কবি মণিপদ্ম দত্তর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
হত্যাকাণ্ড
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “পরিচয়” পত্রিকার এপ্রিল, ১৯৮৮ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
দেখে এলাম এমন নারীদেহ
ভর দুপুরে, থাকে না সন্দেহ
সজ্জিত বুক, গুরু জঘন গা
কিন্তু স্পর্শ করলে কাঁপছে না।
প্রথম থেকেই ছিলাম ভয়ঙ্কর
ছুটে গেলাম সঙ্গী প্রবল জ্বর
নারী আমায় সবই মেলে দিল
একটুখানি কেঁপে উঠল না।
আমি আমায় তীব্র পিষে নিজে
ছড়িয়ে দিলাম লক্ষ লক্ষ বীজে
নামল জ্বর ক্লান্ত হল দেহ
তবু সে বীজ উপ্ত হল না।
অমন নিটোল বিলাসিনীর শবে
ছন্ন কণা মাতে না উৎসবে
সূর্য নাচে পশ্চিমা গৌরবে
একটুখানি বর্ষা এল না।
*********************
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “পরিচয়” পত্রিকার এপ্রিল, ১৯৮৮ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
দেখে এলাম এমন নারীদেহ
ভর দুপুরে, থাকে না সন্দেহ
সজ্জিত বুক, গুরু জঘন গা
কিন্তু স্পর্শ করলে কাঁপছে না।
প্রথম থেকেই ছিলাম ভয়ঙ্কর
ছুটে গেলাম সঙ্গী প্রবল জ্বর
নারী আমায় সবই মেলে দিল
একটুখানি কেঁপে উঠল না।
আমি আমায় তীব্র পিষে নিজে
ছড়িয়ে দিলাম লক্ষ লক্ষ বীজে
নামল জ্বর ক্লান্ত হল দেহ
তবু সে বীজ উপ্ত হল না।
অমন নিটোল বিলাসিনীর শবে
ছন্ন কণা মাতে না উৎসবে
সূর্য নাচে পশ্চিমা গৌরবে
একটুখানি বর্ষা এল না।
*********************
স্বপ্নকাব্য
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “কবিতা সীমান্ত” মে-জুন, ১৯৯৭ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
ধায় শক্তি ধায় শক্তি ধায় শক্তি ধায়
মর্ত্য এবং আকাশগঙ্গায়
শক্তিরে ঐ উৎস কোথায় তোর
উৎস আমার স্বপ্নের ভিতর
স্বপ্নসাগর রক্তে মারে টান
নাভিকুন্ডে আরম্ভ তার
রোদ্দুরে উত্থান
রৌদ্র তোমার আগুনবল্কল
শুষতে পারে মেঘের চোখের সমস্ত সম্বল?
সরবভুকের সন্সারে শোয় বাষ্পীভূত শব
তোমার জন্য শান্তি আমার আসন্ন বিপ্লব
পল্লবিত সবুজ পোড়ে, পুড়ুক না ছারখার
দিকচক্রে পুঞ্জিভূত অন্ধ অহংকার
অহংকারের ফণায় দোলে পাথর সম্মোহিনী
ধংসনারী অনন্তকাল এমনি করেই চিনি।
আয় শক্তি আয় শক্তি আয় শক্তি আয়
মন্ত্রপূত যন্ত্রণা ধায় আকাশগঙ্গায়।
*********************
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “কবিতা সীমান্ত” মে-জুন, ১৯৯৭ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
ধায় শক্তি ধায় শক্তি ধায় শক্তি ধায়
মর্ত্য এবং আকাশগঙ্গায়
শক্তিরে ঐ উৎস কোথায় তোর
উৎস আমার স্বপ্নের ভিতর
স্বপ্নসাগর রক্তে মারে টান
নাভিকুন্ডে আরম্ভ তার
রোদ্দুরে উত্থান
রৌদ্র তোমার আগুনবল্কল
শুষতে পারে মেঘের চোখের সমস্ত সম্বল?
সরবভুকের সন্সারে শোয় বাষ্পীভূত শব
তোমার জন্য শান্তি আমার আসন্ন বিপ্লব
পল্লবিত সবুজ পোড়ে, পুড়ুক না ছারখার
দিকচক্রে পুঞ্জিভূত অন্ধ অহংকার
অহংকারের ফণায় দোলে পাথর সম্মোহিনী
ধংসনারী অনন্তকাল এমনি করেই চিনি।
আয় শক্তি আয় শক্তি আয় শক্তি আয়
মন্ত্রপূত যন্ত্রণা ধায় আকাশগঙ্গায়।
*********************
অপুর সংসার
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি বিদ্যাসাগার বিশ্ববিদ্যলয় প্রকাশিত কবিতা সংকলন “আয়না”, ২০২৫-এ প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
রঙচটা চাদরটা জুড়ে
দখল নিয়েছে চাঁদ
কোজাগরী রাত
তবুও গভীর নিটোল ঘুমে দুই নরনারী
স্বপ্নে আসা জলপ্রপাত
নৈঃশব্দ্য কে ঘনীভূত করে ;
নিভন্ত উনুন খানি
ধুকপুক জ্বলে
অন্তরালে ইতস্তত তৈজসপত্র
বই খাতা এলোমেলো খোলা
চোরাগোপ্তা হাওয়ার দোলায়
নেচে ওঠে চাঁদের পাহাড়।
*********************
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি বিদ্যাসাগার বিশ্ববিদ্যলয় প্রকাশিত কবিতা সংকলন “আয়না”, ২০২৫-এ প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
রঙচটা চাদরটা জুড়ে
দখল নিয়েছে চাঁদ
কোজাগরী রাত
তবুও গভীর নিটোল ঘুমে দুই নরনারী
স্বপ্নে আসা জলপ্রপাত
নৈঃশব্দ্য কে ঘনীভূত করে ;
নিভন্ত উনুন খানি
ধুকপুক জ্বলে
অন্তরালে ইতস্তত তৈজসপত্র
বই খাতা এলোমেলো খোলা
চোরাগোপ্তা হাওয়ার দোলায়
নেচে ওঠে চাঁদের পাহাড়।
*********************
মাঝরাতের ফোন
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি বিদ্যাসাগার বিশ্ববিদ্যলয় প্রকাশিত কবিতা সংকলন “আয়না”, ২০২৫-এ প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
মাঝ রাতে প্রায়ই একটা ফোন আসে
অচেনা নম্বর
যাকে চায় সেও আমি নই
যত বলি এটা রঙ নম্বর
মানতেই চায় না; নাছোড় মিনতি করে
বোঝাতে পারিনা
কেন রোজ বিরক্ত করেন আমাকে?
ঐ নামে কেউই থাকে না এখানে।
তবু দুদিন পর ফের একই ক্রিং ক্রিং।
এই পুনরাবৃত্তি অবশ্যই বড় ক্লান্ত করেছে আমাকে।
চূড়ান্ত বিরক্ত হয়ে একদিন শেষে বলেই ফেলি,
বলুন, মহিম সরকার বলছি।
আমিই মহিম সরকার, বলুন।
অন্য পারে কিছু অব্যক্ত ধ্বনি, কিছু অস্ফুট উচ্চারণ,
তারপর অস্পষ্ট নীরবতা।
এক সময় ফোন কেটেও যায় ।
এর পর বন্ধ হয়ে গেছে এই হুজ্জতি।
বাঁচা গেলো
ভাবি কে এই মহিম সরকার?
কে খুঁজছে তাকে? কেনই বা? জানি না।
তবে কদিন থেকে মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গলে
অন্ধকারে বুঝতে পারি
এবার সেই মহিম সরকার খুঁজছে
আমাকে।
*********************
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি বিদ্যাসাগার বিশ্ববিদ্যলয় প্রকাশিত কবিতা সংকলন “আয়না”, ২০২৫-এ প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
মাঝ রাতে প্রায়ই একটা ফোন আসে
অচেনা নম্বর
যাকে চায় সেও আমি নই
যত বলি এটা রঙ নম্বর
মানতেই চায় না; নাছোড় মিনতি করে
বোঝাতে পারিনা
কেন রোজ বিরক্ত করেন আমাকে?
ঐ নামে কেউই থাকে না এখানে।
তবু দুদিন পর ফের একই ক্রিং ক্রিং।
এই পুনরাবৃত্তি অবশ্যই বড় ক্লান্ত করেছে আমাকে।
চূড়ান্ত বিরক্ত হয়ে একদিন শেষে বলেই ফেলি,
বলুন, মহিম সরকার বলছি।
আমিই মহিম সরকার, বলুন।
অন্য পারে কিছু অব্যক্ত ধ্বনি, কিছু অস্ফুট উচ্চারণ,
তারপর অস্পষ্ট নীরবতা।
এক সময় ফোন কেটেও যায় ।
এর পর বন্ধ হয়ে গেছে এই হুজ্জতি।
বাঁচা গেলো
ভাবি কে এই মহিম সরকার?
কে খুঁজছে তাকে? কেনই বা? জানি না।
তবে কদিন থেকে মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গলে
অন্ধকারে বুঝতে পারি
এবার সেই মহিম সরকার খুঁজছে
আমাকে।
*********************
এ শহরে
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “বাতায়ন ত্রৈসাপ্তাহিক”, অমিতাভ গুপ্ত সংখ্যা, অগাষ্ট ২০২৪-এ প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
এ শহরে জনসংখ্যার থেকে বেশি প্রতিবিম্ব বাস করে। কথাটা কিছুই তেমন জটিল নয়। ভয় পাওয়ারও কিছু নেই। কায়া প্রতি ছায়া একটি নয় এবং এক সাইজেরও নয়। আলোর স্তরভাগে এক একটা রূপ। তার পরও কথা থাকে।
ছায়ার অসুখবিসুখ ইত্যাদির উপরেও অনেকটাই নির্ভর করে। আবার যে শহরে যত বেশি কাচ তত বেশি প্রতিবিম্ব জমে। কে না জানে আমার শহর ভীষণ আয়না ভালবাসে। আয়নার ব্যবহার ও উৎপাদন দুটোই আজকাল খুব বেড়ে গেছে। প্রযুক্তি এমন আয়নাও বাজারে ছাড়ছে যাতে পছন্দমতো ছায়া দেখা যায়। বেশ কিছু প্রতিবিম্ব ব্যাজার মুখে পার্কে বাজারে সময় কাটায়। অফিস কাছারি স্কুল কলেজ বিশেষত শপিং মলের বাইরে এদের বড্ড ভিড় । প্রায় সব ভিজিটরই অন্য ছায়া হয়ে অন্দরে ঢুকতে পছন্দ করে। এতে কিছু মজাও হয়। কোন অপেক্ষমান ছায়া খানিক ভাড়া খেটে রোজগারও করে নেয়। তবে পুলিশ কিছু বিপাকে পড়েছে। সনাক্তকরণের সমস্যা বেড়েছে। অবশ্য বেশ কিছু প্রতিবিম্বহীন জনতা প্রতি শহরেই থাকে। কাজের লোক থেকে প্রাইভেট সিক্যুরিটি স্টাফ, হাজারো রোদে ভাজা ডেলিভারিম্যান ইত্যাদিদের থেকে তুলে নিয়ে কাজ চালাচ্ছে। এরা নামহীন; ফলে প্রতিবিম্বের বিলাসিতা পোষায় না। এদের যোগান হ্রাসের আশু সম্ভাবনাও নেই। কে না জানে বিকশিত ভারতের নব্বুই শতাংশ জেল কয়েদিই একদম প্রতিবিম্বহীন বনেদি গরিব! সুতরাং আদমশুমারির তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য এ ব্যাপারে সন্দেহ থাকছেই। তবে সমাজবিজ্ঞানী ও গবেষকরা এটাকে ধর্তব্যের মধ্যেই আনেন না কারণ তাঁদের পরিসংখ্যান নিয়ে কারবার। আর পরিসংখ্যান ও প্রতিবিম্বের মধ্যে যে ঝামেলা নেই বরং বেশ বোঝাপড়াই আছে এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশই বা কোথায়?
*********************
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “বাতায়ন ত্রৈসাপ্তাহিক”, অমিতাভ গুপ্ত সংখ্যা, অগাষ্ট ২০২৪-এ প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
এ শহরে জনসংখ্যার থেকে বেশি প্রতিবিম্ব বাস করে। কথাটা কিছুই তেমন জটিল নয়। ভয় পাওয়ারও কিছু নেই। কায়া প্রতি ছায়া একটি নয় এবং এক সাইজেরও নয়। আলোর স্তরভাগে এক একটা রূপ। তার পরও কথা থাকে।
ছায়ার অসুখবিসুখ ইত্যাদির উপরেও অনেকটাই নির্ভর করে। আবার যে শহরে যত বেশি কাচ তত বেশি প্রতিবিম্ব জমে। কে না জানে আমার শহর ভীষণ আয়না ভালবাসে। আয়নার ব্যবহার ও উৎপাদন দুটোই আজকাল খুব বেড়ে গেছে। প্রযুক্তি এমন আয়নাও বাজারে ছাড়ছে যাতে পছন্দমতো ছায়া দেখা যায়। বেশ কিছু প্রতিবিম্ব ব্যাজার মুখে পার্কে বাজারে সময় কাটায়। অফিস কাছারি স্কুল কলেজ বিশেষত শপিং মলের বাইরে এদের বড্ড ভিড় । প্রায় সব ভিজিটরই অন্য ছায়া হয়ে অন্দরে ঢুকতে পছন্দ করে। এতে কিছু মজাও হয়। কোন অপেক্ষমান ছায়া খানিক ভাড়া খেটে রোজগারও করে নেয়। তবে পুলিশ কিছু বিপাকে পড়েছে। সনাক্তকরণের সমস্যা বেড়েছে। অবশ্য বেশ কিছু প্রতিবিম্বহীন জনতা প্রতি শহরেই থাকে। কাজের লোক থেকে প্রাইভেট সিক্যুরিটি স্টাফ, হাজারো রোদে ভাজা ডেলিভারিম্যান ইত্যাদিদের থেকে তুলে নিয়ে কাজ চালাচ্ছে। এরা নামহীন; ফলে প্রতিবিম্বের বিলাসিতা পোষায় না। এদের যোগান হ্রাসের আশু সম্ভাবনাও নেই। কে না জানে বিকশিত ভারতের নব্বুই শতাংশ জেল কয়েদিই একদম প্রতিবিম্বহীন বনেদি গরিব! সুতরাং আদমশুমারির তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য এ ব্যাপারে সন্দেহ থাকছেই। তবে সমাজবিজ্ঞানী ও গবেষকরা এটাকে ধর্তব্যের মধ্যেই আনেন না কারণ তাঁদের পরিসংখ্যান নিয়ে কারবার। আর পরিসংখ্যান ও প্রতিবিম্বের মধ্যে যে ঝামেলা নেই বরং বেশ বোঝাপড়াই আছে এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশই বা কোথায়?
*********************
জলস্পর্শ বা মন খারাপের গল্প
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “বাতায়ন ত্রৈসাপ্তাহিক”, শারদ সংখ্যা, ১৪৩১-এ প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
বাবা বলতেন, কখনো মন খারাপ লাগলে জলের কাছে যেও। যেতামও। বাড়ির পাশেই দীঘি ছিল। একটু দূরেই ডুরে পাড় নদী। মন ভালো হতো জলের উপর ব্যাঙবাজি খেলে। ভাবতাম বাবা বোধ হয় এটাই বলেছিল। আজ যখন বহুদিন পর সত্যি সত্যি নামতে হোল নদির ভিতর, জল ছুঁতে, তখন আমার হাতে বাবার নাভিকুন্ড। জল ছুঁতেই ভেসে গেলো দূরে। অনেকদিন পর মন ভালোর মন্ত্রটাই ভেসে উঠলো মস্তিষ্কের কোষে। মৃত পিতার নাভিকুন্ড নিয়ে তো আর ব্যাঙবাজি খেলা চলে না। বরং যতটুকু মন খারাপ ছিল , একটু গাঢ় হয়ে দীর্ঘশ্বাস হয়ে বেরিয়ে গেলো। আসলে বাবা তো জানত না আমার আর মন খারাপই হয় না। ভুলে যাওয়া শৈশবের পর অনেক সেয়ানা হয়ে উঠেছি। বসে আছি সব মন খারাপেরই ঊর্ধ্বে। সত্যি বলতে কি, এই মুহূর্তেও আমার মন অন্য কোথাও আছে।
নদির জলে বেশিক্ষণ থাকা হোল না। অনেকানেক মৃতদেহ শ্মশান চত্বরে। অনান্য মৃতদেরও তো জায়গা ছাড়তে হবে।
আকাশে ফ্যাকাশে চাঁদ ছন্নছাড়া মেঘের আড়ালে। উঠে এলাম যেখানে দাঁড়ালে আমাদের স্বজন-সঙ্গীদের দ্যাখা যায়, অন্ধকারে। একটা সিগারেট ধরালাম। সব্বাইকেই দেখলাম ক্লান্ত ও নিশ্চিন্ত। বাবা বোধ হয় প্রয়োজনের থেকে একটু বেশি দিন বেঁচে ছিল। এই বার ফিরতে হবে। ছোটমামা তাগাদা দিচ্ছে সমানে। আমিও সিগারেট নিভিয়ে গাড়িতে। সবাইকে পেলেও একজন তখনও নিখোঁজ। বাবা-মার শেষ বয়সে হওয়া আমাদের ছোটবোন শ্যামা। যাকে নিয়ে আমাদের এক সময়ে বিড়ম্বনার অন্ত ছিল না। আমাদের সকলের থেকে বড় বেশি ছোট। কলেজ পড়ুয়ার নতুন ভাইবোন হোলে কারই বা আনন্দ হয়! কিছু বাদে ফিরলো ছোট মাসির হাত ধরে। ওকে কোনদিন তেমন করে তাকিয়ে দেখিওনি। কলেজের পর চাকরি, বউ, বাচ্চা নিয়ে, কলকাতার বাইরেই বহুদিন। শুনেছি মা চলে যাবার পর ওই নাকি বাবাকে দেখাশোনোটা করতো। আড়চোখে দেখলাম ওর ভাঙাচোরা গালে বোধ হয় জলের শুকনো দাগ। চোখদুটো নতুন অন্ধের মতো আলুথালু, উদ্দেশহীন। ব্যাস ওইটুকুই।
ফিরতে ফিরতে হঠাত-ই মনটা কেমন করে উঠলো। আমার চোখদুটো সামান্য জ্বলছে। মাটি কি একটু বেশিই দুলছে! চকিতে আমার একটা হাত অনুজার মাথাটায় পৌঁছে গেলো। ওর কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত। কারোরই মুখ দিয়ে কথা বেরুল না। স্তম্ভিত। কিন্তু আমি নিশ্চিত জানি আমার ভিতরটা অচেনা বিস্ফোরণে পুড়ছিল। বাবা, তুমি এতো দেরি করলে কেন? কেন তোমায় ভুলে যাওয়ার আগে একবার ডাকলে না? আমার সে অচেনা বোন বোধ হয় আবার কাঁদলো। দু ফোঁটা জল আমার খোলা করতলে গড়িয়ে পড়লো।
এই প্রথম আমি বাবার কথা মতো জল ছুঁতে পারলাম।
*********************
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “বাতায়ন ত্রৈসাপ্তাহিক”, শারদ সংখ্যা, ১৪৩১-এ প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
বাবা বলতেন, কখনো মন খারাপ লাগলে জলের কাছে যেও। যেতামও। বাড়ির পাশেই দীঘি ছিল। একটু দূরেই ডুরে পাড় নদী। মন ভালো হতো জলের উপর ব্যাঙবাজি খেলে। ভাবতাম বাবা বোধ হয় এটাই বলেছিল। আজ যখন বহুদিন পর সত্যি সত্যি নামতে হোল নদির ভিতর, জল ছুঁতে, তখন আমার হাতে বাবার নাভিকুন্ড। জল ছুঁতেই ভেসে গেলো দূরে। অনেকদিন পর মন ভালোর মন্ত্রটাই ভেসে উঠলো মস্তিষ্কের কোষে। মৃত পিতার নাভিকুন্ড নিয়ে তো আর ব্যাঙবাজি খেলা চলে না। বরং যতটুকু মন খারাপ ছিল , একটু গাঢ় হয়ে দীর্ঘশ্বাস হয়ে বেরিয়ে গেলো। আসলে বাবা তো জানত না আমার আর মন খারাপই হয় না। ভুলে যাওয়া শৈশবের পর অনেক সেয়ানা হয়ে উঠেছি। বসে আছি সব মন খারাপেরই ঊর্ধ্বে। সত্যি বলতে কি, এই মুহূর্তেও আমার মন অন্য কোথাও আছে।
নদির জলে বেশিক্ষণ থাকা হোল না। অনেকানেক মৃতদেহ শ্মশান চত্বরে। অনান্য মৃতদেরও তো জায়গা ছাড়তে হবে।
আকাশে ফ্যাকাশে চাঁদ ছন্নছাড়া মেঘের আড়ালে। উঠে এলাম যেখানে দাঁড়ালে আমাদের স্বজন-সঙ্গীদের দ্যাখা যায়, অন্ধকারে। একটা সিগারেট ধরালাম। সব্বাইকেই দেখলাম ক্লান্ত ও নিশ্চিন্ত। বাবা বোধ হয় প্রয়োজনের থেকে একটু বেশি দিন বেঁচে ছিল। এই বার ফিরতে হবে। ছোটমামা তাগাদা দিচ্ছে সমানে। আমিও সিগারেট নিভিয়ে গাড়িতে। সবাইকে পেলেও একজন তখনও নিখোঁজ। বাবা-মার শেষ বয়সে হওয়া আমাদের ছোটবোন শ্যামা। যাকে নিয়ে আমাদের এক সময়ে বিড়ম্বনার অন্ত ছিল না। আমাদের সকলের থেকে বড় বেশি ছোট। কলেজ পড়ুয়ার নতুন ভাইবোন হোলে কারই বা আনন্দ হয়! কিছু বাদে ফিরলো ছোট মাসির হাত ধরে। ওকে কোনদিন তেমন করে তাকিয়ে দেখিওনি। কলেজের পর চাকরি, বউ, বাচ্চা নিয়ে, কলকাতার বাইরেই বহুদিন। শুনেছি মা চলে যাবার পর ওই নাকি বাবাকে দেখাশোনোটা করতো। আড়চোখে দেখলাম ওর ভাঙাচোরা গালে বোধ হয় জলের শুকনো দাগ। চোখদুটো নতুন অন্ধের মতো আলুথালু, উদ্দেশহীন। ব্যাস ওইটুকুই।
ফিরতে ফিরতে হঠাত-ই মনটা কেমন করে উঠলো। আমার চোখদুটো সামান্য জ্বলছে। মাটি কি একটু বেশিই দুলছে! চকিতে আমার একটা হাত অনুজার মাথাটায় পৌঁছে গেলো। ওর কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত। কারোরই মুখ দিয়ে কথা বেরুল না। স্তম্ভিত। কিন্তু আমি নিশ্চিত জানি আমার ভিতরটা অচেনা বিস্ফোরণে পুড়ছিল। বাবা, তুমি এতো দেরি করলে কেন? কেন তোমায় ভুলে যাওয়ার আগে একবার ডাকলে না? আমার সে অচেনা বোন বোধ হয় আবার কাঁদলো। দু ফোঁটা জল আমার খোলা করতলে গড়িয়ে পড়লো।
এই প্রথম আমি বাবার কথা মতো জল ছুঁতে পারলাম।
*********************
বুদ্ধপূর্ণিমা
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “সূত্রপাত”, হেমন্ত, নভেম্বর ২০২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
সারাদিনই আকাশের কপাল পুড়েছে
সময় এগিয়েছে ভেঙে যন্ত্রণার দ্রাঘিমা
সুগত, তুমি যে সঙ্ঘের কথা গড়েছিলে
সুগত, তুমি বলেছিলে নিস্পাপ চন্দ্রমা
একদিন সারা আকাশ জুড়েই থাকবে
‘মা হিংস’ স্বপ্নের সামিয়ানার
ছায়ায় আমরা জলসিঞ্চিত হবো
আমরা সকলে যে যার সীমানা
ফুঁড়ে বেরিয়ে এসে পাদপদ্ম স্পর্শ করে থাকবো
ছন্দকের মতো আর ফিরিয়ে দেবে না
সেই কাজল তৃষ্ণা নিয়েই অপেক্ষায় থাকি
তপ্ত দিনের শেষে সূর্যের নাভিমূল ছিঁড়ে
আর একটু পরই সেই চাঁদ উঠবে।
তথাগত, আজ বুদ্ধপূর্ণিমা।
*********************
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “সূত্রপাত”, হেমন্ত, নভেম্বর ২০২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
সারাদিনই আকাশের কপাল পুড়েছে
সময় এগিয়েছে ভেঙে যন্ত্রণার দ্রাঘিমা
সুগত, তুমি যে সঙ্ঘের কথা গড়েছিলে
সুগত, তুমি বলেছিলে নিস্পাপ চন্দ্রমা
একদিন সারা আকাশ জুড়েই থাকবে
‘মা হিংস’ স্বপ্নের সামিয়ানার
ছায়ায় আমরা জলসিঞ্চিত হবো
আমরা সকলে যে যার সীমানা
ফুঁড়ে বেরিয়ে এসে পাদপদ্ম স্পর্শ করে থাকবো
ছন্দকের মতো আর ফিরিয়ে দেবে না
সেই কাজল তৃষ্ণা নিয়েই অপেক্ষায় থাকি
তপ্ত দিনের শেষে সূর্যের নাভিমূল ছিঁড়ে
আর একটু পরই সেই চাঁদ উঠবে।
তথাগত, আজ বুদ্ধপূর্ণিমা।
*********************
সামুরাই
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “জলঘড়ি”, ডিসেম্বর-মার্চ, ২০২৩-২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
যারা বাঁচার কথা বলেছিল
ক্ষত্রিয় জেদ নিয়ে
বেরিয়ে পড়লো।
আমরা অপেক্ষা ক’রলাম।
তারা না এলেও
তাদের প্রাণবিন্দু ফিরেছিল।
কিছু রক্তের দাগ, গাঢ় ও অন্তিম।
আমরা শতাব্দী জুড়ে
ঐ কবচকুণ্ডল নিয়ে
এখনও স্বপ্ন দেখি।
রাত শেষে অনঙ্গ চিরে
কখনো কখনো এক অলৌকিক
রক্তপদ্মের আভাস ফুটে ওঠে
শিশিরের শব্দ মেখে নিয়ে।
জানি
তোমরা ফিরে আসবেই
সপ্তডিঙ্গা বেয়ে, সামুরাই।
*********************
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “জলঘড়ি”, ডিসেম্বর-মার্চ, ২০২৩-২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
যারা বাঁচার কথা বলেছিল
ক্ষত্রিয় জেদ নিয়ে
বেরিয়ে পড়লো।
আমরা অপেক্ষা ক’রলাম।
তারা না এলেও
তাদের প্রাণবিন্দু ফিরেছিল।
কিছু রক্তের দাগ, গাঢ় ও অন্তিম।
আমরা শতাব্দী জুড়ে
ঐ কবচকুণ্ডল নিয়ে
এখনও স্বপ্ন দেখি।
রাত শেষে অনঙ্গ চিরে
কখনো কখনো এক অলৌকিক
রক্তপদ্মের আভাস ফুটে ওঠে
শিশিরের শব্দ মেখে নিয়ে।
জানি
তোমরা ফিরে আসবেই
সপ্তডিঙ্গা বেয়ে, সামুরাই।
*********************
দালির ঘড়ি
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “অক্ষর প্রয়াস”, উৎসব সংখ্যা, ১৪৩১ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
সময়ের নুড়ি কুড়িয়ে কুড়িয়ে
পৌঁছোলাম ঈশ্বরের কাছে
দেখলাম মানুষটা বড়ই গরীব
কাঙালও বটে।
আমার নুড়িগুলোর উপর তার
বড্ড লোভ
ঘোলাটে-কাজল চোখে
সংকেত পাঠালো
ওর নাকি আমাদের জমানো নুড়িতেই সংসার চলে।
সময় ব্যাপারটাই নেই।
অথচ খরুচে হাত।
মহা স্থবির।
মায়া হলো।
নুড়িগুলো দিয়েই দিলাম।
এখন আর জমাই না।
দালির মতো ঘড়ি ওড়াই।
*********************
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “অক্ষর প্রয়াস”, উৎসব সংখ্যা, ১৪৩১ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
সময়ের নুড়ি কুড়িয়ে কুড়িয়ে
পৌঁছোলাম ঈশ্বরের কাছে
দেখলাম মানুষটা বড়ই গরীব
কাঙালও বটে।
আমার নুড়িগুলোর উপর তার
বড্ড লোভ
ঘোলাটে-কাজল চোখে
সংকেত পাঠালো
ওর নাকি আমাদের জমানো নুড়িতেই সংসার চলে।
সময় ব্যাপারটাই নেই।
অথচ খরুচে হাত।
মহা স্থবির।
মায়া হলো।
নুড়িগুলো দিয়েই দিলাম।
এখন আর জমাই না।
দালির মতো ঘড়ি ওড়াই।
*********************
মা বিষয়ে
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “একশো কবির একশো আকাশ” কবিতা সংকলন, নান্দনিক প্রকাশন, কলকাতা বইমেলা, ২০৩৫-এ প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
মা কিন্তু সবটাই বুঝতো। অনেক কষ্ট যে বুকে বাঁধা থাকতো, এখন জেনেছি অনেকটাই তার জানতাম না। বিপর্যস্ত শৈশব, গছানো বিবাহ, ফেলে আসা ভৈরব, আত্রেয়ী। এই সব ভাসমান শ্যাওলার নিচের জলটা ছিল ঘোলা, নিরেট্ ,অস্বচ্ছ ও ভয়ের। নাড়তে বা নাবতে চেষ্টাও করিনি। আমরা যাকে বলে ভীষণ শিক্ষিত হয়ে পড়লে মাকে আর সন্ধেবেলার গল্প বলতে শুনিনি। তখন দেখতাম তার অন্য প্রচেষ্টা ; আমাদের আলোচনায় তরিঘড়ি ঢুকে পড়ার। কিন্তু সব-ই এলোমেলো হয়ে যেত মা মুখ খুললে। আমাদের ভাষা তো ততদিনে আরও বেশি আধুনিক হয়ে গেছে। মা তাল রাখতে না পেরে চুপ হয়ে যেত ; যদিও বিমল করের জননী মা-ই পড়িয়েছিল। যখন দূরে এলাম মাকে ফোন করতাম খুব।
খালি বলতো, ‘খুব ভালো আছি’। এবং আমরা আরো শিক্ষিত হতে থাকতাম মা-ই বলতো শিক্ষাই আসল শক্তি! যেদিন চলে গেল, পৌঁছে দেখলাম শরীরটা শক্ত হয়ে গেলেও মুখে কিন্তু সেই নরম ভাবটাই ছিল। আমি কাঁদতে পেরেছিলাম মাত্র এক মিনিটের জন্য।
কতো বছর হয়ে গেলো। খুব ইচ্ছে করে। তবু আর একটুও কাঁদতে পারিনি।
*********************
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “একশো কবির একশো আকাশ” কবিতা সংকলন, নান্দনিক প্রকাশন, কলকাতা বইমেলা, ২০৩৫-এ প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।
মা কিন্তু সবটাই বুঝতো। অনেক কষ্ট যে বুকে বাঁধা থাকতো, এখন জেনেছি অনেকটাই তার জানতাম না। বিপর্যস্ত শৈশব, গছানো বিবাহ, ফেলে আসা ভৈরব, আত্রেয়ী। এই সব ভাসমান শ্যাওলার নিচের জলটা ছিল ঘোলা, নিরেট্ ,অস্বচ্ছ ও ভয়ের। নাড়তে বা নাবতে চেষ্টাও করিনি। আমরা যাকে বলে ভীষণ শিক্ষিত হয়ে পড়লে মাকে আর সন্ধেবেলার গল্প বলতে শুনিনি। তখন দেখতাম তার অন্য প্রচেষ্টা ; আমাদের আলোচনায় তরিঘড়ি ঢুকে পড়ার। কিন্তু সব-ই এলোমেলো হয়ে যেত মা মুখ খুললে। আমাদের ভাষা তো ততদিনে আরও বেশি আধুনিক হয়ে গেছে। মা তাল রাখতে না পেরে চুপ হয়ে যেত ; যদিও বিমল করের জননী মা-ই পড়িয়েছিল। যখন দূরে এলাম মাকে ফোন করতাম খুব।
খালি বলতো, ‘খুব ভালো আছি’। এবং আমরা আরো শিক্ষিত হতে থাকতাম মা-ই বলতো শিক্ষাই আসল শক্তি! যেদিন চলে গেল, পৌঁছে দেখলাম শরীরটা শক্ত হয়ে গেলেও মুখে কিন্তু সেই নরম ভাবটাই ছিল। আমি কাঁদতে পেরেছিলাম মাত্র এক মিনিটের জন্য।
কতো বছর হয়ে গেলো। খুব ইচ্ছে করে। তবু আর একটুও কাঁদতে পারিনি।
*********************
