কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুরের কবিতা ও গান
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুরের পরিচিতির পাতায় . . .
স্মরণে
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫। জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে মাতৃভাবের এবং জগদ্গুরু রামকৃষ্ণদেবের উদ্দেশ্যে গুরুভাবের সাধন সঙ্গীত গ্রন্থ, আদ্যাপীঠের, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের ব্রহ্মচারী নিরঞ্জনভাই দ্রারা ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে (১৯৫০ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, “মা” কাব্যগ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণের মাতৃভাবের কবিতা বা গীত। এই সংকলনটি প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত করেন ভদ্রকালী নিবাসী শ্রীমন্মথ নাথ পাল, কবির জীবদ্দশায় তাঁরই আদেশে। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় কবির দেহান্তের পরে, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সভাপতি শ্রীআনন্দভাই দ্বারা। গ্রন্থটি আমরা পেয়েছি মিলনসাগরের শুভানুধ্যায়ী এবং উপদেষ্টা, দিল্লী নিবাসী ডঃ দিলীপ কুমার বসু ও ডঃ নন্দিতা বসুর কাছ থেকে। মিলনসাগরে কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .

প্রাণের ভিতর জেগে থেকে
    কাদাস্‌ মা তোর ইচ্ছা যত।
কাঁদ্‌ ব আমি নয়ন নীরে
    তোর, রাঙ্গা চরণ ধোয়ায়ে মাত।

কান্নার কথায় ভয় করিনে
কাঁদাস মা তুই রাত্র দিনে,
শুধু, এ মিনতি রাখিস্‌ মনে,
    সন্তান মা তোর পদাশ্রিত।

নাই মা আর সন্তানের কেহ,
নাই মা অর্থ নাই মা গেহ,
রুগ্ন দেহ ভগ্নোৎসাহ,
    রিপু দাপে জীবন্মৃত॥

*********************








*
সখা! দেখা দাও আমায়
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫। ১৩৫২ বঙ্গাব্দে (১৯৪৫খৃঃ) প্রকাশিত, কবির আত্মজীবনী “স্বপ্নজীবন” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে বা ১৯২৭খৃঃ)-এর ৩৩৬-পৃষ্ঠায় দেওয়া গান।

সখা! দেখা দাও আমায়।
    (নইলে যে এ জীবন যায়)
ত্রিতাপ তাপিত তৃষিত এ চিত,
তোমারই ভাবনায় বিমুগ্ধ সতত
কবে কাছে এসে দেখা দেবে হেসে,
    হেরিব মধুর অধর হায়!
    (সখা, হেরিব মধুর অধর হায়)
হেরিব জানি না কবে সে বদন,
ভেবে, হতেছে দহন ঝরে দুনয়ন,
ওহে, নীরদ বরণ শুন নিবেদন,
    বারেক নয়ন দেখিতে চায়।
    (তোমায়, বারেক নয়ন দেখিতে চায়)
নহিলে অকালে এ কাল সলিলে,
ডুবে যাব সখা নয়নের জলে,
বাসনা রহিবে হিয়া জ্বলে যাবে,
    সখা তুমি দুখ পাবে তায়।
    (ওহে তুমি দুখ পাবে তায়)
অধর কোমল সুবিমল হাসি,
সুধা বিমণ্ডিত যেন পূর্ণ শশী,
তাহে দুখ রাশি যদি পশে আসি,
    এ পাতকী হবে দায়ী তায়।‌
    (সখা, এ পাতকী হবে দায়ী তায়)
দায়ী শুধু নয় দহনের ভয়,
জ্বালার উপর জ্বালা আর কত সয়,
হও হে সদয়, ওহে সদাশয়
    নইলে যে হে আমি নিরুপায়।
    (সুখময়! আমি নিরুপায়)

*********************








*
তত্ত্বাতীতা
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫। জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে মাতৃভাবের এবং জগদ্গুরু রামকৃষ্ণদেবের উদ্দেশ্যে গুরুভাবের সাধন সঙ্গীত গ্রন্থ, আদ্যাপীঠের, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের ব্রহ্মচারী নিরঞ্জনভাই দ্রারা ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে (১৯৫০ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, “মা” কাব্যগ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণের মাতৃভাবের কবিতা বা গীত। এই সংকলনটি প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত করেন ভদ্রকালী নিবাসী শ্রীমন্মথ নাথ পাল, কবির জীবদ্দশায় তাঁরই আদেশে। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় কবির দেহান্তের পরে, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সভাপতি শ্রীআনন্দভাই দ্বারা। গ্রন্থটি আমরা পেয়েছি মিলনসাগরের শুভানুধ্যায়ী এবং উপদেষ্টা, দিল্লী নিবাসী ডঃ দিলীপ কুমার বসু ও ডঃ নন্দিতা বসুর কাছ থেকে। মিলনসাগরে কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .

কে জানে মা তব তত্ত্ব তত্ত্বতীতা তুমি তারা !
তুমি যে স্বাধীন স্বতন্ত্র তন্ত্র মন্ত্র অগোচরা।

কোথা তুমি সত্ত্ব গুণে সত্যকে বুকে করেছ,
কোথা রজাত্মিকা বুদ্ধি ঋদ্ধি সিদ্ধি মাগিতেছ ;
কোথা গো মা তমোময়ী তিমিরে ডুবিলে ওই
না হইয়ে মনোজয়ী মোহিনী মায়াতে হারা।

করেছে যে কি সিদ্ধান্ত কে জানে মা বেদ বেদান্ত
বকে’ বকে’ হল ক্ষান্ত অন্ত ত পেল না তারা।
এমনি মা তোর প্রেমের খেলা এমনি তোমার ভাবের মেলা
হেলায় পেয়ে জ্ঞানভেলা পার হ'তেছে মূর্খ যারা।
আবার, কেহ বলে তুমি বিশ্বে কল্পনা মূরতি মাতা
কেহ বলে প্রাণ খুলে তুমি বিশ্ব তুমিই ধাতা
দীন বলে কৃপা না হলে জান্ বে জীব কি কৌশলে
বিশ্ব যে তোর মায়াজালে জড়ীভূত হরদারা।
কৃপা কর মা কর্ম্ম দেখে, কর্ম্মীরে টেনে লওযে বুকে
নৈষ্কর্ম্ম ফলে নয়ন খোলে (মায়ের) দেখ্ তে পায় রূপ মনোহরা॥

*********************








*
আহা! সে রূপ একবার দেখাও হরি
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫। ১৩৫২ বঙ্গাব্দে (১৯৪৫খৃঃ) প্রকাশিত, কবির আত্মজীবনী “স্বপ্নজীবন” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে বা ১৯২৭খৃঃ)-এর ৩৫০-পৃষ্ঠায় দেওয়া গান।

আহা! সে রূপ একবার দেখাও হরি!
যে রূপে গোকুলে ছিলে গোলকবিহারী।
নবজলধররূপ শিরে শিখি পাখা---
পিঠে শোভে পীতধড়া হাসি প্রেম মাখা ;
মোহন তিলক ভালে ওহে ত্রিভঙ্গ মুরারী!
রাধা বলে আধ স্বরে বাজাতে বাঁশরী ;
রুনু ঝুনু বাজে পায়ে সোণার নূপুর ;
চলিতে চঞ্চল গতি কিবা সুমধুর!
    দেখাও দেখাও হরি!
আহা! সে রূপ আমায় দেখাও হরি!
যে রূপ দেখায়ে ওহে! বঙ্কিমনয়ন
হরে নিলে গোপবধূ-লাজ-কুল-মান।
শ্রীদাম সুদাম আদি সখা সঙ্গে লয়ে,
যে রূপে বেড়াতে বনে ধেনু চরাইয়ে।
    দেখাও দেখাও হরি!
আহা! সেরূপ আমায় দেখাও হরি।

*********************









*
জগদ্ধাত্রী
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫। জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে মাতৃভাবের এবং জগদ্গুরু রামকৃষ্ণদেবের উদ্দেশ্যে গুরুভাবের সাধন সঙ্গীত গ্রন্থ, আদ্যাপীঠের, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের ব্রহ্মচারী নিরঞ্জনভাই দ্রারা ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে (১৯৫০ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, “মা” কাব্যগ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণের মাতৃভাবের কবিতা বা গীত। এই সংকলনটি প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত করেন ভদ্রকালী নিবাসী শ্রীমন্মথ নাথ পাল, কবির জীবদ্দশায় তাঁরই আদেশে। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় কবির দেহান্তের পরে, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সভাপতি শ্রীআনন্দভাই দ্বারা। গ্রন্থটি আমরা পেয়েছি মিলনসাগরের শুভানুধ্যায়ী এবং উপদেষ্টা, দিল্লী নিবাসী ডঃ দিলীপ কুমার বসু ও ডঃ নন্দিতা বসুর কাছ থেকে। মিলনসাগরে কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .

ওমা! কে তুমি বিশ্ববিধায়িনী?
সসাগরা ধরা তোমাতে বিভোরা
    রবি শশী তারা দিবা যামিনী।
যেদিকে নেহারি অপরূপ হেরি
তোমারি বিকাশ ওমা শুভঙ্করি!
বালুকণা হ'তে অভ্রভেদী গিরি
    তুমিময় প্রেম রূপিনী।
সৃষ্টি স্থিতি লয় তোমা হ'তে হয়
সর্ব্বময়ী তুমি এক সুনিশ্চয় ;
এক হয়ে বহু রূপে অভ্যুদয়
    (জয়) ত্রিগুণাতীতা জননী।
বুঝিতে না পারি দয়া করে মাতঃ
বুঝাইয়া দাও এ নিগূঢ় তত্ত্ব ;
অন্ধ বধির অজ্ঞান ভ্রান্ত
    সন্তান তব সর্ব্বাণি!
তোমারি চরণে লইলে আশ্রয়
ঘুচে যায় যত ভাবনা ও ভয়
তোমারি কৃপায় ভ্রান্তি নাশ হয়
    ওমা জ্ঞানভক্তিদায়িনি!

*********************









*
বিপদবারিণী
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে মাতৃভাবের এবং জগদ্গুরু রামকৃষ্ণদেবের উদ্দেশ্যে গুরুভাবের সাধন সঙ্গীত গ্রন্থ, আদ্যাপীঠের, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের ব্রহ্মচারী নিরঞ্জনভাই দ্রারা ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে (১৯৫০ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, “মা” কাব্যগ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণের মাতৃভাবের কবিতা বা গীত। এই সংকলনটি প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত করেন ভদ্রকালী নিবাসী শ্রীমন্মথ নাথ পাল, কবির জীবদ্দশায় তাঁরই আদেশে। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় কবির দেহান্তের পরে, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সভাপতি শ্রীআনন্দভাই দ্বারা। গ্রন্থটি আমরা পেয়েছি মিলনসাগরের শুভানুধ্যায়ী এবং উপদেষ্টা, দিল্লী নিবাসী ডঃ দিলীপ কুমার বসু ও ডঃ নন্দিতা বসুর কাছ থেকে। মিলনসাগরে কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .

মাগো! বিপদে তোমারে মনে পড়ে শুধু
    সম্পদে ত কভু পড়ে না।
সুখের সময় তুমি কেহ নয়
    অসুখে তোমা বই ভাবি না।
স্বার্থ সিদ্ধি তরে ডাকি বারে বারে
    পরে তোমায় আর মানি না
অসময়ে তুমি হও মোর স্বামী
    সুসময়ে তোমা জানি না।
অনলে অনিলে এ নভোমণ্ডলে
    আছ সব স্থান ব্যাপিয়া ;
রণে কিন্বা বনে জীব মন প্রাণে
    জ্যোতির্ময়ী রূপে তুমি মা।
উপদেশ ছলে জানাই সকলে
    নিজের বেলা সব কল্পনা ;
কিসে পাব মুক্তি কোথা সেই ভক্তি
    (বল) কত দিন রবে ছলনা?
দিন দিন দিন বলবুদ্ধিহীন
    আয়ু ক্ষীণ ধৈর্য্য রহে না ;
কি হবে উপায় ভাবি নিরুপায়
    কিসে ত্রাণ পাই বল না?
দারা পরিজনে লোহার বাঁধনে
    বেঁধেছে ভাবিয়া আপনা
কিসে, মোহ মুক্ত হব বন্ধন কাটিব
    ভাবিয়া ত কিছু পাই না।
দাও পদছায়া ওমা মহামায়া!
    আমি, মোহময় তাকি জান না?
দয়া কর ত্বরা ওমা হরদারা!
    ঘুটে যাক্ ভব ভাবনা।
(মাগো, যত মোহময় বাসনা।)

*********************









*
ভবসিন্ধু
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫। জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে মাতৃভাবের এবং জগদ্গুরু রামকৃষ্ণদেবের উদ্দেশ্যে গুরুভাবের সাধন সঙ্গীত গ্রন্থ, আদ্যাপীঠের, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের ব্রহ্মচারী নিরঞ্জনভাই দ্রারা ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে (১৯৫০ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, “মা” কাব্যগ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণের মাতৃভাবের কবিতা বা গীত। এই সংকলনটি প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত করেন ভদ্রকালী নিবাসী শ্রীমন্মথ নাথ পাল, কবির জীবদ্দশায় তাঁরই আদেশে। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় কবির দেহান্তের পরে, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সভাপতি শ্রীআনন্দভাই দ্বারা। গ্রন্থটি আমরা পেয়েছি মিলনসাগরের শুভানুধ্যায়ী এবং উপদেষ্টা, দিল্লী নিবাসী ডঃ দিলীপ কুমার বসু ও ডঃ নন্দিতা বসুর কাছ থেকে। মিলনসাগরে কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .

আমার, ভবের ভাবনা ভেবে ভেবে
    অস্থি চর্ন্ম সার হতেছে।
জীর্ণতরী পাড়ি ভারি
    পাপের বোঝা তায় চেপেছে।
তাহে মাগো উঠ্ ছে আবার
উথলি মায়া পারাবার ;
ভবের তুফান সাম্ লান ভার
    এবার বুঝি ডুব্ লেম্‌ এসে।
অতল তলে ডুব্ লেম্ বুঝি
আমার, নাই মা দাঁড়ি নাইক মাঝি
মাগো, আছে যারা রিপুর বশী
    দিবানিশি মাতাল সেজে॥

*********************









*
জীবনসন্ধ্যা
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫। জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে মাতৃভাবের এবং জগদ্গুরু রামকৃষ্ণদেবের উদ্দেশ্যে গুরুভাবের সাধন সঙ্গীত গ্রন্থ, আদ্যাপীঠের, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের ব্রহ্মচারী নিরঞ্জনভাই দ্রারা ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে (১৯৫০ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, “মা” কাব্যগ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণের মাতৃভাবের কবিতা বা গীত। এই সংকলনটি প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত করেন ভদ্রকালী নিবাসী শ্রীমন্মথ নাথ পাল, কবির জীবদ্দশায় তাঁরই আদেশে। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় কবির দেহান্তের পরে, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সভাপতি শ্রীআনন্দভাই দ্বারা। গ্রন্থটি আমরা পেয়েছি মিলনসাগরের শুভানুধ্যায়ী এবং উপদেষ্টা, দিল্লী নিবাসী ডঃ দিলীপ কুমার বসু ও ডঃ নন্দিতা বসুর কাছ থেকে। মিলনসাগরে কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .

আমার, দিন যে যায় বয়ে’ কবে দা ও পায়ে
    এমতি গতি ফিরাইব।
শান্তি শান্তি বলে ভ্রান্তি পদে দলে
    কবে মা ওপায়ে মিশে যাব?
ওই হের রবি অস্তমিত প্রায়
    রাঙ্গা মেঘ ভাসে আকাশেরি গায়
সান্ধ্য সমীরণ চুমিছে ধরায়
    (হায়) আর কবে তোম! ভাবিব?
    আমি আর কবে তোমা ভাবিব?
লভিব তোমার ও রাঙ্গাচরণ
    ত্রিভুবন ধন বৈভব॥

*********************









*
মা ও ছেলে
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫। জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে মাতৃভাবের এবং জগদ্গুরু রামকৃষ্ণদেবের উদ্দেশ্যে গুরুভাবের সাধন সঙ্গীত গ্রন্থ, আদ্যাপীঠের, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের ব্রহ্মচারী নিরঞ্জনভাই দ্রারা ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে (১৯৫০ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, “মা” কাব্যগ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণের মাতৃভাবের কবিতা বা গীত। এই সংকলনটি প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত করেন ভদ্রকালী নিবাসী শ্রীমন্মথ নাথ পাল, কবির জীবদ্দশায় তাঁরই আদেশে। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় কবির দেহান্তের পরে, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সভাপতি শ্রীআনন্দভাই দ্বারা। গ্রন্থটি আমরা পেয়েছি মিলনসাগরের শুভানুধ্যায়ী এবং উপদেষ্টা, দিল্লী নিবাসী ডঃ দিলীপ কুমার বসু ও ডঃ নন্দিতা বসুর কাছ থেকে। মিলনসাগরে কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .

জগৎ জোড়া ভাবের মাঝে
    দাঁড়িয়ে আছে আমার শ্যামা ;
যে দিক দেখি সে দিকেই যেন
    জ্যোতির্ম্ময়ী মা মনোরমা।
ব্রহ্মময়ী রূপে কালী
ব্রহ্মাণ্ডে রয়েছে খালি ;
শিব দুর্গা বনমালী
    (আমার) কালী ছাড়া আর কিছু না।
যে জন ভক্তি বিশ্বাস নিয়ে
ডাকে মাকে ব্যাকুল হয়ে
মা অমনি, কাছে এসে কোলে নিয়ে
    বলে বাছা আর কেঁদ না।
এই আমি এসেছি কাছে
তোমার, মাতৃরূপে মোহন সাজে
আয় কোলে আয়, আয় বুকে আয়
    আর তোরে দুঃখ দিব না।
এমন মাকে ভুলে থেকে
পড়ে আছিস্‌ নিয়ে কাকে?
মায়ের পায়ে মতি রেখে
    প্রাণ খুলে বল সবাই মা মা।
সুধাসিন্ধু মার চরণে
শান্তি তৃপ্তি মায়ের ধ্যানে
মা বলে ডাক আকুল প্রাণে
    তোর কোন আর দুখ রবে না।
(তোদের) রবে না ভবের আনাগোনা॥

*********************









*
তাপদগ্ধ
কবি শ্রীশ্রীঅন্নদা ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৫.২০২৫। জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে মাতৃভাবের এবং জগদ্গুরু রামকৃষ্ণদেবের উদ্দেশ্যে গুরুভাবের সাধন সঙ্গীত গ্রন্থ, আদ্যাপীঠের, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের ব্রহ্মচারী নিরঞ্জনভাই দ্রারা ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে (১৯৫০ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, “মা” কাব্যগ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণের মাতৃভাবের কবিতা বা গীত। এই সংকলনটি প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত করেন ভদ্রকালী নিবাসী শ্রীমন্মথ নাথ পাল, কবির জীবদ্দশায় তাঁরই আদেশে। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় কবির দেহান্তের পরে, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সভাপতি শ্রীআনন্দভাই দ্বারা। গ্রন্থটি আমরা পেয়েছি মিলনসাগরের শুভানুধ্যায়ী এবং উপদেষ্টা, দিল্লী নিবাসী ডঃ দিলীপ কুমার বসু ও ডঃ নন্দিতা বসুর কাছ থেকে। মিলনসাগরে কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .

এস মা তাপিতে ডাকে ত্রিতাপ জ্বালা নাশিনী
রোগে শোকে তাপে হিয়া জ্বলিতেছে নিশিদিনই।
এ ভব ব্যভিচার হেরে বুক দুরু দুরু করে,
মাগো, ধন পরিজন যত (হল) অসুখেরই শিরোমণি।
বুঝি না কিছুই মাগো শিখাতে জানে না কেহ
কি নিয়ে রহিব ভবে এ কার গেহ এ কার দেহ?
কারা বা আপন জন কারা রিপু অস্বজন
মাগো, দেহ সুশোভন কিবা কে মম জীবনসঙ্গিনী।
সহিতে পারিনা মাগো ঐহিকের জ্বালা আর
তুষানল প্রায় হৃদি (উহুঃ) সহা ভার সহা ভার ;
কি যে দুঃখ বলি কারে কত অশ্রু নেত্রাধারে
ওমা, বড় ব্যথা এ অন্তরে হৃদিভেদ্য মর্ম্মবাণী।
নয়নে হেরিলে তোমা দূরে যাবে দুখ গো মা!
বারেক এসে দাঁড়াও শ্যামা নেত্রপথে ত্রিনয়নী।
মাগো সব দুখ দূরে যাবে হেরিলে চরণ দুখানি॥

*********************