কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
বায়না
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
ছোটোদের জন্য লেখা কবিতা। কবিতাটি প্রথমে "সমতট" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
মা দুগ্গা, বলতে পার এত সাহস কোথায় পেলে,
অনায়াসে সিংহ রাজের পিঠের ওপর বসলে চড়ে
দুগ্গা বলেন মুচকি হেসে, ভয় কেন রে বোকা ছেলে
গিরিরাজের কন্যা আমি, এ কি আর যে সে মেয়ে?
বাবাই আমায় সিংহ দিল তাতেই চড়ে এলাম চলে
মারতে হবে মহিষাসুর, স্বর্গ আবার ফিরবে তবে।
যে ত্রিশূলে মারলে অসুর সেটা তুমি কোথায় পেলে
মা গো তুমি বলবে আমায় চক্রখানা কেই বা দিলে
মহাদেব ত্রিশূল দিলেন সত্য রজঃ তমঃ গুণের,
নারায়ণের চক্র দিয়ে বিনাশ হবে সকল পাপের।
বাকি গুলোও বলি বাছা জেনে তুমি জানাও সবে
পবন দেবের গতি শক্তি বইব আমি তীর-ধনুকে।
একটা হাতে পদ্ম তোমার, অন্য খানা খালি কেন ?
যুদ্ধ করতে যাবেই যদি হাতে তোমার শঙ্খ কেন?
পিতামহ পদ্ম দিলেন, জ্ঞান যেখানে ফুটে ওঠে,
বরুণ দেবের শঙ্খ দিয়ে নম্র সফল দুই বোঝাবে।
দেবরাজের বজ্রে আমি অপরাজেয় এই দুনিয়ায়
খালি হাতটা খালি নয় রে সবাইকে সে অভয় দেয়।
বর্শা, কুঠার, তরোয়াল, মা, রইল বাকি ঐ তিনটে
এবার বল সেগুলোই বা কারা তোমায় কেন দিলে?
বিশ্বকর্মা সৃষ্টি করেন তাই তো তিনি কুঠার দিলেন,
অগ্নিদেব শুভ করেন, সেই কারণে বর্শা দিলেন।
সাহস, বল, সব ক্ষমতাই ধরা থাকে তরোয়ালে
শত্রু বিনাশ করতে হলে তাইতো ওটা লাগেই লাগে
সব বুঝেছি মাগো তবু আমার একটা বায়না আছে
একবারটি এস হেথায়, মানুষ যেথায় মানুষ মারে।
গাঁয়ে ঘরে লোকেরা সব ঘর হারিয়ে পথের 'পরে,
নতুন জামা কোথা ওদের পূজোর দিনে শুধু কাঁদে,
স্বর্গ যেমন ফিরিয়ে দিলে ওদের তুমি ঘরে ফেরাও,
ওদের বড় দুঃখ মা গো, এবার তুমি ওদের বাঁচাও।
*********************
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
ছোটোদের জন্য লেখা কবিতা। কবিতাটি প্রথমে "সমতট" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
মা দুগ্গা, বলতে পার এত সাহস কোথায় পেলে,
অনায়াসে সিংহ রাজের পিঠের ওপর বসলে চড়ে
দুগ্গা বলেন মুচকি হেসে, ভয় কেন রে বোকা ছেলে
গিরিরাজের কন্যা আমি, এ কি আর যে সে মেয়ে?
বাবাই আমায় সিংহ দিল তাতেই চড়ে এলাম চলে
মারতে হবে মহিষাসুর, স্বর্গ আবার ফিরবে তবে।
যে ত্রিশূলে মারলে অসুর সেটা তুমি কোথায় পেলে
মা গো তুমি বলবে আমায় চক্রখানা কেই বা দিলে
মহাদেব ত্রিশূল দিলেন সত্য রজঃ তমঃ গুণের,
নারায়ণের চক্র দিয়ে বিনাশ হবে সকল পাপের।
বাকি গুলোও বলি বাছা জেনে তুমি জানাও সবে
পবন দেবের গতি শক্তি বইব আমি তীর-ধনুকে।
একটা হাতে পদ্ম তোমার, অন্য খানা খালি কেন ?
যুদ্ধ করতে যাবেই যদি হাতে তোমার শঙ্খ কেন?
পিতামহ পদ্ম দিলেন, জ্ঞান যেখানে ফুটে ওঠে,
বরুণ দেবের শঙ্খ দিয়ে নম্র সফল দুই বোঝাবে।
দেবরাজের বজ্রে আমি অপরাজেয় এই দুনিয়ায়
খালি হাতটা খালি নয় রে সবাইকে সে অভয় দেয়।
বর্শা, কুঠার, তরোয়াল, মা, রইল বাকি ঐ তিনটে
এবার বল সেগুলোই বা কারা তোমায় কেন দিলে?
বিশ্বকর্মা সৃষ্টি করেন তাই তো তিনি কুঠার দিলেন,
অগ্নিদেব শুভ করেন, সেই কারণে বর্শা দিলেন।
সাহস, বল, সব ক্ষমতাই ধরা থাকে তরোয়ালে
শত্রু বিনাশ করতে হলে তাইতো ওটা লাগেই লাগে
সব বুঝেছি মাগো তবু আমার একটা বায়না আছে
একবারটি এস হেথায়, মানুষ যেথায় মানুষ মারে।
গাঁয়ে ঘরে লোকেরা সব ঘর হারিয়ে পথের 'পরে,
নতুন জামা কোথা ওদের পূজোর দিনে শুধু কাঁদে,
স্বর্গ যেমন ফিরিয়ে দিলে ওদের তুমি ঘরে ফেরাও,
ওদের বড় দুঃখ মা গো, এবার তুমি ওদের বাঁচাও।
*********************
ভোগ-উপভোগ
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
এই কবিতাটি মিলনসাগরেই প্রথম প্রকাশিত হলো, ৭.৭.২০২৪।
তোমার পায়ের নীচে মোজেক-টালি
আমার সবুজ ঘাস,
তোমার মাথায় ফল্-সিলিং
আমার নীলাকাশ।
তোমার শপিং মল্-পীজা-কুকী
আমার মুড়ি আর লঙ্কা
তোমার প্লেটে কণ্টিনেণ্টাল
আমার পাতে পান্তা।
তোমার ব্যথা জয়েন্ট পেইন
আমার হোলে বাত,
তোমার ই-ব্যাঙ্ক আর ইন্টারনেট
আমার খুচরো অটো বাস।
তোমার জীবন ভোর শুধুই ছোটা
আমার কাজের শেষে ছুটি
তোমার ঘুম আসে ওষুধ খেয়ে
আমার ঘুম ক্লান্তির।
তোমার সোফা এ.সি.-র তলায়
আমি শিউলি গাছের পাশে।
তোমার ঘর ভরায় রুমফ্রেশনার
আমি মাতি ফুলের বাসে।
তোমার সুখ ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সে
আমার সুখ দানে
তোমার ভাবনা স্টেটাস নিয়ে
আমি সুখী মনে।
তোমার সাথী পিয়ন চাকর
আমার পাড়া সুদ্ধু
তোমার মন রাখতে সবাই ব্যস্ত
আমার সবাই বন্ধু।
তোমার জীবন ভরা শুধুই ভোগ
তাই পেতেই তুমি ব্যস্ত
আমার শান্ত জীবন উপভোগের
তাই অল্প পেয়েই তৃপ্ত।
*********************
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
এই কবিতাটি মিলনসাগরেই প্রথম প্রকাশিত হলো, ৭.৭.২০২৪।
তোমার পায়ের নীচে মোজেক-টালি
আমার সবুজ ঘাস,
তোমার মাথায় ফল্-সিলিং
আমার নীলাকাশ।
তোমার শপিং মল্-পীজা-কুকী
আমার মুড়ি আর লঙ্কা
তোমার প্লেটে কণ্টিনেণ্টাল
আমার পাতে পান্তা।
তোমার ব্যথা জয়েন্ট পেইন
আমার হোলে বাত,
তোমার ই-ব্যাঙ্ক আর ইন্টারনেট
আমার খুচরো অটো বাস।
তোমার জীবন ভোর শুধুই ছোটা
আমার কাজের শেষে ছুটি
তোমার ঘুম আসে ওষুধ খেয়ে
আমার ঘুম ক্লান্তির।
তোমার সোফা এ.সি.-র তলায়
আমি শিউলি গাছের পাশে।
তোমার ঘর ভরায় রুমফ্রেশনার
আমি মাতি ফুলের বাসে।
তোমার সুখ ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সে
আমার সুখ দানে
তোমার ভাবনা স্টেটাস নিয়ে
আমি সুখী মনে।
তোমার সাথী পিয়ন চাকর
আমার পাড়া সুদ্ধু
তোমার মন রাখতে সবাই ব্যস্ত
আমার সবাই বন্ধু।
তোমার জীবন ভরা শুধুই ভোগ
তাই পেতেই তুমি ব্যস্ত
আমার শান্ত জীবন উপভোগের
তাই অল্প পেয়েই তৃপ্ত।
*********************
পরীর দেশ
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
ছোটোদের জন্য লেখা কবিতা। এই কবিতাটি মিলনসাগরেই প্রথম প্রকাশিত হলো, ৭.৭.২০২৪।
গাঢ় নীল আকাশ জুড়ে
ভাসছে তুলোর মেঘ
তারই মাঝে থালার মত
চাঁদটা দেখায় বেশ।
জানলা খুলে ভাই বোনেতে
ড্যাবডেবিয়ে চায়
ভাবছে মনে কোনভাবে
যদি যাওয়া যায় !
ঐখানে যে পরীর দেশ
সে কি কারো চেনা?
মেঘের ভেলায় পালটি তুলে
ছড়িয়ে দিয়ে ডানা,
দু'জন মিলে ভেসে যাবে
সব পেয়েছির দেশে
ভাবতে ভাবতে চোখের পাতায়
ঘুম জড়ালো এসে।
এমন সময় দরজা খুলে
মা ঢুকেছে যেই
মাকে বলে ও মা ও মা
পরীর দেশটা কই?
তুলোর মেঘের ওই পারেতে
চাঁদের দেশের পাড়ে
ওখানেই কি পরীর দল
বাসা বেঁধে থাকে ?
মা হেসে কয়, তা তো ঠিক
ওটাই পরীর দেশ।
শুধু ঘুমের মাঝেই ওদের দেখা
ঘুম ভাঙলেই শেষ।
তবে কোনো কোনো পরী আবার
এই দেশেতেও মেলে
পরীর রাণী যদি তাদের
মেঘের ভেলায় তোলে।
তেমনি করেই দুটো পরী
জ্যোৎস্না গায়ে প'রে
মেঘের পালে হাওয়ায় ভেসে
পড়ল আমার কোলে।
যেই না শোনা দু'জন মিলে
জড়িয়ে মায়ের গলা
বলে পরীর দেশে চাই না যেতে
চাই না মেঘের ভেলা
এই ঘরেতে এই বিছানায়
বাবার আদর বেশ
এই যে মায়ের কোলের মাঝে
এই তো পরীর দেশ।
*********************
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
ছোটোদের জন্য লেখা কবিতা। এই কবিতাটি মিলনসাগরেই প্রথম প্রকাশিত হলো, ৭.৭.২০২৪।
গাঢ় নীল আকাশ জুড়ে
ভাসছে তুলোর মেঘ
তারই মাঝে থালার মত
চাঁদটা দেখায় বেশ।
জানলা খুলে ভাই বোনেতে
ড্যাবডেবিয়ে চায়
ভাবছে মনে কোনভাবে
যদি যাওয়া যায় !
ঐখানে যে পরীর দেশ
সে কি কারো চেনা?
মেঘের ভেলায় পালটি তুলে
ছড়িয়ে দিয়ে ডানা,
দু'জন মিলে ভেসে যাবে
সব পেয়েছির দেশে
ভাবতে ভাবতে চোখের পাতায়
ঘুম জড়ালো এসে।
এমন সময় দরজা খুলে
মা ঢুকেছে যেই
মাকে বলে ও মা ও মা
পরীর দেশটা কই?
তুলোর মেঘের ওই পারেতে
চাঁদের দেশের পাড়ে
ওখানেই কি পরীর দল
বাসা বেঁধে থাকে ?
মা হেসে কয়, তা তো ঠিক
ওটাই পরীর দেশ।
শুধু ঘুমের মাঝেই ওদের দেখা
ঘুম ভাঙলেই শেষ।
তবে কোনো কোনো পরী আবার
এই দেশেতেও মেলে
পরীর রাণী যদি তাদের
মেঘের ভেলায় তোলে।
তেমনি করেই দুটো পরী
জ্যোৎস্না গায়ে প'রে
মেঘের পালে হাওয়ায় ভেসে
পড়ল আমার কোলে।
যেই না শোনা দু'জন মিলে
জড়িয়ে মায়ের গলা
বলে পরীর দেশে চাই না যেতে
চাই না মেঘের ভেলা
এই ঘরেতে এই বিছানায়
বাবার আদর বেশ
এই যে মায়ের কোলের মাঝে
এই তো পরীর দেশ।
*********************
ছুটি
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
এই কবিতাটি মিলনসাগরেই প্রথম প্রকাশিত হলো, ৭.৭.২০২৪।
ওকে তোমরা ছুটি দাও,
এপারের ফসল ফলানো শেষ
এবার ওপারের পালা।
ও যে দিয়ে গেল কত
ভারা ভারা সোনালী ফসল,
আমরাও নিয়েছি আঁজলা ভরে
ওর সোনার তরীকে এবার ছেড়ে দাও,
বিজ্ঞানের নোঙোরে বেঁধে রেখে
আর মায়া বাড়িও না,
এবার ওকে তোমরা যেতে দাও।
এতদিন ধরে ও তো নিজেকে
উজার করে দিয়ে গেল সব,
কত সমৃদ্ধ করে গেল আমাদের,
আজ ওপারের ঘাটে ওর ডাক পড়েছে,
এবার তোমরা ওকে ছেড়ে দাও।
ওকে আমরা রেখে দেব
এপারের সকলের
মনে মননে আত্মায় বিশ্বাসে,
ওর সৃষ্টিকে আঁকড়ে আমরা বাঁচব
ও এবার মুক্তির মধ্যে বাঁচুক,
ও যে বড় ক্লান্ত,
তোমরা বুঝতে পারছ না ?
ওর যে বড় বিশ্রাম দরকার
এবার তোমরা ওকে ছুটি দাও।
*********************
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
এই কবিতাটি মিলনসাগরেই প্রথম প্রকাশিত হলো, ৭.৭.২০২৪।
ওকে তোমরা ছুটি দাও,
এপারের ফসল ফলানো শেষ
এবার ওপারের পালা।
ও যে দিয়ে গেল কত
ভারা ভারা সোনালী ফসল,
আমরাও নিয়েছি আঁজলা ভরে
ওর সোনার তরীকে এবার ছেড়ে দাও,
বিজ্ঞানের নোঙোরে বেঁধে রেখে
আর মায়া বাড়িও না,
এবার ওকে তোমরা যেতে দাও।
এতদিন ধরে ও তো নিজেকে
উজার করে দিয়ে গেল সব,
কত সমৃদ্ধ করে গেল আমাদের,
আজ ওপারের ঘাটে ওর ডাক পড়েছে,
এবার তোমরা ওকে ছেড়ে দাও।
ওকে আমরা রেখে দেব
এপারের সকলের
মনে মননে আত্মায় বিশ্বাসে,
ওর সৃষ্টিকে আঁকড়ে আমরা বাঁচব
ও এবার মুক্তির মধ্যে বাঁচুক,
ও যে বড় ক্লান্ত,
তোমরা বুঝতে পারছ না ?
ওর যে বড় বিশ্রাম দরকার
এবার তোমরা ওকে ছুটি দাও।
*********************
আমার রিক্সা ওয়ালা
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
কবিতাটি প্রথমে "সমতট" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
- এই রিক্সা যাবে?
- কোথায়?
- ছেলেবেলায়।
- ও বাব্বা ! এই অবেলায়,
অতোটা পথ ! একলা যাবে?
সঙ্গী সাথী আছে কেউ ?
- না গো সঙ্গীরা কেউ নেই।
- তাহলে তো অনেক ভাড়া
একলা দিতে পারবে?
- তাই ? কত লাগবে?
- তা ধরো পেত্থম দশ বাদ দিলে
বছর পঞ্চাশের বেশি তো হবেই।
- গোড়ার দশের ছেলেমানুষি
পুরোটাই যদি দিই, হবে?
- ও তো আগাগোড়াই হাসিমজা,
এত দূরের পথ, পোষাবে না।
- আচ্ছা তাহলে মেয়েবেলায় ?
সেখানে কত না-পাওয়া আছে
পথটাও একটু কমবে আর
ভাড়ায় যদি পাওয়াগুলো দিই ?
- না গো অনেকটা পথ তো !
শুধু আনন্দে যাওয়া যায় না।
- আচ্ছা বেশ তবে এক কাজ করো,
তুমি আমার মা-বেলায় নিয়ে চলো
- বেশ বেশ সেখানে বরং যেতে পারি।
ওটা তত দূরে নয়, ভাড়া কী দেবে?
- ভাড়া? অনেক আছে, কোনটা নেবে ?
- তোমার কী কী আছে আমি জানি?
- শোনো বলি, শুরুতে - সৃষ্টির আনন্দ
তারপর, প্রথম আলো দেখানোর ব্যথা
এবার রাতজাগার কষ্ট আর ভরসা।
তারপর তো মানুষ গড়ার খেলা,
মনের যত কালো ধুয়ে, আলো.......
- থাক থাক অত লিস্টি লাগবে না।
মানুষ গড়ার শেষে, যুদ্ধ জয়ের পরে
শেষ বিকেলের পড়ন্ত বেলার
এত যে মায়া জড়ানো ভালো,
আর এই মন ভোলানো আলো,
তার থেকে দু-এক টুকরো,
পারবে দিতে ভাড়া বাবদ মন থেকে?
- এ কী চাইলে তুমি রিক্সা ওয়ালা ?
বিকেল গড়িয়ে এখন তো সন্ধ্যে,
এই শেষ আলোটুকু দিয়ে দিলে
আমি বাকি পথটা চলব কিকরে ?
জানি না তো আর কত আছে বাকি !
- বেশ, ভালোটা থাক তোমার জন্যে।
আমাকে শুধু আলোটুকুই দাও
তাকেই এদিক ওদিক ছড়িয়ে দিই।
বাকি পথটা তুমি দেখে দেখেই কাটাও
তোমার সাধের আলো কেমন করে
ছড়িয়ে যাচ্ছে এখান থেকে সবখানে।
*********************
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
কবিতাটি প্রথমে "সমতট" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
- এই রিক্সা যাবে?
- কোথায়?
- ছেলেবেলায়।
- ও বাব্বা ! এই অবেলায়,
অতোটা পথ ! একলা যাবে?
সঙ্গী সাথী আছে কেউ ?
- না গো সঙ্গীরা কেউ নেই।
- তাহলে তো অনেক ভাড়া
একলা দিতে পারবে?
- তাই ? কত লাগবে?
- তা ধরো পেত্থম দশ বাদ দিলে
বছর পঞ্চাশের বেশি তো হবেই।
- গোড়ার দশের ছেলেমানুষি
পুরোটাই যদি দিই, হবে?
- ও তো আগাগোড়াই হাসিমজা,
এত দূরের পথ, পোষাবে না।
- আচ্ছা তাহলে মেয়েবেলায় ?
সেখানে কত না-পাওয়া আছে
পথটাও একটু কমবে আর
ভাড়ায় যদি পাওয়াগুলো দিই ?
- না গো অনেকটা পথ তো !
শুধু আনন্দে যাওয়া যায় না।
- আচ্ছা বেশ তবে এক কাজ করো,
তুমি আমার মা-বেলায় নিয়ে চলো
- বেশ বেশ সেখানে বরং যেতে পারি।
ওটা তত দূরে নয়, ভাড়া কী দেবে?
- ভাড়া? অনেক আছে, কোনটা নেবে ?
- তোমার কী কী আছে আমি জানি?
- শোনো বলি, শুরুতে - সৃষ্টির আনন্দ
তারপর, প্রথম আলো দেখানোর ব্যথা
এবার রাতজাগার কষ্ট আর ভরসা।
তারপর তো মানুষ গড়ার খেলা,
মনের যত কালো ধুয়ে, আলো.......
- থাক থাক অত লিস্টি লাগবে না।
মানুষ গড়ার শেষে, যুদ্ধ জয়ের পরে
শেষ বিকেলের পড়ন্ত বেলার
এত যে মায়া জড়ানো ভালো,
আর এই মন ভোলানো আলো,
তার থেকে দু-এক টুকরো,
পারবে দিতে ভাড়া বাবদ মন থেকে?
- এ কী চাইলে তুমি রিক্সা ওয়ালা ?
বিকেল গড়িয়ে এখন তো সন্ধ্যে,
এই শেষ আলোটুকু দিয়ে দিলে
আমি বাকি পথটা চলব কিকরে ?
জানি না তো আর কত আছে বাকি !
- বেশ, ভালোটা থাক তোমার জন্যে।
আমাকে শুধু আলোটুকুই দাও
তাকেই এদিক ওদিক ছড়িয়ে দিই।
বাকি পথটা তুমি দেখে দেখেই কাটাও
তোমার সাধের আলো কেমন করে
ছড়িয়ে যাচ্ছে এখান থেকে সবখানে।
*********************
নীরব কাণ্ডারী
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
এই কবিতাটি মিলনসাগরেই প্রথম প্রকাশিত হলো, ৭.৭.২০২৪।
জীবনে যখন ঘনিয়ে এল
মেঘের ঘনঘটা
আঁধার পথে মনটা দিশাহারা
জগত তখন নীরব দর্শক।
কোথায় মাঝি কোথায় দাঁড়ী
পাল তো গেছে ছিঁড়ে
সঙ্গে যারা সহায়হীন
নীরবে আছে চেয়ে,
তাদের পার করতে হবে
দিতে হবে অধিকার
গহন মনে আশার বাতি
ওটুকুই ভরসার।
তখন এলে কাণ্ডারী বেশে
হাতে নিয়ে ছোটো হাল
দুর্গম পথে সামিল হতে
বিপুল পারাবার।
তখন কি আর জানতাম ছাই
এনেছ এমন ভরসা জাগানো তান,
সে যে আকাশ কাঁপায় তারার আলোয়
নীরব সুরে বাঁচার তালে
বাঁশি বাজায় পঞ্চম স্বরে
জনে জনে বিলিয়ে বেড়ায়
ভালোবাসার গান।
*********************
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
এই কবিতাটি মিলনসাগরেই প্রথম প্রকাশিত হলো, ৭.৭.২০২৪।
জীবনে যখন ঘনিয়ে এল
মেঘের ঘনঘটা
আঁধার পথে মনটা দিশাহারা
জগত তখন নীরব দর্শক।
কোথায় মাঝি কোথায় দাঁড়ী
পাল তো গেছে ছিঁড়ে
সঙ্গে যারা সহায়হীন
নীরবে আছে চেয়ে,
তাদের পার করতে হবে
দিতে হবে অধিকার
গহন মনে আশার বাতি
ওটুকুই ভরসার।
তখন এলে কাণ্ডারী বেশে
হাতে নিয়ে ছোটো হাল
দুর্গম পথে সামিল হতে
বিপুল পারাবার।
তখন কি আর জানতাম ছাই
এনেছ এমন ভরসা জাগানো তান,
সে যে আকাশ কাঁপায় তারার আলোয়
নীরব সুরে বাঁচার তালে
বাঁশি বাজায় পঞ্চম স্বরে
জনে জনে বিলিয়ে বেড়ায়
ভালোবাসার গান।
*********************
বেহালার ছেলেটা আজ বাড়ি ফিরেছে
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
এই কবিতাটি মিলনসাগরেই প্রথম প্রকাশিত হলো, ৭.৭.২০২৪।
তিনটে অর্টারি বন্ধ ছিল।
কি করে হলো? কোন্ চাপ থেকে?
কেন হয় রক্ত ক্ষরণ?
ওহে বাঙ্গালী একটু ভাব ......
মনে পড়ে ডেবিউ ম্যাচ?
বয়স সবে কুড়ি।
মাত্র তিন করার অপরাধে
দল থেকে বাদ।
না না এটা চাপ না
খেলতে পরেনি বাদ গেছে
কিন্তু কুৎসাগুলো ?
সেগুলো কি জরুরি ছিল?
কিশোর ধমনীতে সেদিন কি
দু'এক ফোঁটা রক্ত ঝরেছিল?
এরপর চার বছর ধরে
দেশের মাঠে দেশের দলে
শতরানের পর শতরান
অবশেষে 1996 এর ইডেনে
ইস্টবেঙ্গলের খেলা চলছে
বিকেল চারটে ছুটে এল বন্ধুটা
--"মহারাজ, তুই ঢুকছিস"।
ঢুকল, কিন্তু চলল কোথায়?
সাগর পাড়ে রাজার দেশে।
গেলেও, প্রথম ম্যাচে সে নেই!
আবার কি দু' ফোঁটা রক্ত ঝরল?
তবে সিধু অসুস্থ হয়ে ফিরে যেতে
জায়গা হলো শূন্য -- মাঠে নামল
রাজার দেশে মহারাজ
দিল হাঁকিয়ে 131 আর 136
সেই শুকনো দু' ফোঁটা রক্ত কি
তাতে একটু গলেছিল?
এবার দেশের মাঠে ওয়ানডে
1997-তে 113 রান দিয়ে শুরু ......
পরপর চারটে 'ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ'
1998- তে আবার সেরার সেরা।
এবার 1999 -- রাজার দেশে বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড-- 183 আর 158
দ্রাবিড়ের সঙ্গে 318 -- সেও বিশ্বরেকর্ড।
এবার এল আসল চাপ
বেটিং এর কাদায় ফেঁসে যাওয়া
জোড়াতালি দেওয়া একটা দল ---
তাকে নেতৃত্ব দাও --- সালটা 2000
চাপটা এল দিন-রাতের চিন্তায়!
লক্ষ্মণকে রাহুলের জায়গায় আনব?
হ্যাঁ - কি - না!!!!!
বীরুকে দিয়ে ওপেন করাব?
শচীন সৌরভ জুটি ভাঙব?
ঠিক - না - ভুল !!!!!
দলে কীপার কই ?
রাহুলকে গ্লাভস্ পরাতেই হবে,
ধোনি ছেলেটা দারুণ! তাহলে
নিজেকে কি আরও পরে নামাব?
যুবি, কাইফ, জাহির- এরা তো ভবিষ্যত,
সুযোগ দিতেই হবে ।
চাপ চাপ চাপ........
এত কিছু করে একলাই
দলটাকে টেনে তুলেছিল ---
ঘরের মাঠে স্টিভের ঘোড়ায় লাগাম পরিয়ে
বিদেশের মাটিতে জয়ের মালা পরিয়ে
পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে পুঁতে দিয়ে
আর লর্ডসের মাঠে জামা উড়িয়ে ......
কোনটা কখন রক্ত ঝরিয়েছিল কে জানে !
একটু ভাববে না কি বাঙালী ?
ভাব ভাব, মনে পড়ছে?
2003 বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচ
বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার !
বাঙালিরা কলকাতায় কী করল ......
ওর কুশপুত্তলিকা দাহ করল
হায় বাঙালি ওর ঝুলিতে তখনও
তিনটে সেঞ্চুরি আর ব্যাটে 465 রান।
আরও আছে
নাগপুরের মাঠের ঘাস !
বদনাম! বদনাম!
আবার বাদ 2005 - এ
এবার কটা ব্লকেজ হলো?
কেউ খবর রেখেছে?
না। ও নিজেও রাখেনি।
তারপর তো চ্যাপেল অধ্যায়!
বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে
ওর সঙ্গেই ঘটল এমনটা।
তারপরেও দলকে জিতিয়েছে,
সিরিজ সেরার খেতাব পেয়েছে।
2007 এ চ্যাপেল বিদায় নিল,
ওর ব্যাটে 239 এল।
চাপ কি তবে শেষ হলো?
না। 2009 এ আই পি এল ?
তবু ও লড়াই ছাড়েনি
আবার ফিরেছে পুনের হয়ে।
এত কিছুর মাঝে পড়ে কখন
বুকের কোথায় কি ছিঁড়ল
কোথায় কি জমাট বাঁধল
সে খবর কেউ রাখেনি।
আজকে সেই বাঙালিই বলছে
তেলের বিজ্ঞাপন না কি
রাজনীতিতে যোগদান!
হক কথার এক কথা হলো
ও যদি রাজনীতিতে আসে
তা সে যে দলই হোক
সবার মুখে ঝামা ঘষে
দেশটাকে উদ্ধার করেই ছাড়বে।
আমাদের কি সে ভাগ্য হবে?
*********************
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
এই কবিতাটি মিলনসাগরেই প্রথম প্রকাশিত হলো, ৭.৭.২০২৪।
তিনটে অর্টারি বন্ধ ছিল।
কি করে হলো? কোন্ চাপ থেকে?
কেন হয় রক্ত ক্ষরণ?
ওহে বাঙ্গালী একটু ভাব ......
মনে পড়ে ডেবিউ ম্যাচ?
বয়স সবে কুড়ি।
মাত্র তিন করার অপরাধে
দল থেকে বাদ।
না না এটা চাপ না
খেলতে পরেনি বাদ গেছে
কিন্তু কুৎসাগুলো ?
সেগুলো কি জরুরি ছিল?
কিশোর ধমনীতে সেদিন কি
দু'এক ফোঁটা রক্ত ঝরেছিল?
এরপর চার বছর ধরে
দেশের মাঠে দেশের দলে
শতরানের পর শতরান
অবশেষে 1996 এর ইডেনে
ইস্টবেঙ্গলের খেলা চলছে
বিকেল চারটে ছুটে এল বন্ধুটা
--"মহারাজ, তুই ঢুকছিস"।
ঢুকল, কিন্তু চলল কোথায়?
সাগর পাড়ে রাজার দেশে।
গেলেও, প্রথম ম্যাচে সে নেই!
আবার কি দু' ফোঁটা রক্ত ঝরল?
তবে সিধু অসুস্থ হয়ে ফিরে যেতে
জায়গা হলো শূন্য -- মাঠে নামল
রাজার দেশে মহারাজ
দিল হাঁকিয়ে 131 আর 136
সেই শুকনো দু' ফোঁটা রক্ত কি
তাতে একটু গলেছিল?
এবার দেশের মাঠে ওয়ানডে
1997-তে 113 রান দিয়ে শুরু ......
পরপর চারটে 'ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ'
1998- তে আবার সেরার সেরা।
এবার 1999 -- রাজার দেশে বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড-- 183 আর 158
দ্রাবিড়ের সঙ্গে 318 -- সেও বিশ্বরেকর্ড।
এবার এল আসল চাপ
বেটিং এর কাদায় ফেঁসে যাওয়া
জোড়াতালি দেওয়া একটা দল ---
তাকে নেতৃত্ব দাও --- সালটা 2000
চাপটা এল দিন-রাতের চিন্তায়!
লক্ষ্মণকে রাহুলের জায়গায় আনব?
হ্যাঁ - কি - না!!!!!
বীরুকে দিয়ে ওপেন করাব?
শচীন সৌরভ জুটি ভাঙব?
ঠিক - না - ভুল !!!!!
দলে কীপার কই ?
রাহুলকে গ্লাভস্ পরাতেই হবে,
ধোনি ছেলেটা দারুণ! তাহলে
নিজেকে কি আরও পরে নামাব?
যুবি, কাইফ, জাহির- এরা তো ভবিষ্যত,
সুযোগ দিতেই হবে ।
চাপ চাপ চাপ........
এত কিছু করে একলাই
দলটাকে টেনে তুলেছিল ---
ঘরের মাঠে স্টিভের ঘোড়ায় লাগাম পরিয়ে
বিদেশের মাটিতে জয়ের মালা পরিয়ে
পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে পুঁতে দিয়ে
আর লর্ডসের মাঠে জামা উড়িয়ে ......
কোনটা কখন রক্ত ঝরিয়েছিল কে জানে !
একটু ভাববে না কি বাঙালী ?
ভাব ভাব, মনে পড়ছে?
2003 বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচ
বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার !
বাঙালিরা কলকাতায় কী করল ......
ওর কুশপুত্তলিকা দাহ করল
হায় বাঙালি ওর ঝুলিতে তখনও
তিনটে সেঞ্চুরি আর ব্যাটে 465 রান।
আরও আছে
নাগপুরের মাঠের ঘাস !
বদনাম! বদনাম!
আবার বাদ 2005 - এ
এবার কটা ব্লকেজ হলো?
কেউ খবর রেখেছে?
না। ও নিজেও রাখেনি।
তারপর তো চ্যাপেল অধ্যায়!
বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে
ওর সঙ্গেই ঘটল এমনটা।
তারপরেও দলকে জিতিয়েছে,
সিরিজ সেরার খেতাব পেয়েছে।
2007 এ চ্যাপেল বিদায় নিল,
ওর ব্যাটে 239 এল।
চাপ কি তবে শেষ হলো?
না। 2009 এ আই পি এল ?
তবু ও লড়াই ছাড়েনি
আবার ফিরেছে পুনের হয়ে।
এত কিছুর মাঝে পড়ে কখন
বুকের কোথায় কি ছিঁড়ল
কোথায় কি জমাট বাঁধল
সে খবর কেউ রাখেনি।
আজকে সেই বাঙালিই বলছে
তেলের বিজ্ঞাপন না কি
রাজনীতিতে যোগদান!
হক কথার এক কথা হলো
ও যদি রাজনীতিতে আসে
তা সে যে দলই হোক
সবার মুখে ঝামা ঘষে
দেশটাকে উদ্ধার করেই ছাড়বে।
আমাদের কি সে ভাগ্য হবে?
*********************
সত্তরের সিদ্ধান্ত
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
এই কবিতাটি মিলনসাগরেই প্রথম প্রকাশিত হলো, ৭.৭.২০২৪।
সত্তরটি বসন্ত কি চাট্টিখানি কথা?
কত হাসি, কত স্বপ্ন, বিস্ময় বা ব্যথা!
কত ঠিক, কত ভুল, কিছু চাওয়া, কিছু পাওয়া,
জল্পনা আর কল্পনা, দেওয়া আর নেওয়া।
নাই বা হলো অনেক কিছু, অনেক বড় কিছু,
নাই বা ছুটল জীবনখানা টাকার পিছু পিছু।
কী এসে যায় পাওনা খাতায় বেশির ভাগই খালি,
শুধু ভালোবাসায় ভরা আমার ছোট্ট একটা থলি।
তবে একটা কথা সার বুঝেছি, বলুক না যে যাই,
পাওয়ার থেকে দেওয়ায় আমোদ শতগুণে ভাই।
যাদের অনেক পথ বাকি আছে, যদি মনে কর,
পরোখ করে দেখতে পার, ঠকবেনা কখ্খনো।
পাওনা গণ্ডার হিসেব ভুলে, দেওয়ায় মাতো যদি,
আপনা আপনি ভরে উঠবে নিজের মনের থলি।
*********************
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
এই কবিতাটি মিলনসাগরেই প্রথম প্রকাশিত হলো, ৭.৭.২০২৪।
সত্তরটি বসন্ত কি চাট্টিখানি কথা?
কত হাসি, কত স্বপ্ন, বিস্ময় বা ব্যথা!
কত ঠিক, কত ভুল, কিছু চাওয়া, কিছু পাওয়া,
জল্পনা আর কল্পনা, দেওয়া আর নেওয়া।
নাই বা হলো অনেক কিছু, অনেক বড় কিছু,
নাই বা ছুটল জীবনখানা টাকার পিছু পিছু।
কী এসে যায় পাওনা খাতায় বেশির ভাগই খালি,
শুধু ভালোবাসায় ভরা আমার ছোট্ট একটা থলি।
তবে একটা কথা সার বুঝেছি, বলুক না যে যাই,
পাওয়ার থেকে দেওয়ায় আমোদ শতগুণে ভাই।
যাদের অনেক পথ বাকি আছে, যদি মনে কর,
পরোখ করে দেখতে পার, ঠকবেনা কখ্খনো।
পাওনা গণ্ডার হিসেব ভুলে, দেওয়ায় মাতো যদি,
আপনা আপনি ভরে উঠবে নিজের মনের থলি।
*********************
বৈদ্য > বেজ্জ > বেইজ
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
কবিতাটি প্রথমে "সমতট" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
তুমি কি তাকে প্রথম দেখাতেই চিনে নিয়েছিলে?
সেই কোন প্রত্যন্ত যুগীপাড়ার রাস্তা থেকে
রামানন্দ যখন একটা ঊনিশ বছরের ছেলেকে
তুলে এনে দাঁড় করিয়ে দিলেন তোমার সামনে !
কী দেখেছিলে ওর চোখে ?
নন্দ মাস্টার তো বলেছিলেন "ও তো সম্পূর্ণ--
ওকে কিছু শেখানোর নেই "।
তবু তোমরা ওকে ফেরাও নি।
কেন রেখে দিলে তোমাদের কাছে?
যুগীপাড়ার মাঠের ঐ হীরের টুকরোর
ঝলকানি কেউ দেখতে পায়নি,
তুমি পেয়েছিলে, রামানন্দ চিনেছিল,
নন্দ মাস্টার তাই বলেছিল, "থাক ক'দিন"।
ভাগ্যিস!
কত বছর লেগেছিল সেই ক'দিন কাটতে ?
খ্যাপা ছেলেটা বালি-কাঁকড়-মাটি দিয়ে
যা ইচ্ছে তৈরি করে ফেলত
তোমরা সবাই তাজ্জব তা দেখে,
তুমি তো বলেই দিলে --
মূর্তিতে মূর্তিতে ভরে দে বিশ্বভারতীর চত্বর।
কিন্তু তুমি কি জান --
সে তোমাকে কী চোখে দেখেছিল ?
মনে পড়ে সেই দিনটার কথা,
এন্ড্রুজ সাহেব মারা গেছেন,
তুমি একাগ্র মনে টেবিলের ওপর ঝুঁকে
স্মরণ সভার লেখা লিখছ,
ও এসে দাঁড়াল চুপটি করে।
একটু পরে তুমি ভুরু কুঁচকিয়ে দেখলে,
খানিক বিরাগ কি জমেছিল মনের কোণে?
কিন্তু সে তো ফিরে যাবার জন্য আসেনি।
সাহস করে বলেই ফেলল ---
"পোট্রেট করব"
ওমনি দু'চারটে হাসির ভাঁজ
খেলে গেল চোখের আনাচে কানাচে,
জানতে চাইলে --- "ওদেশের শিল্পীর মত
মাপজোখ করবে না কি তুমিও ?"
ও তখন ভয়ে আধমরা, বলল,
"না না আমি ছোঁবই না আপনাকে,
আপনি আপনার কাজে মগ্ন থাকুন
আমি থাকব আমার কাজে।"
তাই হয়েছিল -----
তুমি ভুলে গেছিলে কেউ আছে সেখানে,
আর যারা ছিল আশে-পাশে
অথবা ঘোরাঘুরি করছিল এদিক-ওদিক
কেউ টের পায়নি সেই মুহূর্তে
ঠিক কী ঘটে চলেছে সেখানে,
না স্রষ্টা, না সাবজেক্ট, না অন্য কেউ।
কিন্তু শেষের দিকে তুমি ধরে ফেলেছিলে
ঐ কীর্তির মাপকাঠি ঠিক কতটা উঁচুতে।
তাই তো সেদিন ওকে একান্তে ডেকেছিলে।
এন্ড্রুজের ওপর লেখাটা তখন শেষ,
ওর 'দ্য পোয়েট'-ও শেষের পথে.
মগ্ন শিল্পী এক ঝলক মুখ তুলেছিল,
চোখে চোখ পড়তেই
তুমি হাতছানি দিয়ে কাছে ডাকলে,
ও তো ভাবতেই পারেনি তুমি ওকেই ডাকছ,
ভয়ে ভয়ে এদিক ওদিক তাকায় ---
- না আর কেউ তো নেই, তাহলে আমাকেই ....
ধীর পায়ে এগিয়ে এল তোমার কাছে,
এবার তুমি সন্তর্পণে দেখে নিলে
কেউ যেন আশেপাশে না থাকে,
তারপর বললে,
"আরও কাছে আয়, একটা কথা বলি শোন"
ও আরও একটু এগোলে কানে কানে বললে,
"বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়বি কাজে, বুঝলি.....
ঝাঁপিয়ে পড়ে একদম শেষ করে ফেলবি,
শেষ করে আর ফিরে তাকাবি না,
ছেড়ে দিয়ে ঝাঁপ দিবি অন্য কাজে, নতুন কাজে,
বুঝলি ? ---- মনে রাখিস, যা এবার ।"
সে বেচারি তখন স্তম্ভিত !
মনে মনে ভাবছে, কী বললেন কবি !
এ তো কথা নয়, এ তো মন্ত্র !
কোন মন্ত্র দিলে তুমি ওর কানে!
মাতালের মত ঘরে ফিরে সেদিন
কেঁদে ভাসিয়েছিল ছেলেটা,
হিংসে করেছিল নিজের ভাগ্যকে
আর মনটা ভরে উঠেছিল
রামানন্দর প্রতি কৃতজ্ঞতায়,
মন বলছিল, না চাইতেই মিলে গেল
আজ সাত রাজার ধন এক মাণিক।
সারাজীবন এই মন্ত্র আঁকড়েই
বাঘের মত শেষ করে গেছে
একের পর এক মহান কীর্তি।
যা দেখে বিশ্ব আজও বিস্মিত।
*********************
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
কবিতাটি প্রথমে "সমতট" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
তুমি কি তাকে প্রথম দেখাতেই চিনে নিয়েছিলে?
সেই কোন প্রত্যন্ত যুগীপাড়ার রাস্তা থেকে
রামানন্দ যখন একটা ঊনিশ বছরের ছেলেকে
তুলে এনে দাঁড় করিয়ে দিলেন তোমার সামনে !
কী দেখেছিলে ওর চোখে ?
নন্দ মাস্টার তো বলেছিলেন "ও তো সম্পূর্ণ--
ওকে কিছু শেখানোর নেই "।
তবু তোমরা ওকে ফেরাও নি।
কেন রেখে দিলে তোমাদের কাছে?
যুগীপাড়ার মাঠের ঐ হীরের টুকরোর
ঝলকানি কেউ দেখতে পায়নি,
তুমি পেয়েছিলে, রামানন্দ চিনেছিল,
নন্দ মাস্টার তাই বলেছিল, "থাক ক'দিন"।
ভাগ্যিস!
কত বছর লেগেছিল সেই ক'দিন কাটতে ?
খ্যাপা ছেলেটা বালি-কাঁকড়-মাটি দিয়ে
যা ইচ্ছে তৈরি করে ফেলত
তোমরা সবাই তাজ্জব তা দেখে,
তুমি তো বলেই দিলে --
মূর্তিতে মূর্তিতে ভরে দে বিশ্বভারতীর চত্বর।
কিন্তু তুমি কি জান --
সে তোমাকে কী চোখে দেখেছিল ?
মনে পড়ে সেই দিনটার কথা,
এন্ড্রুজ সাহেব মারা গেছেন,
তুমি একাগ্র মনে টেবিলের ওপর ঝুঁকে
স্মরণ সভার লেখা লিখছ,
ও এসে দাঁড়াল চুপটি করে।
একটু পরে তুমি ভুরু কুঁচকিয়ে দেখলে,
খানিক বিরাগ কি জমেছিল মনের কোণে?
কিন্তু সে তো ফিরে যাবার জন্য আসেনি।
সাহস করে বলেই ফেলল ---
"পোট্রেট করব"
ওমনি দু'চারটে হাসির ভাঁজ
খেলে গেল চোখের আনাচে কানাচে,
জানতে চাইলে --- "ওদেশের শিল্পীর মত
মাপজোখ করবে না কি তুমিও ?"
ও তখন ভয়ে আধমরা, বলল,
"না না আমি ছোঁবই না আপনাকে,
আপনি আপনার কাজে মগ্ন থাকুন
আমি থাকব আমার কাজে।"
তাই হয়েছিল -----
তুমি ভুলে গেছিলে কেউ আছে সেখানে,
আর যারা ছিল আশে-পাশে
অথবা ঘোরাঘুরি করছিল এদিক-ওদিক
কেউ টের পায়নি সেই মুহূর্তে
ঠিক কী ঘটে চলেছে সেখানে,
না স্রষ্টা, না সাবজেক্ট, না অন্য কেউ।
কিন্তু শেষের দিকে তুমি ধরে ফেলেছিলে
ঐ কীর্তির মাপকাঠি ঠিক কতটা উঁচুতে।
তাই তো সেদিন ওকে একান্তে ডেকেছিলে।
এন্ড্রুজের ওপর লেখাটা তখন শেষ,
ওর 'দ্য পোয়েট'-ও শেষের পথে.
মগ্ন শিল্পী এক ঝলক মুখ তুলেছিল,
চোখে চোখ পড়তেই
তুমি হাতছানি দিয়ে কাছে ডাকলে,
ও তো ভাবতেই পারেনি তুমি ওকেই ডাকছ,
ভয়ে ভয়ে এদিক ওদিক তাকায় ---
- না আর কেউ তো নেই, তাহলে আমাকেই ....
ধীর পায়ে এগিয়ে এল তোমার কাছে,
এবার তুমি সন্তর্পণে দেখে নিলে
কেউ যেন আশেপাশে না থাকে,
তারপর বললে,
"আরও কাছে আয়, একটা কথা বলি শোন"
ও আরও একটু এগোলে কানে কানে বললে,
"বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়বি কাজে, বুঝলি.....
ঝাঁপিয়ে পড়ে একদম শেষ করে ফেলবি,
শেষ করে আর ফিরে তাকাবি না,
ছেড়ে দিয়ে ঝাঁপ দিবি অন্য কাজে, নতুন কাজে,
বুঝলি ? ---- মনে রাখিস, যা এবার ।"
সে বেচারি তখন স্তম্ভিত !
মনে মনে ভাবছে, কী বললেন কবি !
এ তো কথা নয়, এ তো মন্ত্র !
কোন মন্ত্র দিলে তুমি ওর কানে!
মাতালের মত ঘরে ফিরে সেদিন
কেঁদে ভাসিয়েছিল ছেলেটা,
হিংসে করেছিল নিজের ভাগ্যকে
আর মনটা ভরে উঠেছিল
রামানন্দর প্রতি কৃতজ্ঞতায়,
মন বলছিল, না চাইতেই মিলে গেল
আজ সাত রাজার ধন এক মাণিক।
সারাজীবন এই মন্ত্র আঁকড়েই
বাঘের মত শেষ করে গেছে
একের পর এক মহান কীর্তি।
যা দেখে বিশ্ব আজও বিস্মিত।
*********************
আমার জীবন দেবতার উদ্দেশ্যে
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
কবিতাটি প্রথমে "সমতট" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
দিনটা ছিল খুব হাওয়ার রাত।
খোয়াই জুড়ে রাস পূর্ণিমার
গোল হলুদ চাঁদ,
নরম আলোয় ভেসে যাচ্ছে
পারুল ডাঙার মাঠ।
জোব্বার পকেট থেকে
কাগজটা বের করে
তুমি চেয়ে রইলে উদাস চোখে
ঝাপসা চাউনি হারিয়ে গেল
কোন দূরে বনের পথে।
ওদিকে
স্টকহোমের রয়টার যখন
প্রথম খবরটা ব্রেক করে
তারিখটা নভেম্বরের তের।
চোদ্দর সকাল ন'টা থেকে
সন্ধ্যের এম্পায়ার প'ড়ে রাজপথে
কাগজের হকারদের ছুটোছুটিতে
হুলুস্থুল পড়ে গেছে গোটা শহরে।
জোড়াসাঁকো থেকে গড়ের মাঠ
হাটে-বাজারে শুধু রবির জয়গান।
এদিকে
আশ্রমে টমসন সাহেবের কাছ থেকে
ঘণ্টা কয়েকের ছুটি নিয়ে
তুমি গেলে বনবিহারে
রেল লাইনের পূব পাড় ধরে
জোব্বা উড়িয়ে চললে
পারুল বনের দিকে।
এক আকাশ জ্যোৎস্নার সে রাতে
গৌর প্রাঙ্গণের আলোয়
মাতোয়ারা আশ্রমের সকলে
ঋষির মত মানুষগুলোর চলনেও
যেন সেদিন লেগেছিল ছন্দের তান।
নিয়ম ভেঙে সবাই দিলে ছুটি।
তুমি তখনও কেন এমন উদাস !
মনে বললে 'ওঝা ডাকতে হবে
সম্মানের ভূত তাড়াতে'
কেন মনে পড়ল গীতাঞ্জলির তর্জমা শুরুর গান –
'কোলাহল তো বারণ হল
এবার কথা কানে কানে'
যাদের দিকে চেয়ে
তোমার মন উঠল গেয়ে
'এ মণিহার আমায় নাহি সাজে'।
কিসের জোরে ক্ষমা কর তাদের ?
ওদেরই দেওয়া মদিরা ঠোঁটে স্পর্শ করে
কেমন করে ছুঁড়ে ফেল দূরে ?
আর টাকাটা অবলীলায় দিয়ে দিলে নালা বাঁধাইয়ের কাজে !
প্রেমিকের মত ভালবাসার মানুষের
অভাব তো সেদিন ছিল না
আজ আরও গেছে বেড়ে।
তাইতো সকল কাঁটা ধন্য করে
ফুল ফুটে রয় তোমার বনে আমার মনে,
আজও তাই সকল ব্যথা রঙীন হয়ে
গোলাপ হয়ে ফুটে ওঠে
তোমার মনে আমার বনে।
*********************
কবি মীনাক্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়
কবিতাটি প্রথমে "সমতট" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
দিনটা ছিল খুব হাওয়ার রাত।
খোয়াই জুড়ে রাস পূর্ণিমার
গোল হলুদ চাঁদ,
নরম আলোয় ভেসে যাচ্ছে
পারুল ডাঙার মাঠ।
জোব্বার পকেট থেকে
কাগজটা বের করে
তুমি চেয়ে রইলে উদাস চোখে
ঝাপসা চাউনি হারিয়ে গেল
কোন দূরে বনের পথে।
ওদিকে
স্টকহোমের রয়টার যখন
প্রথম খবরটা ব্রেক করে
তারিখটা নভেম্বরের তের।
চোদ্দর সকাল ন'টা থেকে
সন্ধ্যের এম্পায়ার প'ড়ে রাজপথে
কাগজের হকারদের ছুটোছুটিতে
হুলুস্থুল পড়ে গেছে গোটা শহরে।
জোড়াসাঁকো থেকে গড়ের মাঠ
হাটে-বাজারে শুধু রবির জয়গান।
এদিকে
আশ্রমে টমসন সাহেবের কাছ থেকে
ঘণ্টা কয়েকের ছুটি নিয়ে
তুমি গেলে বনবিহারে
রেল লাইনের পূব পাড় ধরে
জোব্বা উড়িয়ে চললে
পারুল বনের দিকে।
এক আকাশ জ্যোৎস্নার সে রাতে
গৌর প্রাঙ্গণের আলোয়
মাতোয়ারা আশ্রমের সকলে
ঋষির মত মানুষগুলোর চলনেও
যেন সেদিন লেগেছিল ছন্দের তান।
নিয়ম ভেঙে সবাই দিলে ছুটি।
তুমি তখনও কেন এমন উদাস !
মনে বললে 'ওঝা ডাকতে হবে
সম্মানের ভূত তাড়াতে'
কেন মনে পড়ল গীতাঞ্জলির তর্জমা শুরুর গান –
'কোলাহল তো বারণ হল
এবার কথা কানে কানে'
যাদের দিকে চেয়ে
তোমার মন উঠল গেয়ে
'এ মণিহার আমায় নাহি সাজে'।
কিসের জোরে ক্ষমা কর তাদের ?
ওদেরই দেওয়া মদিরা ঠোঁটে স্পর্শ করে
কেমন করে ছুঁড়ে ফেল দূরে ?
আর টাকাটা অবলীলায় দিয়ে দিলে নালা বাঁধাইয়ের কাজে !
প্রেমিকের মত ভালবাসার মানুষের
অভাব তো সেদিন ছিল না
আজ আরও গেছে বেড়ে।
তাইতো সকল কাঁটা ধন্য করে
ফুল ফুটে রয় তোমার বনে আমার মনে,
আজও তাই সকল ব্যথা রঙীন হয়ে
গোলাপ হয়ে ফুটে ওঠে
তোমার মনে আমার বনে।
*********************
