কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্তর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।

*
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্তর পরিচিতির পাতায় . . .
পরজন্ম
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ২৬শে আশ্বিন ১৪২৮ (১১ই অক্টোবর ২০২১)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।

আবার যেদিন আসব ফিরে আমার এই গ্রহে,
সেদিন যেন দেখি এই পৃথিবী আছে পৃথিবীতে।
পাহাড় আছে পাহাড়ে, বন আছে বনেতে,
নদী তার জায়গা বদলালেও আছে নদীতে।
সমুদ্র তার ঢেউ নিয়ে ভাঙ্গছে পাড়ে নিরন্তর,
আকাশ মাথায় ছাতা ধরেছে একসাথে সবার।
শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা আসে একই রকম ভাবে,
শরৎ হেমন্ত বসন্ত ভাসে তার রূপ, রঙ ,গন্ধে।

প্রানী, জীব কুল বর্তমান একই রকম ধারায়,
বহে যায় তাদের জীবনধারা একই সরলরেখায়।
কিন্তু পাল্টে গেছে আমূল, মনুষ্যজাতীর আচার,
তারা হয়েছে অনেক সহনশীল অনেক বেশী উদার।
দূর হয়েছে হিংসা, দ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা, অহংকার,
মানুষ হয়েছে প্রকৃত অর্থে মানবতার আধার।
নেই কোনো ধর্ম, বর্ণ, নেই কোনো জাতি,
উৎসব অবশ্যই আছে কিন্তু নেই কোনো মাতামাতি।
এই উন্নত মানবজাতীতে উন্নিত হতে
মানবজাতির লেগেছে বছর কয়েক হাজার,
তবুও তখন প্রকৃত অর্থে সত্যিই মনে হবে
এই পৃথিবী তোমার আমার সবার।

****************








*
আরাধ‍্য
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১৪ই শ্রাবণ ১৪২৬ (২৯শে জুলাই ২০১৯)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।

কতবার তোমায় ডেকেছি আমি
তবুও তুমি দাওনি সাড়া,
কতবার তোমায় ভেবেছি আমি
তবুও তুমি ছিলে অধরা।
যেদিন তুমি এলে সামনে
সেদিন ছিল না কোনো আয়োজন,
আমার তরফে অকস্মাৎ
করেছি কেবলই অশ্রু বিসর্জন।
তোমায় নিয়ে অনেক কথা
ভেবেছি বলব একান্তে,
তুমি এলে হঠাৎ করে নিঃশব্দে,
এলোমেলো হল সকল ভাবনা নিজেরই অজান্তে।
তবুও তোমায় নিয়ে ছিল আশা,
দেখা হবে আবার কখনো কোনোকালে।
সেদিন তোমায় ঠিক সাজাবো,
আমার মনের গহীন অন্তরালে।
আয়োজনে আমার নেই প্রয়োজন,
নেই কোনো মন্ত্রের মাতামাতি।
তুমি আমার ছিলে চিরকাল,
থাকবেনা সেদিন ধূপ, পুষ্প, ইত্যাদি।
সেদিন তোমায় দেব না যেতে
আবার কখনও হারিয়ে,
তুমি থাকবে আমার হৃদয়ে
পাকাপাকি ভাবে জড়িয়ে।

****************








*
করোনার থাবা
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ৯ই ফাল্গুন ১৪২৮ (২১শে ফেব্রুয়ারী ২০২২)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।

পাশে থাকা নয়কো কঠিন
খালি একটু সদিচ্ছা,
তাও জোটেনা বুঝতে নারি
কেন এই অনিচ্ছা।
দূর হতে সবাই ভালোবাসা বিলোয়
কাছে তবু আসেনা,
মন যে কেবল স্পর্শ চায়
তা কি কেউ বোঝেনা।
একলা একলা গুমরে মরা
বদ্ধ ঘরের কোণে,
প্রতীক্ষার প্রহর গোনা
যদি কেউ কথা শোনে।
দিন কেটে যায় রাত কেটে যায়
কেউ রাখেনা কথা,
আমার দিনগুলি বড়ই বিবর্ণ
নির্জীব নিরবতা।
ইচ্ছে করে সব ফেলে
দৌড়ে যাই আগের মতো,
করোনার থাবা দেয় শাসানি
নিমেষে হয়ে যাই জড় পদার্থ।

****************








*
ভাঙা চশমা
কবি রজতশুভ্র সেনগুপ্ত
রচনা ১১ই আষাঢ় ১৪১৮ (২৫শে জুন ২০১১)
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৬.২০২৩।

দেখেছিলাম তারে, ভুষুন্ডির মাঠে,
ইয়া বড় গোঁফে দিচ্ছিল সে তা,
একলা বসে বসে।
রক্তবর্ণ গোল গোল চোখে-
ভাবছিল সে একমনে,
কোথায় গেলে পাবো তারে -
হারিয়ে গেল সে কোনখানে।

হঠাৎ দেখি লাফ দিয়ে সে,
চড়ল ডালে গাছের।
ভাবল উপর থেকে দেখতে পাবে,
দূরের আর কাছের।
কিন্তু তাতেও সে পেল না নাগাল,
তার মনের জিনিসের।
ধপ করে সে পড়ল নিচে,
হতাশ হয়ে বসে,
কান্নাকাটি জুড়ে দিল,
গোঁফে তা দেওয়া ছেড়ে।

যেতে যেতে শুধালাম তারে-
'কাঁদো কেন? কি হয়েছে?'
ঘাপটি মেরে মুখ লুকালো-
কোনো কথা না বলে।
গামছা সরিয়ে যেই না দেখি-
চাঁদমূখখানাকে,
ওমা একি চশমা আছে, কাঁচ
গেছে হারিয়ে।
বলি, 'চশমা আছে কাঁচ নেই
দেখো কি করে?'
বললে, 'সেগুলোই তো খুঁজছি
এতক্ষন ধরে।'

****************