কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
প্রত্নতাত্ত্বিক
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
আমি প্রত্নতাত্ত্বিকের মতো
এই শহরের অববাহিকায়
খুঁড়ে চলেছি শব্দের ভিতগুলি,
শিকারী গোষ্ঠীর হানায়
হারিয়ে যাওয়া উঠোন
আর থরে থরে সাজানো রুপকথাগুলি
এখন হরপ্পার পাশে বসে আছে।
মনে হচ্ছে করোটিগুলো
এখনি কথা বলে উঠবে।
*********************
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
আমি প্রত্নতাত্ত্বিকের মতো
এই শহরের অববাহিকায়
খুঁড়ে চলেছি শব্দের ভিতগুলি,
শিকারী গোষ্ঠীর হানায়
হারিয়ে যাওয়া উঠোন
আর থরে থরে সাজানো রুপকথাগুলি
এখন হরপ্পার পাশে বসে আছে।
মনে হচ্ছে করোটিগুলো
এখনি কথা বলে উঠবে।
*********************
সময় এখন
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
নিঃস্তব্ধ কারশেডে দাঁড়িয়ে আছে হতভম্ব ট্রেন,
দিশেহারা সময় নিশ্চুপে সিগন্যালের প্রতীক্ষায় অধীর,
উৎসুক প্যাসেঞ্জারেরা ছটফট করছে সিট ছেড়ে
আমি বসে আছি তোমার ঠোঁটের কার্নিশে,
ক্ষুধার পালকিতে চড়ে আসছে স্বপ্নের পাঁওরুটিওয়ালা
রোবোটের পৃথিবীটা থমকে আছে।
হাত মুঠো করে নিয়েছি মতিচ্ছন্ন ভালোবাসা
না জানি কতদিন চলতে হবে এই আঁজলায় ভর করে,
কতদিন পরে আবার সিন্দাবাদের মতো ঘুরি,
খুঁজে ফিরে পাই মনখারাপের কালো তিল,
স্তব্ধ ট্রেনের এই বন্ধ কামরায়
তুমি গলা ছেড়ে গাইছো ইমনকল্যান।
এক অদ্ভুত যন্ত্রনার মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা,
বেপরোয়া যুবতীগুলো আর ছায়া ছায়া আইনক্স
এসব ছাপিয়ে বড়ো হয় আলুসিদ্ধ আর ফেনাভাত,
খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে সময় নতুনরুপে
বছরের জন্মদিনের গন্ধ শুঁকতে এসেছে
এই গ্রহের পিঁপড়েগুলো চিনির টাটকা আঘ্রানে।
*********************
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
নিঃস্তব্ধ কারশেডে দাঁড়িয়ে আছে হতভম্ব ট্রেন,
দিশেহারা সময় নিশ্চুপে সিগন্যালের প্রতীক্ষায় অধীর,
উৎসুক প্যাসেঞ্জারেরা ছটফট করছে সিট ছেড়ে
আমি বসে আছি তোমার ঠোঁটের কার্নিশে,
ক্ষুধার পালকিতে চড়ে আসছে স্বপ্নের পাঁওরুটিওয়ালা
রোবোটের পৃথিবীটা থমকে আছে।
হাত মুঠো করে নিয়েছি মতিচ্ছন্ন ভালোবাসা
না জানি কতদিন চলতে হবে এই আঁজলায় ভর করে,
কতদিন পরে আবার সিন্দাবাদের মতো ঘুরি,
খুঁজে ফিরে পাই মনখারাপের কালো তিল,
স্তব্ধ ট্রেনের এই বন্ধ কামরায়
তুমি গলা ছেড়ে গাইছো ইমনকল্যান।
এক অদ্ভুত যন্ত্রনার মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা,
বেপরোয়া যুবতীগুলো আর ছায়া ছায়া আইনক্স
এসব ছাপিয়ে বড়ো হয় আলুসিদ্ধ আর ফেনাভাত,
খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে সময় নতুনরুপে
বছরের জন্মদিনের গন্ধ শুঁকতে এসেছে
এই গ্রহের পিঁপড়েগুলো চিনির টাটকা আঘ্রানে।
*********************
একটি বিফল প্রচেষ্টার কাহিনী
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
হে সূর্য তোমাকে তির্যক গড়িয়ে দিয়েছিলাম
কয়েক শতাব্দী আগে একটু রোদের লোভে ;
সেই মহাজনী আলো সরকারি অনুদানের মতোই
আটকে আছে মহাশূন্যের গহ্বরে ;
ফলতঃ ন্যাতানো পৃথিবীতে কাপুরুষ বেড়ে চলেছে।
আঁকশি দিয়ে যে পেড়ে নেবো ঝুলে থাকা রোদ্দুর
গাভীন মেঘের ভিতর থেকে সে সম্ভাবনাও নেই,
এখন কাটা কাটা রোদ্দুর আর ছেঁড়া ছেঁড়া ছায়ার
জোব্বা জার্সি পরে নেচে চলেছে ব্যাঙগুলো
তবু যদি আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখতো !
*********************
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
হে সূর্য তোমাকে তির্যক গড়িয়ে দিয়েছিলাম
কয়েক শতাব্দী আগে একটু রোদের লোভে ;
সেই মহাজনী আলো সরকারি অনুদানের মতোই
আটকে আছে মহাশূন্যের গহ্বরে ;
ফলতঃ ন্যাতানো পৃথিবীতে কাপুরুষ বেড়ে চলেছে।
আঁকশি দিয়ে যে পেড়ে নেবো ঝুলে থাকা রোদ্দুর
গাভীন মেঘের ভিতর থেকে সে সম্ভাবনাও নেই,
এখন কাটা কাটা রোদ্দুর আর ছেঁড়া ছেঁড়া ছায়ার
জোব্বা জার্সি পরে নেচে চলেছে ব্যাঙগুলো
তবু যদি আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখতো !
*********************
এক অনন্ত পথচলা
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
॥ মাতৃভাষার সম্মানে শ্রদ্ধার্ঘ্য॥
অনন্তকাল ধরে হেঁটে চলেছি
তোমার এলোমেলো আঁচল ধরে
তোমার বুক জুড়ে নদীর চঞ্চলতা
তোমার চোখে কাঞ্চনজংঘার উদ্ভাস
অনন্তকাল ধরে তোমার বর্ণমালার প্রেমে
আমি স্বর্গকে করেছি প্রত্যাখান ;
স্বর্গের দেবতারা আমাকে এবং
আমার বহু পূর্বসূরীদের না পেয়ে
বিলাপ করেছে বারবার।
একথা সকলেরই জানা
এই বাংলার মাটি আর নদী
এখানের আকাশ, জঙ্গল আর পল্লীগীতি
বাংলার ভাষা আর সংস্কৃতি
যেকোন স্বর্গের চেয়েও সুমহান।
আমি এখনও খালি পায়ে হাঁটি
আমার মাথার উপর ঝরে ঝরে পড়ে
পলাশ, শিউলি আর মাধবীলতা
দূর থেকে সমুদ্রতট হাতছানি দেয়
কৃত্তিবাস,কাশীরামের কন্ঠস্বর ভেসে আসে
ভেসে আসে মেঘনাদ বধ পাঠ
ভেসে আসে রামপ্রসাদী সুর
আর লালনের চক্রাকার অবিনাশী গান।
আমাদের বাঙালিয়ানা আকাশে
সূর্য মানে যেমন রবির আলো
তেমনি ধূমকেতু হয়েও চির উজ্জ্বল নজরুল
আমাদের একটা ধানসিঁড়ি নদী আছে
সেখানে মুখোমুখি বসে থাকে জীবনানন্দ
আমাদের আছে প্রতিবাদের কল্লোল
আছে কৃত্তিবাস, নিম আর রুদ্র,
আমাদের আছে সেরার সেরা মুজিবর
আর সবার উপর বিদ্যাসাগর
আমরা আলোয় আলোয় ভরপুর।
তাই এখনও অনন্ত হেঁটে চলি
ডুয়ার্স থেকে চট্টগ্রাম
জয়দেব থেকে সিলেট
সুন্দরবন থেকে আগরতলা,
যেখানেই বাংলায় কথা বলা
সেখানেই আমার বাংলা
গর্বিত হয়ে জন্মেছি,গর্বে ভরে আছে বুক
বাংলায় নিয়েছি জন্ম, এই সবচেয়ে বড়ো সুখ।
*********************
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
॥ মাতৃভাষার সম্মানে শ্রদ্ধার্ঘ্য॥
অনন্তকাল ধরে হেঁটে চলেছি
তোমার এলোমেলো আঁচল ধরে
তোমার বুক জুড়ে নদীর চঞ্চলতা
তোমার চোখে কাঞ্চনজংঘার উদ্ভাস
অনন্তকাল ধরে তোমার বর্ণমালার প্রেমে
আমি স্বর্গকে করেছি প্রত্যাখান ;
স্বর্গের দেবতারা আমাকে এবং
আমার বহু পূর্বসূরীদের না পেয়ে
বিলাপ করেছে বারবার।
একথা সকলেরই জানা
এই বাংলার মাটি আর নদী
এখানের আকাশ, জঙ্গল আর পল্লীগীতি
বাংলার ভাষা আর সংস্কৃতি
যেকোন স্বর্গের চেয়েও সুমহান।
আমি এখনও খালি পায়ে হাঁটি
আমার মাথার উপর ঝরে ঝরে পড়ে
পলাশ, শিউলি আর মাধবীলতা
দূর থেকে সমুদ্রতট হাতছানি দেয়
কৃত্তিবাস,কাশীরামের কন্ঠস্বর ভেসে আসে
ভেসে আসে মেঘনাদ বধ পাঠ
ভেসে আসে রামপ্রসাদী সুর
আর লালনের চক্রাকার অবিনাশী গান।
আমাদের বাঙালিয়ানা আকাশে
সূর্য মানে যেমন রবির আলো
তেমনি ধূমকেতু হয়েও চির উজ্জ্বল নজরুল
আমাদের একটা ধানসিঁড়ি নদী আছে
সেখানে মুখোমুখি বসে থাকে জীবনানন্দ
আমাদের আছে প্রতিবাদের কল্লোল
আছে কৃত্তিবাস, নিম আর রুদ্র,
আমাদের আছে সেরার সেরা মুজিবর
আর সবার উপর বিদ্যাসাগর
আমরা আলোয় আলোয় ভরপুর।
তাই এখনও অনন্ত হেঁটে চলি
ডুয়ার্স থেকে চট্টগ্রাম
জয়দেব থেকে সিলেট
সুন্দরবন থেকে আগরতলা,
যেখানেই বাংলায় কথা বলা
সেখানেই আমার বাংলা
গর্বিত হয়ে জন্মেছি,গর্বে ভরে আছে বুক
বাংলায় নিয়েছি জন্ম, এই সবচেয়ে বড়ো সুখ।
*********************
সন্ত্রস্ত এ সময়
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
নিতান্ত নোংরা জামাকাপড় পরে
থাকতে বাধ্য হচ্ছি এখন
আমার ধোবাটি দোকান বন্ধ করে
অন্য সহজ পেশা বেছে নিয়েছে,
নোংরা দাগ তুলে ইস্ত্রী করা
বড়ো সহজ কথা নয় ;
এই প্রতিবন্ধী সময়ে টিকে থাকাটাই সমস্যা
ক্লিওপেট্রার অনন্ত নাভির ভিতর হেঁটে চলেছি
দিনরাত্রি দশক শতাব্দীর হিসেব ভুলে বেভুলে
তবু ওষ্ঠে তৃষ্ণা আর বুকে আর্তি
এখনও কি সময়ের সন্ধিক্ষণে
তৃপ্ত হয়নি? হয়নি কি অপার তৃপ্ত?
*********************
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
নিতান্ত নোংরা জামাকাপড় পরে
থাকতে বাধ্য হচ্ছি এখন
আমার ধোবাটি দোকান বন্ধ করে
অন্য সহজ পেশা বেছে নিয়েছে,
নোংরা দাগ তুলে ইস্ত্রী করা
বড়ো সহজ কথা নয় ;
এই প্রতিবন্ধী সময়ে টিকে থাকাটাই সমস্যা
ক্লিওপেট্রার অনন্ত নাভির ভিতর হেঁটে চলেছি
দিনরাত্রি দশক শতাব্দীর হিসেব ভুলে বেভুলে
তবু ওষ্ঠে তৃষ্ণা আর বুকে আর্তি
এখনও কি সময়ের সন্ধিক্ষণে
তৃপ্ত হয়নি? হয়নি কি অপার তৃপ্ত?
*********************
অনুতাপহীন সময়ের কবিতা
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
আমার একটা ছোটবেলার বন্ধু ছিল
ওর নাম ছিল বিকেল,
বহুদিন ওর সাথে দেখা নেই,
কোথায় চলে গেছে জানি না,
এখন মনে হয় নরওয়েতে আছি,
সারাক্ষণ টিউবলাইট জ্বলে ঘরে
জানালায় শাটার লেগেছে।
ছোটবেলায় আমার এক বন্ধু ছিল
ওর নাম ছিল রাত্রি
এখন রাত হয় কিন্ত রাত্রি আসে না
রাতের গায়ে কয়েকটা চাদর থাকার কথা
এখন উদোম হয়ে গেছে সেসব,
রাতভর এত সরবতায় ঝিঁঝিরা আসেনা
এখন রাত্রির সন্ধানে আমার হাতে লন্ঠন।
স্কুলবেলাতে আমার বন্ধু ছিল প্রত্যুষ
দুজনে মিলে দেদার দুষ্টুমি করে মার খেতাম
এখন শাস্তি দেবার আর কেউ নেই
সব ছোটরা নাকি বড়ো হয়ে গেছে!
প্রত্যুষও চলে গেছে ঠিকানাহীন খোলসে
আমাদের দাপাদাপি করার পুকুরে সাতমহলা
আমাদের স্কুলে আজ মিড ডে মিল আর ডিজে।
*********************
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
আমার একটা ছোটবেলার বন্ধু ছিল
ওর নাম ছিল বিকেল,
বহুদিন ওর সাথে দেখা নেই,
কোথায় চলে গেছে জানি না,
এখন মনে হয় নরওয়েতে আছি,
সারাক্ষণ টিউবলাইট জ্বলে ঘরে
জানালায় শাটার লেগেছে।
ছোটবেলায় আমার এক বন্ধু ছিল
ওর নাম ছিল রাত্রি
এখন রাত হয় কিন্ত রাত্রি আসে না
রাতের গায়ে কয়েকটা চাদর থাকার কথা
এখন উদোম হয়ে গেছে সেসব,
রাতভর এত সরবতায় ঝিঁঝিরা আসেনা
এখন রাত্রির সন্ধানে আমার হাতে লন্ঠন।
স্কুলবেলাতে আমার বন্ধু ছিল প্রত্যুষ
দুজনে মিলে দেদার দুষ্টুমি করে মার খেতাম
এখন শাস্তি দেবার আর কেউ নেই
সব ছোটরা নাকি বড়ো হয়ে গেছে!
প্রত্যুষও চলে গেছে ঠিকানাহীন খোলসে
আমাদের দাপাদাপি করার পুকুরে সাতমহলা
আমাদের স্কুলে আজ মিড ডে মিল আর ডিজে।
*********************
রসাতল যাত্রা
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
অনন্ত এক গিরিখাতের দিকে ছুটে চলেছি
স্পাইরালি মুভমেন্টে চলেছি সবাই,
এক বুক চাঁদে ডুবে আছে রাতের ময়ূরাক্ষী
দিন দিন জল কমছে তার
তবু এরকম কষ্ট দিনেও
তারাদের সাথে নদীর অভিসার হয়
মানুষদের প্রতিনিয়ত অতলে তলিয়ে যাওয়া নিয়ে আক্ষেপ করে তারাও।
সন্ত্রাসবাদী ট্রাক্টর ছিঁড়ে দিচ্ছে নদীর মায়াজাল
শামুকগুলো আরো মজবুত খোলের ভিতর
চারিদিক জুড়ে এতো ভয়ানক কলরব!
নিরবতার সন্ধানে পরিব্রাজক হয়েছি,
স্তব্ধীভূত এক সভ্যতার অস্তাচলে
যাবার আগে একটুকু নিরবিচ্ছিন্ন বিশ্রাম
পাবার জন্য শৈশবের গ্রামে কৈশোরের
সরোবরে কেটেছি ডুবসাঁতার,
দেখেছি গর্ভবতী নদী লালসাময়
সভ্যতার জন্ম দেয়।
বড়ো যন্ত্রণায় আছে ময়ূরাক্ষী,
গিরিখাত বেয়ে অসভ্য মানুষগুলো
তার বুকের ভিতর দলে দলে তলিয়ে যাচ্ছে।
*********************
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
অনন্ত এক গিরিখাতের দিকে ছুটে চলেছি
স্পাইরালি মুভমেন্টে চলেছি সবাই,
এক বুক চাঁদে ডুবে আছে রাতের ময়ূরাক্ষী
দিন দিন জল কমছে তার
তবু এরকম কষ্ট দিনেও
তারাদের সাথে নদীর অভিসার হয়
মানুষদের প্রতিনিয়ত অতলে তলিয়ে যাওয়া নিয়ে আক্ষেপ করে তারাও।
সন্ত্রাসবাদী ট্রাক্টর ছিঁড়ে দিচ্ছে নদীর মায়াজাল
শামুকগুলো আরো মজবুত খোলের ভিতর
চারিদিক জুড়ে এতো ভয়ানক কলরব!
নিরবতার সন্ধানে পরিব্রাজক হয়েছি,
স্তব্ধীভূত এক সভ্যতার অস্তাচলে
যাবার আগে একটুকু নিরবিচ্ছিন্ন বিশ্রাম
পাবার জন্য শৈশবের গ্রামে কৈশোরের
সরোবরে কেটেছি ডুবসাঁতার,
দেখেছি গর্ভবতী নদী লালসাময়
সভ্যতার জন্ম দেয়।
বড়ো যন্ত্রণায় আছে ময়ূরাক্ষী,
গিরিখাত বেয়ে অসভ্য মানুষগুলো
তার বুকের ভিতর দলে দলে তলিয়ে যাচ্ছে।
*********************
মৃত্যুবাণ
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
শতাব্দী ধরে গাছেদের পরিবার
এখানেই ডালপালা মেলে ছেয়ে ছিল
নিভৃত গাছনগরী এক ;
আজ সেখানেই এসি,কুলারের কারখানায়
কাজ করে আমার সন্তান
হয়তো এখানেই আম-কাঁঠালের
গলা জড়াজড়ির ভালোবাসাতলায়
প্রপিতামহেরা করতো হুটোপুটি,
এখানেই প্রপিতামহীকে দিয়েছিল প্রথম প্রেম ;
সেই বনে যেখানে পাওয়া যেত
শব্দের ছায়া আর মাতাল জ্যোৎস্না
আহা, চাঁদেরা শয়ে শয়ে ডুব দিত
রাতের পুকুরে
সেইসব মাতৃগর্ভ অরণ্যেরা বন্ধ্যা আজ।
হে বৃক্ষ পরিবার, তুমি কি পরাজিত?
ওহে গর্বিত গর্ভ হীন সভ্যতা, তুমি কি বিজয়ী?
তবে কেন মোনালিসা হাসি অরণ্যর চোখে?
দৃষ্টিহীন, দর্শন হীন গলিত স্থবির সভ্যতা
উল্লাসে খেয়ে চলেছে নিজেরই শবদেহ।
অরণ্যর অযুত অগ্নিবাণ ছুটে আসছে আমাদের দিকে
এক মহাপ্রলয়ের অপেক্ষায় আছি।
*********************
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
শতাব্দী ধরে গাছেদের পরিবার
এখানেই ডালপালা মেলে ছেয়ে ছিল
নিভৃত গাছনগরী এক ;
আজ সেখানেই এসি,কুলারের কারখানায়
কাজ করে আমার সন্তান
হয়তো এখানেই আম-কাঁঠালের
গলা জড়াজড়ির ভালোবাসাতলায়
প্রপিতামহেরা করতো হুটোপুটি,
এখানেই প্রপিতামহীকে দিয়েছিল প্রথম প্রেম ;
সেই বনে যেখানে পাওয়া যেত
শব্দের ছায়া আর মাতাল জ্যোৎস্না
আহা, চাঁদেরা শয়ে শয়ে ডুব দিত
রাতের পুকুরে
সেইসব মাতৃগর্ভ অরণ্যেরা বন্ধ্যা আজ।
হে বৃক্ষ পরিবার, তুমি কি পরাজিত?
ওহে গর্বিত গর্ভ হীন সভ্যতা, তুমি কি বিজয়ী?
তবে কেন মোনালিসা হাসি অরণ্যর চোখে?
দৃষ্টিহীন, দর্শন হীন গলিত স্থবির সভ্যতা
উল্লাসে খেয়ে চলেছে নিজেরই শবদেহ।
অরণ্যর অযুত অগ্নিবাণ ছুটে আসছে আমাদের দিকে
এক মহাপ্রলয়ের অপেক্ষায় আছি।
*********************
সময়বৃত্তে এক মূক বটগাছ
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
সহস্র বছর ধরে মূক দর্শক
হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক বটগাছ
নদীর বয়সী এক মাঠের মাঝে,
ধূ ধূ রোদে গড়াগড়ি খেতে খেতে
মাঠ একদিন পাল্টে গেল শস্যক্ষেতে,
রঙিন রোদমাখা সকালে
পাখিদের গান শুনতে এলো নদী
তখনও যাবতীয় গাম্ভীর্য নিয়ে
বসেছিল অসমবয়সী বটগাছ
আর অবিন্যস্ত সেই শস্যক্ষেতের এলোচুলে
দখিনা বাতাস তার লোভী আঙুল
দিয়ে লিখেছিলো নতুন গল্প ;
কিন্ত বৃত্তকাল পরেই সেই মাঠ
পাল্টে গেল কারখানায়,
দখিনা বাতাস তখন কবিতা ছেড়ে গল্প লিখছে
সময় পাল্টালে অনেক কিছুই পাল্টে যায়,
জীবন জটিল থেকে জটিলতর হয়,
ধীরে ধীরে কারখানাটা পাল্টে কবরখানা হয়
মাঠজূড়ে হাহাকারের শূন্যতা
কারখানার কবরখানায় রোদ আসে না
এক এপিটাফের সাক্ষী মূক বটগাছ।
*********************
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
সহস্র বছর ধরে মূক দর্শক
হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক বটগাছ
নদীর বয়সী এক মাঠের মাঝে,
ধূ ধূ রোদে গড়াগড়ি খেতে খেতে
মাঠ একদিন পাল্টে গেল শস্যক্ষেতে,
রঙিন রোদমাখা সকালে
পাখিদের গান শুনতে এলো নদী
তখনও যাবতীয় গাম্ভীর্য নিয়ে
বসেছিল অসমবয়সী বটগাছ
আর অবিন্যস্ত সেই শস্যক্ষেতের এলোচুলে
দখিনা বাতাস তার লোভী আঙুল
দিয়ে লিখেছিলো নতুন গল্প ;
কিন্ত বৃত্তকাল পরেই সেই মাঠ
পাল্টে গেল কারখানায়,
দখিনা বাতাস তখন কবিতা ছেড়ে গল্প লিখছে
সময় পাল্টালে অনেক কিছুই পাল্টে যায়,
জীবন জটিল থেকে জটিলতর হয়,
ধীরে ধীরে কারখানাটা পাল্টে কবরখানা হয়
মাঠজূড়ে হাহাকারের শূন্যতা
কারখানার কবরখানায় রোদ আসে না
এক এপিটাফের সাক্ষী মূক বটগাছ।
*********************
অপার্থিব লোভ
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
নদীর পাড়ে বসে আছে এক অনিচ্ছুক সকাল
ক্যাজুয়ালি বিড়ি ফুঁকে যাচ্ছে সে,
উপায় নেই তাই বয়েই যেতে হচ্ছে নদীকে,
মাছের ঝাঁক ভেসে আসছে অনেক টেনশনে
একটু বাদেই মুখোমুখি হবে দুই যুযুধান
ব্যাস্ত রাজপথের পাশে একা বিষন্ন ফুটপাথ
অকাল বার্ধক্যের বলিরেখায় জর্জরিত
ময়ুরের নৃত্যে সবাই বিমোহিত হলেও
কেউ কেউ তার নখের আওতা থেকে দূরে থাকে,
কয়েক বছর অন্তর আমরা নিজেরাই
নিজেদের উত্তরাধিকার হারিয়ে ফেলছি
নৌকার ভিতর ঢুকছে নোনা জল
উদ্ভ্রান্ত সমুদ্রের মধ্যে বসে দেখছি
একটি একটি করে তারা নিহত হচ্ছে।
প্রপিতামহ নাকি তার পূর্বসূরীদের কাছে শুনেছিলেন
এই পথের শেষেই কোথাও আছে চাঁদের ভিটে
সেখানে পাতায় মোড়া বাড়িতে চাঁদের আলো
সেখানে নাকি রাজা নেই
তাই রাজপথও নেই
ফুটপাথে নাকি শুয়ে থাকে বিশু পন্ডিত ও রতন কাহার।
সেই ঠিকানায় যাবো বলে তাই
নৌকা বেয়ে চলেছি
ধূলো মেখে চলেছি
রক্তাক্ত হয়েও চলেছি
চতুর্থ রিপু যে বড়ো বলবান।
*********************
কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৬.২০২৫।
নদীর পাড়ে বসে আছে এক অনিচ্ছুক সকাল
ক্যাজুয়ালি বিড়ি ফুঁকে যাচ্ছে সে,
উপায় নেই তাই বয়েই যেতে হচ্ছে নদীকে,
মাছের ঝাঁক ভেসে আসছে অনেক টেনশনে
একটু বাদেই মুখোমুখি হবে দুই যুযুধান
ব্যাস্ত রাজপথের পাশে একা বিষন্ন ফুটপাথ
অকাল বার্ধক্যের বলিরেখায় জর্জরিত
ময়ুরের নৃত্যে সবাই বিমোহিত হলেও
কেউ কেউ তার নখের আওতা থেকে দূরে থাকে,
কয়েক বছর অন্তর আমরা নিজেরাই
নিজেদের উত্তরাধিকার হারিয়ে ফেলছি
নৌকার ভিতর ঢুকছে নোনা জল
উদ্ভ্রান্ত সমুদ্রের মধ্যে বসে দেখছি
একটি একটি করে তারা নিহত হচ্ছে।
প্রপিতামহ নাকি তার পূর্বসূরীদের কাছে শুনেছিলেন
এই পথের শেষেই কোথাও আছে চাঁদের ভিটে
সেখানে পাতায় মোড়া বাড়িতে চাঁদের আলো
সেখানে নাকি রাজা নেই
তাই রাজপথও নেই
ফুটপাথে নাকি শুয়ে থাকে বিশু পন্ডিত ও রতন কাহার।
সেই ঠিকানায় যাবো বলে তাই
নৌকা বেয়ে চলেছি
ধূলো মেখে চলেছি
রক্তাক্ত হয়েও চলেছি
চতুর্থ রিপু যে বড়ো বলবান।
*********************
