কবি সুলতা পাত্রর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি সুলতা পাত্রর পরিচিতির পাতায় . . .
বৃষ্টিতে তুমি ভিজলেনা
কবি সুলতা পাত্র
কবিতাটির প্রথম প্রকাশ এখানেই ৯.৭.২০২৩ তারিখে।

আজ বিকেলে অনেক বছর পর বৃষ্টিতে ভিজতে চেয়েছিলাম,
ভাবলাম তুমিও অফিস থেকে এসে সঙ্গী হবে আমার।
এলেনা তুমি অভিমানে ডাকিনি তোমায়,
অনেক বছর পর বৃষ্টির স্বাদ নিয়ে বুঁদ হয়েছিলাম।

শ্রাবণী বৃষ্টি ভেজাল ধরিত্রীকে, আমায় ভেজাল না,
অঝোর ধারায়, আমি ভীষণভাবে ভিজতে যত চেয়েছি,
মন ভেজাতে পারলো না সে, দূরত্বে সরে গেল ততো।
অনাবিল আনন্দের উচ্ছলতা নিয়ে গিয়েছিলাম ভিজতে উঠোনে,
চোখের কাজলে ছিল মায়াবী নেশা, সব নিল বিদায় তোমার কারনে।

অভিমানী মনে,রাঙ্গা চোখে দুঃখ রাতে কখন ঘুমিয়ে গেলাম।
স্বপ্নের নৌকোতে অঞ্জনার বাড়ি এলাম,
বললাম আমি, বৃষ্টিতে ভিজতে চাই অঞ্জনা,
তুই তোর সঙ্গ খানিক তরে আমায় দে না রে।

শাড়ির আঁচল দিয়ে, অঞ্জনা মোছালো চোখের জল,
দেখি তার চোখ দুটো ও অশ্রুতে করে টলমল।
নিশীথ রাতে দুজন ভিজলাম, কত কথা কইলাম।
বিদায় অঞ্জনা, মোর নিশিত জাগার সাথী, আজ চললাম।

ভালো থাকিস প্রিয়া আমার, ভোরের পাখির ডাকে,
ভালো থাকিস ফুলের গন্ধ মেখে, মিষ্টি রোদের সাথে।
অঞ্জনা ও কেন বোঝেনা আমায়, বৃষ্টির ফোঁটা কেন গায়ে মাখে নি?
অনেক বলেছি তবুও কিন্তু সাগরের ঢেউ গোনে নি।
সমুদ্র দেখে সমুদ্রের বুকে, ঢেউয়ের মিলন রাত দেখেনি।

হঠাৎ চমকি জাগি, ললাটে কার নিঃশ্বাস লাগে?
ধুম জ্বরে স্বপ্নের ঘোরে আমি, প্রিয় মোর শিয়রে জাগে।

*********************









*
অঞ্জনা তোকে বলছি
কবি সুলতা পাত্র
কবিতাটির প্রথম প্রকাশ এখানেই ৯.৭.২০২৩ তারিখে।

অঞ্জনা, তোকে আজকাল কেন বেশি মনে পড়ে?
তোর মনে কি আসে, আমার কথা আমাদের শৈশবের কথা!
তোর সাথে ভরা শ্রাবণে ভিজতে ইচ্ছে করে!
রক্ত আলোর মাতাল ভোরে, শিশির ভেজা ঘাসে হাঁটতে ইচ্ছে করে।
অন্ধকার নিশীথিনী আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকে,
চলে আসি মাঝে মাঝে কমল দীঘির পাড়ে।
দিঘির জলে দেখি কয়েকশো চাঁদ আমায় দেখে হাসছে,
আকাশের মেঘে ঢাকা তারা গুলো, বুদ্বুদের মত আকাশ প্রিয়ার বক্ষে বিদ্যমান।
কালপুরুষের চোখে নেই ঘুম, আকাশের সংসারে সে যেন পাহারাদার,
শিউলি ফুলের সুবাসে চারদিকে মা মা গন্ধ, উগ্র সুখে ধরার টানে ঝরে পড়ছে।
রন্ধ্রবিহীন অন্ধকারে, জোনাক আলোতে পিয়াল শাখে পাপিয়া ডেকে চলেছে,
অঞ্জনা আমার লিখতে ইচ্ছে করে, কবিতা বা উপন্যাস।
কিন্তু শব্দ ঝঙ্কার পাই না যে খুঁজে, মাঝে মাঝে হতাশা করে গ্রাস,
চোখ থেকে ঝরে পড়ে অশ্রুধারা, জানিনা ঘুচবে কিনা আমার তৃষা,
রজনী গভীর হলো এবার বাড়ি ফেরার পালা, বুঝিস তো আছে সংসারের নেশা।
অঞ্জনা শৈশবের মিতালী, কেন মিছে বারে বারে আমায় কাঁদায়?
হয়তো উচ্ছসিবে সেই স্মৃতিতে মোর হিয়া জীবনময়।
আমি আজও ভাবি অঞ্জনা, কেন আমার চাওয়া পাওয়া গুলো পূর্ণ হয় না!
কেন এমন হয় রে কেউ না চাইতে সব পায়, চাওয়ার অপূর্ণতা থাকে না?
মোহিনী রাতে স্বপ্ন ঘোরে নুপুর পায়ে স্বপ্নপরী নিয়ে চলে স্বপ্নের দেশে।
ক্ষণেক মহা সুন্দর দেশে বিচরণ করে,খালি হাতে ক্লান্ত নত শিরে ফিরে আসি পৃথিবীর আহ্বানে,
সেই পুরাতন, সেই চিরন্তন অপূর্ণতার জগত, আসে মোর জীবনে।

*********************









*
কলম
কবি সুলতা পাত্র
কবিতাটির প্রথম প্রকাশ এখানেই ৯.৭.২০২৩ তারিখে।

তুমি কি আমায় ভালোবাসো? বেসেছ ভালো কোনদিনও!
শৈশবে ও কুমারী বুকে তুমি কিন্তু এসেছিলে তোমার অনুভবের ছোঁয়ায়।
কত অজস্র নিশিদিন তোমাকে পাশে পেয়ে কেটেছে সময়,
তোমার মোহন রূপে মুগ্ধ হয়ে তোমায় করেছি জীবন সাথী।
তোমাকে পাশে নিয়ে হয় মোর রাত্রি যাপন,
তোমাকে ভালোবেসে চিন্তনে মননে কেটে যায় উদাস দুপুর কত গোধূলি বেলা।
তোমার আদরে, সোহাগে, পরশে, ভুলে যাই খোঁপা বাঁধতে,
ভুলে যাই চোখে কাজল নিতে, ভুলে হয়না টিপ পরা,
অনেকের মিথ্যে প্রশংসা পেয়ে হতাশা ঘিরে ধরে আমায়
তুমি কি সত্যি আমায় ভালোবাসো আমার প্রিয় কলম?
তবে কেন উচ্ছাসের তরঙ্গ আসে না মোর মনে?
প্রিয় তোমায় কেন ভরিয়ে দিতে পারিনা ছন্দের বন্যায়?
হে মোর গ্রন্থ স্রষ্টা, তেজের ভান্ডার ,এসো মোর ভাঙা হৃদয়ে।
ওগো মোর চিরদিনের সাথী যৌবনের বার্ধক্যের ভালোবাসা,
আমি এক অতি সাধারণ নারী, চাইনা আমি মূল্যবান নুড়ির দুর্গ
তোমার চরণ তলে তোমার লীলা ক্ষেত্রে আছে অজস্র কোটি মূল্যবান নূড়ি।
আমার এই নিদ্রাহারা হতাশা ভরা জীবনে কয়েকটা নুড়ি দিও
ভালোবাসো তোআমায়? তোমার কৃপণতা যেন না করে আমায় গ্রাস।
জীবন সায়াহ্নে তুমি দিওনা কলম তোমার উপেক্ষার আবিল দৃষ্টি,
বিধ্বস্ত, উদভ্রান্ত করোণা মোরে ছিনিয়ে নিওনা তোমার সৃষ্টি।
আমি তোমায় ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি।

*********************









*
অপেক্ষায় আমি
কবি সুলতা পাত্র
কবিতাটির প্রথম প্রকাশ এখানেই ৯.৭.২০২৩ তারিখে।

বকুল শাখে চাতক ডাকে করুন স্বরেতে,
রৌদ্র ছায়ায় চলেছি আমি চৈত ফসলের শূন্য ক্ষেতে।
উদাস দুপুর কখন গেছে এখন বিকেল যায়,
দেখি তুমি আসো কিনা আমার খোঁজে রূপসা নদীর ছায়।
ভেবেছিনু গাঁথবো মালা পাইনি খুজে ডোর,
কমল কাঁটার ঘা লেগেছে আঙুল মূলে মোর।

সন্ধ্যা তারা শুধায় মোরে তুমি
কাদের ঘরের বউ?
খুঁজে মোর প্রিয় আসেনি কেন সন্ধ্যাতারা তোমরা জানো কেউ!
তোমার লাগি অঙ্গ ভরি করবোনা আর সাজ,
নাই যদি তুমি আসো প্রিয়, ওগো হৃদয় রাজ।
গৃহে ফিরি কইবো না কথা তব সাথে আজ মনে হয়,
প্রেম সত্য চিরন্তন প্রেমের পাত্র সে কিগো চিরন্তন নয়?

*********************









*
আমার তুমি
কবি সুলতা পাত্র
কবিতাটির প্রথম প্রকাশ এখানেই ৯.৭.২০২৩ তারিখে।

যদি তুমি হও মোর শ্রাবণের বর্ষা, আমি যদি হই শুধু তোমারি প্রেমের তরণী,
আমার আনা বর্ষা ভেজা বকুলের, ঘ্রাণ নিতে বল তুমিও কি কোনদিন চাওনি?
যদি তুমি আমি খেলতাম জলকেলি, সময় দিতে তো আমায় সেই মাহেন্দ্রক্ষনে,
ছড়িয়ে পড়তো মোদের রাগ-অনুরাগ, সেই শ্রাবণের মলয় বিতানে।
ভালোবাসা এক স্বর্গীয় অনুভূতি ও হৃদয়ের অদ্ভুত এক টান,
ভালোবাসা লেপটে থাকতে চায় একটি হৃদয়ে, যে হৃদয় হবে আকাশ সমান।
সেদিন সেই রাতে মোদের ভালোবাসা আছড়ে পড়তো আবেগের ঢেউ হতে,
আমি সমুদ্রে দিতাম ডুব, তোমার মন ঝিনুকের মুক্তো খুঁজতে।
সেই রাতে ভালোবাসার তরে তোমার বুকের ভেতরের সব দরজা-জানালা খুলে দিতে তো এক নিমেষে,
দিতে তো তোমার ভালোবাসা, যতক্ষণ সূর্যকে দেখা যেত না আকাশে।
যদি তুমি হও শরতের শিশির কণা, আমি যদি হই তোমারই প্রেমের তরণী,
দিতে তো আমায় একটি সুখী গৃহকোণ যা কেউ কোনদিন দেখেনি।
সারারাত ধরে তোমার ভালোবাসায় ভিজে মনটা মোর পেত তৃপ্তি,
সারারাত ধরে তোমার প্রেমে ঘুচে যেতো জীবনের না পাওয়া অপ্রাপ্তি।
যদি তুমি হও বসন্তের আবির রাঙা রামধনু, আমি যদি হই তোমারি প্রেমের তরণী,
তোমায় দেখে অশোক, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া, তারাও আরো হতো রঙিন, যা তুমি কোনদিন দেখনি।
মোর দেহের সকল তন্ত্রীতে বেজে উঠতো কোন এক প্রেমের গান,
তোমায় দেখে দূর হয়ে যেত মোর বুক ভাঙ্গা অভিমান।
তুমি যদি হও গোধূলি রোদ আমি যদি হই তোমারি প্রেমের তরণী, হাত রেখো আমার হাতে,
মলয় বাতাসে দোলন চাঁপার ঘ্রান নিতাম, আর সারাটা গোধূলি থাকতাম তোমার সাথে।
যদি তুমি হও মোর পূর্ণিমার চাঁদ, আমি যদি হই তোমারি প্রেমের তরণী,
তোমার আলোতে আমি হব আলোকিত, তোমার প্রেমেতে ধন্য হবো তুমি জানো আমি জানি।

*********************









*
তুমি বলেছিলে
কবি সুলতা পাত্র
কবিতাটির প্রথম প্রকাশ এখানেই ৯.৭.২০২৩ তারিখে।

তুমি বলেছিলে: ভোরের সূর্য ওঠা দেখতে তোমার আর ভালো লাগে না,
আমি বুঝেছিলাম, তুমি ওই সময়টা আমার সাথে কাটাতে চাইছো।
তুমি বলেছিলে: মাঝে মাঝে একাকীত্ব গ্রাস করে তোমায়,
আমি বুঝেছিলাম, আমার খুব ভালোবাসাকে তোমার হৃদয়ে গুছিয়ে রাখতে চাইছো।
তুমি বলেছিলে: ভীষণ শীত করছে গায়ে জ্বর এলো মনে হয়,
আমি বুঝেছিলাম, কপালে আমার হাতের স্পর্শ তুমি চাইছো।
তুমি বলেছিলে: চা খাবে না আর সকাল বেলায়,
আমি বুঝেছিলাম, আমার সাথে মুখোমুখি বসে তুমি চা খেতে চাইছো।
তুমি বলেছিলে: তোমার ঘুম হয় না রাত কেটে যায়,
আমি বুঝেছিলাম, তোমার নিদ্রাহীন আঁখি পাতে, আমার হাতের পরশ তুমি চাইছো।
তুমি বলেছিলে: কখনো কখনো পূর্ণিমার রাত্রিকেও অমানিশার কালো মনে হয়,
আমি বুঝেছিলাম, আমাকে জড়িয়ে ধরে তুমি ঘুমোতে চাইছো।
তুমি বলেছিলে: কেন কাজে ব্যস্ত থাকি সন্ধ্যেবেলায়?
আমি বুঝেছিলাম, যেন তোমায় নিয়ে আমি প্রেমের কবিতা লিখি তুমি চাইছো।
তুমি বলেছিলে: পুজোতে এবারে হলুদ শাড়ি কিনে দেবে না আমায়,
আমি বুঝেছিলাম, অভিমানী মনে তুমি আমায় হলুদ শাড়িটা পড়তে বলছো।
তুমি বলেছিলে: ঝড়ো হাওয়া কেন এত রাত্রি বেলায়?
আমি বুঝেছিলাম, এলোমেলো চিন্তায় তুমি ভুগছো।
তুমি বলেছিলে: আকাশের নিচে, ভালোবাসার অতল সাগরে ডুবতে চাও আমায় নিয়ে।
আমি বুঝেছিলাম: আমায় নিয়ে সমুদ্রে তীরে তুমি বেড়াতে যেতে চাইছো।
তুমি বলেছিলে: আমাদের প্রেম রুগ্ন হবে না তো কোন সময়!
আমি বুঝেছিলাম, আমি তো আছি খুব ভালো থাকবে তুমি, কথাটি শুনতে চাইছো।

*********************









*
তুমি আসবে
কবি সুলতা পাত্র
কবিতাটির প্রথম প্রকাশ এখানেই ৯.৭.২০২৩ তারিখে।

হঠাৎ তোমার সাথে দেখা, পৌষের বিকেলে বইমেলাতে,
দেখলাম আমার লেখা 'ভুলিনি তোমায়' উপন্যাসটি ছিল তোমার হাতে।
তোমার লেখা 'এক পেয়ালা বসন্ত' কেনা ছিল আমার ব্যাগে,
কয়েক দিনে,বই কেনার ফাঁকে, প্রেমের সিন্ধুর খোঁজ পেলাম, তোমার চোখের প্রতি পলকে।
ভালোবাসার অতল সাগরে ডুবলাম, তোমার চোখে চোখ রেখে,
আমি তোমার চোখে আকাশ দেখলাম, কল্পনার রামধনু এঁকে।
বইমেলার শেষ দিনে তুমি বললে, আসবে আমাদের গ্রামে, এক সুন্দর সকালে,
অনেকগুলো মাস কেটে গেছে, আমার মন খারাপের অপেক্ষা শেষ হয় প্রতিটি বিকেলে।
বড় সাধ ছিলো তোমায় শোনাবো, মৃদু কন্ঠে ভেসে আসা বিহগের গান
তুমি এলে শোনাতে চেয়েছিলাম, হিজলি নদীর কুলু কুলু তান।
হেথায় বাতাসে ভেসে আসে, কুসুমের মধুর নিঃশ্বাস,
জানি তুমি আসবে, অভিমানী মনে আছে বিশ্বাস।
তুমি কি দেখেছো, খোলা মাঠে পূর্ণিমার চাঁদের হাসি?
দেখেছো গাছ থেকে চুপিচুপি খসে পড়ে ফুল রাশি রাশি।
তুমি কি দেখেছ, মাঠে মাঠে সোনা ধান, পুকুরে ভেসে থাকা মিন,
তুমি কি দেখেছ মাঠে মাঠে, কুমড়ো ফুলে ভরে ওঠা বোশেখের দিন।
তুমি কি দেখেছ, গ্রামের বুকে অস্থি চর্মসার মানুষগুলো গুমরে মরে,
পাহাড় প্রমাণ দারিদ্রতা, দাবানলের মতো ছড়ায় ওদের ঘরে।
জানো মাঝে মাঝে মনে হয়, তোমার ভালোবাসার আমি কি যোগ্য?
আমার দিকটিও ভেবো, হব না তো এক বেদনাময় কাব্য!
প্রার্থনা করি,তোমার প্রতিভা ছড়িয়ে পড়ুক দিকে দিকে,
হাজার বছর হাঁটতে চাই, শুধু তোমার হাতে হাত রেখে।

*********************









*
কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
কবি সুলতা পাত্র
কবিতাটির প্রথম প্রকাশ এখানেই ৯.৭.২০২৩ তারিখে।

তব হৃদয় বিজয়ী সৃষ্টি, চিরকাল থেকে যাবে সবার হৃদয়ে,
বারংবার পাঠে ও মেটে না ক্ষুধা, তব সাহিত্য তাই আসে নব নব পরিচয়ে।
আলো-আঁধারির ইতিহাসে গড়া ঘটনা মিশে আছে নিঃশ্বাসে,
নিশীথ জাগি পড়ি তাই তব বই, সদা থাকে মোর পাশে।
চোখের সামনে ভেসে ওঠে উদার আকাশ,পল্লীসমাজ, নদীর কান্না ছলছল সুরে,
ভাবেনি কেউ, এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে তুমি দূরে।
তোমার বিজয় পতাকা উড়ে চলেছে সবার মন রথে,
কত হিয়া কেঁদে চলে আজও, তোমার বিদায় বেলা হতে।
দূর হতে তুমি তো দেখছো মোদের অন্তর ব্যথা,
ফিরে এসো হে লেখক শ্রেষ্ঠ, আবার লিখতে তোমার অমর কথা।

*********************









*
মোরা বিদ্রোহী নারী
কবি সুলতা পাত্র
কবিতাটির প্রথম প্রকাশ এখানেই ৯.৭.২০২৩ তারিখে।

মরা গাছের ডালে ডালে ওরে আগুন লেগেছে দেখ, সব কাজ ফেলে,
আকাশে নেই রঙের মেলা, আজ যে কুসুম ফোটেনি পাপড়ি মেলে।
দখিন হাওয়া গোপন কথা জানিয়ে গেল মোর কানে কানে,
ওরে তোরা দেখ, মেয়েটি ভেজা চোখে কেমন করে চেয়ে আছে তোদের পানে।
ও পাড়ার ওই বাবুর ছেলে, বলল তারে তোমায় দিলেম আমার মন,
গরিব কন্যা উমা, সেদিন থেকে সাজালো বেশভূষায় যা ছিলনা প্রয়োজন।
একদিন ওই বাবুর ছেলের আমন্ত্রণে, চন্দনের গন্ধ জলে মুছলো মুখখানি,
কবরিতে করবি মালা,নয়ন পাতে কাজল, ওষ্ঠা ধারে যতনে দিল রক্তে রেখা টানি।
বদ্ধ ঘরে মেয়েটিরে বোকা পেয়ে ভোগ করল নির্বিচারে,
ক্লান্ত মেয়ে ক্লান্ত পায়ে,চলে দূর পল্লীতে নিজ গৃহ পানে ধীরে ধীরে।
পেটে তার বাচ্চা এলো, তাইতো চাঞ্চল্য জাগে মাটির গভীর অন্ধকারে,
তার ক্রন্দন শুনি, ধরণী ক্রন্দিয়া ওঠে প্রাণ স্পন্দন ছোটে চার ধারে।
বাবুর ছেলে তার বর্ণে, রূপে, ধনে আপন কর্ম যায় ভুলি,
তাইতো গোপন প্রেম, খুঁজে না পায় আকিঞ্চন ধুলি।
ওরে ও লম্পট মোরা ও নারী, মোরা চন্ডী, মোরা বিষধর কালফনী,
মোরা কালী, মোরা বৈজয়ন্তী, মোরা বহ্নি, মোরা সাইক্লোন,মোরা শনি।
হে কুমারী সতীমাতা, চির পরিচিতা মোদের অনাদৃতা সীতা,
ওরে বালিকা, কেন তবে চোখে জল, কে বলেছে তুই মোদের অপরিচিতা?
হে পুরুষ,ওহে মূর্খ,বিশ্ব যারে করে ভয় তুমি তারে করেছ ঘৃণা-অবহেলা,
কোন অধিকারে তারে নিয়ে, একি তব অকরুণ খেলা?
হে পুরুষ সমাজ বিদ্রোহী হও, মেয়েটি যেন সিঁথিতে আঁকতে পারে সিন্দুরের রেখা,
যেন খেয়ালি স্রষ্টার বুকে পায়, সৃষ্টি সুখের উল্লাসের দেখা।
নচেৎ মোরা বিদ্রোহী নারী,খেয়ালী স্রষ্টার বুকে এঁকে দেবো পদচিহ্ন,
মোরা চির বিদ্রোহী, খেয়ালী পিতার জীবন করে দেবো ছিন্নভিন্ন।

*********************









*
মনে পড়ে
কবি সুলতা পাত্র
কবিতাটির প্রথম প্রকাশ এখানেই ৯.৭.২০২৩ তারিখে।

ভাদ্রের রোদেলা সকালে, কাপড় রোদে দেবার জন্য, কাপড়গুলো টানলাম।
হঠাৎ একটি সাদা খাম খুঁজে পেলাম।
খামটি আমার বড় প্রিয়, নাকের কাছে নিয়ে অনেকক্ষণ গন্ধ নিলাম।
চোখ দুটো জলে ভরে গিয়ে, খামটা খানিকটা ভেজালো।
বহু কষ্টে নিজেকে সংযত করে বললাম, ভুলিনি তোকে সৌগত,
ঘ্রাণ শেষে আধেক আঁচল দিয়ে খামটা মুছলাম, ফুঁ দিয়ে শুকোলাম।
তোর সাথে কাটানো সময়গুলো পিছু ছাড়েনা,
কোন এক ভুলে আজও কাটাই ব্যাথিত চিতে কতো দুপুর।
তোর দেওয়া হলুদ রঙের, শাড়িটা মাঝে মাঝে দেখি,
তুই নিশ্চয়ই আমার দেওয়া, আকাশী পাঞ্জাবীটা ফেলে দিয়েছিস অভিমানে।
বুকের ভেতরটা কেমন যেন চিনচিন করে আজকাল,
ভীষণ কষ্ট হয় শৈশবের মধুময় দিনগুলো, যখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
সাইকেল নিয়ে মাঠে তোর আসা, বাগানের গাছ থেকে ফল পেড়ে দেওয়া,
একসাথে বসে রবীন্দ্র সংগীত গাওয়া,
রেজাল্ট খারাপ হলে, বিনুনি দুটো টেনে দেওয়া।
পুরনো আকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, আজও আনে অশ্রু জল।
মোদের জীবনে স্বপ্নের একদিন হয়েছিলো ইতি,
তোর বেদন ভরা নিবেদন আজও পড়লাম।
'কেন তুই আমাকে ছেড়ে যাচ্ছিস সীমা, সুখী হবি তো'?
চৈত্র সন্ধ্যায় শেষ দেখার দিন, তার উত্তর হয়তো দিয়েছিলো আকাশ।
বজ্রঘোর পরিহাসে, হেসেছিল কি নিষ্ঠুর অট্টহাসি,
তোকে একটা চিঠি লিখতে খুব ইচ্ছে করে, কিন্তু ভাব প্রকাশের ভাষা যে জানিনা।
আশাতীত বেশি কিছু চাইনে আজ, সুখী ভোর তোর জীবনে আসুক বারবার,
জীবনটা থাক শান্তির সুরে, সুখের পরশে সহস্র বসন্ত করিস পার।

*********************