কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জীর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
নীলযমুনায় আসছে তুফান
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
নীলযমুনায় আসছে তুফান ।
বাতাস জুড়ে থমথমে ভাব ।
বিষাদ ছাওয়া আকাশ কেমন–
মেঘ আঁচলে মুখ ঢেকেছে ।
এখন সময় সূর্য ডোবার,
এই সময়েই সন্ধ্যে নামে,
জোনাকি রাত, ঝিঁঝির আওয়াজ
নিশুতি রাত প্রহর গোণে ।
এই সময়েই পাখীর ঝাঁকের,
ফুরসৎ হয় নীড়ে ফেরার,
এই সময়েই নীলযমুনায়,
সময় আসে তুফান ওঠার ।
নীলযমুনায় উঠলে তুফান,
পাল নামাতে ভুল হয়ে যায় ।
ওলটপালট ঝড়ের মাঝে,
হাল ভেঙ্গে যায় মাঝ নদীতে ।
নৌকো ডোবার গহন আশায়,
এখন মাঝি বৈঠা রাখে,
নীলযমুনায় আসছে তুফান,
এখন সময় গল্প বলার ।
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
নীলযমুনায় আসছে তুফান ।
বাতাস জুড়ে থমথমে ভাব ।
বিষাদ ছাওয়া আকাশ কেমন–
মেঘ আঁচলে মুখ ঢেকেছে ।
এখন সময় সূর্য ডোবার,
এই সময়েই সন্ধ্যে নামে,
জোনাকি রাত, ঝিঁঝির আওয়াজ
নিশুতি রাত প্রহর গোণে ।
এই সময়েই পাখীর ঝাঁকের,
ফুরসৎ হয় নীড়ে ফেরার,
এই সময়েই নীলযমুনায়,
সময় আসে তুফান ওঠার ।
নীলযমুনায় উঠলে তুফান,
পাল নামাতে ভুল হয়ে যায় ।
ওলটপালট ঝড়ের মাঝে,
হাল ভেঙ্গে যায় মাঝ নদীতে ।
নৌকো ডোবার গহন আশায়,
এখন মাঝি বৈঠা রাখে,
নীলযমুনায় আসছে তুফান,
এখন সময় গল্প বলার ।
*********************
নীলযমুনা সর্বনাশী
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
এক যে ছিল নীলযমুনা,
চরকা কাটা বুড়ির মতন,
আমার বুকের গোপন খাপে ।
অমূল্য এক গোপন রতন ।
রূপকথাতো ছোটবেলার
ঘুমপাড়ানি গল্পকথা,
আধপাকা চুল এখন আমার,
মানায় কি সেই কল্পনাটা ?
শব্দ সাজাই, বাক্য গোছাই,
বুদ্ধি খুঁজি পাটোয়ারী,
সহজ সরল, চলবে না আজ,
এখন আমার গা জোয়ারী ।
নীলযমুনা টানে আমায়,
অয়স্কান্ত মণি যেমন,
কর্মনাশা নদীর সোঁতা
সাজে কি আর এ’ মন কেমন ?
নীলযমুনা আমার কাছে
মাঝনদীতে নৌকো বাওয়া,
অনেক কিছু হারিয়ে ফেলা,
অল্প কিছু কুড়িয়ে পাওয়া ।
নীলযমুনা নীলযমুনা,
বিষের পাত্র কানায় কানায়,
অনেক যোজন পেরিয়ে আসা
যাযাবরী পাখির ডানায় ।
নীলযমুনা মরার, না কি
নতুন করে বাঁচার আশা ?
নীলযমুনা বিষেতে নীল,
বিষের জলে দু’ কূল ভাসা ।
নিজের ছায়ার সাথে নিজের
লড়াই চলে অহর্নিশি ।
নীলযমুনা আমায় কি তুই,
ভাসিয়ে নিবি সর্বনাশী !
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
এক যে ছিল নীলযমুনা,
চরকা কাটা বুড়ির মতন,
আমার বুকের গোপন খাপে ।
অমূল্য এক গোপন রতন ।
রূপকথাতো ছোটবেলার
ঘুমপাড়ানি গল্পকথা,
আধপাকা চুল এখন আমার,
মানায় কি সেই কল্পনাটা ?
শব্দ সাজাই, বাক্য গোছাই,
বুদ্ধি খুঁজি পাটোয়ারী,
সহজ সরল, চলবে না আজ,
এখন আমার গা জোয়ারী ।
নীলযমুনা টানে আমায়,
অয়স্কান্ত মণি যেমন,
কর্মনাশা নদীর সোঁতা
সাজে কি আর এ’ মন কেমন ?
নীলযমুনা আমার কাছে
মাঝনদীতে নৌকো বাওয়া,
অনেক কিছু হারিয়ে ফেলা,
অল্প কিছু কুড়িয়ে পাওয়া ।
নীলযমুনা নীলযমুনা,
বিষের পাত্র কানায় কানায়,
অনেক যোজন পেরিয়ে আসা
যাযাবরী পাখির ডানায় ।
নীলযমুনা মরার, না কি
নতুন করে বাঁচার আশা ?
নীলযমুনা বিষেতে নীল,
বিষের জলে দু’ কূল ভাসা ।
নিজের ছায়ার সাথে নিজের
লড়াই চলে অহর্নিশি ।
নীলযমুনা আমায় কি তুই,
ভাসিয়ে নিবি সর্বনাশী !
*********************
আবার ডাকে নীলযমুনা
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
অনেক দিনের পরে আবার
ডাক দিয়েছে নীলযমুনা ।
লাল বাক্সে ডাকের চিঠি,
খামের ওপর ভুল ঠিকানা ।
এখন রাতের আবছায়াতে
ঘন্টা -ঘড়ি প্রহর জানায় ।
মধ্যরাতে মালকোষ নয়,
কোন্ এক পাগল, ভৈরবী গায় ।
ভোরের বেলা সূর্য ওঠে,
সন্ধ্যেবেলা চাঁদ ওঠে না ।
আকাশ ভরা ধুসর মেঘে,
টবের গাছে ফুল ফোটেনা ।
নীলযমুনা এখন আমার
ড্রয়িং রুমের কাঁচের জারে
আগুন রঙা মাছের মতন ।
বসত করি নদীর ধারে ।
তবুও আমার পাগলা প্রহর,
আবছা আলো নদীর চড়ায়,
নিশির ডাকে নীলযমুনা,
হাতছানিতে ডাক দিয়ে যায় ।
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
অনেক দিনের পরে আবার
ডাক দিয়েছে নীলযমুনা ।
লাল বাক্সে ডাকের চিঠি,
খামের ওপর ভুল ঠিকানা ।
এখন রাতের আবছায়াতে
ঘন্টা -ঘড়ি প্রহর জানায় ।
মধ্যরাতে মালকোষ নয়,
কোন্ এক পাগল, ভৈরবী গায় ।
ভোরের বেলা সূর্য ওঠে,
সন্ধ্যেবেলা চাঁদ ওঠে না ।
আকাশ ভরা ধুসর মেঘে,
টবের গাছে ফুল ফোটেনা ।
নীলযমুনা এখন আমার
ড্রয়িং রুমের কাঁচের জারে
আগুন রঙা মাছের মতন ।
বসত করি নদীর ধারে ।
তবুও আমার পাগলা প্রহর,
আবছা আলো নদীর চড়ায়,
নিশির ডাকে নীলযমুনা,
হাতছানিতে ডাক দিয়ে যায় ।
*********************
নীলযমুনার কথা
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
নীলযমুনা একটা নদীর নাম ।
আমার চোখের গহনে ঢেকে রাখা আছে
কয়েকটা শিশির বিন্দু ।
আমার কাছে অনেক ক্লান্তি জমা আছে,
অনেকটা জমানো ডাকটিকিটের মতো -
অথবা লক্ষ্মীর ভান্ডারে জমানো পয়সার মতো ।
বুকের মধ্যে বিন্দু বিন্দু করে লুকিয়ে রাখা আছে -
কাউকে বলতে না পারা কিছু বেদনা ।
আনাচে কানাচে রাখা কিছু গভীর দুঃখবোধ ।
জমাট বেঁধে যাওয়া কিছু গোপন যন্ত্রণা ।
সবটা ব্যাথা জুড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য আশা -
শুনিয়ে যায় নীলযমুনার ডাক ।
অতি মৃদু স্বরে কানে কানে বলে -
অনেক গভীরে দাও ডুব ।
মুক্তো পাবে ঝিনুকের বুকে ।
সেই ডাকে সাড়া দিই যদি,
কিছুটা জীবন নাকি বাকি থেকে যায় ।
অতি ঘন আঁধারেও জানি,
রাত্রি হয় না নিষ্প্রভাত ।
মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে উঠে মনে মনে টের পাই -
অন্ধকার রাত্রির মাঝে একখানা আবছায়া দ্বীপে
আজও আমি বেঁচে আছি - হাল ভাঙ্গা নৌকোর মতো ।
তবুওতো বুঝি এক গাঢ় অনুভবে
অনেক না বলা কথা বাকি ।
নীলযমুনা শুধু একটা নদীর নাম নয় ।
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
নীলযমুনা একটা নদীর নাম ।
আমার চোখের গহনে ঢেকে রাখা আছে
কয়েকটা শিশির বিন্দু ।
আমার কাছে অনেক ক্লান্তি জমা আছে,
অনেকটা জমানো ডাকটিকিটের মতো -
অথবা লক্ষ্মীর ভান্ডারে জমানো পয়সার মতো ।
বুকের মধ্যে বিন্দু বিন্দু করে লুকিয়ে রাখা আছে -
কাউকে বলতে না পারা কিছু বেদনা ।
আনাচে কানাচে রাখা কিছু গভীর দুঃখবোধ ।
জমাট বেঁধে যাওয়া কিছু গোপন যন্ত্রণা ।
সবটা ব্যাথা জুড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য আশা -
শুনিয়ে যায় নীলযমুনার ডাক ।
অতি মৃদু স্বরে কানে কানে বলে -
অনেক গভীরে দাও ডুব ।
মুক্তো পাবে ঝিনুকের বুকে ।
সেই ডাকে সাড়া দিই যদি,
কিছুটা জীবন নাকি বাকি থেকে যায় ।
অতি ঘন আঁধারেও জানি,
রাত্রি হয় না নিষ্প্রভাত ।
মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে উঠে মনে মনে টের পাই -
অন্ধকার রাত্রির মাঝে একখানা আবছায়া দ্বীপে
আজও আমি বেঁচে আছি - হাল ভাঙ্গা নৌকোর মতো ।
তবুওতো বুঝি এক গাঢ় অনুভবে
অনেক না বলা কথা বাকি ।
নীলযমুনা শুধু একটা নদীর নাম নয় ।
*********************
নদী আমায় ডাক দিয়েছে
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
হেমন্ত শেষ, আসবে এবার
শীতের হিমেল হাওয়া,
অনেকখানি হারিয়ে ফেলা,
একটুখানি পাওয়া ।
অনেক হেঁটে, ক্লান্ত শরীর,
বিরাম পেতে চায়,
পাতা ঝরার দিন এসেছে,
সময় বয়ে যায় ।
নদীর ধারে ভাঙা কলস,
বন্ধু ফিরে চলে,
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যায়
রাতে জোনাক জ্বলে ।
শীতের দিনের ঝরা পাতা,
স্রোতেই ভেসে যাক ।
নদী আমায় ডাক দিয়েছে,
নীলযমুনার ডাক ।
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
হেমন্ত শেষ, আসবে এবার
শীতের হিমেল হাওয়া,
অনেকখানি হারিয়ে ফেলা,
একটুখানি পাওয়া ।
অনেক হেঁটে, ক্লান্ত শরীর,
বিরাম পেতে চায়,
পাতা ঝরার দিন এসেছে,
সময় বয়ে যায় ।
নদীর ধারে ভাঙা কলস,
বন্ধু ফিরে চলে,
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যায়
রাতে জোনাক জ্বলে ।
শীতের দিনের ঝরা পাতা,
স্রোতেই ভেসে যাক ।
নদী আমায় ডাক দিয়েছে,
নীলযমুনার ডাক ।
*********************
জলোচ্ছাস
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
নীলযমুনার অগাধ জলে
উঠেছে কালবৈশাখী
প্রবল ঝড়ে হাল ভেঙ্গেছে,
ভাসিয়ে নিলো বৈঠা কি ?
পাল ছিঁড়েছে অনেক আগে,
খোল ভরা জল, সেঁউতি কই ?
ডুবছে নৌকো, ডুবছে মাঝি,
সঙ্গে ডুববে কেউ কি সই ?
দিনের শেষে, ঝড়ের মাঝে,
কে জানে কোন মতিচ্ছন্নে,
মাঝি হঠাৎ নোঙর তোলে,
ভাসার ? না কি ডোবার জন্যে ?
ঝড়ের মাঝে নীলযমুনায়
হঠাৎ যখন ডাকলো বান,
নীলযমুনার জলোচ্ছাসে,
ডোবা ভাসা সব সমান !
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
নীলযমুনার অগাধ জলে
উঠেছে কালবৈশাখী
প্রবল ঝড়ে হাল ভেঙ্গেছে,
ভাসিয়ে নিলো বৈঠা কি ?
পাল ছিঁড়েছে অনেক আগে,
খোল ভরা জল, সেঁউতি কই ?
ডুবছে নৌকো, ডুবছে মাঝি,
সঙ্গে ডুববে কেউ কি সই ?
দিনের শেষে, ঝড়ের মাঝে,
কে জানে কোন মতিচ্ছন্নে,
মাঝি হঠাৎ নোঙর তোলে,
ভাসার ? না কি ডোবার জন্যে ?
ঝড়ের মাঝে নীলযমুনায়
হঠাৎ যখন ডাকলো বান,
নীলযমুনার জলোচ্ছাসে,
ডোবা ভাসা সব সমান !
*********************
নিস্পন্দ ভেলা
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
আপন খেয়ালে সেই নদী বয়ে যায় ।
বুকের ভেতরে তার ছলাৎ ছলাৎ ।
সূর্য ডুবে গেছে কবে ।
শুক্লা দ্বিতীয়ায়,
অল্পক্ষণ থেকে মুছে গেছে চাঁদ ।
এখন নক্ষত্ররা আলো দেয় শুধু ।
নদী ও আকাশ দেয় গাঢ় অন্ধকার ।
এই রাতে নীলযমুনার চরে,
নেমে আসে শীতালি পাখির মতো,
এক ঝাঁক পরী ।
অন্য এক দিকে নামে ডাকিনীর দল ।
খরস্রোতা নীল জলে,
স্থির হয়ে ভেসে থাকে কলার মান্দাস ।
বেহুলাও আজ আর নেই কোনখানে ।
আমি শুধু লখিন্দর হয়ে,
তীব্র বিষে জরজর
নীলাভ শরীর নিয়ে
শুয়ে থাকি নিস্পন্দ ভেলায় ।
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
আপন খেয়ালে সেই নদী বয়ে যায় ।
বুকের ভেতরে তার ছলাৎ ছলাৎ ।
সূর্য ডুবে গেছে কবে ।
শুক্লা দ্বিতীয়ায়,
অল্পক্ষণ থেকে মুছে গেছে চাঁদ ।
এখন নক্ষত্ররা আলো দেয় শুধু ।
নদী ও আকাশ দেয় গাঢ় অন্ধকার ।
এই রাতে নীলযমুনার চরে,
নেমে আসে শীতালি পাখির মতো,
এক ঝাঁক পরী ।
অন্য এক দিকে নামে ডাকিনীর দল ।
খরস্রোতা নীল জলে,
স্থির হয়ে ভেসে থাকে কলার মান্দাস ।
বেহুলাও আজ আর নেই কোনখানে ।
আমি শুধু লখিন্দর হয়ে,
তীব্র বিষে জরজর
নীলাভ শরীর নিয়ে
শুয়ে থাকি নিস্পন্দ ভেলায় ।
*********************
স্রোতস্বিনী
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
এ নদী অলক্ষে বয়,
নদীজল স্থির থাকে না,
খেলে যায় জোয়ার ভাঁটা
নদী তার খোঁজ রাখে না ।
এ নদীর দখিন পারে,
ফোটে ফুল, কোন অজানা,
বুনো ফুল বলেই জানি,
কেউ বলে হাসনু হানা ।
সারাটা জীবন ধরে,
খুঁজে তার খোঁজ পাবে না,
মাঝরাতে নিশির ডাকে,
লেখা থাকে তার ঠিকানা ।
এ’ জলে ডুব দিলে আর,
মরণের ভয় থাকে না,
এ নদী স্রোতস্বিনী,
এ নদী নীলযমুনা ।
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
এ নদী অলক্ষে বয়,
নদীজল স্থির থাকে না,
খেলে যায় জোয়ার ভাঁটা
নদী তার খোঁজ রাখে না ।
এ নদীর দখিন পারে,
ফোটে ফুল, কোন অজানা,
বুনো ফুল বলেই জানি,
কেউ বলে হাসনু হানা ।
সারাটা জীবন ধরে,
খুঁজে তার খোঁজ পাবে না,
মাঝরাতে নিশির ডাকে,
লেখা থাকে তার ঠিকানা ।
এ’ জলে ডুব দিলে আর,
মরণের ভয় থাকে না,
এ নদী স্রোতস্বিনী,
এ নদী নীলযমুনা ।
*********************
রাজামশাই
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
ধন্যি রাজামশাই তাঁকে,
দেখলেই হয় ভক্তি,
যেমন তেনার লোক লস্কর
তেমনি তেনার শক্তি !
জমকালো সাজ, নৌকো, হাতি,
সুসজ্জিত অশ্ব,
সামনে সেপাই, বোড়ের সারি,
চোখ জুড়োনো দৃশ্য !
প্রথম দুধ তো তাঁরই জন্যে
জন্মালে গোবৎস,
তাঁর জন্যেই প্রথম ফসল,
ফললে মাঠে শস্য !
নানান রকম খাজনা দেওয়ায়,
আমরা অগ্রগণ্য,
পান্তা ভাতে নুন জোটেনা,
তাতেও আমরা ধন্য ।
সভাকবি জ্বেলে দিলেন,
প্রাণে জ্ঞানের আলো,
রাজার জন্যে দিলেই হবে
দেশের দশের ভালো ।
বিপদ এলে তোদের তখন
বাঁচাবেন তো রাজাই,
সভাকবির ঢক্কানিনাদ,
আমরা কাঁসি বাজাই ।
হঠাৎ করে কোত্থেকে এক
বিপদ এল দেশে,
বন্যা, খরা, সেইসব নয়,
মহামারির বেশে,
নষ্ট হলো ক্ষেতের ফসল
ছুতোর কামার ত্রস্ত,
শ্রেষ্ঠী ভাসে চোখের জলে
তারও ব্যবসা নষ্ট !
আমরা বলি বাঁচাও রাজা,
রাজা শোনান ভাষণ,
দ্যাব্তা করেন পুষ্পবৃষ্টি,
আমরা বাজাই বাসন !
রাজা কাঁদেন, মন্ত্রী কাঁদেন,
এবং কাঁদেন রাণী,
আমরা ভাবি রাজার দয়ায়
বাঁচবে মহাপ্রাণী !
অবশেষে রাজা বলেন,
কোষাগারের অর্থ,
দেশের জন্যে খরচ হবে
নিতান্ত নিঃশর্ত ।
শ্রেষ্ঠী পাবে সোনা দানা,
তবেই বাঁচবে দেশটা,
অসাধারণ ছিল রাজার
সেই ভাষণের শেষটা ।
গরীব প্রজার জন্যে তোমরা
দান কোরো যা পারবে,
দেশের জন্যে খাজনা কিন্তু
বেশ একটু বাড়বে ।
আমরা বলি সমস্বরে,
রাজামশাই, ক্ষিধে !
রাজা বলেন, চেপে রাখো,
খুব কি অসুবিধে ?
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
ধন্যি রাজামশাই তাঁকে,
দেখলেই হয় ভক্তি,
যেমন তেনার লোক লস্কর
তেমনি তেনার শক্তি !
জমকালো সাজ, নৌকো, হাতি,
সুসজ্জিত অশ্ব,
সামনে সেপাই, বোড়ের সারি,
চোখ জুড়োনো দৃশ্য !
প্রথম দুধ তো তাঁরই জন্যে
জন্মালে গোবৎস,
তাঁর জন্যেই প্রথম ফসল,
ফললে মাঠে শস্য !
নানান রকম খাজনা দেওয়ায়,
আমরা অগ্রগণ্য,
পান্তা ভাতে নুন জোটেনা,
তাতেও আমরা ধন্য ।
সভাকবি জ্বেলে দিলেন,
প্রাণে জ্ঞানের আলো,
রাজার জন্যে দিলেই হবে
দেশের দশের ভালো ।
বিপদ এলে তোদের তখন
বাঁচাবেন তো রাজাই,
সভাকবির ঢক্কানিনাদ,
আমরা কাঁসি বাজাই ।
হঠাৎ করে কোত্থেকে এক
বিপদ এল দেশে,
বন্যা, খরা, সেইসব নয়,
মহামারির বেশে,
নষ্ট হলো ক্ষেতের ফসল
ছুতোর কামার ত্রস্ত,
শ্রেষ্ঠী ভাসে চোখের জলে
তারও ব্যবসা নষ্ট !
আমরা বলি বাঁচাও রাজা,
রাজা শোনান ভাষণ,
দ্যাব্তা করেন পুষ্পবৃষ্টি,
আমরা বাজাই বাসন !
রাজা কাঁদেন, মন্ত্রী কাঁদেন,
এবং কাঁদেন রাণী,
আমরা ভাবি রাজার দয়ায়
বাঁচবে মহাপ্রাণী !
অবশেষে রাজা বলেন,
কোষাগারের অর্থ,
দেশের জন্যে খরচ হবে
নিতান্ত নিঃশর্ত ।
শ্রেষ্ঠী পাবে সোনা দানা,
তবেই বাঁচবে দেশটা,
অসাধারণ ছিল রাজার
সেই ভাষণের শেষটা ।
গরীব প্রজার জন্যে তোমরা
দান কোরো যা পারবে,
দেশের জন্যে খাজনা কিন্তু
বেশ একটু বাড়বে ।
আমরা বলি সমস্বরে,
রাজামশাই, ক্ষিধে !
রাজা বলেন, চেপে রাখো,
খুব কি অসুবিধে ?
*********************
রাম শ্যাম যদুর ছড়া
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
রাম শ্যাম যদু তিন ভাই ছিল
ছোট থেকে হলো দামড়া,
এর গাছ থেকে আম চুরি করে
তার গাছ থেকে আমড়া ।
ভাই ভাই তারা ঠাঁই ঠাঁই হলো
বনে না এ ওর সঙ্গে,
ক্রমে ক্রমে তারা পড়লো ছড়িয়ে
এই দেশে এই বঙ্গে ।
তিন ভাইই মহা বদমাশ তারা
ডাহা মিথ্যুক তিনটেই,
লুটেপুটে খায়, মুখে বলে নাকি
চালাচ্ছে চেয়ে চিন্তেই ।
রাম এসে সব লুটে নিয়ে যায়,
শ্যাম আসে ঠিক তারপর,
যদু এসে ঘাড়ে বন্দুক ধরে -
কী আছে লুকোন বার কর্ ।
আমাদের তবু বেছে নিতে হয়
এ তিনের এক জনকে,
ডাকাতের চেয়ে চোরই হবে ভালো,
আমরা বোঝাই মনকে ।
সারা দিনরাত ঝগড়া চালায়
বক্তৃতা দেয় মাইকে,
চিনেছি ওদের, বন্ধু, তোমরা
চেনো কেউ তিন ভাইকে ?
*********************
কবি নির্মাল্য ব্যানার্জ্জী
মিলনসাগরে প্রকাশ ৮.১০.২০২৩।
রাম শ্যাম যদু তিন ভাই ছিল
ছোট থেকে হলো দামড়া,
এর গাছ থেকে আম চুরি করে
তার গাছ থেকে আমড়া ।
ভাই ভাই তারা ঠাঁই ঠাঁই হলো
বনে না এ ওর সঙ্গে,
ক্রমে ক্রমে তারা পড়লো ছড়িয়ে
এই দেশে এই বঙ্গে ।
তিন ভাইই মহা বদমাশ তারা
ডাহা মিথ্যুক তিনটেই,
লুটেপুটে খায়, মুখে বলে নাকি
চালাচ্ছে চেয়ে চিন্তেই ।
রাম এসে সব লুটে নিয়ে যায়,
শ্যাম আসে ঠিক তারপর,
যদু এসে ঘাড়ে বন্দুক ধরে -
কী আছে লুকোন বার কর্ ।
আমাদের তবু বেছে নিতে হয়
এ তিনের এক জনকে,
ডাকাতের চেয়ে চোরই হবে ভালো,
আমরা বোঝাই মনকে ।
সারা দিনরাত ঝগড়া চালায়
বক্তৃতা দেয় মাইকে,
চিনেছি ওদের, বন্ধু, তোমরা
চেনো কেউ তিন ভাইকে ?
*********************
