মিলনসাগরে  কবি ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কবিতা পাতা তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য। তাঁর কবিতা আগামী
প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টাকে সার্থক মনে করবো।



উত্স -   



কবি ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন



আমাদের ই-মেল
: srimilansengupta@yahoo.co.in     
হোয়াটসঅ্যাপ
: +91 9830681017       



এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১.১.২০২৩
.                                                                                                                      
 ^^ উপরে ফেরত   





...
কবি ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার চব্বিশ
পরগনা জেলার পিয়ারা গ্রামে যা বর্তমানে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটের কাছে
অবস্থিত। পিতা মাফিজুদ্দিন আহমেদ এবং
মাতা মারগুবা খাতুন।
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর শিক্ষাজীবন  -                                              পাতার উপরে . . .  
শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯০৪ সালে হাওড়া জেলা স্কুল থেকে এট্রান্স পরীক্ষা পাশ করে ১৯০৬ সালে কলকাতার
 
প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে এফ.এ. (ফার্স্ট আর্টস) পরীক্ষা পাশ করেন। ১৯১০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের
 
অধীনে সিটি কলেজ থেকে বি.এ. ডিগ্রি লাভ করেন সংস্কৃত অনার্স নিয়ে। ১৯১২ সালে তিনি কলকাতা
 
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব নিয়ে এম.এ. পাশ করেন। ১৯১৪ সালে তিনি বি.এল. (আইন) ডিগ্রি
লাভ করেন। ১৯২৮ সালে তিনি প্যারিসের সর্বন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট উপাধি লাভ করেন।
 

তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার ফুরফুরা শরীফ গ্রাম ও তীর্থস্থানের বিখ্যাত আধ্যাত্মিক শিক্ষক মোহাম্মদ
 
আবু বকর সিদ্দিকির কাছে আধ্যাত্মিক শিক্ষা লাভ করেন।

তিনিই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত অনার্স-সহ বি.এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রথম মুসলমান ছাত্র।
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কর্মজীবন  -                                              পাতার উপরে . . .  
কর্মজীবন শুরু করেন যশোর জেলা স্কুলে শিক্ষকতা দিয়ে। কিছুকাল তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড স্কুলের প্রধাণ
শিক্ষকের কাজ করেন এবং ১৯১৫ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত তিনি বসিরহাটের আদালতে (পশ্চিমবঙ্গ)
 
ওকালতি করেন।

১৯১০ সালে
 পণ্ডিত সত্যব্রত সামশ্রমীর  আপত্তিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে  তিনি  বেদ পাঠের অনুমতি
পাননি। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের চেষ্টায়, কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তিনি সেখানে বেদপাঠের
 
সুযোগ
 পান। ১৯১৯ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত তিনি রায়বাহাদুর দীনেশ চন্দ্র সেনের সহকর্মী হিসেবে
কলকাতা
 বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে কাজ করেন। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও
বাংলা বিভাগে
 লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। এরই সঙ্গে সেখানে তিনি ১৯২২ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত
আইন বিভাগে
 পার্টটাইম শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন।

১৯৩৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। সেখান থেকে ১৯৪৪ সালে
 
অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পরে তিনি বগুড়ার (অধুনা বাংলাদেশ) সরকারি আজিজুল হক
 
কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৩ - ১৯৫৫ সালে তিনি পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ফরাসি ভাষার শিক্ষক হিসাবে কাজ করেন। ১৯৫৫ সালে রাজশাহী
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও পালি বিভাগে যোগদান করে ১৯৫৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

.
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জানা ভাষা  -                                              পাতার উপরে . . .  
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রায় ২৪টি ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন।  এর  মধ্যে ১৮টি  ভাষার  ওপর তার পাণ্ডিত্য
ছিল। সেই ভাষাগুলির মধ্যে ছিলো বাংলা, উর্দু, ফারসি, আরবি, ইংরেজি, অসমীয়া, ওড়িয়া, মৈথিলী,   
হিন্দি, পাঞ্জাবি, গুজরাতি, মারাঠি, কাশ্মীরি, নেপালি, সিংহলি, তিব্বতি, সিন্ধি, সংস্কৃত, পালি ইত্যাদি।
.
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সাহিত্য কীর্তি  -                                              পাতার উপরে . . .  
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থাদির মধ্যে রয়েছে “সিদ্ধা কানুপার গীত ও দোহা”, “ভাষা ও সাহিত্য”, “বাঙ্গালা ভাষার  
ইতিবৃত্ত (১৯৬৫)”, “নবী করিম মুহাম্মাদ”, “ইসলাম প্রসঙ্গ”, “বিদ্যাপতি শতক”, “বাংলা সাহিত্যের কথা” (২
খণ্ড), “বাংলা ভাষার ব্যাকরণ”, “ব্যাকরণ পরিচয়”, “বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান”, “মহররম  
শরীফ”, “টেইল ফ্রম দি কুরআন”, “বৌদ্ধ মর্মবাদীর গান" বা “
Buddhist Mystic Songs” (১৯৬০), “Hundred
Sayings of the Holy Prophet”, “Essays on Islam”, “Traditional Culture in East Pakistan”
, “ভাষা আন্দোলনে
ভূমিকা” প্রভৃতি।

অনুবাদ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “দীওয়ানে হাফিজ”, “রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম” প্রভৃতি।
তাঁর গল্প গ্রন্থ রকমারি। শিশু সাহিত্যেও তিনি তাঁর সাক্ষর রেখে গিয়েছেন।
বহু ভাষাবিদ, পণ্ডিত ও প্রাচ্যে অন্যতম সেরা ভাষাবিজ্ঞানী হিসেবে ডক্টর ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন
একজন খাঁটি বাঙালি ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদিত পত্রিকার মধ্যে রয়েছে “আঙুর শিশু পত্রিকা", "বঙ্গভূমিক", "তকবীর", "দি
পীস" প্রভৃতি।
.
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও প্রাচীনতম বাংলা ভাষা চর্যাগীতি -                     পাতার উপরে . . .  
প্রাচীনতম বাংলাভাষা চর্যাগীতির পুথি আবিষ্কারের পরে তা নিয়ে
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী,  
প্রবোধচন্দ্র বাগচী, তারাপদ মুখোপাধ্যায়ের পরেই ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ তা নিয়ে গবেষণা করেন এবং এই
বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নেন।
অধ্যাপক নীলরতন সেন তাঁর গ্রন্থ “চর্যাগীতিকোষ” (১৯৭৮) এর “সংযোজন,  
চর্যাগীত আলোচনার সংক্ষিপ্ত পরিচয়” -তে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্বন্ধে লিখেছেন . . .

“বহু-ভাষাবিদ্, বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ একাধিক গ্রন্থে এবং কয়েকটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধে
চর্যাগীতের রচনাকাল, পদকারদের পরিচয়, গীতগুলির সম্ভাব্য সঠিক পাঠ ও ভাষা-ব্যকরণ সম্পর্কে
আলোচনা করেছেন...” (এখানে
অধ্যাপক নীলরতন সেনের বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে আমরা কেবল
উল্লিখিত ডঃ শহীদুল্লাহর গ্রন্থ ও প্রবন্ধাবলীর নাম তুলে দিলাম---)
গ্রন্থ...
১।
Les Chants Mystiques de Kanna et de Saraha, Adrien-Maisonneuve, Paris, 1928.
২।
Buddhist Mystic Songs, Bangla Academy, Dacca, 1966.
৩। বাংলা সাহিত্যের কথা, প্রথম খণ্ড, প্রাচীন যুগ, রেনেসাস্ প্রিন্টার্স, ঢাকা, ১৯৫৩ (পরিমার্জিত সং ১৯৭৩)।
৪। বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ১৯৬৫।
প্রবন্ধ...
১। বৌদ্ধ গান ও দোহা, বঙ্গীয় সাহিত্যপরিষদ পত্রিকা, ২৭ বর্ষ, ৪র্থ সংখ্যা, বঙ্গাব্দ ১৩২৭।
২। ভুসুক, বঙ্গীয় সাহিত্যপরিষদ পত্রিকা, ৪৮ বর্ষ, ১ম সংখ্যা, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ।
৩। বৌদ্ধ গান ও দোহার পাঠ আলোচনা, বঙ্গীয় সাহিত্যপরিষদ পত্রিকা, ৪৮ বর্ষ, ২য় সংখ্যা, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ।
৪। চর্যাপদের পাঠ-আলোচনা, সাহিত্য পত্রিকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ৭ম বর্ষ, ২য় সংখ্যা, শীত, ১৩৭০ বঙ্গাব্দ।
শেষ প্রবন্ধে তিনি প্রবোধচন্দ্র বাগচী ও শান্তিভিক্ষু শাস্ত্রী-সম্পাদিত ও চর্যাগীতিকোষ (১৯৫৬)-এ প্রদত্ত
চর্যাগীতগুলির পাঠ সম্পর্কে নতুনভাবে কিছু আলোকপাত করেছেন।
.
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর প্রাপ্ত সম্মাননা -                                          পাতার উপরে . . .  
এম.এ পাশ করার পরই তিনি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির সম্পাদক হন। ১৯২৮ খ্রি. কলকাতায়
 
অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নিখিল বঙ্গ মুসলিম যুবক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। ১৯৪৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান
 
সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি হয়েছিলেন। তিনি উর্দু অভিধান প্রকল্পেরও সম্পাদক ছিলেন। তিনি ১৯৬৭
 
সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমেরিটাস অধ্যাপক পদ অধিষ্ঠিত হন।

১৯৫৮ খ্রি.-এ তিনি ইউনেস্কো মনোনীত প্রতিনিধি হিসাবে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত “ইন্টারন্যাশনাল সেমিনার অন
 
ট্যাডিশনাল কালচার ইন সাউথ-ইস্ট-এশিয়া”-তে যোগ দেন এবং সেমিনারের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
 
করাচিতে অবস্থিত উর্দু উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত উর্দু অভিধান প্রকল্পের সম্পাদক নিযুক্ত হয়েছিলেন।
 
১৯৬০ খ্রি. পূর্ব-পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান প্রকল্পের সম্পাদক হন।

১৯৬৭ সালে
 ফ্রান্স সরকার  তাঁকে সম্মানজনক পদক “নাইট অফ দি অর্ডারস অফ আর্টস অ্যান্ড লেটার্স”  
দেন। ঢাকা সংস্কৃত পরিষদ তাঁকে “বিদ্যাবাচস্পতি” উপাধিতে ভূষিত করেন। পাকিস্তান আমলে তাঁকে
 
“প্রাইড অফ পারফরম্যান্স পদক (১৯৫৮)” ও মরণোত্তর “হিলাল ই ইমতিয়াজ” খেতাব প্রদান করা হয়।
 
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন্স তাঁকে সম্মানিত সদস্য (ফেলো) রূপে মনোনয়ন করেন কিন্তু
 
পাকিস্তান সরকারের অনুমতি না থাকায় তিনি তা গ্রহণ করেননি।
 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  তাঁকে মরণোত্তর  
“ডি. লিট” উপাধি প্রদান করেন। ১৯৮০ সালে তাঁকে মরণোত্তর বাংলাদেশের “স্বাধীনতা পদক” দেওয়া হয়।
 
তিনি “চলন্ত শব্দ কল্পদ্রুম” নামেও পরিচিত ছিলেন।
.
বাংলা ভাষা ও বাঙালীত্ব নিয়ে ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্  -                        পাতার উপরে . . .  
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরই দেশের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি
 হলে  বাংলা-কে  রাষ্ট্র ভাষা  করার  পক্ষে যে
ক-জন ব্যক্তি জোরালো বক্তব্য রেখেছিলেন, তাঁদের মধ্যে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ অন্যতম। তাঁর এই ভূমিকার
 
ফলে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পথ অনেকখানিই প্রশস্ত হয়।

১৯৪৭ দেশভাগের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ফজলুর রহমান আরবি হরফে বাংলা
প্রবর্তনের প্রচারণা চালাতে থাকেন। ১৯৪৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান
 
শিক্ষক সম্মেলনে ফজলুর রহমান ভাষার ইসলামিকরণের স্বার্থে বাংলাকে আরবি লিপিতে লেখার প্রস্তাব
 
করেছিলেন, এবং এর প্রতিক্রিয়ায় মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ জটিলতা বৃদ্ধির আশঙ্কা করে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা
করেছিলেন, এবং বাংলাকে অপরিবর্তিত অবস্থায় পূর্ব বাংলা রাষ্ট্রভাষা তথা পাকিস্তানের অন্যতম
 
রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। পূর্ব-পাকিস্তানে রাষ্ট্রভাষা উর্দুর বদলে বাংলাকে করার পক্ষে তিনি
 
জোরালো বক্তৃতা রেখেছিলেন।
.
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি -                                          পাতার উপরে . . .  
জাতিসত্তা সম্পর্কে ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র স্মরণীয় উক্তি  . . .


“আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙ্গালী।”
.
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কবিতা -                                                     পাতার উপরে . . .  
তাঁর কবিতার সিংহভাগ অনুবাদ কবিতা। তিনি ওমর খৈয়াম ও হাফেয এর বাংলা অনুবাদ করেছিলেন।
কোনো কোনো পত্র-পত্রিকাতেও তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছিলো। আমরা “আল্ এসলাম” পত্রিকাতে
 
প্রকাশিত একটি ও “ভারতবর্ষ” পত্রিকাতে প্রকাশিত দুটি কবিতা পেয়ে এখানে তুলে ধন্য হলাম।

.