কবি বিকাশ গুঁই এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
পূর্বপুরুষের ভিটে
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫.১০.২০২৩।
শীতের আমেজ গায়ে মাখলে ঘরে মন বসে না।
লোকালয়ে এখন শ্বাপদের ঘন বসতি।
চলো যাই, আদিম আগাছা জ্ঞান বৃক্ষের বাগানে। পূর্বপুরুষের ভিটে।
গাছে গাছে ঝুলন্ত বাদুড়ের ঠোঁট থেকে ঝরে পড়ছে অরণ্যের ভ্রুণ। ম্যাপেল পাতায় ঝিরঝিরে বরফ কুচির বৃষ্টিতে গাছেরা নেশাতুর। নির্ঝর পাহাড়ের কোলে দিবানিদ্রায় মগ্ন নীল হ্রদ। আদম-ইভের পূণ্যিপুকুর।
এখানে গাছেদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি ...
শরীরের বাকল খুলে নগ্নতা পরে নিলে, মন রিপুহীন হয়ে যায়। নগ্নতা শুধু দেখতে হয়। অনুভব করলে ধর্ষকের জন্ম হয়।
রসায়নের ছাত্ররা এখানে বৈষ্ণব পদাবলী গায়।
*********************
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫.১০.২০২৩।
শীতের আমেজ গায়ে মাখলে ঘরে মন বসে না।
লোকালয়ে এখন শ্বাপদের ঘন বসতি।
চলো যাই, আদিম আগাছা জ্ঞান বৃক্ষের বাগানে। পূর্বপুরুষের ভিটে।
গাছে গাছে ঝুলন্ত বাদুড়ের ঠোঁট থেকে ঝরে পড়ছে অরণ্যের ভ্রুণ। ম্যাপেল পাতায় ঝিরঝিরে বরফ কুচির বৃষ্টিতে গাছেরা নেশাতুর। নির্ঝর পাহাড়ের কোলে দিবানিদ্রায় মগ্ন নীল হ্রদ। আদম-ইভের পূণ্যিপুকুর।
এখানে গাছেদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি ...
শরীরের বাকল খুলে নগ্নতা পরে নিলে, মন রিপুহীন হয়ে যায়। নগ্নতা শুধু দেখতে হয়। অনুভব করলে ধর্ষকের জন্ম হয়।
রসায়নের ছাত্ররা এখানে বৈষ্ণব পদাবলী গায়।
*********************
চার অক্ষর
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
জীবনের বর্ণমালা থেকে হারিয়ে গেছে। তন্ন তন্ন করে খুঁজছি। খুঁজতে খুঁজতে পেরিয়ে গেছি কয়েকটা আলোকবর্ষ। প্রতিদিনের মতো আজও নিষুপ্ত ভোরের আলো ছুঁয়ে গেছে অস্তরাগের জাফরানি দ্যোতনা। যে কোনও সময়ে বিপ্রতীপ রাত নেমে আসতে পারে। তবুও খোঁজার বিরাম নেই।
কোজাগরী পূর্ণিমার শিফন-জ্যোৎস্না জড়ানো মুখুজ্জ্যে বাড়ির সেই আলসেটা এখন আর নেই। প্রত্নতাত্ত্বিকরা হয়ত একদিন খুঁজে পাবে।
দুটো ভাষাহীন হৃদয়ের বায়বীয় অস্তিত্বে - পবিত্র চারটে অক্ষর।
*********************
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
জীবনের বর্ণমালা থেকে হারিয়ে গেছে। তন্ন তন্ন করে খুঁজছি। খুঁজতে খুঁজতে পেরিয়ে গেছি কয়েকটা আলোকবর্ষ। প্রতিদিনের মতো আজও নিষুপ্ত ভোরের আলো ছুঁয়ে গেছে অস্তরাগের জাফরানি দ্যোতনা। যে কোনও সময়ে বিপ্রতীপ রাত নেমে আসতে পারে। তবুও খোঁজার বিরাম নেই।
কোজাগরী পূর্ণিমার শিফন-জ্যোৎস্না জড়ানো মুখুজ্জ্যে বাড়ির সেই আলসেটা এখন আর নেই। প্রত্নতাত্ত্বিকরা হয়ত একদিন খুঁজে পাবে।
দুটো ভাষাহীন হৃদয়ের বায়বীয় অস্তিত্বে - পবিত্র চারটে অক্ষর।
*********************
রেড লাইট এরিয়া
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
লাল আলোর সীমানা ঘেরা ভরা অমাবস্যার রাত। একফালি ফুটফুটে জ্যোৎস্না কখন কিভাবে ঢুকে পড়েছে কেউ জানে না।
অন্ধ সময়ের চোখ ফোটে এক সময়। প্রহরের কড়িকাঠ গোনা শেষ হয়। বিধ্বস্ত জ্যোৎস্না অতঃপর ! দরজায় হেলান দিয়ে জীবনের সূর্যাস্ত দেখতে থাকে ...
দেহজ নদীপথে রক্তিম আলোর বন্যা - স্রোতে ভেসে গেছে জীবন, যৌবন,ধনমান।
কখনও কখনও নিষ্প্রভ জ্যোৎস্নাটা নিঝুম রাতে সাহসী হয়। জানলা গলে নেমে পড়ে ফুটপাথে। শুনসান রাস্তার সজাগ প্রহরী বাতিস্তম্ভগুলো খপ করে ধরে নেয় হাত - এই শালী কোথা যাস্ ?
বন্ধ দরজার জমাট অন্ধকারের কোলে কুসুম কোমল জ্যোৎস্নাটা লাল হয় ধীরে ধীরে, চৌকাঠ গলে রক্তিম আলো ফোঁটা ফোঁটা ঝরে পড়ে প্রতিনিয়ত।
আবারও কোনো এক ক্লান্ত ভোরে ততোধিক ক্লান্ত অ্যানিমিয়া গ্রস্ত জ্যোৎস্নাটা একদিন উঠে যায় উপরে - চাঁদের কলঙ্ক হয়ে আজীবন বেঁচে থাকবে বলে।
*********************
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
লাল আলোর সীমানা ঘেরা ভরা অমাবস্যার রাত। একফালি ফুটফুটে জ্যোৎস্না কখন কিভাবে ঢুকে পড়েছে কেউ জানে না।
অন্ধ সময়ের চোখ ফোটে এক সময়। প্রহরের কড়িকাঠ গোনা শেষ হয়। বিধ্বস্ত জ্যোৎস্না অতঃপর ! দরজায় হেলান দিয়ে জীবনের সূর্যাস্ত দেখতে থাকে ...
দেহজ নদীপথে রক্তিম আলোর বন্যা - স্রোতে ভেসে গেছে জীবন, যৌবন,ধনমান।
কখনও কখনও নিষ্প্রভ জ্যোৎস্নাটা নিঝুম রাতে সাহসী হয়। জানলা গলে নেমে পড়ে ফুটপাথে। শুনসান রাস্তার সজাগ প্রহরী বাতিস্তম্ভগুলো খপ করে ধরে নেয় হাত - এই শালী কোথা যাস্ ?
বন্ধ দরজার জমাট অন্ধকারের কোলে কুসুম কোমল জ্যোৎস্নাটা লাল হয় ধীরে ধীরে, চৌকাঠ গলে রক্তিম আলো ফোঁটা ফোঁটা ঝরে পড়ে প্রতিনিয়ত।
আবারও কোনো এক ক্লান্ত ভোরে ততোধিক ক্লান্ত অ্যানিমিয়া গ্রস্ত জ্যোৎস্নাটা একদিন উঠে যায় উপরে - চাঁদের কলঙ্ক হয়ে আজীবন বেঁচে থাকবে বলে।
*********************
যদি কখনও ফেরো
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
দরজা খোলা আছে। খোলাই থাকে। বসতে পারো। ভাবতে পারো। থাকতেও পারো। এক ঘন্টা। একদিন। কিম্বা এক জীবন।
ঘরে তেমন বিশেষ কিছু নেই। আছে এক টুকরো বিশ্বাস আর একটা চওড়া নির্ভরতা।
যদি ভাবো, ঘরে ঢুকলেই দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে, তাহলে তোমার বেদেনী জীবনই ভাল। চার দেওয়ালের অন্ধকারে ওদের বড় ভয়। তাই ওরা ঘর বাঁধে না। হয়ত ! ঘর বাঁধতে জানে না।
সীমাহীন ছাদের নীচে বিস্তৃত অন্ধকারেই ওরা স্বচ্ছন্দ। আচার জীবন, চাখতে চাখতেই শেষ হয়ে যায়। একজন হাত ছাড়লে আর একজন ধরে নেয়।
এভাবেই সঙ্ঘবদ্ধ পিঁপড়েদের দায়হীন ঘর, একদিন ধ্বসে পড়ে। পড়ে থাকে ঝুরো মাটি।
*********************
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
দরজা খোলা আছে। খোলাই থাকে। বসতে পারো। ভাবতে পারো। থাকতেও পারো। এক ঘন্টা। একদিন। কিম্বা এক জীবন।
ঘরে তেমন বিশেষ কিছু নেই। আছে এক টুকরো বিশ্বাস আর একটা চওড়া নির্ভরতা।
যদি ভাবো, ঘরে ঢুকলেই দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে, তাহলে তোমার বেদেনী জীবনই ভাল। চার দেওয়ালের অন্ধকারে ওদের বড় ভয়। তাই ওরা ঘর বাঁধে না। হয়ত ! ঘর বাঁধতে জানে না।
সীমাহীন ছাদের নীচে বিস্তৃত অন্ধকারেই ওরা স্বচ্ছন্দ। আচার জীবন, চাখতে চাখতেই শেষ হয়ে যায়। একজন হাত ছাড়লে আর একজন ধরে নেয়।
এভাবেই সঙ্ঘবদ্ধ পিঁপড়েদের দায়হীন ঘর, একদিন ধ্বসে পড়ে। পড়ে থাকে ঝুরো মাটি।
*********************
একদিন যুদ্ধ থেমে যাবে
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
একদিন যুদ্ধ থেমে যাবে। পৃথিবী নিরস্ত্র হবে। কচি কচি হাতনাড়া ফুলেদের এ অঙ্গীকার। কনকাঁচলে তুলে নেবে পৃথিবীর ভার।
মৌলবাদী দাঙ্গাবাজ তুমি হেরে যাচ্ছ ...
একদিন প্রত্নতত্ত্বে মিশে যাবে । গতকাল পুরানো সূর্যটা পৃথিবী ছেড়ে গেছে। আজও যাবে, কালও...
আগামীর আঁতুড়ঘরে নতুন সূর্য ভূমিষ্ঠ হবে।
রজঃস্বলা পৃথিবী এক মধ্যরাত্রে নবপ্রজন্মের অবাধ বিচরণ ভূমি ঘোষিত হবে।
*********************
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
একদিন যুদ্ধ থেমে যাবে। পৃথিবী নিরস্ত্র হবে। কচি কচি হাতনাড়া ফুলেদের এ অঙ্গীকার। কনকাঁচলে তুলে নেবে পৃথিবীর ভার।
মৌলবাদী দাঙ্গাবাজ তুমি হেরে যাচ্ছ ...
একদিন প্রত্নতত্ত্বে মিশে যাবে । গতকাল পুরানো সূর্যটা পৃথিবী ছেড়ে গেছে। আজও যাবে, কালও...
আগামীর আঁতুড়ঘরে নতুন সূর্য ভূমিষ্ঠ হবে।
রজঃস্বলা পৃথিবী এক মধ্যরাত্রে নবপ্রজন্মের অবাধ বিচরণ ভূমি ঘোষিত হবে।
*********************
ইতিবৃত্ত
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
শেষবারের মত ভাঙা কোদালের বাঁট দিয়ে ভেঙে দিয়েছি জলভর্তি কলসীর কানা। পিছন ফিরে আর তাকাইনি।
অবয়বহীন ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে বিরামহীন পথচলায় ঘুরে ফিরে আসে বৃত্তের প্রারম্ভিক চৌকাঠ। আনমনে হোঁচট খেয়ে খুলে যায়, ফেলে আসা ধুলোগাঁয়ের খিড়কীর দরজা।
সেই একই ভাবে শুয়ে আছে মেঠোপথ, এঁকেবেঁকে বনের ছায়ায়। পাশের কাটা খালে লিকলিকে কলমীর নাকে বেগুনি নোলক। ডাহুক ডাক দিয়ে যায় হিঞ্চের বনে।
পূণ্যি পুকুরের ঘাটে সূয্যি ডুবলে চাঁদ ধরা পড়ে বধূর আঁচলে। তৃষ্ণার্ত অমলতাস আজও ঝুঁকে জলের ঠোঁটে।
*********************
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
শেষবারের মত ভাঙা কোদালের বাঁট দিয়ে ভেঙে দিয়েছি জলভর্তি কলসীর কানা। পিছন ফিরে আর তাকাইনি।
অবয়বহীন ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে বিরামহীন পথচলায় ঘুরে ফিরে আসে বৃত্তের প্রারম্ভিক চৌকাঠ। আনমনে হোঁচট খেয়ে খুলে যায়, ফেলে আসা ধুলোগাঁয়ের খিড়কীর দরজা।
সেই একই ভাবে শুয়ে আছে মেঠোপথ, এঁকেবেঁকে বনের ছায়ায়। পাশের কাটা খালে লিকলিকে কলমীর নাকে বেগুনি নোলক। ডাহুক ডাক দিয়ে যায় হিঞ্চের বনে।
পূণ্যি পুকুরের ঘাটে সূয্যি ডুবলে চাঁদ ধরা পড়ে বধূর আঁচলে। তৃষ্ণার্ত অমলতাস আজও ঝুঁকে জলের ঠোঁটে।
*********************
ঠিকানা
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
দিনের শেষে আমার হাতে তেমন কাজ থাকে না। তখন শুধু দেখি ...
আবার মাঝে মাঝেই ঘুমের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে পাশ ফিরি। পাশেই শুয়ে একটা নদী। ওর নিস্তরঙ্গ ঢেউয়ে হাত রাখলেই ওপারে জেগে ওঠে অরণ্য। একে একে আসে গহীন অরণ্যের বাসিন্দারা। চুকচুক করে ওর বুকের দুধ খেয়ে হেলতে দুলতে ফিরে যায়।
আর ওপাশ ফিরলেই দেখি - বিগত জন্মের ভরা সংসার কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটা নুয়ে পড়া গাছ। এখন ঝরাপাতার কাল। ওর সর্বাঙ্গে অজস্র লাল টুকটুকে হৃষ্টপুষ্ট স্তন। যে নগ্ন দম্পতি ঐ স্তনদুগ্ধ খেয়ে প্রথম লজ্জা পেয়েছিল, তাদের সঙ্গে আমার রক্তের সম্পর্ক।
আমার ঠিকানা এখন এক অবসোলিট পৃথিবীর আদিম বাগান। ভালোবাসা হীন গ্রহে ফিরে যাবার কোনও তাড়া নেই আমার।
*********************
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
দিনের শেষে আমার হাতে তেমন কাজ থাকে না। তখন শুধু দেখি ...
আবার মাঝে মাঝেই ঘুমের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে পাশ ফিরি। পাশেই শুয়ে একটা নদী। ওর নিস্তরঙ্গ ঢেউয়ে হাত রাখলেই ওপারে জেগে ওঠে অরণ্য। একে একে আসে গহীন অরণ্যের বাসিন্দারা। চুকচুক করে ওর বুকের দুধ খেয়ে হেলতে দুলতে ফিরে যায়।
আর ওপাশ ফিরলেই দেখি - বিগত জন্মের ভরা সংসার কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটা নুয়ে পড়া গাছ। এখন ঝরাপাতার কাল। ওর সর্বাঙ্গে অজস্র লাল টুকটুকে হৃষ্টপুষ্ট স্তন। যে নগ্ন দম্পতি ঐ স্তনদুগ্ধ খেয়ে প্রথম লজ্জা পেয়েছিল, তাদের সঙ্গে আমার রক্তের সম্পর্ক।
আমার ঠিকানা এখন এক অবসোলিট পৃথিবীর আদিম বাগান। ভালোবাসা হীন গ্রহে ফিরে যাবার কোনও তাড়া নেই আমার।
*********************
মর্নিং ওয়াক
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
টিপটিপ শিশির বৃষ্টির সঙ্গে মাখনরঙা আলোয় ভিজে যায় সবুজ চাদরে ঢাকা বিথান আঙিনা। ধীরে ধীরে চারদিকে ওঠে পাকা সোনার কোলাহল। একঝাঁক বক পাখসাট মেরে উড়ে যায়।
কোলাহল ভাঙতে ভাঙতে দু'হাতে উড়িয়ে দিই কিছু খোশগল্প।
কিছু নিয়ে উড়ে যায় ওরা। মাঠে ঝরে পড়ে কিছু।
আর বাকিটা কেউ কেউ ধরে, বুকপকেটে নিয়ে যায় সারাদিনের হাতখরচ।
*********************
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
টিপটিপ শিশির বৃষ্টির সঙ্গে মাখনরঙা আলোয় ভিজে যায় সবুজ চাদরে ঢাকা বিথান আঙিনা। ধীরে ধীরে চারদিকে ওঠে পাকা সোনার কোলাহল। একঝাঁক বক পাখসাট মেরে উড়ে যায়।
কোলাহল ভাঙতে ভাঙতে দু'হাতে উড়িয়ে দিই কিছু খোশগল্প।
কিছু নিয়ে উড়ে যায় ওরা। মাঠে ঝরে পড়ে কিছু।
আর বাকিটা কেউ কেউ ধরে, বুকপকেটে নিয়ে যায় সারাদিনের হাতখরচ।
*********************
আমি এ পৃথিবীর কেউ না
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
আমার দু'চোখের পাতায় ঘুম নেমে এলেই আমি উড়তে থাকি। কেন জানিনা, তখন আমার মনে হয় - আমি এই পৃথিবীর কেউ না। কিভাবে এখানে এলাম, তাও এখন আমার আর মনে নেই।
শুনসান পথে টলোমলো ভোর। আলোর পাখিরাও আর বাঁধে না সাম্যের গান। বাগানে ফুলেদের মুখে হাসি নেই। ভেজানো দরজায় নবজাতকের কান্না নেই। দাউ দাউ আগুনের পথে এগিয়ে চলেছে পথ্যহীন শবের মিছিল। দু'চোখে ছুটে আসছে বাঁধভাঙা ঢেউ। না, কিছুতেই না, আমি এ পৃথিবীর কেউ না।
আমি উড়ছি ... পেরিয়ে যাচ্ছি প্রজ্বলিত শ্মশান, উন্মুক্ত গোরস্তান, বন্ধ স্কুল, শিশুর খেলাঘর - প্রায় এসে গেছি গ্রহান্তরে। দেখতে পাচ্ছি , রাজা বেরিয়েছেন ফকিরের বেশে রাজ্যের খবর নিতে। শুনতে পাচ্ছি, জোড়া মুনিয়ার সোহাগী আলাপন, ঘ্রাণে ভরপুর হাসনুহানার সৌরভ। প্রশান্ত পর্ণকুটিরে কৃষাণীর কোল ভরা কান্না মিশে যাচ্ছে পড়শীর হাসির কলরোলে। সন্ধ্যারতির ঘন্টাধ্বনীতে মিশে যাচ্ছে আজানের সুর। বুঝতে পারছি, আমি কাঙ্খিত পৃথিবীতে পা রাখতে চলেছি ...
পুকুর পাড়ে হাওয়ায় হেলান দিয়ে শুয়ে আছে হিজল, আর হিজলের ডাল ধরে যে ছেলেটি তার ভিনধর্মী প্রেমিকার জন্য শাপলা তুলছে কোঁচড় ভরে, তাকে আমার খুব চেনা মনে হয়।
নাম জিজ্ঞাসা করতেই বলে ওঠে, আমার নাম " সনাতন "।
সনাতন এক প্রাচীন ঐতিহ্যের নাম।
*********************
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
আমার দু'চোখের পাতায় ঘুম নেমে এলেই আমি উড়তে থাকি। কেন জানিনা, তখন আমার মনে হয় - আমি এই পৃথিবীর কেউ না। কিভাবে এখানে এলাম, তাও এখন আমার আর মনে নেই।
শুনসান পথে টলোমলো ভোর। আলোর পাখিরাও আর বাঁধে না সাম্যের গান। বাগানে ফুলেদের মুখে হাসি নেই। ভেজানো দরজায় নবজাতকের কান্না নেই। দাউ দাউ আগুনের পথে এগিয়ে চলেছে পথ্যহীন শবের মিছিল। দু'চোখে ছুটে আসছে বাঁধভাঙা ঢেউ। না, কিছুতেই না, আমি এ পৃথিবীর কেউ না।
আমি উড়ছি ... পেরিয়ে যাচ্ছি প্রজ্বলিত শ্মশান, উন্মুক্ত গোরস্তান, বন্ধ স্কুল, শিশুর খেলাঘর - প্রায় এসে গেছি গ্রহান্তরে। দেখতে পাচ্ছি , রাজা বেরিয়েছেন ফকিরের বেশে রাজ্যের খবর নিতে। শুনতে পাচ্ছি, জোড়া মুনিয়ার সোহাগী আলাপন, ঘ্রাণে ভরপুর হাসনুহানার সৌরভ। প্রশান্ত পর্ণকুটিরে কৃষাণীর কোল ভরা কান্না মিশে যাচ্ছে পড়শীর হাসির কলরোলে। সন্ধ্যারতির ঘন্টাধ্বনীতে মিশে যাচ্ছে আজানের সুর। বুঝতে পারছি, আমি কাঙ্খিত পৃথিবীতে পা রাখতে চলেছি ...
পুকুর পাড়ে হাওয়ায় হেলান দিয়ে শুয়ে আছে হিজল, আর হিজলের ডাল ধরে যে ছেলেটি তার ভিনধর্মী প্রেমিকার জন্য শাপলা তুলছে কোঁচড় ভরে, তাকে আমার খুব চেনা মনে হয়।
নাম জিজ্ঞাসা করতেই বলে ওঠে, আমার নাম " সনাতন "।
সনাতন এক প্রাচীন ঐতিহ্যের নাম।
*********************
সন্ধ্যারাগ
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
বৃষ্টি যখন দৃষ্টি ছাড়া দূরে
তুমি দিলে মন কেমনে ডাক,
একটু দাঁড়াই অতীত চেনা সুরে
ঘরের বাঁধন যায় টুটে যায় যাক।
হাঁটতে থাকি বনের পথে পথে
পথের ধারে আপনমনে গাইছে বনফুল,
মগ্ন হৃদয় ডুবছে চোরা স্রোতে
বুকের মধ্যে দুরন্ত ঢেউ ভাঙছে নদীকূল।
মেঘের কোলে মেঘ ঘুমিয়ে পড়ে
বকের ডানায় অস্তরাগের ছোঁয়া,
আঙন মাঝে তুলসীতলে সন্ধ্যা চুপিসাড়ে
ঝিঁঝিঁর ডাকে বোহেমিয়ান উড়ছে ধূপের ধোঁয়া।
*********************
কবি বিকাশ গুঁই
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.১০.২০২৩।
বৃষ্টি যখন দৃষ্টি ছাড়া দূরে
তুমি দিলে মন কেমনে ডাক,
একটু দাঁড়াই অতীত চেনা সুরে
ঘরের বাঁধন যায় টুটে যায় যাক।
হাঁটতে থাকি বনের পথে পথে
পথের ধারে আপনমনে গাইছে বনফুল,
মগ্ন হৃদয় ডুবছে চোরা স্রোতে
বুকের মধ্যে দুরন্ত ঢেউ ভাঙছে নদীকূল।
মেঘের কোলে মেঘ ঘুমিয়ে পড়ে
বকের ডানায় অস্তরাগের ছোঁয়া,
আঙন মাঝে তুলসীতলে সন্ধ্যা চুপিসাড়ে
ঝিঁঝিঁর ডাকে বোহেমিয়ান উড়ছে ধূপের ধোঁয়া।
*********************
