কবি মণিপদ্ম দত্তর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি মণিপদ্ম দত্তর পরিচিতির পাতায় . . .
সেই লোকটা
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “মেঘমল্লার”, ৩৩ তম সংখ্যা, সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।

যে লোকটা আমাকে শত দারিদ্রেও রেশনের চাল খেতে দিত না
যে লোকটা দুবেলা বাজারে যেত রাতে আমার পাতে একই মাছ না পড়ে
যে লোকটা একশো পঁয়ত্রিশ টাকার স্কুল শিক্ষক হয়েও মাথা তুলে বাঁচার কথা টুকুই শুধু বলতো
যে লোকটা বিশ্ব সাহিত্যের গল্প অর্ধেক বলার পরে হাতে বই ধরিয়ে দিত ইংরেজি শিখবো বলে
মাকে কখনো কখনো কষ্ট দিয়ে আমায় গোপনে কাঁদাতো
আবার হতদরিদ্র পুঁজি নিয়েও আমাদের এক অলৌকিক ক্ষমতায় আগলে রাখতো
এর মানে এই নয় যে, সেই লোকটি কোন অতিমানব ছিল
বরং একটু একগুঁয়ে বোকাই ছিল হয়তো
লোকটা আমার বাবা ছিল।
চৌত্রিশ বছর আগে চলে গেলেও তার ম্যাজিকটা এখনও বুঝতে পারি নি।
এটুকুই বুঝি
অতিমানব না হলেও লোকটা এক অতিবাবা ছিল।

*********************









*
কবিতার জন্মকাহন
কবি মণিপদ্ম দত্ত
কবিতাটি “ইত্তেফাক পঙক্তি মালা”, ঢাকা, বাংলাদেশ, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।

সকলেই যাবে বয়সের হাত ধরে
আমিও থামবো সঠিক নিয়ম মতো
স্মৃতিদাস সাঁকো মাঝেসাঝে নড়েচড়ে
আড়মোড়া ভাঙা আলস্যে খোঁজে ক্ষত।
ক্ষত থাকবে না আর অক্ষত হয়ে
প্রজাপতি হয়ে উড়েও সে যেতে পারে
অথবা কখনো স্বপ্নেরও অগোচরে
ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাবে শীর্ণা সোঁতার মতো।
নৈমিত্তিক এই ভাঙাচোরা খেলা
এভাবেই বোনে সময়-তন্তুজাল।
হয়তো বালক সহস্রাব্দ পরে
ঘসে তুলে দেবে সময়ের নোনাছাল।
এবং দেখবে নিরাকার অক্ষরে
কবিতা বুনেছে রসিক সে মহাকাল।

*********************









*
ভয় পেও না, বাঙালি
কবি মণিপদ্ম দত্ত
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৮.৭.২০২৫।

গলাবন্ধ টাইট করে
নিয়ম করে লেজ নাড়ি।
পাছে বলে দেশদ্রোহি
চালান করে মামাবাড়ি!
রোজ বিকেলে হিন্দি শেখান
মাইনে করা ম্যাস্টরে
গুজরাটিটাও ঠিক করেছি
শিখেই নেব তারপরে।
বন্ধু বলল হিন্দি নামে
আসলে কোন ভাষাই নেই ;
বিশ্বোয়াস তো হয় না বাবা
মন কি বাত বলতে নেই।
দেশ, নেশন, সংবিধান
ওসব জেনে কী হবে!
সরকার ই জানে না সব
স্বয়ংসেবক সব জানেন।
চন্দ্র যাঁহার চূড়ায় থাকেন
তেনার গলায় সাপ দোলে
হামলে পড়ে কামড়ে দেবে
‘মিথ্যে অমন ভয় পেলে’।

*********************