কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্তর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।

*
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্তর পরিচিতির পাতায় . . .
উপলব্ধি
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৮ (২৩ নভেম্বর ২০২১)।

জীবন কত শিখিয়েছে ভালোবাসার গান
জীবন কত শুনিয়েছে একতারার টান
জীবন কত ভুলিয়েছে দুঃখ সূখের গাঁথা
জীবন কত রাঙিয়েছে এই জীবনের কথা
জীবন কত জাগিয়েছে নিদ্রাহীন রাত
জীবন কত বিলিয়েছে অঞ্জলি ভরা হাত
জীবন কত ভাবিয়েছে আগামী দিনের অদৃষ্ট
জীবন কত কাঁদিয়েছে না পাওয়ার কষ্ট
জীবন কত ডুবিয়েছে তৈরি হওয়া মুহূর্ত
জীবন কত ভাসিয়েছে হঠাৎ করে নিঃশর্ত

মরণ শুধু আমার ছায়া হয়ে ছিল দিনভর
মরণ শুধু আমার সাথে হেটেছে জীবনভর
মরণ শুধু জড়িয়ে ধরেছে গভীর মমতায়
মরণ শুধু সাহস জুগিয়েছে ওপারে যাওয়ায়
মরণ শুধু আমার অন্তরাত্মা করেছে অনুরোধ
মরণ শুধু আমার বন্ধু দিয়েছে সর্বদা প্রতিরোধ
মরণ শুধু অপেক্ষা করেছে নিঃশব্দে নীরবে
মরণ শুধু গোপনে হেসেছে, হাসেনি উচ্চরবে
মরণ শুধু ঢেকেছে আমায় অন্তহীন নিদ্রায়
মরণ শুধু সাজিয়েছে আমায় লেলিহান শিখায়।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর






*
আবেগ
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১৬ই পৌষ ১৪২৯ (৩০শে ডিসেম্বর ২০২২)। পুরুষ দিবস উপলক্ষে লেখা।

পুরুষ তুমি এগিয়ে চলো
আমরা আছি তোমার সাথে,
আমরা কেবল নারীরা নই
অনেক পুরুষও সামিল তাতে।

তুমি ভরসার শেষ কথা
জীবনের শুরু থেকে শেষ,
তুমি ছিলে সকল ভাবনায়
নিজেকে করে নিঃশেষ।

সৃষ্টি আছে তোমার রক্তে
তাই তুমি এত উদাসীন,
তোমার অহং পাথেয় করে
সৃষ্টি আগমনে আসীন।

ভুল যদি কিছু থেকে থাকে
তা সে তোমার সৃষ্ট নয়,
তোমার মাথা সবচেয়ে উঁচু
কখনো ঝুকবেনা এ ধরায়।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর






*
নতুন বছর
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১৬ই পৌষ ১৪২৯ (৩০শে ডিসেম্বর ২০২২)।

গত বছরের জঞ্জাল রাখো, মনের ঝুলিতে ভরে,
বয়ে নিয়ে চলো সেই ঝুলি, বিসর্জনের তরে।
বিসর্জন শেষে আনন্দে ফেরো, আশা নিয়ে বুকে,
পরের বছরের ঝুলি যেন,  হালকা হয় এর থেকে।

নতুন বছর হাতছানি দেয়, ভালো করার নেশায়-
সব হারিয়ে গুলিয়ে ফেলি, নতুন দিনের আশায়।
থাকবো ভালো, করবো ভালো, সকল কাজের মাঝে,
থাকবেনা কোনো দেখনদারি, নিজের মনের কাছে।

দ্বার খুলে দেখি দাঁড়িয়ে আছ, মুখেতে স্মিত  হাসি-
ভাবছ কি দেব তোমায় নতুন করে, না করে কঞ্জুসি।
দেব ভরসা, দেব খুশি দেব প্রাণ ভরা ভালোবাসা অফুরান-
সারা বছরেও থামবে না সে, থাকবে সর্বদা বহমান।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর






সান্নিধ্যে 
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ২৮শে আশ্বিন ১৪২৯ (১৩ই অক্টোবর ২০২২)।

ঈশ্বর তুমি বাহিরে থেকো
আমায় রেখো মায়ার কারাগারে বন্দী।
আমার যদি কারাবাস শেষও হয়
তবুও দিও না মুক্তি।
এ মুক্তি আমার নয় কাঙ্ক্ষিত,
মায়ার বাঁধনেই আমি সুরক্ষিত,
একমাত্র অগ্নিই আমার সঙ্গী মৃত‍্যুতে-
সেদিনই চাই তোমার সাথে মৃত‍্যুর আনন্দ
ভাগ করে নিতে।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর






*
ঈশ্বরের প্রতি
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১লা মার্চ ২০০২। এই কবিতাটি ২০০২ সালে গোধরা কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে লেখা।

ঊনষাট হাজার কোটি বছর লেগেছিল
জ্বলন্ত পিন্ডটির ঠান্ডা হতে,
তখনও তুমি হওনি প্রকট।
আরো এক হাজার কোটি বছর লেগেছিল
এককোষী অ‍্যামিবা থেকে
আদম-ইভে পৌছতে
তবু তখনও তোমার হয়নি উদয়।

কিন্ত যখন হলে,
উদ্ভাসিত এক দীপ্তির ন‍্যায়
মানবজাতির কল‍্যাণে-
ধেয়ে এলো তোমার সন্তান - সন্ততীরা
উন্মাদের মতো।

অচিরেই তোমাকে ছিড়ে-খুড়ে
করা হলো বহূধাবিভক্ত
কিন্তু কি আশ্চর্য, তোমার ঐ
খন্ডবিখন্ড অংশও প্রসব করতে থাকলো
কোটি কোটি মানব মানবী।

জন্ম নিল দ্বেষ, হিংসা,
বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা, হাহাকার -
এক অংশের অন‍্য অংশকে দাবিয়ে রাখার
নিরন্তর প্রয়াস,
তবু তুমি উদাসীন।

আরো কত রক্ত ঝরাবে?
ফিরিয়ে নিয়ে যাও সেই মুহুর্তে,
যেদিন তুমি হওনি প্রকট-
নাইবা থাকলে তুমি,
তবুও ত থাকবে শান্তি।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর






*
আর্তি
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ (১১ই অগাস্ট ২০২২)।

শিবঠাকুরের আপন দেশে
সে এক অরাজকতা অনেকদিন ধরে।
দেবরাজ ইন্দ্রের খামখেয়ালিপনায়
বৃষ্টি হয়নি কোনো খানে,
চতুর্দিকে টুটি ফাটা মাটি
খরার প্রকোপ সবখানে।
শিবের চুলে লাগলো জটা  
জলের অভাবে অবশেষে,
সে জটিলতার জটা কাটবে কিভাবে?
জল যদি না পাওয়া যায় কোনোভাবে।
নারায়ণ আজ ধরায় বন্দী,
গোপাল রূপি শৈশবের চৌহদ্দি,
সেখান থেকে মুক্ত হতে নাকি
আরো বেশ কিছু সময় বাকি।
এতদিন কি আটকে থাকবে তাহলে,
ইন্দ্রের অহংকার মানুষের কোলাহলে।

উন্নয়নের ছটায় আজ উন্নয়ন গেছে ঢেকে
দেবরাজ ইন্দ্রের ক্ষমতাও হার মেনেছে তার আলোকে।
নগরবাসীর কাছে  অনেক দাম এই আলোর আতসবাজির,
কংস এসেছে যে স্লোগান তুলে “দূয়ারে রাজা হাজির”।
আর কোনো নেই ভয় আর নেই সংশয়ে,
সব কিছু আজ চাপা পড়ে গেছে উন্নয়নের জলাশয়ে।
দূয়ারে রাজা খেলবে খেলা চেলাচামুন্ডাদের নিয়ে অবশ‍্য,
এ খেলায় কেবল রাজাই জিতবে এটাই অলিখিত সত‍্য।

কিন্তু একদিন আসবে কেষ্ট,
এই রাজসভাতে, খেলতে মামার বিপক্ষে,
অভ‍্যস্ত পঙ্গু প্রজারা সেদিন একসাথে চেঁচাবে,
“চোর চোর, মার ওটাকে”।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর






*
কবিতা লেখা
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৯ (১লা ডিসেম্বর ২০২২)।

যেদিন বলেছিলে আসবে তুমি
সেদিন ছিল না কোনো চাল চূলো
আজ তোমায় হন‍্যে হয়ে খুঁজি
কোথায় হারিয়ে গেলে নিয়ে অক্ষরগুলো।
সকাল বিকেল সন্ধানীর চোখে
খুঁজেই চলেছি খুঁজেই চলেছি অহরহ
খুঁজে তোমায় নাই যদি পাই
বিসর্জন দেব কবিতার জলে
আর করব না সহ‍্য তোমার নিগ্রহ।
নাই বা হলো কবিতা, ছেড়া হল পাতাখানা
তবুও তো জানব ইচ্ছে ছিল ষোলআনা।

এই ইচ্ছেটাই আসল, বাকী সব নকল
ঘুমের ঘোরে কত কিছু ভাসে সকাল হলেই বিকল
অজানার টানে চলতে চলতে হোঁচট খেয়ে পড়লে
হঠাৎ খুলে যেতেও পারে মনের জানালা অকালে
তখন যদি অক্ষরগুলো নাচতে থাকে মনের ক‍্যানভাসে
লেখা হয়ে যেতে পারে সিংহবাহিনীর কবিতা অনায়াসে
যে ভাবনা ছিল মনের কোঠায় লুকিয়ে
দিনের আলো পাবে সেটাই আজ,অন্ধকার ঘুচিয়ে।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর






*
ক্ষুদ্র আমি  
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ৮ই পৌষ ১৪২৯ (২২শে ডিসেম্বর ২০২২)।

আকাশ জুড়ে ছিল মেঘের আনাগোনা
তার মধ‍্যে ছিল ভৈরবীর দোটানা।
মিশে ছিল যাযাবর সুর পল্লীর মূর্ছনা,
শিহরন জাগে শরীরে হয়ে যাই আনমনা।
নাচের তালে ছন্দ ভোলায় পার্থিব অনুভূতি,
সুর তাল ছন্দ মিলে মেটায় সকল অতৃপ্তি।

পাখির কলতান ভরিয়ে তোলে চরাচর,
সেখানেও পাওয়া যায় আবেগের কেদার।
মনপ্রাণ ভরে যায় সুরের জাদুর মোহে,
আকূল হৃদয়ে উদ্বেলিত হই নিঃসন্দেহে।
আঁশ মেটেনা বেজে যায়  সুরের ঝংকার,
ক্ষুদ্র আমি ভুলে থাকি সকল অহংকার।

ঝর্ণার জল বহে চলে সশব্দে অতিমধুর,
সেই শব্দও জানান দেয় কোনো এক অজানা সুর।
যে সুর বহে চলে, জানান দেয় স্বর্গীয় অনুভূতি,
মোহিত করে রাখে অহোরাত্রি আনে নিবিড় তৃপ্তি।
আমার আমি মিশে থাকে সেই তৃপ্তির আবেশে,
নিজেকে আমি খুঁজে পাই সেই সুরের সমাবেশে।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর






*
যখন বৃষ্টি এলো
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১১ই কার্তিক ১৪২৯ (২৬শে অক্টোবর ২০২২)।

যখন বৃষ্টি এলো,
মেঘেরা সব দাঁড়িয়েছিল সারিবদ্ধ ভাবে-
কালো শাড়ী জড়িয়ে ঘোমটা দিয়ে,
মাঝে মাঝে আলোর ঝিলিক দিচ্ছিল তার গায়ে।
গগণবিদীর্ন আওয়াজে কাঁপছিল সব ভয়ে,
তবুও সবাই উদগ্রীব হয়ে তাকিয়েছিল একযোগে,
সমগ্র চরাচর উন্মুখ ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে,
অবশেষে অবসান হলো দুর্ভোগের ।

মহানাগরিক বললেন নতুন করে সাজানো হয়েছে ভূগর্ভস্থ নিষ্কাশন প্রণালী,
এবার বৃষ্টিতে কোথাও এতটুকু জমবেনা জল কারণ প্রণালীগুলো অতীব ক্ষমতাশালী,
অতি হতে সামান্যতম জলও সে করবে গলাধঃকরণ রাখবে না ফেলে ছিটে ফোটা,
শহরের পথ থাকবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন  বৃষ্টি হয়েছে মনেই হবে না,
নিন্দুকেরা দেখবে এসে নীল সাদা উন্নয়ন কাকে বলে,
অশোক রাজার রাজত্বও সেথায় হার মানবে অবহেলে।

গাড়ির কাচে অঝোরে বইছে যে জল,
ওয়াইপার চালিয়েও করা যাচ্ছে না কন্ট্রোল।
রাস্তায় জমা জল তাতে মেশা নর্দমার পাঁক,
তারি মধ্যে শাড়ী উঁচিয়ে বেসামাল পায়ে ক্যাটওয়াক।
বৃষ্টি এলো, অবসান নয়, শুরু দুর্ভোগের প্রহর গোনা।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর






*
সরস্বতীর আশির্বাদ
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১১ই মাঘ ১৪২৯ (২৪শে জানুয়ারী ২০২৩)।

আজ সরস্বতী পুজো, হোক না একটু হৈ হুল্লোর,
গুটিয়ে থাকা মনগুলো নাহয় একটু পাক
দেখা আলোর।
ছড়িয়ে থাকা মানুষগুলো আজ জড়ো হোক একযায়গায়,
প্রাণের কথা বলুক খুলে হারিয়ে যাওয়া
আত্মিকতায়।
আমরা নাহয় পেরিয়েছি বয়স হারিয়েছি আবেগ উচ্ছাস,
তাই বলে কি কচিকাঁচারা নেবেনা আজ মুক্তির শ্বাস।
ছোটদের সব সাজে আজ বাসন্তী রঙের বিস্ফোরণ,
তাদের কলরবে মুখরিত আজ সরস্বতীর
প্রাঙ্গণ।
আজকের দিনে সবাই যেন পায় তোমার পূজার প্রসাদ,
তোমাকে যারা করছে আরাধনা তাদের বিলিও তোমার আশির্বাদ।

.              ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর