কবি সুমিতা চক্রবর্তীর গণসঙ্গীত
*
সুমিতা চক্রবর্তীর পরিচিতির পাতায় . . .
দ্বার খোল্‌ দ্বার খোল্‌ এত জনকল্লোল
সুর - অনুপ মুখোপাধ্যায়। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।


দ্বার খোল্‌ দ্বার খোল্‌ এত জনকল্লোল
চেয়ে দ্যাখ্‌ বুঝি বাঁধ ভেঙেছে
দুর্জয় শপথে গর্জায় লাখো স্বর
লাখো প্রাণ প্রতিবাদে জেগেছে॥

ক্লান্তির দিন নেই ভীরুতার রাত শেষ
কেটে যায় এ দ্বিধার কুয়াশা
সূর্য ওঠার রঙে রাঙানো দিগন্তে
নেই আর সংশয় হতাশা
বজ্রের গর্জনে এ মিছিল উতরোল
লাখো হাত করতালে বেজেছে॥

চেতনার দরজায় দিয়েছিস খিল তুলে
স্বার্থের আলেয়ায় অন্ধ!
মুক্তির দাবানলে প্রেরণার বন্যায়
তোর দ্বার রইবে কি বন্ধ?
কান পেতে এ শোন্‌ সাগরের কলরোল
জীবনে জীবন বুঝি মিলেছে॥

*************************************








*
অনেক ডেকে মিছিল গেছে ফিরে
কবি সুমিতা চক্রবর্তী
সুর - অনুপ মুখোপাধ্যায়। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।

দুয়ার এঁটে ঘুমিয়েছিলো পাড়া
নাকি তুমিই ঘুমের ঘোরে ছিলে?
পাড়ায় তখন ছিলো প্রাণের সাড়া
তোমার দুয়ার বন্ধ রেখেছিলে।

উঠোন ভরা সবুজ নরম ঘাস
চাঁদের আলোয় কখনো-বা ঘুম আসে
তোমার ঘরে মৃদু ফুলের বাস
বাইরে তখন রক্তগন্ধ ভাসে।

সুখের মতোই ব্যথা তোমায় ঘিরে
অনেক ডেকে মিছিল গেছে ফিরে
আঁধার প্রদোষ তুমি আপনহারা
জাগছে সারা পাড়া আলো জ্বালিয়ে॥

*************************************








*
ও সাথীরে ও সাথীরে
কবি সুমিতা চক্রবর্তী
সুর - দিলীপ সেনগুপ্ত। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। ৫ জুলাই, ১৯৮৩ মালদহ জেলার মালোপাড়ায় প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ভাড়াটেবাহিনী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ১৩ জন কর্মীকে হত্যা করে। তারই প্রতিবাদে রচিত ও সুরারোপিত এ গান।

ও সাথীরে ও সাথীরে
গানের ভাষা বলবে কেমন করে
রক্তমাখা তেরটি প্রাণের কথা!

চোখ বুজলে অন্ধকারেও
শহীদের ঐ রক্তরেখা
মনের গভীরে আঁকা।

কথার সুরে কান্না ফোটে
মায়ের বিলাপ বধূর হাহাকার
গান কবিতা বলতে পারে তা কি
জীবন-নদীর কেমন ভাঙে পাড়!

গানের সুরে পাই যে ভাষা
অশ্রঝরা কণ্ঠে ঘৃণার স্বর
আকাভরা কান্না মুছে নিয়ে
উঠলো যে আজ প্রতিবাদের ঝড়॥

*************************************