কবি রজত পুরকায়স্থের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
রাস্তা হোক শুধু শান্তির
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
"রাস্তা কারো একার নয়"
তবুও রাস্তা হারায় তার অনন্তযৌবন,
কৌলিন্যের পরীক্ষায় ফেল করে বারবার।
নাদীর শা কিংবা মহম্মদ ঘোরীর ঘোড়া
যে রাস্তায় ধূলো উড়িয়েছিল,
সেই রাস্তায় গৌরাঙ্গ প্রেমে মানুষ খুঁজেছিল
ইহকালের শান্তি।
গুপ্তঘাতক ওঁৎ পেতে বসে থাকে যে রাস্তায়
ঝোপের আড়ালে,
প্রজাপতি
লার্ভার নকশা আঁকে সেই ঝোপে গুল্মের শাখায়।
একই পথপরিক্রমায়
প্রতারকের পদচিহ্ন মাড়িয়ে
উপাসক এগিয়ে যায় মন্দিরে
পূজার সামগ্রী হাতে।
কাঁটাতারের বেড়া থাকার কথা ছিল যে রাস্তায়
সেই রাস্তা দিয়ে অনুপ্রবেশকারী রাতের অন্ধকারে এগিয়ে যায়
ভোটবাক্সের গন্তব্যে।
যে রাস্তা দিয়ে রক্তের ধারা মেশে নদীর স্রোতে
কালের বিপর্যয়ে কখনোবা নদী এগিয়ে এসে
গ্রাস করে রাস্তার স্থাপত্য।
"রাস্তা কারো একার নয়"।
রাস্তা সবার।
তাই রাস্তা হতে পারেনা শুধু শান্তির,
বহুভোগ্যার কলঙ্কে কাঁদে অবৈধ প্রসব যন্ত্রণায়।
*********************
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
"রাস্তা কারো একার নয়"
তবুও রাস্তা হারায় তার অনন্তযৌবন,
কৌলিন্যের পরীক্ষায় ফেল করে বারবার।
নাদীর শা কিংবা মহম্মদ ঘোরীর ঘোড়া
যে রাস্তায় ধূলো উড়িয়েছিল,
সেই রাস্তায় গৌরাঙ্গ প্রেমে মানুষ খুঁজেছিল
ইহকালের শান্তি।
গুপ্তঘাতক ওঁৎ পেতে বসে থাকে যে রাস্তায়
ঝোপের আড়ালে,
প্রজাপতি
লার্ভার নকশা আঁকে সেই ঝোপে গুল্মের শাখায়।
একই পথপরিক্রমায়
প্রতারকের পদচিহ্ন মাড়িয়ে
উপাসক এগিয়ে যায় মন্দিরে
পূজার সামগ্রী হাতে।
কাঁটাতারের বেড়া থাকার কথা ছিল যে রাস্তায়
সেই রাস্তা দিয়ে অনুপ্রবেশকারী রাতের অন্ধকারে এগিয়ে যায়
ভোটবাক্সের গন্তব্যে।
যে রাস্তা দিয়ে রক্তের ধারা মেশে নদীর স্রোতে
কালের বিপর্যয়ে কখনোবা নদী এগিয়ে এসে
গ্রাস করে রাস্তার স্থাপত্য।
"রাস্তা কারো একার নয়"।
রাস্তা সবার।
তাই রাস্তা হতে পারেনা শুধু শান্তির,
বহুভোগ্যার কলঙ্কে কাঁদে অবৈধ প্রসব যন্ত্রণায়।
*********************
পুকুর-প্রেমিক
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
শর্তানুযায়ী হরিহর ভালো হলে
ওর বাবা আরো বেশী ভালো,
কিংবা বীজগণিতের নিয়ম মেনে বলতে পারি,
মনে করিলাম ভোলা সমান চোর হইলে
ভোলার বাবা সমান ডাকাত,
অতএব নির্ণেয় সমাধান ;
ভোলার পরবর্তী প্রজন্ম সমান, পুকুরচোর।
হোঁচট খেয়ে থেমে যায় কলম।
উত্তর ভরা থাকে গরমিলে।
বারবার কাটাকুটির পরেও একটাই উত্তর পাওয়া যায়, পুকুরচোর।
ভোলার পরবর্তী প্রজন্ম, পুকুরচোর।
ছোট মাঝারি বড়
যে পুকুর সামনে পায় অদৃশ্য করে দেয়।
অনেক চেষ্টার পরেও
উত্তরমালার সাথে কোন মিল পাওয়া যায়না।
সেখানে জ্বলজ্বল করছে, পুকুর-প্রেমিক।
প্রেমিক বটে।
পুকুরের প্রতি প্রেম আছে বলেই তো
ভালোবেসে পুকুর লুকিয়ে রাখে
বিছানার তলায়, ঠাকুরের সিংহাসনের নিচে।
জনগণ শুধুই চোর দেখে,
চোর ধরার খেলায় মজা পায়।
প্রেমিক দেখেনা,
চোখে পড়েনা তার অধ্যবসায়
ছোট থেকে বড় হবার নিরলস সাধনা।
*********************
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
শর্তানুযায়ী হরিহর ভালো হলে
ওর বাবা আরো বেশী ভালো,
কিংবা বীজগণিতের নিয়ম মেনে বলতে পারি,
মনে করিলাম ভোলা সমান চোর হইলে
ভোলার বাবা সমান ডাকাত,
অতএব নির্ণেয় সমাধান ;
ভোলার পরবর্তী প্রজন্ম সমান, পুকুরচোর।
হোঁচট খেয়ে থেমে যায় কলম।
উত্তর ভরা থাকে গরমিলে।
বারবার কাটাকুটির পরেও একটাই উত্তর পাওয়া যায়, পুকুরচোর।
ভোলার পরবর্তী প্রজন্ম, পুকুরচোর।
ছোট মাঝারি বড়
যে পুকুর সামনে পায় অদৃশ্য করে দেয়।
অনেক চেষ্টার পরেও
উত্তরমালার সাথে কোন মিল পাওয়া যায়না।
সেখানে জ্বলজ্বল করছে, পুকুর-প্রেমিক।
প্রেমিক বটে।
পুকুরের প্রতি প্রেম আছে বলেই তো
ভালোবেসে পুকুর লুকিয়ে রাখে
বিছানার তলায়, ঠাকুরের সিংহাসনের নিচে।
জনগণ শুধুই চোর দেখে,
চোর ধরার খেলায় মজা পায়।
প্রেমিক দেখেনা,
চোখে পড়েনা তার অধ্যবসায়
ছোট থেকে বড় হবার নিরলস সাধনা।
*********************
নতুন বোতলে পুরানো মদ
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
শাসক কারো আপন হয়না।
বিরোধী শক্তিতে মানবপ্রেমিক হয় সবাই।
যারা কংকালের বিরতির উনুনের
খবর নিয়ে ব্যথা পায়,
একদিন সেই কংকালের হাড়ে তারাই গড়ে
তপস্যার বেদী।
ধূলো মাখা পথশিশুর ধূলোর ভাগ নেয়
ধপধপে সাদা পোশাক
বিপরীত আসনে থাকাকালীন,
পরে ঠান্ডা গাড়ি ধূলো উড়িয়ে
সেই শিশুটার শরীর ঢেকে দেয় ধূলোর মলাটে।
যারা কেলেঙ্কারির তদন্তের দাবীতে
অনশনের বাহারি মঞ্চে
লুকিয়ে ফলের রস খায়
একদিন তদন্তের সাপলুডো খেলে তারা।
শাসক কারো আপন হয়না।
সিঁড়ি ভাঙার তাগিদে ওরা আপনজনের মুখোশে
সাময়িক নিরপেক্ষ প্রতিবেদন মাত্র।
অদ্ভূত কারণে বিরোধীদের গলায় ঝোলে
নিরপেক্ষতার সাইনবোর্ড,
তারপর চাকা ঘুরতেই পুরাতনের পুনরাবৃত্তি।
একই নিয়মে
এপারের প্রতারকদের রথ থামে
ওপারের চিচিং ফাঁকের গুপ্ত গহ্বরে।
লঘুরাই হয় গরিষ্ঠ।
সেবকের মিছিলে ভরে যায় দেশ।
মাসোহারা কিংবা মাসমাহিনা বন্ধ হলেই
সেবকের নামাবলি
উড়ে যাবে নিরুদ্দেশে,
ছোট হবে বিবেকের বিজ্ঞাপনী লাইন।
এটাই গণতন্ত্র
তন্ত্রসাধকের দেশে।
*********************
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
শাসক কারো আপন হয়না।
বিরোধী শক্তিতে মানবপ্রেমিক হয় সবাই।
যারা কংকালের বিরতির উনুনের
খবর নিয়ে ব্যথা পায়,
একদিন সেই কংকালের হাড়ে তারাই গড়ে
তপস্যার বেদী।
ধূলো মাখা পথশিশুর ধূলোর ভাগ নেয়
ধপধপে সাদা পোশাক
বিপরীত আসনে থাকাকালীন,
পরে ঠান্ডা গাড়ি ধূলো উড়িয়ে
সেই শিশুটার শরীর ঢেকে দেয় ধূলোর মলাটে।
যারা কেলেঙ্কারির তদন্তের দাবীতে
অনশনের বাহারি মঞ্চে
লুকিয়ে ফলের রস খায়
একদিন তদন্তের সাপলুডো খেলে তারা।
শাসক কারো আপন হয়না।
সিঁড়ি ভাঙার তাগিদে ওরা আপনজনের মুখোশে
সাময়িক নিরপেক্ষ প্রতিবেদন মাত্র।
অদ্ভূত কারণে বিরোধীদের গলায় ঝোলে
নিরপেক্ষতার সাইনবোর্ড,
তারপর চাকা ঘুরতেই পুরাতনের পুনরাবৃত্তি।
একই নিয়মে
এপারের প্রতারকদের রথ থামে
ওপারের চিচিং ফাঁকের গুপ্ত গহ্বরে।
লঘুরাই হয় গরিষ্ঠ।
সেবকের মিছিলে ভরে যায় দেশ।
মাসোহারা কিংবা মাসমাহিনা বন্ধ হলেই
সেবকের নামাবলি
উড়ে যাবে নিরুদ্দেশে,
ছোট হবে বিবেকের বিজ্ঞাপনী লাইন।
এটাই গণতন্ত্র
তন্ত্রসাধকের দেশে।
*********************
অবেলায় দেখা
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
প্রতিটা রাতের কাছে ঋণী আমি।
প্রতিটা রাতের নিবিড়তায়
তোমার স্পর্শে জেগে উঠি বন্ধ চোখে।
তুমি বলেছিলে,
শেষ বিকালের রোদে
বিলম্বের পরিচয় আমাদের।
সুতোর গিঁট নাইবা বাঁধা হলো!
আশারাই বেঁচে থাক,
অসমাপ্ত ঘরের সরঞ্জাম তোলা থাক
আবার জন্মের অপেক্ষায়।
আমিও মেনে নিয়েছি।
অবাধ্য হয়নি মন
তোমার আর তোমাদের
বোঝাপড়া জীবনের কথা ভেবে।
শুধু তোমার ফেলে যাওয়া চিরুনিটা আজও সেইভাবে রাখা আছে টেবিলের উপর।
অজ্ঞাতে ফেলে যাওয়া তোমার সে অভিজ্ঞানে
জড়ানো চুলের ঘ্রাণ
বড়ই আপন মনে হয়।
এপারের শূন্যতায়
তুমি শুধু ধরা দাও রাতের আঁধারে ;
প্রতিটা রাতের কাছে ঋণী আমি
সেই কথা ভেবে।
সোহাগে জড়াই শুধু গভীর দূরত্ব।
সোহাগে জড়াই শুধু গভীর দূরত্ব,
যেমন জড়াও তুমি এপারের সব বিপরীত
ওপারে মিলনের আশায়।
*********************
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
প্রতিটা রাতের কাছে ঋণী আমি।
প্রতিটা রাতের নিবিড়তায়
তোমার স্পর্শে জেগে উঠি বন্ধ চোখে।
তুমি বলেছিলে,
শেষ বিকালের রোদে
বিলম্বের পরিচয় আমাদের।
সুতোর গিঁট নাইবা বাঁধা হলো!
আশারাই বেঁচে থাক,
অসমাপ্ত ঘরের সরঞ্জাম তোলা থাক
আবার জন্মের অপেক্ষায়।
আমিও মেনে নিয়েছি।
অবাধ্য হয়নি মন
তোমার আর তোমাদের
বোঝাপড়া জীবনের কথা ভেবে।
শুধু তোমার ফেলে যাওয়া চিরুনিটা আজও সেইভাবে রাখা আছে টেবিলের উপর।
অজ্ঞাতে ফেলে যাওয়া তোমার সে অভিজ্ঞানে
জড়ানো চুলের ঘ্রাণ
বড়ই আপন মনে হয়।
এপারের শূন্যতায়
তুমি শুধু ধরা দাও রাতের আঁধারে ;
প্রতিটা রাতের কাছে ঋণী আমি
সেই কথা ভেবে।
সোহাগে জড়াই শুধু গভীর দূরত্ব।
সোহাগে জড়াই শুধু গভীর দূরত্ব,
যেমন জড়াও তুমি এপারের সব বিপরীত
ওপারে মিলনের আশায়।
*********************
জলভাত
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
জলভাত কথাটা শুনছি ছোটবেলা থেকে।
আমার কঠিন অঙ্কগুলো
দাদার কাছে ছিল জলভাত,
নিমেষেই উত্তর মিলিয়ে ফেলত।
একদিন কাকুকে বলেছিলাম,
তুমি পদ্মপুকুর ডুব সাঁতার দিয়ে পার হতে পারবে?
কাকু বলেছিল, এতো আমার কাছে জলভাত।
জ্যান্ত আরশোলা মুঠোয় ভরে দিদিকে ভয় দেখানো,
উঠোনে মায়ের মেলে দেওয়া কাপড় গুলো
টান দিয়ে ধূলোয় ফেলে দেওয়া,
দাদুর পানের খিলিতে গোপনে শুকনো লঙ্কা ঢুকিয়ে দেওয়া,
সবটাই ছিল আমার কাছে জলভাত।
একটু বড় হতে পরিচিত 'জলভাত' শব্দটা বিদায় নিয়েছে জীবন থেকে,
জল শুধু জল দেখেছি।
অগণিত চোখের জলে ঝাপসা হতে দেখেছি
কত প্রত্যাশার পথ।
নোনা জলে ভিজে ভাতের কণায় সূর্যের মুখ দ্যাখে
প্রতারিত জীবন।
জলভাতে উদর ভরিয়ে
সদর রাস্তায় সর্পিল মিছিলে পা মেলায় কাকাতুয়া জীবন।
কঠিন থেকে আরো কঠিন সমস্যার এই শতাব্দীতে
শুধু দেবতারা বরাত পায় জলভাতের।
নিশ্চিত আসনের বিনিময়ে তারা জনতার দুয়ারে
পৌঁছে দেয় সুখ আর শান্তির নষ্ট প্রতিশ্রুতি।
বছরে নতুন কোটি সকার, কৃষকের ক্ষেতে সবুজের ঢেউ,
শিক্ষা-স্বাস্থ্যে আলোর ত্রিফলা ঝলক।
মিথ্যাচার যেন জলভাত কারো কাছে।
'জলভাত' শুধু কয়েদী হয়েছে শিক্ষিত চোরের বুকপকেটে,
গণদেবতার মন্দির ভাসে জলে
ভাত দেখা দেয় কঠিন লড়াইয়ের বিনিময়ে।
*********************
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
জলভাত কথাটা শুনছি ছোটবেলা থেকে।
আমার কঠিন অঙ্কগুলো
দাদার কাছে ছিল জলভাত,
নিমেষেই উত্তর মিলিয়ে ফেলত।
একদিন কাকুকে বলেছিলাম,
তুমি পদ্মপুকুর ডুব সাঁতার দিয়ে পার হতে পারবে?
কাকু বলেছিল, এতো আমার কাছে জলভাত।
জ্যান্ত আরশোলা মুঠোয় ভরে দিদিকে ভয় দেখানো,
উঠোনে মায়ের মেলে দেওয়া কাপড় গুলো
টান দিয়ে ধূলোয় ফেলে দেওয়া,
দাদুর পানের খিলিতে গোপনে শুকনো লঙ্কা ঢুকিয়ে দেওয়া,
সবটাই ছিল আমার কাছে জলভাত।
একটু বড় হতে পরিচিত 'জলভাত' শব্দটা বিদায় নিয়েছে জীবন থেকে,
জল শুধু জল দেখেছি।
অগণিত চোখের জলে ঝাপসা হতে দেখেছি
কত প্রত্যাশার পথ।
নোনা জলে ভিজে ভাতের কণায় সূর্যের মুখ দ্যাখে
প্রতারিত জীবন।
জলভাতে উদর ভরিয়ে
সদর রাস্তায় সর্পিল মিছিলে পা মেলায় কাকাতুয়া জীবন।
কঠিন থেকে আরো কঠিন সমস্যার এই শতাব্দীতে
শুধু দেবতারা বরাত পায় জলভাতের।
নিশ্চিত আসনের বিনিময়ে তারা জনতার দুয়ারে
পৌঁছে দেয় সুখ আর শান্তির নষ্ট প্রতিশ্রুতি।
বছরে নতুন কোটি সকার, কৃষকের ক্ষেতে সবুজের ঢেউ,
শিক্ষা-স্বাস্থ্যে আলোর ত্রিফলা ঝলক।
মিথ্যাচার যেন জলভাত কারো কাছে।
'জলভাত' শুধু কয়েদী হয়েছে শিক্ষিত চোরের বুকপকেটে,
গণদেবতার মন্দির ভাসে জলে
ভাত দেখা দেয় কঠিন লড়াইয়ের বিনিময়ে।
*********************
অন্য ভারত
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
যে দেশের মেয়েরা
শরীরের কয়েকটি বিশেষ অংশ বাঁচাতে না পেরে
সম্পূর্ণ শরীর নিবেদন করতে বাধ্য হয়
শকুন কিংবা শিয়ালের শরীরের নিচে
সে দেশের নাম ভারতবর্ষ।
অপরাধী সনাক্ত আর সাজার মহেন্দ্রক্ষণ নির্ধারণ করতে না পেরে
বিস্তর ঘুমের ট্যাবলেট খায়
যে দেশের কর্তব্যরত পাহারাদারের দল
তার নাম ভারতবর্ষ।
ভারতবর্ষ সেই দেশের নাম
যে দেশে শহীদের দবরদখল লাশ কাঁধে চাপিয়ে
মরশুমি আত্মীয়ের অভিনয়ে দীর্ঘ পরমায়ু কেনা যায়।
অশিক্ষিতদের হাতের মুঠোয় শিক্ষিতের
দাক্ষিণ্য,
স্বঘোষিত পুরষ্কার বিজেতার পাণ্ডিত্যের হাসি,
অভিজাত চোরের দেবত্ব প্রাপ্তি,
যে দেশে সহজলভ্য
তার নাম ভারতবর্ষ।
মায়ের মুখে সন্তানের রক্তমাখা ভাত গুঁজে দিয়ে
যে দেশে বিজয় উৎসব পালিত হয়
তার নাম ভারতবর্ষ।
ভারতবর্ষ নামক দেশে
পরিকল্পিত অপরাধের দগদগে প্রমাণ পাবার পরেও
তল্লাশি, হেপাজত, জিজ্ঞাসাবাদে
সময় অতিবাহিত হয়,
সুকৌশলে আড়াল শব্দটাকে সশব্দে জীবন্ত ক'রে।
যে দেশে মানবতার বিনিময়ে লজ্জা কেনা হয়,
মন্দির মসজিদ পুড়িয়ে সুগন্ধি ফুলে সাজানো হয় শ্মশান কিংবা কবর,
ক্রিকেটের মতো রাজনীতির ময়দানে
গড়াপেটা ম্যাচ দেখেও
হাতে হাততালির ফোসকা পড়ে
যে দেশের জনগণের
তার নাম ভারতবর্ষ।
এ দেশ আমার কাম্য নয়।
দুর্নিবার মৃত্যু আর অপরাজেয় দুর্নীতির
মরুতীর্থ আমাদের দেশ নয়।
যে দেশে
ফাঁসির দড়ি গলায় পরার আগে
দৃপ্ত কন্ঠে এক কিশোর বলেছিল, বন্দেমাতরম…….
সে আমার চিরপরিচিত দেশ ভারতবর্ষ।
যে দেশের মাটিতে
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরী করার আগে দাঁত এবং
হাত-পায়ের নখ উপড়ে নিয়ে
হাতুড়ির আঘাতে শরীরের সবকটা হাড় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল
যে অগ্নিপুরুষের,
সে আমার গর্বের দেশ ভারতবর্ষ।
আমার দেশ ধর্মের সওদাগরের দেশ নয়,
রাজনৈতিক কাপালিকের বদ্ধভূমি নয়।
আমার দেশ, আমাদের দেশ
পূজারীর দেশ। প্রেমিকের দেশ।
এসো আমরা সম্মিলিত সাধনায় প্রেমিক হই,
তপোবনের মহিমায় সাজাই
এ দেশকে।
নির্বাসিত ভারত'কে ফিরিয়ে দিই দুর্বোধ্য ভারতের কোলে।
*********************
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
যে দেশের মেয়েরা
শরীরের কয়েকটি বিশেষ অংশ বাঁচাতে না পেরে
সম্পূর্ণ শরীর নিবেদন করতে বাধ্য হয়
শকুন কিংবা শিয়ালের শরীরের নিচে
সে দেশের নাম ভারতবর্ষ।
অপরাধী সনাক্ত আর সাজার মহেন্দ্রক্ষণ নির্ধারণ করতে না পেরে
বিস্তর ঘুমের ট্যাবলেট খায়
যে দেশের কর্তব্যরত পাহারাদারের দল
তার নাম ভারতবর্ষ।
ভারতবর্ষ সেই দেশের নাম
যে দেশে শহীদের দবরদখল লাশ কাঁধে চাপিয়ে
মরশুমি আত্মীয়ের অভিনয়ে দীর্ঘ পরমায়ু কেনা যায়।
অশিক্ষিতদের হাতের মুঠোয় শিক্ষিতের
দাক্ষিণ্য,
স্বঘোষিত পুরষ্কার বিজেতার পাণ্ডিত্যের হাসি,
অভিজাত চোরের দেবত্ব প্রাপ্তি,
যে দেশে সহজলভ্য
তার নাম ভারতবর্ষ।
মায়ের মুখে সন্তানের রক্তমাখা ভাত গুঁজে দিয়ে
যে দেশে বিজয় উৎসব পালিত হয়
তার নাম ভারতবর্ষ।
ভারতবর্ষ নামক দেশে
পরিকল্পিত অপরাধের দগদগে প্রমাণ পাবার পরেও
তল্লাশি, হেপাজত, জিজ্ঞাসাবাদে
সময় অতিবাহিত হয়,
সুকৌশলে আড়াল শব্দটাকে সশব্দে জীবন্ত ক'রে।
যে দেশে মানবতার বিনিময়ে লজ্জা কেনা হয়,
মন্দির মসজিদ পুড়িয়ে সুগন্ধি ফুলে সাজানো হয় শ্মশান কিংবা কবর,
ক্রিকেটের মতো রাজনীতির ময়দানে
গড়াপেটা ম্যাচ দেখেও
হাতে হাততালির ফোসকা পড়ে
যে দেশের জনগণের
তার নাম ভারতবর্ষ।
এ দেশ আমার কাম্য নয়।
দুর্নিবার মৃত্যু আর অপরাজেয় দুর্নীতির
মরুতীর্থ আমাদের দেশ নয়।
যে দেশে
ফাঁসির দড়ি গলায় পরার আগে
দৃপ্ত কন্ঠে এক কিশোর বলেছিল, বন্দেমাতরম…….
সে আমার চিরপরিচিত দেশ ভারতবর্ষ।
যে দেশের মাটিতে
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরী করার আগে দাঁত এবং
হাত-পায়ের নখ উপড়ে নিয়ে
হাতুড়ির আঘাতে শরীরের সবকটা হাড় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল
যে অগ্নিপুরুষের,
সে আমার গর্বের দেশ ভারতবর্ষ।
আমার দেশ ধর্মের সওদাগরের দেশ নয়,
রাজনৈতিক কাপালিকের বদ্ধভূমি নয়।
আমার দেশ, আমাদের দেশ
পূজারীর দেশ। প্রেমিকের দেশ।
এসো আমরা সম্মিলিত সাধনায় প্রেমিক হই,
তপোবনের মহিমায় সাজাই
এ দেশকে।
নির্বাসিত ভারত'কে ফিরিয়ে দিই দুর্বোধ্য ভারতের কোলে।
*********************
মিথ্যাচার
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
প্রথম গণতন্ত্রের কথা শুনেছি দাদুর মুখে।
একটু বড় হতে বইয়ের পাতা থেকে জেনেছি গণতন্ত্রের খুঁটিনাটি।
তারপর খুঁটি আলগা হয়েছে একটু একটু ক'রে,
শুধু সংজ্ঞা আর অক্ষরে বেঁচে থেকে
মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটপট করতে দেখেছি গণতন্ত্রকে।
ক্ষমতাবানের লোমশ হাতের মধ্যিখানে পুষ্পদের কলঙ্কিত হতে দেখেছি।
বাতাসে কম্পমান পতাকার পতপত আওয়াজের সাথে
মিশে যেতে শুনেছি
সহস্র মায়ের স্বজন হারানোর করুণ আর্তনাদ।
একসময় জেলখানা থেকে বেরিয়ে এসে
করিম চাচা রাতের অন্ধকারে চোরের মতো
গণতন্ত্রের মানে বোঝাত
গ্রামের নুয়ে পড়া মানুষগুলোকে।
তখনও আশার তরণী ডোবেনি
নিরাশার উত্তাল ঢেউয়ে,
তখনও মেঠো পথে আঁকা হয়নি রক্তের মানচিত্র,
তখনও আততায়ীর আগুনে পোড়া
বাবা-মায়ের লাশ
মড়িঘর থেকে ফেরত পাবার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়নি,
সত্য উন্মোচনের অপরাধে তরুণ সাংবাদিকের
জীবন্ত দেহ আগুনে পোড়েনি তখনও,
তখনও মানুষ সস্তার পোশাকে শরীর ঢেকে অচেনা হতে শেখেনি,
তখনও সব তখন এখন হয়নি।
ধ্বংসকারীর হাতে আজ সৃষ্টির বরাত,
শ্বাসরুদ্ধ দেশের রুদ্ধশ্বাস ইতিহাস লেখে
মন্দিরের জবরদখল দেবতার দল,
খোলা সীমান্ত দিয়ে অবাধে ঢোকে ক্ষমতায়নের আত্মীয়,
সমান্তরাল বাসিন্দারা অন্ধকারে সীমারেখা লঙ্ঘন ক'রে
চুমুক দেয় একই গেলাসে ভুরিভোজের আসরে,
অধিকার হারায় অধিকসংখ্যক।
এর নাম যদি মৃত্যু নয়,
তবে বেঁচে আছি বেশ আনন্দে,
লুঠেরার পদচিহ্নে ফুল ছড়িয়ে বেঁচে আছি পূজারীর গৌরবে।
মরতে ভয় পাই বলে বারবার মৃত্যুকে আলিঙ্গন ক'রি,
নিষ্ফল বন্দনা ক'রি গণতন্ত্রের ;
নিজেদের শরীর মাড়িয়ে।
*********************
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
প্রথম গণতন্ত্রের কথা শুনেছি দাদুর মুখে।
একটু বড় হতে বইয়ের পাতা থেকে জেনেছি গণতন্ত্রের খুঁটিনাটি।
তারপর খুঁটি আলগা হয়েছে একটু একটু ক'রে,
শুধু সংজ্ঞা আর অক্ষরে বেঁচে থেকে
মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটপট করতে দেখেছি গণতন্ত্রকে।
ক্ষমতাবানের লোমশ হাতের মধ্যিখানে পুষ্পদের কলঙ্কিত হতে দেখেছি।
বাতাসে কম্পমান পতাকার পতপত আওয়াজের সাথে
মিশে যেতে শুনেছি
সহস্র মায়ের স্বজন হারানোর করুণ আর্তনাদ।
একসময় জেলখানা থেকে বেরিয়ে এসে
করিম চাচা রাতের অন্ধকারে চোরের মতো
গণতন্ত্রের মানে বোঝাত
গ্রামের নুয়ে পড়া মানুষগুলোকে।
তখনও আশার তরণী ডোবেনি
নিরাশার উত্তাল ঢেউয়ে,
তখনও মেঠো পথে আঁকা হয়নি রক্তের মানচিত্র,
তখনও আততায়ীর আগুনে পোড়া
বাবা-মায়ের লাশ
মড়িঘর থেকে ফেরত পাবার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়নি,
সত্য উন্মোচনের অপরাধে তরুণ সাংবাদিকের
জীবন্ত দেহ আগুনে পোড়েনি তখনও,
তখনও মানুষ সস্তার পোশাকে শরীর ঢেকে অচেনা হতে শেখেনি,
তখনও সব তখন এখন হয়নি।
ধ্বংসকারীর হাতে আজ সৃষ্টির বরাত,
শ্বাসরুদ্ধ দেশের রুদ্ধশ্বাস ইতিহাস লেখে
মন্দিরের জবরদখল দেবতার দল,
খোলা সীমান্ত দিয়ে অবাধে ঢোকে ক্ষমতায়নের আত্মীয়,
সমান্তরাল বাসিন্দারা অন্ধকারে সীমারেখা লঙ্ঘন ক'রে
চুমুক দেয় একই গেলাসে ভুরিভোজের আসরে,
অধিকার হারায় অধিকসংখ্যক।
এর নাম যদি মৃত্যু নয়,
তবে বেঁচে আছি বেশ আনন্দে,
লুঠেরার পদচিহ্নে ফুল ছড়িয়ে বেঁচে আছি পূজারীর গৌরবে।
মরতে ভয় পাই বলে বারবার মৃত্যুকে আলিঙ্গন ক'রি,
নিষ্ফল বন্দনা ক'রি গণতন্ত্রের ;
নিজেদের শরীর মাড়িয়ে।
*********************
ভিজে আগুনের ছাই
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
হে নুয়ে পড়া মহান শিল্পীর দল,
দেবতারা জন্মায় তোমাদের ভালোবাসায়।
তোমরাই দেবতাদের হাত ধরে হাঁটতে শেখাও
নিজেদের ভরাডুবি মেনে নিয়ে।
দেবতার দৌরাত্ম্য মেনে নিতে না পারলে
নির্বাসনে যাও।
তোমরাই তাদের লালন করো খালি পেটে ;
একবার চেয়ে দেখ সৃষ্টিকর্তার কলঙ্ক তোমার সর্বাংশে।
তোমাদের কাছে গলা চাইলে গলাটা এগিয়ে দাও,
হাত চাইলে হাত, পা চাইলে পা,
হৃদপিণ্ডটাও হাসিমুখে উপড়ে ফেলতে
বিলম্ব করোনা মুহূর্তকাল।
দোষ দিওনা দেবতার।
যদি পারো একবার সমস্বরে উদাত্ত কন্ঠে বলো,
"আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন।"
পারবেনা।
তোমাদের সে আগুন পুড়ে খাক হয়েছে বহুকাল আগে।
পোড়া আগুনের ছাই মেখে সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীর একনিষ্ঠ সাধনার জন্য
খুঁজে ফেরো শান্তির তপোবন।
দোষারোপের সান্ত্বনায় বসে থাকো বাসি শব আগলে।
তোমাদের সৃষ্টিকর্তার গৌরব
সগৌরবে পৃথিবীকে করবে হাড় শূন্য,
তবুও দেবতা নির্মাণের কাজ করে যাবে
পরিচিত আনুগত্যের বংশপরম্পরায়।
হে নুয়ে পড়া মহান শিল্পীর দল,
একবার শুধু একবার বলো,
তোমরা ভুলে গ্যাছো দেবতা বানাবার কৌশল ;
তোমরা শুধুই মানুষ গড়তে জানো। মানুষ।
*********************
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
হে নুয়ে পড়া মহান শিল্পীর দল,
দেবতারা জন্মায় তোমাদের ভালোবাসায়।
তোমরাই দেবতাদের হাত ধরে হাঁটতে শেখাও
নিজেদের ভরাডুবি মেনে নিয়ে।
দেবতার দৌরাত্ম্য মেনে নিতে না পারলে
নির্বাসনে যাও।
তোমরাই তাদের লালন করো খালি পেটে ;
একবার চেয়ে দেখ সৃষ্টিকর্তার কলঙ্ক তোমার সর্বাংশে।
তোমাদের কাছে গলা চাইলে গলাটা এগিয়ে দাও,
হাত চাইলে হাত, পা চাইলে পা,
হৃদপিণ্ডটাও হাসিমুখে উপড়ে ফেলতে
বিলম্ব করোনা মুহূর্তকাল।
দোষ দিওনা দেবতার।
যদি পারো একবার সমস্বরে উদাত্ত কন্ঠে বলো,
"আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন।"
পারবেনা।
তোমাদের সে আগুন পুড়ে খাক হয়েছে বহুকাল আগে।
পোড়া আগুনের ছাই মেখে সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীর একনিষ্ঠ সাধনার জন্য
খুঁজে ফেরো শান্তির তপোবন।
দোষারোপের সান্ত্বনায় বসে থাকো বাসি শব আগলে।
তোমাদের সৃষ্টিকর্তার গৌরব
সগৌরবে পৃথিবীকে করবে হাড় শূন্য,
তবুও দেবতা নির্মাণের কাজ করে যাবে
পরিচিত আনুগত্যের বংশপরম্পরায়।
হে নুয়ে পড়া মহান শিল্পীর দল,
একবার শুধু একবার বলো,
তোমরা ভুলে গ্যাছো দেবতা বানাবার কৌশল ;
তোমরা শুধুই মানুষ গড়তে জানো। মানুষ।
*********************
ঘুম
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
ঘুমের মধ্যে ঘুমের স্বপ্ন দেখি প্রতি রাতে।
জন্মগ্রহণের পরে জন্মগত ঘুমের অধিকারে
অধিকতর যন্ত্রণার উপলব্ধি বেপাত্তা হয়।
শৈশবের লালিপপটা ধরা থাকে পড়ন্তবেলায়।
পৃথিবী জ্বর গায়ে ঘুমে অচেতন থাকে,
নষ্ট নক্ষত্ররা আকাশের বুকে শরীরে শরীর ছুঁয়ে
অধার্মিক জলসায় সূর্যসন্তান হতে চায়।
আমাদের পরিচিত শরীর শূন্যে ভাসে
ওজন হারা , নিয়ন্ত্রণহীন।
অনাবিষ্কৃত দ্বীপের বিপরীতে
কম্পাসের মুখ গভীর গর্তের অভিমুখে
দিকনির্দেশ করে।
পথভ্রষ্ট কলম্বাস যারা
ঘুমের ঘোরে ভুলে যায় জন্মলগ্ন।
ভগ্নদশায় কারা যেন কানে কানে বলে যায়,
জেগে থেকে রুগ্ন পরমায়ু নয় ;
ঘুমের তপস্যায় জীবন হোক পুষ্টিকর।
তাই ঘুমপাড়ানি গান শুনতে শুনতে
ঘুমের মধ্যে ঘুমের স্বপ্ন দেখি প্রতি রাতে
অনুগত ঘুমের প্রতিবেশি হয়ে।
*********************
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
ঘুমের মধ্যে ঘুমের স্বপ্ন দেখি প্রতি রাতে।
জন্মগ্রহণের পরে জন্মগত ঘুমের অধিকারে
অধিকতর যন্ত্রণার উপলব্ধি বেপাত্তা হয়।
শৈশবের লালিপপটা ধরা থাকে পড়ন্তবেলায়।
পৃথিবী জ্বর গায়ে ঘুমে অচেতন থাকে,
নষ্ট নক্ষত্ররা আকাশের বুকে শরীরে শরীর ছুঁয়ে
অধার্মিক জলসায় সূর্যসন্তান হতে চায়।
আমাদের পরিচিত শরীর শূন্যে ভাসে
ওজন হারা , নিয়ন্ত্রণহীন।
অনাবিষ্কৃত দ্বীপের বিপরীতে
কম্পাসের মুখ গভীর গর্তের অভিমুখে
দিকনির্দেশ করে।
পথভ্রষ্ট কলম্বাস যারা
ঘুমের ঘোরে ভুলে যায় জন্মলগ্ন।
ভগ্নদশায় কারা যেন কানে কানে বলে যায়,
জেগে থেকে রুগ্ন পরমায়ু নয় ;
ঘুমের তপস্যায় জীবন হোক পুষ্টিকর।
তাই ঘুমপাড়ানি গান শুনতে শুনতে
ঘুমের মধ্যে ঘুমের স্বপ্ন দেখি প্রতি রাতে
অনুগত ঘুমের প্রতিবেশি হয়ে।
*********************
হ য ব র ল
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
– বইমেলায় যাবি? নতুন বইয়ের গন্ধ পাবি, জ্ঞান-সাগরের ঢেউ দেখবি…… যাবি? বইমেলায় যাবি ?
– যাবো। যাবো।
সেল্ফি তুলবো বন্ধুদের সাথে।
– বই কিনবিনা?
– আড্ডা দেব। জমিয়ে খাবো।
– একটাও বই কিনবিনা? দেখবিনা উল্টে পাল্টে?
– কটা নতুন শাড়ি এখনো পরা হয়নি। লিপস্টিকের সাথে মিলিয়ে শাড়ি পরব।
– বই?
– দক্ষিণ ভারত বেড়াতে গিয়ে কটা গয়না কিনেছি। এবার বইমেলায় সেগুলো পরে বন্ধুদের দেখাবো।
– কত বইয়ের স্টল। দেশ বিদেশের নানান বই পাবি।
– জমিয়ে আড্ডা দেব। মঞ্চে গান টান হলে একটু দাঁড়াবো বরের হাত ধরে। শুনবো যদি ভালো লাগে।
– কত নামকরা কবি সাহিত্যিকরা মেলায় আসে। সচরাচর তাদের দেখা মেলেনা। তাদের কাছ থেকে দেখবি। তাদের কথা শুনবি। যাবি? বইমেলায় যাবি?
– ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেব। নানান ভঙ্গিতে ছবি তুলবো। লাইক পাবো। কমেন্ট বাক্স ভরিয়ে দেবে বন্ধুরা।
– সব কিছু করিস। বই কিনিস দু-চারটে।
– দামী কটা বই কিনব। আলমারিতে সাজিয়ে রাখবো। আত্মীয়রা আমার বাড়িতে বেড়াতে এসে অবাক চোখে দেখবে।
– বইগুলো পড়বিনা? নতুন বইয়ের গন্ধ নিবিনা?
– মাঝে মাঝে বইগুলো আলমারি থেকে বের ক'রে রোদে গরম করবো। মুছবো। তারপর আবার জায়গা মতো রেখে দেব।
– শুধু আলমারি ভরিয়ে বন্ধুদের দেখাতে বই কিনবি? ভালোবেসে কিনবিনা?
– সময় নেই।
– রবীঠাকুর। বঙ্কিমচন্দ্র। শরৎচন্দ্র। কারো বই কিনবিনা?
– বই কিনে কি হবে? অনুষ্ঠান হলে ঠাকুরের গান গাই তো। নিজেকে বেশ সমজদার মনে হয়।
– কত নতুন কবি সাহিত্যিক জন্মাচ্ছে। ওদের কথা জানবিনা?
– ঝালমুড়ির ঠোঁঙায় কত ছবি দেখি।
– বইমেলাটা অনেক দূরে বসবে। তুই যেতে পারবিনা।
– কত দূর?
– সে অনেক দূর। সেখানে শুধু মন আর ভালোবাসা পৌঁছাতে পারে।
– তাহলে কি হবে? আমার আলমারিটাকি খালি থাকবে? নতুন শাড়ির ভাঁজ খুলবোনা? গয়না গুলো কাদের দেখাবো?
– তোর মাথায় যাদের মাথা স্পর্শ করে এমন বন্ধু ঠিক পেয়ে যাবি। ছেলের স্কুলের গেটে, কফিহাউসে, সিনেমা হলের সামনে। চেয়ে দেখ, বইমেলার মাঠটা সরে যাচ্ছে দূরে। বহু দূরে।
– আমি ধরবো।
– পারবিনা। সবকিছু স্পর্শ করা গেলে ও ধরা যায়না।
*********************
কবি রজত পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫ই অগাস্ট ২০২৩।
– বইমেলায় যাবি? নতুন বইয়ের গন্ধ পাবি, জ্ঞান-সাগরের ঢেউ দেখবি…… যাবি? বইমেলায় যাবি ?
– যাবো। যাবো।
সেল্ফি তুলবো বন্ধুদের সাথে।
– বই কিনবিনা?
– আড্ডা দেব। জমিয়ে খাবো।
– একটাও বই কিনবিনা? দেখবিনা উল্টে পাল্টে?
– কটা নতুন শাড়ি এখনো পরা হয়নি। লিপস্টিকের সাথে মিলিয়ে শাড়ি পরব।
– বই?
– দক্ষিণ ভারত বেড়াতে গিয়ে কটা গয়না কিনেছি। এবার বইমেলায় সেগুলো পরে বন্ধুদের দেখাবো।
– কত বইয়ের স্টল। দেশ বিদেশের নানান বই পাবি।
– জমিয়ে আড্ডা দেব। মঞ্চে গান টান হলে একটু দাঁড়াবো বরের হাত ধরে। শুনবো যদি ভালো লাগে।
– কত নামকরা কবি সাহিত্যিকরা মেলায় আসে। সচরাচর তাদের দেখা মেলেনা। তাদের কাছ থেকে দেখবি। তাদের কথা শুনবি। যাবি? বইমেলায় যাবি?
– ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেব। নানান ভঙ্গিতে ছবি তুলবো। লাইক পাবো। কমেন্ট বাক্স ভরিয়ে দেবে বন্ধুরা।
– সব কিছু করিস। বই কিনিস দু-চারটে।
– দামী কটা বই কিনব। আলমারিতে সাজিয়ে রাখবো। আত্মীয়রা আমার বাড়িতে বেড়াতে এসে অবাক চোখে দেখবে।
– বইগুলো পড়বিনা? নতুন বইয়ের গন্ধ নিবিনা?
– মাঝে মাঝে বইগুলো আলমারি থেকে বের ক'রে রোদে গরম করবো। মুছবো। তারপর আবার জায়গা মতো রেখে দেব।
– শুধু আলমারি ভরিয়ে বন্ধুদের দেখাতে বই কিনবি? ভালোবেসে কিনবিনা?
– সময় নেই।
– রবীঠাকুর। বঙ্কিমচন্দ্র। শরৎচন্দ্র। কারো বই কিনবিনা?
– বই কিনে কি হবে? অনুষ্ঠান হলে ঠাকুরের গান গাই তো। নিজেকে বেশ সমজদার মনে হয়।
– কত নতুন কবি সাহিত্যিক জন্মাচ্ছে। ওদের কথা জানবিনা?
– ঝালমুড়ির ঠোঁঙায় কত ছবি দেখি।
– বইমেলাটা অনেক দূরে বসবে। তুই যেতে পারবিনা।
– কত দূর?
– সে অনেক দূর। সেখানে শুধু মন আর ভালোবাসা পৌঁছাতে পারে।
– তাহলে কি হবে? আমার আলমারিটাকি খালি থাকবে? নতুন শাড়ির ভাঁজ খুলবোনা? গয়না গুলো কাদের দেখাবো?
– তোর মাথায় যাদের মাথা স্পর্শ করে এমন বন্ধু ঠিক পেয়ে যাবি। ছেলের স্কুলের গেটে, কফিহাউসে, সিনেমা হলের সামনে। চেয়ে দেখ, বইমেলার মাঠটা সরে যাচ্ছে দূরে। বহু দূরে।
– আমি ধরবো।
– পারবিনা। সবকিছু স্পর্শ করা গেলে ও ধরা যায়না।
*********************
