কবি জলধর সেনের কবিতা
*
ভাই। পঞ্চদশী বয়সের তুচ্ছ আঁকিবুকি
কবি জলধর সেন
কবির “দুঃখিনী” উপন্যাসের উৎসর্গ-পত্রে অকালপ্রয়াত অনুজ শশধরের উদ্দেশ্যে চতুর্দশ
পংক্তির এই কবিতাটি রয়েছে। বলা যায় এটিই জলধরের মুদ্রিত একমাত্র কবিতা।

ভাই।
পঞ্চদশী বয়সের তুচ্ছ আঁকিবুকি
আমার “দুঃখিনী”,---তাই ছাপাইয়া সুখী
চেয়েছিলে হ'তে ভাই! হিজিবিজি লেখা
কোথায় পড়িয়াছিল অযতনে একা
বিস্মৃত খেয়াল সম। ধুলি ঝাড়ি তার
তুমিই ত “দুঃখিনীরে” করিলে উদ্ধার
অপঘাত মৃত্যু হ'তে। পরেরে বাঁচায়ে,
আপনারে ডালি দিলে মরণের পায়ে!
“দুঃখিনী" প্রকাশ হ'ল---তুমি নাই কাছে,
তব স্নেহছায়া সম ফিরে তার পাছে।
ভুলিনি অন্তিম সাধ---“দাদা ! দুঃখিনীরে
মেজে ঘসে রং দিয়ে এনো না বাহির।”
অনাঘ্রাত কুসুমের আদিম সজ্জায়,
সে লুকাবে তোরি বুকে সোহাগে লজ্জায়।

.        ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জীবাত্মার ব্যকুলতা
কবি পরিব্রাজক
দাস যোগীন্দ্রনাথ কুণ্ডু দ্বারা সম্পাদিত, “কুশদহ” পত্রিকার ফাল্গুন ১৩১৬ বঙ্গাব্দ (ফেব্রুয়ারি
১৯১০) সংখ্যায় প্রকাশিত। আমাদের অনুমান জলধর সেন “পরিব্রাজক” ছদ্মনামে এই  
কবিতাটি প্রকাশ করেছিলেন। অন্যথা হলে, প্রমাণ সহ আমাদের জানালে আমরা প্রেরকের
প্রতি কৃতজ্ঞতাসহ এখানে তা তুলে দেবো।

“পুজিব প্রাণেশে বলি জীবাক্সা ব্যাকুল !”

ওরে জীব ! দেখরে অন্তরে প্রবেশিয়া,
কি চায় তোমার আত্মা পরাণ ভরিয়া।
অপূর্ণ পূরণ করি পূর্ণে গতি তার,
পুজিতে প্রাণেশে করে ইচ্ছা অনিবার।
ভবাগারে আঁধার দেখিয়া জ্যোতি চায়,
জ্যোতির্ম্ময় কৃপাকরি দেন তাহা তায়।
লভিয়া আলোক সেই কত সুখী হয়,
স্বভাবে এভাব হয় আপনি উদয়,
যেমতি আঁধার ঘরে শিশু দীপালোক
পেয়ে, কান্না ভুলে খেলে পাইয়া পুলক,
তেমতি জীবাত্মা নিরখিলে স্বপ্রকাশ,
হয় তার হৃদে কত আনন্দ-বিকাশ।
তিনি হন চির-পূজ্য সকলের মূল,
“পূজিব প্রাণেশে বলি জীবাত্মা ব্যাকুল !”

পরিব্রাজক

.        ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জীব-ইচ্ছা ও জীবনাথের ইচ্ছা
কবি পরিব্রাজক
দাস যোগীন্দ্রনাথ কুণ্ডু দ্বারা সম্পাদিত, “কুশদহ” পত্রিকার কার্ত্তিক ১৩১৬ বঙ্গাব্দ (অক্টোবর
১৯০৯) সংখ্যায় প্রকাশিত। আমাদের অনুমান জলধর সেন “পরিব্রাজক” ছদ্মনামে এই  
কবিতাটি প্রকাশ করেছিলেন। অন্যথা হলে, প্রমাণ সহ আমাদের জানালে আমরা প্রেরকের
প্রতি কৃতজ্ঞতাসহ এখানে তা তুলে দেবো।

“এই তত্ত্ব নিহিত আছয়ে ব্রহ্মজ্ঞানে”।
দুটি ইচ্ছা সৃষ্টি মাঝে করিতেছে কার্য্য,---
ব্রহ্মেচ্ছা জীবেচ্ছা! উভয়ের গতি ধার্য্য
হয় তত্ত্বক্ষেত্রে, যথা ইচ্ছাময় যিনি
হন সর্ব্বে-সর্ব্বা, ---সর্ব্ব মূলাধার তিনি। .
দুই ইচ্ছা অহরহ কর্মক্ষেত্র মাঝে
করে কার্য্য নিরবধি সাজি নানা সাজে।
জানিবারে সেই তত্ত্ব প্রাণ মম চায়
ব্যাকুল হইয়া প্রাণ-ময় পানে ধায়।
ভাবিতে ভাবিতে আর চলিতে চলিতে
পরাণ আকুল হল না পারি বুঝিতে ;
করুণা হইল তাঁর যিনি কৃপাময়,
ভাতিল সে তত্ত্ব হৃদে গূঢ় অতিশয়।
বর্ণন না হয় তার, তথাপি বলিব,
তাঁর মূল ইচ্ছাধরি জীবেচ্ছা ভনিব।
কথাটা প্রকৃত এই “ইচ্ছা ভবেশের,”
তাহাতে আকাঙ্ক্ষা রূপে হৃদে মানবের
বহে বেগ, ---উঠে কত সাধের তরঙ্গ
না হয় গণন তার সৃষ্টির এ রঙ্গ।
জীব-ইচ্ছা বিভু-ইচ্ছা যবে মিশে যায়
শুভ কর্ম্ম যত কিছু তাহাতে জন্মায়।
মানুষের ইচ্ছা দেব-ভাব প্রাপ্ত হলে
স্বার্থপরতার বল যায় কোথা চলে।
তখন সকল কার্য্য হয় সুধাময়
মন প্রাণে অহরহ হয় সুখোদয়।
কি ভৌতিক কি আত্মিক কার্য্য দেখি যত,
প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম কর্ম্ম কত কত,
বিভু-ইচ্ছা মূলে সে সবার উৎপত্তি
সম্বন্ধ সুত্রেতে, যথা জীবের নিয়তি
যোযিত স্বকর্ম্মে, যার ফল সম্ভোগিয়া
চলেছে অনন্ত পথে জ্ঞান উপার্জ্জিয়া
লভিবারে অচ্যুত আনন্দ ব্রহ্মপুরে---
আসিলে যথায়, যায় মোহমায়া দূরে।
স্বরতি বিরতি হয়ে আত্মরতি আনে,
ব্রহ্ম ইচ্ছা হেরিয়ে সাধক সর্ব্বস্থানে,
হন আপ্তকাম জীবনাথে ইচ্ছাবরি
দেখেন মঙ্গলে বিশ্ব আছে পূর্ণ করি ;---
ব্রহ্মময় সব প্রতিভাত আত্মজ্ঞানে।
“এই তত্ত্ব নিহিত আছয়ে ব্রহ্মজ্ঞানে” |

পরিব্রাজক

.        ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর