্য-জঘন্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বগণ ।
'জঘন্য' শব্দটি এজন্য বলেছি,- কেননা ক'জন
ভূয়া মিডিয়ার অশিক্ষিত সাংবাদিকও এখানে আছেন!

শুনুন,যারা এদেশের মস্তক রন্ধ্র-বিবর করে চুষে খাচ্ছে
ঐ সমস্ত অসাধু ব্যবসায়ী, অসুর পুঁজিবাদী,শিক্ষার দোকানদার,
চিকিৎসার দালাল,ঘুষখোর আমলাকে অঞ্জলি দিতে ;
এমন তৈল ম্রক্ষণ কবিতা আমি লিখবোনা।

যে কবিতায় কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মজুরের সর্বোপরি
সর্বসাধারণের কোন প্রকার দাবি কিংবা স্বত্ব-স্বামিত্ব উল্লেখ নাই;
শুধু মাত্র যশ-খ্যাতি আর স্বর্ণপদকে ভূষিত হওয়ার স্পৃহায়!
আমি কবিতা লিখবো না ;
যদি আমার কবিতা ঐ সব বিচার-বঞ্চিত,
চিকিৎসা-বঞ্চিত, উন্নয়ন-বঞ্চিত, অধিকার-বঞ্চিত
মানুষের পাশে বিস্ফুরিত হয়ে প্রতিবাদের তিগ্মে ধ্বনিতে পৌঁছায় না!
এসব বস্তা ভরা সস্তা কবিতা, আমি লিখবো না।

'স্টপ'! সাইলেন্ট মোডে' থাকুন!
কেউ উচ্চস্বরে কথা বলবেননা! আজকে শুধু আমি বলবো,-
আপনারা গোবেচারার মতো শ্রবণ করবেন;
ভুলে যাবেননা আমি কবি!
যেমন কোমল সুলেল স্নিগ্ধ ;
তেমনি আমার লিখিত অলিখিত উচ্চারিত
এক-একটি বাক্য মিসাইলের মতো ধ্বংসাত্মক শক্তিধর অস্ত্র;
প্রতিটি শব্দ বুলেটের স্ফুলিঙ্গ অগ্নি ছর্রা ধ্বনি,
তাই সাবধান! আমি চাইলেই নিমিষে উড়িয়ে দিতে পারি সব কিছু!

আমি ঘোষনা করছি,সবার সম্মুখে এই ভরা মজলিসে
আমি ইস্তফা দিলাম! ইস্তফা দিলাম!
আজকের পর থেকে আর কোন কবিতা আমি লিখবনা!
এই আমার শেষ-বাক্য,শেষ শব্দ উচ্চারণ,
এখন থেকে আমি নীরব, বোবা-প্রেমিক আর বাকস্তব্ধ প্রাণী;
কিন্তু, আমার এ নীরবতাই একবিংশ শতাব্দীর
একটি শ্রেষ্ঠ মৌন-যুদ্ধের ঘোষণা।

*********************









*
বিধ্বস্ত স্বাধীনতা
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের "দৈনিক নয়াদিগন্ত" পত্রিকার ২৪.০৩.২০২৩ সংখ্যায়।

আমি মাটির দেয়ালে লেখা স্বাধীনতা দেখেছি,-
সদ্যোজাত শিশুর রক্তে লেখা স্বাধীনতা;
আমি দেখেছি AK- 47
এর গুলিতে পথচারীর দেহ থেকে -
টপটপ করে ঝরে যেতে, রক্তঝরা স্বাধীনতা!

আমি দেখেছি,-প্রতিটি কুমারীর চোখে বিভীষিকায়,
বিধবার কাতর হাহাকারে;
সীমহীন ভয় ও বেদনায় বিমূর্ত স্বাধীনতা!

আমি ক্ষয়ষ্ণু দেহ থেকে স্বাধীনতার সঙ্গীত শুনেছি,-
শিরশ্ছেদ করা আত্মাদের কন্ঠে গাওয়া স্বাধীনতার গান।

আমি দেখেছি বেসামরিক বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক প্রতিবাদে
গ্রেনেডের-বিস্ফোরণে বিদগ্ধ স্বাধীনতাকে!

আমি দেখেছি, গণতন্ত্রের সিংহাসন থেকে একনায়কদের
অপসারণ করতে না-পারা;-ব্যর্থ স্বাধীনতাকে!

এসব রক্তপাত দেখে আমি বলেছিলাম,-
"হে স্বাধীনতা,-এবার তুমি, তোমার ঐশর্যময় শক্তি দেখাও!"

অত:পর ডুবে যাওয়া বিভ্রান্ত ছায়ার মতো স্বাধীনতা
আমার দিকে ঘুরে বললো,- "আমার শক্তির বীজ বপন করো তোমাদের উর্বর সাহসী হৃদয়ে"।

*********************









*
সেদিন ছিলো একুশে ফেব্রুয়ারি
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।

সেদিন বইছিলো থোকা-থোকা উদ্দাম হাওয়া
বৃক্ষ শাখে কণ্ঠজ্বলা অজস্র পিকের চাপা-বিলাপ;
অথচ সেদিন বসন্ত ছিলো,
রঙিন রক্তছটা প্রভাতে-
উত্থিত সূর্যের রক্তিম আভায় আরক্ত ছিলো
সমস্ত আকাশ।
চিরহরিৎ বাংলার ঘাস-লতা-পাতা
আরো বেশি রঙিন হয়ে উঠেছিলো মঞ্জিষ্ঠা রঙে;
কিন্তু তা বসন্তের রঙে নয়!
সেদিন ছিলো একুশে ফেব্রুয়ারি
মাতৃভুমির জন্যে,মায়ের ভাষায় কথা বলার জন্যে,
বাংলা মায়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান,
ভাষা-বীর রফিক-সালাম-বরকত
বুকের টুকটুকে টাটকা রক্তে রাঙিয়ে ছিলেন,-
গোধুলি আকাশ, ফুল ও বসন্তকে লাল রক্ত-রাগে।

*********************









*
অস্থির
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।

নিগূঢ় রাত-
আমি ঘুমের মধ্যে বিভর স্বপ্নে বিচরণ করছি,
নিঃসঙ্গ একটি পর্বতশৃঙ্খে।
দূরের ধোঁয়া ও কুয়াশা থেকে উদ্ভাবিত নীল বর্ণের গগনচারী-
একটি অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে দিচ্ছে সমস্তস্থান;
আগুন্তক উন্মত্ত আগুনে -
সব কিছু পুড়ে যেতে দেখছি স্বচোক্ষে
আমার সমস্ত সত্ত্বা রাতের প্রবল অগ্নি-বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে ;
এই পৃথিবীর প্রতিচ্ছবি
আমাকে অন্য পৃথিবীর সন্ধান দেয়-
আমি প্রচণ্ডরকম অস্থির হয়ে উঠি!
স্বপ্নের ভিতরে দেখতে পাই আরেকটি স্বপ্ন;
এই নিঃসঙ্গ পাহাড়ে পদ্মের মতো উঁকি দেয়
আমার ঘুমন্ত যৌবন,
ভীরু কপালে ফুটে উঠে দুর্দান্ত সূর্য
যা আমার রক্ত কণায় প্রজ্জ্বলিত হয়- তেজস্কর রশ্মিতে।
আমি আরো, আরো প্রচণ্ডরকমভাবে অস্থির হয়ে উঠি
অসহায় মানুষের পাংশু মুখ
এবং বিধ্বস্ত স্বাধীনতার অবয়ব দেখে!
শুনতে পাই পাপিয়ার কণ্ঠে উদ্দম রণ সংগীত-
আমি স্বপ্নের ভিতরে অন্য স্বপ্নে সম্পূর্ণভাবে অস্থির!
ভাবছি,আমি যদি এই স্বদেশটাকে অস্থির করে তুলি-তাহলে কি হবে?
আচ্ছা, আমি কি এই স্বদেশকে আমার মতো অস্থির করে দিবো?
রিখটার স্কেল নির্ধারণ করবে
অস্থির ঝাঁকুনিতে ঝরে পড়বে জনস্বার্থ বৃক্ষ থেকে অনেক পাতা
যার মধ্যে লুকিয়ে আছে সংখ্যাতীত সর্বহারা এবং নিঃস্ব মানুষ
যুদ্ধবাজ এবং ফ্রন্টলাইন বাহিনী,
রাখাল এবং বিশ্বস্ত নাগরিক,
নেতৃবৃন্দ এবং মুক্তিযোদ্ধা।

*********************









*
এটি একটি যুদ্ধের কিংবা মৃত্যুর গান
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।

আমার রক্ত দিয়ে তুমি একটি সাম্রাজ্য গড়তে চাও!
আমার দেহের ক্ষুধার্ত জীর্ণ শীর্ণ হাড় দিয়ে
তুমি নির্মাণ করতে চাও - তোমার সুরক্ষা প্রাচীর ;
কিন্তু আমার ভিতরে শত-শত বছর ধরে
টেনে আনা ব্যাথার পুঞ্জীভূত স্তুপ থেকে বেজে উঠে
মাতৃভাষায় একটি গান।

আমি মাতৃভাষার গান শুনেই বেঁচে আছি, -
এমনকি জমি ছাড়াই!
এমনকি খাদ্য ছাড়াই!
এমনকি সবচেয়ে বেশী কষ্টের মধ্যে-ও!

এবং আমি এখন সেই গান গাই
অন্ধকার অরণ্যের ভিতর, অস্থির পর্বত চূড়ায়
অশান্ত সমুদ্র সৈকতে,-
প্রখর রৌদ্রে, প্রবল শীতে,অবিরল বৃষ্টিতে
সকালের সূক্ষ্ম কুয়াশায়, ধূসর সন্ধ্যায় এবং
নিবিড় নিশায়
ক্রোধে ও ভালোবাসায়
দ্রোহে ও বেদনায়
বিরামহীনভাবে আমি সেই গান গাই।

এটা পৃথিবীর একটি প্রাচীনতম গান
এটা অধিকার আদায়ের গান
এটা স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার গান
এটা প্রতিশোধ নেওয়ার গান
এটা প্রতিরোধ করার গান
এটা নতুন একটি যুদ্ধের গান
এবং আমি এই গান গাইতেই থাকবো।

এমনকি যদি তুমি আমাকে জ্যান্ত পুঁতে দাও
এমনকি যদি তুমি আমাকে নিখোঁজ হতে বাধ্য করো
এমনকি তোমার সৈন্যদের দ্বারা যদি আমাকে বিকৃত টর্চার করো
এমনকি যদি তারা আমার জিহ্বা এবং আমার চোখ উপড়ে ফেলে
এমনকি যদি আমাকে কারারুদ্ধ করো
এমনকি যদি তুমি আমাকে অ্যাসিডে দ্রবীভূত করো।
তবুও আমি এই গান গাইবো।

হে জন্মভূমি
তুমি একটি জাতিকে ধরে রেখেছো-
তোমার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অন্ধকার গহ্বরে
এখানে রাজরাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় আসে -
তাদের সোনার দাঁত দিয়ে আমাদের কামড়ানোর জন্য!

আজ রাষ্ট্রের হাতে মৃত পুরুষ এবং মৃত নারী
নিজেদের উত্থাপন করেছে,-
আমার ঠোঁট এবং আমার চামড়ার মধ্যমে তোমাকে অভিশাপ দিতে ;
আমি তোমার আইনকে অভিশাপ দিই!
আমি তোমার পতাকাকে অভিশাপ দিই!
আমি তোমার মুখকে অভিশাপ দিই!

*********************









*
গৃহবন্দি থেকে স্বাধীনতা কিংবা বর্ষার পূর্ণ সুখ উপভোগ করা যায়না
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।

জানালার পাশে কিংবা একটি ক্ষদ্র ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে, -
হাতের মধ্যে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির জল নিলেই
বর্ষাকে উপভোগ করা যায়না!

বৃষ্টি স্নাত ফুলের শরীর না-ছোঁয়ে
কেবল দূর থেকে দোল খাওয়া দেখে ;
বর্ষাকে উপভোগ করা যায়না!

ঝিরিঝিরি স্নিগ্ধ বাতাসে ভেসে আসা ফুলের সৌরভময় সুবাসে মাতাল না-হয়ে, স্বাভাবিক থেকে বর্ষা কে উপভোগ করা যায়না!
বর্ষাকে উপভোগ করতে বাহিরে বেরিয়ে এসো, -
বাগানে,ছাদে, উঠোনে কিংবা ঘুমন্ত মাঠে-
বজ্রপাতের সম্মুখে;
যেখানে বিশ্বস্ত প্রেমিকার জন্য প্রস্ফুটিত একগুচ্ছ বর্ষার ফুল ;
এবং প্রেমিকের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু একসাথে অপেক্ষায় দোল খাচ্ছে ;

বর্ষাতো এমনই স্বাধীনতার মতো
যৌবন-হারা নদীটির আবার ফিরে পাওয়া যৌবনের কলকল উচ্ছ্বাসে-
অবাধে ছুটে চলা স্রোতের তীব্র গতি;

কিন্তু, গৃহবন্দি থেকে স্বাধীনতা কিংবা বর্ষার পূর্ণ-সুখ উপভোগ করা যায়না!

*********************









*
দুঃখের স্বর্গ
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।

আমরা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ক্ষুদ্রক আয়ত বিশিষ্ট
একটি স্বাধীন সার্বভৌম ভূখণ্ডের অধিবাসী ;
এটা আমাদের স্বর্গভূমি!
শুনেছি,-স্বর্গে কোন দারিদ্রতা নেই,দুঃখ নেই ;
অফুরন্ত সুখ-শান্তি আর স্বাচ্ছন্দ্যে ভরপুর।
অথচ আমরা এখানে হতদরিদ্র ও ক্ষুধার্ত!
সীমাহীন দুঃখে -অসুখে- অস্বস্তিতে ভুগছি ;
অবশ্য স্বর্গের ঈশ্বর সর্বদা জাগ্রত এবং নিদ্রাহীন-অনিদ্র।
আমাদের ঈশ্বর কোথায়?
দ্রষ্টা না দৃষ্টিহীন,জাগ্রত নাকি চির-নিদ্রিত?

*********************









*
তোমার প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায়
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।

এই জন্মের যৌবনে
আমি প্রতিক্ষমাণ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছি এই ভূখণ্ডে
প্রিয়তম, কেবল তোমার প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায় ;

এখানে আমার দুচোখ দিয়ে সকল আশ্চর্যময় দৃশ্য দেখছি,-
বঙ্গোপোসাগরে মধ্যে ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডের লেলিহান শিখা,
নদীতে নতুন মর্গ, বাতাসে উচ্ছেদের ইশতেহার!
গহীন অরণ্যে অন্ধকারে ঘুমন্ত মানুষকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলা ;
পর্বতশৃঙ্গে স্বাধীন পাখিদের ডানা কেটে-কেটে এবং
ক্রুশবিদ্ধ যীশু খ্রীষ্টের মতো তীরবিদ্ধ করে হত্যা করতে ;
ঈশ্বরের বিকৃত গ্রন্থের মতো সংবিধানের কাটাছেঁড়া সংশোধনী!

সবকিছু অবলোকন করে আমার হৃদয়ে ভীতি নয়:
প্রহারে-প্রহারে সৃষ্টি হয়েছে গভীর রক্ত জখম!
কিন্তু তোমার প্রত্যাবর্তনের কিঞ্চিৎ সুখ
আমাকে সমস্ত কিছু এমনকি মৃত্যু উপেক্ষা করে
এই ভূখণ্ডে অপেক্ষা করতে সাহায্য করে,-
প্রচণ্ড ঝড়ের মধ্যে এমনকি বজ্রপাতের সম্মুখে,
রৌদ্র প্রখর্য দুপুরে, তপ্ত মরুভুমে, এমনকি অগ্নিকুণ্ডে!
অবিরল বৃষ্টিতে,প্লাবিত বর্ষায় এমনকি বরফের স্রোতে !
সন্ধ্যার ধূসর ছায়ায়,রাত্রির ঘন অন্ধকারে এমনকি নক্ষত্র বিস্ফোরণে ;

কেননা আমি জানি তুমি আসবে - একটি সাদা রঙের ঘোড়ায় চড়ে ;
তোমার পিছু পিছু এক কোটি কিংবা তার ও বেশী সংখ্যার একটি বহর আসবে,- এই ভুখণ্ডে।

কিন্তু আমি জানিনা,
তোমার এই প্রত্যাবর্তনটা যুদ্ধের না কি প্রেমের?
শুধু জানি, শাহবাগে, এই শাপলা চত্বরে- ক্ষীপ্র যুদ্ধের কিংবা প্রেমের বহরটি এসে থামবে ;
এবং লক্ষ-কোটি জনতার সম্মুখে
প্রকাশ্যে দিবালোকে আমার কপালে অগণিত চুম্বন রেখা আঁকতে!

আমি পাখিদের মতো এরকমভাবেই বেঁচে আছি
- ইমামুল ইসলাম মুরাদ
তুমি জানতে চাও : আমি কেমন আছি?

সম্প্রতি পাখিদের সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়েছে,
অবশ্য পাখিদের ভাষা আমি বুঝিনা!
কিন্তু দীর্ঘদিন অবলোকন করে এবং
ওদের অঙ্গ-ভঙ্গি দেখে খানিকটা বুঝতে পারি।

ওরা এখন আর আগের মতো প্রাণবন্ত নয়!
গতকাল সন্ধ্যায় লক্ষ করেছি,- খোলা মাঠের
সবুজ ঘাস চিরে
মাটির ভিতরে খুঁড়ে-খুঁড়ে কি যেন একটা খুঁজছিলো
বিষন্নতায়
এপাশ -ওপাশ চতুর্পাশে ঘুরেফিরে তাকাচ্ছিলো
চোখে-মুখে প্রচণ্ড ভয়!
চঞ্চুঠোঁটে কোন কথা নেই : সারাটা বিকাল নৈঃশব্দ- শান্ত এবং বাকরুদ্ধ হয়ে ছিলো ;
কেবল চলে যাবার মূহুর্তে কিচিরমিচির শব্দে কি যেন একটা বলে গেলে!

আজ এখনো ওরা আসেনি -
দিগন্তে হেলে পড়েছে সূর্য -ঘুটঘুটে করে অন্ধকার নেমে আসছে,-পৃথীবির এই ভূখণ্ডে ;
আমি আকশের দিকে অপলক চোখে তাকিয়ে আছি-
ওরা আজ কোথায়?

কিছুক্ষণ পরে ডানা ঝাপটাতে-ঝাপটাতে ঝাঁক-হারা একটি আহত পাখি এলো,
ঠোঁটে সূক্ষ্ম পেরেক ঠোকা,কণ্ঠনালি ছেঁড়া-
বুকে তীক্ষ্ণ তীর বিঁধা,মাথায় বুলেটবিদ্ধ
চিৎকার করে বলছে,- "আমাকে বাঁচাও! আমকে বাঁচাও! বনে এখন চরম দুঃশাসন, -
একটি বিদঘুটে স্বৈরশাসক আমাদের উপর নির্মমভাবে নির্যাতন করছে,-
যদি তার পক্ষে কেউ কথা না-বলে,
তাকে নিয়ে গান না-গায়
অথবা কবিতা আবৃত্তি না-করে
নির্বিচারে বনের পাখিদের ধরে-ধরে গুম
এমনকি নৃশংসভাবে খুন করছে
বনে এখন কোন স্বাধীনতা নেই!
আমাদের স্বাধীনতা কোথায় হারিয়ে গেছে?
আমরা আমাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে পরাধীন অধিবাসী।"

এই জন্মের যৌবনে আমি পাখিদের মতো এরকমভাবেই বেঁচে আছি!!

*********************