কবি অজয় কুমার দের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি অজয় কুমার দের পরিচিতির পাতায় . . .
গৌর গদাধর
কবি অজয় কুমার দে
লীলা প্রকাশ।

কলিযুগের শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য অবতার।
হেন দয়াল অবতীর্ণ না হৈল আর॥
পতিত জীবের উদ্ধার করিতে শ্রী হরি।
অবতীর্ণ হলেন যিনি, গৌরাঙ্গ নাম ধরি॥
উচ্চৈঃস্বরে কাঁদে প্রভু জীবের লাগিয়া।
সর্ব জীবে উদ্ধারিলা কৃষ্ণনাম দিয়া॥
ঘরে ঘরে হরিনাম দেন সর্ব্বজনে।
গড়াগড়ি যান প্রভু নিজ সংকীর্ত্তনে॥
ব্রহ্মা মহেশ্বর নারদ যাঁরে করে অন্বেষণ।
হেন প্রভু পতিত জনে দেন আলিঙ্গন॥
ভাবিয়া না পান যাঁরে সহস্রলোচন।
গদাধরের প্রাণ গৌর, শ্রীশচীরনন্দন॥
সতত ঢুলিয়া পরে গোরা গদাধরের কোলে।
প্রণবনন্দন ধৌতে যুগলচরণ নয়নের জলে॥

*********************







*
গদাধরের বিরহ
কবি অজয় কুমার দে
গৌর হরি গদাধর কে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে ইচ্ছে প্রকাশ।

মম হৃদে ধরি রাখিতে সেই নারি,
কেমনে রাখিব এহ প্রাণ।
তব চরণ স্মরি ত্যজিলাম শ্রী হরি,
সইতে নারি নাথ অভিমান।
যাহার সঙ্গ করি বিষয় বাসনা ছাড়ি,
শ্রীক্ষেত্রেই করি বসস্থান।
কহ গৌর হরি, কিবা অপরাধ করি,
কিকারণে কঠোর তব বিধান।
বল হে বংশী ধারি, কেমনে পুঁজিতে পারি,
সুদুর্লভ তব চরণ দুইখান।
আহা মরি মরি, কিবা বিরহ ধরি,
কেমনে ঢুলাই চামর, গায় গান।
প্রণবনন্দন কুঁড়ি, গদাধরের চরণ ধরি,
যেই চরণে শেষ অভিযান।

*********************

শব্দ অর্থ : কুঁড়ি - ক্ষুদ্র শিষ্য।








*
গদাই ও গৌরাঙ্গ
কবি অজয় কুমার দে
গৌর হরি গদাধর কে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে ইচ্ছে প্রকাশ।

বৃন্দাবনের যুগল সঙ্গ,
কলিতে গদাই গৌরাঙ্গ।
ভিন্ন ভিন্ন রসরঙ্গ,
এক প্রাণ দোহোতে অঙ্গ॥

মহাভাব ঋণ করি,
কানাই হইল গৌরহরি।
গদাধর রূপধরি,
গৌরাঙ্গের সঙ্গী রাসেশ্বরী॥

গদাই গৌরাঙ্গ রসময় মুরতি ,
কিবা অপরুপ প্রেমা-কৃতি।
অসীম অনুভব যুগলের পিরিতি,
সাধ্য আছে কাহার তাহাই বর্ননা করতি॥

গদাধরের কৃপা হলে,
জগজনে গৌরাঙ্গ মেলে ।
প্রণবনন্দন মজে রসাতলে,
অন্তিমকালে দিও ঠাঁই শ্রীচরণতলে॥

*********************








*
মধুর ভাব
কবি অজয় কুমার দে
রাধারানী মধুর ভাবে গদাধরের প্রকাশ।

গদাধর সুমধুর প্রেমেতে রসাল।
সেবিয়া গৌর হরি বাঁচিলা চরণ ধরি
শিখায়লা ভক্তগনে সেবার কৌশল॥
প্রেমে ডুবে নদিয়াপুর ডুবিল শান্তিপুর
যেইপ্রেমে গোরা থাকে মেতে।
ডুবিল নীলাচল মনে জাগে কৌতূহল
পন্ডিত এই প্রেম পেল কোথা হতে॥
সকল ভক্ত মেলি অস্বাদিয়া প্রেম কেলি
ভাবেতে বিভোর হয়ে যায়।
পাপিতাপী যত ছিল মায়াসাগর পার হলো
প্রণবনন্দন হাবুডুবু খায়॥

*********************








*
যুগল রূপ
কবি অজয় কুমার দে
যুগল রূপ আস্বাদন।

হেন যুগল রূপ কভু নাহি দেখি।
গৌর গদাধর রাধা নটবর
ফিরিয়ে আনিতে নারি আঁখি॥
নানাবিধ আভরণ কিবা তার প্রয়োজন।
প্রতি অঙ্গে হেরি কত শত শশী॥
আহা কিবা অপরূপ অগভীর প্রেমকূপ।
বলিহারি যাই যুগল রূপরাশি॥
সুরোধনির তীরে, জলকেলি করে নীড়ে।
সেই যেন যমুনার কিনারা।
গোরা নন্দ কিশোর রাধারানী গদাধর।
নবদ্বীপ গোকুল নীলাচল মথুরা॥
ভক্তগণ যাঁরা হেরি যাই সবার বলিহারি।
আনন্দ সাগরে সবে হাসে॥
অসময়ে জন্মিয়া, হেন ধন হারাইয়া,
প্রণবনন্দন নয়ন বারিতে ভাসে॥

*********************








*
কৃষ্ণ নাম প্রচার
কবি অজয় কুমার দে
হরিনামের মাধুর্য্য।

নগরে নগরে নিতাই গৌর ভ্রমিলা।
দ্বারে দ্বারে গিয়া হরিনাম বিলিলা॥
গাও গাও বলি জীবের চরণ ধরিলা।
ঢুলিতে ঢুলীতে ভাবে ভূমিতে লুঠিলা॥
নাচিয়া নাচিয়া হরি যেজন বলিলা।
শত শত পাপি দেখ নামে উদ্ধারিলা॥
হরি হরি বলি মন হরি না ভজিলা।
আমার আমার বলি সংসারে মজিলা॥
হাসিয়া হাসিয়া তুমি নিজেরে ভুলিলা।
সুধা সুধা খুঁজে ওমন গরল পায়িলা॥
নিজ নিজ দোসে পাপ পঙ্কিলে ডুবিলা।
কান্দিয়া কান্দিয়া ওহে ত্রিতাপ ভুগিলা॥
ভাবিয়া ভাবিয়া প্রণবনন্দন দেখিলা।
কৃষ্ণ কৃষ্ণ নামেই মুক্তি সর্ব জীবলীলা॥

*********************