কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুরের কবিতা ও গান
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
উদ্বোধন
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫।
জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে মাতৃভাবের এবং জগদ্গুরু রামকৃষ্ণদেবের উদ্দেশ্যে গুরুভাবের সাধন সঙ্গীত গ্রন্থ, আদ্যাপীঠের, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের ব্রহ্মচারী নিরঞ্জনভাই দ্রারা ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে (১৯৫০ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, “মা” কাব্যগ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণের মাতৃভাবের কবিতা বা গীত। এই সংকলনটি প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত করেন ভদ্রকালী নিবাসী শ্রীমন্মথ নাথ পাল, কবির জীবদ্দশায় তাঁরই আদেশে। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় কবির দেহান্তের পরে, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সভাপতি শ্রীআনন্দভাই দ্বারা। গ্রন্থটি আমরা পেয়েছি মিলনসাগরের শুভানুধ্যায়ী এবং উপদেষ্টা, দিল্লী নিবাসী ডঃ দিলীপ কুমার বসু ও ডঃ নন্দিতা বসুর কাছ থেকে। মিলনসাগরে কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .
বুঝি পোহাইল বোধন রাত্রি
জগদ্ধাত্রী আসে ধরায়।
আনন্দে মগন নরনারীগণ
শেফালিশয্যা ধরণী-গায়।
অরুণ রাগে রঞ্জিত উষা
হৃদয়ে হৃদয়ে ঢালিছে আশা,
জেগে পাখী গায় আপন কুলায়
দুকুল চুমিয়া ধ্বনিটী যায়।
যেন “আয় মা আয় মা আয় মা আয়।”
গুঞ্জে অলি কুসুম গন্ধে
মনে হয় মাতৃচরণ বন্দে ;
মধুর মন্দ্রে প্রভাতি ছন্দে
আরতির ধ্বনি আহ্বানে মায় ;
যেন “আয় মা আয় মা আয় মা আয়।”
গগন ভেদিয়া উঠি সেই ধ্বনি
ছড়ায়ে পড়িছে নিখিল ধরণী ;
নাচায় হৃদয় কাঁপায় মেদিনী
মুখরিত দশদিশি তায়।
যেন “আয় মা আয় মা আয় মা আয়।”
বালক বালিকা জাগিয়া উঠিয়া
চক্ষু মুছিয়া যেতেছে ছুটিয়া,
প্রতিমা সকাশে মহানন্দে নেচে
নিবিড় নয়নে মুখানি চায়।
হৃদয়ে হদয়ে যেন মায়ে পোয়ে
প্রেমের প্রবাহে ভাসিয়া যায়
“আয় মা আয় মা আয় মা আয়।”
*********************
চোখে চোখে তারে হলনা রাখা
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫।
১৩৫২ বঙ্গাব্দে (১৯৪৫খৃঃ) প্রকাশিত, কবির আত্মজীবনী “স্বপ্নজীবন” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে বা ১৯২৭খৃঃ)-এর ৭২-পৃষ্ঠায় দেওয়া গান।
চোখে চোখে তারে হলনা রাখা ;
চোখের পলকে ফিরে পাই না দেখা।
ভাবিনিক ভাল করে কেমন মূরতি তার,
কালা কি শুধুই কাল না কিছু আছে বাহার ;
মজায়ে গোপিনীদল প্রেমে বুঝি ঢলঢল,
ও তার, টলটল আঁখিটী বাঁকা।
(আঁখিটী বাঁকা, আনন অমিয় মাখা।)
যবে, মোহন মূরলী করে দাঁড়ায় ত্রিভঙ্গ ঠামে
ধড়াচূড়া পরা বনমালী ;
পীত বসন শোভা মরি কিবা মনোলোভা
শিখিপুচ্ছ পড়েছে তাও হেলি।
এখন, কোথায় লুকাল সে কেলি করা,
কোথায় মিশিল সে ভাবে কারা ;
মোরা ভব ভাবে হয়েছি বিভোরা ;
তারে, দেখি দেখি করে পাইনে দেখা ;
পাইনে দেখা, ভালে কত কি লেখা॥
*********************
প্রাণের ডাক
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫।
জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে মাতৃভাবের এবং জগদ্গুরু রামকৃষ্ণদেবের উদ্দেশ্যে গুরুভাবের সাধন সঙ্গীত গ্রন্থ, আদ্যাপীঠের, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের ব্রহ্মচারী নিরঞ্জনভাই দ্রারা ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে (১৯৫০ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, “মা” কাব্যগ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণের মাতৃভাবের কবিতা বা গীত। এই সংকলনটি প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত করেন ভদ্রকালী নিবাসী শ্রীমন্মথ নাথ পাল, কবির জীবদ্দশায় তাঁরই আদেশে। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় কবির দেহান্তের পরে, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সভাপতি শ্রীআনন্দভাই দ্বারা। গ্রন্থটি আমরা পেয়েছি মিলনসাগরের শুভানুধ্যায়ী এবং উপদেষ্টা, দিল্লী নিবাসী ডঃ দিলীপ কুমার বসু ও ডঃ নন্দিতা বসুর কাছ থেকে। মিলনসাগরে কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .
এস হৃদে হরদারা!
এস মা জীবন তারা।
হৃদয় গগন শূন্য রয়েছে,
দুঃখ দৈন্যে ঢাকিয়া দিতেছে ;
পুণ্যময়ী মা এসগো কাছে
উজ্জ্বল করে ধরা।
দীপ্ত কর মা নিখিল বিশ্ব ;
ক্ষিপ্ত হৃদয়ে জাগুক হর্ষ ;
সুপ্ত পরাণে লুপ্ত ধারণা
জাগে যেন মনোহরা।
ভাসে যেন সবে প্রেমের হিল্লোলে
হাসে যেন পুনঃ প্রাণে প্রাণে মিলে
হেরি যেন সুখ শান্তি সলিলে
নিমজ্জিত বসুন্ধরা।
তোমারি মহিমা নিখিল ভূবনে,
হেরি যেন মাগো হেরি গো নয়নে ;
সবে সম প্রাণে তব প্রেম গানে
হেরি যেন মাতোয়ারা।
আর কোন আশা জাগে না মা প্রাণে,
জেগে রই যেন তোমারই ধ্যানে ;
ভাবি তোমারে সদা প্রাণে প্রাণে
হেরি হৃদি আলো করা।
*********************
আর কেন কালঘুমে রবে অচেতন
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫।
১৩৫২ বঙ্গাব্দে (১৯৪৫খৃঃ) প্রকাশিত, কবির আত্মজীবনী “স্বপ্নজীবন” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে বা ১৯২৭খৃঃ)-এর ৮২-পৃষ্ঠায় দেওয়া গান। গানটি কবির লেখা স্নেহলতা নাটকের গান।
আর কেন কালঘুমে রবে অচেতন!
বারেক জেগে দেখ কার কোলে করেছ শয়ন ;
কে তোমা করেছে কোলে, চেয়ে দেখ চোখ খুলে
ডাক বারেক মা মা বলে জুড়াক এ জীবন ;
বারেক দুখিনী মায়ের দুখ ঘুচাও এখন ;
এ নয় শ্মশান ক্ষেত্র, শ্মশানেতে নও তুমি,
এ হয় মায়ের কোল জীবের আনন্দ ভূমি।
ঐ হাসে, ঐ নাচে, ঐ আসে নিতে তোমা,
বরষি কুসুমরাজি অপরূপ দেববামা।
দেখ দেখ চেয়ে দেখ, বারেক মম পানে দেখ,
মাগো, আমারও যাইতে সাধ তোমার মতন :
ছাড়ি বঙ্গ পাপভূমি পবিত্র সদন।
বঙ্গ জননী আমি, দেখে নাক কেহ আর ;
ডাকে নাক মা মা বলে হল সব একাকার।
আপনার দেহ মাংস আপনি বিকায়ে খায়
পর পীড়নে রত অনুরক্ত কুসেবায়
সতত বিপথগামী হল বিশ্বে হাহাকার
কারে ঝলিব সেই মরমবেদন?
মাগো, কে আছে শুনিবে মম করুণ রোদন॥
*********************
হৃদাসনে
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫।
জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে মাতৃভাবের এবং জগদ্গুরু রামকৃষ্ণদেবের উদ্দেশ্যে গুরুভাবের সাধন সঙ্গীত গ্রন্থ, আদ্যাপীঠের, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের ব্রহ্মচারী নিরঞ্জনভাই দ্রারা ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে (১৯৫০ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, “মা” কাব্যগ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণের মাতৃভাবের কবিতা বা গীত। এই সংকলনটি প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত করেন ভদ্রকালী নিবাসী শ্রীমন্মথ নাথ পাল, কবির জীবদ্দশায় তাঁরই আদেশে। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় কবির দেহান্তের পরে, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সভাপতি শ্রীআনন্দভাই দ্বারা।গ্রন্থটি আমরা পেয়েছি মিলনসাগরের শুভানুধ্যায়ী এবং উপদেষ্টা, দিল্লী নিবাসী ডঃ দিলীপ কুমার বসু ও ডঃ নন্দিতা বসুর কাছ থেকে। মিলনসাগরে কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .
পুণ্যময়ী মা শূন্য হৃদয়ে
আসন পাতগো আজ।
গিয়াছে ঘৃণ্য দৈন্য দলিত
বিষম বিষয় সাজ।
গিয়াছে মা আমি আমার ভাবনা ;
গিয়াছে শঙ্কা লঙ্জা ঘৃণা।
গিয়াছে সমাজ কঠোর তাড়না ;
ভেঙ্গেছে গো লোক লাজ।
কত কাল আর রব মা তিমিরে?
নয়নে আলোক বিতর এবারে।
না জানি কি মায়া মোহ-ডোরে
বাঁধা আছি বার মাস।
কেহ নাই মাগো কেহ নাই আর ;
আমার বলিতে তুমিই এবার।
ছেড়েছে স্বজন ফেলেছে সংসার,
এই অকুল সাগর মাঝ ।
*********************
সখা, তোমার দেখা পায়নি যারা ওগো এ জীবনে
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫।
১৩৫২ বঙ্গাব্দে (১৯৪৫খৃঃ) প্রকাশিত, কবির আত্মজীবনী “স্বপ্নজীবন” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে বা ১৯২৭খৃঃ)-এর ১২৯-পৃষ্ঠায় দেওয়া গান।
সখা, তোমার দেখা পায়নি যারা ওগো এ জীবনে ;
তাদের কাছে তোমার কথা বল বলি কেমনে।
ভাব ও গাথা গাহিলে পরে, তোমার প্রেমের ব্যাখ্যা করে,
সখা, তারা যে কুতর্ক করে (আমি) সহি কোন্ প্রাণে?
আমি, সইতে নারি জ্বলে মরি তাই কাঁদি নিশিদিনে।
ওগো, করজোড়ে নতশিরে মিনতি করে,
বল্ ছি সখা একবার দেখা দাওনা তাদেরে ;
তোমার কাছে তাদের রেখে, থাক্ ব আমি মনের সুখে ;
রাখব সদা হৃদে এঁকে হৃদয় ধনে---
তুমি, হৃদি বৃন্দাবনে বাস কর্ বে সমানে।
একবার কৃপা কর কৃপাময় নিজগুণে॥
*********************
প্রেমসিন্ধু
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫।
জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে মাতৃভাবের এবং জগদ্গুরু রামকৃষ্ণদেবের উদ্দেশ্যে গুরুভাবের সাধন সঙ্গীত গ্রন্থ, আদ্যাপীঠের, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের ব্রহ্মচারী নিরঞ্জনভাই দ্রারা ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে (১৯৫০ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, “মা” কাব্যগ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণের মাতৃভাবের কবিতা বা গীত। এই সংকলনটি প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত করেন ভদ্রকালী নিবাসী শ্রীমন্মথ নাথ পাল, কবির জীবদ্দশায় তাঁরই আদেশে। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় কবির দেহান্তের পরে, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সভাপতি শ্রীআনন্দভাই দ্বারা।গ্রন্থটি আমরা পেয়েছি মিলনসাগরের শুভানুধ্যায়ী এবং উপদেষ্টা, দিল্লী নিবাসী ডঃ দিলীপ কুমার বসু ও ডঃ নন্দিতা বসুর কাছ থেকে। মিলনসাগরে কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .
মাতৃপ্রেম সিদ্ধুনীরে চির নিমগ্ন হও রে মন!
বিষয় বিমূঢ় মলিন বুদ্ধি দূরে যাবে স্বীয় লভিবি ধন।
আর রয়োনা মন মোহাচ্ছন্ন
হও হও ভাবে সমাধি মগ্ন
হইবে চিত্তবৃত্তি নিরোধ পূর্ণ হবে সব আকিঞ্চন।
আকুল কণ্ঠে ব্যাকুল হয়ে
হয়ে একনিষ্ঠ ডাকনা মায়ে
কোন সুখ আশে আছরে বসিয়ে কার ধ্যানে সদা নিমগন।
জড়ের চিন্তায় জড় হয়ে যাবে
তেলা পোকা যথা কাচপোকা ভেবে
কেন, সব সুখ সাধ বাসনা খোয়াবে কর কর চিত্ত জাগরণ।
এ সসীম বিকারী ক্ষুদ্র অতিশয়
হেন সুখে কভু নহে সুখোদয়
জাগতিক যত বড় জ্বালাময় মায়াময় (ওহে) মূঢ় জন॥
*********************
ঐ, ডুবছে যেমন দিনমনি
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫।
১৩৫২ বঙ্গাব্দে (১৯৪৫খৃঃ) প্রকাশিত, কবির আত্মজীবনী “স্বপ্নজীবন” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে বা ১৯২৭খৃঃ)-এর ৩০৭-পৃষ্ঠায় দেওয়া গান।
ঐ, ডুবছে যেমন দিনমনি
তেমনি করে ধীরি ধীরি ;
কবে, ডুবে যাব প্রেমপাথারে
হৃদে ধরে তোমায় হরি।
কবে, রাঙ্গা চরণ হৃদে ধরে,
মায়ার বাঁধন ফেল্ ব ছিঁড়ে,
আমি, ভুঞ্জে যাব সবাকারে
শুধু, হের্ ব তোমা নয়ন ভরি।
এই অসার সুখে রইব না আর
ভেঙ্গে যাবে মোহ আগার ;
আমি, থাক্ ব সুখে নিয়ে তোমার
পবিত্র প্রেম মনোহারী॥
*********************
অন্তর্দৃষ্টি
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫।
জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে মাতৃভাবের এবং জগদ্গুরু রামকৃষ্ণদেবের উদ্দেশ্যে গুরুভাবের সাধন সঙ্গীত গ্রন্থ, আদ্যাপীঠের, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের ব্রহ্মচারী নিরঞ্জনভাই দ্রারা ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে (১৯৫০ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, “মা” কাব্যগ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণের মাতৃভাবের কবিতা বা গীত। এই সংকলনটি প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত করেন ভদ্রকালী নিবাসী শ্রীমন্মথ নাথ পাল, কবির জীবদ্দশায় তাঁরই আদেশে। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় কবির দেহান্তের পরে, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সভাপতি শ্রীআনন্দভাই দ্বারা।গ্রন্থটি আমরা পেয়েছি মিলনসাগরের শুভানুধ্যায়ী এবং উপদেষ্টা, দিল্লী নিবাসী ডঃ দিলীপ কুমার বসু ও ডঃ নন্দিতা বসুর কাছ থেকে। মিলনসাগরে কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .
আঁখি মুদে দেখ্ না চেয়ে কেমন মায়ের রাঙ্গা চরণ।
রাঙ্গা জবা দে না তুলে নয়ন জলে করে’ বরণ।
ভক্তি চূয়া অঙ্গে মেখে
বিশ্বাস বীজে দৃষ্টি রেখে
অনাসক্ত আসনটাকে কর না অভ্যাস ওরে মন!
স্বার্থ ডোরে রোস্ নে বাঁধা
যত দেখিস্ মোহের ধাঁধা
মায়ার রাজ্যে ন্যায্য বিচার রিপুদের দমন।
আর যত সব অলীক স্বপন
ঘুম ভাঙ্গিলে রয় না কখন
থাকিস্ নে আর ও জগজন! এ ঘুম ঘোরে মগন ;
আর অলস শয্যায় করে শয়ন দেখিস্ নে স্বপন॥
*********************
ওগো আমি পথ ভুলেছি বলে
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫।
১৩৫২ বঙ্গাব্দে (১৯৪৫খৃঃ) প্রকাশিত, কবির আত্মজীবনী “স্বপ্নজীবন” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে বা ১৯২৭খৃঃ)-এর ৩৩২-পৃষ্ঠায় দেওয়া গান।
ওগো আমি পথ ভুলেছি বলে,
নেবে নাকি হাত ধরে নাথ! যাব কি ধূলার তলে?
জগৎ তোমার যুক্তি করে,
আমার পানে চায়না ফিরে,
তাই একা আমি ঘুরে ঘুরে চলেছি আমায় ফেলে।
খেটে খেটে সারা দিবস,
ভেঙ্গেছে দেহ হয়েছে অবশ ;
আর, চল্ তে যে পারি না সখা যাচ্ছে চরণ টলে।
ভবের বোঝা মাথায় নিয়ে,
উদাস প্রাণে চলেছি ধেয়ে,
আমার, অশ্রুধারা গণ্ড বেয়ে পড়্ ছে বক্ষঃস্থলে।
জানি তুমি প্রেমের পাথার,
জুড়ে আছ বিশ্ব সংসার,
যেখানেই ডুবিনা নাথ রইব তোমার কোলে
তলিয়ে যান তোমার তলে তোমার নামের বলে॥
*********************