কবি ঋত্বিক ঠাকুর এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি ঋত্বিক ঠাকুর এর পরিচিতির পাতায় . . .
পথের পাঁচালি
কবি ঋত্বিক ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ - ০৭.০৯.২০২৫।

সব্জে খড়িতে আলো আঁধারির ক্যানভ্যাস‌
এ গাঁয়ের গায়ে অলস আলাপে অবকাশ
হেসাডি নয়ত বন্দগাঁও
যেখানেই যাও
এক পা-ও
দেখবে খেলছে ধুলো
মাটিতেই চালচুলো
দিব্বি গাইছে বন্দিশ
উৎসব লেখা জংলি ঠোঁটের শিস
#
গিয়েছি কখন যেন ওই সব খোয়ানোর ঠাটে
ডুবেছি স্বপ্নের ডুবি গণ্ডীছুট পথের তল্লাটে

*********************









*
খিদে পরিচয়
কবি ঋত্বিক ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ - ০৭.০৯.২০২৫।

রোজ রাতে
আকাশ-পাতায় কে যে বেড়ে রাখে
ধবধবে তারা-ভাত
আমি চাঁদ দিয়ে তারা মেখে খাই
খিদে বলে : দুচ্ছাই, যাই।
চেটেপুটে খাওয়া শেষ হলে
অন্ধকার ঢেলে দিই আকাশের পাতে
এঁটো পাতা ধুয়ে মুছে রাখে
কাজের মেয়েটি শুকতারা
ভোর রাতে।
#
রোজ দিন
খিদের ছায়ারা সঙ্গে ঘোরে, ছাড়ে না কিছুতে।
#
শেষ রাতে
আমি আর সূর্য কিন্তু এক‌ই পাতে খাই
আমরা দুই চোরে চোরে মাসতুতো ভাই
কাউকে বলিনি কোন‌ওদিন
কী উপায়ে কাঁদি আমরা
কী উপায়ে চুপিচুপি শিশির ঝরাই।

*********************









*
ঢেকুর গাঁয়ের রোজনামচা
কবি ঋত্বিক ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ - ০৭.০৯.২০২৫।

আমাদের গাঁয়ে ঠিকঠাক বললে
আষাঢ়ের সঙ্গে রোজ ওঠাবসা
ধানরোয়া দিন
থালায় উপুড় একান্নবর্তীর খিদে
ভিজে ভিজে কখন যে ফিরে আসে বাবা
মা তখন আড়াল টেনেছে
দু'চোখের আল ভেঙে ঝরছে
সারাবছরের হাপুস উপোস
আমাদের নদীতে ইলিশ মানে বিদেশিনী
কচুরিপানায় দম ছাড়ে দীর্ঘশ্বাস ও পরানখুড়োর
দেহাতি ডিঙি
পাঁক খুঁড়ে,ওই দেখো, কেতকী ঠাকুমা
তুলে আনছে গেঁড়ি গুগলি
কী দিয়ে যে রাঁধা হবে উনুন জানে না
কতদিন ধোঁয়াই দেখিনি
ঘুঁটে শুকনো করতে গেলেও তো দেয়াল দরকার
এ গ্রামে সবাই পিঠ ঠেকিয়ে রেখেছে
সম্বৎসর মেঘে ও মানতে
#
আমাদের গাঁয়ে তা-ও আকাশ নামিয়ে হাসে
ধুলোকাদামাখা পেটুক বাদল
রোজরোজ সাঁঝপালায় দারুণ জমে যায়
অসম্ভব ঢেকুর মহড়া
#
ঘুম ভাঙায় নিয়ম মেনে বনমোরগের ভিজে ভোর
খাসা আছি আমরা
পারলে দেখে যেও

*********************









*
কুবাই
কবি ঋত্বিক ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ - ০৭.০৯.২০২৫।

কুবাই নদীতে ডুবছে ডুবে যাচ্ছে
কোন‌ও এক বৃষ্টিচরা বালিকা বিকাল
মেঘচুল এলোমেলো খোলা
হাওয়া খেলছে ফোঁটাফোঁটা দিগন্ত বিছিয়ে
কাঁপছে ছায়া অগোচর সন্ধের খোঁপায়
ছায়ার প্রণাম আঁকা অন্ধকার
দাঁড়িয়েছে এসে একলা এক নৌকোভরা
রাত্রি হয়ে
কেউ জানো কুবাই জলের বারোয়ারি গাথা
ওই বিকাল তা জানে
আর‌ও জানে হঠাৎ গোধূলি পাওয়া বখাটে বালক
হাতে লগি জলে ঘূর্ণিলাগা মধুচরকি
চোখে ঘোর আষাঢ় বৈঠকী
ভাসছে দেখো ভাসছে
হেরে যাওয়া বিকাল বিলাস
ও দুঃখ ও অশ্রু আর‌ও আর‌ও বড়ো হ‌ও
বেঁচে থাকো খুনজ্বরে
ডুবের নিয়তি লেখা মিলন মল্লারে
জন্ম জন্ম জন্মান্তরে গাওয়া হোক
কুবাই কাহিনি

*********************









*
জলছবি
কবি ঋত্বিক ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ - ০৭.০৯.২০২৫।

রাত্রি আঁকি। এঁকে রাখি অন্ধকার
একা সাক্ষী বালির ইজেল
মুছে যায়। মুছে মুছে যায়
স্মৃতিভুক বৃষ্টির আলোয়
তুমি বললে, এই রাত্রি কার আত্মকৃতি
কার? প্রতিধ্বনি ফিরে আসে
সমুদ্রবসত থেকে
#
সামান্য ফোঁটায় বাজছে
চুপ জলসা
মল্লার মিথুন
#
শুনতে পাচ্ছ

*********************









*
ঠিক একদিন
কবি ঋত্বিক ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ - ০৭.০৯.২০২৫।

ক‌ই? একটা ব‌ই-ও লিখলাম ক‌ই এ পর্যন্ত
অক্ষর আদল গড়াপেটা করতে করতে একটা লাইন‌ও
লিখেছি, বলো
না, হয়নি লেখা
ব‌ই, ব‌ই, ওই দেখো চালচুলো নেই শব্দ
উড়ে যাচ্ছে রাক্ষসখালির দমকা ঝড়ে
লন্ডভন্ড নৌকোয় টাঙানো এলোমেলো ধ্বস্ত পাণ্ডুলিপি
জলের বৈঠায় বসে বিশ্বখ্যাপা হৃদয় পাটুনি
জানো, ও যাচ্ছে কোথায়
ব‌ই, ব‌ই খুঁজতে
চরে ও অচরে ভেসে যাচ্ছে
নিরক্ষর আনন্দ বুদ্বুদ
একদিন ঠিক ব‌ই হয়ে সমুদ্র সমগ্র

*********************









*
ধন্বন্তরি কথা
কবি ঋত্বিক ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ - ০৭.০৯.২০২৫।

আঁটুল বাটুল শ্যামলা সাটুল রাজার বাড়ি যাবি
রাজপুরীতে জোর মচ্ছব সিদ্ধিচামচ পাবি
#
কী বললি, যাবি না
রাজভোগ খাবি না
কেন
খবরদার, ভুলেও করিস না এহেন
বেয়াদবি
#
রাজা আমাদের মস্ত অনুভবি
অকাতরে বিলিয়ে প্রসাদ
তিনি এক জীবন্ত প্রবাদ
#
কে বললি, চাল নেই
কী বললি, চুলো নেই
তবে
#
হবে হবে একদিন সব হবে
#
ভোল ভোল, নেই দুঃখ ভোল
সব্বাইকে এখুনি ডেকে তোল
যেতে হবে রাজার মহল
তিনিই তো একমাত্র সম্বল
#
কী স্বাদ কী খাসা আহা অমৃতসমান রাজবড়ি
পরমান্ন চেটে খাও, পদতলে যাও গড়াগড়ি
হরি হরি হরি হরি, ঘুমে জাগরণে তাঁকে স্মরি
মুশকিল আসান রাজা, সিদ্ধিদাতা স্বপ্ন ধন্বন্তরি
#
কী বলছিস, হচ্ছে না হবে না কিছুই
রাজ নিন্দে! মরে মরে বেঁচে থাক তুই

*********************









*
পঞ্চমুখীর পাঁচালি
কবি ঋত্বিক ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ - ০৭.০৯.২০২৫।

আপাতত তুলি কালি যা কিছু দিয়েছি জলাঞ্জলি
তোর ঘাটে বসে আছি, চতুর্দিকে আলো বনস্থলি
#
পঞ্চমুখী, অঝোর চরিত, দে, দে, তোর নিশ্চিন্ত ভাসান
আর কোন‌ও শব্দ নয়, মেয়ে, বেঁচে থাক ডুবসিদ্ধি স্নান
#
এসেছি পালিয়ে আগন্তুক
লোকালয় তফাতে থাকুক
#
তোর জলে
কোন ছলে
ফিনকি গান
কী আনচান
সব খোয়ানোর টান
ওহো! আয়ুর সন্ধান
#
ওই দূরে জেগে আছে অন্ধকার কাজল বিকাল
যাব, যাব, ওই পীঠে, ছোঁব তোর অশ্রু গেরস্থাল
#
যে যা খুশি বলে বলুক না সব লোকে
জ্বেলে দে জ্বেলে দে ধুম, এই কানা চোখে

*********************









*
দৃশ্যত
কবি ঋত্বিক ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ - ০৭.০৯.২০২৫।

(১) পানকৌড়ি ডুবছে
জলে আজ নতুন উৎসব
খুশিমেয়ে পাড়ে বসে
ছিপ কাঁপছে প্রথম ভাদুরে রোদে
শিকারের মানে খুঁজছে
মাছরাঙা আলো
নদীতে প্রণাম নৌকো
আলাপে অপেক্ষা
(২)
কোন‌ও দাগ নেই
আততায়ী ফিরে গেছে রাতের মুখোশে
এই, এই তো সকাল
সবুজপাটিতে আড়িমুড়ি ভাঙছে
সূর্যকণ্ঠী নীল
(৩)
পানপেয়ালায় এঁটো চুমু লেগে
ছবিতে তোমার টুকরোটাকরা গল্প
শ্রাবণী পরব
না। মুছিনি কিছুই
সব তুলে দিচ্ছি
কাশের মুঠোয় অবিকল
স্মৃতি স্তব
সম্ভাব্য শরৎ
(৪)
ছিটকিনিতে অনভ্যাস
মরচে লেগে
বললে.. আর‌ও একবার
কথা দাও
আগমনী হবে

*********************









*
দেখে যেতে পার
কবি ঋত্বিক ঠাকুর
মিলনসাগরে প্রকাশ - ০৭.০৯.২০২৫।

এক লেজকাটা টিকটিকির সঙ্গে আমার ডিনার ভাগ করে খাচ্ছি। দু'টো হাতে গড়া রুটি একবাটি মশলা ডাল কানায় কানায় ভরা ম্যাকডোয়েলের পেগ। এ আমার নিজস্ব রাত্রির আড্ডা। অবারিত না হলেও অবধারিত রুটিন এ বৈঠক। দুই নেশাড়ুর।
কেউ নেই বললে ভুল হবে। দক্ষিণ বারান্দা থেকে চাঁদ চুঁইয়ে নেমে আসে ফুটফুটে আকাশ অষ্টমী। সাক্ষী থাকে আমাদের মাতলামির। আর‌ও একজন থাকে। টিকটিক ঘড়ি। মৌনবাক্ নিয়তি গোয়েন্দা।
এই নিয়ে আমার নিশুতি জলসা। টিকটিকি টিকটিক.. চলে চলতে থাকে.. আমি নিশ্চিত অমরতার উপদ্রব পেরিয়ে পালাই আর‌ও একটা বেঁচে ওঠা ঘুমে.. সাক্ষী থাকে উদোম জ্যোৎস্নার ফোঁটাফোঁটা চুপচুমু।
চাইলে আমাকে না জানিয়ে যে কোন‌ও একলা অন্ধকারে এই আত্মকথা দেখে যেতে পার।

*********************