কবি সাগরিকা সেনগুপ্তর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
পুজো – জেনারেশন - এক্স
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
আচমকা একটা গেল গেল রব।
চায়ের ভাঁড় হাতে দোকানী ছেলেটা পড়েছে একেবারে মাঝরাস্তায়---
সাইকেলের চাকাটা উঠেছে ওর পায়ের উপর।
ওহ! আজকের পথের পরিসরও তো সংক্ষিপ্ত।
পুজো এল যে!
স্পন্সরের পুজোয় চাপা পড়ে যায় মা-দুগ্গা।
এফ্-এম্ চ্যানেলের বিরাট তোরণ,
কখনও বা তারকা-খচিত সিংহদুয়ার,
সঙ্গে পশরা বা পশারিনীর দেহ-বল্লরীর উন্মত্ত হাতছানি,---
হয়তো বা কিশোর ছেলেটা আন্ মনা হয়েছিল . . .
তাতেই তো ঘটল অঘটন!
ফুলের মালা, . . . দীপের আলো, . . . ধূপের ধোঁওয়ার আড়াল হলেও
বুঝতাম --- এ আয়োজন মায়ের পূজার।
. . . ব্যানারে ব্যানারে মুখ ঢেকে --- ও পাশের থিরথির জল,
এখন আয়োজকরা ব্যস্ত হাতে গাছের ডাল ছাঁটে ---
. . . থিমটা এবার জমে যাবে ---
পুরস্কারটা পেতেই হবে নিদেন পক্ষে তিন,---
সেলফোনের এস্-এম্-এস্ও এখন বড্ড দামী।
কালের দাবীতে মা-দুর্গাও বোধনের আগেই
চতুর্থীতেই উদ্বোধনে সমুজ্জ্বল।
ফিতে কাটার লিস্টিতে আজ মহারথীদের ভীড়
রাজনীতির দরবার থেকে অভিনেতা ---
খেলোয়াড় থেকে ব্যারিস্টার --- তারকা গুনতিতে
কেউ কম যান না।
হে মা দুগ্গা! তুমি কত নম্বরে পড়লে?
চারদিনের পুজো শেষে সেই হিসাব কষতে কষতেই
পৌঁছে যেও পাগলা-ভোলার ঘরে!
আর শোনো ---
আসছে বছর --- আবার এসো॥
*********************
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
আচমকা একটা গেল গেল রব।
চায়ের ভাঁড় হাতে দোকানী ছেলেটা পড়েছে একেবারে মাঝরাস্তায়---
সাইকেলের চাকাটা উঠেছে ওর পায়ের উপর।
ওহ! আজকের পথের পরিসরও তো সংক্ষিপ্ত।
পুজো এল যে!
স্পন্সরের পুজোয় চাপা পড়ে যায় মা-দুগ্গা।
এফ্-এম্ চ্যানেলের বিরাট তোরণ,
কখনও বা তারকা-খচিত সিংহদুয়ার,
সঙ্গে পশরা বা পশারিনীর দেহ-বল্লরীর উন্মত্ত হাতছানি,---
হয়তো বা কিশোর ছেলেটা আন্ মনা হয়েছিল . . .
তাতেই তো ঘটল অঘটন!
ফুলের মালা, . . . দীপের আলো, . . . ধূপের ধোঁওয়ার আড়াল হলেও
বুঝতাম --- এ আয়োজন মায়ের পূজার।
. . . ব্যানারে ব্যানারে মুখ ঢেকে --- ও পাশের থিরথির জল,
এখন আয়োজকরা ব্যস্ত হাতে গাছের ডাল ছাঁটে ---
. . . থিমটা এবার জমে যাবে ---
পুরস্কারটা পেতেই হবে নিদেন পক্ষে তিন,---
সেলফোনের এস্-এম্-এস্ও এখন বড্ড দামী।
কালের দাবীতে মা-দুর্গাও বোধনের আগেই
চতুর্থীতেই উদ্বোধনে সমুজ্জ্বল।
ফিতে কাটার লিস্টিতে আজ মহারথীদের ভীড়
রাজনীতির দরবার থেকে অভিনেতা ---
খেলোয়াড় থেকে ব্যারিস্টার --- তারকা গুনতিতে
কেউ কম যান না।
হে মা দুগ্গা! তুমি কত নম্বরে পড়লে?
চারদিনের পুজো শেষে সেই হিসাব কষতে কষতেই
পৌঁছে যেও পাগলা-ভোলার ঘরে!
আর শোনো ---
আসছে বছর --- আবার এসো॥
*********************
কল্লোলিনী তিলোত্তমা
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
কে যেন বলেছিল – ‘কলকাতা একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে’।
হে ‘কল্লোলিনী’ কলকাতা, ‘তিলোত্তমা’ কলকাতা ---
তোমার এখন নতুন নাম তো ‘মিছিল-নগরী’।
রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক, প্রতিবাদী, মৌনমিছিল, শোকের মিছিল,
নানা পরিক্রমায় ঢেকে যায় নগর কলকাতা!
এখন আশ্বিনের এই শারদ কলকাতা প্রকৃতই কল্লোলিনী!
মণ্ডপে মণ্ডপে তিলেত্তমা সম্মানের লড়াই ---
প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা, পরিবেশ, সুরক্ষা, আলোকসজ্জার বাহার ---
প্রতিযোগিতার অন্ত নেই।
সেই সঙ্গে আর এক লড়াই – দর্শনার্থীর ভিড় টানার।
মণ্ডপে সালঙ্কারা অসুরদলনী দেবী কোন অসুরকে বধ করছেন ---
জানি না।
শুধু এটুকু জানি ---
পুজোর এখন নতুন সংযোজন ---
ক্লোস্ড-সার্কিট ক্যামেরার অতন্দ্র প্রহরা ; জঙ্গীহানার ভয়ে
সোনার কাঠিটি হয়েছে কখন ‘মেটাল ডিটেকটার’!
তবুও ... সর্পিল মিছিল সব --- ঘুরে ঘুরে ঢোকে ---
মণ্ডপের প্রবেশদ্বার পেরিয়ে --- ডান থেকে বামে, ---
আবার বাম ঘুরে সোজা ; সামনে --- কখনো পাহাড়ের চড়াই,
কখনো পাতালের উৎরাই! মিছিলের শেষ কোথায়, কে জানে!
ধৈর্য্য অটুট! হোক না রাতটাই কাবার! ---শারদ-সম্মানে ভূষিতা প্রতিমা---
ছাড়া তো যায় না!
মধ্যরাতের কল্লোলিনী! মিছিলে মিছিলে এ তোমার অন্যরূপ ;
শুধুই মানুষ নয় --- গাড়ীও মিছিলে গড়ায়।
কোলের শিশুটা পড়েছে ঘুমিয়ে,
হাতে ধরা বেলুনটা খসে পড়েছে কখন ---
টের পায় নি মাও।
আট বছরের মেয়েটার উৎসাহটা একটু বেশী ---
বাবার জামাটা আঁকড়ে ধরে দুচোখ সটান।
তবু --- মণ্ডপের হিসাব ফুরাতে না ফুরাতে
গায়ে লাগে শেষ রাতের হিমেল পরশ ; ---
সপ্তমীর চাঁদও ঢলেছে কখন ---
কল্লোলিনীর কলতান স্তব্ধ হয়ে আসে।
এবার ঘুমাও কলকাতা॥
*********************
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
কে যেন বলেছিল – ‘কলকাতা একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে’।
হে ‘কল্লোলিনী’ কলকাতা, ‘তিলোত্তমা’ কলকাতা ---
তোমার এখন নতুন নাম তো ‘মিছিল-নগরী’।
রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক, প্রতিবাদী, মৌনমিছিল, শোকের মিছিল,
নানা পরিক্রমায় ঢেকে যায় নগর কলকাতা!
এখন আশ্বিনের এই শারদ কলকাতা প্রকৃতই কল্লোলিনী!
মণ্ডপে মণ্ডপে তিলেত্তমা সম্মানের লড়াই ---
প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা, পরিবেশ, সুরক্ষা, আলোকসজ্জার বাহার ---
প্রতিযোগিতার অন্ত নেই।
সেই সঙ্গে আর এক লড়াই – দর্শনার্থীর ভিড় টানার।
মণ্ডপে সালঙ্কারা অসুরদলনী দেবী কোন অসুরকে বধ করছেন ---
জানি না।
শুধু এটুকু জানি ---
পুজোর এখন নতুন সংযোজন ---
ক্লোস্ড-সার্কিট ক্যামেরার অতন্দ্র প্রহরা ; জঙ্গীহানার ভয়ে
সোনার কাঠিটি হয়েছে কখন ‘মেটাল ডিটেকটার’!
তবুও ... সর্পিল মিছিল সব --- ঘুরে ঘুরে ঢোকে ---
মণ্ডপের প্রবেশদ্বার পেরিয়ে --- ডান থেকে বামে, ---
আবার বাম ঘুরে সোজা ; সামনে --- কখনো পাহাড়ের চড়াই,
কখনো পাতালের উৎরাই! মিছিলের শেষ কোথায়, কে জানে!
ধৈর্য্য অটুট! হোক না রাতটাই কাবার! ---শারদ-সম্মানে ভূষিতা প্রতিমা---
ছাড়া তো যায় না!
মধ্যরাতের কল্লোলিনী! মিছিলে মিছিলে এ তোমার অন্যরূপ ;
শুধুই মানুষ নয় --- গাড়ীও মিছিলে গড়ায়।
কোলের শিশুটা পড়েছে ঘুমিয়ে,
হাতে ধরা বেলুনটা খসে পড়েছে কখন ---
টের পায় নি মাও।
আট বছরের মেয়েটার উৎসাহটা একটু বেশী ---
বাবার জামাটা আঁকড়ে ধরে দুচোখ সটান।
তবু --- মণ্ডপের হিসাব ফুরাতে না ফুরাতে
গায়ে লাগে শেষ রাতের হিমেল পরশ ; ---
সপ্তমীর চাঁদও ঢলেছে কখন ---
কল্লোলিনীর কলতান স্তব্ধ হয়ে আসে।
এবার ঘুমাও কলকাতা॥
*********************
সুরে - সৌরভে
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
হঠাৎ পথে চলতে গিয়ে
শিউলি ফোটা – ঘ্রাণ
ফিরিয়ে দিল মনের কোণে
সে শৈশবের প্রাণ!
শিউলি চাদরে ছেলেবেলা যেন
নিমেষে উজল ছবি ---
আলো-আঁধারিতে কাড়াকাড়ি পড়ে
‘কে কত ফুল যে নিবি’।
আন্ মনা পায়ে হঠাৎ কানেতে
চেনা সে গানের কলি ---
মনে এনে দেয় ফেলে আসা সেই
কলেজের দিনগুলি!
স্মৃতির ঝাপ্ সা চাদরেতে ঢাকা
মন-মণিকোঠা যেন
সহসা গানের পরশেতে আজ
সজীব সতেজ হেন।
এম্ নি করেই মনের মাঝেতে
ফিরে দেখবার খেলা ---
কাজের মাঝে যে আনমনা হই
সহসা বেলা-অবেলা!
গানে আর ঘ্রাণে জীবন আমার
বেজে ওঠে বারে বারে ---
নতুন ছন্দে নতুন গন্ধে
প্রাণের বীণার তারে॥
*********************
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
হঠাৎ পথে চলতে গিয়ে
শিউলি ফোটা – ঘ্রাণ
ফিরিয়ে দিল মনের কোণে
সে শৈশবের প্রাণ!
শিউলি চাদরে ছেলেবেলা যেন
নিমেষে উজল ছবি ---
আলো-আঁধারিতে কাড়াকাড়ি পড়ে
‘কে কত ফুল যে নিবি’।
আন্ মনা পায়ে হঠাৎ কানেতে
চেনা সে গানের কলি ---
মনে এনে দেয় ফেলে আসা সেই
কলেজের দিনগুলি!
স্মৃতির ঝাপ্ সা চাদরেতে ঢাকা
মন-মণিকোঠা যেন
সহসা গানের পরশেতে আজ
সজীব সতেজ হেন।
এম্ নি করেই মনের মাঝেতে
ফিরে দেখবার খেলা ---
কাজের মাঝে যে আনমনা হই
সহসা বেলা-অবেলা!
গানে আর ঘ্রাণে জীবন আমার
বেজে ওঠে বারে বারে ---
নতুন ছন্দে নতুন গন্ধে
প্রাণের বীণার তারে॥
*********************
দিন আসে, দিন যায়
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
প্রখ্যাত স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ মিহির চট্টোপাধ্যায়ের স্মরণে লেখা। রচনা ২৫.৩.২০১৭। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
দিন আসে, দিন যায়
কত স্মৃতি ভেসে যায়-
কালচক্রে কত লয়-ক্ষয়।
স্মৃতির অরণ্যে দেখি
মথিয়া সকল ছবি
মহীরূহ এক জেগে রয়।
সূর্যসম দীপ্তি যাঁর
স্বনামে ধন্য তাঁর
কর্মব্যাপী সমস্ত জীবন!
তাঁরই আলোর স্পর্শে
মোদের চেতনা হর্ষে
ধন্য মোদের প্রাণমন।
হৃদয়ে স্নেহ অপার,
হাসিমুখ সদা তাঁর
কৌতুকে ছিল মায়াময়।
আজিও তেমনই ভাবে
পেয়ে থাকি মোরা সবে
আশীর্বাদী দৃষ্টি বাঙ্ময়!
আজো তাঁর পদতলে,
সুরে, ছন্দে, ভাবে, তালে
সংগীতেরই পাঠ লভি যবে।
সমুখে প্রখরদ্যুতি
উদ্ভাস লব্ধকীর্তি
দৃষ্টি তব আশ্বাসিছে সবে।
তাই, বৎসরের বেদনায়
শূন্যমন পূর্ণ হয়,
আশ্বাসবাণীতে ভরে প্রাণ।
আছ অমর সকল মর্মে
তোমারই মহৎ কর্মে
প্রণতি লহ হে মহাপ্রাণ!
*********************
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
প্রখ্যাত স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ মিহির চট্টোপাধ্যায়ের স্মরণে লেখা। রচনা ২৫.৩.২০১৭। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
দিন আসে, দিন যায়
কত স্মৃতি ভেসে যায়-
কালচক্রে কত লয়-ক্ষয়।
স্মৃতির অরণ্যে দেখি
মথিয়া সকল ছবি
মহীরূহ এক জেগে রয়।
সূর্যসম দীপ্তি যাঁর
স্বনামে ধন্য তাঁর
কর্মব্যাপী সমস্ত জীবন!
তাঁরই আলোর স্পর্শে
মোদের চেতনা হর্ষে
ধন্য মোদের প্রাণমন।
হৃদয়ে স্নেহ অপার,
হাসিমুখ সদা তাঁর
কৌতুকে ছিল মায়াময়।
আজিও তেমনই ভাবে
পেয়ে থাকি মোরা সবে
আশীর্বাদী দৃষ্টি বাঙ্ময়!
আজো তাঁর পদতলে,
সুরে, ছন্দে, ভাবে, তালে
সংগীতেরই পাঠ লভি যবে।
সমুখে প্রখরদ্যুতি
উদ্ভাস লব্ধকীর্তি
দৃষ্টি তব আশ্বাসিছে সবে।
তাই, বৎসরের বেদনায়
শূন্যমন পূর্ণ হয়,
আশ্বাসবাণীতে ভরে প্রাণ।
আছ অমর সকল মর্মে
তোমারই মহৎ কর্মে
প্রণতি লহ হে মহাপ্রাণ!
*********************
কেমন আছো, নন্দীগ্রাম?
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
রচনা - ষষ্ঠী (অক্টোবর) ২০০৮। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
হঠাৎ ---তুমুল ধারার ফাঁকে ফাঁকে
নীল আকাশের ঝলক ---
মা – র যে আসার সময় হল!
শহর জুড়ে সাজো সাজো রব ---
কুমোরপাড়ায় শিল্পীর ব্যস্ত হাত ---
আর কপালে চিন্তার ভাঁজ --- বর্ষা কি এবারও ভিলেন?
এই সময়ে --- কেমন আছো, নন্দীগ্রাম?
সিঙ্গুরে টাটার হু-হুঙ্কার, ইচ্ছুক – অনিচ্ছুকের হিসাব-নিকাষ
আর প্যাকেজের প্রলেপে ---
তোমাকে কি মনে রেখেছে কেউ?
কদিন আগে দেখে এলাম ---
নীল আকাশে পেঁজা তুলো আর
নীচে সাদা কাশের দোলা ---
শহুড়ে চোখে তৃষ্ণার ছোঁওয়া। --- মনে পড়ল
শরৎ তো এখন তোমার আঙিনায়ও, নন্দীগ্রাম!
মেঠো পথের আলের ধারে ---
পোড়া ঘরগুলির আঙিনায় --- মায়ের কি বোধন হ’লো?
একটি ঘটও কি বসল এবার?
দশভূজা মা গো!
মৃন্ময়ী রূপে না হোক, তোমার চিন্ময়ীরূপ জেগে থাক
সেই ইজ্জৎ হারানো কিন্তু মান-হুঁশ সামলে রুখে দাঁড়ানো
মানুষ মায়েদের বুকে!
খড়গ-জ্বলা দুর্বার হাতের অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে ---
যারা আগলেছে তাদের মাটিকে --- তাদের মাকে!
তোমার পূজার নৈবেদ্য সাজিয়েছিল ওরা ---
কারুর মেয়ে, কারুর ছেলে, কারুর স্বামী --- কেউবা
নিজেদেরই দিয়েছিল বলি ---
কিন্তু, রক্ষা করেছিল তোমাকে।
তাই, মা গো! ওদের তুমি শক্তি দাও॥
*********************
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
রচনা - ষষ্ঠী (অক্টোবর) ২০০৮। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
হঠাৎ ---তুমুল ধারার ফাঁকে ফাঁকে
নীল আকাশের ঝলক ---
মা – র যে আসার সময় হল!
শহর জুড়ে সাজো সাজো রব ---
কুমোরপাড়ায় শিল্পীর ব্যস্ত হাত ---
আর কপালে চিন্তার ভাঁজ --- বর্ষা কি এবারও ভিলেন?
এই সময়ে --- কেমন আছো, নন্দীগ্রাম?
সিঙ্গুরে টাটার হু-হুঙ্কার, ইচ্ছুক – অনিচ্ছুকের হিসাব-নিকাষ
আর প্যাকেজের প্রলেপে ---
তোমাকে কি মনে রেখেছে কেউ?
কদিন আগে দেখে এলাম ---
নীল আকাশে পেঁজা তুলো আর
নীচে সাদা কাশের দোলা ---
শহুড়ে চোখে তৃষ্ণার ছোঁওয়া। --- মনে পড়ল
শরৎ তো এখন তোমার আঙিনায়ও, নন্দীগ্রাম!
মেঠো পথের আলের ধারে ---
পোড়া ঘরগুলির আঙিনায় --- মায়ের কি বোধন হ’লো?
একটি ঘটও কি বসল এবার?
দশভূজা মা গো!
মৃন্ময়ী রূপে না হোক, তোমার চিন্ময়ীরূপ জেগে থাক
সেই ইজ্জৎ হারানো কিন্তু মান-হুঁশ সামলে রুখে দাঁড়ানো
মানুষ মায়েদের বুকে!
খড়গ-জ্বলা দুর্বার হাতের অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে ---
যারা আগলেছে তাদের মাটিকে --- তাদের মাকে!
তোমার পূজার নৈবেদ্য সাজিয়েছিল ওরা ---
কারুর মেয়ে, কারুর ছেলে, কারুর স্বামী --- কেউবা
নিজেদেরই দিয়েছিল বলি ---
কিন্তু, রক্ষা করেছিল তোমাকে।
তাই, মা গো! ওদের তুমি শক্তি দাও॥
*********************
পল্লব তোকে—
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
রচনা ২০২৩। কবি তাঁর স্মরণসভায় কবিতাটি পাঠ করেন। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া--বড়ই সোজা মানি।
হৃদয় থেকে হারানো? সে সহজ নয় তা জানি!
প্রাণোচ্ছল , হাসিমুখের
আড্ডাবাজ আর সৌহার্দ্যের
প্রতীকরূপে পল্লবিত জীবনীশক্তি যার
মনের মাঝে জেগে আছে আজ সে সবাকার!
মৃত্যু বুঝি হেরে গেছে তাই যে তোরই কাছে--
সেইখানেতেই জয়ী হয়ে আছিস সবার মাঝে!
ভেবেছি কি আজ এখানে
মিলব সবাই এই কারণে?!
বেদনভরা এ অঞ্জলি থাকল তোরই প্রতি--
শান্তি আসুক, ভাল থাকিস। রইল প্রণতি।
*********************
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
রচনা ২০২৩। কবি তাঁর স্মরণসভায় কবিতাটি পাঠ করেন। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া--বড়ই সোজা মানি।
হৃদয় থেকে হারানো? সে সহজ নয় তা জানি!
প্রাণোচ্ছল , হাসিমুখের
আড্ডাবাজ আর সৌহার্দ্যের
প্রতীকরূপে পল্লবিত জীবনীশক্তি যার
মনের মাঝে জেগে আছে আজ সে সবাকার!
মৃত্যু বুঝি হেরে গেছে তাই যে তোরই কাছে--
সেইখানেতেই জয়ী হয়ে আছিস সবার মাঝে!
ভেবেছি কি আজ এখানে
মিলব সবাই এই কারণে?!
বেদনভরা এ অঞ্জলি থাকল তোরই প্রতি--
শান্তি আসুক, ভাল থাকিস। রইল প্রণতি।
*********************
বাগান যখন শিক্ষাগুরু
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
বাগানও এক শিক্ষাগুরু, হবেই সেটা মানতে--
অনেক কিছুই শিখছি মোরা মোদের অজান্তে!
সবুজপাতা শিক্ষা দিল যোগাতে হয় আহার--
সৌন্দর্যের পাঠ দিল ভাই রঙিন ফুলের বাহার।
কোমলতার পাঠ শেখাল ভিজে ঘাসের দল,
ফণীমনসা শিখিয়ে দিল ধরতে হবে জল।
শিকড় যেন প্রতিষ্ঠারই মন্ত্র শিক্ষা দেয়--
সর্বপ্রকার বাধা ঠেলে এগিয়ে চলতে চায়!
কুঁড়ির কাছে শিখে নিলাম বিকাশ পাবার জ্ঞান,
ফুলের হাসি শেখায় আমায় ভালবাসার দান।
সৌরভেরই কাছে শিখি ছড়িয়ে পড়ার বাণী --
মৌমাছিরা সঞ্চয়েরই কথা শেখায়, জানি।
মাটি যেমন চিনিয়ে দিল উর্বরতার স্বাদ
প্রভাতবেলায় বাগান ঘুচায় মনের অবসাদ।
তাই তো তোমায় নমি বাগান, হে মোর শিক্ষাগুরু!
তোমায় নতি জানিয়ে আমার দিনটি যে হয় শুরু॥
*********************
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
বাগানও এক শিক্ষাগুরু, হবেই সেটা মানতে--
অনেক কিছুই শিখছি মোরা মোদের অজান্তে!
সবুজপাতা শিক্ষা দিল যোগাতে হয় আহার--
সৌন্দর্যের পাঠ দিল ভাই রঙিন ফুলের বাহার।
কোমলতার পাঠ শেখাল ভিজে ঘাসের দল,
ফণীমনসা শিখিয়ে দিল ধরতে হবে জল।
শিকড় যেন প্রতিষ্ঠারই মন্ত্র শিক্ষা দেয়--
সর্বপ্রকার বাধা ঠেলে এগিয়ে চলতে চায়!
কুঁড়ির কাছে শিখে নিলাম বিকাশ পাবার জ্ঞান,
ফুলের হাসি শেখায় আমায় ভালবাসার দান।
সৌরভেরই কাছে শিখি ছড়িয়ে পড়ার বাণী --
মৌমাছিরা সঞ্চয়েরই কথা শেখায়, জানি।
মাটি যেমন চিনিয়ে দিল উর্বরতার স্বাদ
প্রভাতবেলায় বাগান ঘুচায় মনের অবসাদ।
তাই তো তোমায় নমি বাগান, হে মোর শিক্ষাগুরু!
তোমায় নতি জানিয়ে আমার দিনটি যে হয় শুরু॥
*********************
সবুজ-শপথ
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
২০২১ সালে অতিমারি করোনার সময়ে রচিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
শ্যামল পৃথিবী রুক্ষ হয়েছে, মানুষ বড়ই অবুঝ,
মরুবিজয়ের শপথ নিই মোরা, করবই ফের সবুজ।
অতিমারী 'পরে সংকটে আজ মানবের প্রাণবায়ু
আজকের এই সবুজ- শপথ বাড়াক সবার আয়ু।
*********************
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
২০২১ সালে অতিমারি করোনার সময়ে রচিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
শ্যামল পৃথিবী রুক্ষ হয়েছে, মানুষ বড়ই অবুঝ,
মরুবিজয়ের শপথ নিই মোরা, করবই ফের সবুজ।
অতিমারী 'পরে সংকটে আজ মানবের প্রাণবায়ু
আজকের এই সবুজ- শপথ বাড়াক সবার আয়ু।
*********************
সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিনে
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
বাজছে দূরে উদাস সুরে মন-খারাপের বাঁশি
কালো ধোঁওয়া উড়িয়ে চলে কু-ঝিক্ ঝিক্ বাঁশি।
কাশের বনে ছুটছে দেখো ভাইবোনেতে জুটি
'ও অপু, ওই রেলগাড়ি দেখ্' দুগ্গা বলে ছুটি--
গাছকোমরের শাড়ির হাতে হাফ্পেন্টুল ভাই
বিশ্ববিজয় তাতেই সারা--পাঁচালি পথের গাই!
বিভূতি-মানিক মানিকজোড়ে আঁকল ছবি নিপুণ
বাংলামায়ের সেই কাহিনী বড়ই কোমল-করুণ!
*********************
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
বাজছে দূরে উদাস সুরে মন-খারাপের বাঁশি
কালো ধোঁওয়া উড়িয়ে চলে কু-ঝিক্ ঝিক্ বাঁশি।
কাশের বনে ছুটছে দেখো ভাইবোনেতে জুটি
'ও অপু, ওই রেলগাড়ি দেখ্' দুগ্গা বলে ছুটি--
গাছকোমরের শাড়ির হাতে হাফ্পেন্টুল ভাই
বিশ্ববিজয় তাতেই সারা--পাঁচালি পথের গাই!
বিভূতি-মানিক মানিকজোড়ে আঁকল ছবি নিপুণ
বাংলামায়ের সেই কাহিনী বড়ই কোমল-করুণ!
*********************
বন্ধুর প্রতি ---
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
হৃদয়ে যারে দিয়েছ ঠাঁই, ভরসা তারে দিতে যে চাই
মনের মেঘ দূর করে
হৃদয়ভার লঘু করে
মনের আলোক আবার তারে যে ফিরিয়ে দিতেই চাই।
মনের মাঝে রেখো না ভার
খুলেই বোল, কী কথা, যার-
কারণে তব মন আঁধার হল যে আজ, আমি শুধাই?
জানলে তবে চেষ্টা করি
ভালবাসায় ভুবন গড়ি-
তোমার দুঃখ ঘুচিয়ে দিতে বন্ধু বলে পাশে দাঁড়াই।
*********************
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৭.২০২৪।
হৃদয়ে যারে দিয়েছ ঠাঁই, ভরসা তারে দিতে যে চাই
মনের মেঘ দূর করে
হৃদয়ভার লঘু করে
মনের আলোক আবার তারে যে ফিরিয়ে দিতেই চাই।
মনের মাঝে রেখো না ভার
খুলেই বোল, কী কথা, যার-
কারণে তব মন আঁধার হল যে আজ, আমি শুধাই?
জানলে তবে চেষ্টা করি
ভালবাসায় ভুবন গড়ি-
তোমার দুঃখ ঘুচিয়ে দিতে বন্ধু বলে পাশে দাঁড়াই।
*********************
