কবি জয়দেব মণ্ডলের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
পাপের খতিয়ান
কবি জয়দেব মণ্ডল
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৬.২০২৫।
করছো তুমি সীমাহীন পাপ,
হাতে তুলে মিথ্যার ধ্বজা।
আইনের চোরা গলিপথ ধরে
চলছে তোমার মুক্তির পথ খোঁজা।
ভাবছো, জনগণ অভ্যস্ত মুখোশে—
নেতা, দাতা, ত্রাতা ভেবে চায়;
ভুলে যায় তারা ঘৃণ্য অত্যাচার,
একটুকরো দাক্ষিণ্যে চোখ ফেরায়।
জমিয়েছো টাকার পাহাড়,
কেড়েছো লক্ষ মুখের গ্রাস।
নির্লজ্জতার চূড়ান্ত প্রহসন—
তবু নিচ্ছো নির্ভার নিঃশ্বাস।
তোমার মিষ্টি হাসির বিজ্ঞাপনে
পাপ ঢাকবে না আর,
শতাব্দীর ইতিহাসে খোদাই থাকবে
তোমার নিষ্ঠুর অত্যাচার।
এই ভবের আদালতে—
হয়তো তুমি পেয়ে যাবে পার,
কিন্তু গরিবের দীর্ঘশ্বাসে
তোমার নাম হবে ছারখার।
চিত্রগুপ্তের খাতার পাতায়
আছে পাপের স্পষ্ট হিসাব,
সেদিন পাশে কেউ দাঁড়াবে না—
থাকবে কেবল নীরব অভিশাপ।
*********************
কবি জয়দেব মণ্ডল
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৬.২০২৫।
করছো তুমি সীমাহীন পাপ,
হাতে তুলে মিথ্যার ধ্বজা।
আইনের চোরা গলিপথ ধরে
চলছে তোমার মুক্তির পথ খোঁজা।
ভাবছো, জনগণ অভ্যস্ত মুখোশে—
নেতা, দাতা, ত্রাতা ভেবে চায়;
ভুলে যায় তারা ঘৃণ্য অত্যাচার,
একটুকরো দাক্ষিণ্যে চোখ ফেরায়।
জমিয়েছো টাকার পাহাড়,
কেড়েছো লক্ষ মুখের গ্রাস।
নির্লজ্জতার চূড়ান্ত প্রহসন—
তবু নিচ্ছো নির্ভার নিঃশ্বাস।
তোমার মিষ্টি হাসির বিজ্ঞাপনে
পাপ ঢাকবে না আর,
শতাব্দীর ইতিহাসে খোদাই থাকবে
তোমার নিষ্ঠুর অত্যাচার।
এই ভবের আদালতে—
হয়তো তুমি পেয়ে যাবে পার,
কিন্তু গরিবের দীর্ঘশ্বাসে
তোমার নাম হবে ছারখার।
চিত্রগুপ্তের খাতার পাতায়
আছে পাপের স্পষ্ট হিসাব,
সেদিন পাশে কেউ দাঁড়াবে না—
থাকবে কেবল নীরব অভিশাপ।
*********************
ঘুণধরা তানপুরা
কবি জয়দেব মণ্ডল
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৬.২০২৫।
জর্জরিত গিটারের তার, নেই ঝঙ্কার,
শোনা যায় সুর-কেন এতো শঙ্কার?
তানপুরায় লেগেছে কি ঘুণ
নাকি বাজে এখন অন্য কোনো ধুন৷
বাতাস বয়ে যায় স্তব্ধতার সুরে,
গভীর রাতে নক্ষত্রও দিশেহারা,
গানের খাতায় নীরবতা জমে,
ছেঁড়া তারে ঝুলছে ব্যথার ধারা।
স্মৃতির দেয়ালে গেয়ে যাওয়া গান,
প্রতিধ্বনি শোনে না আর কেউ,
ধুলো জমে আজ পাণ্ডুলিপির পাতায়
আঁধার রাতে ঢেকে যায় ঢেউ।
তবু সুর খোঁজে পথ হারানো আলো,
ছেঁড়া তারে আর উঠবে কি ঝঙ্কার
ধুলোমাখা গিটার রয়েছে কোণে পড়ে,
ঘুণধরা তারে আজ জীবন নির্বিকার ৷
*********************
কবি জয়দেব মণ্ডল
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৬.২০২৫।
জর্জরিত গিটারের তার, নেই ঝঙ্কার,
শোনা যায় সুর-কেন এতো শঙ্কার?
তানপুরায় লেগেছে কি ঘুণ
নাকি বাজে এখন অন্য কোনো ধুন৷
বাতাস বয়ে যায় স্তব্ধতার সুরে,
গভীর রাতে নক্ষত্রও দিশেহারা,
গানের খাতায় নীরবতা জমে,
ছেঁড়া তারে ঝুলছে ব্যথার ধারা।
স্মৃতির দেয়ালে গেয়ে যাওয়া গান,
প্রতিধ্বনি শোনে না আর কেউ,
ধুলো জমে আজ পাণ্ডুলিপির পাতায়
আঁধার রাতে ঢেকে যায় ঢেউ।
তবু সুর খোঁজে পথ হারানো আলো,
ছেঁড়া তারে আর উঠবে কি ঝঙ্কার
ধুলোমাখা গিটার রয়েছে কোণে পড়ে,
ঘুণধরা তারে আজ জীবন নির্বিকার ৷
*********************
ভ্রান্ত গৌরব
কবি জয়দেব মণ্ডল
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৬.২০২৫।
ঐ দেখা যায় আকাশচুম্বী গম্বুজ
গর্বোদ্ধত ক্ষমতার স্মারক,
স্বর্ণাক্ষরে খচিত নাম
শত শতাব্দীর স্মৃতির ফলক৷
গম্বুজের নিচে দেখি দুঃস্বপ্নের ছায়া
পুড়েছে তাদের স্বপ্নের ফাগুন,
চোখে ভাঙা ভোরের কান্না,
বুকে কেবল নিস্তেজ আগুন।
বঞ্চিত হৃদয়ের আর্তনাদ
ধাক্কা খায় নিষ্ঠুর দেওয়ালে—
অভিযোগ যত জমা হয় সব
মৃত বিবেকের কফিনে৷
তারা বিভোর আপন মহিমায়—
শুধু শোনে গম্বুজের ঘন্টার রব,
সোনার পাতায় খোদাই করে
ভবিষ্যতের ভ্রান্ত গৌরব।
*********************
কবি জয়দেব মণ্ডল
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৬.২০২৫।
ঐ দেখা যায় আকাশচুম্বী গম্বুজ
গর্বোদ্ধত ক্ষমতার স্মারক,
স্বর্ণাক্ষরে খচিত নাম
শত শতাব্দীর স্মৃতির ফলক৷
গম্বুজের নিচে দেখি দুঃস্বপ্নের ছায়া
পুড়েছে তাদের স্বপ্নের ফাগুন,
চোখে ভাঙা ভোরের কান্না,
বুকে কেবল নিস্তেজ আগুন।
বঞ্চিত হৃদয়ের আর্তনাদ
ধাক্কা খায় নিষ্ঠুর দেওয়ালে—
অভিযোগ যত জমা হয় সব
মৃত বিবেকের কফিনে৷
তারা বিভোর আপন মহিমায়—
শুধু শোনে গম্বুজের ঘন্টার রব,
সোনার পাতায় খোদাই করে
ভবিষ্যতের ভ্রান্ত গৌরব।
*********************
ক্ষমতার পদলেহী
কবি জয়দেব মণ্ডল
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৬.২০২৫।
পারতো যারা সমাজটাকে সুস্থ ভাবে গড়তে
ঘুচিয়ে কালো মানব মনে আলোর শিখা জ্বালতে,
দায় ছিলো যা’র ন্যায় বিচারে করতে প্রজার রক্ষা
দেখছি তাদের শিড়দাঁড়াতে হয়েছে বিষম যক্ষা।
মানবতা বিক্রি করে, তাদের বিবেক ঢাকা বর্মে
টাকার লোভে হচ্ছে সাথি দুষ্কৃতীদের কর্মে৷
মানুষ হয়ে খাচ্ছে মানুষ, দেখছে চোখের সামনে
মুখ বুজে থাকছে তারা, আবার কেউ বা সমর্থনে।
হতে পারে অনেক বড়, অনেক গুণের সমাহার
অন্যায় দেখে অন্যায় বলার সাহস থাকে না যার,
শিরদাঁড়াটা বাঁকা নিয়ে যারা পদলেহী ক্ষমতার
মানুষের মুখোশে শয়তান, করো তাদের পরিহার।
জনগণ তাই জাগো এবার, করো দূর ভয়
শিরদাঁড়াটা সোজা করে ছিনিয়ে নাও জয়৷
হয়ে থেকো না সরিসৃপ, কেড়ে নাও অধিকার
আলোর খোঁজে নামো পথে, ঘুচাও অন্ধকার।
*********************
কবি জয়দেব মণ্ডল
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৬.২০২৫।
পারতো যারা সমাজটাকে সুস্থ ভাবে গড়তে
ঘুচিয়ে কালো মানব মনে আলোর শিখা জ্বালতে,
দায় ছিলো যা’র ন্যায় বিচারে করতে প্রজার রক্ষা
দেখছি তাদের শিড়দাঁড়াতে হয়েছে বিষম যক্ষা।
মানবতা বিক্রি করে, তাদের বিবেক ঢাকা বর্মে
টাকার লোভে হচ্ছে সাথি দুষ্কৃতীদের কর্মে৷
মানুষ হয়ে খাচ্ছে মানুষ, দেখছে চোখের সামনে
মুখ বুজে থাকছে তারা, আবার কেউ বা সমর্থনে।
হতে পারে অনেক বড়, অনেক গুণের সমাহার
অন্যায় দেখে অন্যায় বলার সাহস থাকে না যার,
শিরদাঁড়াটা বাঁকা নিয়ে যারা পদলেহী ক্ষমতার
মানুষের মুখোশে শয়তান, করো তাদের পরিহার।
জনগণ তাই জাগো এবার, করো দূর ভয়
শিরদাঁড়াটা সোজা করে ছিনিয়ে নাও জয়৷
হয়ে থেকো না সরিসৃপ, কেড়ে নাও অধিকার
আলোর খোঁজে নামো পথে, ঘুচাও অন্ধকার।
*********************
অনাহুত অতিথি
কবি জয়দেব মণ্ডল
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৬.২০২৫।
মৃত্যু কারো সাথে কথা বলে না,
বলে না— “আমি আসছি”,
সে আসে নিঃশব্দে, হঠাৎ,
ঠিক তখন, যখন কেউ ভাবে না।
কে কখন কোথায়, কোন কোণায়
শেষ নিঃশ্বাস ফেলবে—
তা জানে না কেউ।
আমেদাবাদে উড়লো ড্রিমলাইনার,
মাত্র তিরিশ সেকেন্ডেই ভেসে এলো "Mayday!"—
ইঞ্জিন বিকল, গিয়ার বন্ধ,
রানওয়ের ছোঁয়া পেল না।
থেমে গেল কত শত ভবিষ্যৎ।
স্তব্ধ হয়ে গেল প্রাণের মিছিল,
২৪১টি তরতাজা মুখ—
একসঙ্গে দাউদাউ আগুনে হলো নিঃশেষ।
কি বিভৎস, কত অসহনীয়—
হৃদয় বিদারক ছিল সেই ক্ষণ,
অকাল মৃত্যু নিঃশব্দে এল
দাহ করল কতো জীবন-স্বপ্ন-মন!
কত ভঙ্গুর, কত ক্ষণস্থায়ী আমাদের জীবন,
কেউ জানি না, আগামী কালের সূর্যোদয়
দেখতে পাবো কিনা,
কখন নেমে আসবে জীবনের যবনিকা।
তবে কিসের এত লোভ, এত দ্বন্দ্ব?
হিংসা-বিদ্বেষ, অহঙ্কার,
ক্ষুদ্র এই জীবনে কিসের এত আয়োজন,
আত্মম্ভরিতায় পরিপূর্ণ কেন এই দম্ভ৷
মানুষের জীবন কত অনিশ্চিত,
মৃত্যুর কাছে কত অসহায় আমরা।
তবু মানুষ—
নিজেকে ভাবে মৃত্যুঞ্জয়,
অমরত্বের মিথ্যে আয়নায় দেখে
নিজের প্রতিচ্ছবি, দেবতার মতো।
“একবিংশ শতাব্দীতে শোকের আয়ু
বড়জোর মাসখানেক”—
তারপর আমরা হারিয়ে যাই,
বিস্মৃতির অন্ধকার গহ্বরে৷
থেকে যায় কেবল—
অবিনশ্বর কর্মের ইতিহাস।
*********************
কবি জয়দেব মণ্ডল
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৬.২০২৫।
মৃত্যু কারো সাথে কথা বলে না,
বলে না— “আমি আসছি”,
সে আসে নিঃশব্দে, হঠাৎ,
ঠিক তখন, যখন কেউ ভাবে না।
কে কখন কোথায়, কোন কোণায়
শেষ নিঃশ্বাস ফেলবে—
তা জানে না কেউ।
আমেদাবাদে উড়লো ড্রিমলাইনার,
মাত্র তিরিশ সেকেন্ডেই ভেসে এলো "Mayday!"—
ইঞ্জিন বিকল, গিয়ার বন্ধ,
রানওয়ের ছোঁয়া পেল না।
থেমে গেল কত শত ভবিষ্যৎ।
স্তব্ধ হয়ে গেল প্রাণের মিছিল,
২৪১টি তরতাজা মুখ—
একসঙ্গে দাউদাউ আগুনে হলো নিঃশেষ।
কি বিভৎস, কত অসহনীয়—
হৃদয় বিদারক ছিল সেই ক্ষণ,
অকাল মৃত্যু নিঃশব্দে এল
দাহ করল কতো জীবন-স্বপ্ন-মন!
কত ভঙ্গুর, কত ক্ষণস্থায়ী আমাদের জীবন,
কেউ জানি না, আগামী কালের সূর্যোদয়
দেখতে পাবো কিনা,
কখন নেমে আসবে জীবনের যবনিকা।
তবে কিসের এত লোভ, এত দ্বন্দ্ব?
হিংসা-বিদ্বেষ, অহঙ্কার,
ক্ষুদ্র এই জীবনে কিসের এত আয়োজন,
আত্মম্ভরিতায় পরিপূর্ণ কেন এই দম্ভ৷
মানুষের জীবন কত অনিশ্চিত,
মৃত্যুর কাছে কত অসহায় আমরা।
তবু মানুষ—
নিজেকে ভাবে মৃত্যুঞ্জয়,
অমরত্বের মিথ্যে আয়নায় দেখে
নিজের প্রতিচ্ছবি, দেবতার মতো।
“একবিংশ শতাব্দীতে শোকের আয়ু
বড়জোর মাসখানেক”—
তারপর আমরা হারিয়ে যাই,
বিস্মৃতির অন্ধকার গহ্বরে৷
থেকে যায় কেবল—
অবিনশ্বর কর্মের ইতিহাস।
*********************
প্রত্যাঘাত
কবি জয়দেব মণ্ডল
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৬.২০২৫।
কখনো আঘাত দিয়েছো যদি,
ভেঙেছো কারো মন-
ফিরে পাবে সে আঘাত জেনো,
বিধির বিধান চিরন্তন৷
ভালোবাসা দিলে আসবে ভালোবাসা,
ঘৃণার বদলে ঘৃণা,
আশাহত হয়ে খুঁজবে যেদিন প্রেম,
সেদিন উঠবে শুধু ফেনা।
জীবন তো এক প্রতিচ্ছবি,
তাই যা দাও, তাই ফিরে আসে,
ছুঁড়লে পাথর, ফিরবে আঘাত
গোলাপ দিলে আসবে ভালোবেসে৷
অন্যের ব্যথায় হাসলে যদি,
ফিরে পাবে দ্বিগুণ কষ্ট,
তোমার চোখেও নামবে অশ্রু,
বুঝবে সেদিন জীবন নষ্ট
যদি তুলেছো ঝড় হৃদয়ে কারো,
বজ্র পড়বে তোমার শিরে,
ছলনার জাল বুনেছ যদি,
সেই ফাঁদে পড়বে ঘুরে ফিরে।
তাই বলি হে মানব সবে,
বাঁচো ভালোবাসার বীজ বুনে৷
জীবন একদিন ফেরত দেবে,
তোমার দেওয়া হিসাব গুণে গুণে।
*********************
কবি জয়দেব মণ্ডল
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৬.২০২৫।
কখনো আঘাত দিয়েছো যদি,
ভেঙেছো কারো মন-
ফিরে পাবে সে আঘাত জেনো,
বিধির বিধান চিরন্তন৷
ভালোবাসা দিলে আসবে ভালোবাসা,
ঘৃণার বদলে ঘৃণা,
আশাহত হয়ে খুঁজবে যেদিন প্রেম,
সেদিন উঠবে শুধু ফেনা।
জীবন তো এক প্রতিচ্ছবি,
তাই যা দাও, তাই ফিরে আসে,
ছুঁড়লে পাথর, ফিরবে আঘাত
গোলাপ দিলে আসবে ভালোবেসে৷
অন্যের ব্যথায় হাসলে যদি,
ফিরে পাবে দ্বিগুণ কষ্ট,
তোমার চোখেও নামবে অশ্রু,
বুঝবে সেদিন জীবন নষ্ট
যদি তুলেছো ঝড় হৃদয়ে কারো,
বজ্র পড়বে তোমার শিরে,
ছলনার জাল বুনেছ যদি,
সেই ফাঁদে পড়বে ঘুরে ফিরে।
তাই বলি হে মানব সবে,
বাঁচো ভালোবাসার বীজ বুনে৷
জীবন একদিন ফেরত দেবে,
তোমার দেওয়া হিসাব গুণে গুণে।
*********************
