কবি রমেশচন্দ্র দত্তর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি রমেশচন্দ্র দত্তর পরিচিতির পাতায় . . .
সুন্দর বসন্ত
কবি রমেশচন্দ্র দত্ত
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে ১৯৬৩ তে প্রকাশিত “সাহিত্য সাধক চরিত মালা”, ৫ম খণ্ড, ৩য় অধ্যায় ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা লিখিত “রমেশচন্দ্র দত্ত” জীবনীর ৮ম পৃষ্ঠায় কবির এই কবিতাটি দেওয়া রয়েছে। রচনা ৪ঠা এপ্রিল ১৮৬৮। ১৮৬৮ সালে বন্ধু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিলাত যাত্রার পথে মাল্টা দ্বীপ দর্শনের পরে লেখা কবিতা। তাঁর “ইয়োরোপে তিন বৎসর” লেখার অংশ। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.৭.২০২৪।

সুন্দর বসন্তকান্তি শোভিল ধরায়,
নিরানন্দ প্রবাসীর কি সুখ তাহায়।
মাতৃভূমি পরিহরি বিদেশে ভ্রমণ,
অনন্ত সমুদ্র-বক্ষে করি পর্য্যটন।
চারি দিকে উর্ম্মিরাশি ভাষণ কল্লোলে,
উল্লাসে প্রমত্ত যেন আস্ফালিয়া চলে।
প্রবল সাগর-বায়ু উচ্চ রবে ধায়,
প্রবাসীর কর্ণে যেন দুখ-গান গায়।
সুন্দর বসন্ত যথা জগতে পশিছে,
জীবন-বসন্ত মম যৌবনে উদিছে!
ঐ শোন যশোদেবী ভৈরব লিখনে,
ডাকে মোরে, যুঝিবারে যশের কারণে।
সময়-সময়ে কেন ভীরু চিন্তা করি,
দূরে যাক্ বিষণ্ণতা, ---চিন্তা---অশ্রুবারি।
নির্ভয়ে যুঝিব আমি যশের কারণ,
নাহি খেদ, হয় যদি শরীর পতন।

*********************









*
চুলবাঁধা
কবি রমেশচন্দ্র দত্ত
সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার ফাল্গুন ১৩০০ ( ১৮৯৩ ) সংখ্যার ৮৬৯-পৃষ্ঠায় কবির ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত “সমাজ” উপন্যাসের প্রথম পরিচ্ছেদের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.৭.২০২৪।

মাতা। তাই তাই তাই।
শিশু। তাই তাই তাই।
মাতা। মামার বাড়ী যাই।
শিশু। মামা বালি দাই।
মাতা। তাই তাই তাই।
শিশু। তাই তাই তাই।
মাতা। মাসীর বাড়ী যাই ।
শিশু। মাতি বালি দাই।
মাতা। মাসী নেবে কোলে।
শিশু। মাতি নেবে তোলে।
মাতা। সন্দেশ দেবে গালে।
শিশু। তন্দে দেবে দালে।
মাত। ক্ষির দেবে পাতে।
শিশু। থি দেবে পাতে।
মাতা। চিনি দেবে হাতে।
শিশু। তিনি দেবে আতে।
মাতা। বাবা আস্ বেন ঘরে।
শিশু। বাবা আবে দলে।
মাতা। খোকা নেবে কোলে।
শিশু। গাগা নেবে তোলে।
মাতা। হার দেবে গলে।
শিশু। হা দেবে দলে।
মাতা। চুমো দেবে গালে,------

*********************









*
সে উন্নত দুর্গ কাহার
কবি রমেশচন্দ্র দত্ত
কবির ১৮৭৯ সালে প্রকাশিত (১২৮৮ বঙ্গাব্দে, ১৮৯৫ সালে ২য় সংস্করণ), সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাময়িক ঐতিহাসিক উপন্যাস “জীবন সন্ধ্যায়” গ্রন্থের, চতুর্দশ পরিচ্ছেদের, ৭২-পৃষ্ঠায় দেওয়া গীত। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.৭.২০২৪।

গীত।

সে উন্নত দুর্গ কাহার?
যাঁহারা বংশানুক্রমে রক্ষা করিয়াছেন তাঁহাদিগের? ‌
না, যে তস্করের ন্যায় কাড়িয়া লইয়াছে তাঁহার?
তস্করের অবমাননা হইবে। তস্করের হৃদয়শোণিতে রাজপুত-খড়গ রঞ্জিত হইবে।
__________

সে উন্নত দুর্গ কাহার?
যে কুলের নারী দুর্গরক্ষার্থ যুদ্ধগান করে তাহাদিগের? না, যে নারী-
হত্যা @ করিয়া করিয়া দুর্গ অধিকার করে তাহার?
নারী-হত্যাকারী অবমানিত হইবে! নারী হত্যাকারীর হৃদয়-শোণিতে
রাজপুত-খড়গ রঞ্জিত হইবে!
__________

সে উন্নত দুর্গ কাহার?
দে বালকের সম্পত্তি অপহরণ করে তাহার? না, যে বীর-বালক @@ অদ্য
পর্ব্বতকন্দরে বাস করিতেছেন, তাঁহার?
বালক এখন খড়গধারণ করিয়াছেন, হল্ দীঘাটার ভীষণ যুদ্ধে যুদ্ধস্নাত
হইয়াছেন! তস্করের হৃদয়-শোণিতে তাঁহার খড়গ রঞ্জিত হইবে!
__________

সে উন্নত দুর্গ কাহার?
দুর্গরক্ষার্থ যে বীরগণ হত হইয়াছেন, তাঁহাদিগের ; দুর্গচ্যুত হইয়া যাঁহারা
পর্ব্বতে বাস করিতেছেন, তাঁহাদিগের!
সময়ে সে রাজপুতগণ দুর্গ আক্রমণ করিবে, শত্রুরক্তে অসি রঞ্জিত করিয়া
দুর্গ অধিকার করিবে!
__________

@ - চিতোর দুর্গ বিজয়ের সময় পতের @@@ মাতা ও বনিতা স্বহস্তে মোগলদিগের সহিত যুদ্ধদান করিয়া মৃত হয়।

@@ - চিতোরদুর্গ-বিজয়ের সময় প্রতাপসিংহের পিতা জীবিত ছিলেন, সুতরাং প্রতাপ যুবরাজ ছিলেন মাত্র। হল্ দীঘাটার যুদ্ধের সময় প্রতাপ পর্ব্বতে ও কন্দরে সপরিবারে বাস করিতেন।

@@@ - শব্দটি এরকম দেখতে লাগছে কিন্তু অপাঠ্য। সম্ভবত “প্রতাপের” হবে।

*********************









*
প্রভাতে বাগানে গিয়া দেখে এলেম সই
কবি রমেশচন্দ্র দত্ত
কবির ১৮৭৯ সালে প্রকাশিত (১২৮৮ বঙ্গাব্দে, ১৮৯৫ সালে ২য় সংস্করণ), সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাময়িক ঐতিহাসিক উপন্যাস “জীবন সন্ধ্যায়” গ্রন্থের, অষ্টাবিংশ পরিচ্ছেদের, ১১৯-পৃষ্ঠায় দেওয়া ভীল বালিকার কণ্ঠে গীত। গীতটির মাঝে মাঝে তেজ সিংহ ও বালিকার কথোপকথন রয়েছে, যা আমরা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র গীতটিকে এখানে তুলেছি। মিলনসাগরে প্রকাশ ১৬.৭.২০২৪।

প্রভাতে বাগানে গিয়া দেখে এলেম সই!
কিবা অপরূপ কথা শুনে এলেম সই!

ফুটেছে মালতী ফুল, গন্ধেতে করি আকুল!
ধেয়ে এল অলিকুল, দেখে এলেম সই।

অলি এসে গান গায়, ফুল শুনে মুগ্ধ হয়,
‘তুমি নাথ’ ফুল কয়, শুনে এলেম সই।

অলিরাজ ধেয়ে যায়, বায়ু ফুলের মধু খায়,
ফুলে কবে সত্য কয়, দেখিতে পাই কই?
প্রভাতে বাগানে গিয়ে দেখে এলেম সই!
কিবা অপরূপ কথা শুনে এলেম সই!

আর শুনেছ আর শুনেছ নূতন কথা কই।
পুষ্পের হইবে বিয়ে কিন্ তে যাই গো খই।

আর শুনেছ আর শুনেছ নূতন কথা কই।
পুষ্পের হইবে বিয়ে আন্ তে যাই গো খই।
ধেয়ে এল বায়ুরাজ, গায়ে পরিমল সাজ,
অলির মাথায় পড়ে বাজ, শুন্ লে কিনা সই!
আর শুনেছ আর শুনেছ নূতন কথা কই।
পুষ্পের হইবে বিয়ে আন্ তে যাই গো খই।

*********************