কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জীর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
আবেদন
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
ধর্ষকদের মৃত্যুদন্ড চেয়ে মাননীয়া সংসদ সদস্যা
যখন রাজ্যসভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন,
তখন মহারাষ্ট্রের আখের খেতে একটি মেয়ে ধর্ষিতা হচ্ছিল।
যখন ধর্ষণের প্রতিবাদে সুবেশা তরুণীরা,
মোমবাতি মিছিল করছিল,
তখন উত্তরপ্রদেশের ইঁটভাঁটায়,
একজোড়া মেয়ে ধর্ষিতা হচ্ছিল।
সেদিন রাতে সোশ্যাল মিডিয়া যখন ব্যস্ত ছিল,
ধর্ষণ বিরোধী অজস্র স্ট্যাটাস দিতে,
তখন দিল্লির এক নির্মিয়মান বাড়ীতে,
আরও কয়েকটি মেয়ে ধর্ষিতা হচ্ছিল।
যখন পাজামা পাঞ্জাবী আর জহর কোটে সুসজ্জিত কবি,
নির্ভয়া নামের আড়ালে লুকিয়ে রাখা,
একটি মেয়ের স্মৃতিতে কবিতা পড়ছিলেন,
তখনও মেয়েগুলো ধর্ষিতা হচ্ছিল
মধ্যপ্রদেশে, ওড়িশায়, অসমে, রাজস্থানে ...।
হে মাননীয় নেতৃবৃন্দ !
আইন বদল করুন ।
যাতে এদেশের এক গর্ভিনী জননী -
জানতে পারে তার গর্ভস্থ ভ্রুণটি মেয়ে কি না ।
গর্ভেই তাকে মেরে ফেলতে পারে ।
অন্তত একটা মেয়ে তো বাঁচবে ধর্ষণের
এই মহা উৎসব থেকে !
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
ধর্ষকদের মৃত্যুদন্ড চেয়ে মাননীয়া সংসদ সদস্যা
যখন রাজ্যসভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন,
তখন মহারাষ্ট্রের আখের খেতে একটি মেয়ে ধর্ষিতা হচ্ছিল।
যখন ধর্ষণের প্রতিবাদে সুবেশা তরুণীরা,
মোমবাতি মিছিল করছিল,
তখন উত্তরপ্রদেশের ইঁটভাঁটায়,
একজোড়া মেয়ে ধর্ষিতা হচ্ছিল।
সেদিন রাতে সোশ্যাল মিডিয়া যখন ব্যস্ত ছিল,
ধর্ষণ বিরোধী অজস্র স্ট্যাটাস দিতে,
তখন দিল্লির এক নির্মিয়মান বাড়ীতে,
আরও কয়েকটি মেয়ে ধর্ষিতা হচ্ছিল।
যখন পাজামা পাঞ্জাবী আর জহর কোটে সুসজ্জিত কবি,
নির্ভয়া নামের আড়ালে লুকিয়ে রাখা,
একটি মেয়ের স্মৃতিতে কবিতা পড়ছিলেন,
তখনও মেয়েগুলো ধর্ষিতা হচ্ছিল
মধ্যপ্রদেশে, ওড়িশায়, অসমে, রাজস্থানে ...।
হে মাননীয় নেতৃবৃন্দ !
আইন বদল করুন ।
যাতে এদেশের এক গর্ভিনী জননী -
জানতে পারে তার গর্ভস্থ ভ্রুণটি মেয়ে কি না ।
গর্ভেই তাকে মেরে ফেলতে পারে ।
অন্তত একটা মেয়ে তো বাঁচবে ধর্ষণের
এই মহা উৎসব থেকে !
*********************
আদিগন্ত অরণ্যে
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
এইখানে শাল, মহুলের জঙ্গল,
নদীও এখানে নিঃশব্দেই চলে,
চুপি চুপি ডাকে ধূ ধূ করা বালুচর,
বাতাসের স্বরে ফিস্ ফিস্ কথা বলে -
ওই দেখ্ ওই নেভানো চিতার পাশে -
আধপোড়া কাঠ, ভাঙা কলসির কানা,
তার পরে দেখ্ , আঘাটায় নাও পাবি,
আয়, মুছে যাবে সব জ্বালা যন্ত্রণা ।
নিশির ডাকের মতন, সে ডাক শুনে,
খুঁজে পাই সেই ছোট্ট নৌকোটাকে,
ও মাঝি ভাই ! পার করে দেবে নাকি ?
আমি ডাকি ? না কি, মাঝিই আমাকে ডাকে ?
পার হয়ে যাই সূবর্ণরেখা নদী,
ডিঙি এসে থামে ধূ ধূ করা বালুচরে,
চারপাশে দেখি কেউ কোত্থাও নেই,
গোধূলির আলো ঢেউ নিয়ে খেলা করে ।
আ-দিগন্ত শালের বনের প্রান্তে,
গাছের আড়ালে লুকোলো অস্ত-রবি,
সুবর্ণরেখা নিলযমুনারই নাম,
এপারে এখন শান্তির ছায়াছবি ।
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
এইখানে শাল, মহুলের জঙ্গল,
নদীও এখানে নিঃশব্দেই চলে,
চুপি চুপি ডাকে ধূ ধূ করা বালুচর,
বাতাসের স্বরে ফিস্ ফিস্ কথা বলে -
ওই দেখ্ ওই নেভানো চিতার পাশে -
আধপোড়া কাঠ, ভাঙা কলসির কানা,
তার পরে দেখ্ , আঘাটায় নাও পাবি,
আয়, মুছে যাবে সব জ্বালা যন্ত্রণা ।
নিশির ডাকের মতন, সে ডাক শুনে,
খুঁজে পাই সেই ছোট্ট নৌকোটাকে,
ও মাঝি ভাই ! পার করে দেবে নাকি ?
আমি ডাকি ? না কি, মাঝিই আমাকে ডাকে ?
পার হয়ে যাই সূবর্ণরেখা নদী,
ডিঙি এসে থামে ধূ ধূ করা বালুচরে,
চারপাশে দেখি কেউ কোত্থাও নেই,
গোধূলির আলো ঢেউ নিয়ে খেলা করে ।
আ-দিগন্ত শালের বনের প্রান্তে,
গাছের আড়ালে লুকোলো অস্ত-রবি,
সুবর্ণরেখা নিলযমুনারই নাম,
এপারে এখন শান্তির ছায়াছবি ।
*********************
অতন্দ্র প্রহরী
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
কে জানে কে লুঠ করে নেয়,
চাকরি পাওয়ার আশ,
পথের পাশে ধর্না চলে,
ফুটপাথে হয় বাস ।
অনশনেই দিন কেটে যায়,
কেউ কি সে খোঁজ রাখে ?
প্রাণ করে পণ খুঁজতে থাকে
অধরা চাকরিটাকে ।
মাঝরাত পার, ঘুমোলো সবাই,
ক্ষিধে ঢেকে রাখা ঘুম !
টুপটাপ শুধু ঝরছে শিশির
চারপাশ নিঃঝুম ।
তবু কেন কেউ ঠায় জেগে থাকে,
অপলক দুটো চোখ !
সবাই তোমরা ঘুমন্ত নাকি ?
এসো, প্রতিবাদ হোক !
সব কিছু যেন স্থির হয়ে যায়,
থেমে যায় হাতঘড়ি
নির্বাক মুখে জেগে থাকে শুধু
অতন্দ্র এক প্রহরী !
আর তারপর ?
মাঝরাতে আসে অনেক পুলিশ
সবাইকে দিলো তুলে ।
তারা আজ শুধুই চোরকেই চেনে,
ন্যায় নীতি গেছে ভুলে !
তবু জেনে রেখো, কোন এক ভোরে
সূর্য উঠবে ঠিক,
ভোরের আকাশে একখানা মুখ,
নিষ্পাপ নির্ভীক !
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
কে জানে কে লুঠ করে নেয়,
চাকরি পাওয়ার আশ,
পথের পাশে ধর্না চলে,
ফুটপাথে হয় বাস ।
অনশনেই দিন কেটে যায়,
কেউ কি সে খোঁজ রাখে ?
প্রাণ করে পণ খুঁজতে থাকে
অধরা চাকরিটাকে ।
মাঝরাত পার, ঘুমোলো সবাই,
ক্ষিধে ঢেকে রাখা ঘুম !
টুপটাপ শুধু ঝরছে শিশির
চারপাশ নিঃঝুম ।
তবু কেন কেউ ঠায় জেগে থাকে,
অপলক দুটো চোখ !
সবাই তোমরা ঘুমন্ত নাকি ?
এসো, প্রতিবাদ হোক !
সব কিছু যেন স্থির হয়ে যায়,
থেমে যায় হাতঘড়ি
নির্বাক মুখে জেগে থাকে শুধু
অতন্দ্র এক প্রহরী !
আর তারপর ?
মাঝরাতে আসে অনেক পুলিশ
সবাইকে দিলো তুলে ।
তারা আজ শুধুই চোরকেই চেনে,
ন্যায় নীতি গেছে ভুলে !
তবু জেনে রেখো, কোন এক ভোরে
সূর্য উঠবে ঠিক,
ভোরের আকাশে একখানা মুখ,
নিষ্পাপ নির্ভীক !
*********************
বিধাননগরের রাত
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
সময় এখন প্রায় মাঝরাত ।
একটু আগে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে ।
ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ঝিলিক দেওয়া
ভিজে পিচ মোড়া কালো পথ,
সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে হাঁটা
কৃষ্ণাসুন্দরীর মতোই মোহময়ী ।
সামনের কলকে ফুলের গাছটা থেকে
এখনো জল গড়িয়ে পড়ছে ।
আর টুপটাপ করে ঝরে পড়ছে
হলুদ কলকে ফুল ।
সাদা রঙা আধুনিক ট্যাক্সি থেকে
নেমে আসে মাঝবয়েসী দুই মাতাল ।
সামান্য টলোমলো পায়ে হেঁটে গিয়ে
গেট খুলে, ঢুকে যায় বাড়ীর ভেতর ।
বাইকের শব্দ তুলে খাবার পৌঁছে দিতে ছুটে যায়,
লাল জামা পরা একুশ বছর ।
বাড়ী ফিরে যেতে ওর এখনও অনেক দেরি ।
জানলার গ্রিল ছুঁয়ে আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি ।
অপলক চোখে চেয়ে দেখি
মাঝরাত ঘনিয়ে এসেছে বিধাননগরে ।
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
সময় এখন প্রায় মাঝরাত ।
একটু আগে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে ।
ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ঝিলিক দেওয়া
ভিজে পিচ মোড়া কালো পথ,
সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে হাঁটা
কৃষ্ণাসুন্দরীর মতোই মোহময়ী ।
সামনের কলকে ফুলের গাছটা থেকে
এখনো জল গড়িয়ে পড়ছে ।
আর টুপটাপ করে ঝরে পড়ছে
হলুদ কলকে ফুল ।
সাদা রঙা আধুনিক ট্যাক্সি থেকে
নেমে আসে মাঝবয়েসী দুই মাতাল ।
সামান্য টলোমলো পায়ে হেঁটে গিয়ে
গেট খুলে, ঢুকে যায় বাড়ীর ভেতর ।
বাইকের শব্দ তুলে খাবার পৌঁছে দিতে ছুটে যায়,
লাল জামা পরা একুশ বছর ।
বাড়ী ফিরে যেতে ওর এখনও অনেক দেরি ।
জানলার গ্রিল ছুঁয়ে আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি ।
অপলক চোখে চেয়ে দেখি
মাঝরাত ঘনিয়ে এসেছে বিধাননগরে ।
*********************
চিরন্তন
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
তোমার জন্যে একশো আটটা নীল রঙা স্থলপদ্ম,
খুঁজতে তাকে উথাল পাথাল স্বর্গ, পাতাল, মর্ত ।
তার সঙ্গেই তোমায় দেবো কাপাশডাঙার মাঠটা,
সে মাঠ ভরা সবুজ ঘাসও, নিতান্ত নিঃশর্ত !
পরলে যখন লাল পাড়ের ওই সাদা রেশম শাড়ী –
বোঝোইনি তা ঘটিয়ে দেবে এমনটা অনর্থ !
তোমার নাকের টানা নথের মারণ আকর্ষণ,
রতিপতির পাঁচখানি শর অমোঘ ও অব্যর্থ !
তোমার দেহের পুকুর ভরা টলটলানো জল,
ফিরিয়ে নিতে পোড়া দু’চোখ নেহাৎ অসমর্থ !
এমনতরো হাজার কথা ভাবতে থাকি যেই,
মনে পড়ে, আমরা তো আর আগের মতো নেই !
এখন আমি মাঝ বয়েসী, প্রৌঢ় এবং প্রাজ্ঞ,
তুমিও তো সেই তরুণী নও, হায়রে পোড়া ভাগ্য !
তবুও তুমি আমার চোখে সোনালী সেই আলো,
আজও আমি চিরপ্রেমিক, এখনও বাসি ভালো ।
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
তোমার জন্যে একশো আটটা নীল রঙা স্থলপদ্ম,
খুঁজতে তাকে উথাল পাথাল স্বর্গ, পাতাল, মর্ত ।
তার সঙ্গেই তোমায় দেবো কাপাশডাঙার মাঠটা,
সে মাঠ ভরা সবুজ ঘাসও, নিতান্ত নিঃশর্ত !
পরলে যখন লাল পাড়ের ওই সাদা রেশম শাড়ী –
বোঝোইনি তা ঘটিয়ে দেবে এমনটা অনর্থ !
তোমার নাকের টানা নথের মারণ আকর্ষণ,
রতিপতির পাঁচখানি শর অমোঘ ও অব্যর্থ !
তোমার দেহের পুকুর ভরা টলটলানো জল,
ফিরিয়ে নিতে পোড়া দু’চোখ নেহাৎ অসমর্থ !
এমনতরো হাজার কথা ভাবতে থাকি যেই,
মনে পড়ে, আমরা তো আর আগের মতো নেই !
এখন আমি মাঝ বয়েসী, প্রৌঢ় এবং প্রাজ্ঞ,
তুমিও তো সেই তরুণী নও, হায়রে পোড়া ভাগ্য !
তবুও তুমি আমার চোখে সোনালী সেই আলো,
আজও আমি চিরপ্রেমিক, এখনও বাসি ভালো ।
*********************
এক মেয়ে
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
এক মেয়ে, তার নাম বলা মানা,
ভরা চৈত্র মাস,
সকল সাক্ষ্য প্রমাণ সমেত,
পুড়ে ছাই হয় লাশ ।
জন্মদিনের আমোদের শেষে
একখানা রাত মজাদার,
সেটুকুও নাকি সইলো না তার,
পেতে তো হবেই সাজা তার !
মেয়েটার অতি বাজে চরিত্র,
ছিল গর্ভিনী, ভ্রষ্টা !
চিবিয়ে খেয়েছে ছেলেটার মাথা,
পাজী, হতভাগী, নষ্টা !
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া মানা,
সে কথা তো শিরোধার্য !
প্রেম থাকলে তো ধর্ষণও হবে,
এ তো অনস্বীকার্য !
গোটা রাত ধরে রক্ত ঝরেছে,
ভোরবেলা সব শান্ত,
নিঃশব্দেই ঘটে যায় সব,
মানবতা আক্রান্ত ?
কেউ কেউ মুখে কুলুপ এঁটেছে,
কেউ খুঁজে ফেরে স্বার্থ,
কবি শুধু ভাবে মেয়েটা আমার
ঘরেরও তো হতে পারতো !
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
এক মেয়ে, তার নাম বলা মানা,
ভরা চৈত্র মাস,
সকল সাক্ষ্য প্রমাণ সমেত,
পুড়ে ছাই হয় লাশ ।
জন্মদিনের আমোদের শেষে
একখানা রাত মজাদার,
সেটুকুও নাকি সইলো না তার,
পেতে তো হবেই সাজা তার !
মেয়েটার অতি বাজে চরিত্র,
ছিল গর্ভিনী, ভ্রষ্টা !
চিবিয়ে খেয়েছে ছেলেটার মাথা,
পাজী, হতভাগী, নষ্টা !
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া মানা,
সে কথা তো শিরোধার্য !
প্রেম থাকলে তো ধর্ষণও হবে,
এ তো অনস্বীকার্য !
গোটা রাত ধরে রক্ত ঝরেছে,
ভোরবেলা সব শান্ত,
নিঃশব্দেই ঘটে যায় সব,
মানবতা আক্রান্ত ?
কেউ কেউ মুখে কুলুপ এঁটেছে,
কেউ খুঁজে ফেরে স্বার্থ,
কবি শুধু ভাবে মেয়েটা আমার
ঘরেরও তো হতে পারতো !
*********************
একটি কবিতার জন্য
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
একটি কবিতার জন্য এক কবি,
একটি বৃক্ষ, একটি দেওয়াল,
অথবা এক বৃদ্ধের সামনে -
নতজানু হয়ে বসেন । আর ;
একটি কবিতার জন্য আমি
কয়েক যোজন পথ হাঁটি ।
কাঁটার মুকুট পরে
ক্রুশ কাঠ কাঁধে নিয়ে পাহাড় ভাঙ্গি ।
নির্দ্বিধায় পান করি তীব্র হলাহল ।
সারা বেলা কেটে যায় ।
সব খোঁজা শেষ হলে,
চুপ করে বসি এক নিরালা দুপুরে ।
কানে আসে বাঁশির এক মেঠো সুর,
বুঝি কোন নির্জন রাখাল ।
অরণ্যবৃক্ষের পাতায় পাতায়,
ভোরের শিশিরে আর সাঁঝের আজানে
খুঁজে পাই হাজার হাজার পৃষ্ঠা আশ্চর্য কবিতা ।
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
একটি কবিতার জন্য এক কবি,
একটি বৃক্ষ, একটি দেওয়াল,
অথবা এক বৃদ্ধের সামনে -
নতজানু হয়ে বসেন । আর ;
একটি কবিতার জন্য আমি
কয়েক যোজন পথ হাঁটি ।
কাঁটার মুকুট পরে
ক্রুশ কাঠ কাঁধে নিয়ে পাহাড় ভাঙ্গি ।
নির্দ্বিধায় পান করি তীব্র হলাহল ।
সারা বেলা কেটে যায় ।
সব খোঁজা শেষ হলে,
চুপ করে বসি এক নিরালা দুপুরে ।
কানে আসে বাঁশির এক মেঠো সুর,
বুঝি কোন নির্জন রাখাল ।
অরণ্যবৃক্ষের পাতায় পাতায়,
ভোরের শিশিরে আর সাঁঝের আজানে
খুঁজে পাই হাজার হাজার পৃষ্ঠা আশ্চর্য কবিতা ।
*********************
দুগ্গা মায়ের কথা
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
ও মেয়ে, তুই দুগ্গা নাকি ?
অস্ত্র ধরিস দশ হাতে ?
বধ করেছিস মহিষাসুর ।
লড়াই এখন কার সাথে ?
দশ হাতের ওই অস্ত্রগুলো,
মরচে ধরা, সব ভোঁতা,
এখন শুধু দশটা হাতে,
জোগাড় করি অন্নটা ।
এক জোড়া হাত কলম চালায়,
চাকরি করে, মাছ কোটে,
বাটনা বাটে, কাপড় কাচে,
উনুন ধরায়, ভাত ফোটে ।
তুই কি শুধু দুগ্গাই নোস ?
সরস্বতী, লক্ষ্মী ও ?
কলঙ্কিনী রাধাও হলি ?
জানলো না কাক পক্ষীও ?
নামটা কী তোর ? থাকিস কোথায় ?
কোন পাড়াতে বাস করিস ?
কোন পুকুরে নাইতে নামিস ?
কোন নদীতে জল ভরিস ?
অনেক প্রশ্ন ! কীই বা জবাব ?
নাম ধরে নাও, পাঞ্চালী !
ঠিকানা হয় তো হস্তিনাপুর,
হাথরাশ, বা - হাঁসখালি !
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
ও মেয়ে, তুই দুগ্গা নাকি ?
অস্ত্র ধরিস দশ হাতে ?
বধ করেছিস মহিষাসুর ।
লড়াই এখন কার সাথে ?
দশ হাতের ওই অস্ত্রগুলো,
মরচে ধরা, সব ভোঁতা,
এখন শুধু দশটা হাতে,
জোগাড় করি অন্নটা ।
এক জোড়া হাত কলম চালায়,
চাকরি করে, মাছ কোটে,
বাটনা বাটে, কাপড় কাচে,
উনুন ধরায়, ভাত ফোটে ।
তুই কি শুধু দুগ্গাই নোস ?
সরস্বতী, লক্ষ্মী ও ?
কলঙ্কিনী রাধাও হলি ?
জানলো না কাক পক্ষীও ?
নামটা কী তোর ? থাকিস কোথায় ?
কোন পাড়াতে বাস করিস ?
কোন পুকুরে নাইতে নামিস ?
কোন নদীতে জল ভরিস ?
অনেক প্রশ্ন ! কীই বা জবাব ?
নাম ধরে নাও, পাঞ্চালী !
ঠিকানা হয় তো হস্তিনাপুর,
হাথরাশ, বা - হাঁসখালি !
*********************
ব্যর্থ মানুষের এপিটাফ
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
আমি একটা নদী হতে চেয়েছিলাম ।
লাল মাটির দেশের একটা ছোট্ট নদী ।
বর্ষার জলে স্ফিত আর শীতে -
এক ফালি বিশীর্ণ স্রোত ।
চিরকাল রুক্ষ একফালি জমি
হয়ে থেকে গেলাম ।
ছোটবেলায়, এক ছিল -
আমার স্বপ্নের ক্রিকেটার ।
যার ব্যাট থেকে বল গুলো -
সীমানা পেরিয়ে যেত অক্লেশে ।
বল হাতে নিয়ে যখন তখন
বিপক্ষের ব্যাটসম্যানের স্টাম্প গুলো
উপড়ে দিতো সে ।
আমি তার মতো হতে চেয়েছিলাম ।
কিন্তু ব্যাট চালানোর পর, বোকার মতো
তাকিয়ে দেখতাম, বোলারের উল্লাস, আর
আম্পায়ারের বিরক্ত তর্জনি ।
এক বৃদ্ধের কথা শুনেছিলাম ।
তার কলমকারিতে ফলভরা গাছ,
কবিতা হয়ে উঠতো ।
আমি হতে চেয়েছিলাম সেই মানুষটা ।
ফল নয়, আমার বাগানে
পিটুনিয়ায় থাকবে গোলাপের সুবাস ।
গন্ধরাজে থাকবে প্যানসির রঙের ছিটে ।
হতে পারিনি কিছুতেই ।
কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম ।
দেখেছিলাম আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে আছে,
অনেক কবিতা ।
আমার সেরা কবিতা খানা,
আজও লেখা হয়ে ওঠেনি ।
একটা মানুষের গল্প শুনেছিলাম ।
মরুভূমির মত শুকনো একটা পাহাড়ের কোলে
লোকটা গাছের পর গাছ লাগিয়ে গেছে ।
এখন সেখানে বৃষ্টি হয় । উড়ে আসে,
নানান রঙের পাখি ।
আমি এ’রকম একটা জঙ্গল বানাতে চেয়েছিলাম ।
সেই জঙ্গলে একটা বিরাট দিঘীর পাড়ে
ছোট্ট একটা ঘরে বসে
আমি অপেক্ষা করবো শিতালি পাখির ।
সারাজীবন একটা গাছও লাগাতে পারিনি ।
আমি এখন একটা কংক্রিটের জঙ্গলে বসে
সারাদিন ধরে অপেক্ষা করি -
চারদিক ঘেরা একটা কাঁচের গাড়ির ।
হয়তো আমার এপিটাফে লেখা থাকবে -
একটা মানুষ, যে অনেক কিছুই হতে চেয়েছিল ।
কিন্তু, কিছুই হয়ে উঠতে পারেনি ।
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
আমি একটা নদী হতে চেয়েছিলাম ।
লাল মাটির দেশের একটা ছোট্ট নদী ।
বর্ষার জলে স্ফিত আর শীতে -
এক ফালি বিশীর্ণ স্রোত ।
চিরকাল রুক্ষ একফালি জমি
হয়ে থেকে গেলাম ।
ছোটবেলায়, এক ছিল -
আমার স্বপ্নের ক্রিকেটার ।
যার ব্যাট থেকে বল গুলো -
সীমানা পেরিয়ে যেত অক্লেশে ।
বল হাতে নিয়ে যখন তখন
বিপক্ষের ব্যাটসম্যানের স্টাম্প গুলো
উপড়ে দিতো সে ।
আমি তার মতো হতে চেয়েছিলাম ।
কিন্তু ব্যাট চালানোর পর, বোকার মতো
তাকিয়ে দেখতাম, বোলারের উল্লাস, আর
আম্পায়ারের বিরক্ত তর্জনি ।
এক বৃদ্ধের কথা শুনেছিলাম ।
তার কলমকারিতে ফলভরা গাছ,
কবিতা হয়ে উঠতো ।
আমি হতে চেয়েছিলাম সেই মানুষটা ।
ফল নয়, আমার বাগানে
পিটুনিয়ায় থাকবে গোলাপের সুবাস ।
গন্ধরাজে থাকবে প্যানসির রঙের ছিটে ।
হতে পারিনি কিছুতেই ।
কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম ।
দেখেছিলাম আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে আছে,
অনেক কবিতা ।
আমার সেরা কবিতা খানা,
আজও লেখা হয়ে ওঠেনি ।
একটা মানুষের গল্প শুনেছিলাম ।
মরুভূমির মত শুকনো একটা পাহাড়ের কোলে
লোকটা গাছের পর গাছ লাগিয়ে গেছে ।
এখন সেখানে বৃষ্টি হয় । উড়ে আসে,
নানান রঙের পাখি ।
আমি এ’রকম একটা জঙ্গল বানাতে চেয়েছিলাম ।
সেই জঙ্গলে একটা বিরাট দিঘীর পাড়ে
ছোট্ট একটা ঘরে বসে
আমি অপেক্ষা করবো শিতালি পাখির ।
সারাজীবন একটা গাছও লাগাতে পারিনি ।
আমি এখন একটা কংক্রিটের জঙ্গলে বসে
সারাদিন ধরে অপেক্ষা করি -
চারদিক ঘেরা একটা কাঁচের গাড়ির ।
হয়তো আমার এপিটাফে লেখা থাকবে -
একটা মানুষ, যে অনেক কিছুই হতে চেয়েছিল ।
কিন্তু, কিছুই হয়ে উঠতে পারেনি ।
*********************
মৃত্যুর দিনলিপি
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
এ’ভাবে কি বেঁচে থাকা যায় ?
এইভাবে, প্রতি পল মৃত্যুভীতি নিয়ে ?
প্রতিটা শ্বাসের আগে একবার ভেবে নিই,
এ’ বাতাস বিশুদ্ধ ?
না কি, লৌহবাসরের কোণে,
অসতর্ক ছিদ্রপথ বেয়ে,
অপেক্ষায় আছে কোন বিষধর ?
প্রতি গ্রাস মুখে তোলবার আগে,
প্রতিটা শস্যের দানা খুঁটে খুঁটে দেখা,
লুকিয়ে রয়েছে কিনা জীব-পরমাণু !
তার মাঝে বিকৃত বাণিজ্য কিছু
ডালপালা মেলে ।
সেবা নয়, বিপণি বিপুল ।
চড়া দামে বিক্রী হয় প্রাণ, আর
শ্বাসবায়ু নিয়ে চলে কালোবাজারির খেলা ।
মৃতদেহ ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায়
শ্মশান - বণিক !
আর কিছু অতি বিজ্ঞজন,
লাশ গুণে গুণে ফেরে
এখানে ওখানে ।
উল্লাস চেপে রেখে মুখোশের আড়ে,
জলদগম্ভীর স্বরে বলে চলে,
কতো লাশ, দেখো !
দেখো এই নিরন্ধ্র সন্ত্রাস !
আর, আমি এক হতভাগ্য কবি,
মৃত্যুর দিনলিপি লিখে যাই ।
আগামী সময়ে আমি নাও থাকি যদি,
তবু জেনে রেখো,
আমিও এ’ সমস্ত কথা -
বলে দেবো সৃষ্টিকর্তাকে !
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
এ’ভাবে কি বেঁচে থাকা যায় ?
এইভাবে, প্রতি পল মৃত্যুভীতি নিয়ে ?
প্রতিটা শ্বাসের আগে একবার ভেবে নিই,
এ’ বাতাস বিশুদ্ধ ?
না কি, লৌহবাসরের কোণে,
অসতর্ক ছিদ্রপথ বেয়ে,
অপেক্ষায় আছে কোন বিষধর ?
প্রতি গ্রাস মুখে তোলবার আগে,
প্রতিটা শস্যের দানা খুঁটে খুঁটে দেখা,
লুকিয়ে রয়েছে কিনা জীব-পরমাণু !
তার মাঝে বিকৃত বাণিজ্য কিছু
ডালপালা মেলে ।
সেবা নয়, বিপণি বিপুল ।
চড়া দামে বিক্রী হয় প্রাণ, আর
শ্বাসবায়ু নিয়ে চলে কালোবাজারির খেলা ।
মৃতদেহ ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায়
শ্মশান - বণিক !
আর কিছু অতি বিজ্ঞজন,
লাশ গুণে গুণে ফেরে
এখানে ওখানে ।
উল্লাস চেপে রেখে মুখোশের আড়ে,
জলদগম্ভীর স্বরে বলে চলে,
কতো লাশ, দেখো !
দেখো এই নিরন্ধ্র সন্ত্রাস !
আর, আমি এক হতভাগ্য কবি,
মৃত্যুর দিনলিপি লিখে যাই ।
আগামী সময়ে আমি নাও থাকি যদি,
তবু জেনে রেখো,
আমিও এ’ সমস্ত কথা -
বলে দেবো সৃষ্টিকর্তাকে !
*********************
