কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্তর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
শেয়ালের বিয়ে
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১৯শে আষাঢ় ১৪২২ (৩ জুলাই ২০১৫)
আকাশে আজ রোদ উঠেছে ঝলমলিয়ে
বৃষ্টি বলে দাড়া দেখাচ্ছি মজা
নামছি এবার ঝমঝমিয়ে।
রদ্দুর বললো তা কেন?
এই তো শুনলাম আকাশবাণীতে
নেই কোনো নিম্নচাপ বঙ্গোপসাগরে
তাই তো খুশি খুশি মনে বের হলাম প্রাতঃভ্রমনে
তা ঠাকুর আজ কেন জল ঢালো মোর খুশিতে?
সেকি? তোমার আমার বৈরিতা তো যুগযুগান্ত থেকে
আজ কেন তবে আশা করো অন্যরকম হবে?
আমি খুশি হলে তুমি কি পারো সহ্য করতে?
আচ্ছা আচ্ছা ঠাকুর আর ফোলাতে হবেনা ঠোঁটটি
এই করলাম সন্ধি, চলো আজ দুজনেই একসঙ্গে হাঁটি।
ঝলমলে রোদ্দুরে ঝমঝমে বৃষ্টি হলে
ছোটবেলায় 'মা' বলতো আজ শেয়ালের বিয়ে,
সেদিন না বুঝলেও আজ বুঝতে পারি 'মা' তোমার
আমার কথাই বলতো শুধু একটু ঘুরিয়ে।
****************
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১৯শে আষাঢ় ১৪২২ (৩ জুলাই ২০১৫)
আকাশে আজ রোদ উঠেছে ঝলমলিয়ে
বৃষ্টি বলে দাড়া দেখাচ্ছি মজা
নামছি এবার ঝমঝমিয়ে।
রদ্দুর বললো তা কেন?
এই তো শুনলাম আকাশবাণীতে
নেই কোনো নিম্নচাপ বঙ্গোপসাগরে
তাই তো খুশি খুশি মনে বের হলাম প্রাতঃভ্রমনে
তা ঠাকুর আজ কেন জল ঢালো মোর খুশিতে?
সেকি? তোমার আমার বৈরিতা তো যুগযুগান্ত থেকে
আজ কেন তবে আশা করো অন্যরকম হবে?
আমি খুশি হলে তুমি কি পারো সহ্য করতে?
আচ্ছা আচ্ছা ঠাকুর আর ফোলাতে হবেনা ঠোঁটটি
এই করলাম সন্ধি, চলো আজ দুজনেই একসঙ্গে হাঁটি।
ঝলমলে রোদ্দুরে ঝমঝমে বৃষ্টি হলে
ছোটবেলায় 'মা' বলতো আজ শেয়ালের বিয়ে,
সেদিন না বুঝলেও আজ বুঝতে পারি 'মা' তোমার
আমার কথাই বলতো শুধু একটু ঘুরিয়ে।
****************
হলাহল পান
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১৭ই জৈষ্ঠ ১৪২৪ (৩১ মে ২০১৭)
সময় ধরে আগের মতো হিসেব কি আর হয়,
বর্তমান বিচার করে চলতে থাকা বোধহয় আর সম্ভব নয়,
তাই দুহাত তুলে আত্মসমর্পন-
যতই ভাবি চেষ্টা করব শেষ পর্যন্ত মরণপণ।
বাস্তব বড়ই নিষ্ঠুর নির্মম-
হয়না নিজের ইচ্ছেমতন,
তাই বলে ছাড়াও তো যায়না-
কেন হবে বার বার ছন্দপতন?
নিজের অজান্তে করা ভুল কেন রাখব মনে,
কেনই বা করব অনুতাপ কেনই বা জ্বলব আগুনে।
সর্বদাই ছিল চেষ্টা, করব সবার সবকিছু ভালো -
গুছিয়ে দেব সব যা হয়ে আছে অগোছালো।
জীবন এগোয় তার মতো
সেখানে নিজের ভূমিকা গৌণ,
তাই বলে সব অধিকার খুইয়ে
কেন থাকব হয়ে নগণ্য?
ফিরে দেখা দিনগুলি যখন মনের কোঠায় সুপ্ত,
কেউ বা আছে হয়ে জরাজীর্ণ কেউ বা অবলুপ্ত।
ইচ্ছে করে দৌড়ে চলে যাই যেটুকু অবশিষ্ট তাদের মধ্যে,
জাপটে ধরে অকপটে স্বীকার করি তাদের সান্নিধ্যে।
রুক্ষ মরু প্রান্তরে
তৃষ্ণার্ত খোঁজে একফোটা জল,
তাও কখনো জোটেনা
তাই পান করে হলাহল।
****************
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১৭ই জৈষ্ঠ ১৪২৪ (৩১ মে ২০১৭)
সময় ধরে আগের মতো হিসেব কি আর হয়,
বর্তমান বিচার করে চলতে থাকা বোধহয় আর সম্ভব নয়,
তাই দুহাত তুলে আত্মসমর্পন-
যতই ভাবি চেষ্টা করব শেষ পর্যন্ত মরণপণ।
বাস্তব বড়ই নিষ্ঠুর নির্মম-
হয়না নিজের ইচ্ছেমতন,
তাই বলে ছাড়াও তো যায়না-
কেন হবে বার বার ছন্দপতন?
নিজের অজান্তে করা ভুল কেন রাখব মনে,
কেনই বা করব অনুতাপ কেনই বা জ্বলব আগুনে।
সর্বদাই ছিল চেষ্টা, করব সবার সবকিছু ভালো -
গুছিয়ে দেব সব যা হয়ে আছে অগোছালো।
জীবন এগোয় তার মতো
সেখানে নিজের ভূমিকা গৌণ,
তাই বলে সব অধিকার খুইয়ে
কেন থাকব হয়ে নগণ্য?
ফিরে দেখা দিনগুলি যখন মনের কোঠায় সুপ্ত,
কেউ বা আছে হয়ে জরাজীর্ণ কেউ বা অবলুপ্ত।
ইচ্ছে করে দৌড়ে চলে যাই যেটুকু অবশিষ্ট তাদের মধ্যে,
জাপটে ধরে অকপটে স্বীকার করি তাদের সান্নিধ্যে।
রুক্ষ মরু প্রান্তরে
তৃষ্ণার্ত খোঁজে একফোটা জল,
তাও কখনো জোটেনা
তাই পান করে হলাহল।
****************
আমরা এখন
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১৬ই বৈশাখ ১৪২৯ (২৯ এপ্রিল ২০২২)
জীবনের তিন চতুর্থাংশ পেরিয়ে
আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে আছি দাড়িয়ে,
যেখান থেকে কেবল একটি দিকেই
যাওয়া সম্ভব, তাও কেবলই খুড়িয়ে খুড়িয়ে।
স্বপ্ন দেখার ক্যানভাস ছোট হতে হতে
ঠেকেছে কেবল দুচারটি গুনতিতে।
সময়ের সাথে হারিয়ে গিয়েছে অনেক রঙ
হাতে আছে সামান্যই কয়েকটা, তাও শুধু অনুভুতিতে।
সবাই আমরা হারিয়েছি ঝলমলে পোশাক
সব হারিয়ে কেবল পরে আছি শুধুই অন্তর্বাস।
ভাবতে অবাক লাগে, লেজ খসিয়ে,
এখন আমরা সবাই এক ছাঁচে ঢালা দাঁরকাক।
এখনই আমরা সঠিক বুঝেছি সাম্যবাদের অর্থ,
সারাজীবন না বুঝে ফাটিয়েছি গলা, করেছি কত তর্ক।
সাহেব, বড়বাবু, চাপরাশি সবাই আজ একই আসনে গল্পগুজবে মত্ত,
সেই ছোটবেলার মতো নেই কোনো ভেদাভেদ নেই কোনো ঠুনকো আভিজাত্য।
আমরা সবাই ভুলে গেছি সব পুরানো অভিমান,
সব ভুলে আমরা পেয়েছি শান্তি যা হবে না আর বিলীয়মান।
সব দুঃখ ছাপিয়ে আমরা হয়েছি কল্পতরু,
এখন আর আগের মতো হইনা কারুর শত্রু।
এখন আমরা সবাই শান্ত কিছুতেই হইনা অধৈর্য,
কেউ দুপয়সা ঠকিয়ে নিলেও হইনা আর আশ্চর্য।
পারলে তাকে আরো কিছু দিয়ে করি সাহায্য,
মনে হয় তার প্রয়োজন আমাদের চেয়েও ন্যায্য।
আমরা সবাই অতি দুঃখে আর হইনা কাতর,
অতি আনন্দে একই ভাবে থাকি ভাবলেশহীন নিরুত্তর।
আমরা এখন স্থিতধী, অবিচল কিন্তু হইনি স্থবির,
মনের গহনে এখনও লালিত হয় উচ্ছাস আনাড়ির।
আমরা এখন বুঝতে শিখেছি সব ফুলেই সব পূজো হয়
আমরা এখন জানতে পেরেছি সব অভিমানই ফেলনা নয়।
আমরা হারিয়েছি বাল্যকালের সরলতা কিন্তু হইনি নিঃস্ব, কারণ
এখনও আমরা আমাদের সন্তানদের ‘আম আঁটির ভেঁপু’ পড়াতে চাই।
****************
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১৬ই বৈশাখ ১৪২৯ (২৯ এপ্রিল ২০২২)
জীবনের তিন চতুর্থাংশ পেরিয়ে
আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে আছি দাড়িয়ে,
যেখান থেকে কেবল একটি দিকেই
যাওয়া সম্ভব, তাও কেবলই খুড়িয়ে খুড়িয়ে।
স্বপ্ন দেখার ক্যানভাস ছোট হতে হতে
ঠেকেছে কেবল দুচারটি গুনতিতে।
সময়ের সাথে হারিয়ে গিয়েছে অনেক রঙ
হাতে আছে সামান্যই কয়েকটা, তাও শুধু অনুভুতিতে।
সবাই আমরা হারিয়েছি ঝলমলে পোশাক
সব হারিয়ে কেবল পরে আছি শুধুই অন্তর্বাস।
ভাবতে অবাক লাগে, লেজ খসিয়ে,
এখন আমরা সবাই এক ছাঁচে ঢালা দাঁরকাক।
এখনই আমরা সঠিক বুঝেছি সাম্যবাদের অর্থ,
সারাজীবন না বুঝে ফাটিয়েছি গলা, করেছি কত তর্ক।
সাহেব, বড়বাবু, চাপরাশি সবাই আজ একই আসনে গল্পগুজবে মত্ত,
সেই ছোটবেলার মতো নেই কোনো ভেদাভেদ নেই কোনো ঠুনকো আভিজাত্য।
আমরা সবাই ভুলে গেছি সব পুরানো অভিমান,
সব ভুলে আমরা পেয়েছি শান্তি যা হবে না আর বিলীয়মান।
সব দুঃখ ছাপিয়ে আমরা হয়েছি কল্পতরু,
এখন আর আগের মতো হইনা কারুর শত্রু।
এখন আমরা সবাই শান্ত কিছুতেই হইনা অধৈর্য,
কেউ দুপয়সা ঠকিয়ে নিলেও হইনা আর আশ্চর্য।
পারলে তাকে আরো কিছু দিয়ে করি সাহায্য,
মনে হয় তার প্রয়োজন আমাদের চেয়েও ন্যায্য।
আমরা সবাই অতি দুঃখে আর হইনা কাতর,
অতি আনন্দে একই ভাবে থাকি ভাবলেশহীন নিরুত্তর।
আমরা এখন স্থিতধী, অবিচল কিন্তু হইনি স্থবির,
মনের গহনে এখনও লালিত হয় উচ্ছাস আনাড়ির।
আমরা এখন বুঝতে শিখেছি সব ফুলেই সব পূজো হয়
আমরা এখন জানতে পেরেছি সব অভিমানই ফেলনা নয়।
আমরা হারিয়েছি বাল্যকালের সরলতা কিন্তু হইনি নিঃস্ব, কারণ
এখনও আমরা আমাদের সন্তানদের ‘আম আঁটির ভেঁপু’ পড়াতে চাই।
****************
আমাদের ভুলু
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১২ ই আষাঢ় ১৪২৬ (২৬ জুন ১০১৯)। কবিদের বাড়িতে, ছোটবেলায় একটি নেড়ি কুকুর পোষা হয়েছিল। নাম ছিল ভুলু। তাঁদের সবার খুব প্রিয় ছিল। কবিতাটি ওর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।
জড়িয়ে ছিলো আষ্টেপৃষ্ঠে কি গভীর মমতায়,
ছাড়াতে চাইলেও পারিনি তা আমাদের সীমিত ক্ষমতায়।
ভেবেছিলাম সময় হলে আপনা আপনি
আলগা হবে যে বাঁধন,
তার জন্য এখন থেকেই কি প্রয়োজন
এত অস্থিরতায়।
সে ছিল আমাদের নয়নের মনি, অনেক আদরের ধন-
পেয়েছি তারে অনেক খুঁজে, করে অনেক অসাধ্যসাধন।
কোনোদিন তারে ছারতে হবে ভাবিনি সেকথা যেমন-
তেমনি জানতাম না চাইলেও সে চলে যাবে
একদিন করবে মন কেমন।
ছিল সে নিশিদিন অতন্দ্র প্রহরী আমাদের ছায়াসঙ্গী হয়ে,
কত যে বিপদ পার করেছি অবহেলায় তার সাহায্য নিয়ে।
কোনোদিন সে চায়নি কোনো প্রতিদান তার বিনিময়ে,
আমরাই অধম বুঝলাম তার প্রয়োজন তারই অবর্তমানে।
কিন্তু সেদিন সে গেল চলে খুবই শান্তভাবে,
বাড়ি থেকে বেড়িয়ে ফিরল না সে আর তার নিজস্ব ঘরে।
ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সবাই খুঁজলো এদিক ওদিক ঘুরে-
বৃথাই হলো সে চেষ্টা, আর ধরে আনা গেল না তারে।
****************
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১২ ই আষাঢ় ১৪২৬ (২৬ জুন ১০১৯)। কবিদের বাড়িতে, ছোটবেলায় একটি নেড়ি কুকুর পোষা হয়েছিল। নাম ছিল ভুলু। তাঁদের সবার খুব প্রিয় ছিল। কবিতাটি ওর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।
জড়িয়ে ছিলো আষ্টেপৃষ্ঠে কি গভীর মমতায়,
ছাড়াতে চাইলেও পারিনি তা আমাদের সীমিত ক্ষমতায়।
ভেবেছিলাম সময় হলে আপনা আপনি
আলগা হবে যে বাঁধন,
তার জন্য এখন থেকেই কি প্রয়োজন
এত অস্থিরতায়।
সে ছিল আমাদের নয়নের মনি, অনেক আদরের ধন-
পেয়েছি তারে অনেক খুঁজে, করে অনেক অসাধ্যসাধন।
কোনোদিন তারে ছারতে হবে ভাবিনি সেকথা যেমন-
তেমনি জানতাম না চাইলেও সে চলে যাবে
একদিন করবে মন কেমন।
ছিল সে নিশিদিন অতন্দ্র প্রহরী আমাদের ছায়াসঙ্গী হয়ে,
কত যে বিপদ পার করেছি অবহেলায় তার সাহায্য নিয়ে।
কোনোদিন সে চায়নি কোনো প্রতিদান তার বিনিময়ে,
আমরাই অধম বুঝলাম তার প্রয়োজন তারই অবর্তমানে।
কিন্তু সেদিন সে গেল চলে খুবই শান্তভাবে,
বাড়ি থেকে বেড়িয়ে ফিরল না সে আর তার নিজস্ব ঘরে।
ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সবাই খুঁজলো এদিক ওদিক ঘুরে-
বৃথাই হলো সে চেষ্টা, আর ধরে আনা গেল না তারে।
****************
অজানা ঠিকানা
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১১ই জৈষ্ঠ ১৪২৬ (২৫শে মে ২০১৯)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।
খোলা জানালা দিয়ে তপন তাকিয়েছিল দূরে,
ভেবেছিল মুঠোয় ধরবে আকাশটাকে শক্ত করে-
ধরেওছিল, কিন্তু পারলনা ফস্কে গেল নিজেরই অজ্ঞাতসারে।
ভেবেছিল দূরে কোথাও হারিয়ে যাবে,
কিন্তু সেটাও হলো না, সবাই চিনে নেবে।
তাহলে উপায়-
জীবনটাকে ফানুস ভেবে উড়িয়ে নিয়ে আকাশে,
দরকার ছিল না তবুও পড়ার ভয়ে জড়িয়ে ছিল আষ্টেপৃষ্ঠে।
নীচের দিকে তাকিয়ে ভাবছিল, এত সহজে পালিয়ে যাওয়া যায়?
নীচের গ্রাম, গাছপালা, বহমান নদী, রাস্তা, জলাশয়,
কেমন একপ্রকার স্বপ্নিল অনুভুতি দেয়-
ঘোরের মধ্যে বেধে রাখে,
এর থেকে বের হতে মন চায়না।
কিন্তু সে স্বপ্নও যে শেষ হয় একসময়।
তাহলে উপায়-
দূর থেকে ভেসে আসা বাঁশির সুর ক্রমশঃ এগিয়ে আসে,
তার মধ্যে নিজেকে সঁপে দিয়ে -
উজান বেয়ে এগিয়ে চলে কোন অজানার সন্ধানে।
সীমাহীন উচ্ছাসে, বিরামহীন আনন্দে আত্মহারা হয়ে কেবলি ভাবে,
এ যেন না হয় শেষ, থাকে আচ্ছন্ন,
কিন্তু মা'র ডাকে তাও হয় ছিন্ন।
'তপু, খেতে আয় শিগগিরি...............'
তাহলে উপায়-
খেতে হবে শিঙ্গি মাছের ঝোল আর কাঁচকলা,
খেতে হবে গাদাগুচ্ছের ওষুধ তবে মিলবে রেহাই এবেলা।
এমন কথা কি ছিল কখনও?
তাহলে কেন এমন কান্ডকারখানা,
এজীবনে কি হবে না আর হারিয়ে যাওয়া,
আর কি পাওয়া হবেনা সেই অজানা দেশের ঠিকানা?
****************
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১১ই জৈষ্ঠ ১৪২৬ (২৫শে মে ২০১৯)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।
খোলা জানালা দিয়ে তপন তাকিয়েছিল দূরে,
ভেবেছিল মুঠোয় ধরবে আকাশটাকে শক্ত করে-
ধরেওছিল, কিন্তু পারলনা ফস্কে গেল নিজেরই অজ্ঞাতসারে।
ভেবেছিল দূরে কোথাও হারিয়ে যাবে,
কিন্তু সেটাও হলো না, সবাই চিনে নেবে।
তাহলে উপায়-
জীবনটাকে ফানুস ভেবে উড়িয়ে নিয়ে আকাশে,
দরকার ছিল না তবুও পড়ার ভয়ে জড়িয়ে ছিল আষ্টেপৃষ্ঠে।
নীচের দিকে তাকিয়ে ভাবছিল, এত সহজে পালিয়ে যাওয়া যায়?
নীচের গ্রাম, গাছপালা, বহমান নদী, রাস্তা, জলাশয়,
কেমন একপ্রকার স্বপ্নিল অনুভুতি দেয়-
ঘোরের মধ্যে বেধে রাখে,
এর থেকে বের হতে মন চায়না।
কিন্তু সে স্বপ্নও যে শেষ হয় একসময়।
তাহলে উপায়-
দূর থেকে ভেসে আসা বাঁশির সুর ক্রমশঃ এগিয়ে আসে,
তার মধ্যে নিজেকে সঁপে দিয়ে -
উজান বেয়ে এগিয়ে চলে কোন অজানার সন্ধানে।
সীমাহীন উচ্ছাসে, বিরামহীন আনন্দে আত্মহারা হয়ে কেবলি ভাবে,
এ যেন না হয় শেষ, থাকে আচ্ছন্ন,
কিন্তু মা'র ডাকে তাও হয় ছিন্ন।
'তপু, খেতে আয় শিগগিরি...............'
তাহলে উপায়-
খেতে হবে শিঙ্গি মাছের ঝোল আর কাঁচকলা,
খেতে হবে গাদাগুচ্ছের ওষুধ তবে মিলবে রেহাই এবেলা।
এমন কথা কি ছিল কখনও?
তাহলে কেন এমন কান্ডকারখানা,
এজীবনে কি হবে না আর হারিয়ে যাওয়া,
আর কি পাওয়া হবেনা সেই অজানা দেশের ঠিকানা?
****************
আমার গর্ব
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ২২শে শ্রাবণ ১৪২৭ (২৬শে জুলাই ২০২০)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।
আমার একটা আকাশ আছে
তাতে অনেক অনেক বাতাস আছে,
সেই বাতাসে কত ফুল দোল দেয়
কত প্রজাপ্রতি এ ফুল থেকে ও ফুলে ছুটে বেড়ায়।
কত মৌমাছি খুঁজে পায় তাদের আহার,
আমার গর্ব আমার একটা আকাশ আছে।
আমার একটা আকাশ আছে
তাতে কিছু কিছু মেঘ আছে-
সেই মেঘ বর্ষায় করে মুখ ভার।
শরতে একে যায় কত কিছু,
কখনো পাহাড়,
কখনো হাতি, কখনো বা মানুষের আকার,
আমার গর্ব আমার একটা আকাশ আছে।
আমার একটা আকাশ আছে
তাতে বেশ কিছু রঙ আছে।
সেই রঙ কখনো মনে দেয় দোলা,রাখে আচ্ছন্ন-
কখনো করে বিষন্ন, কখনো দেয় অফুরান আনন্দ।
কখনো সাতরঙা রামধনু হয়ে ভাসে আদিগন্ত,
আমার গর্ব আমার একটা আকাশ আছে।
****************
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ২২শে শ্রাবণ ১৪২৭ (২৬শে জুলাই ২০২০)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।
আমার একটা আকাশ আছে
তাতে অনেক অনেক বাতাস আছে,
সেই বাতাসে কত ফুল দোল দেয়
কত প্রজাপ্রতি এ ফুল থেকে ও ফুলে ছুটে বেড়ায়।
কত মৌমাছি খুঁজে পায় তাদের আহার,
আমার গর্ব আমার একটা আকাশ আছে।
আমার একটা আকাশ আছে
তাতে কিছু কিছু মেঘ আছে-
সেই মেঘ বর্ষায় করে মুখ ভার।
শরতে একে যায় কত কিছু,
কখনো পাহাড়,
কখনো হাতি, কখনো বা মানুষের আকার,
আমার গর্ব আমার একটা আকাশ আছে।
আমার একটা আকাশ আছে
তাতে বেশ কিছু রঙ আছে।
সেই রঙ কখনো মনে দেয় দোলা,রাখে আচ্ছন্ন-
কখনো করে বিষন্ন, কখনো দেয় অফুরান আনন্দ।
কখনো সাতরঙা রামধনু হয়ে ভাসে আদিগন্ত,
আমার গর্ব আমার একটা আকাশ আছে।
****************
উত্তরণ
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১১ই শ্রাবণ ১৪২৬ (২৬শে জুলাই ২০১৯)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।
এলেম এক নতুন দেশে,
যে দেশেতে শিশুরা সব,
কলকলিয়ে ঘুরে বেড়ায়,
মজার মজার বেশে।
গুটি গুটি পায়ে হাটতে হাটতে,
হোঁচট খেয়ে পড়ে,
আবার কষ্ট করে ঝারা দিয়ে,
উঠে পরে নিজেরই অজান্তে।
আধোআধো কথা বলে,
চোখে থাকে ঝিলিক,
সারা মুখে খুশির প্রলেপ,
লেগে থাকে অবহেলে।
দেখতে পেলে এগিয়ে আসে,
ধরতে চায় দু-হাতে,
ইচ্ছে করে দৌড়ে গিয়ে,
জড়িয়ে ধরি নিমেষে।
ভালোবাসার আদুরে গলায়,
কেবলই ডাকে আমায়,
অধম আমি পারিনা যোগ দিতে,
ওদের সরল খেলায়।
মুগ্ধ আমি সর্বক্ষণ,
নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকি,
ভাবতে থাকি আপনমনে,
কখন হবে আমার জাগরণ।
যেদিন হবে আমার জাগরণ,
সেদিন থাকব ওদের মাঝে,
ওদেরই একজন হয়ে,
সেদিনই হবে আমার প্রকৃত উত্তরণ।
****************
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১১ই শ্রাবণ ১৪২৬ (২৬শে জুলাই ২০১৯)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।
এলেম এক নতুন দেশে,
যে দেশেতে শিশুরা সব,
কলকলিয়ে ঘুরে বেড়ায়,
মজার মজার বেশে।
গুটি গুটি পায়ে হাটতে হাটতে,
হোঁচট খেয়ে পড়ে,
আবার কষ্ট করে ঝারা দিয়ে,
উঠে পরে নিজেরই অজান্তে।
আধোআধো কথা বলে,
চোখে থাকে ঝিলিক,
সারা মুখে খুশির প্রলেপ,
লেগে থাকে অবহেলে।
দেখতে পেলে এগিয়ে আসে,
ধরতে চায় দু-হাতে,
ইচ্ছে করে দৌড়ে গিয়ে,
জড়িয়ে ধরি নিমেষে।
ভালোবাসার আদুরে গলায়,
কেবলই ডাকে আমায়,
অধম আমি পারিনা যোগ দিতে,
ওদের সরল খেলায়।
মুগ্ধ আমি সর্বক্ষণ,
নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকি,
ভাবতে থাকি আপনমনে,
কখন হবে আমার জাগরণ।
যেদিন হবে আমার জাগরণ,
সেদিন থাকব ওদের মাঝে,
ওদেরই একজন হয়ে,
সেদিনই হবে আমার প্রকৃত উত্তরণ।
****************
অলৌকিক
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১৮ই আষাঢ় ১৪২৫ (২রা জুলাই ২০১৮)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।
ভাবো, আরো ভাবো, ভাবতে থাকো,
যতই ভাববে মনে হবে আরো কেন ভাবলাম না।
আরো ভাবলে হয়ত এড়ানো যেত এই পরিস্থিতি,
হতাম না এতটা অসহায় ।
অসহায় তো সবাই ,
কে কবে যা পেতে চেয়েছে সব পেয়েছে?
পেয়ে থাকলেও মনের গহীণে কি ছিলনা কোনো অপ্রাপ্তি ?
অপ্রাপ্তি বড়ই অবুঝ, বুঝেও বোঝেনা সে
যা পেয়েছে তাঁর মূল্যও যে অনেক।
না পাওয়ার যন্ত্রণাটুকুই কেবল কুড়ে কুড়ে খায়,
এটাই তো সবচেয়ে বড় অসুখ।
এ অসুখ সারার নয়,
এ অসুখ লালন করার মধ্যেও আছে অনেক সুখ।
মন যে কেবলই খুঁজে পেতে চায় সেই সুখ,
যে সুখে লুকিয়ে আছে অনেক অনেক যন্ত্রণা।
যন্ত্রণা ভুলে বেঁচে থাকা তা কি সম্ভব?
যদি সম্ভব হতো তবে তা হতো অলৌকিক বটে।
এই অদ্ভুত অসম্ভব কেই তো খুঁজতে থাকা,
পৃথিবীতে অলৌকিক কিছুও যে কখনো সখনো ঘটে।
****************
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১৮ই আষাঢ় ১৪২৫ (২রা জুলাই ২০১৮)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।
ভাবো, আরো ভাবো, ভাবতে থাকো,
যতই ভাববে মনে হবে আরো কেন ভাবলাম না।
আরো ভাবলে হয়ত এড়ানো যেত এই পরিস্থিতি,
হতাম না এতটা অসহায় ।
অসহায় তো সবাই ,
কে কবে যা পেতে চেয়েছে সব পেয়েছে?
পেয়ে থাকলেও মনের গহীণে কি ছিলনা কোনো অপ্রাপ্তি ?
অপ্রাপ্তি বড়ই অবুঝ, বুঝেও বোঝেনা সে
যা পেয়েছে তাঁর মূল্যও যে অনেক।
না পাওয়ার যন্ত্রণাটুকুই কেবল কুড়ে কুড়ে খায়,
এটাই তো সবচেয়ে বড় অসুখ।
এ অসুখ সারার নয়,
এ অসুখ লালন করার মধ্যেও আছে অনেক সুখ।
মন যে কেবলই খুঁজে পেতে চায় সেই সুখ,
যে সুখে লুকিয়ে আছে অনেক অনেক যন্ত্রণা।
যন্ত্রণা ভুলে বেঁচে থাকা তা কি সম্ভব?
যদি সম্ভব হতো তবে তা হতো অলৌকিক বটে।
এই অদ্ভুত অসম্ভব কেই তো খুঁজতে থাকা,
পৃথিবীতে অলৌকিক কিছুও যে কখনো সখনো ঘটে।
****************
তারাদের মাঝে
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১১ই আশ্বিন ১৪২৭ (২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২০)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।
রাতের আকাশ তারায় ভরা কখনো টিমটিম কখনো উজ্জ্বল,
আমার মনের আকাশ কখনো অন্ধকার কখনো আনন্দ বিহ্বল।
ফিরে দেখা বারেবার চঞ্চল মন অচঞ্চল হয় তবুও আশ না মেটে,
অসংখ্য তারার মাঝে কত যে আপনজন লুকিয়ে আছে নিঃশব্দে নীরবে।
তাদের সাথে সুখ দুঃখ ভাগ করে নিতে বড়ই ইচ্ছে করে,
কিন্তু সমস্যা হল কোনটা যে কে, কিভাবে বুঝবো এই অন্ধকারে।
একটি তারার হাতছানি কেবলি মনে করায় নিশ্চয়ই কোনো নিকট আত্মীয়,
কিন্তু কাছে গেলেই হারিয়ে যায় কিছুতেই পারিনা হয়ে উঠতে প্রয়োজনীয়।
বিশ্বব্যাপী চরাচরে প্রতিধ্বনি শুনি অসংখ্য আওয়াজের অহরহ,
মনে হয় তারারাই যেন অবাধে দুলছে ঘন্টার মতো হয়ে এক একটি গ্রহ।
অবশেষে হার মেনে নিই সেই বিশাল আকাশের বিশালত্বের কাছে,
মনে মনে ভাবি একদিন ঠিক পাবো সবাইকে খুঁজে ঐ বিশালত্বের মাঝে।
সেদিন থাকবেনা কোনো গ্লানি কোনো কষ্ট কোনো অতৃপ্তি অবশেষে,
কারণ তখন আমি হব তাদেরই একজন ঐ বিশালত্বের ভিড়ে জাঁকিয়ে বসে।
****************
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১১ই আশ্বিন ১৪২৭ (২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২০)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।
রাতের আকাশ তারায় ভরা কখনো টিমটিম কখনো উজ্জ্বল,
আমার মনের আকাশ কখনো অন্ধকার কখনো আনন্দ বিহ্বল।
ফিরে দেখা বারেবার চঞ্চল মন অচঞ্চল হয় তবুও আশ না মেটে,
অসংখ্য তারার মাঝে কত যে আপনজন লুকিয়ে আছে নিঃশব্দে নীরবে।
তাদের সাথে সুখ দুঃখ ভাগ করে নিতে বড়ই ইচ্ছে করে,
কিন্তু সমস্যা হল কোনটা যে কে, কিভাবে বুঝবো এই অন্ধকারে।
একটি তারার হাতছানি কেবলি মনে করায় নিশ্চয়ই কোনো নিকট আত্মীয়,
কিন্তু কাছে গেলেই হারিয়ে যায় কিছুতেই পারিনা হয়ে উঠতে প্রয়োজনীয়।
বিশ্বব্যাপী চরাচরে প্রতিধ্বনি শুনি অসংখ্য আওয়াজের অহরহ,
মনে হয় তারারাই যেন অবাধে দুলছে ঘন্টার মতো হয়ে এক একটি গ্রহ।
অবশেষে হার মেনে নিই সেই বিশাল আকাশের বিশালত্বের কাছে,
মনে মনে ভাবি একদিন ঠিক পাবো সবাইকে খুঁজে ঐ বিশালত্বের মাঝে।
সেদিন থাকবেনা কোনো গ্লানি কোনো কষ্ট কোনো অতৃপ্তি অবশেষে,
কারণ তখন আমি হব তাদেরই একজন ঐ বিশালত্বের ভিড়ে জাঁকিয়ে বসে।
****************
সবুজ পৃথিবী
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১২ই আশ্বিন ১৪২৮ (২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২১)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।
আজ শ্রাবণের বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যা দিল আমায় স্বস্তি,
কাক ভেজা আমি বাড়ি ফিরে পেলাম অপার্থিব মুক্তি।
লাগবে সর্দি, হবে জ্বর, অসুস্থ হব আমি,
তবু মিটে যাবে সমস্ত গ্লানি ঠিক জানি ।
বৈশাখ জৈষ্ঠ তার দাবাদহে জ্বেলেছিল ভীষণ জ্বালা,
একমাত্র আশা ছিলো আষাঢ় শ্রাবণের ধারা।
আষাঢ় ফিরায়েছে রিক্ত হাতে,
করিয়াছে বিমুখ রক্ত চোখে।
শ্রাবণের এই ধারা ঝরুক অঝোরে,
পৃথিবী ভিজুক অক্লান্ত হয়ে।
মাটির গন্ধ ছড়িয়ে যাক সবদিকে,
আগামীর আগমনী ধ্বনিত হোক দিকে দিকে।
গাছ গাছালি তার নিজস্ব গন্ধে উঠুক ভরে,
ফল ফলাদি তার আগমন জানান দিক নেচে নেচে,
ফুলেরা সব প্রস্ফুটিত হোক আপন আপন সৌন্দর্য্যে,
সমগ্র প্রাণীকুল হোক আনন্দে বিস্ময়াবিষ্ট।
চলো আজ ঊর্ধ্ববাহূ হয়ে সাম্যের গান গাই,
পৃথিবীকে আজ নতুন করে চিনতে যেন পাই।
এ উজ্জ্বল অপরূপ রূপ দেখে আশ না মেটে,
এ পৃথিবী যেন কখনো, নাহয় বিবর্ণ তামাটে।
****************
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১২ই আশ্বিন ১৪২৮ (২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২১)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।
আজ শ্রাবণের বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যা দিল আমায় স্বস্তি,
কাক ভেজা আমি বাড়ি ফিরে পেলাম অপার্থিব মুক্তি।
লাগবে সর্দি, হবে জ্বর, অসুস্থ হব আমি,
তবু মিটে যাবে সমস্ত গ্লানি ঠিক জানি ।
বৈশাখ জৈষ্ঠ তার দাবাদহে জ্বেলেছিল ভীষণ জ্বালা,
একমাত্র আশা ছিলো আষাঢ় শ্রাবণের ধারা।
আষাঢ় ফিরায়েছে রিক্ত হাতে,
করিয়াছে বিমুখ রক্ত চোখে।
শ্রাবণের এই ধারা ঝরুক অঝোরে,
পৃথিবী ভিজুক অক্লান্ত হয়ে।
মাটির গন্ধ ছড়িয়ে যাক সবদিকে,
আগামীর আগমনী ধ্বনিত হোক দিকে দিকে।
গাছ গাছালি তার নিজস্ব গন্ধে উঠুক ভরে,
ফল ফলাদি তার আগমন জানান দিক নেচে নেচে,
ফুলেরা সব প্রস্ফুটিত হোক আপন আপন সৌন্দর্য্যে,
সমগ্র প্রাণীকুল হোক আনন্দে বিস্ময়াবিষ্ট।
চলো আজ ঊর্ধ্ববাহূ হয়ে সাম্যের গান গাই,
পৃথিবীকে আজ নতুন করে চিনতে যেন পাই।
এ উজ্জ্বল অপরূপ রূপ দেখে আশ না মেটে,
এ পৃথিবী যেন কখনো, নাহয় বিবর্ণ তামাটে।
****************
