কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
একটি ক্ষুধার্ত কবিতা
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
আমার কাছে মনে হয়
এটি কেবলমাত্র গতকাল ছিলো: আমার বয়স সম্ভবত ১৭ হবে
আমি একটা কবিতার কথা ভাবছিলাম,
যখন আমার মা জানালার পাশে বসে ঢেঁকিতে ধান ভানছেন।
গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপে সন্ধ্যার চোখে-মুখে প্রচণ্ড ক্ষুধা ও তৃষ্ণা!
এসময় কবিতাটি কার্যকর হবে না ;
আমার পিঠ বেয়ে টপটপ করে ঘাম ঝরছে ;
বিরক্ত হয়ে ভাবলাম, -
একজন মানুষ কিভাবে ঢেঁকি-ঘরে বসে ঈশ্বরের নামে কবিতা লিখতে পারে?
সেই সন্ধ্যায় সবাই যখন ক্ষুধার্থ অবস্থায় ঘুমিয়ে গিয়েছিলো -
আমি আমার কবিতাটি সমাপ্ত করলাম।
এটি অত্যন্ত খারাপ একটি কবিতা ছিলো এবং
কেবল বহু পরে আমি বুঝতে পেরেছি:
ঢেঁকিতে ধান ভানার সময় শ্রেষ্ঠ কবিতা লেখা হয়।
*********************
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
আমার কাছে মনে হয়
এটি কেবলমাত্র গতকাল ছিলো: আমার বয়স সম্ভবত ১৭ হবে
আমি একটা কবিতার কথা ভাবছিলাম,
যখন আমার মা জানালার পাশে বসে ঢেঁকিতে ধান ভানছেন।
গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপে সন্ধ্যার চোখে-মুখে প্রচণ্ড ক্ষুধা ও তৃষ্ণা!
এসময় কবিতাটি কার্যকর হবে না ;
আমার পিঠ বেয়ে টপটপ করে ঘাম ঝরছে ;
বিরক্ত হয়ে ভাবলাম, -
একজন মানুষ কিভাবে ঢেঁকি-ঘরে বসে ঈশ্বরের নামে কবিতা লিখতে পারে?
সেই সন্ধ্যায় সবাই যখন ক্ষুধার্থ অবস্থায় ঘুমিয়ে গিয়েছিলো -
আমি আমার কবিতাটি সমাপ্ত করলাম।
এটি অত্যন্ত খারাপ একটি কবিতা ছিলো এবং
কেবল বহু পরে আমি বুঝতে পেরেছি:
ঢেঁকিতে ধান ভানার সময় শ্রেষ্ঠ কবিতা লেখা হয়।
*********************
আমি ভয় পাইনা : অন্ধকার কিংবা ভূত
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের "দৈনিক জনকন্ঠ" পত্রিকার ২৩.০৬.২০২৩ সংখ্যায়।
একটি বিষন্ন সন্ধ্যা
প্রগাঢ় অন্ধকার নেমে এসেছে পৃথিবীর এই ভূখণ্ডে
আমার সমস্ত সত্তা আজ আঁধারে প্লাবিত হচ্ছে!
প্রিয়তমা, তোমার উদ্যত কালো হাত
করবস্থানের একটি দীর্ঘ প্রাচীরের মতো আমাকে ঘিরে আছে ;
এবং তোমার পোষা ভুতেরদল
অন্ধকারের কালো ছায়ায় ধোঁয়ার মতো উড়ছে আমার চতুর্দিকে
ঘুরে-ঘুরে আমাকে ভয় দেখাচ্ছে!
অথচ অন্ধকার কিংবা ভূত
আমি কোন কিছুতেই এখন আর ভয় পাইনা!
বরং তোমার পোষা ভূতেদের ভীড়ে, -
একাকী অন্ধকারে বসে-বসে তোমাকে নিয়ে
একটি কবিতা লিখেছি,
তোমার স্বেচ্ছাচারিতা, তোমার নৃশংতা
এবং তোমার দুর্বিনীত দুর্নীতির কথা।
অবশ্য তোমার ভয়ে কবিতাটি মুদ্রণ করতে অসম্মত
সকল বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদকগণ ;
অতঃপর আমি
স্বাধীন আকশে উড্ডীন একটি মুক্ত বিহঙ্গের ঠোঁটে
কবিতাটি ছুড়ে দিলাম-
সে-ও তুলে নেয়নি তার শৈল্পিক ঠোঁটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার শঙ্কায়!
কিন্তু এই ভূখণ্ডের অধিবাসীরা এসবের কিছুই জানেনা
এরা সবাই পর্নোগ্রাফি দেখতে ব্যস্ত!
*********************
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের "দৈনিক জনকন্ঠ" পত্রিকার ২৩.০৬.২০২৩ সংখ্যায়।
একটি বিষন্ন সন্ধ্যা
প্রগাঢ় অন্ধকার নেমে এসেছে পৃথিবীর এই ভূখণ্ডে
আমার সমস্ত সত্তা আজ আঁধারে প্লাবিত হচ্ছে!
প্রিয়তমা, তোমার উদ্যত কালো হাত
করবস্থানের একটি দীর্ঘ প্রাচীরের মতো আমাকে ঘিরে আছে ;
এবং তোমার পোষা ভুতেরদল
অন্ধকারের কালো ছায়ায় ধোঁয়ার মতো উড়ছে আমার চতুর্দিকে
ঘুরে-ঘুরে আমাকে ভয় দেখাচ্ছে!
অথচ অন্ধকার কিংবা ভূত
আমি কোন কিছুতেই এখন আর ভয় পাইনা!
বরং তোমার পোষা ভূতেদের ভীড়ে, -
একাকী অন্ধকারে বসে-বসে তোমাকে নিয়ে
একটি কবিতা লিখেছি,
তোমার স্বেচ্ছাচারিতা, তোমার নৃশংতা
এবং তোমার দুর্বিনীত দুর্নীতির কথা।
অবশ্য তোমার ভয়ে কবিতাটি মুদ্রণ করতে অসম্মত
সকল বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদকগণ ;
অতঃপর আমি
স্বাধীন আকশে উড্ডীন একটি মুক্ত বিহঙ্গের ঠোঁটে
কবিতাটি ছুড়ে দিলাম-
সে-ও তুলে নেয়নি তার শৈল্পিক ঠোঁটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার শঙ্কায়!
কিন্তু এই ভূখণ্ডের অধিবাসীরা এসবের কিছুই জানেনা
এরা সবাই পর্নোগ্রাফি দেখতে ব্যস্ত!
*********************
আগন্তুক পাখি
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
রাত্রির দ্বিপ্রহর-
আমার চোখের মধ্যে একদণ্ড ঘুম নেই,-
কোন এক অজানা হাহাকার আমার চুতুর্সীমায় ঘুরছে ;
আমি উদবিগ্নতায় শয্যা ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম
কারা কক্ষের মতো ক্ষুদ্র একটুকরো বেলকনিতে
পায়চারি করতে-করতে আকাশ দেখছি,-
আকাশের মধ্যে একখণ্ড মরিচাধরা চাঁদ জ্বলছে ;
ভাঙা-ভাঙা জোৎস্নার আলোয় আলো-আঁধারি গোটা শহর।
অনুজ্জ্বল এই শহরের শূন্যে উড্ডীন আগন্তুক একঝাঁক
সামুদ্রিক সাদা পাখি ;
ওরা আমাকে দুর্দান্ত তিরস্কার করে বললো, -" তুমি কি কবি!
কেমন কবিতা লিখো? কার জন্য লিখো? কে'বা পড়ে তোমার কবিতা!"
আমি বললাম," আমি জানি না কে আমার মতো একজনকে
কবিতার দিকে নিয়ে এলো
তবে আমার কবিতা যদি কবিতা না-হয়
আমার লিখিত এবং উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ,বাক্য
এদেশের অনাগত শিশু কিংবা ভবিষ্যৎ যোদ্ধাদের জন্য
যারা স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে।"
উৎসর্গঃ কবি মার্শাল ইফতেখার আহমেদ।
*********************
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
রাত্রির দ্বিপ্রহর-
আমার চোখের মধ্যে একদণ্ড ঘুম নেই,-
কোন এক অজানা হাহাকার আমার চুতুর্সীমায় ঘুরছে ;
আমি উদবিগ্নতায় শয্যা ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম
কারা কক্ষের মতো ক্ষুদ্র একটুকরো বেলকনিতে
পায়চারি করতে-করতে আকাশ দেখছি,-
আকাশের মধ্যে একখণ্ড মরিচাধরা চাঁদ জ্বলছে ;
ভাঙা-ভাঙা জোৎস্নার আলোয় আলো-আঁধারি গোটা শহর।
অনুজ্জ্বল এই শহরের শূন্যে উড্ডীন আগন্তুক একঝাঁক
সামুদ্রিক সাদা পাখি ;
ওরা আমাকে দুর্দান্ত তিরস্কার করে বললো, -" তুমি কি কবি!
কেমন কবিতা লিখো? কার জন্য লিখো? কে'বা পড়ে তোমার কবিতা!"
আমি বললাম," আমি জানি না কে আমার মতো একজনকে
কবিতার দিকে নিয়ে এলো
তবে আমার কবিতা যদি কবিতা না-হয়
আমার লিখিত এবং উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ,বাক্য
এদেশের অনাগত শিশু কিংবা ভবিষ্যৎ যোদ্ধাদের জন্য
যারা স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে।"
উৎসর্গঃ কবি মার্শাল ইফতেখার আহমেদ।
*********************
একদল বেওয়ারিশ কুত্তা
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
যখন আমি নিঝুম রাতে
জোৎস্নার সৌন্দর্য আর ফুলের সৌরভ উপভোগ করতে -
নগরীর নির্জন রাস্তায় একা-একা হাঁটতে বেরই
আমাকে তখন একদল বেওয়ারিশ কুত্তা তাড়া করে,
আমি মোটেও তাদের দেখে ভয় পাইনি ;
বরং আমি থমকে দাঁড়িয়ে সকরুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম,-
এই উন্মত্ত নির্বোধ কুত্তাদের দিকে
হেতু,-এরা এখনো তাদের প্রভু খুঁজে পেলোনা!
*********************
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
যখন আমি নিঝুম রাতে
জোৎস্নার সৌন্দর্য আর ফুলের সৌরভ উপভোগ করতে -
নগরীর নির্জন রাস্তায় একা-একা হাঁটতে বেরই
আমাকে তখন একদল বেওয়ারিশ কুত্তা তাড়া করে,
আমি মোটেও তাদের দেখে ভয় পাইনি ;
বরং আমি থমকে দাঁড়িয়ে সকরুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম,-
এই উন্মত্ত নির্বোধ কুত্তাদের দিকে
হেতু,-এরা এখনো তাদের প্রভু খুঁজে পেলোনা!
*********************
ক্ষুধার্ত ক্রোধ
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
ক্ষুধার্ত হাঙরের ক্রোধে কেঁপে উঠে বিশাল সমুদ্র -
বনের গহীনে তান্ডব চালায় ক্ষুধার্ত চিতা বাঘ ;
অথচ আমরা এখানে প্রচন্ড ক্ষুধার্ত !
কিন্তু নিশ্চল এবং নীরব।
এই পৃথীবির স্বাধীন আকাশে উড্ডয়ন সমস্ত পাখিদের মধ্যে
আমরা যেন একঝাঁক পালকবিহীন-ন্যাড়া ও বোবা পাখি।
আমাদের কোন কথা নেই,কোন শক্তি কিংবা সামর্থ্য ;
অবশ্য আমরা নিজে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়েছি!
আমাদের অব্যক্ত কথাগুলি ঘোরাফেরা করছে,-
কিছু সস্তা সংবাদপত্রে এবং স্যাটেলাইটে চ্যানেলের মধ্যে ;
বাসস্তুবিকভাবে আমাদের অন্তরে পুঞ্জীভূত ক্ষুধার যে সুপ্ত ক্রোধ
ক্ষুধার্ত হাঙর কিংবা চিতা বাঘের চেয়েও তীব্র ভয়ানক
একটি অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং একজন একনায়কের জন্য!!
*********************
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
ক্ষুধার্ত হাঙরের ক্রোধে কেঁপে উঠে বিশাল সমুদ্র -
বনের গহীনে তান্ডব চালায় ক্ষুধার্ত চিতা বাঘ ;
অথচ আমরা এখানে প্রচন্ড ক্ষুধার্ত !
কিন্তু নিশ্চল এবং নীরব।
এই পৃথীবির স্বাধীন আকাশে উড্ডয়ন সমস্ত পাখিদের মধ্যে
আমরা যেন একঝাঁক পালকবিহীন-ন্যাড়া ও বোবা পাখি।
আমাদের কোন কথা নেই,কোন শক্তি কিংবা সামর্থ্য ;
অবশ্য আমরা নিজে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়েছি!
আমাদের অব্যক্ত কথাগুলি ঘোরাফেরা করছে,-
কিছু সস্তা সংবাদপত্রে এবং স্যাটেলাইটে চ্যানেলের মধ্যে ;
বাসস্তুবিকভাবে আমাদের অন্তরে পুঞ্জীভূত ক্ষুধার যে সুপ্ত ক্রোধ
ক্ষুধার্ত হাঙর কিংবা চিতা বাঘের চেয়েও তীব্র ভয়ানক
একটি অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং একজন একনায়কের জন্য!!
*********************
একটি সিগারেট
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
দেখুন—
বাংলাদেশের নাগরিকরা তাদের সুখের প্রমাণ জানেন না।
যুদ্ধের সময়ে, প্রত্যেকটি হাসির ছিঁড়ে যাওয়া দলিল।
দেখুন, ঈশ্বর—
বধিরদের কিছু বলার আছে যা তারা কখনো শুনেইনি।
শহরের সেন্ট্রাল স্কোয়ারে এইরকম বোমাবাজি
যদি একটি উঁচু টাওয়ারের উপরে উঠুন,
আপনি দেখতে পাবেন—একজন প্রতিবেশী চোরকে সিগারেট জ্বালিয়ে দিচ্ছে,
অন্যজন একটি কুকুরকে বিদেশী ব্রান্ডের মদ ঢেলে দিচ্ছে।
হে ঈশ্বর,-তুমি আমাকে খুঁজে পাবে,
বোবা কবুতরের ঠোঁটের মতো, আমি আশ্চর্য হয়ে কোন পথ খোঁচাচ্ছি।
*********************
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
দেখুন—
বাংলাদেশের নাগরিকরা তাদের সুখের প্রমাণ জানেন না।
যুদ্ধের সময়ে, প্রত্যেকটি হাসির ছিঁড়ে যাওয়া দলিল।
দেখুন, ঈশ্বর—
বধিরদের কিছু বলার আছে যা তারা কখনো শুনেইনি।
শহরের সেন্ট্রাল স্কোয়ারে এইরকম বোমাবাজি
যদি একটি উঁচু টাওয়ারের উপরে উঠুন,
আপনি দেখতে পাবেন—একজন প্রতিবেশী চোরকে সিগারেট জ্বালিয়ে দিচ্ছে,
অন্যজন একটি কুকুরকে বিদেশী ব্রান্ডের মদ ঢেলে দিচ্ছে।
হে ঈশ্বর,-তুমি আমাকে খুঁজে পাবে,
বোবা কবুতরের ঠোঁটের মতো, আমি আশ্চর্য হয়ে কোন পথ খোঁচাচ্ছি।
*********************
কবি এসেছিলেন
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের "দৈনিক নয়াদিগন্ত" পত্রিকার ১১.১১.২০২২ সংখ্যায়।
উৎসর্গঃ রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ।
কবি এসেছিলেন,
হেমন্তের হিম কোয়াশায় ঝিরঝির স্নিগ্ধ হাওয়ায় -
অপরিস্ফুট প্রভাতে আবিল পথে হেঁটে-হেঁটে;
শালি ধানের আমন খেতে ডাঙায়-ডাঙায়
নবান্নের উৎসবে মেতে উঠা পরিযায়ী পাখিদের সাথে
কবিতার খাতা হাতে নিয়ে।
কবি,বিস্ময় দৃষ্টিতে দর্শন করলেন,- বাংলার সৌকুমার্য রূপ
মেখলা তটিনীর কুলে পানকৌড়ির লুকোচুরি;
মাছ রাঙার রঙিন ঠোঁটে-ঠোঁটে পুঁটির খুনসুটি,
জলামগ্ন হাওড়ের বুকে দাঁড়িয়ে সাদা-বকের গগনচুম্বি উঁকি
বিলের-ঝিলের জলে লাল-নীল পদ্মের প্রসন্নতা,
স্থলে দলে-দলে সুরভী মাখা পুষ্পের মিষ্টি হাসি।
অথচ রোদের রক্তিম রশ্মি মৃত্তিকা ছোঁয়ার পর থেকেই
কবিকে আর দেখা যায়নি, কবি অকস্মাৎ নিখোঁজ!
শুধু পড়ে আছে কবিতা-খাতার প্রত্যেকটি রক্তাক্ত পৃষ্টা
ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বাংলার হাটে-ঘাটে-প্রান্তরে;
এতে সুশ্রী সুবর্ণা এই বাংলার কারুকার্যময় রূপের বর্ণনা নয়,-
কবি এঁকেছেন,- একটি রাষ্ট্রের ভয়ংকর ভীমদর্শন চিত্র!
দেশের মানচিত্রের চতুর্পাশে দুর্ভিক্ষের অস্পষ্ট ছাপ,
উল্লেখিত স্থানে- স্থানে ধ্বংস-বিধ্বস্ততার কিছু 'আইকন';
নাগরিক জীবনের বিমূর্ত ছবি আর দুঃখ ধূসর কোটি-কোটি মুখ!
*********************
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের "দৈনিক নয়াদিগন্ত" পত্রিকার ১১.১১.২০২২ সংখ্যায়।
উৎসর্গঃ রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ।
কবি এসেছিলেন,
হেমন্তের হিম কোয়াশায় ঝিরঝির স্নিগ্ধ হাওয়ায় -
অপরিস্ফুট প্রভাতে আবিল পথে হেঁটে-হেঁটে;
শালি ধানের আমন খেতে ডাঙায়-ডাঙায়
নবান্নের উৎসবে মেতে উঠা পরিযায়ী পাখিদের সাথে
কবিতার খাতা হাতে নিয়ে।
কবি,বিস্ময় দৃষ্টিতে দর্শন করলেন,- বাংলার সৌকুমার্য রূপ
মেখলা তটিনীর কুলে পানকৌড়ির লুকোচুরি;
মাছ রাঙার রঙিন ঠোঁটে-ঠোঁটে পুঁটির খুনসুটি,
জলামগ্ন হাওড়ের বুকে দাঁড়িয়ে সাদা-বকের গগনচুম্বি উঁকি
বিলের-ঝিলের জলে লাল-নীল পদ্মের প্রসন্নতা,
স্থলে দলে-দলে সুরভী মাখা পুষ্পের মিষ্টি হাসি।
অথচ রোদের রক্তিম রশ্মি মৃত্তিকা ছোঁয়ার পর থেকেই
কবিকে আর দেখা যায়নি, কবি অকস্মাৎ নিখোঁজ!
শুধু পড়ে আছে কবিতা-খাতার প্রত্যেকটি রক্তাক্ত পৃষ্টা
ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বাংলার হাটে-ঘাটে-প্রান্তরে;
এতে সুশ্রী সুবর্ণা এই বাংলার কারুকার্যময় রূপের বর্ণনা নয়,-
কবি এঁকেছেন,- একটি রাষ্ট্রের ভয়ংকর ভীমদর্শন চিত্র!
দেশের মানচিত্রের চতুর্পাশে দুর্ভিক্ষের অস্পষ্ট ছাপ,
উল্লেখিত স্থানে- স্থানে ধ্বংস-বিধ্বস্ততার কিছু 'আইকন';
নাগরিক জীবনের বিমূর্ত ছবি আর দুঃখ ধূসর কোটি-কোটি মুখ!
*********************
স্বাগতম -একবিংশ শতাব্দী
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
স্বাগত সম্ভাষণ!
শ্রেষ্ঠ শতাব্দী,একবিংশ শতাব্দীর ঘটেছে মহা-আগমন।
আজ মহাবিশ্বে মহাশঙ্খ মহা-ধ্বনিতে উঠলো বেজে ;
মহা-মানবতার মহা-জাগরণ ঘরে-ঘরে মানুষের মাঝে।
আজ শ্মশানের শব উঠেছে জেগে জ্বালাতে সকল শ্মাশান,
কে আছো বন্দি মুক্ত হতে ? শোনো রক্ত-যুগের আহবান।
কে পড়ে আছো হাতে আর পায়ে দাসত্বের অশুভ বেড়ি,
কার গলায় ঝুলে ভীত করে রাখে মিথ্যা ফাঁসের দঁড়ি ;
ভেঙে ফেলো মিথ্যা প্রাচীর,ছিঁড়ে ফেলো ফাঁসের রশি!
আজ মিথ্যার মহা-সংহার হোক,সত্যের দীপন জ্বলুক দিশিদিশি।
আজ ভয় নাই!কোন শঙ্কা নাই!জাগ্ জাগ্ জাগ্!
ছাগলের ছাল ছুঁড়ে ফেলে দে রে মহাবলী বাঘ।
নাগ-নাগিনীর মতো ফনায় ফনায় জ্বেলে দীপ্ত-মণি,
আয় তোরা ভ্রাতা এগিয়ে একবিংশ শতাব্দীর বাহিনী।
অতীতের যত ঘা মর্মের মর্মস্থলে, এখন সময় শুধিবার!
আমুলে নির্মুল করতে যত অন্যায় শোষণ আর অত্যাচার।
নবযুগের নব প্রত্যুষে বীরুৎ ফুল নয়, ফুটুক অগ্নি-পদ্ম,
অগ্নিদাহে পুড়াক সকল অসত্য-অসাম্য-অসুন্দর-অধর্ম।
বিশ্ব হোক শুচি সত্য-সুন্দর-সাম্য-স্বরাজ-মানবতায়,
এলো উন্নত শৃঙ্খ একবিংশ শতাব্দী এই ধরায়।
*********************
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
স্বাগত সম্ভাষণ!
শ্রেষ্ঠ শতাব্দী,একবিংশ শতাব্দীর ঘটেছে মহা-আগমন।
আজ মহাবিশ্বে মহাশঙ্খ মহা-ধ্বনিতে উঠলো বেজে ;
মহা-মানবতার মহা-জাগরণ ঘরে-ঘরে মানুষের মাঝে।
আজ শ্মশানের শব উঠেছে জেগে জ্বালাতে সকল শ্মাশান,
কে আছো বন্দি মুক্ত হতে ? শোনো রক্ত-যুগের আহবান।
কে পড়ে আছো হাতে আর পায়ে দাসত্বের অশুভ বেড়ি,
কার গলায় ঝুলে ভীত করে রাখে মিথ্যা ফাঁসের দঁড়ি ;
ভেঙে ফেলো মিথ্যা প্রাচীর,ছিঁড়ে ফেলো ফাঁসের রশি!
আজ মিথ্যার মহা-সংহার হোক,সত্যের দীপন জ্বলুক দিশিদিশি।
আজ ভয় নাই!কোন শঙ্কা নাই!জাগ্ জাগ্ জাগ্!
ছাগলের ছাল ছুঁড়ে ফেলে দে রে মহাবলী বাঘ।
নাগ-নাগিনীর মতো ফনায় ফনায় জ্বেলে দীপ্ত-মণি,
আয় তোরা ভ্রাতা এগিয়ে একবিংশ শতাব্দীর বাহিনী।
অতীতের যত ঘা মর্মের মর্মস্থলে, এখন সময় শুধিবার!
আমুলে নির্মুল করতে যত অন্যায় শোষণ আর অত্যাচার।
নবযুগের নব প্রত্যুষে বীরুৎ ফুল নয়, ফুটুক অগ্নি-পদ্ম,
অগ্নিদাহে পুড়াক সকল অসত্য-অসাম্য-অসুন্দর-অধর্ম।
বিশ্ব হোক শুচি সত্য-সুন্দর-সাম্য-স্বরাজ-মানবতায়,
এলো উন্নত শৃঙ্খ একবিংশ শতাব্দী এই ধরায়।
*********************
রাতের নগরী
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
মধ্যরাত্রি লম্পটের পদধ্বনিতে কেঁপে উঠে এই ঘুমন্ত নগরী ;
চারিদিকে শুধু শ্রথিত আত্মার রোল,ধর্ষিতার চিৎকার,
লুটতরাজের হুংকার!
আমার বিনিদ্র চোখে বাহিরের দিকে তাকিয়ে দেখি,
ঐ নির্মল উজ্জ্বল ঝিলমিল আকাশটা বিবর্ণ-ধূসর!
গোটা নগরীর শরীরে আলকাতরার মতো প্রগাঢ় কালো প্রলেপ;
দেয়ালে দেয়ালে আঁকা রক্তের ভীম আলপনা।
অবিশুদ্ধ বাতাস, রজনীগন্ধার সুবাস নেই,-
অর্ধগলিত পঁচা লাশের উৎকট গন্ধে আমি শ্বাসরুদ্ধ!
জনশূন্য রাস্তার দখল নিয়ছে কিছু দলবদ্ধ 'সকুর'-শৃগাল ;
রাত-শকুনেরা নিয়েছে অলি-গলি লীজ!
আমি এ কি দেখি, -আমার চিরচেনা জীবন্ত শহরটা
অদেখা এক মৃত্যুপুরী মতো ভয়ংকর ;
এমন ভীম দৃশ্যের দর্শনে আমি কেঁপে-কেঁপে উঠি।
হে নগরী, হে ভয়ংকর পুরী!
আমার নিদ্রা তৃষিত দু'চোখে একটুও শান্তি নেই,
নিদ্রাবিহীন অস্থিরতা!
আমি একটু শান্তিতে দুচোখ ভরে ঘুমাতে চাই!
যেমন ঘুমায় নিশ্চিন্তে মায়ের কুলে সদ্যোজাত শিশু !!
*********************
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
মধ্যরাত্রি লম্পটের পদধ্বনিতে কেঁপে উঠে এই ঘুমন্ত নগরী ;
চারিদিকে শুধু শ্রথিত আত্মার রোল,ধর্ষিতার চিৎকার,
লুটতরাজের হুংকার!
আমার বিনিদ্র চোখে বাহিরের দিকে তাকিয়ে দেখি,
ঐ নির্মল উজ্জ্বল ঝিলমিল আকাশটা বিবর্ণ-ধূসর!
গোটা নগরীর শরীরে আলকাতরার মতো প্রগাঢ় কালো প্রলেপ;
দেয়ালে দেয়ালে আঁকা রক্তের ভীম আলপনা।
অবিশুদ্ধ বাতাস, রজনীগন্ধার সুবাস নেই,-
অর্ধগলিত পঁচা লাশের উৎকট গন্ধে আমি শ্বাসরুদ্ধ!
জনশূন্য রাস্তার দখল নিয়ছে কিছু দলবদ্ধ 'সকুর'-শৃগাল ;
রাত-শকুনেরা নিয়েছে অলি-গলি লীজ!
আমি এ কি দেখি, -আমার চিরচেনা জীবন্ত শহরটা
অদেখা এক মৃত্যুপুরী মতো ভয়ংকর ;
এমন ভীম দৃশ্যের দর্শনে আমি কেঁপে-কেঁপে উঠি।
হে নগরী, হে ভয়ংকর পুরী!
আমার নিদ্রা তৃষিত দু'চোখে একটুও শান্তি নেই,
নিদ্রাবিহীন অস্থিরতা!
আমি একটু শান্তিতে দুচোখ ভরে ঘুমাতে চাই!
যেমন ঘুমায় নিশ্চিন্তে মায়ের কুলে সদ্যোজাত শিশু !!
*********************
বিদ্রোহী কবির অবতারণ
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করা।
কোথাও কেউ নেই!
মৃত্যুপুরীর মত গোটা নগরী নৈঃশব্দ্যময় -
জনবিরল রাজপথে ফুটে উঠেছে ভয়দ দৃশ্যচয় ;
নগরীর সমস্ত লোক সম্যক শঙ্কিত-ভয়ার্ত ;
আতঙ্কে এদের সকল তেজ সকল বল থূর্ত,
গৃহ-আঁধার-গোরে এরা সর্ব-শব!
এই অপ্রশস্ত সময় দুর্দিনে ধূসর অন্ধকার বিদারণ -
করে সংহারমূর্তিতে রুদ্রাবতারে অবতারণ,
অগ্নিবীণা বাজাতে বাজাতে স্বয়ং বিদ্রোহী কবির।
কবির শ্মশ্রুবিহীন মুখের প্রজ্বলিত তারুণ্যের দীপ্ত- রশ্মির -
তিগ্মগে গতি বিতাড়ন করে সকল ভয় সকল আঁধার,
অমিত সাহস-তেজ-বীর্জে জাগ্রত হলো ভীতু জাতি পুনর্বার।
*********************
কবি ইমামুল ইসলাম মুরাদ
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১০.২০২৩।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করা।
কোথাও কেউ নেই!
মৃত্যুপুরীর মত গোটা নগরী নৈঃশব্দ্যময় -
জনবিরল রাজপথে ফুটে উঠেছে ভয়দ দৃশ্যচয় ;
নগরীর সমস্ত লোক সম্যক শঙ্কিত-ভয়ার্ত ;
আতঙ্কে এদের সকল তেজ সকল বল থূর্ত,
গৃহ-আঁধার-গোরে এরা সর্ব-শব!
এই অপ্রশস্ত সময় দুর্দিনে ধূসর অন্ধকার বিদারণ -
করে সংহারমূর্তিতে রুদ্রাবতারে অবতারণ,
অগ্নিবীণা বাজাতে বাজাতে স্বয়ং বিদ্রোহী কবির।
কবির শ্মশ্রুবিহীন মুখের প্রজ্বলিত তারুণ্যের দীপ্ত- রশ্মির -
তিগ্মগে গতি বিতাড়ন করে সকল ভয় সকল আঁধার,
অমিত সাহস-তেজ-বীর্জে জাগ্রত হলো ভীতু জাতি পুনর্বার।
*********************
