কবি রবীন মালীর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি রবীন মালীর পরিচিতির পাতায় . . .
পিতা আমার ভবনদী
কবি রবীন মালী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৪.৬.২০২৪।

পিতা আমার ভবনদী
মাতা তুমি ভবতরী
    তোমার মাঝে ভেসে ভেসে
    পৌঁছে যাবো অবশেষে—
    আমি মুক্তি পাবো যেই দেশে।

সেথায় আছে ভগবান সৃষ্টিকর্তা
তিনিই জীবের মুক্তিদাতা,
তার নামে আমি গেঁথেছি মালা
সেই মালা আমার অন্তরের আত্মা।

ভগবানের চরণে অর্পণ করে
    মুক্তি পাব জনম ভরে,
আসবো না আর আমি ফিরে
    এই মায়ার জগৎ সংসারে।

ভবনদী দেব পাড়ি,
নাগবে না আমার কোনো কড়ি।
    পিতা আমার ভবনদী,
    মাতা তুমি ভবতরী।

*********************









*
মহান কবি কালিদাস
কবি রবীন মালী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৪.৬.২০২৪।

মহান কবি কালিদাস
    লিখে গেছেন কত হেয়ালী,
আমি এক মায়ের সন্তান
    নাম আমার রবীন মালী।

সারা জীবন রাখবো মাথায়
    শুধু মায়ের চরণধুলি,
জীবনের শেষ নিঃশ্বাস
    আমার থাকবে যত দিন ;
মায়ের চরণে অঞ্জলি
    আমি দেব তত দিন।

মা, আমার সরস্বতী
    মা, আমার মহাকালী,
মায়ের চরণে দেব শুধু
    আমার জীবন বলি।
যমেরও সাধ্য নেই
    করবে আমায় হরণ,
মায়ের চরণে রাখবো দেহ
    হবে আমার মরণ।

*********************









*
পিতা আমার আদি পুরুষ
কবি রবীন মালী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৪.৬.২০২৪।

পিতা আমার আদি পুরুষ
    মাগো, তুমি জগৎ মাতা।
তুমি আমার গর্ভধারিণী
    তুমি আমার জন্মদাতা।
তোমার গর্ভে এসেছি আমি
    তাইতো তুমি আমার সৃষ্টিকর্তা,
তুমি আমার জীবনদাতা
    তোমার চরণে থাকবে মাতা।

আমার দুই চোখের জল,
ধুয়ে দেব তোমার চরণতল।
দুই হাতে করবো তোমার চরণ সেবা,
তোমার থেকে বড় আর আছে কে-বা।
তোমার পায়ে ঠেকিয়ে মাথা,
জুড়াবো আমার মনের ব্যথা।

তোমার ঋণ শোধ করা
    আমার নেই কোনো শক্তি, ক্ষমতা,
পিতা, আমার আদি পুরুষ
    মাগো, তুমি জগৎ মাতা।

*********************









*
ছন্দে ছন্দে কত আনন্দে
কবি রবীন মালী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৪.৬.২০২৪।

ছন্দে ছন্দে কত আনন্দে
    আমি লিখে চলেছি,
কেবল পিতা-মাতার জন্যে
    এই জগৎ সংসারে অরণ্যে।
আমি এসেছি পিতা-মাতার কারণে,
    আমার জীবনে-মরণে।

পিতা-মাতা থাকবে কেবল
আমার অন্তরে, মনে-প্রাণে।
কত আশা নিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে
    পিতা-মাতা এনেছে আমায়।
কেবল তাদের জীবনে
পিতা-মাতার আশা, করবো পূরণ
আমার জীবন দিয়ে, প্রয়োজনে,
    ছন্দে ছন্দে কত আনন্দে
    আমি লিখে চলেছি—
    কেবল পিতা-মাতার জন্যে।

*********************









*
স্বর্গীয় পিতার উদ্দেশে
কবি রবীন মালী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৪.৬.২০২৪।

পিতা তোমার ভালোবাসা
    আমি পাওয়ার আগেই,
    তুমি হারিয়ে গিয়েছ কোথায়—
প্রাণ ভরে ডাকতে পারিনি,
    পিতা বলে আমি তোমায়।
কত কষ্ট যন্ত্রণা বুকে নিয়ে
    দুই চোখের জলে রবীন কেঁদে ভাষায়,
পিতা, তুমি মুক্তির পথে চলে গিয়েছ
    এই জগতে একা ফেলে আমায়।

কেঁদে কেঁদে আমি মরি—
পিতা, তোমায় কত আমি মিস করি।
আমার বুকের কষ্ট যন্ত্রণায়—
    যেখানেই থাকো তুমি,
তোমার চরণ দুটি স্মরণ করে,
    পূজা করবো কেবল আমি।
পিতা, তোমার দুই হাত ভরে,
    আশীর্ব্বাদ করো তুমি আমায়
    তুমি থাকবে আমার আত্মায়।
পিতা, তোমার ভালোবাসা
    আমি পাওয়ার আগেই,
    তুমি হারিয়ে গিয়েছ কোথায়।

*********************









*
এই সুন্দর জগৎ ছেড়ে
কবি রবীন মালী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৪.৬.২০২৪।

এই সুন্দর জগৎ ছেড়ে
    কার-বা যেতে ইচ্ছা করে।
তবুও যেতে হয় সবাইকে
    এই প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে।

আসা আর যাওয়ার মাঝে
মানুষ কত হিংসা, আর অহংকার করে,
মানুষ ব’লে থাকে, আমার জায়গা,
আমার ঘর, আমার টাকা-পয়সা…
আমার দেহ ব’লে চিৎকার করে—
মারা গেলে সবকিছু থাকে পড়ে,
কিছুই নিয়ে যায় না কেউ সাথে করে।
আমার ব’লে কিছুই নেই
    এই মায়ার জগৎ সংসারে।

এমনকী আমার দেহটাও আমার নয়
    সে থাকবে এখানেই পড়ে,
পারবো না আমি নিয়ে যেতে
আমার দেহটাকে সাথে করে।
সাথে নিয়ে যাবো শুধু আমার মনুষ্যত্ব ;
আর ভালোবাসা অন্তরে ধরে
    আর সবকিছু থাকবে পড়ে।
এই জগৎ সংসারের মাঝে
এই সুন্দর জগৎ ছেড়ে—
    কার-বা যেতে ইচ্ছা করে।

*********************









*
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসের গরম কালে
কবি রবীন মালী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৪.৬.২০২৪।

বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসের গরম কালে
ক্লান্ত হয়ে আমি বসেছিলাম,
ঘরের পাশে একটু দূরে
এক মায়াবী বটবৃক্ষের তলে।

হঠাৎ এক ঝোড়ো হাওয়া এসে
বাতাস দিলো আমার গায়ে,
চোখ দুটি বন্ধ ক’রে
ঘুমিয়ে পড়েছি বৃক্ষের তলে।

কখন যে আমার মা এসে
আমার মাথায় দিচ্ছে হাত বুলিয়ে—
তালপাতার পাখা দিয়ে
মা বাতাস দিচ্ছে আমার গায়ে।

হঠাৎ চোখ দেখি মেলে
আমি রয়েছি মায়ের কোলে,
খোকা খোকা—ডেকে আমায় বলে—
কখন এসেছিস বাবা, তুই এই বৃক্ষের তলে‍?

স্বপ্ন নয় সত্য কথা, তাই রবীন বলে,
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসের গরম কালে।

*********************









*
পিতাকে মাথায় রেখে, মায়ের চরণ
কবি রবীন মালী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৪.৬.২০২৪।

পিতাকে মাথায় রেখে, মায়ের চরণ,
তোমরা সবাই, করবে স্মরণ।
পারবে না যম, তোমাদের করতে হরণ,
বিধাতার লেখন ভেঙে যাবে তখন।

বসবে পূজায় তোমরা যখন,
শুধু মায়ের দুই চরণ।
মা এই জগৎ মাতা, মা প্রকৃতি,
মায়ের মাঝে আছে কিন্তু—
সৃষ্টি করার পদ্ম-নাভি।

মায়ের গর্ভে আসেন এক পুরুষ,
আবার আসেন কিন্তু এক নারী।
মা, আমাদের আদি পুরুষ,
মা আমাদের স্বয়ং জগদ্ধাত্রী।

পিতাকে মাথায় রেখে, মায়ের চরণ ;
তোমরা সবাই করবে স্মরণ॥

*********************









*
আমার জায়গা স্বর্গ নয়, নরকও নয়
কবি রবীন মালী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৪.৬.২০২৪।

আমার জায়গা স্বর্গ নয়, নরকও নয়
আমার জায়গা ব্রহ্মলোকও নয়
    আর বিষ্ণুলোকেও নয়,
    আমার জায়গা শুধু মায়ের পায়।

মা যে আমার বেঁচে থাকার গাছ
    আমি থাকবো মায়ের ছায়ায়,
ওটাই আমার আসল জায়গা
    শুধু মায়ের চরণতলায়
    যে মায়ের দয়া, মায়া, মমতায়।

প্রেম, ভালোবাসায় কত কষ্ট যন্ত্রণায়,
তিলে তিলে বড় করেছে মা আমায়।

যে মায়ের আঁচল ধরে আঙুল ধরে
    আমি হেঁটেছি গুটি গুটি পায়,
আমার জায়গা থাকবে
    সেই মায়ের চরণতলায়,
আমার জায়গা স্বর্গ নয়, নরকও নয়।

*********************









*
মাগো, আমায় যখন পড়বে মনে
কবি রবীন মালী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৪.৬.২০২৪।

মাগো, আমায় যখন পড়বে মনে
খুঁজবে তোমার দুই চরণে
    আমায় পাবে তুমি সেই খানে,
আমার হাতের ছোঁয়া, তোমার পায়ে পাবে
    শান্তি আসবে মাগো, তোমার প্রাণে।

আমার ডাকের আওয়াজ
তোমার বাজবে কানে
    শুধু মা, মা, মা বলে—
    আমি যে মা, তোমার ছেলে।
সারা জীবন থাকবো আমি
তোমার পায়ের চরণ ধুলি হয়ে—
মাগো, আমায় যখন পড়বে মনে,
খুঁজবে তোমার দুই চরণে।

*********************