জীবনের লক্ষ্য ও পরিণতি কবি ডঃ মোহম্মদ শহীদুল্লাহ্ “আল্-এসলাম” পত্রিকার কার্ত্তিক ১৩২২ (অক্টোবর ১৯১৫) সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা।
“নিশ্চয় আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করিব।” কোরআন। “আমি জিন এবং মানবকে আমার সেবা করিবে এতদ্ভিন্ন সৃষ্টি করি নাই।” কোরআন। “অনন্তর তোমরা কি মনে করিয়াছ যে আমি তোমাদিগকে অনর্থক সৃষ্টি করিয়াছি এবং তোমরা আমার দিকে ফিরিয়া আসিবে না?” কোরআন। “নিশ্চয় আমরা আল্লার জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁহার দিকে ফিরিয়া যাইব।” কোরআন।
ভুলেছ কি একেবারে? ভুলেছ কি নর! কে তুমি? কিসের তরে এলে ধরা পর? রক্ত তুমি? মাংস তুমি? ভুতময় দেহ? জড় পৃথিবীর কিংবা জড়ময় কেহ? মাটি হ'তে জনমিয়া উদ্ভিদের মত, মাটিতে মিশিয়া যাবে---এই তব ব্রত? গো গর্দ্ধভের মতন খেয়ে দেয়ে শুয়ে, কীট পতঙ্গের মত নেচে কুদে নিয়ে,
দিন দুই পরে মরে পচে গ'লে যাবে এজন্যে শুধু এ জন্যে জনমেছ ভবে? নীল বারিধির কোলে বুদ্ধুদ যেমতি জনমি মিটিয়া যাবে এ তব নিয়তি? হে নর! হে জীব শ্রেষ্ঠ! হে ধরা-ঈশ্বর! অনন্তের বক্ষোজাত তুমি অনশ্বর। ভুলে গেছ আপনার জনমের কথা, তাই দীনহীন তুমি, রাজপুত্র যথা আশৈশব কাঙ্গালের ভবনে পালিত পিতার বিভব বার্ত্তা নহে সে বিদিত। সাজায়েছে ধরারাজ্য তব তরে বিধি, রাজ রাজেশের তুমি প্রিয় প্রতিনিধি। পাপ, তাপ, শোক, দুঃখ, অভাব, দীনতা, নর হ’য়ে নরে ঘৃণা, মোহ, অজ্ঞানতা, জড়তা, ভীরুতা, হিংসা, নীচতা, মাৎসর্য্য বিদলিবে বিনাশিবে এই তব কার্য্য। ধরার সুন্দর মুখে অসুন্দর যত সৌন্দর্য্যে ছাইয়া দিবে--- এই তব ব্রত। জীবে সেবি জীবেশেরে করিবে ভকতি জীবনের এই তব মুল মহানীতি। সমার্পিয়া ব্রত তব কার্য্যকাল শেষে যেথা হ'তে এসেছিলে যাবে সেথা হেসে। বুঝেছে কি এইবার? বুঝেছ কি নর! কে তুমি? কিসের তরে এলে ধরা পর? . **************** . সূচীতে . . .