কবি রমেশচন্দ্র দত্ত - বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের প্রথম সভাপতি, জন্মগ্রহণ করেন কলকাতায়। পিতা ঈশানচন্দ্র দত্ত এবং মা থাকোমণি দেবী। পিতা ঈশানচন্দ্র ছিলেন ডেপুটি কালেক্টার।
পিতার বদলীর চাকরীর জন্য রমেশচন্দ্র বিভিন্ন স্কুলে পড়াশুনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী মথুরানাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলকাতার কলুটোলা ব্রাঞ্চ স্কুল (ডেভিড হেয়ার সাহেবের প্রতিষ্ঠিত হেয়ার স্কুল)। এই স্কুলে তাঁর সহপাঠী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জ্যোতিদাদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৮৬৪ সালে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২য় স্থান অধিকার করে। ১৮৬৬ সালে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ফার্স্ট আর্টস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৮৬৮ সালে পরিবারের অনুমতি না নিয়েই তিনি এবং তাঁর দুই বন্ধু বিহারীলাল গুপ্ত ও সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর (১৮৯৫ তে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি, রাষ্ট্রগুরু) সঙ্গে ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে তিনজনই ICS পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে ফিরে আসেন। রমেশচন্দ্র ১৮৬৯ সালের ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ওপেন এক্সামিনেশন এ ৩য় স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন।
তাঁর সিভিল সার্ভিসের কর্মজীবনও ভীষণভাবে উল্লেখনীয়। তিনি ১৮৭১ সালে আলীপুরের সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগদান করেন। ১৮৭৪ সালে ভীষণ সাইক্লোনের ফলে নদীয়া জেলার মেহেরপুরে এবং ১৮৭৬ সালে ভোলা জেলার দক্ষিণ শাহবাজপুরে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এলাকাগুলিতে জরুরি ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ পরবর্তী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ রমেশচন্দ্রর তত্ত্বাবধানে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল।
রমেশচন্দ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৮৯৯ সালে তিনি জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিলেন। ৩১.৫.১৯০৫ তারিখে কংগ্রেস অধিবেশনের সঙ্গে স্বদেশী শিল্পের পুনরুজ্জীবন, উন্নতিসাধন ও স্বদেশজাত দ্রব্যের ব্যবহার বিষয়ে যে শিল্প-সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, তিনি সেই অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন। তিনি বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলেরও সদস্য হয়েছিলেন।
১৮৯৭ সালে সময়ের পূর্বেই মাত্র ৪৯ বছর বয়সে, ইংরেজ সরকারের তাঁর প্রতি বিশ্বাস না দেখানের জন্য, অবসর গ্রহণ করার পরে ইংল্যাণ্ডে গিয়ে ইউনিভার্সিটি কলেজ, লণ্ডন-এ কিছুদিন অধ্যাপনা করেন এবং শেষ করেন তাঁর বিখ্যাত থিসিস Economic Nationalism । তাঁর অপর একটি থিসিস De-Industrialization of India under the British rule ও বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এর পরে তিনি ভারতে ফিরে এসে বরোদার মহারাজার দেওয়ান হন। সেখানেই তিনি ৩০শে নভেম্বর ১৯০৯ তারিখে পরলোক গমন করেন।
তিনি মূলত একজন ঐতিহাসিক ছিলেন। তাঁর পিতার বন্ধু, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অনুরোধে তিনি বাংলা উপন্যাস রচনায় হাত দেন এবং বিশেষ সাফল্য অর্জন করেন।
১৮৯৪ সালে রমেশচন্দ্র দত্ত বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নবীনচন্দ্র সেন সেই পরিষদের সহ-সভাপতি ছিলেন।
ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ১৮৯২ সালে Companionship of the Indian Empire (CIE) উপাধি ও মেডেলে ভূষিত করেন।
তাঁর ইংরেজী গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছে The Peasantry of Bengal (1874), “The Literature of Bengal” (1895), “Three Years in Europe, 1868 to 1871” (1896), “A History of Civilization in Ancient India”, Based on Sanscrit Literature (3 vols), “Reminiscences of a Workman's Life: verses”, “England and India: a record of progress during a hundred years, 1785–1885” (1897), “Mahabharata”, the epic of India rendered into English verse (1898), “The Ramayana”, the epic of Rama rendered into English verse, “Lays of Ancient India” (1894) ভারতীয় কাব্যের ইংরেজী অনুবাদ, “Shivaji ; or the morning of Maratha life” (1899), “The Civilization of India” (1900), Open Letters to Lord Curzon on Famines and Land Assessments in India (1900), Indian Famines (1901), “The Economic History of India Under Early British Rule. From the Rise of the British Power in 1757 to the Accession of Queen Victoria in 1837” (1904), “History of India, Volume 1” (1907) ETC. এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকাতেও তাঁর লেখা কয়েকটি প্রবন্ধ রয়েছে (১৯০২)।
তাঁর বাংলা গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক উপন্যাস “বঙ্গ বিজেতা” (১৮৭৪), “মাধবী কঙ্কণ” (১৮৭৯), “জীবন সন্ধ্যা” (১৮৮১) ও “জীবন প্রভাত” (১৮৮০)। রয়েছে সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ “ঋগ্বেদ” (১৮৯৩), সামাজিক উপন্যাস “সমাজ” (১৮৮৫), “সংসার” (১৮৯৩) প্রভৃতি। তিনি স্কুলের উপযোগী করে বাংলা ও ভারতের ইতিহাস লিখেছিলেন।
এখানে কবির বিভিন্ন গ্রন্থ প্রকাশনার কিছু প্রকাশ কাল সম্বন্ধে আমাদেরও সংশয় রয়েছে। যতটা সম্ভব সঠিক দেবার চেষ্টা করা হলো। এর জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।
কবি হিসেবে রমেশচন্দ্র দত্তর পরিচিতি সর্বজনবিদিত না থাকলেও, তাঁর বিভিন্ন উপন্যাসের অঙ্গ হিসেবে রচনা করে গিয়েছেন কিছু গীত, যা আমরা এখানে তাঁর কবিতা ও গান হিসেবে তুলে ধরেছি।
বাঙালী জাতির বহু বদনাম আছে যা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁরা অলস, তাঁরা আড্ডাবাজ ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এমন বাঙালীও খুব বেশী পাওয়া যাবে না যাঁরা জীবনে কখনও কোন কবিতা লেখেন নি! তাই মিলনসাগর কেবল মাত্র কবিতার সংগ্রশালা নয়, কবিদের জীবনীর ভিতর দিয়ে আমরা সমগ্র বাংলার ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করে চলেছি।
তাই কবি রমেশচন্দ্র দত্তর মত মানুষের লেখা কবিতা পেয়ে তাঁকে মিলনসাগরে আসন দিতে পেরে আমরা ধন্য।
কবি রমেশচন্দ্র দত্তর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
উৎস -
উৎস -
-
কবি শিশিরকুমার দাশ সংকলিত ও সম্পাদিত "সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী", ১ম খণ্ড, ১৯৭৬।
-
সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত "সংসদ বাঙালি চরিতাবিধান", ২০০৩।
- Wikipedia, Romesh Chunder Dutt
- বাংলা উইকিপিডিয়া, রমেশচন্দ্র দত্ত
- আর্কাইভ.অর্গ
আমাদের ই-মেল : srimilansengupta@yahoo.co.in
হোয়াটসঅ্যাপ : +৯১ ৯৮৩০৬৮১০১৭
এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১৬.৭.২০২৪।
- Wikipedia, Romesh Chunder Dutt